
حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَطَعَ فِي مِجَنٍّ ثَمَنُهُ ثَلَاثَةُ دَرَاهِمَ
আবদুল্লাহ্ ইব্নু উমার (রা) থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ঢালের মূল্যের বিনিময়ে, যার মূল্য তিন দিরহাম ছিল, হাত কাটার আদেশ করেছেন। (বুখারী ৬৭৯৫, মুসলিম ১৬৮৬) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৫২৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي حُسَيْنٍ الْمَكِّيِّ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا قَطْعَ فِي ثَمَرٍ مُعَلَّقٍ وَلَا فِي حَرِيسَةِ جَبَلٍ فَإِذَا آوَاهُ الْمُرَاحُ أَوْ الْجَرِينُ فَالْقَطْعُ فِيمَا يَبْلُغُ ثَمَنَ الْمِجَنِّ
আবদুল্লাহ্ ইব্নু আবদুর রহমান মক্কী (র) থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, গাছে যে ফল ঝুলিতেছে অথবা যে ছাগল পাহাড়ে উঠে আছে উহা চুরি করলে হাত কাটা যাবে না। যখন ছাগল ঘরে আসে অথবা ফল শুকাবার জায়গায় রাখা হয়, অতঃপর উহাকে কেউ চুরি করে, তখন হাত কাটা যাবে, যদি উহার মূল্য ঢালের মূল্যের সমান হয়। (হাসান, হাদীসটি আবদুল্লাহ বিন আমর থেকে মুত্তাসিল সনদে বর্ণনা করা হয়েছে, নাসাঈ ৪৭৫৭, ৪৯৫৯, আলবানী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন [সহীহ, আল জ্বামে] ৭৩৯৮, তবে ইমাম মালিক কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি মুরসাল)
(ইহা ঐ সময়ে প্রযোজ্য, যখন ছাগলের কোন রক্ষক না থাকে এবং উহাদের নষ্ট হওয়ার আশংকা থাকে)। [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৫২৯]
হাদিসের মান : নির্ণীত নয়

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ سَارِقًا سَرَقَ فِي زَمَانِ عُثْمَانَ أُتْرُجَّةً فَأَمَرَ بِهَا عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ أَنْ تُقَوَّمَ فَقُوِّمَتْ بِثَلَاثَةِ دَرَاهِمَ مِنْ صَرْفِ اثْنَيْ عَشَرَ دِرْهَمًا بِدِينَارٍ فَقَطَعَ عُثْمَانُ يَدَهُ
আমরাহ্ বিন্তে আবদুর রহমান (র) থেকে বর্ণিতঃ
উসমান (রা)-এর সময় এক ব্যক্তি একটি উতরজ (স্বর্ণনির্মিত শিশুদের গলার জাব) চুরি করেছিল। উসমান (রা) তার মূল্য তিন দিরহাম ধার্য করলেন, যা এক দীনারের এক চতুর্থাংশ ছিল। উসমান (রা) এর জন্য হাত কেটেছিলেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৫৩০]
হাদিসের মান : নির্ণীত নয়

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهَا قَالَتْ مَا طَالَ عَلَيَّ وَمَا نَسِيتُ الْقَطْعُ فِي رُبُعِ دِينَارٍ فَصَاعِدًا
উম্মুল মু‘মিনীন আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিতঃ
এখনও এত বেশি দিন হয়নি, আমিও ভুলিনি। চোরের হাত এক-চতুর্থাংশ দীনার বা তদূর্ধ্বের জন্য কাটা যাবে। [১] (মারফু, বুখারী ৬৭৮৯, মুসলিম ১৬৮৪) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৫৩১]
[[১] এই রেওয়ায়তটি আয়েশা (রা) হতে মারফূ বর্ণিত আছে। ঐ সময় এক দীনারের মূল্য বার দিরহাম হত আর এক দীনারের এক-চতুর্থাংশ তিন দিরহাম হবে।]
হাদিসের মান : সহিহ মারফু

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ حَزْمٍ عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّهَا قَالَتْ خَرَجَتْ عَائِشَةُ زَوْجُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى مَكَّةَ وَمَعَهَا مَوْلَاتَانِ لَهَا وَمَعَهَا غُلَامٌ لِبَنِي عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ فَبَعَثَتْ مَعَ الْمَوْلَاتَيْنِ بِبُرْدٍ مُرَجَّلٍ قَدْ خِيطَ عَلَيْهِ خِرْقَةٌ خَضْرَاءُ قَالَتْ فَأَخَذَ الْغُلَامُ الْبُرْدَ فَفَتَقَ عَنْهُ فَاسْتَخْرَجَهُ وَجَعَلَ مَكَانَهُ لِبْدًا أَوْ فَرْوَةً وَخَاطَ عَلَيْهِ فَلَمَّا قَدِمَتْ الْمَوْلَاتَانِ الْمَدِينَةَ دَفَعَتَا ذَلِكَ إِلَى أَهْلِهِ فَلَمَّا فَتَقُوا عَنْهُ وَجَدُوا فِيهِ اللِّبْدَ وَلَمْ يَجِدُوا الْبُرْدَ فَكَلَّمُوا الْمَرْأَتَيْنِ فَكَلَّمَتَا عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوْ كَتَبَتَا إِلَيْهَا وَاتَّهَمَتَا الْعَبْدَ فَسُئِلَ الْعَبْدُ عَنْ ذَلِكَ فَاعْتَرَفَ فَأَمَرَتْ بِهِ عَائِشَةُ زَوْجُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُطِعَتْ يَدُهُ وَقَالَتْ عَائِشَةُ الْقَطْعُ فِي رُبُعِ دِينَارٍ فَصَاعِدًا و قَالَ مَالِك أَحَبُّ مَا يَجِبُ فِيهِ الْقَطْعُ إِلَيَّ ثَلَاثَةُ دَرَاهِمَ وَإِنْ ارْتَفَعَ الصَّرْفُ أَوْ اتَّضَعَ وَذَلِكَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَطَعَ فِي مِجَنٍّ قِيمَتُهُ ثَلَاثَةُ دَرَاهِمَ وَأَنَّ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ قَطَعَ فِي أُتْرُجَّةٍ قُوِّمَتْ بِثَلَاثَةِ دَرَاهِمَ وَهَذَا أَحَبُّ مَا سَمِعْتُ إِلَيَّ فِي ذَلِكَ
আমরাহ্ বিনতে আবদুর রহমান (র) থেকে বর্ণিতঃ
উম্মুল মু‘মিনীন আয়িশা (রা) মক্কাভিমুখে যাত্রা করলেন। তাঁর সাথে তাঁর দুইটি দাসীও ছিল, যাদেরকে মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। আর আবদুল্লাহ্ ইব্নু আবূ বাকরের একজন দাসও তাঁর সাথে ছিল। তিনি ঐ দাসীদের হাতে মক্কা হতে একখানা চাদর পাঠালেন, যাতে পুরুষের ছবি অঙ্কিত ছিল এবং উহাকে একখানা সবুজ কাপড়ে জড়িয়ে সেলাই করে দেয়া হয়েছিল। ঐ দাসটি ঐ সেলাই খুলে তা হতে চাদর বের করে নিল আর তদস্থলে একটা চামড়া রেখে উহাকে পুনরায় সেলাই করে দিল। দাসীদ্বয় মদীনায় এসে উহার মালিকের নিকট উহা অর্পণ করল। তারা উহা খুলে দেখল চাদরের পরিবর্তে একখানা চামড়া, পরে ঐ দাসীদের নিকট জিজ্ঞেস করা হলে তারা আয়িশা (রা)-এর নিকট লিখে দিল যে, উহা ঐ দাস নিয়ে গিয়েছে। ঐ দাসকে প্রশ্ন করা হল, সে স্বীকার করল। অতঃপর আয়িশা (রা)-এর আদেশে তার হাত কাটা হল। আয়িশা (রা) বলেন, দীনারের চতুর্থাংশ বা তদূর্ধ্বের পরিবর্তে হাত কর্তন করা হবে। [১] (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
মালিক (র) বলেন, আমাদের মতে যদি চোর তিন দিরহাম বা তদূর্ধ্ব মূল্যের মাল চুরি করে, তখন তার হাত কর্তন করা অনিবার্য হয়ে পড়ে। যদিও দীনারের তুলনায় বেড়ে অথবা কমে যায়। কেননা রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ঢালের বিনিময়ে হাত কর্তনের আদেশ দিয়েছেন, যার মূল্য তিন দিরহাম ছিল। উসমান (রা) একটি সাতরানজের বিনিময়ে হাত কেটেছিলেন যার মূল্য তিন দিরহাম ছিল। আমি যা শুনেছি তন্মধ্যে এই মতই উত্তম বলে গণ্য। [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৫৩২]
[[১] কেউ কেউ বলেছেন, ঐ চাদরে মানুষের ছবি ছিল না, বরং উটের হাওদা ইত্যাদির ছবি ছিল। যরকানী বলেনঃ কোন জন্তুর আধা ছবি থাকলে কোন দোষ নেই, পূর্ণ ছবি থাকলে তা নিষেধ। যরকানী আরও বলেন, অত্র হাদীসের দ্বারা কেউ যেন ছবি রাখা জায়েয মনে না করে। কেননা প্রথমত জানদারের ছবি সন্দেহজনক, তদুপরি অর্ধ ছবি থাকলে উহাতে কোন দোষ নেই, পূর্ণ ছবিই নিষেধের আওতায় পড়ে।]
হাদিসের মান : নির্ণীত নয়