
(صحيح) عَنْ عِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قال: وَعَظَناَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَوْعِظَةً وَجِلَتْ مِنْهَا الْقُلُوبُ وَ ذَرَفَتْ مِنْهَا الْعُيُونُ فَقُلْناَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ كَأَنَّهَا مَوْعِظَةُ مُوَدِّعٍ فَأَوْصِنَا، قَالَ: أُوصِيكُمْ بِتَقْوَى اللَّهِ وَالسَّمْعِ وَالطَّاعَةِ وَإِنْ تَأَمَّرَ عَلَيْكُمْ عَبْدٌ، وَإِنَّهُ مَنْ يَعِشْ مِنْكُمْ بَعْدِي فَسَيَرَى اخْتِلَافًا كَثِيرًا فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسَنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ عَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ، وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُورِ فَإِنَّ كُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ . رواه أبو داود والترمذي وابن ماجه وابن حبان في صحيحه وقال الترمذي حديث حسن صحيح
এরবায বিন সারিয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ একবার রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদেরকে এমন ওয়ায করলেন যে, তাতে অন্তর সমূহ ভীত-সন্ত্রস্ত হল, চক্ষুগুলো অশ্রুসিক্ত হল। আমরা আরয করলামঃ হে আল্লাহর রাসূল! মনে হচ্ছে এটি বিদায়ী নসীহত, তাই আমাদেরকে কিছু উপদেশ দিন। তিনি বললেনঃ “আমি তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছি তাক্বওয়া তথা আল্লাহ ভীতির এবং নেতার কথা শোনা ও তার আনুগত্য করার- যদিও একজন কৃতদাস তোমাদের নেতৃত্ব দেয়। নিঃসন্দেহে তাোমাদের মধ্যে থেকে যে আমার পর জীবিত থাকবে অচিরেই সে অনেক মতভেদ দেখতে পাবে। (সে সময়) তোমাদের উপর আবশ্যক হল আমার সুন্নাত ও সুপথপ্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশেদার সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরা। তোমরা উহা মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকবে। দ্বীনের মাঝে নতুনত্ব থেকে তোমরা সাবধান। কেননা প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা।”
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন আবূ দাউদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ ও ইবনু হিব্বান। তিরমিযী বলেনঃ হাদীছটি হাসান সহীহ।)
‘তোমরা উহা মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকবে। একথার অর্থঃ সুন্নাতকে তোমরা আঁকড়ে ধরে থাকবে, তা নিয়ে গবেষণা করবে, তার প্রতি সর্বদা আমল করবে, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকবে- যেমন করে হারিয়ে বা নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে কোন ব্যক্তি কোন জিনিসকে দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকে। [সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব : ৩৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

عن أبي شريح الخزاعي قال خرج علينا رسول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فقال: أَلَيْسَ تَشْهَدُونَ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ ، وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ ؟ قالوا بلى : نَعَمْ ، قَالَ :إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ طَرَفُهُ بِيَدِ اللَّهِ ، وَطَرَفُهُ بِأَيْدِيكُمْ ، فَتَمَسَّكُوا بِهِ ، فإنكم لن تضلوا وَلن تُهْلَكُوا بَعْدَهُ أَبَدًا. (رواه الطبراني في الكبير بإسناد جيد)
আবু শুরাইহ আল খুযায়ী থেকে বর্ণিতঃ
একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের নিকট এসে বললেনঃ “তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ কর! তোমরা কি একথার সাক্ষ্য দাও না যে, “আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নেই, এবং আমি আল্লাহর রাসূল?” তাঁরা বললেনঃ অবশ্যই। তিনি বললেনঃ “নিশ্চয় এ কুরআনের এক দিক আল্লাহর হাতে রয়েছে এবং আর এক দিক তোমাদের হাতে রয়েছে। তোমরা উহা আঁকড়ে ধরে থাক। তাহলে এরপর তোমরা কখনই বিভ্রান্ত বা ধ্বংস হবে না।”
(উত্তম সনদে ত্বাবরানী {কাবীর} গ্রন্থে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন। শায়খ আলবানী বলেনঃ হাদীছটি সহীহ সনদে আরো বর্ণনা করেন, ইবনু হিব্বান স্বীয় {সাহীহ} গ্রন্থে এবং ইবনু নছর {ক্লিয়ামুল লাইল} গ্রন্থে) [সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব : ৩৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

