(৬১৯) গোলাম আযাদ করা এবং স্বত্বাধিকার [হাদিসের সীমা (), সর্বমোট হাদিসঃ ২৫টি]

পরিচ্ছেদঃ ১০ [মোট হাদিসঃ ৪টি] [অবশিষ্ট হাদিসঃ ৯টি]


যে আযাদ করবে অভিভাবকত্ব ও উত্তরাধিকার তারই জন্য হবে




35933 OK

(১৪৭৬)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهَا قَالَتْ جَاءَتْ بَرِيرَةُ فَقَالَتْ إِنِّي كَاتَبْتُ أَهْلِي عَلَى تِسْعِ أَوَاقٍ فِي كُلِّ عَامٍ أُوقِيَّةٌ فَأَعِينِينِي فَقَالَتْ عَائِشَةُ إِنْ أَحَبَّ أَهْلُكِ أَنْ أَعُدَّهَا لَهُمْ عَنْكِ عَدَدْتُهَا وَيَكُونَ لِي وَلَاؤُكِ فَعَلْتُ فَذَهَبَتْ بَرِيرَةُ إِلَى أَهْلِهَا فَقَالَتْ لَهُمْ ذَلِكَ فَأَبَوْا عَلَيْهَا فَجَاءَتْ مِنْ عِنْدِ أَهْلِهَا وَرَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَالِسٌ فَقَالَتْ لِعَائِشَةَ إِنِّي قَدْ عَرَضْتُ عَلَيْهِمْ ذَلِكَ فَأَبَوْا عَلَيَّ إِلَّا أَنْ يَكُونَ الْوَلَاءُ لَهُمْ فَسَمِعَ ذَلِكَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَأَلَهَا فَأَخْبَرَتْهُ عَائِشَةُ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خُذِيهَا وَاشْتَرِطِي لَهُمْ الْوَلَاءَ فَإِنَّمَا الْوَلَاءُ لِمَنْ أَعْتَقَ فَفَعَلَتْ عَائِشَةُ ثُمَّ قَامَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي النَّاسِ فَحَمِدَ اللهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ أَمَّا بَعْدُ فَمَا بَالُ رِجَالٍ يَشْتَرِطُونَ شُرُوطًا لَيْسَتْ فِي كِتَابِ اللهِ مَا كَانَ مِنْ شَرْطٍ لَيْسَ فِي كِتَابِ اللهِ فَهُوَ بَاطِلٌ وَإِنْ كَانَ مِائَةَ شَرْطٍ قَضَاءُ اللهِ أَحَقُّ وَشَرْطُ اللهِ أَوْثَقُ وَإِنَّمَا الْوَلَاءُ لِمَنْ أَعْتَقَ.


নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিতঃ

বারীরা (রা) (তার কাছে) এসে বললেন আমি আমার কর্তাদের সাথে প্রতি বৎসর এক উকীয়া (এক উকীয়াতে চল্লিশ দিরহাম হয়- আওজাস) হিসাবে (সর্বমোট) নয় উকীয়ার বিনিময়ে মুকাতাবত আযাদী লাভের কথা ঠিক) করেছি। আপনি আমাকে এই ব্যাপারে সাহায্য করুন। আয়িশা (রা) বললেন যদি তোমার কর্তারা পছন্দ করেন যে, আমি উহার ব্যবস্থা করি তবে উহা (আদায়) করব আর তোমার অভিভাবকত্ব আমার জন্য হবে। বারীরা তাঁর কর্তাদের নিকট গেলেন এবং এই বিষয়ে তাদেরকে অবহিত করলেন। তারা অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করলেন। বারীরা তাঁর কর্তাদের নিকট হতে যখন (ফিরে) এলেন তখন (আয়িশার গৃহে) রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসা ছিলেন। বারীরা আয়িশা (রা)-কে বললেন আমি তাদের নিকট সেই কথা পেশ করেছিলাম। তারা ইহা অস্বীকার করেছে। কিন্তু যদি অভিভাবকত্ব (তাদের জন্য বহাল থাকে তবে তারা রাজী। রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহা শুনলেন। অতঃপর তাঁকে (আয়িশাকে) জিজ্ঞেস করলেন। আয়িশা ব্যাপারটি তাঁকে জানালেন। রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (এটা শুনে) বললেন, তুমি বারীরাকে (মূল্য পরিশোধ করে) গ্রহণ কর এবং তাদের জন্য (অভিভাবকত্বের) শর্ত মেনে নাও, (কিন্তু উহা যেহেতু অবৈধ তাই স্বত্ব তারা পাবে না)। অভিভাবকত্ব হবে যে আযাদ করবে তার। তারপর আয়িশা (রা) তাই করলেন অতঃপর রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের (সাহাবীদের) মাঝে কিছু বলার জন্য দাঁড়ালেন। অতঃপর আল্লাহর হামদ ও গুণ বর্ণনা করলেন, তারপর বললেন লোকদের কি হল? তারা এমন সব শর্ত আরোপ করে যা আল্লাহর কিতাবে নেই, আর যেই সকল শর্ত আল্লাহর কিতাবে নেই, উহা বাতিল বলে গণ্য হবে। যদিও শত শর্তও হয়ে থাকে। আল্লাহর হুকুমই গ্রহণযোগ্য, আল্লাহর শর্ত অতি দৃঢ়। (জেনে রাখুন) অভিভাবকত্ব তারই হবে যে আযাদ করবে। (বুখারী ২১৬৮, মুসলিম ১৫০৪) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৪৭৬]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



35934 OK

(১৪৭৭)

সহিহ হাদিস

و حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ عَائِشَةَ أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ أَرَادَتْ أَنْ تَشْتَرِيَ جَارِيَةً تُعْتِقُهَا فَقَالَ أَهْلُهَا نَبِيعُكِهَا عَلَى أَنَّ وَلَاءَهَا لَنَا فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لَا يَمْنَعَنَّكِ ذَلِكَ فَإِنَّمَا الْوَلَاءُ لِمَنْ أَعْتَقَ.


আবদুল্লাহ ইব্নু উমার (রা) থেকে বর্ণিতঃ

উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা (রা) জনৈকা ক্রীতদাসীকে খরিদ করে আযাদ করার ইচ্ছা করলেন। ক্রীতদাসীর কর্তারা বলল, আমরা উহাকে আপনার কাছে এই শর্তে বিক্রয় করতে পারি যে, উহার অভিভাবকত্ব আমাদের জন্য থাকবে। আয়িশা (রা) রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ইহা উল্লেখ করলেন। তিনি বললেন, এই শর্তারোপ যেন তোমাকে (উহাকে ক্রয় কয়ে আযাদ করতে) বারণ না করে। অভিভাবকত্ব উহারই হবে, যে আযাদ করবে। (বুখারী ২১৬৯, মুসলিম ১৫০৪) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৪৭৭]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



35935 OK

(১৪৭৮)

নির্ণীত নয়

و حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ بَرِيرَةَ جَاءَتْ تَسْتَعِينُ عَائِشَةَ أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ فَقَالَتْ عَائِشَةُ إِنْ أَحَبَّ أَهْلُكِ أَنْ أَصُبَّ لَهُمْ ثَمَنَكِ صَبَّةً وَاحِدَةً وَأُعْتِقَكِ فَعَلْتُ فَذَكَرَتْ ذَلِكَ بَرِيرَةُ لِأَهْلِهَا فَقَالُوا لَا إِلَّا أَنْ يَكُونَ لَنَا وَلَاؤُكِ قَالَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ فَزَعَمَتْ عَمْرَةُ أَنَّ عَائِشَةَ ذَكَرَتْ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اشْتَرِيهَا وَأَعْتِقِيهَا فَإِنَّمَا الْوَلَاءُ لِمَنْ أَعْتَقَ.


‘আমরাহ বিনত আবদির রহমান (রা) থেকে বর্ণিতঃ

বারীরা এলেন উম্মুল মু‘মিনীন আয়িশা (রা)-এর নিকট সাহায্য চাইতে। আয়িশা (রা) বললেন যদি তোমার কর্তারা পছন্দ করে যে আমি তাদেরকে একবারে মূল্য পরিশোধ করব এবং তোমাকে আযাদ করে দিব তবে আমি উহা করব। বারীরা কর্তাদের নিকট এটা পেশ করলেন। তারা বলল, আমরা এতে রাজী নই, তবে যদি তোমার অভিভাবকত্ব আমাদের জন্য থাকে। (সহীহ, বুখারী ২৫৬৪, তবে ইমাম মালিক কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি মুরসাল)
মালিক (র) বলেন, ইয়াহ্ইয়া ইব্নু সাঈদ (র) বলেছেন, ‘আমরাহ মনে করে ধারণা করি যে, আয়িশা (রা) এটা উল্লেখ করেছেন রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে। অতঃপর রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি বারীরাকে খরিদ কর এবং তাকে আযাদ করে দাও, অভিভাবকত্ব অবশ্য তারই জন্য থাকবে যে আযাদ করবে। [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৪৭৮]


হাদিসের মান : নির্ণীত নয়



35936 OK

(১৪৭৯)

সহিহ হাদিস

و حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ دِينَارٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ بَيْعِ الْوَلَاءِ وَعَنْ هِبَتِهِ قَالَ مَالِك فِي الْعَبْدِ يَبْتَاعُ نَفْسَهُ مِنْ سَيِّدِهِ عَلَى أَنَّهُ يُوَالِي مَنْ شَاءَ إِنَّ ذَلِكَ لَا يَجُوزُ وَإِنَّمَا الْوَلَاءُ لِمَنْ أَعْتَقَ وَلَوْ أَنَّ رَجُلًا أَذِنَ لِمَوْلَاهُ أَنْ يُوَالِيَ مَنْ شَاءَ مَا جَازَ ذَلِكَ لِأَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْوَلَاءُ لِمَنْ أَعْتَقَ وَنَهَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ بَيْعِ الْوَلَاءِ وَعَنْ هِبَتِهِ فَإِذَا جَازَ لِسَيِّدِهِ أَنْ يَشْتَرِطَ ذَلِكَ لَهُ وَأَنْ يَأْذَنَ لَهُ أَنْ يُوَالِيَ مَنْ شَاءَ فَتِلْكَ الْهِبَةُ.


আবদুল্লাহ্ ইব্নু উমার (রা) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিভাবকত্ব বিক্রি ও দান করতে নিষেধ করেছেন। (বুখারী ২৫৩৫, মুসলিম ১৫০৬)
মালিক (র) বলেন যে ক্রীতদাস নিজকে ক্রয় করে নেয় আপন কর্তা হতে এই শর্তে যে, সে যাকে চায় তাকে অভিভাবকত্ব প্রদান করবে। এটা জায়েয হবে না। অভিভাবকত্ব তার জন্য হবে, যে আযাদ করবে। আর যদি কোন ব্যক্তি নিজের মুক্তিপ্রাপ্ত ক্রীতদাসকে যাকে ইচ্ছা তাকে অভিভাবকত্ব প্রদানের অনুমতি দিয়েদেয় তবে এটা বৈধ হবে না। কারণ রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন অভিভাবকত্ব তারই হবে যে আযাদ করবে এবং তিনি স্বত্বাধিকার বিক্রয় ও দান করতে নিষেধ করেছেন। যদি কর্তার পক্ষে ক্রীতদাসের জন্য এইরূপ শর্ত করা বৈধ হয় অথবা সে ক্রীতদাসকে অনুমতি দেয় যে, সে যাকে ইচ্ছা অভিভাবকত্ব প্রদান করবে, তবে ইহা দান করা হল। [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৪৭৯]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস