(৬১২) ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত [হাদিসের সীমা (), সর্বমোট হাদিসঃ ১০৩টি]

পরিচ্ছেদ ৪৬ : [মোট হাদিসঃ ৪টি] [অবশিষ্ট হাদিসঃ ৪টি]


ক্রয়-বিক্রয়ের বিভিন্ন বিধান




35803 OK

(১৩৬৫)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ دِينَارٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَجُلًا ذَكَرَ لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ يُخْدَعُ فِي الْبُيُوعِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا بَايَعْتَ فَقُلْ لَا خِلَابَةَ قَالَ فَكَانَ الرَّجُلُ إِذَا بَايَعَ يَقُولُ لَا خِلَابَةَ.


আবদুল্লাহ্ ইবন উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল, ক্রয়-বিক্রয়ের সময় তাকে ধোঁকা দেয়া হয়ে থাকে। রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি ক্রয়-বিক্রয়ের সময় বলে দেবে, যেন ধোঁকা দেওয়া না হয়। অবশেষে যখন ঐ ব্যক্তি ক্রয়-বিক্রয় করত তখন বাক্যটি বলত। [১] (বুখারী ২১১৭, মুসলিম ১৫৩৩) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৩৬৫]


[[১] দার-এ কুতনী ও বায়হাকীতে বর্ণিত হয়েছে যে, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ ব্যক্তিকে বলেছেন, যদি তুমি কোন দ্রব্য ক্রয় কর তবে তোমার তিন দিন পর্যন্ত ইখতিয়ার থাকবে, হয় ঐ মাল রাখবে না হয় ফেরত দিবে। এই ব্যক্তি উসমান (রা)-এর সময় পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। তখন তার বয়স ছিল ১৮০ বৎসর। কেউ কেউ বলেন, এই ইখতিয়ার ঐ ব্যক্তির জন্যই খাস, অন্য লোকের জন্য নয়। কেউ কেউ বলেন, যখন ঐরূপ ধোঁকা হয় তখন প্রত্যেকের জন্যই এই ইখতিয়ার আসবে। ঐ ব্যক্তির নাম হিবচক্ষান ইবনরু মুনকিয বা মুনকিয ইবনু আমর ছিল।]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



35804 OK

(১৩৬৬)

নির্ণীত নয়

و حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ أَنَّهُ سَمِعَ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ يَقُولُ إِذَا جِئْتَ أَرْضًا يُوفُونَ الْمِكْيَالَ وَالْمِيزَانَ فَأَطِلْ الْمُقَامَ بِهَا وَإِذَا جِئْتَ أَرْضًا يُنَقِّصُونَ الْمِكْيَالَ وَالْمِيزَانَ فَأَقْلِلْ الْمُقَامَ بِهَا.


ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রাঃ) [১] -কে বলতে শুনেছেন, তিনি বলতেন, যখন তুমি এরূপ কোন শহরে যাবে যেখানকার অধিবাসিগণ পূর্ণরূপে ওজন করে তবে তথায় অনেক দিন থেকো। আর যখন এরূপ শহরে যাবে যেখানকার অধিবাসিগণ ওজনে ত্রুটি করে, তবে সেখানে অনেক দিন থেকো না। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৩৬৬]


[[১] কেননা যেখানের লোক ওজনে ত্রুটি করে তথায় আযান নাযিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উম্মে সালামা (রা) রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট জিজ্ঞেস করলেন, ঐ আযাবের সময় কি আমরা সকলেই ধ্বংস হয়ে যাবে। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ যখন অপকর্ম বেড়ে যাবে।]


হাদিসের মান : নির্ণীত নয়



35805 OK

(১৩৬৭)

সহিহ মারফু

و حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ أَنَّهُ سَمِعَ مُحَمَّدَ بْنَ الْمُنْكَدِرِ يَقُولُ أَحَبَّ اللهُ عَبْدًا سَمْحًا إِنْ بَاعَ سَمْحًا إِنْ ابْتَاعَ سَمْحًا إِنْ قَضَى سَمْحًا إِنْ اقْتَضَى ২৫২৬-قَالَ مَالِك فِي الرَّجُلِ يَشْتَرِي الْإِبِلَ أَوْ الْغَنَمَ أَوْ الْبَزَّ أَوْ الرَّقِيقَ أَوْ شَيْئًا مِنْ الْعُرُوضِ جِزَافًا إِنَّهُ لَا يَكُونُ الْجِزَافُ فِي شَيْءٍ مِمَّا يُعَدُّ عَدًّا قَالَ مَالِك فِي الرَّجُلِ يُعْطِي الرَّجُلَ السِّلْعَةَ يَبِيعُهَا لَهُ وَقَدْ قَوَّمَهَا صَاحِبُهَا قِيمَةً فَقَالَ إِنْ بِعْتَهَا بِهَذَا الثَّمَنِ الَّذِي أَمَرْتُكَ بِهِ فَلَكَ دِينَارٌ أَوْ شَيْءٌ يُسَمِّيهِ لَهُ يَتَرَاضَيَانِ عَلَيْهِ وَإِنْ لَمْ تَبِعْهَا فَلَيْسَ لَكَ شَيْءٌ إِنَّهُ لَا بَأْسَ بِذَلِكَ إِذَا سَمَّى ثَمَنًا يَبِيعُهَا بِهِ وَسَمَّى أَجْرًا مَعْلُومًا إِذَا بَاعَ أَخَذَهُ وَإِنْ لَمْ يَبِعْ فَلَا شَيْءَ لَهُ قَالَ مَالِك وَمِثْلُ ذَلِكَ أَنْ يَقُولَ الرَّجُلُ لِلرَّجُلِ إِنْ قَدَرْتَ عَلَى غُلَامِي الْآبِقِ أَوْ جِئْتَ بِجَمَلِي الشَّارِدِ فَلَكَ كَذَا وَكَذَا فَهَذَا مِنْ بَابِ الْجُعْلِ وَلَيْسَ مِنْ بَابِ الْإِجَارَةِ وَلَوْ كَانَ مِنْ بَابِ الْإِجَارَةِ لَمْ يَصْلُحْ قَالَ مَالِك فَأَمَّا الرَّجُلُ يُعْطَى السِّلْعَةَ فَيُقَالُ لَهُ بِعْهَا وَلَكَ كَذَا وَكَذَا فِي كُلِّ دِينَارٍ لِشَيْءٍ يُسَمِّيهِ فَإِنَّ ذَلِكَ لَا يَصْلُحُ لِأَنَّهُ كُلَّمَا نَقَصَ دِينَارٌ مِنْ ثَمَنِ السِّلْعَةِ نَقَصَ مِنْ حَقِّهِ الَّذِي سَمَّى لَهُ فَهَذَا غَرَرٌ لَا يَدْرِي كَمْ جَعَلَ لَهُ.


ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি মুহাম্মাদ ইবন মুনকাদির (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, আল্লাহ্ তা’আলা ঐ ব্যক্তিকে ভালবাসেন, যে ক্রয় করতে, বিক্রয় করতে, ঋণ আদায় করতে, ঋণ উশুল করতে নরম ব্যবহার করে। [১] (সহীহ মারফু, ইমাম বুখারী ২০৭৬, তিনি ইবনু মুনকাদির তিনি জাবির (রাঃ) থেকে মারফু সনদে বর্ণনা করেছেন)
মালিক (রহঃ) বলেনঃ কোন ব্যক্তির উট, বকরী, কাপড়, গোলাম, দাসী ইত্যাদি গণনা না করে এক দলকে একত্রে খরিদ করে লওয়া ভাল নয়, যে বস্তু গণনা করে বিক্রি হয় উহা গণনা করে খরিদ করা ভাল।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি কোন ব্যক্তি কাউকেও নিজের কোন বস্তু নির্ধারিত মূল্যে এই শর্তে বিক্রয় করতে দেয় যে, যদি তুমি এই মূল্যে বিক্রয় কর তবে তোমাকে এক দীনার অথবা অন্য কিছু দেয়া হবে যা নির্দিষ্ট করা হয়েছে এবং উভয়ে তাতে সম্মত হয়েছে তা না হলে কিছুই পাবে না। তবে এতে কোন ক্ষতি নেই, যদি বিক্রয় মূল্য ও বিক্রয়ের পরের প্রাপ্য নির্ধারিত হয়ে থাকে। বিক্রয় করলে তা পাবে, না করলে পাবে না।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ উহার উদাহরণ এই যে, কোন ব্যক্তি কাউকেও বলল, যদি তুমি আমার যে গোলাম বা উট পলিয়ে গিয়েছে উহাকে তালাশ করে এনে দাও তবে তোমাকে এত দিব, তবে তা বৈধ। কারণ এতে পারিশ্রমিক নির্দিষ্ট করে কাজে নিযুক্ত করা হয়েছে। ইহা ইজারা নয়, যদি ইজারা হত তবে ইহা বৈধ হত না।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ কেউ এক ব্যক্তিকে কিছু মাল দিয়ে বলল, ইহা বিক্রয় করলে প্রতি দীনারে তোমাকে এত দিব; কত দিব তা উল্লেখ করল। এটাও বৈধ নয়। কেননা উক্ত পণ্যের দাম কম হলেই তার নির্ধারিত পারিশ্রমিক কমে যাবে। এটাও এক প্রকার ধোঁকা, জানে না সে কত পাবে। [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৩৬৭]


[[১] অর্থাৎ প্রত্যেক কাজেই সহজ ব্যবহার করে কড়াকড়ি করে না।]


হাদিসের মান : সহিহ মারফু



35806 OK

(১৩৬৮)

নির্ণীত নয়

و حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّهُ سَأَلَهُ عَنْ الرَّجُلِ يَتَكَارَى الدَّابَّةَ ثُمَّ يُكْرِيهَا بِأَكْثَرَ مِمَّا تَكَارَاهَا بِهِ فَقَالَ لَا بَأْسَ بِذَلِكَ.


মালিক (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

শিহাব (রহঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, তাকে এমন এক ব্যক্তি সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, যে একটি জন্তু ভাড়ায় নিয়ে উহা আবার অধিক ভাড়ায় অন্যকে দিয়ে দেয়। তিনি বললেন, উহাতে কোন ক্ষতি নেই। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৩৬৮]


হাদিসের মান : নির্ণীত নয়