(صحيح لغيره) وروي عَنْ مُحَمَّدِ بن جُبَيْرِ بن مُطْعِمٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، قَالَ : كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، بِالْجُحْفَةِ فَقَالَ: أَلَيْسَ تَشْهَدُونَ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وحده لا شريك له، وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ ، وَأَنَّ الْقُرْآنَ جَاءَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ ؟ قُلْنَا : نَعَمْ ، قَالَ: فَأَبْشِرُوا فَإِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ طَرَفُهُ بِيَدِ اللَّهِ ، وَطَرَفُهُ بِأَيْدِيكُمْ ، فَتَمَسَّكُوا بِهِ، فإنكم لن تُهْلَكُوا ولن تضلوا بَعْدَهُ أَبَدًا. رواه البزار والطبراني في الكبير والصغير
জুবাইর বিন মুতইম (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমরা ‘জুহফা’ নামক স্থানে একদা নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম)এর সাথে ছিলাম। তখন তিনি বললেনঃ “তোমরা কি সাক্ষ্য দাও না যে, আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোন উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল, আর কুরআন আল্লাহর নিকট থেকে এসেছে?”
আমরা বললাম, হ্যা।
তিনি বললেনঃ “অতএব তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো, এই কুরআনের একাংশ আল্লাহর হাতে, আরেকাংশ তোমাদের হাতে। তোমরা উহাকে আঁকড়ে ধর। তাহলে তোমরা তার পরে (কুরআন আঁকড়ে ধরার পরে) কখনই ধ্বংস হবে না, কখনই বিভ্রান্ত হবে না।”
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন বাযযার ও ত্বাবরানী কবীর ও আওসাত গ্রন্থে) [সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব : ৩৯]
হাদিসের মান : সহিহ লিগাইরিহি

(صحيح) عن ابن عباس أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَطَبَ الناَّسَ فِيْ حَجَّةِ الْوَدَاعِ فقالَ إنَّ الشيطانَ قَدْ يَئِسَ أنْ يُعْبَدَ بِأرْضِكُمْ ولكِنْ رَضِيَ أنْ يُطاَعَ فِيْماَ سِوَى ذلِكَ مِمَّا تَحَاقَرُوْنَ مِنْ أعْماَلِكُمْ فَاحْذَرُوْا إنِّيْ قَدْ تَرَكْتُ فِيْكُمْ ماَ إنِ اعْتَصَمْتُمْ بِهِ فَلَنْ تُضِلُّوْا أبداً كِتاَبَ اللهِ وسُنَّةَ نَبِيِّهِ. (رواه الحاكم وقال صحيح الإسناد)
ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিদায় হজ্জে মানুষের সামনে এ খুতবা প্রদান করেন, তিনি বলেনঃ “নিশ্চয় শয়তান এ মর্মে নিরাশ হয়ে গেছে যে, তোমাদের এ যমীনে কেউ তার দাসত্ব করবে না। কিন্তু তারপরও সে একথার উপরই সন্তুষ্ট যে, তোমাদের ছোটখাট তুচ্ছ বিষয়ে তার আনুগত্য করা হবে। সুতরাং তোমরা সাবধান থেকো। নিশ্চয় আমি তোমাদের মাঝে এমন বস্তু ছেড়ে যাচ্ছি- তোমরা যদি উহা আঁকড়ে ধরে থাক তবে কখনই পথভ্রষ্ট হবে না। আর তা হল আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর সুন্নাত।”
(হাদীছটি হাকেম বর্ণনা করে বলেনঃ সনদ সহীহ) [সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব : ৪০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

(صحيح موقوف) عن ابن مسعود رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قاَلَ الاقْتِصَاُد فِيْ السُّنَّةِ أحْسَنُ مِنْ الْاجْتِهاَدِ فِيْ الْبِدْعَةِ. رواه الحاكم موقوفا وقال إسناده صحيح على شرطهما
আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ “বিদআত নিয়ে গবেষণা করার চেয়ে সুন্নাতকে যথেষ্ট মনে করা অনেক উত্তম।”
(হাকেম মওকুফ সূত্রে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, এর সনদ বুখারী ও মুসলিমের শর্তনুযায়ী সহীহ) [সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব : ৪১]
হাদিসের মান : সহিহ মাওকুফ

( صحيح) عن أبي أيوب الأنصاري قَالَ: خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ مَرْعُوبٌ، فَقَالَ:`أَطِيعُونِي مَا كُنْتُ بَيْنَ أَظْهُرِكُمْ، وَعَلَيْكُمْ بِكتاب اللَّهِ، أَحِلُّوا حَلالَهُ وَحَرِّمُوا حَرَامَهُ`. (رواه الطبراني في الكبير)
আবু আইয়ূব আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি আওফ বিন মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদা আমাদের নিকট ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় বের হয়ে এসে বললেনঃ “তোমাদের মাঝে আমি যতক্ষণ আছি, তোমরা আমার আনুগত্য কর। তোমরা আল্লাহর কিতাব আকড়ে ধর। তার মধ্যে হালাল ঘোষিত বিষয়কে হালাল গণ্য কর ও হারাম বিষয়কে হারাম গণ্য কর।”
(ত্বাবরানী স্বীয় কাবীর গ্রন্থে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন) [সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব : ৪২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিতঃ
মাওকূফ সূত্রে যে হাদীছটি (যঈফ তারগীব গ্রন্থে) উল্লেখ হয়েছে তা উত্তম সনদে জাবের থেকে মারফু' সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। [১] [সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব : ৪৩]
[[১] হাদীছটি কুরআনের ফয়ীলত অধ্যায়ে ‘কুরআন পাঠ করার প্রতি উদ্ধৃদ্ধ করণ’ অধ্যায়ে আসবে। ইনশাআল্লাহ।]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

(صحيح) عَنْ عَابِسِ بْنِ رَبِيعَةَ قَالَ رَأَيْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ يُقَبِّلُ لْحَجَرَ يعني الأسود ويقولُ: إِنِّي أَعْلَمُ أَنَّكَ حَجَرٌ لَا تَنْفَعُ وَلَا تَضُرُّ وَلَوْلَا أَنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُقَبِّلُكَ مَا قَبَّلْتُكَ (رواه البخاري ومسلم وأبو داود والترمذي والنسائي)
আবেস বিন রাবীআহ থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ আমি দেখেছি ওমর বিন খাত্তাব (রাঃ) হজরে আসওয়াদকে চুম্বন করছেন আর বলছেনঃ “আমি জানি নিঃসন্দেহে তুমি একটি পাথর। কোন অপকার করতে পারনা, কোন উপকারও করতে ক্ষমতা রাখ না। তোমায় চুম্বন করতে আমি যদি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম)কে না দেখতাম তবে তোমাকে চুম্বন করতাম না।”
(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিয়ী ও নাসাঈ। হাদীছটি বর্ণনা করেছেন) [সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব : ৪৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

(صحيح) عن عروة بن عبد الله بن قشير قال حدثني معاوية بن قرة عن أبيه قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي رَهْطٍ مِنْ مُزَيْنَةَ فَبَايَعْنَاهُ وَإِنَّ قَمِيصَهُ لَمُطْلَقُ الْأَزْرَارِ قَالَ فأَدْخَلْتُ يَدَيَّ فِي جَيْبِ قَمِيصِهِ فَمَسِسْتُ الْخَاتَمَ قَالَ عُرْوَةُ فَمَا رَأَيْتُ مُعَاوِيَةَ وَلَا ابْنَهُ قَطُّ في شتاء ولا صيف إِلَّا مُطْلِقَيْ الأَزْرَارِ * (رواه ابن ماجه وابن حبان في صحيحه واللفظ له وقال ابن ماجه إلا مطلقة أزرارهما)
ওরওয়া বিন আবদুল্লাহ বিন কুশায়র থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ মুআবিয়া বিন কুররা তার পিতার বরাতে হাদীছ বর্ণনা করেন। মুআবিয়ার পিতা কুররা বলেনঃ মুযায়না থেকে আগত একটি দলের সাথে আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম)এর দরবারে এলাম। আমরা তার হাতে বায়আত করলাম। সে সময় তাঁর জামার খোলা গলাবন্দ দিয়ে হাত ঢুকিয়ে দিলাম অতঃপর তাঁর (পৃষ্ঠদেশে অবস্থিত) মোহরে নবুয়ত স্পর্শ করলাম। ওরাওয়া বলেনঃ এর পর থেকে শীতকাল বা গ্রীষ্মকালে মুআবিয়া বা তার পুত্রকে তাদের জামার গলাবন্দ খোলা ছাড়া অন্য কোন অবস্থায় দেখিনি।
(ইবনু মাজাহ ও ইবনু হিব্বান হাদীছটি বর্ণনা করেছেন।) [সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব : ৪৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

(صحيح) عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ كُنَّا مَعَ ابْنِ عُمَرَ فِي سَفَرٍ فَمَرَّ بِمَكَانٍ فَحَادَ عَنْهُ فَسُئِلَ لِمَ فَعَلْتَ فَقَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَعَلَ هَذَا فَفَعَلْتُ (رواه أحمد والبزار بإسناد جيد)
মুজাহিদ (রঃ) থেকে বর্ণিতঃ
একদা কোন এক সফরে আমরা ইবনে ওমার (রাঃ) (আল্লাহ তার উপর রহম করুন) এর সাথে ছিলাম। তিনি এক জায়গা দিয়ে যাচ্ছিলেন। সে সময় তিনি একটু সরে গিয়ে ডান দিক বা বাম দিক দিয়ে গেলেন। জিজ্ঞেস করা হল, কেন আপনি এরূপ করলেন? তিনি বললেনঃ আমি দেখেছি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে এরূপ করতে, তাই আমি এরূপ করলাম।
(আহমদ ও বাযযার উত্তম সনদে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন) [সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব : ৪৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

(حسن) عن ابن عمر رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أنه كان يأتي شجرة بين مكة والمدينة فيقيل تحتها ويخبر أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كان يفعل ذلك (رواه البزار بإسناد لا بأس به)
ইবনে ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
মক্কা এবং মদীনার মাঝে অবস্থিত একটি বৃক্ষের নিকট যখন তিনি আসতেন তখন তার নীচে শুয়ে বিশ্রাম করতেন। তিনি বলতেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এরূপ করতেন।
(বাযযার হাদীছটি বর্ণনা করেছেন) [সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব : ৪৭]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

(صحيح) عَنْ أَنَسِ بْنِ سِيرِينَ قَالَ كُنْتُ مَعَ ابْنِ عُمَرَ بِعَرَفَاتٍ فَلَمَّا كَانَ حِينَ رَاحَ رُحْتُ مَعَهُ حَتَّى أَتَى الْإِمَامَ فَصَلَّى مَعَهُ الْأُولَى وَالْعَصْرَ ثُمَّ وَقَفَ مَعَهُ وَأَنَا وَأَصْحَابٌ لِي حَتَّى أَفَاضَ الْإِمَامُ فَأَفَضْنَا مَعَهُ حَتَّى انْتَهَيْنَا إِلَى الْمَضِيقِ دُونَ الْمَأْزِمَيْنِ فَأَنَاخَ وَأَنَخْنَا وَنَحْنُ نَحْسَبُ أَنَّهُ يُرِيدُ أَنْ يُصَلِّيَ فَقَالَ غُلَامُهُ الَّذِي يُمْسِكُ رَاحِلَتَهُ إِنَّهُ لَيْسَ يُرِيدُ الصَّلَاةَ وَلَكِنَّهُ ذَكَرَ أنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا انْتَهَى إِلَى هَذَا الْمَكَانِ قَضَى حَاجَتَهُ فَهُوَ يُحِبُّ أَنْ يَقْضِيَ حَاجَتَهُ * (رواه أحمد ورواته محتج بهم في الصحيح)
আনাস বিন সীরীন থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ আমি একবার আরাফাতের ময়দানে ইবনে ওমার (আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন) এর সাথে ছিলাম। যখন তিনি (আরাফাতের উদ্দেশ্যে) গমন করলেন আমিও তার সাথে গমন করলাম। ইমাম এলে তাঁর সাথে তিনি যোহর ও আসরের নামায (একসাথে কসর করে যোহরের সময়েই) আদায় করলেন। অতঃপর তিনি, আমি এবং আমার কতিপয় সাথী আরাফাতে অবস্থান নিলাম। ইমাম যখন আরাফাত ত্যাগ করে মুযদালিফার উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন আমরাও তার সাথে যাত্রা করলাম। ‘মাযেমায়ন' নামক স্থানের পূর্বে এক গিরী পথে পৌঁছে তিনি উট থামালেন ও অবতরণ করলেন। আমরাও উট থামালাম। আমরা ভাবলাম তিনি হয়ত সালাত আদায় করবেন। কিন্তু তার বাহনের রশি ধারণকারী ক্রীতদাস বললেনঃ তিনি এখানে কোন সালাতের ইচ্ছা করেন নি; বরং তিনি স্মরণ করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ স্থানে এসে স্বীয় প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণ করেছেন। তাই তিনিও পছন্দ করলেন এ স্থানে প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণ করবেন।
(ইমাম আহমাদ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
হাফেয মুনযেরী (রহঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)এর অনুসরণ ও তাঁর সুন্নাতের অনুকরণের ব্যাপারে সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) থেকে অনেক বেশী আছার বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহই তওফীকদাতা। তিনি ছাড়া সত্য কোন রব নেই। [সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব : ৪৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস