(৫১২) বিবিধ প্রসঙ্গ [হাদিসের সীমা (১৪৩৭-১৫৬৮), সর্বমোট হাদিসঃ ১৩১টি]

অধ্যায়ঃ (৫) : [মোট হাদিসঃ ১৯টি] [অবশিষ্ট হাদিসঃ ৫০টি]


উত্তম চরিত্রের প্রতি উৎসাহ প্রদান




39829 OK

(১৫১৯)

সহিহ হাদিস

عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم -: «عَلَيْكُمْ بِالصِّدْقِ، فَإِنَّ الصِّدْقَ يَهْدِي إِلَى الْبِرِّ، وَإِنَّ الْبِرَّ يَهْدِي إِلَى الْجَنَّةِ، وَمَا يَزَالُ الرَّجُلُ يَصْدُقُ، وَيَتَحَرَّى الصِّدْقَ، حَتَّى يُكْتَبَ عِنْدَ اللَّهِ صِدِّيقًا، وَإِيَّاكُمْ وَالْكَذِبَ، فَإِنَّ الْكَذِبَ يَهْدِي إِلَى الْفُجُورِ، وَإِنَّ الْفُجُورَ يَهْدِي إِلَى النَّارِ، وَمَا يَزَالُ الرَّجُلُ يَكْذِبُ، وَيَتَحَرَّى الْكَذِبَ، حَتَّى يُكْتَبَ عِنْدَ اللَّهِ كَذَّابًا» مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ


আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমারা সত্যবাদিতাকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে থাকবে। কেননা, সত্য নেকীর দিকে পরিচালিত করে আর নেকী জান্নাতে পৌঁছায়। আর মানুষ সত্যের উপর কায়িম থেকে সত্য কথা বলার চর্চা চালাতে থাকলে অবশেষে আল্লাহর দরবারে সিদ্দীক-এর দরজা লাভ করে। তোমরা মিথ্যা কথা বলা হতে দূরে থাক। কেননা, মিথ্যা মানুষকে পাপের দিকে নিয়ে যায়, পাপ তাকে জাহান্নামে নিয়ে যায়। আর মানুষ মিথ্যা কথা বলতে বলতে অবশেষে আল্লাহ্‌র কাছে মহামিথ্যাচারী প্রতিপন্ন হয়ে যায়। [১৬২৮] [বুলুগুল মারাম : ১৫১৯]


[[১৬২৮] বুখারী ৬০৯৪, মুসলিম ২৬০৬, ২৬০৭, তিরমিযী ১৯৭১, আবূ দাঊদ ৪৯৮৯, ইবনু মাজাহ ৪৬, আহমাদ ৩৬৩১, ৩৭১৯, ৩৮৩৫।]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



39830 OK

(১৫২০)

সহিহ হাদিস

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «إِيَّاكُمْ وَالظَّنَّ، فَإِنَّ الظَّنَّ أَكْذَبُ الْحَدِيثِ» مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ


আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তোমরা কারো প্রতি খারাপ ধারণা পোষণ করা থেকে সাবধান থেকো। কেননা, খারাপ ধারণা সবচেয়ে বড় মিথ্যা। [১৬২৯] [বুলুগুল মারাম : ১৫২০]


[[১৬২৯] বুখারী ৫১৪৩, ৬০৬৪, ৬০৬৬, ৬৭২৪, মুসলিম ১৪১৩, ২৫৬৩, তিরমিযী ১৯৮৮, নাসায়ী ৩২৩৯-৩২৪২, আবূ দাঊদ ১৮৬৭, ইবনু মাজাহ ২১৭৪, আহমাদ ৭২৯২, ৭৬৪৩, ৭৬৭০, মালিক ১১১১, ১৬৮৪, দারেমী ২১৭৫।]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



39831 OK

(১৫২১)

সহিহ হাদিস

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم -: «إِيَّاكُمْ وَالْجُلُوسَ بِالطُّرُقَاتِ»، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ! مَا لَنَا بُدٌّ مِنْ مَجَالِسِنَا نَتَحَدَّثُ فِيهَا، قَالَ: «فَأَمَّا إِذَا أَبَيْتُمْ، فَأَعْطُوا الطَّرِيقَ حَقَّهُ»، قَالُوا: وَمَا حَقُّهُ? قَالَ: «غَضُّ الْبَصَرِ، وَكَفُّ الْأَذَى، وَرَدُّ السَّلَامِ، وَالْأَمْرُ بِالْمَعْرُوفِ، وَالنَّهْيُ عَنِ الْمُنْكَرِ» مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ


আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: তোমরা রাস্তায় বসা থেকে বিরত থাকো। তারা বললঃ হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমাদের রাস্তায় বসা ব্যতীত গত্যন্তর নেই, আমরা সেখানে কথাবার্তা বলি। তখন তিনি বললেন, যদি তোমাদের রাস্তায় মজলিস করা ব্যতীত উপায় না থাকে, তবে তোমরা রাস্তার হক আদায় করবে। তারা বলল, হে আল্লাহ্‌র রসূল! রাস্তার হক কী? তিনি বললেন, তা হলো চক্ষু অবনত রাখা, কাউকে কষ্ট দেয়া থেকে বিরত থাকা, সালামের জবাব দেয় এবং সৎকাজের নির্দেশ দেয়া আর অসৎকাজ থেকে নিষেধ করা। [১৬৩০] [বুলুগুল মারাম : ১৫২১]


[[১৬৩০] বুখারী ২৪৬৫, ৬২২৯, মুসলিম ১২১১, ২১২১, ২১৬১, আবূ দাঊদ ৪৮১৫, আহমাদ ১০৯১৬, ১১০৪৪, ১১১৯২।]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



39832 OK

(১৫২২)

সহিহ হাদিস

وَعَنْ مُعَاوِيَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم -: «مَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا، يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ» مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ


মু‘আবিযাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: আল্লাহ্ যার মঙ্গল চান, তাকে দ্বীনের ‘ইল্ম দান করেন। [১৬৩১] [বুলুগুল মারাম : ১৫২২]


[[১৬৩১] বুখারী ৭১, ৩১১৬, ৩৬৪১, ৭৩১২, ৭৪৬০, মুসলিম ১০৩৭, ইবনু মাজাহ ২০২১, আহমাদ ১৬৩৯২, ১৬৪০৭, মালেক ১৬৬৭ দারেমী ২২৪, ২২৬।]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



39833 OK

(১৫২৩)

সহিহ হাদিস

وَعَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم -: «مَا مِنْ شَيْءٍ فِي الْمِيزَانِ أَثْقَلُ مِنْ حُسْنِ الْخُلُقِ» أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ، وَالتِّرْمِذِيُّ وَصَحَّحَهُ


আবূ দ্দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: নেকী-বদী ওজনের সময় উত্তরম চরিত্রের থেকে আর কোন বস্তু বেশি ভারী হবে না। [১৬৩২] [বুলুগুল মারাম : ১৫২৩]


[[১৬৩২] আবূ দাঊদ ৪৭৯৯, তিরমিযী ২০০২, ২০০৩, আহমাদ ২৬৯৭১।]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



39834 OK

(১৫২৪)

সহিহ হাদিস

ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم -: «الْحَيَاءُ مِنَ الْإِيمَانِ» مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ


ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: লজ্জা-শরম ঈমানের অংশ বিশেষ। [১৬৩৩] [বুলুগুল মারাম : ১৫২৪]


[[১৬৩৩] বুখারী ২৪, ৬১১৮, মুসলিম ৩৬, তিরমিযী ২৬১৫, নাসায়ী ৫০৩৩, আবূ দাঊদ ৪৭৯৫, আহমাদ ৪৫৪০, ৫১৬১, মালেক ১৬৭৯।]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



39835 OK

(১৫২৫)

সহিহ হাদিস

وَعَنْ أَبِي مَسْعُودٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم -: «إِنَّ مِمَّا أَدْرَكَ النَّاسُ مِنْ كَلَامِ النُّبُوَّةِ الْأُولَى: إِذَا لَمْ تَسْتَحي، فَاصْنَعْ مَا شِئْتَ» أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ


আবূ মাস‘ঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: পূর্ববর্তী নাবীদের নাসীহাত থেকে মানুষ যা লাভ করেছে তার একটা হলো, যদি তুমি লজ্জাই না কর, তবে যা ইচ্ছে তাই কর। [১৬৩৪] [বুলুগুল মারাম : ১৫২৫]


[[১৬৩৪] বুখারী ৬১২০, ৩৪৮৩, ৩৪৮৪, আবূ দাঊদ ৪৭৯৭, ইবনু মাজাহ ৪১৮৩, আহমাদ ১৬৬৪১, ১৬৬৫১, মালেক ৩৬৫।]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



39836 OK

(১৫২৬)

সহিহ হাদিস

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم -: «الْمُؤْمِنُ الْقَوِيُّ خَيْرٌ وَأَحَبُّ إِلَى اللَّهِ مِنَ الْمُؤْمِنِ الضَّعِيفِ، وَفِي كُلٍّ خَيْرٌ، احْرِصْ عَلَى مَا يَنْفَعُكَ، وَاسْتَعِنْ بِاللَّهِ، وَلَا تَعْجَزْ، وَإِنْ أَصَابَكَ شَيْءٌ فَلَا تَقُلْ: لَوْ أَنِّي فَعَلْتُ كَانَ كَذَا وَكَذَا، وَلَكِنْ قُلْ: قَدَّرَ اللَّهُ وَمَا شَاءَ فَعَلَ; فَإِنَّ لَوْ تَفْتَحُ عَمَلَ الشَّيْطَانِ» أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ


আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: দুর্বল দেহ, দুর্বল চিত্ত মু’মিন অপেক্ষা শক্তিশালী দৃঢ়চিত্ত মু’মিন শ্রেষ্ঠ এবং আল্লাহর কাছে অধিকতর প্রিয়। তবে প্রত্যেকের মধ্যেই (ঈমানগত) কল্যাণ রয়েছে। যা তোমার পক্ষে উপকারী তা অর্জনে আগ্রহী হও এবং আল্লাহর নিকটে সাহায্য প্রার্থনা কর, দুর্বলতা অনুভব করো না। আর যদি তোমার উপর কোন মুসীবত এসে যায় তবে তুমি এরূপ কথা বলবে না যে, ‘আমি এরূপ করলে আমার এরূপ হতো বরং তুমি বলবে, আল্লাহর পক্ষ থেকেই এটাই নির্ধারণ করা ছিল, আল্লাহ্ যা চেয়েছেন তা করেছেন। কেননা, ‘যদি’ শব্দ শাইত্বনের কাজের পথ খুলে দেয়।’ (অর্থাৎ আল্লাহর ফায়সালাকে সর্বান্তঃকরণে মেনে নিতে না পারলে ঈমানগত যে দুর্বলতা আসে তার সুযোগ নিয়ে শাইত্বন তার প্রভাবকে কার্যকরী করতে সক্ষম হয়।) [১৬৩৫] [বুলুগুল মারাম : ১৫২৬]


[[১৬৩৫] মুসলিম ২৬৬৪, ইবনু মাজাহ ৭৯, ৪১৬৮, ৮৫৭৩, আহমাদ ৮৬১১।]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



39837 OK

(১৫২৭)

সহিহ হাদিস

وَعَنْ عِيَاضِ بْنِ حِمَارٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم -: «إِنَّ اللَّهَ أَوْحَى إِلَيَّ أَنْ تَوَاضَعُوا، حَتَّى لَا يَبْغِيَ أَحَدٌ عَلَى أَحَدٍ، وَلَا يَفْخَرَ أَحَدٌ عَلَى أَحَدٍ» أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ


ইয়ায্ ইবনু হিমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: আল্লাহ্ আমার প্রতি ওয়াহী (প্রত্যাদেশ) পাঠিয়েছেন যে, তোমরা আপোষে বিনয়-নম্রতার সাথে চলো। যাতে তোমাদের কেউ কারো উপর অত্যাচার-অনাচার করতে না পারে এবং তোমাদের একজন অপরের উপর ফখর (গর্ব) না করে। [১৬৩৬] [বুলুগুল মারাম : ১৫২৭]


[[১৬৩৬] মুসলিম ২৮৬৫, আবূ দাঊদ ৪৮৯৫, ইবনু মাজাহ ৪১৭৯, আহমাদ ১৭০৩০, ১৭৮৭৪।]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



39838 OK

(১৫২৮)

সহিহ হাদিস

وَعَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ - رضي الله عنه - عَنِ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «مَنْ رَدَّ عَنْ عِرْضِ أَخِيهِ بِالْغَيْبِ، رَدَّ اللَّهُ عَنْ وَجْهِهِ النَّارَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ» أَخْرَجَهُ التِّرْمِذِيُّ، وَحَسَّنَهُ


আবূ দারদা থেকে বর্ণিতঃ

নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, যে ব্যক্তি তার কোন মুসলিম ভাই-এর অসাক্ষাতে তার সম্মানহানিকর বস্তুকে প্রতিহত করবে, আল্লাহ তার মুখমণ্ডল হতে কিয়ামাতের দিন জাহান্নামের আগুনকে দূর করে দেবেনে। [বুলুগুল মারাম : ১৫২৮]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



39839 OK

(১৫২৯)

হাসান হাদিস

وَلِأَحْمَدَ، مِنْ حَدِيثِ أَسْمَاءَ بِنْتِ يَزِيدَ نَحْوُهُ


আসমা বিনতু ইয়াযিদ থেকে বর্ণিতঃ

আহমাদে অনুরূপ একটি হাদীস রয়েছে। [১৬৩৭] [বুলুগুল মারাম : ১৫২৯]


[[১৬৩৭] তিরমিযী ১৯৩১, আহমাদ ২৬৯৮৮, ২৬৯৯৫।]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



39840 OK

(১৫৩০)

সহিহ হাদিস

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم -: «مَا نَقَصَتْ صَدَقَةٌ مِنْ مَالٍ، وَمَا زَادَ اللَّهُ عَبْدًا بِعَفْوٍ إِلَّا عِزًّا، وَمَا تَوَاضَعَ أَحَدٌ لِلَّهِ إِلَّا رَفَعَهُ» أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ


আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: সাদাক্বাহ কোন মাল কমিয়ে দেয় না। মানুষকে ক্ষমা করার বিনিময়ে আল্লাহ্ ক্ষমাকারীর ইয্যাত বৃদ্ধি করে দেন। যে কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য বিনয়-নম্রতা প্রকাশ করে আল্লাহ্ তাকে উঁচু করে থাকেন। [১৬৩৮] [বুলুগুল মারাম : ১৫৩০]


[[১৬৩৮] মুসলিম ২৫৮৮, তিরমিযী ২০২৯, আহমাদ ৭১৬৫ম ৮৭৮২, ৯৩৬০, মালেক ১৮৮৫, দারেমী ১৬৭৬।]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



39841 OK

(১৫৩১)

হাসান হাদিস

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلَامٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم -: «يَا أَيُّهَا النَّاسُ! أَفْشُوا السَّلَامَ، وَصِلُوا الْأَرْحَامَ، وَأَطْعِمُوا الطَّعَامَ، وَصَلُّوا بِاللَّيْلِ وَالنَّاسُ نِيَامٌ، تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ بِسَلَامٍ» أَخْرَجَهُ التِّرْمِذِيُّ وَصَحَّحَهُ


আব্দুল্লাহ্ ইবনু সালাম (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: হে লোকগণ! তোমরা সালাম দানের প্রসারতা বাড়াও, আত্মীয়তার বন্ধনকে দৃঢ় কর, খাদ্য দান কর, লোকের প্রগাড় ঘুমের সময় রাতে তাহাজ্জুদ সলাত পড়, ফলে তোমরা নিরাপদে জান্নাতে প্রবেশ করবে। [১৬৩৯] [বুলুগুল মারাম : ১৫৩১]


[[১৬৩৯] তিরমিযী ২৪৮৫, ইবনু মাজাহ ১৩৩৪, ৩২৫১, দারেমী ১৪৬০।]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



39842 OK

(১৫৩২)

সহিহ হাদিস

وَعَنْ تَمِيمٍ الدَّارِيِّ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم -: «الدِّينُ النَّصِيحَةُ» ثَلَاثًا. قُلْنَا: لِمَنْ يَا رَسُولَ اللَّهِ? قَالَ: «لِلَّهِ وَلِكِتَابِهِ وَلِرَسُولِهِ وَلِأَئِمَّةِ الْمُسْلِمِينَ وَعَامَّتِهِمْ» أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ


তামীম আদ্দারী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তিন দফা বলেছেন: কল্যাণ কামনা করাই ধর্ম। আমরা বললাম: কী ব্যাপারে এটা করতে হবে? তিনি বললেন: আল্লাহ্‌র প্রতি, কুরআনের প্রতি, তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান রাখা ও আনুগত্য দানের ব্যাপারে এবং মুসলিমদের নেতা ও মুসলিম জনসাধারণের সাথে সদ্ব্যবহার ও তাঁদের কল্যাণ কামনায় (আন্তরিকতা রাখবে)। [১৬৪০] [বুলুগুল মারাম : ১৫৩২]


[[১৬৪০] মুসলিম ৫৫, নাসায়ী ৪১৯৭, ৪১৯৮, আবূ দাঊদ ৪৯৪৪, আহমাদ ১৬৪৯৩।]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



39843 OK

(১৫৩৩)

সহিহ হাদিস

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم -: «أَكْثَرُ مَا يُدْخِلُ الْجَنَّةَ تَقْوى اللَّهِ وَحُسْنُ الْخُلُقِ» أَخْرَجَهُ التِّرْمِذِيُّ، وَصَحَّحَهُ الْحَاكِمُ


আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যেসব গুণাবলী মানুষকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে তার অধিকাংশই হল তাক্বওয়া (যথারীতি পুণ্য কাজ করা ও অন্যায় কাজ হতে বিরত থাকা) ও উত্তম চরিত্র। [১৬৪১] [বুলুগুল মারাম : ১৫৩৩]


[[১৬৪১] তিরমিযী ২০০৪, ইবনু মাজাহ ৪২৪৬, আহমাদ ৭৮৪৭, ৯৪০৩। তিরমিযী, হাকিম এবং ইবনু মাজাহ এর বর্ণনায় আছে (আরবী)-কে প্রশ্ন করা হলো যে, কোন্ জিনিসটি মানুষকে অধিকা হারে জান্নাতে প্রবেশ করাবে? তিনি বললেনঃ তাক্ওয়া। তাঁকে আবার প্রশ্ন করা হলো, কোন্ জিনিসটি মানুষকে অধিক হারে জাহা্ন্নামে প্রবেশ করাবে? তিনি বললেনঃ মুখ ও লজ্জাস্থান।]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



39844 OK

(১৫৩৪)

হাসান হাদিস

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم -: «إِنَّكُمْ لَا تَسَعُونَ النَّاسَ بِأَمْوَالِكُمْ، وَلَكِنْ لِيَسَعْهُمْ مِنْكُمْ (1) بَسْطُ الْوَجْهِ، وَحُسْنُ الْخُلُقِ» أَخْرَجَهُ أَبُو يَعْلَى، وَصَحَّحَهُ الْحَاكِمُ


আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: মাল-ধন (খাইরাত) দ্বারা তোমরা ব্যাপকভাবে লোকেদেরকে সন্তুষ্ট করতে সক্ষম হবে না, কিন্তু মুখমণ্ডলের প্রসন্নতা ও প্রফুল্লতা এবং চরিত্র মাধুর্য দ্বারা ব্যাপকভাবে তাদেরকে সন্তুষ্ট করতে পারবে। [১৬৪২] [বুলুগুল মারাম : ১৫৩৪]


[[১৬৪২] ইমাম বাইহাক্বী শুআবুল ঈমান ৬/২৭৪২ পৃষ্ঠায় বলেন, এ হাদীসটি আবূ ইবাদ আবদুল্লাহ বিন সাঈদ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। শাইখ আলবানী জামেউস সগীর হাদীস ২০৪৩, সিলসিলা যঈফা হাদীস নং ৬৩৪ এ যঈফ বলেছেন।]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



39845 OK

(১৫৩৫)

হাসান হাদিস

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم -: «الْمُؤْمِنُ مِرْآةُ الْمُؤْمِنِ» أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ بِإِسْنَادٍ حَسَنٍ


আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: এক মু’মিন অন্য মু’মিন ভাই-এর জন্য আয়না তুল্য (দোষের কথা তাকে ধরিয়ে দেবে কিন্তু অন্যের কাছে তা গোপন রাখবে)। [১৬৪৩] [বুলুগুল মারাম : ১৫৩৫]


[[১৬৪৩] আবূ দাঊদ ৪৯১৮, তিরমিযী ১৯২৯।]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



39846 OK

(১৫৩৬)

সহিহ হাদিস

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم -: «الْمُؤْمِنُ الَّذِي يُخَالِطُ النَّاسَ، وَيَصْبِرُ عَلَى أَذَاهُمْ خَيْرٌ مِنَ الَّذِي لَا يُخَالِطُ النَّاسَ وَلَا يَصْبِرُ عَلَى أَذَاهُمْ» أَخْرَجَهُ ابْنُ مَاجَهْ بِإِسْنَادٍ حَسَنٍ، وَهُوَ عِنْدَ التِّرْمِذِيِّ إِلَّا أَنَّهُ لَمْ يُسَمِّ الصِّحَابِيَّ


ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে মু’মিন ব্যক্তি মানুষের সাথে মেলামেশা করে এবং তাদের জ্বালাতনে ধৈর্যধারণ করে সে এমন মু’মিন ব্যক্তির তুলনায় অধিক সওয়াবের অধিকারী হয়, যে জনগণের সাথে মেলমেশা করে না এবং তাদের জ্বালাতনে ধৈর্যধারণ করে না। তিরমিযীর সনদে সাহাবীর নাম উল্লেখ নেই।[১৬৪৪] [বুলুগুল মারাম : ১৫৩৬]


[[১৬৪৪] ইবনু মাজাহ ৪০৩২, তিরমিযী ২৫০৭।আলবানি হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন, তাহকিক তিরমিযি]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



39847 OK

(১৫৩৭)

সহিহ হাদিস

وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم -: «اللَّهُمَّ أَحْسَنْتَ خَلْقِي، فَحَسِّنْ خُلُقِي» رَوَاهُ أَحْمَدُ، وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ


ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ হে আল্লাহ্‌! তুমি আমার গঠন ও আকৃতি যে রকম সুন্দর করেছ, আমার চরিত্রকেও অনুরূপ সুন্দর কর। [১৬৪৫] [বুলুগুল মারাম : ১৫৩৭]


[[১৬৪৫] শাইখ আলবানী তাঁর সহীহুল জামে ১৩০৭ গ্রন্থে একে সহীহ বলেছেন, ইবনু উসাইমীন তাঁর বুলুগুল মারামের শরাহ (৬/৪৫৬) গ্রন্থে বলেন, হাদীসটি সহীহ হওয়াটাই যুক্তি যুক্ত। ইবনু হিব্বান ৯৫৯।]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস