
حَدَّثَنَا مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّهُ قَالَ جَاءَتْ الْيَهُودُ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرُوا لَهُ أَنَّ رَجُلًا مِنْهُمْ وَامْرَأَةً زَنَيَا فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا تَجِدُونَ فِي التَّوْرَاةِ فِي شَأْنِ الرَّجْمِ فَقَالُوا نَفْضَحُهُمْ وَيُجْلَدُونَ فَقَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ سَلَامٍ كَذَبْتُمْ إِنَّ فِيهَا الرَّجْمَ فَأَتَوْا بِالتَّوْرَاةِ فَنَشَرُوهَا فَوَضَعَ أَحَدُهُمْ يَدَهُ عَلَى آيَةِ الرَّجْمِ ثُمَّ قَرَأَ مَا قَبْلَهَا وَمَا بَعْدَهَا فَقَالَ لَهُ عَبْدُ اللهِ بْنُ سَلَامٍ ارْفَعْ يَدَكَ فَرَفَعَ يَدَهُ فَإِذَا فِيهَا آيَةُ الرَّجْمِ فَقَالُوا صَدَقَ يَا مُحَمَّدُ فِيهَا آيَةُ الرَّجْمِ فَأَمَرَ بِهِمَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرُجِمَا فَقَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ فَرَأَيْتُ الرَّجُلَ يَحْنِي عَلَى الْمَرْأَةِ يَقِيهَا الْحِجَارَةَ قَالَ مَالِك يَعْنِي يَحْنِي يُكِبُّ عَلَيْهَا حَتَّى تَقَعَ الْحِجَارَةُ عَلَيْهِ
আবদুল্লাহ্ ইব্নু উমার (রা) থেকে বর্ণিতঃ
ইহুদীদের একদল রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল, তাদের একজন পুরুষ ও একজন স্ত্রীলোক ব্যভিচার করেছে। রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেনঃ রজম বা প্রস্তরাঘাতের ব্যাপারে তাওরাতে কি আদেশ রয়েছে? তারা বললঃ আমরা ব্যভিচারকারীকে লজ্জিত করি এবং তাদেরকে বেত্রাঘাত করা হয়। আবদুল্লাহ্ ইব্নু সালাম বললেন, তোমরা মিথ্যা বলতেছ। তাওরাতে প্রস্তরাঘাতের শাস্তি রয়েছে। অতঃপর তারা তাওরাত এনে তা খুলল। এক ব্যক্তি রজমের বক্তব্যের উপর হাত রেখে পূর্বাপর অবশিষ্ট আয়াত পড়ে শুনাল। আবদুল্লাহ্ ইব্নু সালাম তাকে বলল, তোমার হাত উঠাও তো। সে তার হাত উঠালে দেখা গেল উহাতে প্রস্তরাঘাতের আয়াত রয়েছে। অতঃপর সকল ইহুদীই স্বীকার করল যে, আবদুল্লাহ্ ইব্নু সালাম ঠিকই বলেছেন, তাওরাতে প্রস্তরাঘাতের আয়াত বিদ্যমান রয়েছে। রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উভয়কে প্রস্তরাঘাতের আদেশ করলেন। রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশে উভয়কে প্রস্তরাঘাত করা হল। আবদুল্লাহ্ ইব্নু উমার (রা) বলেন, আমি দেখলাম, পুরুষটি ঐ নারীকে আঘাত হতে রক্ষা করতে তার উপর ঝুঁকে পড়ছিল। (বুখারী ৩৬৩৫, মুসলিম ১৬৯৯)
মালিক (র) বলেন, উহার উপর ঝুঁকে পড়ছিল অর্থ পুরুষ নিজে প্রস্তরাঘাত সহ্য করেও ঐ নারীকে প্রস্তারাঘাত হতে রক্ষা করতে যেয়ে তার উপর উপুড় হয়ে পড়েছিল। [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৫০৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّهُ قَالَ بَلَغَنِي أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِرَجُلٍ مِنْ أَسْلَمَ يُقَالُ لَهُ هَزَّالٌ يَا هَزَّالُ لَوْ سَتَرْتَهُ بِرِدَائِكَ لَكَانَ خَيْرًا لَكَ قَالَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ فَحَدَّثْتُ بِهَذَا الْحَدِيثِ فِي مَجْلِسٍ فِيهِ يَزِيدُ بْنُ نُعَيْمِ بْنِ هَزَّالٍ الْأَسْلَمِيِّ فَقَالَ يَزِيدُ هَزَّالٌ جَدِّي وَهَذَا الْحَدِيثُ حَقٌّ
সাঈদ ইব্নু মুসায়্যাব (র) থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলাম গোত্রের এক ব্যক্তিকে যার নাম হাযযাল ছিল, বললেন, “হে হাযযাল, যদি তুমি এ খবরটি (মা‘ইযের ব্যভিচারের খবর) গোপন রাখতে, তা হলে উহা তোমার জন্য ভালই হত।”
ইয়াহ্ইয়া ইব্নু সাঈদ (র) বলেন, আমি এক সময় এক সভাস্থলে এই ঘটনা বর্ণনা করলাম। তথায় ইয়াযীদ ইব্নু নু‘য়াইম ইব্নু হাযযালও উপস্থিত ছিল। তখন ইয়াযীদ বলল, হাযযাল আমার পিতামহ ছিলেন। এই হাদীস সত্য। (সহীহ, আবূ দাঊদ ৪৩৭৭, আলবানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন [সিলমিলা সহীহা] ৩৪৬০, তবে ইমাম মালিক কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি মুরসাল) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৫০৯]
হাদিসের মান : নির্ণীত নয়

حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّ رَجُلًا مِنْ أَسْلَمَ جَاءَ إِلَى أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ فَقَالَ لَهُ إِنَّ الْأَخِرَ زَنَى فَقَالَ لَهُ أَبُو بَكْرٍ هَلْ ذَكَرْتَ هَذَا لِأَحَدٍ غَيْرِي فَقَالَ لَا فَقَالَ لَهُ أَبُو بَكْرٍ فَتُبْ إِلَى اللهِ وَاسْتَتِرْ بِسِتْرِ اللهِ فَإِنَّ اللهَ يَقْبَلُ التَّوْبَةَ عَنْ عِبَادِهِ فَلَمْ تُقْرِرْهُ نَفْسُهُ حَتَّى أَتَى عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ فَقَالَ لَهُ مِثْلَ مَا قَالَ لِأَبِي بَكْرٍ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ مِثْلَ مَا قَالَ لَهُ أَبُو بَكْرٍ فَلَمْ تُقْرِرْهُ نَفْسُهُ حَتَّى جَاءَ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لَهُ إِنَّ الْأَخِرَ زَنَى فَقَالَ سَعِيدٌ فَأَعْرَضَ عَنْهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ كُلُّ ذَلِكَ يُعْرِضُ عَنْهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى إِذَا أَكْثَرَ عَلَيْهِ بَعَثَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى أَهْلِهِ فَقَالَ أَيَشْتَكِي أَمْ بِهِ جِنَّةٌ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ وَاللهِ إِنَّهُ لَصَحِيحٌ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَبِكْرٌ أَمْ ثَيِّبٌ فَقَالُوا بَلْ ثَيِّبٌ يَا رَسُولَ اللهِ فَأَمَرَ بِهِ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرُجِمَ
সাঈদ ইব্নু মুসায়্যাব (র) থেকে বর্ণিতঃ
আসলাম গোত্রের এক ব্যক্তি আবূ বাকর (রা)-এর নিকট এসে বলল, এই অধম ব্যক্তি [১] ব্যভিচার করেছে। আবূ বাকর (রা) তাকে বললেন, আমাকে ব্যতীত অন্য করো নিকট ইহা প্রকাশ করনি তো ? সে ব্যক্তি বলল, না। তিনি বললেন, আল্লাহ্র নিকট তাওবা কর আর আল্লাহ্র পর্দার আড়ালে লুকিয়ে থাক। কেননা আল্লাহ্ পাক স্বীয় বান্দাদের তাওবা গ্রহণ করে থাকেন।
কিন্তু এতে তার প্রবোধ হল না। অতঃপর সে উমার ইব্নু খাত্তাব (রা)-এর নিকট উপস্থিত হল এবং আবূ বাকর (রা)-এর নিকট যেরূপ বর্ণনা করেছিল তদ্রুপ বর্ণনা করল। উমারও তাকে ঐরূপই বললেন, যেরূপ আবূ বাকর (রা) বলেছিলেন। এতেও তার মনে প্রবোধ মানল না। অগত্যা সে রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল, এই হতভাগা ব্যভিচার করেছে। সাঈদ বলেন, ইহা শ্রবণে রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। সে ব্যক্তি তাঁর নিকট তিনবার এইরূপ বলল। তিনবারই রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। অতঃপর যখন সে বলতেই থাকল, তখন রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার পরিবারের নিকট লোক পাঠিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, এ ব্যক্তি কি রোগাক্রান্ত? এ ব্যক্তি উন্মাদ তো হয়ে যায়নি ? তাঁরা বললেন, এই ব্যক্তি সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছে, ইয়া রসূলাল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! অতঃপর রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, সে কি কুমার না কি বিবাহ করেছে ? রাবী বলেন, উপস্থিত লোকগণ বলল, সে বিবাহ করেছে, ইয়া রসূলাল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! অতঃপর তার সম্বন্ধে রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রস্তরাঘাতের আদেশ করলে তাকে প্রস্তরাঘাত করা হল। (বুখারী ৬৮১৫, ইমাম মুসলিম ১৬৯১, আবূ হুরাইরা (রা) থেকে মুত্তাসিল সনদে বর্ণনা করেন, তবে ইমাম মালিক কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি মুরসাল) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৫০৯]
[[১] বক্তা নিজেই; সে নিজেকে অধম বলে প্রকাশ করেছে। কারণ এই অন্যায় কাজে সে লিপ্ত হয়েছে।]
হাদিসের মান : নির্ণীত নয়

حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ رَجُلًا اعْتَرَفَ عَلَى نَفْسِهِ بِالزِّنَا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَشَهِدَ عَلَى نَفْسِهِ أَرْبَعَ مَرَّاتٍ فَأَمَرَ بِهِ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرُجِمَ قَالَ ابْنُ شِهَابٍ فَمِنْ أَجْلِ ذَلِكَ يُؤْخَذُ الرَّجُلُ بِاعْتِرَافِهِ عَلَى نَفْسِهِ
ইব্নু শিহাব যুহরী (র) থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময়ে এক ব্যক্তি নিজে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার কথা চারবার স্বীকার করল। রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশে তাকে প্রস্তরাঘাত করা হল। ইব্নু শিহাব বলেন, এজন্যই কোন ব্যক্তি নিজ অপরাধ স্বীকার করলে উহা দ্বারা তার শাস্তি হয়ে থাকে। (বুখারী ৫২৭২, ইমাম মুসলিম ১৬৯১, আবূ হুরাইরা থেকে মুত্তাসিল সনদে বর্ণনা করেন, তবে ইমাম মালিক কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি মুরসাল) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৫১১]
হাদিসের মান : নির্ণীত নয়

حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ يَعْقُوبَ بْنِ زَيْدِ بْنِ طَلْحَةَ عَنْ أَبِيهِ زَيْدِ بْنِ طَلْحَةَ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ امْرَأَةً جَاءَتْ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَخْبَرَتْهُ أَنَّهَا زَنَتْ وَهِيَ حَامِلٌ فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اذْهَبِي حَتَّى تَضَعِي فَلَمَّا وَضَعَتْ جَاءَتْهُ فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اذْهَبِي حَتَّى تُرْضِعِيهِ فَلَمَّا أَرْضَعَتْهُ جَاءَتْهُ فَقَالَ اذْهَبِي فَاسْتَوْدِعِيهِ قَالَ فَاسْتَوْدَعَتْهُ ثُمَّ جَاءَتْ فَأَمَرَ بِهَا فَرُجِمَتْ
আবদুল্লাহ্ ইব্নু আবী মুলাইকা (র) থেকে বর্ণিতঃ
এক স্ত্রীলোক রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে ব্যভিচারের কথা স্বীকার করল। সে মহিলা তখন অন্তঃসত্ত্বা ছিল। রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তোমার সন্তান প্রসবের পর এসো। অতঃপর ঐ স্ত্রীলোকটি প্রসবের পর এল। এবার রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, এখন যাও, সন্তানের দুধ ছাড়া হলে এসো। সন্তানের দুধ ছাড়ানোর পর ঐ মহিলাটি আবার এল। এবার রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, যাও, এই সন্তানকে কারো তত্ত্বাবধানে রেখে আস। সে তাকে কারো তত্ত্বাবধানে রেখে আসল। অতঃপর তাঁর আদেশে তাকে প্রস্তরাঘাত করা হল। (সহীহ, মুসলিম ১৬৯৫, বুরাইবদা (রা) থেকে মুত্তাসিল সনদে বর্ণনা করেন, তবে ইমাম মালিক কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি মুরসাল) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৫১২]
হাদিসের মান : নির্ণীত নয়

حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَزَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ أَنَّهُمَا أَخْبَرَاهُ أَنَّ رَجُلَيْنِ اخْتَصَمَا إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَحَدُهُمَا يَا رَسُولَ اللهِ اقْضِ بَيْنَنَا بِكِتَابِ اللهِ وَقَالَ الْآخَرُ وَهُوَ أَفْقَهُهُمَا أَجَلْ يَا رَسُولَ اللهِ فَاقْضِ بَيْنَنَا بِكِتَابِ اللهِ وَأْذَنْ لِي فِي أَنْ أَتَكَلَّمَ قَالَ تَكَلَّمْ فَقَالَ إِنَّ ابْنِي كَانَ عَسِيفًا عَلَى هَذَا فَزَنَى بِامْرَأَتِهِ فَأَخْبَرَنِي أَنَّ عَلَى ابْنِي الرَّجْمَ فَافْتَدَيْتُ مِنْهُ بِمِائَةِ شَاةٍ وَبِجَارِيَةٍ لِي ثُمَّ إِنِّي سَأَلْتُ أَهْلَ الْعِلْمِ فَأَخْبَرُونِي أَنَّ مَا عَلَى ابْنِي جَلْدُ مِائَةٍ وَتَغْرِيبُ عَامٍ وَأَخْبَرُونِي أَنَّمَا الرَّجْمُ عَلَى امْرَأَتِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَا وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَأَقْضِيَنَّ بَيْنَكُمَا بِكِتَابِ اللهِ أَمَّا غَنَمُكَ وَجَارِيَتُكَ فَرَدٌّ عَلَيْكَ وَجَلَدَ ابْنَهُ مِائَةً وَغَرَّبَهُ عَامًا وَأَمَرَ أُنَيْسًا الْأَسْلَمِيَّ أَنْ يَأْتِيَ امْرَأَةَ الْآخَرِ فَإِنْ اعْتَرَفَتْ رَجَمَهَا فَاعْتَرَفَتْ فَرَجَمَهَا قَالَ مَالِك وَالْعَسِيفُ الْأَجِيرُ
আবূ হুরায়রা (রা) ও যাইদ ইবনু খালিদ জুহানী (রা) থেকে বর্ণিতঃ
দুই ব্যক্তির মধ্যে ঝগড়া হয়ে তারা উভয়ে রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমতে উপস্থিত হল। তাদের একজন বলল, ইয়া রসূলাল্লাহ্! আল্লাহ্র কিতাবের আইন অনুসারেই আমাদের মীমাংসা করে দিন। দ্বিতীয় ব্যক্তি খুব চতুর ছিল, বলতে লাগল, ইয়া রসূলাল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আল্লাহর কিতাব অনুসারে মীমাংসা করুন এবং আমাকে কথা বলতে দিন। রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি বলতে চাও বল। সে বলল, আমার ছেলে এই ব্যক্তির নিকট চাকর ছিল। সে এ ব্যক্তির স্ত্রীর সাথে ব্যভিচার করেছে। অনেকে বলল, তোমার ছেলেকে প্রস্তরাঘাত করা হবে। আমি তার পক্ষ হতে একশত বকরী এবং একটি দাসী ক্ষতিপূরণ হিসেবে দান করলাম। অতঃপর আমি আলিমদের নিকট জিজ্ঞেস করলাম। তাঁরা বললেন, তোমার ছেলেকে একশত বেত্রাঘাত করা হবে এবং এক বৎসরের জন্য নির্বাসন দেয়া হবে। আর তার স্ত্রীকে প্রস্তরাঘাত করা হবে। রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ্র কিতাব অনুসারেই আমি তোমাদের ফয়সালা করব। তোমার বকরী ও দাসী তুমি ফেরত নিয়ে যাও। অতঃপর তার ছেলেকে একশত বেত্রাঘাত লাগালেন আর এক বৎসরের জন্য দেশ ত্যাগের আদেশ দিলেন এবং উনাইস আসলামীকে দ্বিতীয় ব্যক্তির স্ত্রীর নিকট হাযির হতে নির্দেশ দিলেন। সেই স্ত্রীলোক অপরাধ স্বীকার করলে তাকে প্রস্তরাঘাত করতে বলা হল। স্ত্রীলোকটি অপরাধ স্বীকার করায় তাকে প্রস্তরাঘাত করা হল। (বুখারী ৬৬৩৩, মুসলিম ১৬৯৮)
মালিক (র) বলেন, উক্ত হাদীসে যে ‘আসীফ’ শব্দ রয়েছে, উহার অর্থ ভৃত্য। [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৫১৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ سَعْدَ بْنَ عُبَادَةَ قَالَ لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرَأَيْتَ لَوْ أَنِّي وَجَدْتُ مَعَ امْرَأَتِي رَجُلًا أَأُمْهِلُهُ حَتَّى آتِيَ بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاءَ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَعَمْ
আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিতঃ
সা‘দ ইব্নু উবাদা (রা) রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলল, ইয়া রসূলাল্লাহ! যদি আমি আমার স্ত্রীর নিকট কোন ব্যক্তিকে পাই, তবে কি চারজন সাক্ষী আনা পর্যন্ত তাকে সময় দিব ? রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ। (সহীহ, মুসলিম ১৪৯৮) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৫১৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ يَقُولُ الرَّجْمُ فِي كِتَابِ اللهِ حَقٌّ عَلَى مَنْ زَنَى مِنْ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ إِذَا أُحْصِنَ إِذَا قَامَتْ الْبَيِّنَةُ أَوْ كَانَ الْحَبَلُ أَوْ الْاعْتِرَافُ
আবদুল্লাহ্ ইব্নু আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিতঃ
উমার ইব্নু খাত্তাব (রা)-কে বলতে শুনেছেন, আল্লাহ্র কিতাবে প্রস্তরাঘাতের যে বিধান রয়েছে উহা বাস্তব সত্য। যে ব্যক্তি ব্যভিচারে লিপ্ত হয় সে পুরুষ হোক অথবা নারী, যদি বিবাহিতা হয় আর চারজন সাক্ষী পাওয়া যায় অথবা তার পেটে বাচ্চা হয় বা স্বীকার করে, তবে প্রস্তরাঘাত করা হবে। (বুখারী ৬৮২৯, ৬৮৩০, মুসলিম ১৬৯১) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৫১৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ عَنْ أَبِي وَاقِدٍ اللَّيْثِيِّ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ أَتَاهُ رَجُلٌ وَهُوَ بِالشَّامِ فَذَكَرَ لَهُ أَنَّهُ وَجَدَ مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلًا فَبَعَثَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ أَبَا وَاقِدٍ اللَّيْثِيَّ إِلَى امْرَأَتِهِ يَسْأَلُهَا عَنْ ذَلِكَ فَأَتَاهَا وَعِنْدَهَا نِسْوَةٌ حَوْلَهَا فَذَكَرَ لَهَا الَّذِي قَالَ زَوْجُهَا لِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ وَأَخْبَرَهَا أَنَّهَا لَا تُؤْخَذُ بِقَوْلِهِ وَجَعَلَ يُلَقِّنُهَا أَشْبَاهَ ذَلِكَ لِتَنْزِعَ فَأَبَتْ أَنْ تَنْزِعَ وَتَمَّتْ عَلَى الْاعْتِرَافِ فَأَمَرَ بِهَا عُمَرُ فَرُجِمَتْ
আবূ ওয়াকিদ লাইসী (র) থেকে বর্ণিতঃ
উমার ইব্নু খাত্তাব (রা) যখন সিরিয়ায় ছিলেন, তখন এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে উল্লেখ করল যে, সে তার স্ত্রীর নিকট এক ব্যক্তিকে পেয়েছে। উমার (রা) আবূ ওয়াকিদ লাইসীকে ঐ স্ত্রীলোকটির নিকট জিজ্ঞেস করতে পাঠালেন। আবূ ওয়াকিদ তার কাছে যেয়ে দেখলেন তার পাশে আরও কয়েকজন নারী বসে আছে। আবূ ওয়াকিদ স্ত্রীলোকটির নিকট তার স্বামী উমার (রা)-এর কাছে যা বর্ণনা করেছে তা বললেন। তিনি ইহাও বললেন, তোমার স্বামীর কথায় তোমাকে শাস্তি দেয়া হবে না, যদি না তুমি স্বীকার কর। অতঃপর আরও এই জাতীয় নানা কথা তাকে শিখাতে লাগলেন, যাতে সে স্বীকার না করে। কিন্তু সে ইহা মানল না, বরং ব্যভিচারের কথা স্বীকার করল। অতঃপর উমার (রা)-এর আদেশে তাকে প্রস্তরাঘাত করা হল। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৫১৬]
হাদিসের মান : নির্ণীত নয়

حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّهُ سَمِعَهُ يَقُولُ لَمَّا صَدَرَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ مِنْ مِنًى أَنَاخَ بِالْأَبْطَحِ ثُمَّ كَوَّمَ كَوْمَةً بَطْحَاءَ ثُمَّ طَرَحَ عَلَيْهَا رِدَاءَهُ وَاسْتَلْقَى ثُمَّ مَدَّ يَدَيْهِ إِلَى السَّمَاءِ فَقَالَ اللهُمَّ كَبِرَتْ سِنِّي وَضَعُفَتْ قُوَّتِي وَانْتَشَرَتْ رَعِيَّتِي فَاقْبِضْنِي إِلَيْكَ غَيْرَ مُضَيِّعٍ وَلَا مُفَرِّطٍ ثُمَّ قَدِمَ الْمَدِينَةَ فَخَطَبَ النَّاسَ فَقَالَ أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ سُنَّتْ لَكُمْ السُّنَنُ وَفُرِضَتْ لَكُمْ الْفَرَائِضُ وَتُرِكْتُمْ عَلَى الْوَاضِحَةِ إِلَّا أَنْ تَضِلُّوا بِالنَّاسِ يَمِينًا وَشِمَالًا وَضَرَبَ بِإِحْدَى يَدَيْهِ عَلَى الْأُخْرَى ثُمَّ قَالَ إِيَّاكُمْ أَنْ تَهْلِكُوا عَنْ آيَةِ الرَّجْمِ أَنْ يَقُولَ قَائِلٌ لَا نَجِدُ حَدَّيْنِ فِي كِتَابِ اللهِ فَقَدْ رَجَمَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَرَجَمْنَا وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْلَا أَنْ يَقُولَ النَّاسُ زَادَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ فِي كِتَابِ اللهِ تَعَالَى لَكَتَبْتُهَا الشَّيْخُ وَالشَّيْخَةُ فَارْجُمُوهُمَا أَلْبَتَّةَ فَإِنَّا قَدْ قَرَأْنَاهَا قَالَ مَالِك قَالَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ قَالَ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ فَمَا انْسَلَخَ ذُو الْحِجَّةِ حَتَّى قُتِلَ عُمَرُ رَحِمَهُ اللهُ قَالَ يَحْيَى سَمِعْت مَا لِكًا يَقُولُ قَوْلُهُ الشَّيْخُ وَالشَّيْخَةُ يَعْنِي الثَّيِّبَ وَالثَّيِّبَةَ فَارْجُمُوهُمَا أَلْبَتَّةَ
সাঈদ ইব্নু মুসায়্যিব (র) থেকে বর্ণিতঃ
উমার (রা) যখন মিনা হতে প্রত্যাবর্তন (২৩ হিজরী) করলেন, তখন তিনি (মক্কার অনতিদূরে) আবতাহ্ নামক স্থানে তাঁর উট বসালেন। আর এদিকে কতগুলো পাথর একত্র করলেন। উহার উপর একখানা চাদর রেখে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়লেন। অতঃপর আকাশের দিকে স্বীয় হস্তদ্বয় উত্তোলন করে বলতে লাগলেন, হে আল্লাহ্! আমার অনেক বয়স হয়েছে। শক্তি রহিত হয়ে গিয়েছে, প্রজাবৃন্দ অনেক হয়ে গিয়েছে। এ সময় আপনি আমাকে আপনার সন্নিধানে নিয়ে নিন, যাতে আমার দ্বারা আপনার কোন আদেশ অমান্য না হয়ে যায় এবং আপনার ইবাদতে অনিচ্ছা প্রকাশ না হয়ে পড়ে। অতঃপর তিনি মদীনা চলে এলেন, মদীনার লোকদের সম্মুখে খুতবা দিতে যেয়ে বললেন, হে লোক সকল! তোমাদের সম্মুখে সমস্ত পথই প্রকাশ হয়ে পড়েছে; যত রকম ফরয কাজ ছিল, সমস্তই নির্ধারিত হয়ে গিয়েছে। তোমরা পরিষ্কার সোজা পথে চালিত হয়েছ। এখন তোমরা পথ ভুলে যেন এদিক-ওদিক বিপথগামী না হয়ে যাও। তিনি তাঁর এক হাত অন্য হাতের উপর রেখে বললেন, দেখ, তোমরা প্রস্তরাঘাতের আয়াতটি ভুলে যেও না। কেউ যেন না বলে, আমরা আল্লাহর কিতাবে দু’রকমের শাস্তি দেখছি না। দেখ, আল্লাহ্র রসূল রজম করেছেন এবং আমরাও রজম করেছি। ঐ আল্লাহর কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, যদি মানুষ এ কথা না বলত যে, উমার আল্লাহর কিতাবে অতিরিক্ত করেছে, তা হলে আমি الشَّيْخُ وَالشَّيْخَةُ فَارْجُمُوهُمَا أَلْبَتَّةَ (অর্থাৎ যখন বিবাহিত পুরুষ অথবা নারী ব্যভিচার করে, তবে তাদেরকে প্রস্তরাঘাত কর) আয়াতটি কুরআনে লিখে দিতাম। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
কারণ আমরা এ আয়াত পাঠ করেছি। অতঃপর উহার তিলাওয়াত রহিত হয়ে গিয়েছে (কিন্তু এর হুকুম কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে)। সাঈদ বলেন, অতঃপর যিলহজ্জ মাস শেষ না হতেই উমার (রা) নিহত হলেন। [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৫১৭]
হাদিসের মান : নির্ণীত নয়

و حَدَّثَنِي مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ أُتِيَ بِامْرَأَةٍ قَدْ وَلَدَتْ فِي سِتَّةِ أَشْهُرٍ فَأَمَرَ بِهَا أَنْ تُرْجَمَ فَقَالَ لَهُ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ لَيْسَ ذَلِكَ عَلَيْهَا إِنَّ اللهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى يَقُولُ فِي كِتَابِهِ { وَحَمْلُهُ وَفِصَالُهُ ثَلَاثُونَ شَهْرًا } وَقَالَ { وَالْوَالِدَاتُ يُرْضِعْنَ أَوْلَادَهُنَّ حَوْلَيْنِ كَامِلَيْنِ لِمَنْ أَرَادَ أَنْ يُتِمَّ الرَّضَاعَةَ } فَالْحَمْلُ يَكُونُ سِتَّةَ أَشْهُرٍ فَلَا رَجْمَ عَلَيْهَا فَبَعَثَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ فِي أَثَرِهَا فَوَجَدَهَا قَدْ رُجِمَتْ حَدَّثَنِي مَالِك أَنَّهُ سَأَلَ ابْنَ شِهَابٍ عَنْ الَّذِي يَعْمَلُ عَمَلَ قَوْمِ لُوطٍ فَقَالَ ابْنُ شِهَابٍ عَلَيْهِ الرَّجْمُ أَحْصَنَ أَوْ لَمْ يُحْصِنْ
মালিক (র)- থেকে বর্ণিতঃ
উসমান (রা)-এর নিকট একটি স্ত্রীলোককে আনা হয়েছিল, ছয় মাসেই যার সন্তান প্রসব হয়েছে। উসমান (রা) তাকে প্রস্তরাঘাত করার আদেশ দিয়ে দিলেন। আলী (রা) তাঁকে বললেন, তার উপর প্রস্তরাঘাত করা যাবে না। কেননা আল্লাহ তা‘আলা কুরআন মাজীদে বলেছেনঃ وَحَمْلُهُ وَفِصَالُهُ ثَلَاثُونَ شَهْرًا
“সন্তানের মাতৃগর্ভে অবস্থান এবং মাতৃস্তন ছাড়াবার সময় ৩০ মাস।”
অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, “মা তার সন্তানকে পূর্ণ দুই বৎসর দুধ দান করবে। (অতএব ৩০ মাস হতে ২৪ মাস বাদ দিলে ৬ মাস থাকে) তা হলে সন্তানের মাতৃগর্ভে অবস্থানকাল ৬ মাস হল। অতএব তাকে প্রস্তরাঘাত করা যেতে পারে না।
এটা শুনে উসমান (রা) তার নিকট লোক পাঠিয়ে দিলেন। তারা যেয়ে দেখল, ততক্ষণে তাকে প্রস্তরাঘাত করা হয়েছে। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
মালিক (র) ইব্নু শিহাবকে জিজ্ঞেস করলেন, পুরুষে পুরুষে সমকামিতা করলে তার শাস্তি কি ? তিনি বললেন, তাকেও প্রস্তরাঘাত করতে হবে, সে বিবাহিত হোক বা অবিবাহিত। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৫১৮]
হাদিসের মান : নির্ণীত নয়