(৬১০) তালাক অধ্যায় [হাদিসের সীমা (), সর্বমোট হাদিসঃ ১১১টি]

পরিচ্ছেদ ২২ [মোট হাদিসঃ ৪টি] [অবশিষ্ট হাদিসঃ ৪৭টি]


যেই গৃহে স্ত্রীকে তালাক দেয়া হয় সে গৃহে ইদ্দত পালন করা




35640 OK

(১২০২)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ وَسُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ أَنَّهُ سَمِعَهُمَا يَذْكُرَانِ أَنَّ يَحْيَى بْنَ سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ طَلَّقَ ابْنَةَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَكَمِ الْبَتَّةَ فَانْتَقَلَهَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْحَكَمِ فَأَرْسَلَتْ عَائِشَةُ أُمُّ الْمُؤْمِنِينَ إِلَى مَرْوَانَ بْنِ الْحَكَمِ وَهُوَ يَوْمَئِذٍ أَمِيرُ الْمَدِينَةِ فَقَالَتْ اتَّقِ اللهَ وَارْدُدْ الْمَرْأَةَ إِلَى بَيْتِهَا فَقَالَ مَرْوَانُ فِي حَدِيثِ سُلَيْمَانَ إِنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ غَلَبَنِي وَقَالَ مَرْوَانُ فِي حَدِيثِ الْقَاسِمِ أَوَ مَا بَلَغَكِ شَأْنُ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ فَقَالَتْ عَائِشَةُ لَا يَضُرُّكَ أَنْ لَا تَذْكُرَ حَدِيثَ فَاطِمَةَ. فَقَالَ مَرْوَانُ إِنْ كَانَ بِكِ الشَّرُّ فَحَسْبُكِ مَا بَيْنَ هَذَيْنِ مِنْ الشَّرِّ.


ইয়াহইয়া ইবনু সা’ঈদ ইবনুল আ’স (রা) থেকে বর্ণিতঃ

আবদুর রহমান ইবনু হাকাম (র)-এর কন্যাকে তালাকে আল-বাত্তা (বায়েন তালাক) দিলেন। আবদুর রহমান ইবনু হাকাম কন্যাকে (স্বামীর গৃহ হতে নিজ গৃহে) সরিয়ে নিলেন। উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা (রা) মারওয়ান ইবন হাকামের নিকট লোক প্রেরণ করলেন। মারওয়ান তখন মদীনার গভর্নর। আয়িশা (রা) বললেন : আল্লাহকে ভয় করুন এবং (ইদ্দত পালনরতা) স্ত্রীকে তার স্বামীর গৃহে ফেরত পাঠান। সুলায়মানের রেওয়ায়ত সম্পর্কে মারওয়ান বললেন : আপনার নিকট ফাতেমা বিনত কায়েসের ব্যাপার পৌঁছে নাই কি? আয়িশা (রা) বললেন : ফাতেমার ঘটনা [১] উল্লেখ না করলে আপনার কোন ক্ষতি নেই (অর্থাৎ ইহাতে কোন দলীল নাই)। মারওয়ান বললেন : যদি আপনার দৃষ্টিতে স্বামীর গৃহে ফাতেমার ইদ্দত পালনে কোন অসুবিধা থাকে তবে যেহেতু উভয়ের মধ্যে (আবূ আমর ও তার স্ত্রী আমরা) যথেষ্ট অসুবিধা রয়েছে (যে কারণে স্বামীগৃহ ত্যাগ করে অন্যত্র ইদ্দত পালন করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে) তাই ইহা আপনার সন্তুষ্টির জন্য যথেষ্ট। (সহীহ, বুখারী ৫৩২২) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১২০২]


[[১] ফাতেমা বিন্ত কায়স ইব্নু খালিদ ছিলেন ইরাকের গভর্নর যাহ্হাক ইবনু কায়স-এর বোন। তাকে বিবাহ করেন আবূ ‘আমর ইবনু হাযম (রা)। আবূ ‘আমর ছিলেন খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রা)-এর চাচাতো ভাই। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ‘আলী ইবনু আবি তালিবের সাথে ইয়ামানে প্রেরণ করেন। সেই সময় তিনি তার স্ত্রীকে অবশিষ্ট তৃতীয় তালাক প্রদান করেন। ইদ্দতকালীন সময়ে আবূ ‘আমর ইয়ামানে ইন্তিকাল করেন। বিশেষ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতেই তিনি স্বামীগৃহ ত্যাগ করে অন্যত্র ইদ্দত পালনের জন্য রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট অনুমতি চাইলেন। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে অনুমতি দিলেন এবং তাকে অন্ধ সাহাবী ইবনু উম্মে মাকতুম (রা)-এর গৃহে উদ্দত পালন করার নির্দেশ দিলেন।]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



35641 OK

(১২০৩)

নির্ণীত নয়

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ بِنْتَ سَعِيدِ بْنِ زَيْدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ نُفَيْلٍ كَانَتْ تَحْتَ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ فَطَلَّقَهَا الْبَتَّةَ فَانْتَقَلَتْ فَأَنْكَرَ ذَلِكَ عَلَيْهَا عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ.


নাফি’(র) থেকে বর্ণিতঃ

সাঈদ ইবনু যায়দ ইবনু আমর ইবনু নুফাইল (রা)-এর কন্যা ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আমর ইবনু উসমান ইবনু আফফান (র)-এর বিবাহ দিলেন। তিনি স্ত্রীকে তালাকে আল-বাত্তা প্রদান করলে সে (স্বামীর গৃহ হতে) সরে যায়। ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রা) উহার প্রতি সমর্থন জানালেন না। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১২০৩]


হাদিসের মান : নির্ণীত নয়



35642 OK

(১২০৪)

অন্যান্য

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ طَلَّقَ امْرَأَةً لَهُ فِي مَسْكَنِ حَفْصَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَكَانَ طَرِيقَهُ إِلَى الْمَسْجِدِ فَكَانَ يَسْلُكُ الطَّرِيقَ الْأُخْرَى مِنْ أَدْبَارِ الْبُيُوتِ كَرَاهِيَةَ أَنْ يَسْتَأْذِنَ عَلَيْهَا حَتَّى رَاجَعَهَا.


নাফি’ (র) থেকে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা) তার জনৈকা স্ত্রীকে নবী-পত্নী হাফসা (রা)-এর গৃহে তালাক দিলেন। এই গৃহ তাহার মসজিদে গমনের পথে অবস্থিত ছিল। তাই তিনি অন্য পথে গৃহের পেছন দিয়ে মসজিদে গমন করতেন। এটা এজন্য যে, স্ত্রীর দিকে রুজূ’ না করা পর্যন্ত অনুমতি নিয়ে তাহার নিকট যাওয়াকে তিনি ভাল মনে করতেন না। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১২০৪]


হাদিসের মান : অন্যান্য



35643 OK

(১২০৫)

অন্যান্য

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ أَنَّ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ سُئِلَ عَنْ الْمَرْأَةِ يُطَلِّقُهَا زَوْجُهَا وَهِيَ فِي بَيْتٍ بِكِرَاءٍ عَلَى مَنْ الْكِرَاءُ فَقَالَ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ عَلَى زَوْجِهَا قَالَ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ عِنْدَ زَوْجِهَا قَالَ فَعَلَيْهَا قَالَ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ عِنْدَهَا قَالَ فَعَلَى الْأَمِيْرِ.


ইয়াহইয়া ইবনু সা’ঈদ (র) থেকে বর্ণিতঃ

সা’ঈদ ইবনু মুসায়্যাব (র)-এর নিকট প্রশ্ন করা হল এরূপ স্ত্রীলোক সম্বন্ধে, যাকে স্বামী তালাক দিয়েছে ভাড়াটে গৃহে। এখন ভাড়ার দায়িত্ব কার উপর বর্তাবে? সা’ঈদ বললেন : ভাড়ার দায়িত্ব স্বামীর উপর ন্যস্ত থাকবে। প্রশ্নকারী বলিল : স্বামী যদি ভাড়া দেওয়ার সামর্থ্য না রাখে? তিনি বললেন, তবে উহা প্রদানের দায়িত্ব স্ত্রীর উপর বর্তাবে। প্রশ্নকারী বলল : যদি স্ত্রীরও সামর্থ্য না থাকে? সা’ঈদ বললেন : তখন শহরের শাসনকর্তার উপর দায়িত্ব বর্তাবে। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১২০৫]


হাদিসের মান : অন্যান্য