
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُصَلِّي قَبْلَ الظُّهْرِ رَكْعَتَيْنِ وَبَعْدَهَا رَكْعَتَيْنِ وَبَعْدَ الْمَغْرِبِ رَكْعَتَيْنِ فِي بَيْتِهِ وَبَعْدَ صَلَاةِ الْعِشَاءِ رَكْعَتَيْنِ وَكَانَ لَا يُصَلِّي بَعْدَ الْجُمُعَةِ حَتَّى يَنْصَرِفَ فَيَرْكَعَ رَكْعَتَيْنِ.
ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ গৃহে নামায আদায় করতেন, যোহরের পূর্বে দু’রাক’আত ও পরে দু’রাক’আত এবং মাগরিবের পর দু’রাক’আত। আর ইশার পর আদায় করতেন দু’রাক’আত। আর জুমআর পর তিনি ঘরে ফিরে না আসা পর্যন্ত নামায আদায় করতেন না। (ঘরে ফিরলে) অতঃপর দু’রাক’আত আদায় করতেন। (বুখারী ৯৩৭, মুসলিম ৮৮২) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৩৮৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَتَرَوْنَ قِبْلَتِي هَاهُنَا فَوَاللهِ مَا يَخْفَى عَلَيَّ خُشُوعُكُمْ وَلَا رُكُوعُكُمْ إِنِّي لَأَرَاكُمْ مِنْ وَرَاءِ ظَهْرِي.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা কি ধারণা কর যে, আমার কিবলা শুধু এই স্থানেই (আমি শুধু সামনের দিকেই দেখি, যেদিকে আমার কিবলা) ? আল্লাহর কসম, তোমাদের একাগ্রতা ও মনোযোগ এবং তোমাদের রুকূ (কোনটাই) আমার কাছে গোপন নয়। অবশ্যই আমি আমার পশ্চাৎ দিক হতেও তোমাদেরকে দেখি। (বুখারী ৪১৮, মুসলিম ৪২৪) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৩৮৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَأْتِي قُبَاءَ رَاكِبًا وَمَاشِيًا.
আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পদব্রজে এবং সওয়ার হয়ে কুবা’তে তশরীফ আনতেন। (বুখারী ১১৯৪, মুসলিম ১৩৯৯) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৩৮৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ النُّعْمَانِ بْنِ مُرَّةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا تَرَوْنَ فِي الشَّارِبِ وَالسَّارِقِ وَالزَّانِي وَذَلِكَ قَبْلَ أَنْ يُنْزَلَ فِيهِمْ قَالُوا اللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ هُنَّ فَوَاحِشُ وَفِيهِنَّ عُقُوبَةٌ وَأَسْوَأُ السَّرِقَةِ الَّذِي يَسْرِقُ صَلَاتَهُ قَالُوا وَكَيْفَ يَسْرِقُ صَلَاتَهُ يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ لَا يُتِمُّ رُكُوعَهَا وَلَا سُجُودَهَا.
নু’মান ইবনু মুররা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, শারাবী, চোর এবং ব্যভিচারী সম্পর্কে তোমাদের কি মত ? আর এই প্রশ্ন করা হয় এদের সম্পর্কে কোন হুকুম অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে। তাঁরা উত্তর দিলেন, আল্লাহ ও তাঁর রসূল অধিক জ্ঞাত। রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরমালেন এটা ঘৃণা ও জঘন্য পাপ কাজ, এই সবের সাজা রয়েছে। আর যে ব্যক্তি নিজের নামায চুরি করে, সে চুরি হচ্ছে সর্বাপেক্ষা বড় চুরি। তাঁরা (সাহাবীগণ) বললেন, ইয়া রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপন নামায চুরি করে কিভাবে ? তিনি বললেন, সে নামাযের রুকূ এবং সিজদা পূর্ণভাবে আদায় করে না। (আবূ হুরায়রা ও আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে সনদ সহ বর্ণনা করেছেন) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৩৮৯]
হাদিসের মান : অন্যান্য

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اجْعَلُوا مِنْ صَلَاتِكُمْ فِي بُيُوتِكُمْ.
উরওয়াহ ইবনুশ যুবায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কিছু নামায ঘরে আদায় করো। (বুখারী ৪৩২, ইমাম মুসলিম ইবনু ওমর থেকে বর্ণনা করেন মুসলিম ৭৭৭, তবে ইমাম মালিক (রঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি মুরসাল) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৩৯০]
হাদিসের মান : অন্যান্য

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ كَانَ يَقُولُ، إِذَا لَمْ يَسْتَطِعْ الْمَرِيضُ السُّجُودَ أَوْمَأَ بِرَأْسِهِ إِيمَاءً وَلَمْ يَرْفَعْ إِلَى جَبْهَتِهِ شَيْئًا.
নাফি’ (র) থেকে বর্ণিতঃ
রুগ্ন ব্যক্তি সিজদা করতে না পারলে মাথা দ্বারা শুধু ইশারা করবে, আর কপালের দিকে কোন বস্তু উত্তোলন করবে না। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৩৯১]
হাদিসের মান : অন্যান্য

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ كَانَ إِذَا جَاءَ الْمَسْجِدَ وَقَدْ صَلَّى النَّاسُ بَدَأَ بِصَلَاةِ الْمَكْتُوبَةِ وَلَمْ يُصَلِّ قَبْلَهَا شَيْئًا.
রবী’আ ইবনু আবূ আবদুর রহমান (র) থেকে বর্ণিতঃ
লোকজন নামায সমাপ্ত করেন, এই অবস্থায় আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) মসজিদে পৌঁছালে তিনি ফরয নামায আদায় আরম্ভ করতেন এবং উহার পূর্বে অন্য কোন নামায আদায় করতেন না। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৩৯২]
হাদিসের মান : অন্যান্য

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ مَرَّ عَلَى رَجُلٍ وَهُوَ يُصَلِّي فَسَلَّمَ عَلَيْهِ فَرَدَّ الرَّجُلُ كَلَامًا فَرَجَعَ إِلَيْهِ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ فَقَالَ لَهُ إِذَا سُلِّمَ عَلَى أَحَدِكُمْ وَهُوَ يُصَلِّي فَلَا يَتَكَلَّمْ وَلْيُشِرْ بِيَدِهِ.
নাফি’ (র) থেকে বর্ণিতঃ
আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) একবার এক ব্যক্তির নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। সে ব্যক্তি নামায আদায় করছিলো। তিনি সে ব্যক্তিকে সালাম করলেন। সে ব্যক্তি وَعَلَيْكُمُ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللهِ বাক্য দ্বারা সালামের উত্তর দিলেন। আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) তাঁর কাছে ফিরে এসে বললেন, নামাযরত অবস্থায় যদি তোমাদের কাউকেও সালাম করা হয়, তবে সে সালাম করবে না বরং হাতের ইশারায় উত্তর দেবে। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৩৯৩]
হাদিসের মান : অন্যান্য

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ كَانَ يَقُولُ، مَنْ نَسِيَ صَلَاةً فَلَمْ يَذْكُرْهَا إِلَّا وَهُوَ مَعَ الْإِمَامِ فَإِذَا سَلَّمَ الْإِمَامُ فَلْيُصَلِّ الصَّلَاةَ الَّتِي نَسِيَ ثُمَّ لِيُصَلِّ بَعْدَهَا الْأُخْرَى.
নাফি’ (র) থেকে বর্ণিতঃ
আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) বলতেন, যে ব্যক্তি কোন নামায ভুলে যায়, তারপর সে নামাযের কথা আর স্মরণ হয়নি, কিন্তু স্মরণ হয়েছে এমন সময় যখন ইমামের সাথে, তবে ইমাম সালাম ফিরালে পর সে (প্রথমে) যে নামায ভুলেছে তা আদায় করে নিবে, তারপর অন্য নামায (যা ইমামের সাথে আদায় করেছিলো) আদায় করবে। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৩৯৪]
হাদিসের মান : অন্যান্য

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ عَنْ عَمِّهِ وَاسِعِ بْنِ حَبَّانَ أَنَّهُ قَالَ، كُنْتُ أُصَلِّي وَعَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ مُسْنِدٌ ظَهْرَهُ إِلَى جِدَارِ الْقِبْلَةِ فَلَمَّا قَضَيْتُ صَلَاتِي انْصَرَفْتُ إِلَيْهِ مِنْ قِبَلِ شِقِّي الْأَيْسَرِ فَقَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ مَا مَنَعَكَ أَنْ تَنْصَرِفَ عَنْ يَمِينِكَ قَالَ فَقُلْتُ رَأَيْتُكَ فَانْصَرَفْتُ إِلَيْكَ قَالَ عَبْدُ اللهِ فَإِنَّكَ قَدْ أَصَبْتَ إِنَّ قَائِلًا يَقُولُ انْصَرِفْ عَنْ يَمِينِكَ فَإِذَا كُنْتَ تُصَلِّي فَانْصَرِفْ حَيْثُ شِئْتَ إِنْ شِئْتَ عَنْ يَمِينِكَ وَإِنْ شِئْتَ عَنْ يَسَارِكَ.
ওয়াসি’ ইবনু হাব্বান (র) থেকে বর্ণিতঃ
আমি নামায আদায় করতেছিলাম, তখন আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) কিবলার প্রাচীরের সাথে পিঠ লাগিয়ে বসে ছিলেন। আমি নামায সমাপ্ত করার পর তাঁর কাছে গেলাম, আমার বাম দিকে ফিরে। আবদুল্লাহ ইবনু উমার (র) বললেন, তোমাকে ডানদিক হয়ে ফিরতে কিসে বাধা দিল? ওয়াসি’ (র) উত্তরে বললেন, আমি আপনাকে আমার বাম দিকে বসা দেখে আপনার দিকে ফিরলাম। আবদুল্লাহ (রাঃ) বললেন, তুমি ঠিক করেছ। হয়ত এক ব্যক্তি বলবে তুমি ডান দিক হয়ে ফির। অতঃপর তুমি যখন নামায আদায় কর, যেদিক দিয়ে তোমার ইচ্ছা হয় সেদিক দিয়ে ফিরো, ডানদিক দিয়ে হোক বা বামদিক দিয়ে। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৩৯৫]
হাদিসের মান : অন্যান্য

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ رَجُلٍ مِنْ الْمُهَاجِرِينَ لَمْ يَرَ بِهِ بَأْسًا أَنَّهُ سَأَلَ عَبْدَ اللهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ أَأُصَلِّي فِي عَطَنِ الْإِبِلِ فَقَالَ عَبْدُ اللهِ لَا وَلَكِنْ صَلِّ فِي مُرَاحِ الْغَنَمِ.
জনৈক মুহাজির আবদুল্লাহ ইবনু আমার ইবনু আস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
এর নিকট প্রশ্ন করলেন, উটের বিশ্রামগারে (যা সাধারণত পানির কাছে হয়) নামায আদায় করতে পারি কি ? তিনি বললেন, না, তবে ছাগলের বসার স্থানে নামায আদায় করতে পার। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন) [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৩৯৬]
হাদিসের মান : অন্যান্য

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّهُ قَالَ مَا صَلَاةٌ يُجْلَسُ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ مِنْهَا ثُمَّ قَالَ سَعِيدٌ هِيَ الْمَغْرِبُ إِذَا فَاتَتْكَ مِنْهَا رَكْعَةٌ وَكَذَلِكَ سُنَّةُ الصَّلَاةِ كُلُّهَا.
ইবনু শিহাব (র) থেকে বর্ণিতঃ
সাঈদ ইবনু মুসায়্যাব (র) বলেছেন, কোন নামায এরূপ যার প্রতি রাক’আতে বসতে হয় ? অতঃপর (উত্তরে) সাঈদ বললেন, সেটা মাগরিবের নামায, যখন তোমার উহা হতে এক রাক’আত ছুটে যায় অর্থাৎ ইমামের সাথে এক রাক’আত না পেল তাকে সে রাক’আত আদায় করতে হবে, তখন প্রতি রাক’আতেই বসতে হয়। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)
মালিক (র) বলেন, সব নামাযেই এরূপ নিয়ম। [মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৩৯৭]
হাদিসের মান : অন্যান্য