
أَبُوْ نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ ح حَدَّثَنَا قَبِيْصَةُ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِيْ إِسْحَاقَ عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ أَقَمْنَا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَشْرًا نَقْصُرُ الصَّلَاةَ.
আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গে মক্কায় দশদিন অবস্থান করেছিলাম। সে সময় আমরা সলাত কসর করতাম। [৭২] [১০৮১] (আ.প্র. ৩৯৫৯, ই.ফা. ৩৯৬৪) [সহিহ বুখারী : ৪২৯৭]
[[৭২] আল্লাহ তা'আলা আল-কুরানে ঘোষণা দিয়েছেন- ''যখন তোমরা যমীনে ভ্রমণ করবে তখন সলাত কসর করলে তাতে কোন সমস্যা নেই।'' (সূরা অন-নিসাঃ ১০১) উক্ত আয়াতে এরূপ প্রমাণ মিলে না যে, কি পরিমাণ সফর করলে কসর করা যাবে। এ কারণেই সহাবীগণের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে। ইবনু 'উমার ও ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে, 'তারা চার বুরুদ (১৬ ফারসাখ সমান ৪৮ মাইল) পরিমান সফর করলে সলাত কসর করতেন এবং সওম ভেঙ্গে দিতেন। পক্ষান্তরে ইবনু 'উমার হতে সহীহ বর্ণনায় সাব্যস্ত হয়েছে তিনি বলেন, `তিন মাইল সফর করলে সলাত কসর করা যাবে''। সহীহ সানাদে তার থেকে আরো বর্ণিত হয়েছে, 'তিনি মাক্কাহ'য় অবস্থানকালীন যখন মিনায় যেতেন তখন কসর করতেন'। এমনকি সহীহ সুত্রে ইবনু 'উমার হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, 'আমি যদি এক মাইল পথের জন্য বের হতাম তাহলেও সলাত করতাম'। তিনি আরো বললেন, আমি দিনের কিছু সময় সফর করতাম এবং কসর করতাম। এসব আসারের সুত্রগুলো সহীহ। বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন ''ফাতহুল বারী'' ও শাইখ আলবানীর ''ইরওয়াউল গালীল'' (৩/১৪-২০) এ থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, সহাবীগণ এ বিষয়ে একমত ছিলেন না। বরং তাদের মধ্যে মতভেদ সংঘটিত হয়েছিল। অতএব আমাদেরকে দেখা দরকার এ ব্যাপারে রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর 'আমল কি ছিল? আমরা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর 'আমলের এর দিকে লক্ষ্য করলে দেখছি ইবনু 'উমর (রাঃ) এর 'আমল তাঁর 'আমলের সাথে অনেকাংশেই মিলে যাচ্ছে। যদিও তাঁর থেকে এ ব্যাপারে কোন মৌখিক হাদীছ বর্ণিত হয়নি। কারণ আনাস (রাঃ) নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আমল বর্ননা করেছেন। ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াযিদ আল হুনাই বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে কসর করার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বলেন, রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তিন মাইল বা তিন ফারসাখ পরিমাণ পথ সফর করলেই দু'রাক'আত সলাত আদায় করতেন। (নিম্নের বর্ণনাকারী শু'বাহ সন্দেহ বশতঃ তিন মাইল বা তিন ফারসাখ বলেছেন) । হাদীছটি ইমাম মুসলিম (২/১৪৫) , আবু আওয়ানাহ (২/৩৪৬) , আবু দাউদ, ইবনু আবী শাইবাহ (২/১০৮/১-২) , বায়হাক্বী (৩/১৪৬) ও আহমাদ (৩/১২৯) বর্ননা করেছেন। উল্লেখ এক ফারসাখ সমান তিন মাইল। অতএব তিন ফারসাখ সমান ৯ মাইল। যেহেতু মুসলিম সহ অনান্য হাদীছগ্রন্থে বর্ণিত এ হাদীছটিতে তিন মাইল বা ৯ মাইল এর কথা বলা হয়েছে। যা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর 'আমল হিসেবে প্রমাণিত। অতএব আমরা সতর্কতার স্বার্থে তিন মাইল গ্রহণ না করে ৯ মাইলকে গ্রহণ করব এবং ৯ মাইল পরিমান পথ সফর করলেই নির্দ্বিধায় সলাত কসর করব। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন ফিকহুস সুন্নাহ ইরওয়াউল গালীল ৩য় খণ্ড ফতহুল বারী প্রমুখ গ্রন্থসমূহের সলাত অধ্যায়। (দেখুন মুসলিম হাঃ নং ৬৯১, সহীহ আবূ দাউদ ১২০১, আহমাদ ১১৯০৪, সিলসিলা সহীহা হাঃ নং ১৬৩)]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

عَبْدَانُ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللهِ أَخْبَرَنَا عَاصِمٌ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ أَقَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِمَكَّةَ تِسْعَةَ عَشَرَ يَوْمًا يُصَلِّيْ رَكْعَتَيْنِ.
ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, (মাক্কাহ বিজয়ের সময়ে) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঊনিশ দিন মক্কায় অবস্থান করেছিলেন, তিনি সে সময় দু'রাক'আত সলাত আদায় করতেন। [১০৮০] (আ.প্র. ৩৯৬০, ই.ফা. ৩৯৬৫) [সহিহ বুখারী : ৪২৯৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

أَحْمَدُ بْنُ يُوْنُسَ حَدَّثَنَا أَبُوْ شِهَابٍ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ أَقَمْنَا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِيْ سَفَرٍ تِسْعَ عَشْرَةَ نَقْصُرُ الصَّلَاةَ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ وَنَحْنُ نَقْصُرُ مَا بَيْنَنَا وَبَيْنَ تِسْعَ عَشْرَةَ فَإِذَا زِدْنَا أَتْمَمْنَا.
ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, সফরে আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গে ঊনিশ দিন (মক্কা বিজয়্কালে) অবস্থান করেছিলাম। [৭৩] ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, আমরা সফরে উনিশ দিন পর্যন্ত কসর করতাম। এর চেয়ে অধিক দিন থাকলে আমরা পূর্ণ সলাত আদায় করতাম। [১০৮০] (আ.প্র. ৩৯৬১, ই.ফা. ৩৯৬৬) [সহিহ বুখারী : ৪২৯৯]
[[৭৩] হাদীসের পণ্ডিতগণের মতে আনাস (রাঃ) বর্ণিত হাদীসে বিদায় হাজ্জের সফরে এবং ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) বর্ণিত হাদীসে মাক্কাহ বিজয়্কালে মাক্কায় অবস্থানের মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে।]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস