(৬১০) তালাক অধ্যায় [হাদিসের সীমা (), সর্বমোট হাদিসঃ ১১১টি]

পরিচ্ছেদ ৩৪ [মোট হাদিসঃ ৬টি] [অবশিষ্ট হাদিসঃ ১৫টি]


আযল [১] -এর বর্ণনা


[১] সহবাসের সময় বাহিরে বীর্যপাত করাকে ‘আযল’ বলা হয়। আযল সম্পর্কে সাহাবী এবং তাদের পরবর্তী আলেমদের মধ্যে বিভিন্ন মত রয়েছে। জাবির ইবনু আব্বাস, সা’দ ইবনু আবি ওয়াক্কাস, যায়দ ইবনু সাবিত, ইবনু মাসউদ (রা) প্রমুখ সাহাবী আযল বৈধ বলে মত পোষণ করেন। ইবনু মুসায়্যাব, তাউস, আতা, মালিক, শাফিঈ (র) প্রমুখ তাবেয়ী ও ইমাম আযলের অনুমতি দিয়েছেন বলে বর্ণিত হয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা) একে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন যদি কেউ আযল করেছে বলে আমি জানি তবে তাকে শাস্তি দিব। উমার (রা) তার কোন পুত্রকে আযল করার কারণে শাস্তি দিয়েছেন। উসমান (রা)-ও আযলকে পছন্দ করতেন না। আবূ উসামা (রা) বলেনঃ কোন মুসলমান আযল করে বলে আমি মনে করি না। আলী (রা) আযলকে পছন্দ করতেন না বলে বর্ণিত হয়েছে। প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস হাকিম ইবনু হাজর (র) বর্ণনা করেন যে, ইবনু হাযম (র) আযলকে হারাম জানতেন। কেননা হাদীস শরীফে একে গুপ্ত হত্যা বলা হয়েছে। হাদীসটি মুসলিম এ বর্ণিত হয়েছে। আযল নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ বর্ণনায় আলিমগণ বলেছেনঃ এতে স্ত্রীর হক নষ্ট করা হয় এবং বংশ বৃদ্ধি রোধ করা হয় অথচ রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বংশ বৃদ্ধির প্রতি উৎসাহিত করে বলেছেনঃ অধিক ভালবাসে এবং অধিক সন্তান জন্ম দেয় সেরূপ স্ত্রীকে বিবাহ কর। কারণ আমি আমার উম্মতের আধিক্যের উপর গর্ব করব। -আবূ দাঊদ - অন্য কারণ আযল করাতে তকদীরকে প্রতিরোধ করার চেষ্ট করা হয়। -আওজাযুল মাসালিকসহবাসের সময় বাহিরে বীর্যপাত করাকে ‘আযল’ বলা হয়। আযল সম্পর্কে সাহাবী এবং তাদের পরবর্তী আলেমদের মধ্যে বিভিন্ন মত রয়েছে। জাবির ইবনু আব্বাস, সা’দ ইবনু আবি ওয়াক্কাস, যায়দ ইবনু সাবিত, ইবনু মাসউদ (রা) প্রমুখ সাহাবী আযল বৈধ বলে মত পোষণ করেন। ইবনু মুসায়্যাব, তাউস, আতা, মালিক, শাফিঈ (র) প্রমুখ তাবেয়ী ও ইমাম আযলের অনুমতি দিয়েছেন বলে বর্ণিত হয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা) একে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন যদি কেউ আযল করেছে বলে আমি জানি তবে তাকে শাস্তি দিব। উমার (রা) তার কোন পুত্রকে আযল করার কারণে শাস্তি দিয়েছেন। উসমান (রা)-ও আযলকে পছন্দ করতেন না। আবূ উসামা (রা) বলেনঃ কোন মুসলমান আযল করে বলে আমি মনে করি না। আলী (রা) আযলকে পছন্দ করতেন না বলে বর্ণিত হয়েছে। প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস হাকিম ইবনু হাজর (র) বর্ণনা করেন যে, ইবনু হাযম (র) আযলকে হারাম জানতেন। কেননা হাদীস শরীফে একে গুপ্ত হত্যা বলা হয়েছে। হাদীসটি মুসলিম এ বর্ণিত হয়েছে। আযল নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ বর্ণনায় আলিমগণ বলেছেনঃ এতে স্ত্রীর হক নষ্ট করা হয় এবং বংশ বৃদ্ধি রোধ করা হয় অথচ রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বংশ বৃদ্ধির প্রতি উৎসাহিত করে বলেছেনঃ অধিক ভালবাসে এবং অধিক সন্তান জন্ম দেয় সেরূপ স্ত্রীকে বিবাহ কর। কারণ আমি আমার উম্মতের আধিক্যের উপর গর্ব করব। -আবূ দাঊদ - অন্য কারণ আযল করাতে তকদীরকে প্রতিরোধ করার চেষ্ট করা হয়। -আওজাযুল মাসালিক



35672 OK

(১২৩৪)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ عَنْ ابْنِ مُحَيْرِيزٍ أَنَّهُ قَالَ: دَخَلْتُ الْمَسْجِدَ فَرَأَيْتُ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ فَجَلَسْتُ إِلَيْهِ فَسَأَلْتُهُ عَنْ الْعَزْلِ فَقَالَ أَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي غَزْوَةِ بَنِي الْمُصْطَلِقِ فَأَصَبْنَا سَبْيًا مِنْ سَبْيِ الْعَرَبِ فَاشْتَهَيْنَا النِّسَاءَ وَاشْتَدَّتْ عَلَيْنَا الْعُزْبَةُ وَأَحْبَبْنَا الْفِدَاءَ فَأَرَدْنَا أَنْ نَعْزِلَ فَقُلْنَا نَعْزِلُ وَرَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَ أَظْهُرِنَا قَبْلَ أَنْ نَسْأَلَهُ فَسَأَلْنَاهُ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ مَا عَلَيْكُمْ أَنْ لَا تَفْعَلُوا مَا مِنْ نَسَمَةٍ كَائِنَةٍ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ إِلَّا وَهِيَ كَائِنَةٌ.


ইবনু মুহায়রিয (র) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন : আমি মসজিদে প্রবেশ করলাম। আমি (তথায়) আবূ সাঈদ খুদরী (রা)-কে দেখতে পেলাম এবং আমি তার নিকট বসলাম ও তাকে ‘আযল’ সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম। (উত্তরে) আবূ সাঈদ খুদরী (রা) বললেন, আমরা রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ‘বনী মুস্তালিক’ যুদ্ধে বের হলাম। আমরা (সে যুদ্ধে) কিছু সংখ্যাক আরবী যুদ্ধবন্দিনী লাভ করলাম। (এইদিকে) নারীর প্রতি আমাদের প্রবৃত্তি জাগ্রত হল, স্ত্রী সংশ্রব হতে দূরে থাকা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে দাড়াল। (অপরদিকে) উহাদের মূল্য পেতেও আমরা আগ্রহী। তাই (তাদের সাথে) আযল কারার ইচ্ছা করলাম। আমরা বললাম, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মধ্যে বিরাজমান : তার কাছে জিজ্ঞেস করার পূর্বে আমরা আযল করব (এটা কিরূপে হয়)। আমরা এই বিষয়ে তার কাছে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেন, এটা না করলে তোমাদের কোন ক্ষতি নেই। কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যত প্রাণীর জন্ম অবধারিত উহা অবশ্যই অস্তিত্বে আসবে। (বুখারী ২৫৪২, মুসলিম ১৪৩৮) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১২৩৪]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



35673 OK

(১২৩৫)

অন্যান্য

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ أَبِي النَّضْرِ مَوْلَى عُمَرَ بْنِ عُبَيْدِ اللهِ عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ كَانَ يَعْزِلُ.


সা’দ ইবনু আবি ওয়াক্কাসের ছেলে আমির ইবনু সা’দ থেকে বর্ণিতঃ

সা’দ ইবনু আবি ওয়াক্কাস (রা) আযল করতেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১২৩৫]


হাদিসের মান : অন্যান্য



35674 OK

(১২৩৬)

অন্যান্য

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ أَبِي النَّضْرِ مَوْلَى عُمَرَ بْنِ عُبَيْدِ اللهِ عَنْ ابْنِ أَفْلَحَ مَوْلَى أَبِي أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيِّ عَنْ أُمِّ وَلَدٍ لِأَبِي أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيِّ أَنَّهُ كَانَ يَعْزِلُ.


আবূ আইয়ূব আনসারী (রা) থেকে বর্ণিতঃ

আবূ আইয়ূব আনসারী (রা) আযল করতেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১২৩৬]


হাদিসের মান : অন্যান্য



35675 OK

(১২৩৭)

অন্যান্য

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّهُ كَانَ لَا يَعْزِلُ وَكَانَ يَكْرَهُ الْعَزْلَ.


নাফি (র) থেকে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা) আযল করতেন না এবং তিনি উহাকে মাকরূহ তাহরীমা জানতেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১২৩৭]


হাদিসের মান : অন্যান্য



35676 OK

(১২৩৮)

অন্যান্য

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ضَمْرَةَ بْنِ سَعِيدٍ الْمَازِنِيِّ عَنْ الْحَجَّاجِ بْنِ عَمْرِو بْنِ غَزِيَّةَ أَنَّهُ كَانَ جَالِسًا عِنْدَ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ فَجَاءَهُ ابْنُ فَهْدٍ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْيَمَنِ فَقَالَ يَا أَبَا سَعِيدٍ إِنَّ عِنْدِي جَوَارِيَ لِي لَيْسَ نِسَائِي اللَّاتِي أُكِنُّ بِأَعْجَبَ إِلَيَّ مِنْهُنَّ وَلَيْسَ كُلُّهُنَّ يُعْجِبُنِي أَنْ تَحْمِلَ مِنِّي أَفَأَعْزِلُ فَقَالَ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ أَفْتِهِ يَا حَجَّاجُ قَالَ فَقُلْتُ يَغْفِرُ اللهُ لَكَ إِنَّمَا نَجْلِسُ عِنْدَكَ لِنَتَعَلَّمَ مِنْكَ قَالَ أَفْتِهِ قَالَ فَقُلْتُ هُوَ حَرْثُكَ إِنْ شِئْتَ سَقَيْتَهُ وَإِنْ شِئْتَ أَعْطَشْتَهُ قَالَ وَكُنْتُ أَسْمَعُ ذَلِكَ مِنْ زَيْدٍ فَقَالَ زَيْدٌ صَدَقَ.


হাজ্জাজ ইবনু আমর ইবনু গাযিয়্যা (রা) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি যায়দ ইবনু সাবিত (রা)-এর নিকট বসা ছিলেন। (ইতিমধ্যে) ইয়ামানের বাসিন্দা ইবনু ফাহদ (জনৈক ব্যক্তি) তাঁর নিকট এল এবং বলল, হে আবূ সাঈদ. আমার নিকট কয়েকটি বাদী এমন রয়েছে যে, আমার স্ত্রীগণ তাদের তুলনায় আমার নিকট বেশি পছন্দনীয় নয়।
আমার দ্বারা তাদের প্রত্যেকে অন্তঃসত্ত্বা হোক তা আমি পছন্দ করি না। তবে আমি আযল করতে পারি কি? যায়দ বললেন, হে হাজ্জাজ, তুমি ফতোয়া দাও। আমি বললাম, আল্লাহ আপনাকে মাফ করুন, আমরা আপনার কাছে ইলম শিক্ষার জন্য বসি। তিনি বললেন : হে হাজ্জাজ! ফতোয়া বলে দাও। হাজ্জাজ বললেন : তারপর আমি বললাম, উহা তোমার ক্ষেত্রে তোমার ইচ্ছা, তুমি উহাতে পানি সিঞ্চন কর অথবা উহাকে পিপাসিত ও শুল্ক করে রাখ। তিনি বলেন, আমি এটা যায়দ হতে শুনেছি। অতঃপর যায়দ বললেন : (হাজ্জাজ) সত্য বলেছে। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
[১] [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১২৩৮]


[[১] কেউ কেউ তাঁকে তাবেয়ী বলে উল্লেখ করেছেন।]


হাদিসের মান : অন্যান্য



35677 OK

(১২৩৯)

নির্ণীত নয়

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ حُمَيْدِ بْنِ قَيْسٍ الْمَكِّيِّ عَنْ رَجُلٍ يُقَالُ لَهُ ذَفِيفٌ أَنَّهُ قَالَ سُئِلَ ابْنُ عَبَّاسٍ عَنْ الْعَزْلِ فَدَعَا جَارِيَةً لَهُ فَقَالَ أَخْبِرِيهِمْ فَكَأَنَّهَا اسْتَحْيَتْ فَقَالَ هُوَ ذَلِكَ أَمَّا أَنَا فَأَفْعَلُهُ يَعْنِي أَنَّهُ يَعْزِلُ ২২১২-قَالَ مَالِك لَا يَعْزِلُ الرَّجُلُ الْمَرْأَةَ الْحُرَّةَ إِلَّا بِإِذْنِهَا وَلَا بَأْسَ أَنْ يَعْزِلَ عَنْ أَمَتِهِ بِغَيْرِ إِذْنِهَا ২২১৩-وَمَنْ كَانَتْ تَحْتَهُ أَمَةُ قَوْمٍ فَلَا يَعْزِلُ إِلَّا بِإِذْنِهِمْ.


যাঈফ (র) থেকে বর্ণিতঃ

ইবনু আব্বাস (র)-কে প্রশ্ন করা হল আযল সম্পর্কে। তিনি তার জনৈকা দাসীকে ডেকে বললেন, এদেরকে বাতলিয়ে দাও। দাসী লজ্জাবোধ করল। ইবনু আব্বাস বললেন। ইহা তাই (অর্থাৎ আযল করা মুবাহ) আমিও তা করে থাকি অর্থাৎ তিনিও আযল করেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
মালিক (র) বলেন : আযাদ স্ত্রীলোকের ব্যাপারে কোন ব্যক্তি তার অনুমতি ছাড়া উহার সাথে আযল করাতে কোন দোষ নেই, আর কোন ব্যক্তি কোন গোত্রের দাসীকে বিবাহ করলে তবে সেই গোত্রের লোকের অনুমতি ছাড়া সেই দাসীর সাথে আযল করবে না। [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১২৩৯]


হাদিসের মান : নির্ণীত নয়