(৬৩৯) সাদাকাহ্ সম্পর্কিত অধ্যায় [হাদিসের সীমা (), সর্বমোট হাদিসঃ ১৫টি]

পরিচ্ছেদ ১: [মোট হাদিসঃ ৬টি] [অবশিষ্ট হাদিসঃ ১৫টি]


সাদাকাহ্ প্রদানের উৎসাহ প্রসঙ্গে




36291 OK

(১৮১৫)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ أَبِي الْحُبَابِ سَعِيدِ بْنِ يَسَارٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ مِنْ كَسْبٍ طَيِّبٍ وَلَا يَقْبَلُ اللهُ إِلَّا طَيِّبًا كَانَ إِنَّمَا يَضَعُهَا فِي كَفِّ الرَّحْمَنِ يُرَبِّيهَا كَمَا يُرَبِّي أَحَدُكُمْ فَلُوَّهُ أَوْ فَصِيلَهُ حَتَّى تَكُونَ مِثْلَ الْجَبَلِ


সাঈদ ইব্নু ইয়াসার (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি হালাল উপায়ে অর্জিত মাল থেকে সাদাকাহ্ করে, আল্লাহ্ তা‘আলা শুধুমাত্র হালাল অর্থাৎ পবিত্রকেই কবূল করেন-- তা হলে উক্ত সাদাকাহ্ সে আল্লাহ্‌র হাতে দিল। আল্লাহ্ তা‘আলা তাকে এভাবে লালন-পালন করেন, যেভাবে তোমরা ঘোড়ার বাচ্চা কিংবা উটের বাচ্চা লালন-পালন কর। শেষ পর্যন্ত সেই সাদাকাহ্ (বর্ধিত হয়ে) পর্বতসমান হয়ে যায়। (বুখারী ৭৪৩০, ইমাম মুসলিম ইবনু আব্বাস থেকে মুত্তাসিল সনদে বর্ণনা করেন ১০১৪) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৮১৫]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



36292 OK

(১৮১৬)

সহিহ হাদিস

و حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ إِسْحَقَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يَقُولُ كَانَ أَبُو طَلْحَةَ أَكْثَرَ أَنْصَارِيٍّ بِالْمَدِينَةِ مَالًا مِنْ نَخْلٍ وَكَانَ أَحَبَّ أَمْوَالِهِ إِلَيْهِ بَيْرُحَاءَ وَكَانَتْ مُسْتَقْبِلَةَ الْمَسْجِدِ وَكَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدْخُلُهَا وَيَشْرَبُ مِنْ مَاءٍ فِيهَا طَيِّبٍ قَالَ أَنَسٌ فَلَمَّا أُنْزِلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ { لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ } قَامَ أَبُو طَلْحَةَ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ اللهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى يَقُولُ { لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ } وَإِنَّ أَحَبَّ أَمْوَالِي إِلَيَّ بَيْرُحَاءَ وَإِنَّهَا صَدَقَةٌ لِلَّهِ أَرْجُو بِرَّهَا وَذُخْرَهَا عِنْدَ اللهِ فَضَعْهَا يَا رَسُولَ اللهِ حَيْثُ شِئْتَ قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَخْ ذَلِكَ مَالٌ رَابِحٌ ذَلِكَ مَالٌ رَابِحٌ وَقَدْ سَمِعْتُ مَا قُلْتَ فِيهِ وَإِنِّي أَرَى أَنْ تَجْعَلَهَا فِي الْأَقْرَبِينَ فَقَالَ أَبُو طَلْحَةَ أَفْعَلُ يَا رَسُولَ اللهِ فَقَسَمَهَا أَبُو طَلْحَةَ فِي أَقَارِبِهِ وَبَنِي عَمِّهِ


আনাস ইব্নু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

মদীনার আনসারগণের মধ্যে আবূ তালহা (রাঃ) ছিলেন সর্বাধিক ধনী ব্যক্তি। তাঁর সবচাইতে অধিক খেজুর বৃক্ষ ছিল। সমুদয় বাগানের মধ্যে “বাইরুহা” নামক বাগানটি ছিল তাঁর (আবূ তালহার) অধিক পছন্দনীয়। বাগানটি মসজিদে নববীর সামনেই অবস্থিত ছিল। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেই বাগানে প্রায়ই আসা-যাওয়া করতেন। সেখানকার পানি খুবই উত্তম ছিল, তিনি তা পান করতেন। আনাস (রাঃ) বলেন, যখন এই আয়াত নাযিল হলঃ
لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ
অর্থাৎ যতক্ষণ তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু (আল্লাহ্‌র রাহে) খরচ না করবে, ততক্ষণ তোমরা সওয়াব পাবে না। তখন আবূ তালহা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন, যতক্ষণ তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু (আল্লাহ্‌র রাহে) খরচ না করবে, ততক্ষণ তোমরা সওয়াব পাবে না। আর আমার প্রিয় বস্তু হল এই ‘বাইরুহা’। আমি একে আল্লাহর রাস্তায় সাদাকাহ্ করলাম। এর বিনিময়ে আমি নেকীর আশা রাখি এবং ইহা আল্লাহ্‌র নিকট জমা রাখছি। সুতরাং ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আপনি একে যেভাবে ইচ্ছা ব্যায় করুন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, বাহ্বা! এটা অত্যন্ত লাভজনক মাল, এটা অত্যন্ত লাভজনক মাল। তুমি এই বাগান সম্বন্ধে যা কিছু বলেছ আমি উহা শ্রবণ করেছি। আমার মনে হয়, তুমি একে তোমার আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে বিতরণ করে দাও। আবূ তালহা বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আমি উহা বিতরণ করে দিব। অতএব আবূ তালহা (রাঃ) তাঁর আত্মীয়-স্বজন ও চাচাত ভাইগণের মধ্যে উহা বণ্টন করে দিলেন। (বুখারী ১৪৬১, মুসলিম ৯৯৮) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৮১৬]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



36293 OK

(১৮১৭)

নির্ণীত নয়

و حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَعْطُوا السَّائِلَ وَإِنْ جَاءَ عَلَى فَرَسٍ


যায়দ ইব্নু আসলাম (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ভিক্ষুককে দাও যদিও সে ঘোড়ায় আরোহণ করে আসে। (যয়ীফ, আবূ দাঊদ ১৬৬৫, তিনি হুসাইন বিন আলী থেকে মুত্তাসিল সনদে বর্ণনা করেন। আলবানী হাদীসটি যয়ীফ বলেছেন [সিলসিলা যয়ীফা ১৩৭৮], তবে ইমাম মালিক কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি মুরসাল) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৮১৭]


হাদিসের মান : নির্ণীত নয়



36294 OK

(১৮১৮)

সহিহ হাদিস

و حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُعَاذٍ الْأَشْهَلِيِّ الْأَنْصَارِيِّ عَنْ جَدَّتِهِ أَنَّهَا قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا نِسَاءَ الْمُؤْمِنَاتِ لَا تَحْقِرَنَّ إِحْدَاكُنَّ أَنْ تُهْدِيَ لِجَارَتِهَا وَلَوْ كُرَاعَ شَاةٍ مُحْرَقًا


আ‘মর ইব্নু মুয়াজ আশহালী তাঁর দাদী থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, হে মু‘মিন মহিলাগণ! তোমাদের কেউ যেন স্বীয় প্রতিবেশীকে তুচ্ছ মনে না করে, যদিও সে ছাগলের একটি পোড়া খুর পাঠায় (তাও কবূল কর)। (বুখারী ২৫৬৬, মুসলিম ১০৩০) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৮১৮]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



36295 OK

(১৮১৯)

নির্ণীত নয়

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّ مِسْكِينًا سَأَلَهَا وَهِيَ صَائِمَةٌ وَلَيْسَ فِي بَيْتِهَا إِلَّا رَغِيفٌ فَقَالَتْ لِمَوْلَاةٍ لَهَا أَعْطِيهِ إِيَّاهُ فَقَالَتْ لَيْسَ لَكِ مَا تُفْطِرِينَ عَلَيْهِ فَقَالَتْ أَعْطِيهِ إِيَّاهُ قَالَتْ فَفَعَلْتُ قَالَتْ فَلَمَّا أَمْسَيْنَا أَهْدَى لَنَا أَهْلُ بَيْتٍ أَوْ إِنْسَانٌ مَا كَانَ يُهْدِي لَنَا شَاةً وَكَفَنَهَا فَدَعَتْنِي عَائِشَةُ أُمُّ الْمُؤْمِنِينَ فَقَالَتْ كُلِي مِنْ هَذَا هَذَا خَيْرٌ مِنْ قُرْصِكِ


নবী করীম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহধর্মিণী আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তাঁর নিকট জনৈক ভিক্ষুক এসে কিছু ভিক্ষা চাইল। তিনি (আয়িশা) রোযা রেখেছিলেন। ঘরে একটি রুটি ব্যতীত আর কিছুই ছিল না। তিনি স্বীয় দাসীকে বললেন, উহা ফকীরকে দিয়ে দাও। দাসী বলল, আপনার ইফতারের জন্য আর কিছুই থাকবে না। তিনি বললেন, (যাহা হোক) দিয়ে দাও। অতঃপর দাসী সেই রুটি ফকীরকে দিয়ে দিল। দাসীটি বলে, সন্ধ্যার সময় কোন বাড়ি হতে বা কোন এক ব্যক্তি হাদিয়া পাঠিয়ে দিল ছাগলের ভুনা গোশত যে কখনো হাদীয়া পাঠাতো না। আয়িশা (রাঃ) আমাকে ডেকে বললেন, খাও। ইহা তোমার রুটি হতে উত্তম। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৮১৯]


হাদিসের মান : নির্ণীত নয়



36296 OK

(১৮২০)

নির্ণীত নয়

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك قَالَ بَلَغَنِي أَنَّ مِسْكِينًا اسْتَطْعَمَ عَائِشَةَ أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ وَبَيْنَ يَدَيْهَا عِنَبٌ فَقَالَتْ لِإِنْسَانٍ خُذْ حَبَّةً فَأَعْطِهِ إِيَّاهَا فَجَعَلَ يَنْظُرُ إِلَيْهَا وَيَعْجَبُ فَقَالَتْ عَائِشَةُ أَتَعْجَبُ كَمْ تَرَى فِي هَذِهِ الْحَبَّةِ مِنْ مِثْقَالِ ذَرَّةٍ


মালিক (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

জনৈক মিসকীন নবী করীম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহধর্মিণী আয়িশা (রাঃ)-এর কাছে এসে কিছু ভিক্ষা চাইল। তাঁর সম্মুখে তখন আঙ্গুর ছিল। আয়িশা (রাঃ) এক ব্যক্তিকে বললেন, একটি আঙ্গুর নিয়ে ঐ মিসকীনকে দিয়ে দাও। লোকটি আশ্চর্যবোধ করতে লাগল (মাত্র একটি আঙ্গুর দিচ্ছেন!)। আয়িশা (রাঃ) লোকটির মনোভাব বুঝতে পেরে বললেন, তুমি আশ্চর্যবোধ করছ? এই একটি আঙ্গুর কত অণু পরিমাণ হবে বলে তুমি মনে কর ? [১] (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৮২০]


[[১] অর্থাৎ এটাই বা কম কি? আল্লাহ্‌র জন্য দেয়া হলে আল্লাহ্ তা কবূল করেন পরিমাণ নয়- নিয়তই আসল বস্তু। তবে সামর্থ্যানুযায়ী দেয়াই সমীচীন।]


হাদিসের মান : নির্ণীত নয়