(৬১৭) বিচার সম্পর্কিত [হাদিসের সীমা (), সর্বমোট হাদিসঃ ৬৯টি]

পরিচ্ছেদঃ ২১ [মোট হাদিসঃ ৪টি] [অবশিষ্ট হাদিসঃ ৪২টি]


সন্তানকে তার পিতার সাথে সম্পৃক্ত করা




35862 OK

(১৪১৬)

সহিহ হাদিস

قَالَ يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهَا قَالَتْ كَانَ عُتْبَةُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ عَهِدَ إِلَى أَخِيهِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ أَنَّ ابْنَ وَلِيدَةِ زَمْعَةَ مِنِّي فَاقْبِضْهُ إِلَيْكَ قَالَتْ فَلَمَّا كَانَ عَامُ الْفَتْحِ أَخَذَهُ سَعْدٌ وَقَالَ ابْنُ أَخِي قَدْ كَانَ عَهِدَ إِلَيَّ فِيهِ فَقَامَ إِلَيْهِ عَبْدُ بْنُ زَمْعَةَ فَقَالَ أَخِي وَابْنُ وَلِيدَةِ أَبِي وُلِدَ عَلَى فِرَاشِهِ فَتَسَاوَقَا إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ سَعْدٌ يَا رَسُولَ اللهِ ابْنُ أَخِي قَدْ كَانَ عَهِدَ إِلَيَّ فِيهِ وَقَالَ عَبْدُ بْنُ زَمْعَةَ أَخِي وَابْنُ وَلِيدَةِ أَبِي وُلِدَ عَلَى فِرَاشِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هُوَ لَكَ يَا عَبْدُ بْنَ زَمْعَةَ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْوَلَدُ لِلْفِرَاشِ وَلِلْعَاهِرِ الْحَجَرُ ثُمَّ قَالَ لِسَوْدَةَ بِنْتِ زَمْعَةَ احْتَجِبِي مِنْهُ لِمَا رَأَى مِنْ شَبَهِهِ بِعُتْبَةَ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَتْ فَمَا رَآهَا حَتَّى لَقِيَ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ.


নবী করীম রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেছেন, উতবা ইব্নু আবী ওয়াক্কাস (রা) মৃত্যুর সময় তার ভাই সা‘দ ইব্নু আবী ওয়াক্কাসকে বলে গিয়েছিলেন যে, যামআ‘-এর দাসীর সন্তান আমার, তুমি তাকে নিয়ে এস। আয়িশা (রা) বলেন যে, মক্কা বিজয়ের দিন সা‘দ ঐ সন্তানকে আনলেন ও গ্রহণ করলেন এবং তিনি বললেন, সে আমার ভাই-এর সন্তান। তিনি আমাকে মৃত্যুর সময় অঙ্গীকার করিয়ে ছিলেন। এইদিকে আবদ ইব্নু যামআ‘ (রা) বললেন, সে আমার ভাই এবং আমার পিতার দাসীর ছেলে ও আমার পিতার ঘরে জন্মগ্রহণ করেছে। অবশেষে দুইজন বিতর্ক করে রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এলেন। সা‘দ বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! সে আমার ভাইয়ের সন্তান, মৃত্যুকালে আমার ভাই আমাকে অঙ্গীকার করিয়ে গিয়েছিল। অতঃপর আবদ ইব্নু যামআ‘ বললেন, সে আমার ভাই আমার পিতার দাসীর গর্ভে ও আমার পিতার ঘরে জন্মগ্রহণ করেছে। তার পর সব শুনে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘হে ‘আবদ ইব্নু যামআ’, সে তোমারই ভাই, সে তোমারই কাছে থাকবে, অতঃপর রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সন্তান তার মাতার স্বামীর অথবা মনিবেরই হয়ে থাকে আর ব্যভিচারীর জন্য প্রস্তরই নির্ধারিত। অতঃপর রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাওদা বিনত যামআ‘কে বলেন, হে সাওদা! এ সন্তান হতে পর্দা করো, কেননা তার আকৃতি উৎবার সদৃশ। অতঃপর সে আর সাওদাকে তার মৃত্যু পর্যন্ত দেখেনি। (বুখারী ২০৫৩, মুসলিম ১৪৫৭) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৪১৬]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



35863 OK

(১৪১৭)

