(৬৯) ফাযায়িলুল কোরআন [হাদিসের সীমা (৪৯৭৮ - ৫০৬২), সর্বমোট হাদিসঃ ৮৫টি]

৬৬/২৭. অধ্যায়ঃ [মোট হাদিসঃ ৩টি] [অবশিষ্ট হাদিসঃ ২৩টি]


যারা সূরা বাকারাহ বা অমুক অমুক সূরা বলাতে দোষ মনে করেন না।




5100 OK

(৫০৪০)

সহিহ হাদিস

عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ حَدَّثَنَا أَبِيْ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ قَالَ حَدَّثَنِيْ إِبْرَاهِيْمُ عَنْ عَلْقَمَةَ وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيْدَ عَنْ أَبِيْ مَسْعُوْدٍ الْأَنْصَارِيِّ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الآيَتَانِ مِنْ آخِرِ سُوْرَةِ الْبَقَرَةِ مَنْ قَرَأَ بِهِمَا فِيْ لَيْلَةٍ كَفَتَاهُ.


আবূ মাস’উদ আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যদি কোন ব্যক্তি সূরা বাক্বারার শেষ দু’টি আয়াত পাঠ করে, তবে এটাই তার জন্য যথেষ্ট।(আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৬৭, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৭১) [সহিহ বুখারী : ৫০৪০]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



5101 OK

(৫০৪১)

সহিহ হাদিস

أَبُو الْيَمَانِ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ أَخْبَرَنِيْ عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ عَنْ حَدِيْثِ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدٍ الْقَارِيِّ أَنَّهُمَا سَمِعَا عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ يَقُوْلُ سَمِعْتُ هِشَامَ بْنَ حَكِيْمِ بْنِ حِزَامٍ يَقْرَأُ سُوْرَةَ الْفُرْقَانِ فِيْ حَيَاةِ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَاسْتَمَعْتُ لِقِرَاءَتِهِ فَإِذَا هُوَ يَقْرَؤُهَا عَلَى حُرُوْفٍ كَثِيْرَةٍ لَمْ يُقْرِئْنِيْهَا رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَكِدْتُ أُسَاوِرُهُ فِي الصَّلَاةِ فَانْتَظَرْتُهُ حَتَّى سَلَّمَ فَلَبَبْتُهُ فَقُلْتُ مَنْ أَقْرَأَكَ هَذِهِ السُّوْرَةَ الَّتِيْ سَمِعْتُكَ تَقْرَأُ قَالَ أَقْرَأَنِيْهَا رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ لَهُ كَذَبْتَ فَوَاللهِ إِنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم لَهُوَ أَقْرَأَنِيْ هَذِهِ السُّوْرَةَ الَّتِيْ سَمِعْتُكَ فَانْطَلَقْتُ بِهِ إِلَى رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَقُوْدُهُ فَقُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنِّيْ سَمِعْتُ هَذَا يَقْرَأُ سُوْرَةَ الْفُرْقَانِ عَلَى حُرُوْفٍ لَمْ تُقْرِئْنِيْهَا وَإِنَّكَ أَقْرَأْتَنِيْ سُوْرَةَ الْفُرْقَانِ فَقَالَ يَا هِشَامُ اقْرَأْهَا فَقَرَأَهَا الْقِرَاءَةَ الَّتِيْ سَمِعْتُهُ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم هَكَذَا أُنْزِلَتْ ثُمَّ قَالَ اقْرَأْ يَا عُمَرُ فَقَرَأْتُهَا الَّتِيْ أَقْرَأَنِيْهَا فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم هَكَذَا أُنْزِلَتْ ثُمَّ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ الْقُرْآنَ أُنْزِلَ عَلَى سَبْعَةِ أَحْرُفٍ فَاقْرَءُوْا مَا تَيَسَّرَ مِنْهُ.


‘উমার ইব্‌নু খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি হিশাম ইব্‌নু হাকীম ইব্‌নু হিযামকে রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর জীবদ্দশায় ‘সূরা ফুরকান’ তিলাওয়াত করতে শুনলাম। আমি লক্ষ্য করলাম যে, সে বিভিন্ন কিরাআতে তা পাঠ করছে, যা আল্লাহ্‌র রসূল আমাকে শিখাননি। যার ফলে তাকে সলাতের মধ্যেই ধরতে উদ্যত হলাম। অবশ্য আমি তার সলাত শেষে সালাম ফিরানো পর্যন্ত অপেক্ষা করলাম। সলাত শেষ হতেই তার গলায় রুমাল পেঁচিয়ে ধরলাম এবং তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, এইমাত্র আমি তোমাকে যা পাঠ করতে শুনলাম, তা তোমাকে কে শিখিয়েছে? সে উত্তর করল, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে এরূপ শিখিয়েছেন। আমি বললাম, তুমি মিথ্যা বলছো! আল্লাহ্‌র কসম, রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে ভিন্ন ভাবে তিলাওয়াত করা শিখিয়েছেন, যা তোমাকে তিলাওয়াত করতে শুনেছি। এরপর আমি তাকে টেনে নিয়ে রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর কাছে উপস্থিত হলাম এবং বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমি এই ব্যক্তিকে ভিন্ন ভাবে ‘সূরা ফুরকান’ পাঠ করতে শুনেছি, যে পদ্ধতি আপনি আমাকে তিলাওয়াত করতে শিখাননি। অথচ আপনি আমাকে সূরা ফুরকান তিলাওয়াত শিখিয়েছেন। এরপর তিনি বললেন, হে হিশাম! পাঠ করো! সুতরাং আমি যেভাবে পাঠ করতে শুনেছি, সে সেই ভাবেই পাঠ করল। এরপর রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এভাবে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। এরপর রসুলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হে ‘উমার। তুমি পাঠ করো, সুতরাং রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে যেভাবে শিখিয়েছিলেন, সেভাবে আমি পাঠ করলাম। এরপর তিনি বললেন, কুরআন এভাবেই অবতীর্ণ হয়েছে। রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরও বললেন, সাত কিরাআত বা পদ্ধতিতে পাঠ করার জন্য কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। সুতরাং এর মধ্যে যে পদ্ধতি তোমার জন্য সহজ, সে পদ্ধতিতে পড়।(আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৬৮, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৭২) [সহিহ বুখারী : ৫০৪১]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



5102 OK

(৫০৪২)

সহিহ হাদিস

بِشْرُ بْنُ آدَمَ أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ أَخْبَرَنَا هِشَامٌ عَنْ أَبِيْهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ سَمِعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم قَارِئًا يَقْرَأُ مِنْ اللَّيْلِ فِي الْمَسْجِدِ فَقَالَ يَرْحَمُهُ اللهُ لَقَدْ أَذْكَرَنِيْ كَذَا وَكَذَا آيَةً أَسْقَطْتُهَا مِنْ سُوْرَةِ كَذَا وَكَذَا.


'আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক কারীকে রাতে মাসজিদে কুরআন মাজীদ পড়তে শুনলেন। এরপর তিনি বললেন, আল্লাহ্‌ তার প্রতি করুণা করুন। সে আমাকে অমুক অমুক আয়াত মনে করিয়ে দিয়েছে, যা অমুক অমুক সূরা থেকে ভুলতে বসেছিলাম। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৬৯, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৭৩) [সহিহ বুখারী : ৫০৪২]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস