তার প্রকৃত নাম আল বারা এবং ডাকনাম আবু বিশর। আল বারা ইবনে মারুর ছিলেন একজন ধনী সাহাবী। মদীনার অনেক দুর্গ ও উদ্যানের মালিক ছিলেন তিনি। তিনি মৃত্যুর পূর্বে তার সম্পদের এক তৃতীয়াংশ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দান করে যান। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই সম্পদ গ্রহণ করেন এবং আল বারা ইবনে মারুর এর পুত্রকে তা উপহার হিসেবে প্রদান করেন। আল বারা ইবনে মারুর মদীনার খাজরাজ গোত্রের বনু সালামা শাখায় তার জন্ম। তার বাবার নাম মারুর ইবনে সাখার এবং মায়ের নাম আর রুবাব বিনতে নুমান। তার মা আউস গোত্রের নেতা সাদ ইবনে মুয়াজের ফুফু।
আরো দেখুনআসমা বিনতে আবি বকর ছিলেন প্রথম খলিফা আবু বকরের কন্যা। তার মার নাম কুতাইলা বিনতে আবদুল উজ্জা। তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আবি বকরের আপন বোন। আয়েশা ও উম্মে কুলসুম বিনতে আবি বকর তার সৎ বোন এবং আবদুর রহমান ইবনে আবি বকর ও মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর তার সৎ ভাই ছিলেন। কিনানা গোত্রের দিক থেকে উম্মে রুমান বিনতে আমির নামে তার এক সৎ মা ও আল তুফায়েল ইবনে আল হারিস আল আজদি নামে এক সৎ ভাই ছিল। ঐতিহাসিক ইবনে কাসির এবং ইবনে আকাসির এর মতে আসমা, আয়শা রাঃ থেকে ১০ বছরের বড় ছিলেন।
আরো দেখুনতিনি প্রাথমিক যুগের মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাহিনীতে আবু বকর, উমর, আলি, হামজা, মুসআব ইবনে উমাইর, জুবাইর ইবনুল আওয়াম এবং আম্মার ইবনে ইয়াসির অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। মুসলমানরা সত্তরটি উট এবং দুইটি ঘোড়া নিয়ে আসে, যার অর্থ ছিল তাদের হয় হাঁটতে হবে অথবা তিন থেকে চারজন মিলে একটি উটে বসতে হবে। তবে, অনেক প্রাচীন মুসলিম সূত্র ইঙ্গিত দেয় যে তেমন কোন গুরুতর যুদ্ধের প্রত্যাশা করা হয়নি, এবং ভবিষ্যৎ খলিফা উসমান তার অসুস্থ স্ত্রী রুকাইয়াহ, যিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কন্যা, তার যত্ন নেওয়ার জন্য পেছনে থেকে যান। সালমান আল-ফারসি-ও যুদ্ধে যোগ দিতে পারেননি, কারণ তখনও তিনি মুক্ত ব্যক্তি ছিলেন না।
আরো দেখুন তিনি ইসলামের দ্বিতীয় শহীদ, তার স্ত্রী সুমাইয়াহ প্রথম শহীদ । ইয়াসির মূলত ইয়েমেনের মাধিজ গোত্রের মালিক বংশের। তিনি এবং তাঁর দুই ভাই আল-হারিথ এবং মালিক হারিয়ে যাওয়া চতুর্থ ভাইয়ের সন্ধানের জন্য উত্তর দিক থেকে মক্কায় যাত্রা করেছিলেন। আল হারিথ এবং মালিক ইয়েমেনে ফিরে এসেছিলেন, কিন্তু ইয়াসির মক্কায় স্থায়ী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তিনি কুরাইশ গোত্রের মাখজুম গোত্রের সদস্য আবু হুদায়েফা ইবনে আল-মুগিরার সুরক্ষায় প্রবেশ করেছিলেন।
আবু হুদায়েফা ইয়াসিরকে তার স্ত্রী সুমাইয়াকে দাসী হিসেবে উপহার দিয়েছিলেন এবং ৫৬৬ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর একটি পুত্র আম্মার জন্মগ্রহণ করেন। ইয়াসিরের আরও দুটি পুত্র হুর্ত ও আবদুল্লাহ ছিল। তবে সুমাইয়া তাদের মা ছিলেন বলে কোনও ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। হুর্ত, যিনি তিনজনের মধ্যে বড় ছিলেন, ৬১০ এর আগে দিল বংশের দ্বারা তাকে হত্যা করা হয়েছিল।
৬৩৪ সালে খলিফা আবু বকর (রা.) কর্তৃক রোমান সিরিয়া জয় করার জন্য চারজন সেনাপতিকে প্রেরণ করা হয়েছিল ইয়াজিদ ইবনে আবু সুফিয়ান তাদের অন্যতম। দামেস্ক জয়ের পর তিনি দামেস্কের গভর্নর হিসেবে নিযুক্ত হন। ইয়ারমুকের যুদ্ধে তিনি মুসলিম সেনাবাহিনীর বাম ভাগের নেতৃত্ব দেন। তিনি ছিলেন আবু সুফিয়ান ইবনে হারবের পুত্র ও খলিফা প্রথম মুয়াবিয়ার ভাই। খলিফা ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া আর ইয়াজিদ ইবনে আবু সুফিয়ান এক ব্যক্তি নন।
দামেস্ক জয়ের পর তিনি দামেস্কের গভর্নর হিসেবে নিযুক্ত হন। ইয়ারমুকের যুদ্ধে তিনি মুসলিম সেনাবাহিনীর বাম ভাগের নেতৃত্ব দেন। ৬৩৯ সালে প্লেগে আক্রান্ত হয়ে আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহর মৃত্যুর পর মুয়াজ ইবনে জাবাল সিরিয়ার গভর্নর হন। মুয়াজও প্লেগে মারা যান। এরপর খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব ইয়াজিদকে সিরিয়ার গভর্নর নিযুক্ত করেন। তিনিও ৬৪০ সালে প্লেগে মৃত্যুবরণ করেন।
আবু জাহল বলে পরিচিত আমর ইবনে হিশাম তার পিতা। প্রথমদিকে ইকরিমাও পিতার মত ইসলামের অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। উম্মে হাকিম তার স্ত্রী ছিলেন। উহুদের যুদ্ধে তার স্ত্রী তার সাথে যান। এই যুদ্ধে মক্কার কুরাইশরা মুসলিমদের বিরুদ্ধে লড়াই করে। ৬৩০ সালে মক্কা বিজয়ের পর ইকরিমা ও উম্মে হাকিম দুজনেই ইসলাম গ্রহণ করেন। ইসলাম গ্রহণের পর ইকরিমা সামরিক ও বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রে মুসলিমদের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা হয়ে উঠেন। খলিফা আবু বকর তাকে মুসায়লিমার বিরুদ্ধে ইয়ামামায় প্রেরণ করেছিলেন।
আরো দেখুনরসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এবং মারিয়া আল-কিবতিয়ার পুত্র সন্তান ছিলেন। ইবনে কাসিরের উদ্ধৃতি অনুসারে, ইবনে সাদের মতে, ইব্রাহিম ৮ হিজরির শেষ মাসে জন্মগ্রহণ করেন, যা ৬৩০ খ্রিস্টাব্দের সমতুল্য। শিশুটির নামকরণ করা হয় ইব্রাহিম, যা ইহুদি, খ্রিস্টান এবং মুসলিম ধর্মে সম্মানিত নবী আব্রাহামের নামে রাখা হয়। ইব্রাহিমকে উম্ম সাইফ নামের এক নার্সের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছিল, যিনি ছিলেন লৌহকার আবু সাইফের স্ত্রী। তাকে দুধের জোগান দেওয়ার জন্য রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে ছাগল উপহার দিয়েছিলেন।
আরো দেখুনতিনি প্রাথমিক জীবনে মদিনার মরুর বুকের একজন সামান্য রাখাল থাকলেও পরবর্তী জীবনে তিনি একাধারে বিখ্যাত আলেম, ক্বারী, ফকিহ, দক্ষ যোদ্ধা, ধনী ও দানশীল,শাসনকর্তা হয়ে উঠেন। কবিতা রচনাতেও তার আগ্রহ ছিল। উমাইয়া খিলাফত কালে তিনি মিশরের শাসনকর্তা ছিলেন। তিনি একজন দক্ষ যোদ্ধা ও তীরন্দাজও ছিলেন। তিনি একজন হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবা ছিলেন। উকবা ইবনে আমির আল জুহানী এর মূলনাম নাম উকবা এবং ডাক নাম ছিল আবু আমর। তার পিতা ছিল আমির। তিনি মদিনার বনু জুহানা গোত্রের সন্তান।
আরো দেখুন তিনি নাখালা অভিযানে অংশগ্রহণ করেন। তিনি উকাশা বিন আল-মিহসানের অভিযান বলে পরিচিত অভিযানেও অংশ নিয়েছিলেন। যা উদরাহ ও বালি গোত্রের বিরুদ্ধে ৯ম আরবি হিজরি সাল এবং ৬৩০ খ্রিষ্টাব্দের অক্টোবর মাসে সংঘটিত হয়। উকাশার ডাক নাম আবু মিহসান। তার পিতা মিহসান ইবন হুরসান। উকাশা হিজরতের পূর্বেই ইসলাম গ্রহণ করেন এবং অন্যদের সঙ্গে মক্কা ছেড়ে মদীনায় চলে যান। উকাশা বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। যুদ্ধে তার হাতের তরবারিটি ভেঙ্গে যায়। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে একটি খেজুরের ডাল দান করেন এবং তা দিয়েই তিনি সূচালো ছুরির মত শত্রুর ওপর আক্রমণ চালান। যুদ্ধের শেষ পর্যন্ত তিনি এ ছড়ি দিয়েই লড়ে যান।
উকাশা বদর, উহুদ, খন্দকসহ সকল প্রসিদ্ধ যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে বীরত্ব ও সাহসিকতা প্রদর্শন করেন। ৭ম হিজরী সনের রাবীউল আউয়াল মাসে তাকে বনী আসাদের মোকাবিলা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। মদীনার পথে গামার কূপের আশে পাশে বনী আসাদের বসতি ছিলো। তিনি চল্লিশ জনের একটি বাহিনী নিয়ে দ্রুত সেখানে উপস্থিত হয়ে দেখতে পান বনী আসাদের লোকেরা ভয়ে পূর্বেই সে স্থান ত্যাগ করে অন্যত্র পালিয়ে গেছে। উকাশা কাউকে না পেয়ে তাদের পরিত্যক্ত দুশো উট ও কিছু ছাগল বকরী মদীনায় নিয়ে আসেন।
তিনি বসরার প্রথম শাসক ছিলেন ও দক্ষ তীরন্দাজ ছিলেন। তিনি একজন হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবা ছিলেন। তিনি ইসলামের ৭ম ইসলাম গ্রহণকারী সাহাবা । উতবা ইবনে গাযওয়ান এর মূলনাম উতবা এবং উপনাম আবু আবদিল্লাহ। তার পিতার নাম গাযওয়ান ইবন জাবির। ইসলাম পূর্বযুগে তার গোত্র বনী নাওফাল ইবন আবদে মান্নাফের সাথে চুক্তিবদ্ধ ছিল।
আরো দেখুনউবাইদাহ ইবনুল হারিস উপনাম নাম উবাইদাহ। তিনি ইসলামের প্রথম যুদ্ধ বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। উবাইদার পিতার নাম আল হারিস এবং মাতার নাম সুখাইলা। দাদার নাম আব্দুল মুত্তালিব ইবন আবদে মান্নাফ। তিনি কুরাইশ গোত্রের সন্তান। তিন ভাই ছিলেন উবাইদা, তুফাইল ও হুসাইন।
আরো দেখুন উবাদা ইবনে সামিত ইসলামের প্রথম ধর্মান্তরিতদের মধ্যে ছিলেন। তিনি মদীনার খাজরায গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং আকাবার প্রথম বাইয়াতে (প্রতিশ্রুতিতে) নবীর প্রতি অনুগত হয়েছিলেন এমন বারোজন মদীনাবাসীর মধ্যে একজন ছিলেন। আকাবার দ্বিতীয় বাইয়াতেও উবাদা সত্তর জন পুরুষ ও দুজন মহিলার অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা আল্লাহর নবীকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি খাজরায গোত্রের সালিম পরিবারের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
বাড়ি মদীনার বাইরে কিউবার নিকটবর্তী পশ্চিম পার্বত্য অঞ্চলে ছিল। বনু সালিমের অনেক দুর্গ ছিল যার নাম আতম কাওয়াফিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আকাবার শেষ বাইয়াতের পরে তাকে কাওয়াফিলের প্রধান বানিয়েছিলেন।
তিনি একবার বর্ণনা করেন যে, আকাবাতে যখন প্রথমবারের জন্য আনুগত্যের অঙ্গীকার গৃহীত হয়েছিল তখন এগারো জন উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন যেহেতু জিহাদ বাধ্যতামূলক ছিল না, তাই পুরুষদের অঙ্গীকারও নারীদের সমান ছিল। তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে তারা আল্লাহর সাথে কাউকে অংশীদার করবে না, তারা চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না, যে মিথ্যা অপবাদে জড়াবে না (তাদের সন্তানকে অন্যের বলে দাবি করে), যে তারা তাদের শিশুদেও হত্যা করবে না এবং তারা নবীকে অমান্য করবে না।
তিনি ইরানবিজয়ী সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাসের সহোদর ছিলেন। তার সংক্ষিপ্ত নাম উমাইর। পিতার নাম আবু ওয়াক্কাস। মাতার নাম হামনা বিনতু সুফিয়ান। উমাইরের বড় ভাই সাদ ইবন আবী ওয়াক্কাস ও উমাইর ইসলামের সূচনা পর্বেই ইসলাম গ্রহণ করেন । এরপর উমাইর ইবনে আবু ওয়াক্কাস মাত্র ১৪ বছর বয়সে হিজরত করে মদীনায় পৌঁছেন। নবী মুহাম্মাদ মদীনার আবদুল আশহাল গোত্রের সর্দার হযরত সাদ ইবন মুয়াজের ছোট ভাই আমর ইবন মুয়াজের সাথে তার ধর্মীয় ভাতৃ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করে দেন। তারা দুজনই প্রায় সমবয়সী ছিলেন।
আরো দেখুনউমাইর ইবনে আবি আমর এর মূল নাম উমাইর, ডাক নাম আবু মুহাম্মাদ ও উপাধি যু-শিমালাইন। তার পিতার নাম আবদু আমর ইবন নাদলা। তিনি খুযায়া গোত্রের সন্তান। উমাইর সকল কাজ দু হাত দিয়ে করতেন বলে যু-শিমালাইন (অর্থ দুখানি দক্ষিণ হস্তের অধিকারী) বলে উপাধিতে লাভ করেন। উমাইর এর বোন রায়তা নামে একটি বোন ছিল।
আরো দেখুনউমাইর ইবনে ওয়াহাব এর মূলনাম নাম উমাইর এবং উপনাম/কুনিয়াত আবু উমাইয়া। পিতার নাম ওয়াহাব ইবনে খালাফ ও মাতার উম্মু সাখীলা। উমাইর কুরাইশদের অন্যতম বীর নেতা ছিলেন।
আরো দেখুনজাহিলী যুগ ও ইসলাম পরবর্তী যুগ উভয় সময়েই মক্কার কাবা শরীফের তত্ত্বাবধায়ক ও চাবির রক্ষক ছিলেন উসমান ইবনে তালহা ও তার পূর্বপুরুষ ও বংশধর। উসমান ইবনে তালহার পিতার নাম তালহা ইবন আবী তালহা এবং মাতার নাম উম্মু সাঈদ সালামা। মক্কার কুরাইশ বংশের বনু আমর শাখার সন্তান। উসমান ইবন তালহার পিতা তালহা ও তার তিন ভাই মুসাফি, কিলাব ও হারেস ও তার পিতা তালহা ইবন আবী তালহা ও চাচা উসমান ইবনে আবী তালহা উহুদ যুদ্ধে মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে নিহত হন। তার পিতা আলী এর হাতে নিহত হন।
আরো দেখুনউসমান ইবনে মাজউন ছিলেন ভদ্র ও শান্ত প্রকৃতির। তিনি ১৪ তম ব্যক্তি হিসেবে ইসলাম গ্রহণ করেন। তার ডাকনাম ছিলো আবু সায়িব এবং পিতার নাম ছিলো মাজউন। এবং মাতার ছিলো সুখাইলা বিনতু উনাইস। উসমান ইবনে মাজউন এর দুই ভাই ছিলেন -কুদামা ইবন মাজউন এবং আবদুল্লাহ ইবন মাজউন এবং তার পুত্রের নাম সায়িব ইবন উসমান।
আরো দেখুনতার পিতা মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দত্তক পুত্র এবং তার মাতার ঘনিষ্টতা রাসুল এর মায়ের মতো হওয়ার কারণে তাকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নাতি হিসেব বিবেচনা করা হতো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে তার নিজ সন্তানের মতো লালন-পালন করেন। তার মাতা ছিলেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জননী হজরত আমিনার দাসি। যদিও তার পিতা ছিলেন সাদা ও খাটো, উসামা ছিলেন কালো, লম্বা ও পাতলা। উসামার যৌবনকালে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি দামী চাদর ছিল। তিনি মাত্র একটি জুমার তা ব্যবহার করে উসামাকে উপহার দিয়ে দেন। দশ বছর বয়সে উসামা উহুদ যুদ্ধে অংশগ্রহণের ইচ্ছা পোষণ করেন কিন্তু ছোট হওয়ার কারণে তিনি অনুমতি পান নি। সতের বছর বয়সে তিনি প্রথম খন্দকের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। হুনাইনের যুদ্ধে মুসলিম বাহিনী অতর্কিত আক্রমনের শিকার হয়, উসামা ছিলেন সেই ছয় জনের মধ্যে একজন যারা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে যুক্ত হয়ে শত্রু বাহিনীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান এবং পরাজয়কে বিজয়ের রূপদান করেন।
আরো দেখুনতিনি নাখলা রাইদে অংশ নিয়েছিলেন। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি ইসলামী যুদ্ধে কাউকে হত্যা করেছিলেন। সংঘটিত সংক্ষিপ্ত যুদ্ধে ওয়াকিদ ইবনে আবদুল্লাহ কুরাইশ কাফেলার নেতার দিকে তীর চালিয়ে আমর ইবনে হাদরামিকে হত্যা করেছিলেন। মুসলমানরা দুজন কুরাইশ উপজাতির সদস্যকে বন্দী করেছিলেন। নওফাল ইবনে আবদুল্লাহ পালাতে সক্ষম হন। মুসলিমরা উসমান ইবনে আবদুল্লাহ এবং আল-হাকাম ইবনে কেসানকে বন্দী হিসাবে গ্রহণ করেন। আবদুল্লাহ ইবনে জাহশ গনিমতের সাথে দুজন বন্দীকে নিয়ে মদিনায় ফিরে আসেন।
আরো দেখুনওয়াহশি ইবনে হারব ছিলেন ইথিওপিয় বংশোদ্ভূত একজন দাস। তার মনিবের নাম ছিল জুবায়ের ইবনে মুতিম। ওয়াহশি পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং সাহাবীর মর্যাদা লাভ করেন। অমুসলিম থাকাবস্থায় উহুদের যুদ্ধে তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চাচা মুসলিম সেনাপতি হামযা ইবনে আবদুল মুত্তালিবকে হত্যা করেন। পরবর্তীতে তিনি মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা ভন্ড নবী মুসাইলিমাকে হত্যা করেন।
আরো দেখুনতিনি খালিদ বিন ওয়ালিদের বৈমাত্রেয় ভাই ছিলেন। ওয়ালীদ ইবনে ওয়ালিদের পিতা ছিলেন আরবের শ্রেষ্ঠ সাহিত্য সমালোচক ওয়ালিদ ইবনে আল-মুগিরা। তিনি কুরাইশ গোত্রের বনু মাখযুম শাখার সন্তান। প্রখ্যাত সাহাবী ও সেনানায়ক হযরত খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ ও হিশাম ইবনুল ওয়ালীদের ভাই। একটি বর্ণনায় জানা যায়, তিনি হিশামের সহোদর ও খালিদ ইবন ওয়ালীদের বৈমাত্রেয় ভাই ছিলেন ।
আরো দেখুনতিনি আউস গোত্রের নাবিত বংশের জাফর শাখার আল-নুমান ইবনে জায়েদ এবং খাজরাজ গোত্রের নাজ্জার বংশের উনাইসা বিনতে কয়েসের ছেলে ছিলেন। তাঁর স্ত্রীরা হলেন: কাওয়াকিলের সহযোগীদের মধ্য থেকে হিন্দ বিনতে আউস; আল-খানসা 'বিনতে খুনায়দ, যিনি ঘাসান উপজাতির; এবং আইশা বিনতে জুরায়, যিনিও ছিলেন জাফর উপ-বংশের। হিন্দের উদরে তাঁর সন্তানরা হলেন আবদুল্লাহ এবং উম্মে আমর। আল-খানসা ও আয়েশা উভয়কেই তাঁর অন্যান্য দুই সন্তানের মা আমর ও হাফসা বলে বিভিন্নভাবে বলা হয়।
আরো দেখুনতিনি ছিলেন সপ্তম শতাব্দির একজন আরব কবি। তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রশংসায় রচিত বিখ্যাত কাসিদা বানাত সুয়াদ এর লেখক। যা ছিল প্রথম আরবী নাত।
আরো দেখুনতাকে মুসলিম সেনাবাহিনীর অন্যতম প্রধান নেতা হিসাবে দেখা হয়। কয়েস ইবনে সাদ যুদ্ধে অটল প্রতিরক্ষার জন্য পরিচিত ছিলেন। কায়েস আলী ইবনে আবি তালিবেরও অন্যতম অনুগত সাথী ছিলেন। তাঁর পিতা সাদ ইবনে উবাদাহ কাজরজা গোত্রের নেতা ছিলেন (যে গোত্র তাদের উদারতার জন্য পরিচিত ছিল)।
আরো দেখুনতিনি বাহরাইনের গভর্নর হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। বিশিষ্ট সাহাবা উসমান ইবনে মাজউন তার ভাই ছিলেন। কুদামা ইবনে মাজউন এর ডাক নাম ছিল কুদামাহ,আবু উমার। তার পিতার নাম মাজউন ইবন হাবীব এবং মায়ের নাম সুখাইলা বিনতুল আনবাস। তিনি কুরাইশ বংশের বনী জুমাহ শাখার সন্তান। উমারের বোন সাফিয়্যা বিনতুল খাত্তাব তার স্ত্রী।
আরো দেখুন কুর্জ ইবনে জাবির আল-ফিহরি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সহচর হলেও শত্রু হিসাবে বিবেচিত হয়। সাফওয়ান অভিযানের সময় তার নেতৃত্বে একটি দল মদিনার চারণভূমিতে আক্রমণ চালিয়ে মুসলিমদের গবাদিপশু লুট করে নেয়। এ কারণে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রেরিত সত্তরজনের একটি বাহিনী তাদের ধাওয়া করে বদরের নিকট সাফওয়ান উপত্যকায় পৌছেন। কিন্তু কুর্জ ইবনে জাবির আল-ফিহরি পালাতে সক্ষম হয়।
পরবর্তীতে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং মুসলিমদের পক্ষে লড়াই করেছেন এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে কুর্জ বিন জাবির আল-ফিহরির অভিযান হিসাবে পরিচিত একটি অভিযানে সেনাপতি হিসাবে নিযুক্ত করেন এটি ৬২৮ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে, ইসলামিক ক্যালেন্ডারের ষষ্ঠ হিজরীর দশম মাসে সংগঠিত হয়। এই অভিযানটি আটজন দস্যুর বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়, তারা একজন মুসলমানকে হত্যা করেছিল। মুসলমানরা ডাকাতদের ধরে তাদের ক্রুশে দিয়েছিল (ইসলামী সূত্র অনুসারে)। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে যারা পৃথিবীতে অপকর্ম ছড়িয়ে দেয় তাদের শাস্তি সম্পর্কে কুরআনের আয়াত [কুরআন ৫:৩৩] নাযিল হয়।
إِنَّمَا جَزَٰٓؤُاْ ٱلَّذِينَ يُحَارِبُونَ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ وَيَسۡعَوۡنَ فِي ٱلۡأَرۡضِ فَسَادًا أَن يُقَتَّلُوٓاْ أَوۡ يُصَلَّبُوٓاْ أَوۡ تُقَطَّعَ أَيۡدِيهِمۡ وَأَرۡجُلُهُم مِّنۡ خِلَٰفٍ أَوۡ يُنفَوۡاْ مِنَ ٱلۡأَرۡضِۚ ذَٰلِكَ لَهُمۡ خِزۡيٞ فِي ٱلدُّنۡيَاۖ وَلَهُمۡ فِي ٱلۡأٓخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌ٣٣
যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ও পৃথিবীর মধ্যে গন্ডগোল বাঁধাতে সচেষ্ট হয়, কেবল মাত্র তাদের প্রাপ্য হচ্ছে এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা তাদেরকে শূলীতে চড়ানো হবে অথবা তাদের হাত ও পা বিপরীত দিক থেকে কেটে দেওয়া হবে অথবা তাদেরকে দেশ থেকে নির্বাসিত করা হবে। এই হচ্ছে তাদের জন্যে ইহকালে লাঞ্ছনা ও পরকালে তাদের জন্যে আরো বেশী কঠোর শাস্তি রয়েছে। [৫ : ৩৩]
তিনি উম্মু আনমারের একজন দাস ছিলেন। তিনি আরবের একজন তরবারি নির্মাতা ছিলেন। খাব্বাব ইবনুল আরাতের মূলনাম খাব্বাব এবং উপনাম/কুনিয়াত আবু আবদিল্লাহ। তার পিতার নাম আরাত। তাঁর বংশ সম্পর্কে মতভেদ আছে। তিনি বনু তামীম গোত্রের সন্তান। তবে কোন ইতিহাসবিদ বনু খুযায়া গোত্রের সন্তান বলে উল্লেখ করেছেন। খাব্বাব সৌদি আরবের নজদে জন্মগ্রহণ করেন। বনু তামীম গোত্র পূর্বে স্বাধীন গোত্রই ছিলো। তবে মক্কার অন্য গোত্র তাদের আক্রমণ করে বন্ধী অবস্থায় বিক্রি করে দিলে তারা দাসে পরিনত হয়।
আরো দেখুন রাশিদুন খিলাফতের অধীনে একজন জেনারেল ছিলেন। তিনি ছিলেন কুরাইশের বনু উমাইয়া গোত্রের অন্যতম সদস্য। খালিদ তার ভাই আমরের সাথে ৬১৩ খ্রিস্টাব্দের আগে ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি তার স্ত্রী হামানিয়ার সাথে আবিসিনিয়ায় চলে যান, যেখানে তিনি উম্মে হাবিবার ওয়ালি হিসেবে কাজ করেন যখন তিনি আবিসিনিয়ায় থাকাকালীন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বিয়ে করেন।
৬৩৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি আবু বকর কর্তৃক সিরিয়ার অভিযানের কমান্ডার নিযুক্ত হন। ৬৩৪ খ্রিস্টাব্দে মারজ আল-সাফফার যুদ্ধের আগের সন্ধ্যায় তিনি উম্মে হাকিম বিনতে আল-হারিস ইবনে হিশামের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন, তিনি যুদ্ধে নিহত হন।
খুনাইস মক্কার বনু কুরাইশ বংশের বনু শাহম গোত্রের হুজাফা ইবনে কায়েসের পুত্র ছিলেন। তার মা দাইদা বিনতে হিজ্যামও ছিলেন শাহম গোত্রের মেয়ে। তার দুই ভাই আব্দুল্লাহ ইবনে হুজাফা আস-সাহমি এবং কায়েস। আবু বকরের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে খুনাইস ইসলাম গ্রহণ করেন "আল্লাহর নবী আল আকরামের গৃহে প্রবেশের" কিছুদিন আগে। তিনি তার দুই ভাই, সাত চাচাতো ভাই এবং শাহম গোত্রের অন্য চারজন সদস্য নিয়ে ৬১৬ খ্রিস্টাব্দে আবিসিনিয়ায় গমনের অংশ নেন। খুনাইস ৬১৯ খ্রিস্টাব্দে মক্কায় ফিরে আসেন। এরপরে তিনি হাফসা বিনতে উমার কে বিয়ে করেন। হাফসার তখন ১৪ বছর বয়স।
আরো দেখুনআল রাজির অভিযানের সময় তিনি নিহত হন। ৬২৫ খ্রিস্টাব্দে কিছু লোক ইসলাম শিখানোর জন্য রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রশিক্ষক প্রেরণের অনুরোধ জানিয়েছিল, কিন্তু খুজায়মাহের দুটি গোত্র দ্বারা এই লোকদের ঘুষ দেওয়া হয়েছিল যারারসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসারীরা উপর খালিদ বিন সুফিয়ান হত্যার প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিল এবং তারা মুসলমানদের হত্যা করে। আসিম ইবনে সাবিতকে হত্যার পরে হুদাইল তার মাথা বিক্রি করতে চেয়েছিল।
আরো দেখুন