নির্ণীত নয়

و حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ الْهَادِي عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْحَارِثِ التَّيْمِيِّ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي أُمَيَّةَ أَنَّ امْرَأَةً هَلَكَ عَنْهَا زَوْجُهَا فَاعْتَدَّتْ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا ثُمَّ تَزَوَّجَتْ حِينَ حَلَّتْ فَمَكَثَتْ عِنْدَ زَوْجِهَا أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَنِصْفَ شَهْرٍ ثُمَّ وَلَدَتْ وَلَدًا تَامًّا فَجَاءَ زَوْجُهَا إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ فَدَعَا عُمَرُ نِسْوَةً مِنْ نِسَاءِ الْجَاهِلِيَّةِ قُدَمَاءَ فَسَأَلَهُنَّ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَتْ امْرَأَةٌ مِنْهُنَّ أَنَا أُخْبِرُكَ عَنْ هَذِهِ الْمَرْأَةِ هَلَكَ عَنْهَا زَوْجُهَا حِينَ حَمَلَتْ مِنْهُ فَأُهْرِيقَتْ عَلَيْهِ الدِّمَاءُ فَحَشَّ وَلَدُهَا فِي بَطْنِهَا فَلَمَّا أَصَابَهَا زَوْجُهَا الَّذِي نَكَحَهَا وَأَصَابَ الْوَلَدَ الْمَاءُ تَحَرَّكَ الْوَلَدُ فِي بَطْنِهَا وَكَبِرَ فَصَدَّقَهَا عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَفَرَّقَ بَيْنَهُمَا وَقَالَ عُمَرُ أَمَا إِنَّهُ لَمْ يَبْلُغْنِي عَنْكُمَا إِلَّا خَيْرٌ وَأَلْحَقَ الْوَلَدَ بِالْأَوَّلِ.


আবদুল্লাহ ইব্নু আবী উমাইয়া (রা) থেকে বর্ণিতঃ

এক স্ত্রীলোকের স্বামীর ইন্তেকাল হয়। অতঃপর চার মাস দশ দিন ইদ্দত পালন করার পর অন্য একজনের নিকট তার বিবাহ হয়। বিবাহের পর সেই স্বামীর নিকট সাড়ে চার মাস অতিবাহিত করার পর তার একটি পূর্ণাঙ্গ সন্তান ভূমিষ্ঠ হল। অতঃপর তার স্বামী উমার (রা)-এর নিকট এসে সমস্ত ঘটনা বর্ণনা করল। উমার (রা) অন্ধকার যুগের কয়েকজন বৃদ্ধা স্ত্রীলোককে ডাকালেন এবং তাদেরকে এই সম্বন্ধে প্রশ্ন করলেন। তখন তাদের একজন বলল, আমি আপনাকে তার বৃত্তান্ত বলিতেছি। এই স্ত্রীলোকটি তার মৃত স্বামী হতে গর্ভবতী হয়েছিল। সন্তান গর্ভে থাকা অবস্থায় তার রক্তস্রাব হল, এতে সন্তান শুকিয়ে যায়। অতঃপর দ্বিতীয় বিবাহের পর স্বামী তার সাথে সংগত হওয়ায় সন্তানের উপর পুরুষের বীর্য পতিত হয়। এতে সন্তান নড়াচড়া করে এবং বড় হতে থাকে। অতঃপর উমার (রা) তাদের কথা সত্য বলে মানলেন এবং বিবাহ ভঙ্গ করে দিলেন এবং বললেন যে, তোমাদের সম্বন্ধে কোন খারাপ কথা আমি শুনিনি। অতঃপর সন্তানটি প্রথম স্বামীর ঔরসজাত বলে সিদ্ধান্ত দিলেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৪১৭]


হাদিসের মান : নির্ণীত নয়



35864 OK

(১৪১৮)

