(৬২৪) দিয়াত অধ্যায় [হাদিসের সীমা (), সর্বমোট হাদিসঃ ২৯টি]

পরিচ্ছেদঃ ১৭ [মোট হাদিসঃ ৩টি] [অবশিষ্ট হাদিসঃ ১১টি]


দিয়াত হতে মীরাস দেয়া এবং উহাতে কাঠিন্য করা




36035 OK

(১৫৬৬)

নির্ণীত নয়

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ نَشَدَ النَّاسَ بِمِنًى مَنْ كَانَ عِنْدَهُ عِلْمٌ مِنْ الدِّيَةِ أَنْ يُخْبِرَنِي فَقَامَ الضَّحَّاكُ بْنُ سُفْيَانَ الْكِلَابِيُّ فَقَالَ كَتَبَ إِلَيَّ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ أُوَرِّثَ امْرَأَةَ أَشْيَمَ الضِّبَابِيِّ مِنْ دِيَةِ زَوْجِهَا فَقَالَ لَهُ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ ادْخُلْ الْخِبَاءَ حَتَّى آتِيَكَ فَلَمَّا نَزَلَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ أَخْبَرَهُ الضَّحَّاكُ فَقَضَى بِذَلِكَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ قَالَ ابْنُ شِهَابٍ وَكَانَ قَتْلُ أَشْيَمَ خَطَأً


ইব্নু শিহাব (র) থেকে বর্ণিতঃ

উমার ইব্নু খাত্তার (রা) মিনার দিন লোকদেরকে ডেকে বললেন দিয়াতের ব্যাপারে যার যা কিছু জানা আছে, সে যেন আমাকে তা বলে। ইত্যবসরে যাহহাকে ইব্নু সুফিয়ান (রা) দাঁড়িয়ে বললেন, রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে লিখেছেন যে, আমি যেন আশইয়াম যবাবীর স্ত্রীকে তার স্বামীর দিয়াত হতে মীরাস দেই। উমার (রা) বললেন, তুমি আমার আসা পর্যন্ত তাঁবুতে অপেক্ষা কর। উমার (রা) এলে যাহহাক তাই বললেন। অতঃপর উমার (রা) এই আদেশই জারি করলেন। ইব্নু শিহাব বলেন, আশইয়াম ভুলে নিহত হয়েছিল। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৫৬৬]


হাদিসের মান : নির্ণীত নয়



36036 OK

(১৫৬৭)

নির্ণীত নয়

و حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ أَنَّ رَجُلًا مِنْ بَنِي مُدْلِجٍ يُقَالُ لَهُ قَتَادَةُ حَذَفَ ابْنَهُ بِالسَّيْفِ فَأَصَابَ سَاقَهُ فَنُزِيَ فِي جُرْحِهِ فَمَاتَ فَقَدِمَ سُرَاقَةُ بْنُ جُعْشُمٍ عَلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ اعْدُدْ عَلَى مَاءِ قُدَيْدٍ عِشْرِينَ وَمِائَةَ بَعِيرٍ حَتَّى أَقْدَمَ عَلَيْكَ فَلَمَّا قَدِمَ إِلَيْهِ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ أَخَذَ مِنْ تِلْكَ الْإِبِلِ ثَلَاثِينَ حِقَّةً وَثَلَاثِينَ جَذَعَةً وَأَرْبَعِينَ خَلِفَةً ثُمَّ قَالَ أَيْنَ أَخُو الْمَقْتُولِ قَالَ هَأَنَذَا قَالَ خُذْهَا فَإِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَيْسَ لِقَاتِلٍ شَيْءٌ و حَدَّثَنِي مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ وَسُلَيْمَانَ بْنَ يَسَارٍ سُئِلَا أَتُغَلَّظُ الدِّيَةُ فِي الشَّهْرِ الْحَرَامِ فَقَالَا لَا وَلَكِنْ يُزَادُ فِيهَا لِلْحُرْمَةِ فَقِيلَ لِسَعِيدٍ هَلْ يُزَادُ فِي الْجِرَاحِ كَمَا يُزَادُ فِي النَّفْسِ فَقَالَ نَعَمْ قَالَ مَالِك أُرَاهُمَا أَرَادَا مِثْلَ الَّذِي صَنَعَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ فِي عَقْلِ الْمُدْلِجِيِّ حِينَ أَصَابَ ابْنَهُ


আমর ইব্নু শুআয়েব (র) থেকে বর্ণিতঃ

বনী মুদলজের এক ব্যক্তি, যার নাম ছিল কাতাদা, নিজের ছেলেকে তলোয়ারে আঘাত করল, যাতে ঐ ছেলের পায়ে আঘাত লাগল। ক্ষতস্থান হতে রক্ত বন্ধ না হয়ে ছেলেটি মারা গেল। সুরাকা ইব্নু জু‘শুম উমার (রা)-এর কাছে এসে ঘটনা বর্ণনা করল। উমার (রা) তাকে বললেন, আমার আগমনের পূর্বেই তুমি কাদীদের কূপের কাছে ১২০টি উট যোগাড় করে রাখ। যখন তিনি তথায় এলেন ঐ উটের ৩০ হক্কা, ২০টি জাযআ, ৪০টি গর্ভবতী উটনী নিলেন এবং বললেন, নিহত ব্যক্তির ভাই কোথায় ? সে বলল, আমি উপস্থিত আছি। তিনি বললেন, তুমি এই উট নিয়ে যাও। কেননা রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হত্যাকারী কোন মীরাস পাবে না। [১] (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
সাঈদ ইব্নু মুসায়্যাব (র) ও সুলায়মান ইব্নু ইয়াসার (র)-কে জিজ্ঞেস করা হল, যদি কেউ হারাম মাসসমূহে কাউকেও হত্যা করে, তবে তার দিয়াতের ব্যাপারে কি কঠোরতা অবলম্বন করা হবে? তিনি বললেন, না, বরং ঐ সকল মাস হারাম মাস হওয়ার দরুন দিয়াত বাড়িয়ে নিয়ে হবে। অতঃপর সাঈদের কাছে জিজ্ঞেস করা হল, যদি কেউ এই মাসে কাউকেও আহত করে দেয়, তবু সেই হত্যার মতো উহার দিয়াতও বৃদ্ধি পাবে? সাঈদ বললেন, হ্যাঁ। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
মালিক (র) বলেন, আমার মনে হয় বাড়িয়ে দেয়ারও উহাই উদ্দেশ্য যেমন মুদলজীর দিয়াত উমার (রা) করেছেন, যখন সে তার ছেলেকে মেরেছিল। [২] [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৫৬৭]


[[১] তার পিতা উপস্থিত থাকলেও যেহেতু সে-ই হত্যা করেছে সেইজন্য মীরাস হতে বঞ্চিত রইল, শুধু ভাই-ই পেল। [২] অর্থাৎ দিয়াতের একশত উট ঠিকই রইল, কিন্তু তিন প্রকারের উট নিয়ে তাতে কাঠিন্য করা হল।]


হাদিসের মান : নির্ণীত নয়



36037 OK

(১৫৬৮)

নির্ণীত নয়

و حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ أَنَّ رَجُلًا مِنْ الْأَنْصَارِ يُقَالُ لَهُ أُحَيْحَةُ بْنُ الْجُلَاحِ كَانَ لَهُ عَمٌّ صَغِيرٌ هُوَ أَصْغَرُ مِنْ أُحَيْحَةَ وَكَانَ عِنْدَ أَخْوَالِهِ فَأَخَذَهُ أُحَيْحَةُ فَقَتَلَهُ فَقَالَ أَخْوَالُهُ كُنَّا أَهْلَ ثُمِّهِ وَرُمِّهِ حَتَّى إِذَا اسْتَوَى عَلَى عُمَمِهِ غَلَبَنَا حَقُّ امْرِئٍ فِي عَمِّهِ قَالَ عُرْوَةُ فَلِذَلِكَ لَا يَرِثُ قَاتِلٌ مَنْ قَتَلَ قَالَ مَالِك الْأَمْرُ الَّذِي لَا اخْتِلَافَ فِيهِ عِنْدَنَا أَنَّ قَاتِلَ الْعَمْدِ لَا يَرِثُ مِنْ دِيَةِ مَنْ قَتَلَ شَيْئًا وَلَا مِنْ مَالِهِ وَلَا يَحْجُبُ أَحَدًا وَقَعَ لَهُ مِيرَاثٌ وَأَنَّ الَّذِي يَقْتُلُ خَطَأً لَا يَرِثُ مِنْ الدِّيَةِ شَيْئًا وَقَدْ اخْتُلِفَ فِي أَنْ يَرِثَ مِنْ مَالِهِ لِأَنَّهُ لَا يُتَّهَمُ عَلَى أَنَّهُ قَتَلَهُ لِيَرِثَهُ وَلِيَأْخُذَ مَالَهُ فَأَحَبُّ إِلَيَّ أَنْ يَرِثَ مِنْ مَالِهِ وَلَا يَرِثُ مِنْ دِيَتِهِ


উরওয়া ইব্নু যুবাইর (র) থেকে বর্ণিতঃ

এক আনসার ব্যক্তি ছিলেন। তার নাম ছিল উহায়হা ইব্নু জুলাহ। তার একজন চাচা ছিল। সে উহায়হা হতে বয়সে ছোট ছিল। সে তার নানা বাড়িতে বাস করত। উহায়হা তাকে ধরে মেরে ফেলল (হত্যা করল)। তার মামারা বলল, আমরা তাকে লালন-পালন করেছি, যখন সে জওয়ান হল, তখন তার চাচারা আমাদের উপর বিজয়ী হল এবং সে দিয়াত নিয়ে ফেলল। উরওয়া বলেন, এজন্য হত্যাকারী নিহত ব্যক্তির ওয়ারিস হয় না। [১] (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
মালিক (র) বলেন, আমাদের কাছে এটা একটি সর্বসম্মত বিধান যে, ইচ্ছাকৃত হত্যাকারী নিহত ব্যক্তির ওয়ারিস হয়নি। দিয়াত হোক বা অন্য কোন মাল হোক, এমন কি সে কোন ওয়ারিসকে বঞ্চিতও করতে পারে। ভুলবশত হত্যায়ও হত্যাকারী নিহতের দিয়াতের ওয়ারিস হয় না। নিহতের অন্যান্য মালে ভুলে হত্যাকারী হওয়া সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে তবে আমার মতে অন্যান্য মালের ওয়ারিস হয়। [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৫৬৮]


[[১] উহায়হা তাকে হত্যা করা সত্ত্বেও তার দিয়াতের ওয়ারিস হল, আর যারা লালন-পালন করেছে তার দিয়াত হতে বঞ্চিত রইল। জাহিলী যুগে হত্যাকারী নিহত ব্যক্তির ওয়ারিস হত। কিন্তু ইসলামে হত্যাকারী নিহত ব্যক্তির ওয়ারিস হয় না।]


হাদিসের মান : নির্ণীত নয়