
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَأَلَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُرْهُ فَلْيُرَاجِعْهَا ثُمَّ يُمْسِكْهَا حَتَّى تَطْهُرَ ثُمَّ تَحِيضَ ثُمَّ تَطْهُرَ ثُمَّ إِنْ شَاءَ أَمْسَكَ بَعْدُ وَإِنْ شَاءَ طَلَّقَ قَبْلَ أَنْ يَمَسَّ فَتِلْكَ الْعِدَّةُ الَّتِي أَمَرَ اللهُ أَنْ يُطَلَّقَ لَهَا النِّسَاءُ.
নাফি’(র) থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা) তার স্ত্রীকে তালাক দিলেন। তার স্ত্রী তখন ঋতুমতী, উমার ইবনু খাত্তাব (রা) এই ব্যাপারে রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন। রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তাকে নির্দেশ দাও যেন সে স্ত্রীর দিকে প্রত্যাবর্তন করে, তারপর পবিত্রতা লাভ করা পর্যন্ত পুনরায় ঋতু আসা এবং উহা হতে পবিত্র হওয়া পর্যন্ত স্ত্রীকে এমনই রাখবে। অতঃপর ইচ্ছা করলে স্ত্রী হিসেবে রাখবে অথবা ইচ্ছ করলে সহবাসের পূর্বে তালাক দিবে। এটাই সেই ইদ্দত যার প্রতি লক্ষ্য রেখে স্ত্রীদেরকে তালাক দেওয়ার ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আল নির্দেশ দিয়েছেন। (বুখারী ৫২৫২, ৫২৫৩, মুসলিম ১৪৭১) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১১৯২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ أَنَّهَا انْتَقَلَتْ حَفْصَةَ بِنْتَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيْقِ حِينَ دَخَلَتْ فِي الدَّمِ مِنْ الْحَيْضَةِ الثَّالِثَةِ قَالَ ابْنُ شِهَابٍ فَذُكِرَ ذَلِكَ لِعَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ فَقَالَتْ صَدَقَ عُرْوَةُ وَقَدْ جَادَلَهَا فِي ذَلِكَ نَاسٌ فَقَالُوا إِنَّ اللهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى يَقُولُ فِي كِتَابِهِ { ثَلَاثَةَ قُرُوءٍ }فَقَالَتْ عَائِشَةُ صَدَقْتُمْ تَدْرُونَ مَا الْأَقْرَاءُ إِنَّمَا الْأَقْرَاءُ الْأَطْهَارُ.
উরওয়া ইবনু যুবায়র (র) থেকে বর্ণিতঃ
হাফসা বিন্ত ‘আবদির রহমান ইবনু আবী বাক্র সিদ্দীক (রা)-কে (তার স্বামী মুনজির ইবনু যুবায়র কর্তৃক তাকে তালাক দেওয়ার পর) যখন তিনি তৃতীয় ঋতুতে প্রবেশ করেছিলেন তখন তার স্বামীর গৃহ হতে নিয়ে যাওয়া হয়। ইবনু শিহাব বলেন : ‘আমর বিন্ত আবদির রহমানের নিকট এই ঘটনা উল্লেখ করা হল। তিনি বললেন : উরওয়া ইবনু যুবায়র (রা) কি বলেছেন অনেক লোক এই বিষয়ে আয়িশা (রা)-এর সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছেন। তারা বললেন : আল্লাহ তা’আলা কুরাআনে ইরশাদ করেছেন : তিন কুরূ অর্থাৎ তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীগণ তিন কুরূ (তুহর পর্যন্ত ইদ্দত পালন করবে)। (উত্তরে) আয়িশা (রা) বললেন, আপনারা ঠিকই বলেছেন কিন্তু আকরা-এর অর্থ কি তা আপনারা জানেন কি? আক্রা হচ্ছে তুহর (ঋতুর পরের পবিত্রতা)। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১১৯৩]
হাদিসের মান : অন্যান্য

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّهُ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا بَكْرِ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ يَقُولُ مَا أَدْرَكْتُ أَحَدًا مِنْ فُقَهَائِنَا إِلَّا وَهُوَ يَقُولُ هَذَا يُرِيدُ قَوْلَ عَائِشَةَ.
ইবনু শিহাব (র) থেকে বর্ণিতঃ
আবূ বাক্র ইবনু ‘আবদির রহমান (র)-কে আমি বলতে শুনেছি, আমাদের ফকীহদের প্রত্যেককে ‘আয়িশার উক্তির মতো এই ব্যাপারে কথা বলতে শুনেছি। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১১৯৪]
হাদিসের মান : নির্ণীত নয়

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ وَزَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ أَنَّ الْأَحْوَصَ هَلَكَ بِالشَّامِ حِينَ دَخَلَتْ امْرَأَتُهُ فِي الدَّمِ مِنْ الْحَيْضَةِ الثَّالِثَةِ وَقَدْ كَانَ طَلَّقَهَا فَكَتَبَ مُعَاوِيَةُ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ إِلَى زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ يَسْأَلُهُ عَنْ ذَلِكَ فَكَتَبَ إِلَيْهِ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ إِنَّهَا إِذَا دَخَلَتْ فِي الدَّمِ مِنْ الْحَيْضَةِ الثَّالِثَةِ فَقَدْ بَرِئَتْ مِنْهُ وَبَرِئَ مِنْهَا وَلَا تَرِثُهُ وَلَا يَرِثُهَا.
সুলায়মান ইবনু ইয়াসার (র) থেকে বর্ণিতঃ
আহ্ওয়াস (রা) সিরিয়াতে ইন্তেকাল করলেন। তখন তার স্ত্রী, যাকে তিনি পূর্বে তালাক দিয়েছিলেন, তৃতীয় ঋতুতে প্রবেশ করেছিলেন। মু’আবিয়া ইবনু আবী সুফিয়ান এই বিষয়ে প্রশ্ন করে যায়দ ইবনু সাবিত (রা)-এর কাছে পত্র লিখলেন। যায়দ (রা) (উত্তরে) তার নিকট লিখলেন, স্ত্রী যদি তৃতীয় ঋতুতে প্রবেশ করে তবে সে স্বামী হতে পৃথক হয়ে গিয়েছে। তার স্বামীও তা হতে পৃথক হয়েছে। সে স্বামীর মীরাস পাবে না, তার স্বামীও তার মীরাস পাবে না। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১১৯৫]
হাদিসের মান : অন্যান্য

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ وَسَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللهِ وَأَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَسُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ وَابْنِ شِهَابٍ أَنَّهُمْ كَانُوا يَقُولُونَ إِذَا دَخَلَتْ الْمُطَلَّقَةُ فِي الدَّمِ مِنْ الْحَيْضَةِ الثَّالِثَةِ فَقَدْ بَانَتْ مِنْ زَوْجِهَا وَلَا مِيرَاثَ بَيْنَهُمَا وَلَا رَجْعَةَ لَهُ عَلَيْهَا.
মালিক (র) থেকে বর্ণিতঃ
তার নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ, সালিম ইবনু ‘আবদুল্লাহ, আবূ বাক্র ইবনু আবদির রহমান, সুলায়মান ইবনু ইয়াসার ও ইবনু শিহাব (র) তারা সকলে বলতেন তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীলোকে তৃতীয় ঋতুস্রাবে প্রবেশ করলে সে স্বামী হতে পৃথক হয়ে যাবে। তাদের মধ্যে মীরাস চলবে না, আর স্বামীর জন্য স্ত্রীর দিকে রুজূ’ করা চলবে না। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১১৯৬]
হাদিসের মান : অন্যান্য

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّهُ كَانَ يَقُوْلُ: إِذَا طَلَّقَ الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ فَدَخَلَتْ فِي الدَّمِ مِنْ الْحَيْضَةِ الثَّالِثَةِ فَقَدْ بَرِئَتْ مِنْهُ وَبَرِئَ مِنْهَا قَالَ مَالِك وَهُوَ الْأَمْرُ عِنْدَنَا.
নাফি’ (র) হতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা) থেকে বর্ণিতঃ
কোন ব্যক্তি স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর স্ত্রী তৃতীয় ঋতুস্রাবে প্রবেশ করলে স্বামী হতে পৃথক হয়ে যাবে এবং স্বামী তা হতে পৃথক হয়ে যাবে। স্ত্রী স্বামীর মীরাস পাবে না এবং স্বামীও স্ত্রীর মীরাস পাবে না। মালিক (র) বলেন, আমাদের সিদ্ধান্ত অনুরূপ। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১১৯৭]
হাদিসের মান : অন্যান্য

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ الْفُضَيْلِ بْنِ أَبِي عَبْدِ اللهِ مَوْلَى الْمَهْرِيِّ أَنَّ الْقَاسِمَ بْنَ مُحَمَّدٍ وَسَالِمَ بْنَ عَبْدِ اللهِ كَانَا يَقُولَانِ إِذَا طُلِّقَتْ الْمَرْأَةُ فَدَخَلَتْ فِي الدَّمِ مِنْ الْحَيْضَةِ الثَّالِثَةِ فَقَدْ بَانَتْ مِنْهُ وَحَلَّتْ.
কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ থেকে বর্ণিতঃ
কোন স্ত্রী তালাকপ্রাপ্ত হওয়ার পর তৃতীয় ঋতুস্রাবে প্রবেশ করলে সে স্বামী হতে পৃথক হয়ে যাবে এবং (অন্য স্বামীর পাণি গ্রহণ করার জন্য) হালাল হয়ে যাবে। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১১৯৮]
হাদিসের মান : অন্যান্য

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ وَابْنِ شِهَابٍ وَسُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ أَنَّهُمْ كَانُوا يَقُولُونَ إِنَّ عِدَّةَ الْمُخْتَلِعَةِ ثَلَاثَةُ قُرُوءٍ.
মালিক (র) থেকে বর্ণিতঃ
তার নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, সা’ঈদ ইবনু মুসায়্যিব ইবনু শিহাব ও সুলায়মান ইবনু ইয়াসার (র) এরা সকলে বলতেন, খুলা’ তালাক গ্রহণকারিণীর ইদ্দত হচ্ছে তিন কুরূ (তিন হায়েয)। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১১৯৯]
হাদিসের মান : অন্যান্য

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ شِهَابٍ يَقُوْلُ: عِدَّةُ الْمُطَلَّقَةِ الْأَقْرَاءُ وَإِنْ تَبَاعَدَتْ.
মালিক (র) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি ইবনু শিহাব (র)-কে বলতে শুনেছেন তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীলোকের ইদ্দত হচ্ছে আকরা যদিও উহা অধিক ব্যবধানে হয়। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১২০০]
হাদিসের মান : অন্যান্য

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ رَجُلٍ مِنْ الْأَنْصَارِ أَنَّ امْرَأَتَهُ سَأَلَتْهُ الطَّلَاقَ فَقَالَ لَهَا إِذَا حِضْتِ فَآذِنِينِي فَلَمَّا حَاضَتْ آذَنَتْهُ فَقَالَ إِذَا طَهُرْتِ فَآذِنِينِي فَلَمَّا طَهُرَتْ آذَنَتْهُ فَطَلَّقَهَا قَالَ مَالِك وَهَذَا أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُ فِي ذَلِكَ.
ইয়াহইয়া ইবনু সা’ঈদ (র) থেকে বর্ণিতঃ
সে আনসারীর স্ত্রী তার কাছে তালাক চাইল। তখন স্ত্রীকে বললেন, তোমার ঋতুস্রাব উপস্থিত হলে আমাকে সংবাদ দিও, অতঃপর স্ত্রীর ঋতুস্রাব হলে তাকে খবর দিল। তিনি বললেন : যখন তুমি পবিত্রতা অর্জন কর, তখন সংবাদ দিও। সে পবিত্র হওয়ার পর খবর দিল, তারপর স্বামী তাকে তালাক দিল। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১২০১]
হাদিসের মান : অন্যান্য