(৬৯) ফাযায়িলুল কোরআন [হাদিসের সীমা (৪৯৭৮ - ৫০৬২), সর্বমোট হাদিসঃ ৮৫টি]

৬৬/২৮. অধ্যায়ঃ [মোট হাদিসঃ ২টি] [অবশিষ্ট হাদিসঃ ২০টি]


সুস্পষ্ট ও ধীরে কুরআন তিলাওয়াত করা।


এ সম্পর্কে আল্লাহ্‌র বাণীঃ কুরআন তিলাওয়াত কর ধীরে ধীরে সুস্পষ্টভাবে। আল্লাহ্ তা’আলা ইরশাদ করেনঃ আমি কুরআন অবতীর্ণ করেছি যাতে তুমি তা মানুষের নিকট পাঠ করতে পার ক্রমে ক্রমে। কবিতা পাঠের মতো দ্রুতগতিতে কুরআন পাঠ করা অপছন্দনীয়। আল্লাহর বাণী (আরবী) ‘তাতে পৃথক করা হয়’ এর অর্থ স্পষ্ট করা হয়। ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, আল্লাহর বাণী (আরবী) ‘আমরা পৃথক করেছি’ এর অর্থ আমরা স্পষ্ট করেছি।



5103 OK

(৫০৪৩)

সহিহ হাদিস

أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا مَهْدِيُّ بْنُ مَيْمُوْنٍ حَدَّثَنَا وَاصِلٌ عَنْ أَبِيْ وَائِلٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ غَدَوْنَا عَلَى عَبْدِ اللهِ فَقَالَ رَجُلٌ قَرَأْتُ الْمُفَصَّلَ الْبَارِحَةَ فَقَالَ هَذًّا كَهَذِّ الشِّعْرِ إِنَّا قَدْ سَمِعْنَا الْقِرَاءَةَ وَإِنِّيْ لَأَحْفَظُ الْقُرَنَاءَ الَّتِيْ كَانَ يَقْرَأُ بِهِنَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ثَمَانِيَ عَشْرَةَ سُوْرَةً مِنَ الْمُفَصَّلِ وَسُوْرَتَيْنِ مِنْ آلِ حم


আবূ ওয়ায়িল (রহঃ) সূত্রে ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আবূ ওয়ায়িল (রহঃ) বলেন, আমরা একদিন সকালে ‘আবদুল্লাহ্‌ (রাঃ)- এর কাছে গেলাম। একজন লোক বলল, গতকাল রাতে আমি মুফাস্‌সাল সূরাসমূহ পাঠ করেছি। এ কথা শুনে ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বললেন, এত শীঘ্র পাঠ করা যেন কবিতা পাঠের মতো; অথচ আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর পাঠ শুনেছি এবং তা আমার ভালভাবে মনে আছে। নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে যে সমস্ত সুরাহ পাঠ করতে আমি শুনেছি, তার সংখ্যা মুফাস্‌সাল হতে আঠারটি এবং ‘আলিফ-লাম হামিম’ হতে দু’টি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৭০, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৭৪) [সহিহ বুখারী : ৫০৪৩]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



5104 OK
View Quran

(৫০৪৪)

সহিহ হাদিস

قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيْدٍ حَدَّثَنَا جَرِيْرٌ عَنْ مُوْسَى بْنِ أَبِيْ عَائِشَةَ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ فِيْ قَوْلِهِ {لَا تُحَرِّكْ بِهٰ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهٰ} قَالَ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا نَزَلَ جِبْرِيْلُ بِالْوَحْيِ وَكَانَ مِمَّا يُحَرِّكُ بِهِ لِسَانَهُ وَشَفَتَيْهِ فَيَشْتَدُّ عَلَيْهِ وَكَانَ يُعْرَفُ مِنْهُ فَأَنْزَلَ اللهُ الْآيَةَ الَّتِيْ فِيْ {لَآ أُقْسِمُ بِيَوْمِ الْقِيَامَةِ}{لَا تُحَرِّكْ بِهٰ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهٰإِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ فَإِنَّ عَلَيْنَا أَنْ نَجْمَعَهُ فِيْ صَدْرِكَ وَقُرْآنَهُ فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ فَإِذَا أَنْزَلْنَاهُ فَاسْتَمِعْ ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ} قَالَ إِنَّ عَلَيْنَا أَنْ نُبَيِّنَهُ بِلِسَانِكَ قَالَ وَكَانَ إِذَا أَتَاهُ جِبْرِيْلُ أَطْرَقَ فَإِذَا ذَهَبَ قَرَأَهُ كَمَا وَعَدَهُ اللهُ.


ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহ্‌র বাণীঃ “হে নবী! আপনার জিহবাকে তাড়াতাড়ি মুখস্থ করার জন্য নাড়াবেন না।” আল্লাহ্‌র এই কালাম সম্পর্কে তিনি বলেন, যখনই জিব্‌রীল (আঃ) ওয়াহী নিয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর নিকট আসতেন, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খুব তাড়াতাড়ি জিহবা এবং ঠোঁট নাড়াতেন এবং এটা তার জন্য খুব কঠিন হত। আর এ অবস্থা সহজেই অন্যজনে আঁচ করতে পারত। এ অবস্থার প্রেক্ষাপটে আল্লাহ্ তা’আলা সূরা ক্বিয়ামাহ এর এ আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ “হে নবী! তাড়াতাড়ি ওয়াহী মুখস্থ করার জন্য আপনি আপনার জিহবা নাড়াবেন না। এ মুখস্থ করিয়ে দেয়া ও পাঠ করিয়ে দেয়ার দায়িত্ব আমারই। যখন আমি তা পাঠ করতে থাকি, তখন আপনি সে পাঠকে মনোযোগ সহকারে শুনতে থাকুন। পরে এর অর্থ বুঝিয়ে দেয়াও আমার দায়িত্ব।” সুতরাং যখন জিব্‌রীল (আঃ) পাঠ করেন আপনি তার অনুসরণ করুন। এরপর থেকে জিবরীল (আঃ) বলে যেতেন তখন নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চুপ থাকতেন। যখন তিনি চলে যেতেন, আল্লাহ্‌র ওয়াদা অনুযায়ী তিনি তা পাঠ করতেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৭১, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৭৭৫) [সহিহ বুখারী : ৫০৪৪]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস