
حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي نَجِيحٍ قَالَ سَأَلْتُ طَاوُسًا عَنْ رَجُلٍ رَمَى الْجَمْرَةَ بِسِتِّ حَصَيَاتٍ فَقَالَ لِيُطْعِمْ قَبْضَةً مِنْ طَعَامٍ قَالَ فَلَقِيتُ مُجَاهِدًا فَسَأَلْتُهُ وَذَكَرْتُ لَهُ قَوْلَ طَاوُسٍ فَقَالَ رَحِمَ اللَّهُ أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَمَا بَلَغَهُ قَوْلُ سَعْدِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ رَمَيْنَا الْجِمَارَ أَوْ الْجَمْرَةَ فِي حَجَّتِنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ جَلَسْنَا نَتَذَاكَرُ فَمِنَّا مَنْ قَالَ رَمَيْتُ بِسِتٍّ وَمِنَّا مَنْ قَالَ رَمَيْتُ بِسَبْعٍ وَمِنَّا مَنْ قَالَ رَمَيْتُ بِثَمَانٍ وَمِنَّا مَنْ قَالَ رَمَيْتُ بِتِسْعٍ فَلَمْ يَرَوْا بِذَلِكَ بَأْسًا
ইবনে আবী নাজিহ থেকে বর্ণিতঃ
একবার আমি তাউসকে জিজ্ঞেস করলাম, জামরাতে কিরিম করার সময় কোন ব্যক্তি জামরাকে সাতটির পরিবর্তে ছয়টি কঙ্কর মারলে তার হুকুম কি? তিনি বললেন, সে যেন এক মুঠ গম সদকা করে। এরপর আমি মুজাহিদ (রা.)-এর সাথে সাক্ষাত করলে আমি তাকে একই প্রশ্ন করি এবং তাউসের উত্তরও উল্লেখ করি, মুজাহিদ (রা.) বললেন, আল্লাহ তাউসের উপর রহম করুন। তার নিকট কি হজরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) এর হাদিস পৌঁছায়নি যে, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে হজ পালন করেছিলাম, জামরাতের কিরিম করার পর যখন আমরা বসলাম এবং একে অপরের সাথে কথা বলতে শুরু করলাম, তখন কেউ একজন বললো, আমি ছয়টি কঙ্কর নিক্ষেপ করেছি, কেউ বলেছে সাতটি, কেউ বলেছে আটটি, কেউ বলেছে নয়টি, কিন্তু তারা একে কোনো ক্ষতিকর মনে করেননি। [মুসনাদে আহমাদ : ১৩৬২]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ عَنْ عَمْرِو بْنِ سَعِيدٍ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحِمْيَرِيِّ عَنْ ثَلَاثَةٍ مِنْ وَلَدِ سَعْدٍ عَنْ سَعْدٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ عَلَيْهِ يَعُودُهُ وَهُوَ مَرِيضٌ وَهُوَ بِمَكَّةَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ خَشِيتُ أَنْ أَمُوتَ بِالْأَرْضِ الَّتِي هَاجَرْتُ مِنْهَا كَمَا مَاتَ سَعْدُ ابْنُ خَوْلَةَ فَادْعُ اللَّهَ أَنْ يَشْفِيَنِي قَالَ اللَّهُمَّ اشْفِ سَعْدًا اللَّهُمَّ اشْفِ سَعْدًا اللَّهُمَّ اشْفِ سَعْدًا فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ لِي مَالًا كَثِيرًا وَلَيْسَ لِي وَارِثٌ إِلَّا ابْنَةً أَفَأُوصِي بِمَالِي كُلِّهِ قَالَ لَا قَالَ أَفَأُوصِي بِثُلُثَيْهِ قَالَ لَا قَالَ أَفَأُوصِي بِنِصْفِهِ قَالَ لَا قَالَ أَفَأُوصِي بِالثُّلُثِ قَالَ الثُّلُثُ وَالثُّلُثُ كَثِيرٌ إِنَّ نَفَقَتَكَ مِنْ مَالِكَ لَكَ صَدَقَةٌ وَإِنَّ نَفَقَتَكَ عَلَى عِيَالِكَ لَكَ صَدَقَةٌ وَإِنَّ نَفَقَتَكَ عَلَى أَهْلِكَ لَكَ صَدَقَةٌ وَإِنَّكَ أَنْ تَدَعَ أَهْلَكَ بِعَيْشٍ أَوْ قَالَ بِخَيْرٍ خَيْرٌ مِنْ أَنْ تَدَعَهُمْ يَتَكَفَّفُونَ النَّاسَ
সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু- এর তিন পুত্র তাঁদের পিতা থেকে বর্ণিতঃ
মক্কায় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সা’দের অসুখ দেখার জন্যে তাঁর নিকট আসেন। সা’দ রাদিয়াল্লাহু আনহু কেঁদে ফেলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তুমি কেন কাঁদছ? তিনি বললেন, আমি ভয় পাচ্ছি, যে স্থান থেকে হিজরত করেছি, সেথায় না আমি মারা যাই; যেমনিভাবে মারা গিয়েছেন সা’দ ইবনু খাওলা রাদিয়াল্লাহু আনহু। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ইয়া আল্লাহ! সা’দকে সুস্থতা দান করুন তিন বার বললেন। সা’দ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল! আমার প্রচুর সম্পদ আছে। আর একমাত্র কন্যাই আমার উত্তরাধিকার হবে। তবে কি আমার সমুদয় সম্পদ ওয়াসিয়্যাত করতে পারি? তিনি বললেন, না। সা’দ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, তবে কি দুই-তৃতীয়াংশ? তিনি বললেন, না। সা’দ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, তা হলে অর্ধেক? তিনি বললেন, না। সা’দ বললেন, তাহলে এক তৃতীয়াংশ? তিনি বললেন, হ্যাঁ, এক তৃতীয়াংশ আর এক তৃতীয়াংশই অনেক। তোমার সম্পদ থেকে তুমি যা সদাকাহ্ কর তা তো সদাকাহ্-ই এবং তোমার পরিবারের জন্যে যা খরচ কর তাও সদাকাহ্ আর তোমার মাল থেকে তোমার স্ত্রী যা খায় তাও সদাকাহ্। তোমার পরিবার-পরিজনকে যদি তুমি সম্পদশালী রেখে যাও, অথবা বলেছেন স্বাচ্ছন্দ্যে রেখে যাও, তবে তা তাদের মানুষের কাছে হাতপাতা অবস্থায় রেখে যাওয়ার তুলনায় ভাল। আর এ কথা বলতে তিনি নিজ হাত দিয়ে ইশারা করলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ১৩৬৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ الْحَنَفِيُّ عَبْدُ الْكَبِيرِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ حَدَّثَنَا بُكَيْرُ بْنُ مِسْمَارٍ عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ أَنَّ أَخَاهُ عُمَرَ انْطَلَقَ إِلَى سَعْدٍ فِي غَنَمٍ لَهُ خَارِجًا مِنْ الْمَدِينَةِ فَلَمَّا رَآهُ سَعْدٌ قَالَ أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شَرِّ هَذَا الرَّاكِبِ فَلَمَّا أَتَاهُ قَالَ يَا أَبَتِ أَرَضِيتَ أَنْ تَكُونَ أَعْرَابِيًّا فِي غَنَمِكَ وَالنَّاسُ يَتَنَازَعُونَ فِي الْمُلْكِ بِالْمَدِينَةِ فَضَرَبَ سَعْدٌ صَدْرَ عُمَرَ وَقَالَ اسْكُتْ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يُحِبُّ الْعَبْدَ التَّقِيَّ الْغَنِيَّ الْخَفِيَّ
আমির বিন সাদ থেকে বর্ণিতঃ
একবার তাঁর ভাই উমর মদীনার বাইরে হজরত সাদ (রা.)-এর ছাগলের খামার দেখতে গিয়েছিলেন। যখন হজরত সাদ (রা.) উমরকে দেখলেন (তখন তিনি দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হলেন এবং আল্লাহর কাছে চাইলেন যে, সে যেনো কোনো সুসংবাদ নিয়ে আসে) এবং বললেন, “যদি এই সওয়ারীর কাছে কোন দুঃসংবাদ থাকে, তাহলে আমি তার কাছ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।” উমর বললেন, হে আব্বাজান! “মদীনায় সরকার নিয়ে মানুষ তর্ক করছে আর তুমি গ্রামবাসীর মতো তোমার ছাগল নিয়ে ব্যস্ত?” হজরত সাদ (রা.) উমরের বুকে হাত মেরে বললেন, “চুপ করো।” আমি রাসূল (সা.)-কে বলতে শুনেছি যে, “আল্লাহ তায়ালা এমন একজন বান্দাকে ভালোবাসেন যে ধার্মিক, বিনয়ী এবং নিজেকে গোপন রাখে।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৩৬৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ حَدَّثَنَا فُلَيْحٌ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ يَعْنِي ابْنَ مَعْمَرٍ قَالَ حَدَّثَ عَامِرُ بْنُ سَعْدٍ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ وَهُوَ أَمِيرٌ عَلَى الْمَدِينَةِ أَنَّ سَعْدًا قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ أَكَلَ سَبْعَ تَمَرَاتِ عَجْوَةٍ مِنْ بَيْنَ لَابَتَيْ الْمَدِينَةِ عَلَى الرِّيقِ لَمْ يَضُرَّهُ يَوْمَهُ ذَلِكَ شَيْءٌ حَتَّى يُمْسِيَ قَالَ فُلَيْحٌ وَأَظُنُّهُ قَالَ وَإِنْ أَكَلَهَا حِينَ يُمْسِي لَمْ يَضُرَّهُ شَيْءٌ حَتَّى يُصْبِحَ فَقَالَ عُمَرُ انْظُرْ يَا عَامِرُ مَا تُحَدِّثُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَشْهَدُ مَا كَذَبْتُ عَلَى سَعْدٍ وَمَا كَذَبَ سَعْدٌ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
ইবনে মুয়াম্মার থেকে বর্ণিতঃ
আমির ইবনে সাদ মদীনার গভর্নর থাকাকালীন সময় একবার হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয (রা.)-এর কাছে তাঁর পিতা হজরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) সম্পর্কে এই হাদিসটি বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি সকাল বেলা খালি পেটে মদিনাবাসীদের মধ্যে থেকে সাতটি আজওয়া খেজুর খাবে, সেইদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো কিছুই তার ক্ষতি করতে পারবে না। বর্ণনাকারী মনে করেন যে, তিনি আরও বলেছেন যে, যে ব্যক্তি এটি সন্ধ্যায় খাবে, তবে সকাল পর্যন্ত কোনো কিছুই তার ক্ষতি করতে পারবে না। হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয (রা.) বললেন, আপনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে কোন হাদীস বর্ণনা করার ব্যাপারে ভালো করে ভেবে দেখুন। আমির ইবনে সাদ বললেন, আমি সাক্ষী দিচ্ছি যে, আমি হজরত সাদ (রা.) সম্পর্কে মিথ্যা বলছিনা এবং হজরত সাদ (রা.) নবী (সা.) সম্পর্কে মিথ্যা বলতে পারেন না। [মুসনাদে আহমাদ : ১৩৬৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ أَنَّ سَعْدًا رَكِبَ إِلَى قَصْرِهِ بِالْعَقِيقِ فَوَجَدَ غُلَامًا يَخْبِطُ شَجَرًا أَوْ يَقْطَعُهُ فَسَلَبَهُ فَلَمَّا رَجَعَ سَعْدٌ جَاءَهُ أَهْلُ الْغُلَامِ فَكَلَّمُوهُ أَنْ يَرُدَّ مَا أَخَذَ مِنْ غُلَامِهِمْ فَقَالَ مَعَاذَ اللَّهِ أَنْ أَرُدَّ شَيْئًا نَفَّلَنِيهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَبَى أَنْ يَرُدَّ عَلَيْهِمْ
আমির ইবনে সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার হজরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) ঘোড়ায় চড়ে ওয়াদী আকিকে তার প্রাসাদের দিকে যাচ্ছিলেন, যখন তিনি সেখানে পৌঁছলেন, তখন তিনি দেখতে পেলেন যে, একজন ক্রীতদাস একটি গাছ কাটছে, হজরত সাদ (রা.) ঐ ক্রীতদাসের কাছ থেকে তার সকল মালামাল কেরে নিলেন। যখন হজরত সাদ (রা.) পুনরায় ফিরে এলেন, তখন ক্রীতদাসের মালিকরা তার কাছে এসে দাসের কাছ থেকে তিনি যা নিয়েছিলেন তা ফেরত দিতে বললেন। তিনি যা নিয়েছিলেন তা ফেরত দিতে অস্বীকার করে বললেন যে, যে জিনিস আল্লাহ রসূল (সা.) আমাকে দিয়েছেন তা ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে আমি আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। [মুসনাদে আহমাদ : ১৩৬৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا رَوْحٌ أَمْلَاهُ عَلَيْنَا بِبَغْدَادَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي حُمَيْدٍ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ سَعَادَةِ ابْنِ آدَمَ اسْتِخَارَتُهُ اللَّهَ وَمِنْ سَعَادَةِ ابْنِ آدَمَ رِضَاهُ بِمَا قَضَاهُ اللَّهُ وَمِنْ شِقْوَةِ ابْنِ آدَمَ تَرْكُهُ اسْتِخَارَةَ اللَّهِ وَمِنْ شِقْوَةِ ابْنِ آدَمَ سَخَطُهُ بِمَا قَضَى اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ
সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, “আদম সন্তান ভাগ্যবান হওয়ার একটি নিদর্শন হলো এই যে, সে ইস্তিখারাহ নামায পড়ে, সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে ও আল্লাহর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকে। আর আদম সন্তানের হতভাগ্য হওয়ার একটি নিদর্শন হলো এই যে, সে ইস্তিখারাহ নামায পড়ে না, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে না ও আল্লাহর সিদ্ধান্তের প্রতি অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৩৬৭]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا رَوْحٌ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي حُمَيْدٍ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ سَعَادَةِ ابْنِ آدَمَ ثَلَاثَةٌ وَمِنْ شِقْوَةِ ابْنِ آدَمَ ثَلَاثَةٌ مِنْ سَعَادَةِ ابْنِ آدَمَ الْمَرْأَةُ الصَّالِحَةُ وَالْمَسْكَنُ الصَّالِحُ وَالْمَرْكَبُ الصَّالِحُ وَمِنْ شِقْوَةِ ابْنِ آدَمَ الْمَرْأَةُ السُّوءُ وَالْمَسْكَنُ السُّوءُ وَالْمَرْكَبُ السُّوءُ
হজরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন যে, এই তিনটি জিনিস আদম সন্তানের কল্যাণের আলামত, (১) সে একটি ভাল স্ত্রী পায়, (২) একটি ভাল বাসস্থান পায় এবং (৩) একটি ভাল সওয়ারী পায়। আর এই তিনটি জিনিস আদম সন্তানের দুর্ভাগ্যের আলামত, (১) তার একটি খারাপ স্ত্রী পাওয়া, (২) একটি খারাপ বাসস্থান পাওয়া এবং (৩) একটি খারাপ সওয়ারী পাওয়া। [মুসনাদে আহমাদ : ১৩৬৮]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ مَوْلَى بَنِي هَاشِمٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ لَهِيعَةَ حَدَّثَنَا بُكَيْرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْأَشَجِّ أَنَّهُ سَمِعَ حُسَيْنَ بْنَ عَبْدِ الرَحَّمَنِ يُحَدِّثُ أَنَّهُ سَمِعَ سَعْدَ بْنَ أَبِي وَقَّاصٍ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ سَتَكُونُ فِتْنَةٌ الْقَاعِدُ فِيهَا خَيْرٌ مِنْ الْقَائِمِ وَالْقَائِمُ فِيهَا خَيْرٌ مِنْ الْمَاشِي وَيَكُونُ الْمَاشِي فِيهَا خَيْرًا مِنْ السَّاعِي قَالَ وَأُرَاهُ قَالَ وَالْمُضْطَجِعُ فِيهَا خَيْرٌ مِنْ الْقَاعِدِ
হজরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যে, “শীঘ্রই ফিতনা দেখা দেবে। তখন বসে থাকা ব্যক্তি দাঁড়ানো ব্যক্তির চেয়ে ভালো (ফিতনামুক্ত) থাকবে, দাঁড়ানো ব্যক্তি চলমান ব্যক্তির চেয়ে ভালো থাকবে, চলমান ব্যক্তি ধাবমান ব্যক্তির চেয়ে ভালো থাকবে।” বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে হয় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেছেন যে, “শুয়ে থাকা ব্যক্তি বসে থাকা ব্যক্তির চেয়ে ভালো থাকবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৩৬৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ عَنِ ابْنِ أَخٍ لِسَعْدٍ عَنْ سَعْدٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِبَنِي نَاجِيَةَ أَنَا مِنْهُمْ وَهُمْ مِنِّي حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ وَذَكَرَ الْحَدِيثَ بِقِصَّةٍ فِيهِ فَقَالَ ابْنُ أَخِي سَعْدِ بْنِ مَالِكٍ قَدْ ذَكَرُوا بَنِي نَاجِيَةَ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ هُمْ حَيٌّ مِنِّي وَلَمْ يُذْكَرْ فِيهِ سَعْدٌ
হজরত সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে বনু নাজিয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হলে তিনি বলেন যে, “আমি তাদের এবং তারা আমার।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৩৭০]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا حَسَنٌ حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ دَاوُدَ بْنِ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَوْ أَنَّ مَا يُقِلُّ ظُفُرٌ مِمَّا فِي الْجَنَّةِ بَدَا لَتَزَخْرَفَتْ لَهُ مَا بَيْنَ خَوَافِقِ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَلَوْ أَنَّ رَجُلًا مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ اطَّلَعَ فَبَدَا سِوَارُهُ لَطَمَسَ ضَوْءُهُ ضَوْءَ الشَّمْسِ كَمَا تَطْمِسُ الشَّمْسُ ضَوْءَ النُّجُومِ
হজরত সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “দুনিয়ায় জান্নাতের একটি পেরেকের চেয়েও ছোট কিছু দেখা গেলে পৃথিবী ও আকাশের চার দিক আলোয় সুশোভিত হয়ে যাবে। আর যদি কোন জান্নাতী মানুষ দুনিয়ার দিকে তাকায় অথবা তার হাতের কঙ্গন দেখা যায়, তাহলে তার আলো সূর্যের আলোকে নিশ্চিহ্ন করে দিবে, যেমন সূর্যের আলো তারার আলোকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৩৭১]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ الْخُزَاعِيُّ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ سَعْدٍ قَالَ الْحَدُوا لِي لَحْدًا وَانْصِبُوا عَلَيَّ اللَّبِنَ نَصْبًا كَمَا صُنِعَ بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَدَّثَنَا ابْنُ مَهْدِيٍّ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ سَعْدٍ فَذَكَرَ مِثْلَهُ وَوَافَقَهُ أَبُو سَعِيدٍ عَلَى عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ كَمَا قَالَ الْخُزَاعِيُّ
হজরত সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
হজরত সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস (রা.) তাঁর শেষ অসিয়তে বলেছিলেন, আমার কবর যেন লহদ কবরের আকারে তৈরি করা হয় এবং তার ওপর তেমন মাটির ইট বসানো হয়, যেমন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কবরের সঙ্গে করা হয়েছিল। [মুসনাদে আহমাদ : ১৩৭২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْهَاشِمِيُّ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ يَعْنِي ابْنَ جَعْفَرٍ أَخْبَرَنِي مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ عَنْ أَبِي النَّضْرِ مَوْلَى عُمَرَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْمَرٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فِي الْمَسْحِ عَلَى الْخُفَّيْنِ لَا بَأْسَ بِذَلِكَ
হজরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সা.) চামরার মোজার উপর মাছেহ করার ব্যাপারে বলেছেন, এতে কোনো ক্ষতি নেই। [মুসনাদে আহমাদ : ১৩৭৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنِي مَالِكٌ يَعْنِي ابْنَ أَنَسٍ عَنْ سَالِمٍ أَبِي النَّضْرِ عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ مَا سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لِحَيٍّ مِنْ النَّاسِ يَمْشِي إِنَّهُ فِي الْجَنَّةِ إِلَّا لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلَامٍ
হজরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) ব্যতীত আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে কোনো জীবিত ব্যক্তি সম্পর্কে বলতে শুনিনি যে, সে একজন পৃথিবীতে বিচরণকারী জান্নাতী। [মুসনাদে আহমাদ : ১৩৭৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ أَنْبَأَنَا خَالِدٌ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ قَالَ لَمَّا ادُّعِيَ زِيَادٌ لَقِيتُ أَبَا بَكْرَةَ قَالَ فَقُلْتُ مَا هَذَا الَّذِي صَنَعْتُمْ إِنِّي سَمِعْتُ سَعْدَ بْنَ أَبِي وَقَّاصٍ يَقُولُ سَمِعَ أُذُنِي مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يَقُولُ مَنْ ادَّعَى أَبًا فِي الْإِسْلَامِ غَيْرَ أَبِيهِ وَهُوَ يَعْلَمُ أَنَّهُ غَيْرُ أَبِيهِ فَالْجَنَّةُ عَلَيْهِ حَرَامٌ فَقَالَ أَبُو بَكْرَةَ وَأَنَا سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
আবু উসমান থেকে বর্ণিতঃ
যখন যিয়াদের সম্পর্কে সমস্যা বেড়ে গেলো, তখন একদিন হজরত আবু বকরা (রা.)-এর সাথে দেখা হলে আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কী করলেন? আমি হজরত সাদ (রা.)-কে বলতে শুনেছি, আমার কান রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছ থেকে শুনেছে যে, ইসলামের রাষ্ট্রে যে ব্যক্তি তার পিতা ছাড়া অন্য কাউকে পিতা বলে দাবি করে, যদিও সে জানে যে, সে তার পিতা নয়, তবে তার জন্য জান্নাত হারাম। হজরত আবু বকর (রা.) বললেন যে, আমিও রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে এই কথা বলতে শুনেছি । [মুসনাদে আহমাদ : ১৩৭৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ عَنْ وُهَيْبٍ عَنْ أَبِي وَاقِدٍ اللَّيْثِيِّ عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ تُقْطَعُ الْيَدُ فِي ثَمَنِ الْمِجَنِّ
হজরত সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “চোরের হাত কেটে ফেলা হবে, যদি সে ঢালের সমমূল্যের কিছু চুরি করে।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৩৭৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا رَوْحٌ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي حُمَيْدٍ الْمَدَنِيُّ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ أَمَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ أُنَادِيَ أَيَّامَ مِنًى إِنَّهَا أَيَّامُ أَكْلٍ وَشُرْبٍ فَلَا صَوْمَ فِيهَا يَعْنِي أَيَّامَ التَّشْرِيقِ
হজরত সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার মিনার দিনগুলোতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে প্রচার করার নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, তাশরীকের দিনগুলো হচ্ছে খাওয়া-দাওয়ার দিন, কাজেই ঐ দিনগুলোর মধ্যে কোনো রোজা নেই। [মুসনাদে আহমাদ : ১৩৭৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا الْفُضَيْلُ بْنُ سُلَيْمَانَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي يَحْيَى عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ بْنِ سَالِمٍ عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ مَا بَيْنَ لَابَتَيْ الْمَدِينَةِ حَرَامٌ قَدْ حَرَّمَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَمَا حَرَّمَ إِبْرَاهِيمُ مَكَّةَ اللَّهُمَّ اجْعَلْ الْبَرَكَةَ فِيهَا بَرَكَتَيْنِ وَبَارِكْ لَهُمْ فِي صَاعِهِمْ وَمُدِّهِمْ
হজরত সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
মদিনার দুই পাশের মাঝখানের জায়গাটি হারাম, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একে হারাম ঘোষণা করেছেন যেভাবে হজরত ইব্রাহিম (আ.) মক্কা মুকাররমা হারাম ঘোষণা করেছিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ভাবে প্রার্থনা করেছিলেন যে, “হে আল্লাহ! মদীনাবাসীকে দ্বিগুণ বরকত দান করুন এবং মদীনার সা ও মুদে (ওজন ও পরিমাপে) বরকত দিন।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৩৭৮]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ أَنْبَأَنَا عَاصِمُ بْنُ بَهْدَلَةَ عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُتِيَ بِقَصْعَةٍ فَأَكَلَ مِنْهَا فَفَضَلَتْ فَضْلَةٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَجِيءُ رَجُلٌ مِنْ هَذَا الْفَجِّ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ يَأْكُلُ هَذِهِ الْفَضْلَةَ قَالَ سَعْدٌ وَكُنْتُ تَرَكْتُ أَخِي عُمَيْرًا يَتَوَضَّأُ قَالَ فَقُلْتُ هُوَ عُمَيْرٌ قَالَ فَجَاءَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلَامٍ فَأَكَلَهَا
হজরত সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর খেদমতে একটি পাত্রে খাবার আনা হলো, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) খাবার খেলেন এবং কিছু অবশিষ্ট থাকলো। রাসুলুল্লাহ ( সাঃ ) বললেন, “এই পথ দিয়ে একজন জান্নাতী লোক আসবে, যে এই অবশিষ্ট খাবার খাবে।” হজরত সাদ (রা.) বলেন, আমি আমার ভাই উমাইরকে ওজু করা অবস্থায় রেখে এসেছিলাম এবং আমি মনে মনে ভাবলাম যে, এই পথ দিয়ে উমাইর আসবেন কিন্তু সেই পথ দিয়ে হযরত আবদুল্লাহ বিন সালাম রাদিয়াল্লাহু আনহু এলেন এবং তিনি সেই অবশিষ্ট খাবারটি খেয়ে নিলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ১৩৭৯]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস


حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْهَاشِمِيُّ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ يَعْنِي ابْنَ جَعْفَرٍ أَخْبَرَنِي مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ عَنْ أَبِي النَّضْرِ مَوْلَى عُمَرَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْمَرٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فِي الْمَسْحِ عَلَى الْخُفَّيْنِ لَا بَأْسَ بِذَلِكَ
হজরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সা.) চামরার মোজার উপর মাছেহ করার ব্যাপারে বলেছেন, এতে কোনো ক্ষতি নেই। [মুসনাদে আহমাদ : ১৩৮০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ حَدَّثَنِي يَعْلَى بْنُ حَكِيمٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ قَالَ رَأَيْتُ سَعْدَ بْنَ أَبِي وَقَّاصٍ أَخَذَ رَجُلًا يَصِيدُ فِي حَرَمِ الْمَدِينَةِ الَّذِي حَرَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَلَبَهُ ثِيَابَهُ فَجَاءَ مَوَالِيهِ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَرَّمَ هَذَا الْحَرَمَ وَقَالَ مَنْ رَأَيْتُمُوهُ يَصِيدُ فِيهِ شَيْئًا فَلَهُ سَلَبُهُ فَلَا أَرُدُّ عَلَيْكُمْ طُعْمَةً أَطْعَمَنِيهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَكِنْ إِنْ شِئْتُمْ أَعْطَيْتُكُمْ ثَمَنَهُ وَقَالَ عَفَّانُ مَرَّةً إِنْ شِئْتُمْ أَنْ أُعْطِيَكُمْ ثَمَنَهُ أَعْطَيْتُكُمْ
সুলাইমান বিন আবি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিতঃ
একবার আমি হজরত সাদ (রা.)-কে দেখেছিলাম যে, তিনি এমন এক ব্যক্তিকে ধরে রেখেছিলেন, যে হারাম মদীনায় শিকার করতে ছিলো, তিনি তার কাছ থেকে জামাকাপড় কেড়ে নিলেন। কিছুক্ষণ পর তার মালিকরা এসে তার কাছে জামাকাপড় ফেরত চাইলে হযরত সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, এই মদীনা শহরকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হারাম ঘোষণা করেছেন এবং তিনি বলেছেন যে, “এখানে তুমি যাকে শিকার করতে দেখবে, তার কাছ থেকে তার জিনিসপত্র কেড়ে নিবে।” তাই এখন আমি আপনাদেরকে সেই লোকমা ফেরত দিতে পারব না, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে যা খাইয়েছেন, কিন্তু আপনারা চাইলে আমি আপনাদেরকে এর মূল্য ফেরত দিতে পারি। [মুসনাদে আহমাদ : ১৩৮১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ حَدَّثَنَا أَبِي عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحُصَيْنِ أَنَّهُ حَدَّثَ عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ أَنَّهُ كَانَ يُصَلِّي الْعِشَاءَ الْآخِرَةَ فِي مَسْجِدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ يُوتِرُ بِوَاحِدَةٍ لَا يَزِيدُ عَلَيْهَا قَالَ فَيُقَالُ لَهُ أَتُوتِرُ بِوَاحِدَةٍ لَا تَزِيدُ عَلَيْهَا يَا أَبَا إِسْحَاقَ فَيَقُولُ نَعَمْ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ الَّذِي لَا يَنَامُ حَتَّى يُوتِرَ حَازِمٌ
হজরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
তিনি মসজিদে নববীতে এশার নামায পড়তেন এবং এক রাকাত বিতর নামায পড়ার পর তাতে কিছু যোগ করতেন না। কেউ একজন তাকে জিঙ্গেস করলো, “হে আবু ইসহাক! আপনি কি এক রাকাত বিতর পড়ার পর তাতে কিছু যোগ করেন না?” তিনি বললেন, হ্যাঁ! আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, “যে ব্যক্তি বিতর না পড়ে ঘুমায় না, সে জ্ঞানী ব্যক্তি।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৩৮২]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عُمَرَ حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ الْهَمْدَانِيُّ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَعْدٍ حَدَّثَنِي وَالِدِي مُحَمَّدٌ عَنْ أَبِيهِ سَعْدٍ قَالَ مَرَرْتُ بِعُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ فِي الْمَسْجِدِ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَمَلَأَ عَيْنَيْهِ مِنِّي ثُمَّ لَمْ يَرُدَّ عَلَيَّ السَّلَامَ فَأَتَيْتُ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ فَقُلْتُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ هَلْ حَدَثَ فِي الْإِسْلَامِ شَيْءٌ مَرَّتَيْنِ قَالَ لَا وَمَا ذَاكَ قَالَ قُلْتُ لَا إِلَّا أَنِّي مَرَرْتُ بِعُثْمَانَ آنِفًا فِي الْمَسْجِدِ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَمَلَأَ عَيْنَيْهِ مِنِّي ثُمَّ لَمْ يَرُدَّ عَلَيَّ السَّلَامَ قَالَ فَأَرْسَلَ عُمَرُ إِلَى عُثْمَانَ فَدَعَاهُ فَقَالَ مَا مَنَعَكَ أَنْ لَا تَكُونَ رَدَدْتَ عَلَى أَخِيكَ السَّلَامَ قَالَ عُثْمَانُ مَا فَعَلْتُ قَالَ سَعْدٌ قُلْتُ بَلَى قَالَ حَتَّى حَلَفَ وَحَلَفْتُ قَالَ ثُمَّ إِنَّ عُثْمَانَ ذَكَرَ فَقَالَ بَلَى وَأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ إِنَّكَ مَرَرْتَ بِي آنِفًا وَأَنَا أُحَدِّثُ نَفْسِي بِكَلِمَةٍ سَمِعْتُهَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا وَاللَّهِ مَا ذَكَرْتُهَا قَطُّ إِلَّا تَغَشَّى بَصَرِي وَقَلْبِي غِشَاوَةٌ قَالَ قَالَ سَعْدٌ فَأَنَا أُنْبِئُكَ بِهَا إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَكَرَ لَنَا أَوَّلَ دَعْوَةٍ ثُمَّ جَاءَ أَعْرَابِيٌّ فَشَغَلَهُ حَتَّى قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاتَّبَعْتُهُ فَلَمَّا أَشْفَقْتُ أَنْ يَسْبِقَنِي إِلَى مَنْزِلِهِ ضَرَبْتُ بِقَدَمِي الْأَرْضَ فَالْتَفَتَ إِلَيَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ مَنْ هَذَا أَبُو إِسْحَاقَ قَالَ قُلْتُ نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ فَمَهْ قَالَ قُلْتُ لَا وَاللَّهِ إِلَّا أَنَّكَ ذَكَرْتَ لَنَا أَوَّلَ دَعْوَةٍ ثُمَّ جَاءَ هَذَا الْأَعْرَابِيُّ فَشَغَلَكَ قَالَ نَعَمْ دَعْوَةُ ذِي النُّونِ إِذْ هُوَ فِي بَطْنِ الْحُوتِ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنْ الظَّالِمِينَ فَإِنَّهُ لَمْ يَدْعُ بِهَا مُسْلِمٌ رَبَّهُ فِي شَيْءٍ قَطُّ إِلَّا اسْتَجَابَ لَهُ
হজরত সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার আমি মসজিদে নববীতে হযরত উসমান গনি (রা.)-এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম এবং তাঁকে দুবার সালাম দিলাম। তিনি সালামের জবাব দিলেন না। আমি হযরত ওমর ফারুক (রা.)-এর কাছে এসে তাকে বললাম যে, আমি এইমাত্র মসজিদে নববীতে হজরত উসমান (রা.)-এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, আমি তাঁকে সালাম দিলাম, তিনি আমার দিকে চোখ বড় বড় করে তাকালেন কিন্তু সালামের জবাব দিলেন না। হে আমীরে মুমিন! ইসলামে কি নতুন কিছুর উদভব হয়েছে? তিনি বললেন, না, ঠিক আছে। তিনি হজরত উসমান ( রা.)-এর কাছে বার্তা পাঠিয়ে তাকে নিয়ে আসলেন এবং বললেন, তোমার ভাইয়ের সালামের জবাব দিতে তোমাকে কিসে বাধা দিলো? হজরত উসমান (রা.) বললেন, আমি তা করিনি, আমি বললাম কেন নয়, হজরত উসমান (রা.) শপথ করলেন, আমিও শপথ করলাম। কিছুক্ষণ পর হজরত উসমান (রা.) মনে পড়লো এবং বললেন হ্যাঁ! এটা ঘটেছে, আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তওবা করছি। আপনি এইমাত্র আমার পাশ দিয়ে চলে গেলেন, আসলে আমি এমন কিছুর কথা ভাবছিলাম যা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি! যখনই আমি তা স্মরণ করি তখনই আমার চোখ পাথর হয়ে যায় এবং আমার হৃদয়ের উপর একটি আবরণ এসে পড়ে (অর্থাৎ আমি অচেতন হয়ে পরি)। একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথোপকথনের শুরুতে একটি দোয়ার কথা উল্লেখ করেছিলেন। কিছুক্ষণ পর একজন গ্রামবাসী এসে নবীজির সাথে বাগদান করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথে কথাবার্তায় ব্যস্ত হয়ে পরলেন এবং শেষে বাড়ির দিকে রওনা হলেন। আমিও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিছে পিছে চললাম এবং আমি যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটবর্তী হলাম, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বাড়িতে প্রায় পৌঁছে গিয়েছিলেন, তাই আমি জোর করে আমার পা মাটিতে মারলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার দিকে ফিরে বললেন, “কে? তুমি কি আবু ইসহাক?” আমি বললাম, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে থামতে বললেন। আমি বললাম যে, আপনি শুরুতে আমাদের সামনে একটি দোয়ার কথা উল্লেখ করেছিলেন, পরে এই গ্রামবাসী এসে আপনার সাথে বাগদান করলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ! এটি হজরত ইউনুস (আ.)-এর দুয়া যা তিনি মাছের পেটে বলেছিলেন, অর্থাৎ
لَّآ إِلَٰهَ إِلَّآ أَنتَ سُبۡحَٰنَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ ٱلظَّٰلِمِينَ
“আপনি ব্যতীত অন্য কোনো উপাস্য নেই, আপনারই সব পবিত্রতা, নিশ্চয় আমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গিয়েছি।” [২১ : ৮৭]
যে কোনো মুসলমান যখনই কোনো বিষয়ে এই শব্দগুলো দিয়ে তার রবের কাছে দোয়া করবে, সেই দোয়া অবশ্যই কবুল হবে ।
[মুসনাদে আহমাদ : ১৩৮৩]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ مَوْلَى بَنِي هَاشِمٍ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلَالٍ حَدَّثَنَا الْجُعَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عَائِشَةَ بِنْتِ سَعْدٍ عَنْ أَبِيهَا أَنَّ عَلِيًّا خَرَجَ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى جَاءَ ثَنِيَّةَ الْوَدَاعِ وَعَلِيٌّ يَبْكِي يَقُولُ تُخَلِّفُنِي مَعَ الْخَوَالِفِ فَقَالَ أَوَمَا تَرْضَى أَنْ تَكُونَ مِنِّي بِمَنْزِلَةِ هَارُونَ مِنْ مُوسَى إِلَّا النُّبُوَّةَ
হজরত সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
যখন রাসুলুল্লাহ (সা.) তাবুক যুদ্ধের সময় হযরত আলী ( রা.)-কে মদীনা মুনওয়ারায় তাঁর সহকারী হিসেবে রেখে যান, তখন হজরত আলী (রা.) কাঁদতে লাগলেন এবং বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! আপনি কি আমাকে শিশু ও নারীদের সঙ্গে রেখে যাচ্ছেন?” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেনঃ “হে আলী! তুমি কি এতে খুশি নও যে, তোমার মর্যাদা আমার নিকট মূসা (আঃ)-এর নিকট হারূন (আঃ)-এর মতই? কিন্তু (পার্থক্য এই যে,) আমার পরে কোন নবী নেই।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৩৮৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عِصَامُ بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرٍ يَعْنِي ابْنَ أَبِي مَرْيَمَ عَنْ رَاشِدِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ لَا تَعْجِزُ أُمَّتِي عِنْدَ رَبِّي أَنْ يُؤَخِّرَهَا نِصْفَ يَوْمٍ وَسَأَلْتُ رَاشِدًا هَلْ بَلَغَكَ مَاذَا النِّصْفُ يَوْمٍ قَالَ خَمْسُ مِائَةِ سَنَةٍ
হজরত সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “আমি আশা করি আমার উম্মত তাদের পালনকর্তার কাছে এতটা অক্ষম হবে না যে, মহান আল্লাহ তাদের হিসাব-নিকাশ অর্ধেক দিন পর্যন্ত বিলম্ব করবেন।” একদিন কেউ একজন হযরত সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু কে জিজ্ঞেস করলেন, “অর্ধেক দিন বলতে কী বোঝায়?” তিনি বলেন, “পাঁচশ বছর।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৩৮৫]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস


حَدَّثَنَا عِصَامُ بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرٍ يَعْنِي ابْنَ أَبِي مَرْيَمَ عَنْ رَاشِدِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ لَا تَعْجِزُ أُمَّتِي عِنْدَ رَبِّي أَنْ يُؤَخِّرَهَا نِصْفَ يَوْمٍ وَسَأَلْتُ رَاشِدًا هَلْ بَلَغَكَ مَاذَا النِّصْفُ يَوْمٍ قَالَ خَمْسُ مِائَةِ سَنَةٍ
হজরত সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “আমি আশা করি আমার উম্মত তাদের পালনকর্তার কাছে এতটা অক্ষম হবে না যে, মহান আল্লাহ তাদের হিসাব-নিকাশ অর্ধেক দিন পর্যন্ত বিলম্ব করবেন।” একদিন কেউ একজন হযরত সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু কে জিজ্ঞেস করলেন, “অর্ধেক দিন বলতে কী বোঝায়?” তিনি বলেন, “পাঁচশ বছর।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৩৮৬]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ رَاشِدِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ هَذِهِ الْآيَةِ هُوَ الْقَادِرُ عَلَى أَنْ يَبْعَثَ عَلَيْكُمْ عَذَابًا مِنْ فَوْقِكُمْ أَوْ مِنْ تَحْتِ أَرْجُلِكُمْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَا إِنَّهَا كَائِنَةٌ وَلَمْ يَأْتِ تَأْوِيلُهَا بَعْدُ
হজরত সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে এই আয়াতের অর্থ জিজ্ঞেস করা হলো,
قُلۡ هُوَ ٱلۡقَادِرُ عَلَىٰٓ أَن يَبۡعَثَ عَلَيۡكُمۡ عَذَابٗا مِّن فَوۡقِكُمۡ أَوۡ مِن تَحۡتِ أَرۡجُلِكُمۡ أَوۡ يَلۡبِسَكُمۡ شِيَعٗا وَيُذِيقَ بَعۡضَكُم بَأۡسَ بَعۡضٍۗ ٱنظُرۡ كَيۡفَ نُصَرِّفُ ٱلۡأٓيَٰتِ لَعَلَّهُمۡ يَفۡقَهُونَ ٦٥
(৬৫) আপনি বলুন, “আল্লাহ এর উপরে ক্ষমতাশীল যে, তোমাদের মাথার উপরে আকাশ থেকে অথবা তোমাদের পায়ের নিচে মাটি থেকে তোমাদের উপরে শাস্তি প্রদান করতে। অথবা তোমাদেরকে দলে উপদলে বিভক্ত করে সবাইকে মুখোমুখী করে দিবেন এবং তোমাদের এক দলকে অন্য দলের দ্বারা শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করাতে পারেন।” আপনি দেখুন, কিভাবে আমি আমার বাণী সমূহ বিভিন্ন ভাবে বর্ণনা করি, যেনো তারা বুঝতে পারে!
[৬. আল আন-আম : ৬৫]
তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, “এটা অবশ্যই ঘটবে কিন্তু এর পূর্ণতার সময় এখনও আসেনি।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৩৮৭]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস


حَدَّثَنَا حَسَنٌ حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ دَاوُدَ بْنِ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَوْ أَنَّ مَا يُقِلُّ ظُفُرٌ مِمَّا فِي الْجَنَّةِ بَدَا لَتَزَخْرَفَتْ لَهُ مَا بَيْنَ خَوَافِقِ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَلَوْ أَنَّ رَجُلًا مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ اطَّلَعَ فَبَدَا سِوَارُهُ لَطَمَسَ ضَوْءُهُ ضَوْءَ الشَّمْسِ كَمَا تَطْمِسُ الشَّمْسُ ضَوْءَ النُّجُومِ
হজরত সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “দুনিয়ায় জান্নাতের একটি পেরেকের চেয়েও ছোট কিছু দেখা গেলে পৃথিবী ও আকাশের চার দিক আলোয় সুশোভিত হয়ে যাবে। আর যদি কোন জান্নাতী মানুষ দুনিয়ার দিকে তাকায় অথবা তার হাতের কঙ্গন দেখা যায়, তাহলে তার আলো সূর্যের আলোকে নিশ্চিহ্ন করে দিবে, যেমন সূর্যের আলো তারার আলোকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৩৮৮]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْهَاشِمِيُّ أَنْبَأَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ لَقَدْ رَأَيْتُ عَنْ يَمِينِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَنْ يَسَارِهِ يَوْمَ أُحُدٍ رَجُلَيْنِ عَلَيْهِمَا ثِيَابٌ بِيضٌ يُقَاتِلَانِ عَنْهُ كَأَشَدِّ الْقِتَالِ مَا رَأَيْتُهُمَا قَبْلُ وَلَا بَعْدُ
হজরত সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
উহুদ যুদ্ধের দিন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দুপাশে ডানে ও বামে দুজন লোককে দেখলাম যারা সাদা পোশাক পরা ছিল এবং তারা প্রচণ্ড যুদ্ধ করছিলো। আমি তাদেরকে এর আগে ও পরে কখনোই দেখিনি। [মুসনাদে আহমাদ : ১৩৮৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ يَعْنِي ابْنَ سَعْدٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ مُعَاذٍ التَّيْمِيِّ قَالَ سَمِعْتُ سَعْدَ بْنَ أَبِي وَقَّاصٍ يَقُولُ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ صَلَاتَانِ لَا يُصَلَّى بَعْدَهُمَا الصُّبْحُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ وَالْعَصْرُ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ حَدَّثَنَا يُونُسُ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ عَنْ أَبِيهِ عَنْ رَجُلٍ مِنْ بَنِي تَيْمٍ يُقَالُ لَهُ مُعَاذٌ عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرَ مِثْلَهُ
হজরত সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি যে, “দুটি নামায আছে যার পরে কোনো নফল নামায পড়া যাবে না, ফজরের সালাতের পর সূর্য উদয় না হওয়া পর্যন্ত এবং আছরের সালাতের পর সূর্য অস্ত না হওয়া পর্যন্ত।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৩৯০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْهَاشِمِيُّ أَنْبَأَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ لَقَدْ رَأَيْتُ عَنْ يَمِينِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَنْ يَسَارِهِ يَوْمَ أُحُدٍ رَجُلَيْنِ عَلَيْهِمَا ثِيَابٌ بِيضٌ يُقَاتِلَانِ عَنْهُ كَأَشَدِّ الْقِتَالِ مَا رَأَيْتُهُمَا قَبْلُ وَلَا بَعْدُ
হজরত সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
উহুদ যুদ্ধের দিন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দুপাশে ডানে ও বামে দুজন লোককে দেখলাম যারা সাদা পোশাক পরা ছিল এবং তারা প্রচণ্ড যুদ্ধ করছিলো। আমি তাদেরকে এর আগে ও পরে কখনোই দেখিনি। [মুসনাদে আহমাদ : ১৩৯১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস