(৭৪) আকীকা [হাদিসের সীমা (৫৪৬৭ - ৫৪৭৪), সর্বমোট হাদিসঃ ৮টি]

৭১/১. অধ্যায়ঃ ‎ [মোট হাদিসঃ ৪টি] [অবশিষ্ট হাদিসঃ ৮টি]


যে সন্তানের আকিকা দেয়া হবে না, জন্ম লাভের দিনেই তার নাম রাখা ও তাহ্নীক করা (কিছু ‎চিবিয়ে তার মুখে দেয়া)।




5536 OK

(৫৪৬৭)

সহিহ হাদিস

إِسْحَاقُ بْنُ نَصْرٍ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ قَالَ حَدَّثَنِي بُرَيْدٌ عَنْ أَبِي بُرْدَةَ عَنْ أَبِي مُوسٰى قَالَ وُلِدَ لِي غُلاَمٌ فَأَتَيْتُ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَسَمَّاه“ إِبْرَاهِيمَ فَحَنَّكَه“ بِتَمْرَةٍ وَدَعَا لَه“ بِالْبَرَكَةِ وَدَفَعَه“ إِلَيَّ وَكَانَ أَكْبَرَ وَلَدِ أَبِي مُوسَى.


আবূ মূসা (রাঃ)‎ থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমার একটি পুত্র সন্তান জন্মালে আমি তাকে নিয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে ‎গেলাম। তিনি তার নাম রাখলেন ইবরাহীম। তারপর খেজুর চিবিয়ে তার মুখে দিলেন এবং তার জন্য বারাকাতের ‎দু’আ করে আমার কাছে ফিরিয়ে দিলেন। সে ছিল আবূ মূসার সবচেয়ে বড় ছেলে। ‎(আধুনিক প্রকাশনী- ৫০৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯৫৮) [সহিহ বুখারী : ৫৪৬৭]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



5537 OK

(৫৪৬৮)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ أُتِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِصَبِيٍّ يُحَنِّكُهُ، فَبَالَ عَلَيْهِ، فَأَتْبَعَهُ الْمَاءَ‏.‏


আয়িশা (রাঃ) ‎ থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে তাহ্নীক করার জন্য এক শিশুকে আনা হল, শিশুটি ‎তার কোলে পেশাব করে দিল, তিনি তখন এতে পানি ঢেলে দিলেন। ‎ (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯৫৯) [সহিহ বুখারী : ৫৪৬৮]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



5538 OK

(৫৪৬৯)

সহিহ হাদিস

إِسْحَاقُ بْنُ نَصْرٍ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ أَنَّهَا حَمَلَتْ بِعَبْدِ اللهِ بْنِ الزُّبَيْرِ بِمَكَّةَ قَالَتْ فَخَرَجْتُ وَأَنَا مُتِمٌّ فَأَتَيْتُ الْمَدِينَةَ فَنَزَلْتُ قُبَاءً فَوَلَدْتُ بِقُبَاءٍ ثُمَّ أَتَيْتُ بِه„ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَوَضَعْتُه“ فِي حَجْرِه„ ثُمَّ دَعَا بِتَمْرَةٍ فَمَضَغَهَا ثُمَّ تَفَلَ فِي فِيهِ فَكَانَ أَوَّلَ شَيْءٍ دَخَلَ جَوْفَه“ رِيقُ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ حَنَّكَه“ بِالتَّمْرَةِ ثُمَّ دَعَا لَه“ فَبَرَّكَ عَلَيْهِ وَكَانَ أَوَّلَ مَوْلُودٍ وُلِدَ فِي الإِسْلاَمِ فَفَرِحُوا بِه„ فَرَحًا شَدِيدًا لِأَنَّهُمْ قِيلَ لَهُمْ إِنَّ الْيَهُودَ قَدْ سَحَرَتْكُمْ فَلاَ يُولَدُ لَكُمْ.


আসমা বিন্‌ত আবূ বক্‌র (রাঃ)‎ থেকে বর্ণিতঃ

তিনি ‘আবদুল্লাহ্‌ ইবনু যুবায়রকে মক্কায় গর্ভে ধারণ করেন। তিনি বলেন, গর্ভকাল পূর্ণ হওয়া অবস্থায় আমি বেরিয়ে ‎মদীনায় আসলাম এবং কুবায় অবতরণ করলাম। কুবাতেই আমি তাকে প্রসব করি। তারপর তাকে নিয়ে রসূলুল্লাহ্‌ ‎‎(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে তাকে তাঁর কোলে রাখলাম। তিনি একটি খেজুর আনতে ‎বললেন। তা চিবিয়ে তিনি তার মুখে দিলেন। রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই লালাই সর্বপ্রথম ‎তার পেটে প্রবেশ করেছিল। তারপর তিনি খেজুর চিবিয়ে তাহ্নীক করলেন এবং তার জন্য বরকতের দু’আ ‎করলেন। (হিজরতের পরে) ইসলামে জন্মলাভকারী সেই ছিল প্রথম সন্তান। তাই তার জন্যে মুসলিমরা মহা আনন্দে ‎আনন্দিত হয়েছিলেন। কারণ, তাদের বলা হত ইয়াহূদীরা তোমাদের যাদু করেছে, তাই তোমাদের সন্তান হয় না।(আধুনিক প্রকাশনী- , ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯৬০) [সহিহ বুখারী : ৫৪৬৯]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



5539 OK

(৫৪৭০)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا‎ ‎مَطَرُ‎ ‎بْنُ‎ ‎الْفَضْلِ،‎ ‎حَدَّثَنَا‎ ‎يَزِيدُ‎ ‎بْنُ‎ ‎هَارُونَ،‎ ‎أَخْبَرَنَا‎ ‎عَبْدُ‎ ‎اللَّهِ‎ ‎بْنُ‎ ‎عَوْنٍ،‎ ‎عَنْ‎ ‎أَنَسِ‎ ‎بْنِ‎ ‎سِيرِينَ،‎ ‎عَنْ‎ ‎أَنَسِ‎ ‎بْنِ‎ ‎مَالِكٍ‎ ‎ـ‎ ‎رضى‎ ‎الله‎ ‎عنه‎ ‎ـ‎ ‎قَالَ‎ ‎كَانَ‎ ‎ابْنٌ‎ ‎لأَبِي‎ ‎طَلْحَةَ‎ ‎يَشْتَكِي،‎ ‎فَخَرَجَ‎ ‎أَبُو‎ ‎طَلْحَةَ،‎ ‎فَقُبِضَ‎ ‎الصَّبِيُّ‎ ‎فَلَمَّا‎ ‎رَجَعَ‎ ‎أَبُو‎ ‎طَلْحَةَ‎ ‎قَالَ‎ ‎مَا‎ ‎فَعَلَ‎ ‎ابْنِي‎ ‎قَالَتْ‎ ‎أُمُّ‎ ‎سُلَيْمٍ‎ ‎هُوَ‎ ‎أَسْكَنُ‎ ‎مَا‎ ‎كَانَ‏‎.‎‏‎ ‎فَقَرَّبَتْ‎ ‎إِلَيْهِ‎ ‎الْعَشَاءَ‎ ‎فَتَعَشَّى،‎ ‎ثُمَّ‎ ‎أَصَابَ‎ ‎مِنْهَا،‎ ‎فَلَمَّا‎ ‎فَرَغَ‎ ‎قَالَتْ‎ ‎وَارِ‎ ‎الصَّبِيَّ‏‎.‎‏‎ ‎فَلَمَّا‎ ‎أَصْبَحَ‎ ‎أَبُو‎ ‎طَلْحَةَ‎ ‎أَتَى‎ ‎رَسُولَ‎ ‎اللَّهِ‎ ‎صلى‎ ‎الله‎ ‎عليه‎ ‎وسلم‎ ‎فَأَخْبَرَهُ‎ ‎فَقَالَ‎ ‎‏‎`‎‏‎ ‎أَعْرَسْتُمُ‎ ‎اللَّيْلَةَ‎ ‎‏‎`‎‏‏‎.‎‏‎ ‎قَالَ‎ ‎نَعَمْ‏‎.‎‏‎ ‎قَالَ‎ ‎‏‎`‎‏‎ ‎اللَّهُمَّ‎ ‎بَارِكْ‎ ‎لَهُمَا‎ ‎‏‎`‎‏‏‎.‎‏‎ ‎فَوَلَدَتْ‎ ‎غُلاَمًا‎ ‎قَالَ‎ ‎لِي‎ ‎أَبُو‎ ‎طَلْحَةَ‎ ‎احْفَظْهُ‎ ‎حَتَّى‎ ‎تَأْتِيَ‎ ‎بِهِ‎ ‎النَّبِيَّ‎ ‎صلى‎ ‎الله‎ ‎عليه‎ ‎وسلم‎ ‎فَأَتَى‎ ‎بِهِ‎ ‎النَّبِيَّ‎ ‎صلى‎ ‎الله‎ ‎عليه‎ ‎وسلم‎ ‎وَأَرْسَلَتْ‎ ‎مَعَهُ‎ ‎بِتَمَرَاتٍ،‎ ‎فَأَخَذَهُ‎ ‎النَّبِيُّ‎ ‎صلى‎ ‎الله‎ ‎عليه‎ ‎وسلم‎ ‎فَقَالَ‎ ‎‏‎`‎‏‎ ‎أَمَعَهُ‎ ‎شَىْءٌ‎ ‎‏‎`‎‏‏‎.‎‏‎ ‎قَالُوا‎ ‎نَعَمْ‎ ‎تَمَرَاتٌ‏‎.‎‏‎ ‎فَأَخَذَهَا‎ ‎النَّبِيُّ‎ ‎صلى‎ ‎الله‎ ‎عليه‎ ‎وسلم‎ ‎فَمَضَغَهَا،‎ ‎ثُمَّ‎ ‎أَخَذَ‎ ‎مِنْ‎ ‎فِيهِ‎ ‎فَجَعَلَهَا‎ ‎فِي‎ ‎فِي‎ ‎الصَّبِيِّ،‎ ‎وَحَنَّكَهُ‎ ‎بِهِ،‎ ‎وَسَمَّاهُ‎ ‎عَبْدَ‎ ‎اللَّهِ‏‎.‎‏ حَدَّثَنَا‎ ‎مُحَمَّدُ‎ ‎بْنُ‎ ‎الْمُثَنَّى،‎ ‎حَدَّثَنَا‎ ‎ابْنُ‎ ‎أَبِي‎ ‎عَدِيٍّ،‎ ‎عَنِ‎ ‎ابْنِ‎ ‎عَوْنٍ،‎ ‎عَنْ‎ ‎مُحَمَّدٍ،‎ ‎عَنْ‎ ‎أَنَسٍ،‎ ‎وَسَاقَ‎ ‎الْحَدِيثَ،‏‎.‎‏


আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) ‎ থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আবূ তালহার এক ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়ল। আবূ তালহা (রাঃ) বাইরে গেলেন, তখন ছেলেটি মারা ‎গেল। আবূ তালহা (রাঃ) ফিরে এসে জিজ্ঞেস করলেনঃ ছেলেটি কী করছে? উম্মু সুলাইম বললেনঃ সে আগের চেয়ে ‎শান্ত। তারপর তাঁকে খাবার দিলেন। তিনি আহার করলেন। তারপর উম্মু সুলাইমের সঙ্গে যৌন সঙ্গম করলেন। ‎যৌন সঙ্গম ক্রিয়া শেষে উম্মু সুলাইম বললেনঃ ছেলেটিকে দাফন করে আস। সকাল হলে আবূ তালহা (রাঃ) ‎রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে তাঁকে এ ঘটনা বললেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ গত ‎রাতে তুমি কি স্ত্রীর সাথে রয়েছ? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ! নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ হে আল্লাহ! ‎তাদের জন্য তুমি বরকত দান কর। কিছুদিন পর উম্মু সুলাইম একটি সন্তান প্রসব করল। (রাবী বলেনঃ ) আবূ ‎তালহা (রাঃ) আমাকে বললেনঃ তাকে তুমি দেখাশোনা কর যতক্ষণ না আমি তাকে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া ‎সাল্লাম)-এর কাছে নিয়ে যাই। অতঃপর তিনি তাকে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে নিয়ে ‎গেলেন। উম্মু সুলাইম সঙ্গে কিছু খেজুর দিয়ে দিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে (কোলে) ‎নিলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, তার সঙ্গে কিছু আছে কি? তাঁরা বললেনঃ হ্যাঁ, আছে। তিনি তা নিয়ে চিবালেন এবং ‎তারপর মুখ থেকে বের করে বাচ্চাটির মুখে দিলেন। তিনি এর দ্বারাই তার তাহ্নীক করলেন এবং তার নাম ‎রাখলেন ‘আবদুল্লাহ্‌। ‎

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি উক্ত হাদীসটিই বর্ণনা করেন। ‎ (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯৬২) [সহিহ বুখারী : ৫৪৭০]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস