(৬১২) ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত [হাদিসের সীমা (), সর্বমোট হাদিসঃ ১০৩টি]

পরিচ্ছেদ ২২ : [মোট হাদিসঃ ৬টি] [অবশিষ্ট হাদিসঃ ৫২টি]


পরস্পরে বৃদ্ধি বতীত খাদ্যদ্রব্যের বিনিময়ে খাদ্যদ্রব্য বিক্রয় করা




35755 OK

(১৩১৭)

নির্ণীত নয়

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ سُلَيْمَانَ بْنَ يَسَارٍ قَالَ فَنِيَ عَلَفُ حِمَارِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ فَقَالَ لِغُلَامِهِ خُذْ مِنْ حِنْطَةِ أَهْلِكَ فَابْتَعْ بِهَا شَعِيرًا وَلَا تَأْخُذْ إِلَّا مِثْلَهُ.


সুলায়মান ইবনু ইয়াসার (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

সা’দ ইবনু আবি ওয়াক্কাস (রাঃ)-এর গাধার খাদ্য নিঃশেষ হয়ে গেলে তিনি স্বীয় খাদেমকে বললেন- তোমার পরিজনের নিকট হতে গম নাও, তারপর উহার বিনিময়ে যব খরিদ করে আন, পরিমাপে উহার সমান গ্রহণ করো। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৩১৭]


হাদিসের মান : নির্ণীত নয়



35756 OK

(১৩১৮)

নির্ণীত নয়

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ الْأَسْوَدِ بْنِ عَبْدِ يَغُوثَ فَنِيَ عَلَفُ دَابَّتِهِ فَقَالَ لِغُلَامِهِ خُذْ مِنْ حِنْطَةِ أَهْلِكَ طَعَامًا فَابْتَعْ بِهَا شَعِيرًا وَلَا تَأْخُذْ إِلَّا مِثْلَهُ.


বর্ণণাকারী থেকে বর্ণিতঃ

আবদুর রহমান ইবনু আসওয়াদ ইবনু ‘আবদ-ই ইয়াগুস-এর জানোয়ারের খাদ্য ফুরায়ে গেল। তিনি স্বীয় খাদেমকে বললেন- তোমার পরিজনের গম হতে কিছু গম নাও। তারপর তার বিনিময়ে যব খরিদ কর, পরিমাপে তার সমান নাও। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৩১৮]


হাদিসের মান : নির্ণীত নয়



35757 OK

(১৩১৯)

নির্ণীত নয়

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ ابْنِ مُعَيْقِيبٍ الدَّوْسِيِّ مِثْلُ ذَلِكَ قَالَ مَالِك وَهُوَ الْأَمْرُ عِنْدَنَا قَالَ مَالِك الْأَمْرُ الْمُجْتَمَعُ عَلَيْهِ عِنْدَنَا أَنْ لَا تُبَاعَ الْحِنْطَةُ بِالْحِنْطَةِ وَلَا التَّمْرُ بِالتَّمْرِ وَلَا الْحِنْطَةُ بِالتَّمْرِ وَلَا التَّمْرُ بِالزَّبِيبِ وَلَا الْحِنْطَةُ بِالزَّبِيبِ وَلَا شَيْءٌ مِنْ الطَّعَامِ كُلِّهِ إِلَّا يَدًا بِيَدٍ فَإِنْ دَخَلَ شَيْئًا مِنْ ذَلِكَ الْأَجَلُ لَمْ يَصْلُحْ وَكَانَ حَرَامًا وَلَا شَيْءَ مِنْ الْأُدْمِ كُلِّهَا إِلَّا يَدًا بِيَدٍ قَالَ مَالِك وَلَا يُبَاعُ شَيْءٌ مِنْ الطَّعَامِ وَالْأُدْمِ إِذَا كَانَ مِنْ صِنْفٍ وَاحِدٍ اثْنَانِ بِوَاحِدٍ فَلَا يُبَاعُ مُدُّ حِنْطَةٍ بِمُدَّيْ حِنْطَةٍ وَلَا مُدُّ تَمْرٍ بِمُدَّيْ تَمْرٍ وَلَا مُدُّ زَبِيبٍ بِمُدَّيْ زَبِيبٍ وَلَا مَا أَشْبَهَ ذَلِكَ مِنْ الْحُبُوبِ وَالْأُدْمِ كُلِّهَا إِذَا كَانَ مِنْ صِنْفٍ وَاحِدٍ وَإِنْ كَانَ يَدًا بِيَدٍ إِنَّمَا ذَلِكَ بِمَنْزِلَةِ الْوَرِقِ بِالْوَرِقِ وَالذَّهَبِ بِالذَّهَبِ لَا يَحِلُّ فِي شَيْءٍ مِنْ ذَلِكَ الْفَضْلُ وَلَا يَحِلُّ إِلَّا مِثْلًا بِمِثْلٍ يَدًا بِيَدٍ قَالَ مَالِك وَإِذَا اخْتَلَفَ مَا يُكَالُ أَوْ يُوزَنُ مِمَّا يُؤْكَلُ أَوْ يُشْرَبُ فَبَانَ اخْتِلَافُهُ فَلَا بَأْسَ أَنْ يُؤْخَذَ مِنْهُ اثْنَانِ بِوَاحِدٍ يَدًا بِيَدٍ وَلَا بَأْسَ أَنْ يُؤْخَذَ صَاعٌ مِنْ تَمْرٍ بِصَاعَيْنِ مِنْ حِنْطَةٍ وَصَاعٌ مِنْ تَمْرٍ بِصَاعَيْنِ مِنْ زَبِيبٍ وَصَاعٌ مِنْ حِنْطَةٍ بِصَاعَيْنِ مِنْ سَمْنٍ فَإِذَا كَانَ الصِّنْفَانِ مِنْ هَذَا مُخْتَلِفَيْنِ فَلَا بَأْسَ بِاثْنَيْنِ مِنْهُ بِوَاحِدٍ أَوْ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ يَدًا بِيَدٍ فَإِنْ دَخَلَ فِي ذَلِكَ الْأَجَلُ فَلَا يَحِلُّ قَالَ مَالِك وَلَا تَحِلُّ صُبْرَةُ الْحِنْطَةِ بِصُبْرَةِ الْحِنْطَةِ وَلَا بَأْسَ بِصُبْرَةِ الْحِنْطَةِ بِصُبْرَةِ التَّمْرِ يَدًا بِيَدٍ وَذَلِكَ أَنَّهُ لَا بَأْسَ أَنْ يُشْتَرَى الْحِنْطَةُ بِالتَّمْرِ جِزَافًا قَالَ مَالِك وَكُلُّ مَا اخْتَلَفَ مِنْ الطَّعَامِ وَالْأُدْمِ فَبَان اخْتِلَافُهُ فَلَا بَأْسَ أَنْ يُشْتَرَى بَعْضُهُ بِبَعْضٍ جِزَافًا يَدًا بِيَدٍ فَإِنْ دَخَلَهُ الْأَجَلُ فَلَا خَيْرَ فِيهِ وَإِنَّمَا اشْتِرَاءُ ذَلِكَ جِزَافًا كَاشْتِرَاءِ بَعْضِ ذَلِكَ بِالذَّهَبِ وَالْوَرِقِ جِزَافًا قَالَ مَالِك وَذَلِكَ أَنَّكَ تَشْتَرِي الْحِنْطَةَ بِالْوَرِقِ جِزَافًا وَالتَّمْرَ بِالذَّهَبِ جِزَافًا فَهَذَا حَلَالٌ لَا بَأْسَ بِهِ قَالَ مَالِك وَمَنْ صَبَّرَ صُبْرَةَ طَعَامٍ وَقَدْ عَلِمَ كَيْلَهَا ثُمَّ بَاعَهَا جِزَافًا وَكَتَمَ عَلَى الْمُشْتَرِيَ كَيْلَهَا فَإِنَّ ذَلِكَ لَا يَصْلُحُ فَإِنْ أَحَبَّ الْمُشْتَرِي أَنْ يَرُدَّ ذَلِكَ الطَّعَامَ عَلَى الْبَائِعِ رَدَّهُ بِمَا كَتَمَهُ كَيْلَهُ وَغَرَّهُ وَكَذَلِكَ كُلُّ مَا عَلِمَ الْبَائِعُ كَيْلَهُ وَعَدَدَهُ مِنْ الطَّعَامِ وَغَيْرِهِ ثُمَّ بَاعَهُ جِزَافًا وَلَمْ يَعْلَمْ الْمُشْتَرِي ذَلِكَ فَإِنَّ الْمُشْتَرِيَ إِنْ أَحَبَّ أَنْ يَرُدَّ ذَلِكَ عَلَى الْبَائِعِ رَدَّهُ وَلَمْ يَزَلْ أَهْلُ الْعِلْمِ يَنْهَوْنَ عَنْ ذَلِكَ قَالَ مَالِك وَلَا خَيْرَ فِي الْخُبْزِ قُرْصٍ بِقُرْصَيْنِ وَلَا عَظِيمٍ بِصَغِيرٍ إِذَا كَانَ بَعْضُ ذَلِكَ أَكْبَرَ مِنْ بَعْضٍ فَأَمَّا إِذَا كَانَ يُتَحَرَّى أَنْ يَكُونَ مِثْلًا بِمِثْلٍ فَلَا بَأْسَ بِهِ وَإِنْ لَمْ يُوزَنْ قَالَ مَالِك لَا يَصْلُحُ مُدُّ زُبْدٍ وَمُدُّ لَبَنٍ بِمُدَّيْ زُبْدٍ وَهُوَ مِثْلُ الَّذِي وَصَفْنَا مِنْ التَّمْرِ الَّذِي يُبَاعُ صَاعَيْنِ مِنْ كَبِيسٍ وَصَاعًا مِنْ حَشَفٍ بِثَلَاثَةِ أَصْوُعٍ مِنْ عَجْوَةٍ حِينَ قَالَ لِصَاحِبِهِ إِنَّ صَاعَيْنِ مِنْ كَبِيسٍ بِثَلَاثَةِ أَصْوُعٍ مِنْ الْعَجْوَةِ لَا يَصْلُحُ فَفَعَلَ ذَلِكَ لِيُجِيزَ بَيْعَهُ وَإِنَّمَا جَعَلَ صَاحِبُ اللَّبَنِ اللَّبَنَ مَعَ زُبْدِهِ لِيَأْخُذَ فَضْلَ زُبْدِهِ عَلَى زُبْدِ صَاحِبِهِ حِينَ أَدْخَلَ مَعَهُ اللَّبَنَ قَالَ مَالِك وَالدَّقِيقُ بِالْحِنْطَةِ مِثْلًا بِمِثْلٍ لَا بَأْسَ بِهِ وَذَلِكَ لِأَنَّهُ أَخْلَصَ الدَّقِيقَ فَبَاعَهُ بِالْحِنْطَةِ مِثْلًا بِمِثْلٍ وَلَوْ جَعَلَ نِصْفَ الْمُدِّ مِنْ دَقِيقٍ وَنِصْفَهُ مِنْ حِنْطَةٍ فَبَاعَ ذَلِكَ بِمُدٍّ مِنْ حِنْطَةٍ كَانَ ذَلِكَ مِثْلَ الَّذِي وَصَفْنَا لَا يَصْلُحُ لِأَنَّهُ إِنَّمَا أَرَادَ أَنْ يَأْخُذَ فَضْلَ حِنْطَتِهِ الْجَيِّدَةِ حَتَّى جَعَلَ مَعَهَا الدَّقِيقَ فَهَذَا لَا يَصْلُحُ


মালিক (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তাঁর নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, কাসেম ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) সূত্রে ইবনু মুয়াইকীব দাওসী (রহঃ) হতেও অনুরূপ রেওয়ায়ত বর্ণিত হয়েছে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকটও হুকুম অনুরূপ। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট সর্বসম্মত মাসআলা হল- গমের বিনিময়ে গম, খুর্মার বিনিময়ে খুর্মা, খুর্মার বিনিময়ে গম, কিশমিশের বিনিময়ে খুর্মা এবং যাবতীয় খাদ্যশস্য নগদ ছাড়া বিক্রয় করা বৈধ হবে না, (উল্লেখিত বস্তুর) কোন একটিতে যদি মেয়াদ প্রবেশ করে অর্থাৎ ধারে বিক্রয় করা হয় তবে এটা বৈধ হবে না (বরং) এটা হারাম হবে। (অনুরূপ) ব্যঞ্জনে ব্যবহৃত যাবতীয় বস্তুকেও নগদ ছাড়া বিক্রয় করা যাবে না।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ খাদ্যদ্রব্য ব্যঞ্জনসমূহ হতে কোন খাদ্যদ্রব্য কিংবা ব্যঞ্জন যদি তা এক জাতীয় হয় তবে একের বিনিময়ে দুইটি বিক্রয় করা যাবে না এবং এক মুদ্ গমের বিনিময়ে দুই মুদ গম বিক্রয় করা যাবে না। (অনুরূপ) এক মুদ খুর্মা বিক্রয় করা যাবে না দুই মুদ খুর্মার বিনিময়ে, আর এক মুদ কিশমিশকে দুই মুদ কিশমিশের বিনিময়ে বিক্রয় করা যাবে না। (উপরে বর্ণিত বস্তুসমূহের) সদৃশ যাবতীয় শস্য ও ব্যঞ্জনাদি যদি এক জাতীয় হয় (উহাকেও) (অনুরূপ)-বিক্রয় করা যাবে না, নগদ বিক্রি হলেও। কারণ এটা হচ্ছে চাঁদির বিনিময়ে চাঁদির, স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ বিক্রয় করার মতো, এইসব ব্যাপারে কমবেশ করা জায়েয নয়, একমাত্র সমান সমান ও নগদ হলেই এটা হালাল হবে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ পরিমাপ পাত্র দ্বারা মাপা হয় কিংবা ওজন করে দেয়া হয় এরূপ খাদ্য কিংবা পানীয় দ্রব্যের মধ্যে পার্থক্য পাওয়া গেলে এবং (জাতের) এই পার্থক্য প্রকাশ্য হলে, তবে নগদ বিক্রয় হলে উহার একটির বিনিময়ে দুইটি গ্রহণ করাতে কোন দোষ নেই। আর দুই সা’ গমের পরিবর্তে এক সা’ খুর্মা এবং দুই সা’ কিশমিশের বিনিময়ে এক সা’ খুর্মা এবং দুই সা’ ঘি-এর বিনিময়ে এক সা’ গম নেয়াতে কোন দোষ নেই। এই সবের মধ্য হতে পরস্পর দুই জাতের দুইটি বস্তু উভয়ে পরস্পর ভিন্ন জাতের হলে তবে সেই জাতীয় বস্তু হতে একের বিনিময়ে দুই কিংবা ততোধিক নগদ বিক্রয় করাতে কোন দোষ নেই। কিন্তু ধারে হলে তা বৈধ হবে না।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ গমের স্তূপের বিনিময়ে গমের স্তূপ (ক্রয় করা) হালাল হবে না, খুর্মার স্তূপের বিনিময়ে গমের স্তূপ নগদ ক্রয় করাতে কোন দোষ নেই। কারণ খেজুরের বিনিময়ে গম অনুমানে ক্রয় করাতে কোন দোষ নেই।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে কোন খাদ্যদ্রব্য ও ব্যঞ্জনের জাত পরস্পর বিরোধী হলে এবং পার্থক্য স্পষ্ট হলে তবে (সেইরূপ দ্রব্যের) এক অংশকে আর এক অংশের বিনিময়ে আন্দাজে (কিন্তু) নগদে ক্রয় করাতে কোন দোষ নেই, যদি উহাতে মেয়াদ (ধারে বিক্রয়) প্রবেশ করে তবে সেই বিক্রয়ে মঙ্গল নেই। ইহা আন্দাজে ক্রয় করা (এইরূপ) যেমন এহার কিছু অংশকে চাঁদি বা স্বর্ণের বিনিময়ে অনুমানে বিক্রয় করা।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি খাদ্যশস্যের স্তূপ করেছে এবং উহার পরিমাপ কার্য সম্পাদন করেছে, অতঃপর উহাকে অনুমানে বিক্রয় করেছে এবং ক্রেতার নিকট উহার পরিমাপ গোপন করেছে। এটা জাায়েয হবে না। তারপর ক্রেতা যদি ফেরত দিতে ইচ্ছা করে, তবে এই খাদ্যশস্য বিক্রেতাকে ফেরত দিবে, কেননা, বিক্রেতা তার নিকট উহার পরিমাপ গোপন করেছে, (এইভাবে) সে ক্রেতাকে ধোঁকা দিয়েছে। অনুরূপ খাদ্যদ্রব্য হোক বা অন্য কিছু বিক্রেতা যে বস্তুর পরিমাপ ও সংখ্যা জানে অতঃপর উহাকে (ক্রেতার কাছে) আন্দাজে বিক্রয় করে, (অথচ) ক্রেতা উহা অবগত নয়, তবে ক্রেতা ইচ্ছা করলে উক্ত বস্তু বিক্রেতার নিকট ফেরত দিবে। এইরূপ বিক্রয় হতে আহলে ‘ইলম (‘উলামা) সর্বদা নিষেধ করতেন।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ দুই রুটির বিনিময়ে এক রুটি, ছোট রুটির বিনিময়ে বড় রুটি, যার একটি অপরটি হতে বড়, গ্রহণ করা জায়েয নয়। তবে যদি উভয়ে সমান সমান হবে বলে প্রবল ধারণা হয় তবে ওজন করা না হলেও উহাতে কোন দোষ নেই।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ দুই মুদ পনিরের বিনিময়ে এক মুদ পনির এবং এক মুদ দুধ গ্রহণ করা জায়েয নয়। এটা এইরূপ যেইরূপ আমরা পূর্বে বর্ণনা করেছিঃ খেজুরের ব্যাপারে যার তিন সা’ আজওয়ার বিনিময়ে বিক্রয় করা হয়েছে দুই সা’ কাবীস আর এক সা’ রদ্দী খেজুর। যখন তাদের একজন অপর জনকে বলল তিন সা’ ‘আজওয়ার বিনিময়ে দুই সা’ কাবীস বিক্রয় করা জায়েয নয় তখন তিনি এটা [আর এক সা’ রদ্দী খেজুর মিশাইবার কাজ] করলেন বিক্রি শুদ্ধ করার জন্য। দুধওয়ালা পনিরের সঙ্গে দুধ মিশাইয়াছে। এহা এই জন্য যে, তার সাথীর পনিরের তুলনায় তার পনীরের বাড়তিটুকু উশুল করবে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ গমের বিনিময়ে আটা সমান সমান হলে কোন দোষ নেই। আর যদি অর্ধ মুদ আটা এবং অর্ধ মুদ গম একত্র করে উহাকে এক মুদ গমের বিনিময়ে বিক্রয় করা হয় তবে এটা যেইরূপ আমরা পূর্বে বর্ণনা করেছি সেইরূপ হবে। ইহা জায়েয হবে না। কারণ সে গমের সাথে আটা মিশাইয়া উৎকৃষ্ট গমের বাড়তিটুকু [শ্রেষ্ঠত্বের মূল্য] আদায় করল। কাজেই ইহা জায়েয হবে না। [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৩১৯]


হাদিসের মান : নির্ণীত নয়



35758 OK

(১৩২০)

নির্ণীত নয়

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ أَنَّهُ سَأَلَ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ فَقَالَ إِنِّي رَجُلٌ أَبْتَاعُ الطَّعَامَ يَكُونُ مِنْ الصُّكُوكِ بِالْجَارِ فَرُبَّمَا ابْتَعْتُ مِنْهُ بِدِينَارٍ وَنِصْفِ دِرْهَمٍ فَأُعْطَى بِالنِّصْفِ طَعَامًا فَقَالَ سَعِيدٌ لَا وَلَكِنْ أَعْطِ أَنْتَ دِرْهَمًا وَخُذْ بَقِيَّتَهُ طَعَامًا.


মুহাম্মদ ইবনু ‘আবদিল্লাহ ইবনু আবি মারিয়াম (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

সা’ঈদ ইবনু মাসায়্যাব (রহঃ)-কে প্রশ্ন করেছেন। তিনি বললেন, (জার নামক স্থান) হতে চেক (লিখিত দলীল) মারফত যে সব খাদ্যদ্রব্য প্রদান করা হয় আমি সে সব খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করে থাকি। অনেক সময় বিক্রেতা হতে এক দীনার এবং অর্ধ দিরহামের বিনিময়ে (খাদ্যদ্রব্য) ক্রয় করি। অর্ধ দিরহামের পরিবর্তে আমি খাদ্যশস্য দিতে পারি কি? সা’ঈদ (রহঃ) বললেন, না, (বরং) তুমি তাকে পূর্ণ দিরহাম দাও এবং অবশিষ্ট দিরহামের পরিবর্তে খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ কর। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৩২০]


হাদিসের মান : নির্ণীত নয়



35759 OK

(১৩২১)

নির্ণীত নয়

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ سِيرِينَ كَانَ يَقُولُ لَا تَبِيعُوا الْحَبَّ فِي سُنْبُلِهِ حَتَّى يَبْيَضَّ قَالَ مَالِك مَنْ اشْتَرَى طَعَامًا بِسِعْرٍ مَعْلُومٍ إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى فَلَمَّا حَلَّ الْأَجَلُ قَالَ الَّذِي عَلَيْهِ الطَّعَامُ لِصَاحِبِهِ لَيْسَ عِنْدِي طَعَامٌ فَبِعْنِي الطَّعَامَ الَّذِي لَكَ عَلَيَّ إِلَى أَجَلٍ فَيَقُولُ صَاحِبُ الطَّعَامِ هَذَا لَا يَصْلُحُ لِأَنَّهُ قَدْ نَهَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ بَيْعِ الطَّعَامِ حَتَّى يُسْتَوْفَى فَيَقُولُ الَّذِي عَلَيْهِ الطَّعَامُ لِغَرِيمِهِ فَبِعْنِي طَعَامًا إِلَى أَجَلٍ حَتَّى أَقْضِيَكَهُ فَهَذَا لَا يَصْلُحُ لِأَنَّهُ إِنَّمَا يُعْطِيهِ طَعَامًا ثُمَّ يَرُدُّهُ إِلَيْهِ فَيَصِيرُ الذَّهَبُ الَّذِي أَعْطَاهُ ثَمَنَ الطَّعَامِ الَّذِي كَانَ لَهُ عَلَيْهِ وَيَصِيرُ الطَّعَامُ الَّذِي أَعْطَاهُ مُحَلِّلًا فِيمَا بَيْنَهُمَا وَيَكُونُ ذَلِكَ إِذَا فَعَلَاهُ بَيْعَ الطَّعَامِ قَبْلَ أَنْ يُسْتَوْفَى. قَالَ مَالِك فِي رَجُلٍ لَهُ عَلَى رَجُلٍ طَعَامٌ ابْتَاعَهُ مِنْهُ وَلِغَرِيمِهِ عَلَى رَجُلٍ طَعَامٌ مِثْلُ ذَلِكَ الطَّعَامِ فَقَالَ الَّذِي عَلَيْهِ الطَّعَامُ لِغَرِيمِهِ أُحِيلُكَ عَلَى غَرِيمٍ لِي عَلَيْهِ مِثْلُ الطَّعَامِ الَّذِي لَكَ عَلَيَّ بِطَعَامِكَ الَّذِي لَكَ عَلَيَّ قَالَ مَالِك إِنْ كَانَ الَّذِي عَلَيْهِ الطَّعَامُ إِنَّمَا هُوَ طَعَامٌ ابْتَاعَهُ فَأَرَادَ أَنْ يُحِيلَ غَرِيمَهُ بِطَعَامٍ ابْتَاعَهُ فَإِنَّ ذَلِكَ لَا يَصْلُحُ وَذَلِكَ بَيْعُ الطَّعَامِ قَبْلَ أَنْ يُسْتَوْفَى فَإِنْ كَانَ الطَّعَامُ سَلَفًا حَالًّا فَلَا بَأْسَ أَنْ يُحِيلَ بِهِ غَرِيمَهُ لِأَنَّ ذَلِكَ لَيْسَ بِبَيْعٍ وَلَا يَحِلُّ بَيْعُ الطَّعَامِ قَبْلَ أَنْ يُسْتَوْفَى لِنَهْيِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ذَلِكَ غَيْرَ أَنَّ أَهْلَ الْعِلْمِ قَدْ اجْتَمَعُوا عَلَى أَنَّهُ لَا بَأْسَ بِالشِّرْكِ وَالتَّوْلِيَةِ وَالْإِقَالَةِ فِي الطَّعَامِ وَغَيْرِهِ قَالَ مَالِك وَذَلِكَ أَنَّ أَهْلَ الْعِلْمِ أَنْزَلُوهُ عَلَى وَجْهِ الْمَعْرُوفِ وَلَمْ يُنْزِلُوهُ عَلَى وَجْهِ الْبَيْعِ وَذَلِكَ مِثْلُ الرَّجُلِ يُسَلِّفُ الدَّرَاهِمَ النُّقَّصَ فَيُقْضَى دَرَاهِمَ وَازِنَةً فِيهَا فَضْلٌ فَيَحِلُّ لَهُ ذَلِكَ وَيَجُوزُ وَلَوْ اشْتَرَى مِنْهُ دَرَاهِمَ نُقَّصًا بِوَازِنَةٍ لَمْ يَحِلَّ ذَلِكَ وَلَوْ اشْتَرَطَ عَلَيْهِ حِينَ أَسْلَفَهُ وَازِنَةً وَإِنَّمَا أَعْطَاهُ نُقَّصًا لَمْ يَحِلَّ لَهُ ذَلِك.


মালিক (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তাঁর নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, মুহাম্মদ ইবনু সীরীন (রহঃ) বলতেন, শস্য উহার শীষে থাকা অবস্থায় বিক্রয় করো না, যতক্ষণ যাবত উহা পরিপুষ্ট না হয়। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি নির্ধারিত মূল্যে নির্দিষ্ট মেয়াদে কোন খাদ্যশস্য ক্রয় করেছে, যখন মেয়াদ উপস্থিত হল, খাদ্যশস্য আদায় করা যার জিম্মায় (ওয়াজিব হয়েছে) সে তার সাথী (ক্রেতা)-কে বলল, আমার কাছে খাদ্যশস্য (মওজুদ) নেই, যে খাদ্যশস্য আপনাকে দেয়ার দায়িত্ব আমার উপর রয়েছে, সে খাদ্যশস্য আপনি আমার নিকট বিক্রয় করুন নির্দিষ্ট মেয়াদে, যেন আপনাকে আমি উহা পরিশোধ করি। [১] ইহা জায়েয হবে না। কারণ সে [প্রথম ক্রেতার] প্রাপ্য ছিল সেই ব্যক্তির [প্রথম বিক্রেতার] খাদ্যশস্য দিতেছে। তারপর পুনরায় প্রথম বিক্রেতা প্রথম ক্রেতার নিকট তা ফেরত দিতেছে। [২] ফলে ব্যাপার এই দাঁড়াবে যে, (এই খাদ্যশস্যের) যে মূল্য প্রথম বিক্রেতা প্রথম ক্রেতাকে আদায় করল খাদ্যশস্যের দ্বিতীয় দফা যে ক্রয় করল উহার মূল্য বাবদ উহা (প্রকৃতপক্ষে) সেই খাদ্যশস্যের মূল্য হল।
যে খাদ্যশস্য উহার [প্রথম ক্রেতার প্রাপ্য ছিল সেই ব্যক্তির [প্রথম বিক্রেতার] জিম্মায়। এই খাদ্যশস্য যা বিক্রি করল তাদের উভয়ের মধ্যে লেন-দেন হালাল করার জন্য একটি হিল্লা স্বরূপ হল। (উপরিউক্ত ব্যবস্থায়) তারা যা করল তা হতে খাদ্যশস্যকে হস্তগত করার পূর্বে বিক্রয় করা। [যা হালাল নয়]
মালিক (রহঃ) বলেনঃ এক ব্যক্তির খাদ্যশস্য আর এক ব্যক্তির জিম্মায় ওয়াজিব রয়েছে, যা সে ক্রয় করেছিল তার নিকট হতে, (অপর দিকে) তার কর্জদারের অপর এক ব্যক্তির নিকট অনুরূপ খাদ্যদ্রব্য পাওনা রয়েছে। যে ব্যক্তির জিম্মায় খাদ্যদ্রব্য [আদায় করা ওয়াজিব] রয়েছে সে ঋণদাতাকে বলল- আমার নিকট আপনার প্রাপ্য খাদ্যদ্রব্যের পরিবর্তে আমি আপনাকে আমার এক ঋণদারের হাওলা করিতেছি, যার নিকট আমি অনুরূপ খাদ্যদ্রব্য পাওনা আছি, যেইরূপ খাদ্যদ্রব্য আমার নিকট আপনার পাওনা রয়েছে। [অর্থাৎ খাতকের নিকট হতে আপনি সেই খাদ্যদ্রব্য আদায় করে নিন]
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যার জিম্মায় খাদ্যদ্রব্য [আদায় করা ওয়াজিব] রয়েছে, সে যদি সেই খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করে থাকে এবং তার ঋণদাতাকে উহা হতে খরিদকৃত খাদ্যদ্রব্যের হাওলা করতে ইচ্ছা করে, তবে এই হাওলা করা জায়েয নয়।
এবং এটা হচ্ছে হস্তগত করার পূর্বে খাদ্যদ্রব্য বিক্রয় করা। [যা বৈধ নয়] আর যদি উক্ত খাদ্যদ্রব্য সলফরূপে ক্রয় হয়ে থাকে যার আদায় করার সময় উপস্থিত হয়েছে, তবে তার ঋণদাতাকে তার খাতকের হাওলা করতে কোন দোষ নেই। [অর্থাৎ ইহা জায়েয হবে] কারণ ইহা [ঋণ], বিক্রয় নয়।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ হস্তগত করার পূর্বে খাদ্যদ্রব্য বিক্রয় করা হালাল নয়। কারণ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহা নিষেধ করেছেন। তবে আহলে ‘ইলম [‘উলামা] এই বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেন যে, শরীক করে নেয়া, [৩] তাওলিয়ত [৪] ও ইকালাতে কোন দোষ নেই। খাদ্যদ্রব্য (হোক বা) অথবা খাদ্যদ্রব্য ব্যতীত অন্য কিছু হোক।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ [এটা জায়েয এইজন্য যে,] আহলে ‘ইলম [উলামা] এই সবকে অনুগ্রহের তুল্য বলে মত দিয়েছেন, এহা বেচাকেনার মতো বলে উল্লেখ করেননি। ইহা এইরূপ যেন কোন ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে নাকিস (অসম্পূর্ণ ও কৃত্রিম) দিরহাম সলফ [ঋণ] প্রদান করেছে, তারপর ঋণ শোধ করা হল [অর্থাৎ সলফ গ্রহীতা (বিক্রেতা) ঋণদাতা [ক্রেতা]-কে ঋণ পরিশোধ করল পূর্ণ ওজনের দিরহাম দ্বারা যাতে বাড়তি রয়েছে।
ইহা তার জন্য জায়েয হবে এবং হালাল হবে। পক্ষান্তরে যদি সেই ব্যক্তি পূর্ণ ওজনের দিরহামের বিনিময়ে নাকিস দিরহাম উহা হতে ক্রয় করে তবে ইহা তার জন্য হালাল [জায়েয] হবে না। অনুরূপ সলফ বিক্রয়ে যদি (বিক্রেতার নিকট) পূর্ণ ওজনের দিরহামের শর্ত করে অথচ সে তাকে পরিশোধ করেছে নাকিস দিরহাম, তবে ইহা জায়েয হবে না। [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৩২১]


[[১] যে খাদ্যশস্য আপনাকে দেয়া আমার জিম্মায় ওয়াজিব রয়েছে, উহা শোধ করে যেন আমি দায়মুক্ত হতে পারি। [২] তার উপর যে ঋণ খাদ্যশস্য প্রদানের ছিল সেই ঋণ পরিশোধার্থে ইহা ফেরত দিতেছে প্রথম ক্রেতার নিকট। [৩] অর্থাৎ ক্রয়কৃত বস্তুতে আংশিকরূপে কাউকেও শরীক করা। [৪] এক ব্যক্তি কোন এক বস্তু ক্রয় করল, অন্য এক ব্যক্তি তাকে বলল- আমাকে এই বস্তুটির মালিক বানিয়ে দিন। ক্রেতা বললেন, তোমাকে মালিক করে দিলাম। এতে উক্ত বস্তুর মূল্যে বাড়ান-কমান হল না, এইরূপ করাকে তাওলিয়ত বলা হয়।]


হাদিসের মান : নির্ণীত নয়



35760 OK

(১৩২২)

নির্ণীত নয়

قَالَ مَالِك وَمِمَّا يُشْبِهُ ذَلِكَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَن بَيْعِ الْمُزَابَنَةِ وَأَرْخَصَ فِي بَيْعِ الْعَرَايَا بِخَرْصِهَا مِنْ التَّمْرِ وَإِنَّمَا فُرِقَ بَيْنَ ذَلِكَ أَنَّ بَيْعَ الْمُزَابَنَةِ بَيْعٌ عَلَى وَجْهِ الْمُكَايَسَةِ وَالتِّجَارَةِ وَأَنَّ بَيْعَ الْعَرَايَا عَلَى وَجْهِ الْمَعْرُوفِ لَا مُكَايَسَةَ فِيْهِ قَالَ مَالِك وَلَا يَنْبَغِي أَنْ يَشْتَرِيَ رَجُلٌ طَعَامًا بِرُبُعٍ أَوْ ثُلُثٍ أَوْ كِسْرٍ مِنْ دِرْهَمٍ عَلَى أَنْ يُعْطَى بِذَلِكَ طَعَامًا إِلَى أَجَلٍ وَلَا بَأْسَ أَنْ يَبْتَاعَ الرَّجُلُ طَعَامًا بِكِسْرٍ مِنْ دِرْهَمٍ إِلَى أَجَلٍ ثُمَّ يُعْطَى دِرْهَمًا وَيَأْخُذُ بِمَا بَقِيَ لَهُ مِنْ دِرْهَمِهِ سِلْعَةً مِنْ السِّلَعِ لِأَنَّهُ أَعْطَى الْكِسْرَ الَّذِي عَلَيْهِ فِضَّةً وَأَخَذَ بِبَقِيَّةِ دِرْهَمِهِ سِلْعَةً فَهَذَا لَا بَأْسَ بِه قَالَ مَالِك وَلَا بَأْسَ أَنْ يَضَعَ الرَّجُلُ عِنْدَ الرَّجُلِ دِرْهَمًا ثُمَّ يَأْخُذُ مِنْهُ بِرُبُعٍ أَوْ بِثُلُثٍ أَوْ بِكِسْرٍ مَعْلُومٍ سِلْعَةً مَعْلُومَةً فَإِذَا لَمْ يَكُنْ فِي ذَلِكَ سِعْرٌ مَعْلُومٌ وَقَالَ الرَّجُلُ آخُذُ مِنْكَ بِسِعْرِ كُلِّ يَوْمٍ فَهَذَا لَا يَحِلُّ لِأَنَّهُ غَرَرٌ يَقِلُّ مَرَّةً وَيَكْثُرُ مَرَّةً وَلَمْ يَفْتَرِقَا عَلَى بَيْعٍ مَعْلُوم قَالَ مَالِك وَمَنْ بَاعَ طَعَامًا جِزَافًا وَلَمْ يَسْتَثْنِ مِنْهُ شَيْئًا ثُمَّ بَدَا لَهُ أَنْ يَشْتَرِيَ مِنْهُ شَيْئًا فَإِنَّهُ لَا يَصْلُحُ لَهُ أَنْ يَشْتَرِيَ مِنْهُ شَيْئً إِلَّا مَا كَانَ يَجُوزُ لَهُ أَنْ يَسْتَثْنِيَهُ مِنْهُ وَذَلِكَ الثُّلُثُ فَمَا دُونَهُ فَإِنْ زَادَ عَلَى الثُّلُثِ صَارَ ذَلِكَ إِلَى الْمُزَابَنَةِ وَإِلَى مَا يُكْرَهُ فَلَا يَنْبَغِي لَهُ أَنْ يَشْتَرِيَ مِنْهُ شَيْئًا إِلَّا مَا كَانَ يَجُوزُ لَهُ أَنْ يَسْتَثْنِيَ مِنْهُ وَلَا يَجُوزُ لَهُ أَنْ يَسْتَثْنِيَ مِنْهُ إِلَّا الثُّلُثَ فَمَا دُونَهُ وَهَذَا الْأَمْرُ الَّذِي لَا اخْتِلَافَ فِيهِ عِنْدَنَا.


মালিক (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

এরই সদৃশ দৃষ্টান্ত হচ্ছে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুযাবানাকে নিষেধ করেছেন, (অথচ) আরায়াতে উহার খেজুরের অনুমান করে বিক্রয় করার অনুমতি দিয়েছেন। এই পার্থক্যের কারণ এই, মুযাবানাতে ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে পরস্পর বুদ্ধিমত্তা প্রকাশ ও ব্যবসা করার প্রয়াসের ধারায়। আর আরায়ায় বিক্রয় হচ্ছে অনুগ্রহস্বরূপ, এতে পরস্পর বুদ্ধি খাটানোর কোন প্রতিযোগিতা নেই।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ কোন ব্যক্তি খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করল দিরহামের এক-চতুর্থাংশ বা এক-তৃতীয়াংশ কিংবা উহার যেকোন অংশের বিনিময়ে এই শর্তে যে, এই মূল্যের বিনিময়ে খাদ্যদ্রব্য দেয়া হবে মেয়াদে। [উদাহরণস্বরূপ যেমন-এক মাস পর] ইহা সঙ্গত (জায়েয) নয়। আর কোন ব্যক্তি খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করল দিরহামের এক অংশের বিনিময়ে মেয়াদে। তারপর সে (পূর্ণ) এক দিরহাম প্রদান করল এবং তার দিরহামের যেটুকু অবশিষ্ট রইল উহার বিনিময়ে সে অন্য কোন সামগ্রী ক্রয় করল, এতে কোন দোষ নেই। কারণ সে দিরহামের অংশ যা তার জিম্মায় (ওয়াজিব) ছিল তা প্রদান করেছে এবং অবশিষ্ট দিরহামের বিনিময়ে (অন্য) সামগ্রী ক্রয় করেছ, এতে কোন দোষ নেই [অর্থাৎ ইটা জায়েয আছে]।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ এক ব্যক্তি আর এক ব্যক্তির নিকট একটি দিরহাম রাখল। অতঃপর সেই ব্যক্তির নিকট হতে দিরহামের এক-তৃতীয়াংশ অথবা এক-চতুর্থাংশ কিংবা নির্দিষ্ট কোন অংশে নির্দিষ্ট কোন সামগ্রী খরিদ করল, এতে কোন দোষ নেই। পক্ষান্তরে যদি উহাতে মূল্য জ্ঞাত না থাকে এবং (দিরহামওয়ালা) ব্যক্তি বলল- আমি প্রতিদিনকার যা মূল্য হবে তার বিনিময়ে ক্রয় করব। এটা জায়েয হবে না। কারণ এটা (এক প্রকার) ধোঁকা, দাম একবার কমবে, আবার একবার বাড়বে। তারা উভয়ে কোন সুনির্দিষ্ট ক্রয়-বিক্রয় হতে পরস্পর পৃথক হয়নি।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি আন্দাজ করে খাদ্যদ্রব্য বিক্রয় করেছে এবং উহা হতে কোন কিছু বাদ বা আলাদা করেনি। অতঃপর [বিক্রিত বস্তু হতে] কিছুটা ক্রেতা হতে খরিদ করতে সে ইচ্ছা করল, তবে বিক্রিত বস্তু হতে কিছুটা ক্রেতা হতে খরিদ করে রাখা তার জন্য জায়েয নয়। কিন্তু কেবলমাত্র সেই পরিমাণ ক্রয় করা জায়েয যেই পরিমাণ সেই বস্তু হতে বাদ করা বা পৃথক করে রাখা তহার জন্য জায়েয রয়েছে। আর সেই পরিমাণ হচ্ছে এক-তৃতীয়াংশ বা উহা হতে কম, এক-তৃতীয়াংশ হতে বেশি হলে তা মুযাবানার দিকে এবং মাকরূহ (বেচাকেনা)-এর দিকে যাবে। কাজেই (বিক্রেতার জন্য) উহা হতে কিছুটা ক্রয় করা সঙ্গত নয় কিন্তু যে পরিমাণ উহা হতে পৃথক করা (বাদ দেয়া) তার জন্য জায়েয আছে সেই পরিমাণ (ক্রয় করতে পারবে)। আর এক-তৃতীয়াংশ বা উহা হতে কম ছাড়া পৃথক করা তার জন্য জায়েয নয়।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ এই বিষয়ে আমাদের মধ্যে কোন মতানৈক্য নেই। [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৩২২]


হাদিসের মান : নির্ণীত নয়