নির্ণীত নয়

و حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ كَانَ يُلِيطُ أَوْلَادَ الْجَاهِلِيَّةِ بِمَنْ ادَّعَاهُمْ فِي الْإِسْلَامِ فَأَتَى رَجُلَانِ كِلَاهُمَا يَدَّعِي وَلَدَ امْرَأَةٍ فَدَعَا عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ قَائِفًا فَنَظَرَ إِلَيْهِمَا فَقَالَ الْقَائِفُ لَقَدْ اشْتَرَكَا فِيهِ فَضَرَبَهُ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ بِالدِّرَّةِ ثُمَّ دَعَا الْمَرْأَةَ فَقَالَ أَخْبِرِينِي خَبَرَكِ فَقَالَتْ كَانَ هَذَا لِأَحَدِ الرَّجُلَيْنِ يَأْتِينِي وَهِيَ فِي إِبِلٍ لِأَهْلِهَا فَلَا يُفَارِقُهَا حَتَّى يَظُنَّ وَتَظُنَّ أَنَّهُ قَدْ اسْتَمَرَّ بِهَا حَبَلٌ ثُمَّ انْصَرَفَ عَنْهَا فَأُهْرِيقَتْ عَلَيْهِ دِمَاءٌ ثُمَّ خَلَفَ عَلَيْهَا هَذَا تَعْنِي الْآخَرَ فَلَا أَدْرِي مِنْ أَيِّهِمَا هُوَ قَالَ فَكَبَّرَ الْقَائِفُ فَقَالَ عُمَرُ لِلْغُلَامِ وَالِ أَيَّهُمَا شِئْتَ.


সুলায়মান ইব্নু ইয়াসার (র) থেকে বর্ণিতঃ

উমার (রা) অন্ধকার যুগের সন্তানকে যদি কেউ ইসলামের যুগে দাবি করত তবে তার সাথে মিলিয়ে দিতেন। একবার দুইজন লোক একটি সন্তানকে নিজের বলে দাবি করে। অতঃপর উমার (রা) কেয়াফাবিদকে (লক্ষণ দেখে পরিচয় নির্ণয়কারী) ডেকে পাঠালেন। কেয়াফাবিশারদ সন্তানকে দেখে বলল, সন্তান দুইজনেরই। অতঃপর উমার (রা) তাকে দোররা দ্বারা আঘাত করলেন। তার পর সন্তানের মাতাকে ডেকে বললেন তোমার বৃত্তান্ত খুলে বল। সে একজনের দিকে ঈঙ্গিত করে বলল যে, সে আমার নিকট আসা-যাওয়া করত এবং আমি আমার বাড়ির উটের ঘরের কাছে থাকতাম। ঐ সময়ে সে আমার সথে সঙ্গম করত। অতঃপর সে যখন ধারণা করতে পারল যে, আমি গর্ভবতী হয়েছি তখন সে আর কাছে আসত না, আর আমার রক্তস্রাব দেখা যেত। তারপর এই দ্বিতীয়জন তার পর আমার নিকট এল। সেও আমার সাথে সঙ্গম করল। এখন আমি জানি না, এই সন্তান দুইজনের মধ্য হতে কার। ইহা শুনে কেয়াফাবিদ খুশিতে আল্লাহু আকবর (আল্লাহ্ মহান) বলে উঠল। অতঃপর উমার (রা) সন্তানকে বললেন, যার সাথে খুশি তুমি যেতে পার। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৪১৮]


হাদিসের মান : নির্ণীত নয়



35865 OK

(১৪১৯)

নির্ণীত নয়

و حَدَّثَنِي مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ أَوْ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ قَضَى أَحَدُهُمَا فِي امْرَأَةٍ غَرَّتْ رَجُلًا بِنَفْسِهَا وَذَكَرَتْ أَنَّهَا حُرَّةٌ فَتَزَوَّجَهَا فَوَلَدَتْ لَهُ أَوْلَادًا فَقَضَى أَنْ يَفْدِيَ وَلَدَهُ بِمِثْلِهِمْ. قَالَ يَحْيَى سَمِعْت مَا لِكًا يَقُولُ وَالْقِيمَةُ أَعْدَلُ فِي هَذَا إِنْ شَاءَ اللهُ.


মালিক (র) থেকে বর্ণিতঃ

উমার (রা) অথবা উসমান (রা) এই দুইজনের মধ্যে একজন এক স্ত্রীলোকের ফয়সালা করেছিলেন। সেই স্ত্রীলোকটি ধোঁকা দিয়ে একজনকে বলল, আমি আযাদ এবং তার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হল। অতঃপর তাদের সন্তান হয়েছিল। ফয়সালা দেয়া হয়েছিল, স্বামী তার সন্তানের মতো বালক-বালিকা স্ত্রীলোকটির মনিবকে দিবে এবং নিজের সন্তান মুক্ত করে নিবে।
মালিক (র) বলেন, এই স্থানে মূল্য দান করিয়া দেয়াই উত্তম। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৪১৯]


হাদিসের মান : নির্ণীত নয়