
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهَا قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا اعْتَكَفَ يُدْنِي إِلَيَّ رَأْسَهُ فَأُرَجِّلُهُ وَكَانَ لَا يَدْخُلُ الْبَيْتَ إِلَّا لِحَاجَةِ الْإِنْسَانِ.
নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ই’তিকাফে থাকা অবস্থায় তাঁর শির আমার দিকে ঝুঁকিয়ে দিতেন, আমি তাঁর চুল চিরুনি দিয়ে আঁচড়িয়ে দিতাম। আর তিনি হাজতে-ইনসানী (পায়খানা-প্রস্রাবের আবশ্যক) ব্যতীত গৃহে প্রবেশ করতেন না। (বুখারী ২০২৯, মুসলিম ২৯৭) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৬৭৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ عَائِشَةَ كَانَتْ إِذَا اعْتَكَفَتْ لَا تَسْأَلُ عَنْ الْمَرِيضِ إِلَّا وَهِيَ تَمْشِي لَا تَقِفُ ১১১قَالَ مَالِك لَا يَأْتِي الْمُعْتَكِفُ حَاجَتَهُ وَلَا يَخْرُجُ لَهَا وَلَا يُعِينُ أَحَدًا إِلَّا أَنْ يَخْرُجَ لِحَاجَةِ الْإِنْسَانِ وَلَوْ كَانَ خَارِجًا لِحَاجَةِ أَحَدٍ لَكَانَ أَحَقَّ مَا يُخْرَجُ إِلَيْهِ عِيَادَةُ الْمَرِيضِ وَالصَّلَاةُ عَلَى الْجَنَائِزِ وَاتِّبَاعُهَا قَالَ مَالِك لَا يَكُونُ الْمُعْتَكِفُ مُعْتَكِفًا حَتَّى يَجْتَنِبَ مَا يَجْتَنِبُ الْمُعْتَكِفُ مِنْ عِيَادَةِ الْمَرِيضِ وَالصَّلَاةِ عَلَى الْجَنَائِزِ وَدُخُولِ الْبَيْتِ إِلَّا لِحَاجَةِ الْإِنْسَانِ.
‘আমরা বিন্ত আবদুর রহমান (র) থেকে বর্ণিতঃ
আয়েশা (রা) যখন ই’তিকাফ করতেন, তখন তিনি রোগীর অবস্থা জিজ্ঞাসা করতে গমন করতেন না। কিন্তু চলার পথে না দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করে নিতেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)
ইয়াহ্ইয়া (র) বলেন, মালিক (র) বলেছেন, ই’তিকাফকারী কোন প্রয়োজনে মসজিদের বাহিরে যাবে না এবং কোন কারণে বাহিরও হবে না। আর কাউকে সাহায্যও করবে না। কিন্তু যদি হাজতে-ইনসানীর (প্রস্রাব-পায়খানা) জন্য বাহির হয় তা বৈধ হবে। আর যদি কারো আবশ্যকের জন্য বের হওয়া জায়েয হত তবে রোগীর অবস্থা দেখা, জানাযার নামায পড়া ও উহার অনুগমন তার জন্য সর্বাগ্রে বৈধ হত (কিন্তু সেগুলোর জন্যও বের হওয়া নিষেধ)।
ইয়াহ্ইয়া (র) বলেন, মালিক (র) বলেছেন, ই’তিকাফকারী (প্রকৃত) ই’তিকাফকারী হবে না যতক্ষণ যেসব বস্তু হতে তার পরহেয করতে হয় সেসব হতে সে পরহেয না করবে (যথা রোগী দেখতে যাওয়া, জানাযার নামায পড়া, হাজতে-ইনসানী ব্যতীত গৃহে প্রবেশ করা)। [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৬৭৮]
হাদিসের মান : নির্ণীত নয়

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ سَأَلَ ابْنَ شِهَابٍ عَنْ الرَّجُلِ يَعْتَكِفُ هَلْ يَدْخُلُ لِحَاجَتِهِ تَحْتَ سَقْفٍ فَقَالَ نَعَمْ لَا بَأْسَ بِذَلِكَ ১১১৩-قَالَ مَالِك الْأَمْرُ عِنْدَنَا الَّذِي لَا اخْتِلَافَ فِيهِ أَنَّهُ لَا يُكْرَهُ الْاعْتِكَافُ فِي كُلِّ مَسْجِدٍ يُجَمَّعُ فِيهِ وَلَا أُرَاهُ كُرِهَ الْاعْتِكَافُ فِي الْمَسَاجِدِ الَّتِي لَا يُجَمَّعُ فِيهَا إِلَّا كَرَاهِيَةَ أَنْ يَخْرُجَ الْمُعْتَكِفُ مِنْ مَسْجِدِهِ الَّذِي اعْتَكَفَ فِيهِ إِلَى الْجُمُعَةِ أَوْ يَدَعَهَا فَإِنْ كَانَ مَسْجِدًا لَا يُجَمَّعُ فِيهِ الْجُمُعَةُ وَلَا يَجِبُ عَلَى صَاحِبِهِ إِتْيَانُ الْجُمُعَةِ فِي مَسْجِدٍ سِوَاهُ فَإِنِّي لَا أَرَى بَأْسًا بِالْاعْتِكَافِ فِيهِ لِأَنَّ اللهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى قَالَ { وَأَنْتُمْ عَاكِفُونَ فِي الْمَسَاجِدِ } فَعَمَّ اللهُ الْمَسَاجِدَ كُلَّهَا وَلَمْ يَخُصَّ شَيْئًا مِنْهَا ১১১৪-قَالَ مَالِك فَمِنْ هُنَالِكَ جَازَ لَهُ أَنْ يَعْتَكِفَ فِي الْمَسَاجِدِ الَّتِي لَا يُجَمَّعُ فِيهَا الْجُمُعَةُ إِذَا كَانَ لَا يَجِبُ عَلَيْهِ أَنْ يَخْرُجَ مِنْهُ إِلَى الْمَسْجِدِ الَّذِي تُجَمَّعُ فِيهِ الْجُمُعَةُ ১১১৫-قَالَ مَالِك وَلَا يَبِيتُ الْمُعْتَكِفُ إِلَّا فِي الْمَسْجِدِ الَّذِي اعْتَكَفَ فِيهِ إِلَّا أَنْ يَكُونَ خِبَاؤُهُ فِي رَحَبَةٍ مِنْ رِحَابِ الْمَسْجِدِ وَلَمْ أَسْمَعْ أَنَّ الْمُعْتَكِفَ يَضْرِبُ بِنَاءً يَبِيتُ فِيهِ إِلَّا فِي الْمَسْجِدِ أَوْ فِي رَحَبَةٍ مِنْ رِحَابِ الْمَسْجِدِ وَمِمَّا يَدُلُّ عَلَى أَنَّهُ لَا يَبِيتُ إِلَّا فِي الْمَسْجِدِ قَوْلُ عَائِشَةَ كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا اعْتَكَفَ لَا يَدْخُلُ الْبَيْتَ إِلَّا لِحَاجَةِ الْإِنْسَانِ وَلَا يَعْتَكِفُ فَوْقَ ظَهْرِ الْمَسْجِدِ وَلَا فِي الْمَنَارِ يَعْنِي الصَّوْمَعَةَ ১১১৬-و قَالَ مَالِك يَدْخُلُ الْمُعْتَكِفُ الْمَكَانَ الَّذِي يُرِيدُ أَنْ يَعْتَكِفَ فِيهِ قَبْلَ غُرُوبِ الشَّمْسِ مِنْ اللَّيْلَةِ الَّتِي يُرِيدُ أَنْ يَعْتَكِفَ فِيهَا حَتَّى يَسْتَقْبِلَ بِاعْتِكَافِهِ أَوَّلَ اللَّيْلَةِ الَّتِي يُرِيدُ أَنْ يَعْتَكِفَ فِيهَا ১১১৭-وَالْمُعْتَكِفُ مُشْتَغِلٌ بِاعْتِكَافِهِ لَا يَعْرِضُ لِغَيْرِهِ مِمَّا يَشْتَغِلُ بِهِ مِنْ التِّجَارَاتِ أَوْ غَيْرِهَا وَلَا بَأْسَ بِأَنْ يَأْمُرَ الْمُعْتَكِفُ بِضَيْعَتِهِ وَمَصْلَحَةِ أَهْلِهِ وَأَنْ يَأْمُرَ بِبَيْعِ مَالِهِ أَوْ بِشَيْءٍ لَا يَشْغَلُهُ فِي نَفْسِهِ فَلَا بَأْسَ بِذَلِكَ إِذَا كَانَ خَفِيفًا أَنْ يَأْمُرَ بِذَلِكَ مَنْ يَكْفِيهِ إِيَّاهُ ১১১৮- قَالَ مَالِك لَمْ أَسْمَعْ أَحَدًا مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ يَذْكُرُ فِي الْاعْتِكَافِ شَرْطًا وَإِنَّمَا الْاعْتِكَافُ عَمَلٌ مِنْ الْأَعْمَالِ مِثْلُ الصَّلَاةِ وَالصِّيَامِ وَالْحَجِّ وَمَا أَشْبَهَ ذَلِكَ مِنْ الْأَعْمَالِ مَا كَانَ مِنْ ذَلِكَ فَرِيضَةً أَوْ نَافِلَةً فَمَنْ دَخَلَ فِي شَيْءٍ مِنْ ذَلِكَ فَإِنَّمَا يَعْمَلُ بِمَا مَضَى مِنْ السُّنَّةِ وَلَيْسَ لَهُ أَنْ يُحْدِثَ فِي ذَلِكَ غَيْرَ مَا مَضَى عَلَيْهِ الْمُسْلِمُونَ لَا مِنْ شَرْطٍ يَشْتَرِطُهُ وَلَا يَبْتَدِعُهُ وَقَدْ اعْتَكَفَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَرَفَ الْمُسْلِمُونَ سُنَّةَ الْاعْتِكَافِ، ১১১৯-قَالَ مَالِك وَالْاعْتِكَافُ وَالْجِوَارُ سَوَاءٌ وَالْاعْتِكَافُ لِلْقَرَوِيِّ وَالْبَدَوِيِّ سَوَاءٌ.
মালিক (র) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি ইবনু শিহাব (র)-কে প্রশ্ন করলেন, এক ব্যক্তি সম্পর্কে যে ই’তিকাফ করতেছে, সে কি তার প্রস্রাব-পায়খানার প্রয়োজনে (গৃহের) ছাদের নিচে প্রবেশ করতে পারবে ? তিনি বললেন, হ্যাঁ, এতে কোন ক্ষতি নেই। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)
ইয়াহ্ইয়া (র) বলেন, মালিক (র) বলেছেন, আমাদের নিকট যাতে কোন ইখতিলাফ নেই তা এই যে, যে সকল মসজিদে জুম’আর নামায পড়া হয়, সেই সকল মসজিদে ই’তিকাফ করা মাকরূহ নয়। আর আমি মনে করি না যে, যে সকল মসজিদে জুম’আর নামায পড়া হয় না, সে সকল মসজিদে ই’তিকাফকে তিনি (মালিক র.) মাকরূহ বলেছেন। ব্যাপার হল এই যে, ই’তিকাফকারী যে মসজিদে ই’তিকাফ করতেছে উহা হতে বের হবে অথবা জুম’আ ছেড়ে দিবে, সে জন্য তিনি মাকরূহ বলেছেন। তাঁর মতে, যদি এরূপ মসজিদ হয় যাতে জুম’আ পড়া হয় না এবং ই’তিকাফকারীর উপর সেই মসজিদ ছাড়া অন্য কোন মসজিদে জুম’আতে যাওয়া ওয়াজিব না হয় তবে সেই মসজিদে ই’তিকাফ করতে কোন দোষ নেই। কারণ আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেছেন, [১] وَأَنْتُمْ عَاكِفُونَ فِي الْمَسَاجِدِ এতে সাধারণভাবে সকল মসজিদকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে এবং কোন মসজিদকে আল্লাহ্ নির্দিষ্ট করে দেননি।
মালিক (র) বলেন, এজন্যই ই’তিকাফকারীর পক্ষে জুম’আ অনুষ্ঠিত হয় না সেইরূপ মসজিদে ই’তিকাফ করা জায়েয হবে, যদি মসজিদ হতে বের হয়ে জুম’আ মসজিদে যাওয়া তার উপর ওয়াজিব না হয়।
মালিক (র) বলেন, যে মসজিদে ই’তিকাফ করেছে (ই’তিকাফকারী) সেই মসজিদেই রাত্রি যাপন করবে, তবে যদি তাঁর তাঁবু মসজিদের চত্বরের কোন চত্বরে হয়।
মালিক (র) বলেন, আমি শুনি নাই, ই’তিকাফকারী রাত্রি যাপন করার জন্য কোন কিছু নির্মাণ করবে কিন্তু তার রাত্রি যাপন হবে মসজিদে অথবা মসজিদের চত্বরে। মসজিদ ব্যতীত অন্যত্র রাত্রি যাপন সে করবে না, এর প্রমাণ হল আয়েশা (রা)-এর উক্তি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন ই’তিকাফ করতেন তখন হাজতে-ইনসানী ছাড়া গৃহে প্রবেশ করতেন না।
মালিক (র) বলেন, কেউ মসজিদের ছাদের উপর ই’তিকাফ করবে না এবং সাওমাআতেও (মিনার) না।
মালিক (র) বলেন, ই’তিকাফকারী যেই রাত্রে ই’তিকাফের ইচ্ছা করেছে, সেই রাত্রের সূর্যাস্তের পূর্বে ই’তিকাফের স্থানে প্রবেশ করবে যাতে যে রাত্রে ই’তিকাফ করবে, সে রাত্রের প্রথম অংশকে সে ই’তিকাফ দ্বারা মুবারকবাদ জানাতে পারে।
মালিক (র) বলেন, ই’তিকাফকারী নিজের ই’তিকাফে মশগুল থাকবে ই’তিকাফ ভিন্ন তিজারত বা অন্যকিছুর দিকে যে সবের প্রতি মশগুল হওয়া যায় সেদিকে মনোযোগী হবে না। ই’তিকাফকারীর পক্ষে তার কোন আসবাব অথবা পরিবারের উপকারী ও উপযোগী কোন কাজ, তার মাল বিক্রয় অথবা অন্য কোন কাজ যা তাকে ব্যতিব্যস্ত করে না (এই জাতীয়) নিজের কোন আবশ্যকে নির্দেশ দেয়াতে কোন ক্ষতি নেই। এতে কোন দোষ নেই, যদি তিনি ছোটখাট কাজের জন্য কোন ব্যক্তিকে সেই কার্য সমাধা করতে নির্দেশ দেন।
মালিক (র) বলেন, কোন আহলে ইলম কর্তৃক ই’তিকাফে কোন শর্ত আরোপ করতে আমি শুনিনি। ই’তিকাফ অন্যান্য আমলের মত একটি আমল; যথা নামায, রোযা, হজ্জ এবং অন্যান্য যা এ সকল আমলের অনুরূপ এবং যা উহাদের মধ্যে ফরয অথবা নফল। (শরীয়তের) এই সকল আমলের মত ই’তিকাফও একটি আমল। যে ব্যক্তি এর কোন আমলে প্রবেশ করবে, সে প্রতিষ্ঠিত সুন্নত মুতাবিক আমল করবে। মুসলমানগণ যে তরীকায় চলেছেন সে তরীকা ছাড়া এতে নূতন কোন পন্থা আবিষ্কার করার অধিকার তার নেই। না কোন শর্ত আরোপ করবে, না কোন বিদ’আত সৃষ্টি করবে। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ই’তিকাফ করেছেন, উহা হতে মুসলমানরা ই’তিকাফের সুন্নত অবগত হয়েছেন।
ইয়াহ্ইয়া (রা) বলেন, মালিক (র) বলেছেন, ই’তিকাফ এবং মসজিদে অবস্থান এক সমান। আর গ্রাম ও শহরের লোকের ই’তিকাফ এক সমান (আহকামের ব্যাপারে)। [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৬৭৯]
[[১] ‘তোমরা মসজিদে ই’তিকাফরত অবস্থায় তাদের সাথে (স্ত্রী) মিলিত হইও না। ২ ঃ ১৮৭]
হাদিসের মান : নির্ণীত নয়