(৫১২) বিবিধ প্রসঙ্গ [হাদিসের সীমা (১৪৩৭-১৫৬৮), সর্বমোট হাদিসঃ ১৩১টি]

অধ্যায় (৪) : [মোট হাদিসঃ ৪০টি] [অবশিষ্ট হাদিসঃ ৯০টি]


মন্দ চরিত্র সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন




39789 OK

(১৪৭৯)

যঈফ হাদিস

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم -: «إِيَّاكُمْ وَالْحَسَدَ، فَإِنَّ الْحَسَدَ يَأْكُلُ الْحَسَنَاتِ، كَمَا تَأْكُلُ النَّارُ الْحَطَبَ» أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ


আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন ,রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,তোমরা নিজেদেরকে হিংসার অনিষ্ট হতে রক্ষা কর। কারন হিংসা সৎ কর্মগুলোকে ঐভাবেই খেয়ে ফেলে ( বিনষ্টকরে) যেভাবে আগুন কাঠ , খড় পুড়িয়ে ধ্বংস করে। [১৫৯০] [বুলুগুল মারাম : ১৪৭৯]


[[১৫৯০] ইমাম সুয়ূত্বী তাঁর আল জামেউস সগীর ২৯০৮ এ হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। শাইখ বিন বায তাঁর হাশিয়া বুলুগুল মারাম ৭৯১ গ্রন্থেও অনুরূপ বলেছেন। তিনি তাঁর আত্‌ তুহফাতুল কারীমাহ ১৩৯ গ্রন্থে বলেন, এখানে একজন অপরিচিত ব্যক্তি রয়েছে। এতে ঈসা বিন আবূ ঈসা আল হান্নাত রয়েছে যিনি মাতরূক। শাইখ আলবানী যঈফ আবূ দাউদ, ৪৯০৩, সিলসিলা যঈফা ১৯০২, যঈফা জামে’ ৩৯৩৫এ হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন। শাইখ আলবানী আবূ হুরাইরাহ সূত্রে বর্ণিত একটি হাদীসকে তাহকীক রিয়াযুস স্বলিহীন ১৫৭৭ গ্রন্থে বলেন, এতে একজন বর্ণনাকারী আছে যার নাম উল্লেখ করা হয়নি।]


হাদিসের মান : যঈফ হাদিস



39790 OK

(১৪৮০)

যঈফ হাদিস

وَلِابْنِ مَاجَهْ مِنْ حَدِيثِ أَنَسٍ نَحْوُهُ


ইবনু মাজাতে আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

এর সনদে একজন মাতরূক রাবী রয়েছে। [বুলুগুল মারাম : ১৪৮০]


হাদিসের মান : যঈফ হাদিস



39791 OK

(১৪৮১)

সহিহ হাদিস

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم -: «لَيْسَ الشَّدِيدُ بِالصُّرَعَةِ، إِنَّمَا الشَّدِيدُ الَّذِي يَمْلِكُ نَفْسَهُ عِنْدَ الْغَضَبِ» مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ


আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ প্রকৃত বীর সে নয়, যে কাউকে কুস্তিতে হারিয়ে দেয়। বরং সেই আসল বীর, যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। [১৫৯১] [বুলুগুল মারাম : ১৪৮১]


[[১৫৯১] বুখারী ৬১১৪, মুসলিম ২৬০৯, আহমাদ ৭১৭৮, ৭৬৮৪, ১০৩২৪, মালেক।]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



39792 OK

(১৪৮২)

সহিহ হাদিস

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم -: «الظُّلْمُ ظُلُمَاتٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ» مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ


আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যুল্‌ম কিয়ামতের দিন অনেক অন্ধকারের রূপ ধারণ করবে। [১৫৯২] [বুলুগুল মারাম : ১৪৮২]


[[১৫৯২] মুসলিম তাঁর বর্ণনায় (আরবী) শব্দটি বৃদ্ধি করেছনে। বুখারী ২৪৪৭, মুসলিম ২৫৭৯, তিরমিযী ২০৩০, আহমাদ ৫৬২৯, ৬১৭৫ ।]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



39793 OK

(১৪৮৩)

সহিহ হাদিস

وَعَنْ جَابِرٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ: «اتَّقُوا الظُّلْمَ، فَإِنَّ الظُّلْمَ ظُلُمَاتٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَاتَّقُوا الشُّحَّ، فَإِنَّهُ أَهْلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ» أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ


জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যুলুম করা হতে নিজেকে বাঁচাও, কেননা, ক্বিয়ামতের কঠিন দিনে যুলুম কঠিন অন্ধকাররূপে আত্মপ্রকাশ করবে। আর কৃপনতা হতেও নিজেকে বাঁচাও, কারণ ওটা আগের জাতিগুলোকে ধ্বংস করেছে। [১৫৯৩] [বুলুগুল মারাম : ১৪৮৩]


[[১৫৯৩] মুসলিম ২৫৭৮, আহমাদ ১৪০৫২ ।]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



39794 OK

(১৪৮৪)

অন্যান্য

وَعَنْ مَحْمُودِ بْنِ لَبِيدٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم -: «إِنَّ أَخْوَفَ مَا أَخَافُ عَلَيْكُمُ الشِّرْكُ الْأَصْغَرُ: الرِّيَاءُ» أَخْرَجَهُ أَحْمَدُ بِسَنَدٍ حَسَنٍ


মাহমূদ ইবনু লাবীদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের ব্যাপারে আমার সর্বাপেক্ষা ভয়ের বস্তু যা আমি ভয় পাচ্ছি তা হচ্ছে ছোট শির্ক- রিয়া (অর্থাৎ লোক দেখানো ধর্মকর্ম)। [১৫৯৪] [বুলুগুল মারাম : ১৪৮৪]


[[১৫৯৪] আহমাদ ২৩১১৯,২৭৭৪২। হাদিসটির সানাদ উত্তম; তাওযিহুল আহকাম ৭/৪০০]


হাদিসের মান : অন্যান্য



39795 OK

(১৪৮৫)

সহিহ হাদিস

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم -: «آيَةُ الْمُنَافِقِ ثَلَاثٌ: إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ، وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ، وَإِذَا ائْتُمِنَ خَانَ» مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ


আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মুনাফিকের চিহ্ন তিনটিঃ ১. যখন কথা বলে মিথ্যা বলে; ২. যখন অঙ্গীকার করে ভঙ্গ করে এবং ৩. আমানত রাখা হলে খিয়ানত করে। [১৫৯৫] [বুলুগুল মারাম : ১৪৮৫]


[[১৫৯৫] বুখারী ৩৩, ২৬৮২, ২৭৪৯, ৬০৯৫, মুসলিম ৫৯, তিরমিযী ২৬৩১, নাসায়ী ৫০২১, আহমাদ ৮৪৭০, ৮৯১৩ ।]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



39796 OK

(১৪৮৬)

সহিহ হাদিস

وَلَهُمَا مِنْ حَدِيثِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو: «وَإِذَا خَاصَمَ فَجَرَ»


আবদুল্লাহ্‌ ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

সহীহ হাদীস গ্রন্থ দু’টিতে আছে, ঝগড়া করলে অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে। [১৫৯৬] [বুলুগুল মারাম : ১৪৮৬]


[[১৫৯৬] বুখারীর বর্ণনায় রয়েছে, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ (আরবী) চারটি স্বভাব যার মধ্যে বিদ্যমান সে হচ্ছে খাঁটি মুনাফিক। যার মধ্যে এর কোন একটি স্বভাব থাকবে, তা পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত তার মধ্যে মুনাফিকের একটি স্বভাব থেকে যায়। ১. আমানত রাখা হলে খিয়ানত করে; ২. কথা বললে মিথ্যা বলে; ৩ অঙ্গীকার করলে ভঙ্গ করে; ৪. বিবাদে লিপ্ত অশ্লীলভাবে গালাগালি দেয়। বুখারী ৩৪, ২৪৫৯; ৩১৭৮, মুসলিম ৫৮, তিরমিযী ২৬৩২, নাসায়ী ৫০২০, আবূ দাঊদ ৪৬৮৮, আহমাদ ৬৭২৯, ৬৮২৫ ।]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



39797 OK

(১৪৮৭)

সহিহ হাদিস

وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم -: «سِبَابُ الْمُسْلِمِ فُسُوقٌ، وَقِتَالُهُ كُفْرٌ» مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ


আবদুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেছেন যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মুসলিমকে গালি দেয়া ফাসিকী এবং তাকে হত্যা করা কুফুরী। [১৫৯৭] [বুলুগুল মারাম : ১৪৮৭]


[[১৫৯৭] বুখারী ৪৮, ৭০৭৬, ৬০৪৪, মুসলিম ৬৪, তিরমিযী ১৯৮০, ২৬৩৪, ২৬৩৫, নাসায়ী ৩১০৫, ৪১০৬, ৪১০৮। ইবনু মাজাহ ৬৯, ৩৯৩৯, ৩৮৯৩ ।]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



39798 OK

(১৪৮৮)

সহিহ হাদিস

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم -: «إِيَّاكُمْ وَالظَّنَّ، فَإِنَّ الظَّنَّ أَكْذَبُ الْحَدِيثِ» مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ


আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা কারো প্রতি খারাপ ধারণা পোষণ করো না। কেননা, খারাপ ধারণা সবচেয়ে বড় মিথ্যা। [১৫৯৮] [বুলুগুল মারাম : ১৪৮৮]


[[১৫৯৮] বুখারী ৫১৪৩, ৬০৬৪, ৬০৬৬, ৬৭২৫, মুসলিম ১৪১৩, ২৫৬৩, তিরমিযী ১৯৮৮, নাসায়ী ৩২৩৯, ৩২৪০, আবূ দাউদ ২০৮০, ইবনু মাজাহ ১৮৬৭, ২১৭৪, আহমাদ ৭২৯২, ৭৬৪৩, মালেক ১১১১, ১৬৮৪, দারেমী ২১৭৫।]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



39799 OK

(১৪৮৯)

সহিহ হাদিস

وَعَنْ مَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ - رضي الله عنه - قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يَقُولُ: «مَا مِنْ عَبْدٍ يَسْتَرْعِيهِ اللَّهُ رَعِيَّةً، يَمُوتُ يَوْمَ يَمُوتُ (1)، وَهُوَ غَاشٌّ لِرَعِيَّتِهِ، إِلَّا حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ» مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ


মা’কিল ইব্‌নু ইয়াসার থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি, কোন দায়িত্বশীল ব্যক্তি মুসলিম জনসাধারণের দায়িত্ব লাভ করল এবং তাঁর মৃত্যু হল এ হালতে যে, সে তার বিষয়ে ছিল খিয়ানতকারী, তাহলে আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেবেন। [১৫৯৯] [বুলুগুল মারাম : ১৪৮৯]


[[১৫৯৯] বুখারী ৬৯২, ৭১৭৫, আবূ দাউদ ৫৮৮।]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



39800 OK

(১৪৯০)

সহিহ হাদিস

وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم -: «اللَّهُمَّ مَنْ وَلِيَ مِنْ أَمْرِ أُمَّتِي شَيْئًا، فَشَقَّ عَلَيْهِمْ، فَاشْقُقْ عَلَيْهِ» أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ


আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ হে আল্লাহ! যে ব্যক্তি আমার উম্মাতের উপর শাসন কর্তৃত্বের অধিকারী হওয়ার পর তাদের প্রতি কঠোরতা অবলম্বন করবে, তুমিও তার প্রতি কঠোরতা অবলম্বন কর। [১৬০০] [বুলুগুল মারাম : ১৪৯০]


[[১৬০০] মুসলিম ১৮২৮, আমমাদ ২৩৮১৬, ২৪১০১, ২৫৭০৫ ।]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



39801 OK

(১৪৯১)

সহিহ হাদিস

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم -: «إِذَا قَاتَلَ أَحَدُكُمْ، فَلْيَتَجَنَّبِ الْوَجْهَ» مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ


আবু হুরাইরাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ যখন যুদ্ধ করবে, তখন সে যেন মুখমন্ডলে আঘাত করা হতে বিরত থাকে। [১৬০১] [বুলুগুল মারাম : ১৪৯১]


[[১৬০১] বুখারী ২৫৫৯, মুসলিম ২৬১২, আহমাদ ৭২৭৯, ৭৩৭২, ২৭৩৪১ ।]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



39802 OK

(১৪৯২)

সহিহ হাদিস

وَعَنْهُ أَنَّ رَجُلاً قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! أَوْصِنِي، قَالَ: «لَا تَغْضَبْ»، فَرَدَّدَ مِرَارًا، قَالَ: «لَا تَغْضَبْ» أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ


আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট বললঃ আপনি আমাকে অসিয়ত করুন। তিনি বললেনঃ তুমি রাগ করো না। লোকটি কয়েকবার তা বললেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রত্যেক বারেই বললেনঃ রাগ করো না। [১৬০২] [বুলুগুল মারাম : ১৪৯২]


[[১৬০২] বুখারী ৬১১৬, তিরমিযী ২০২০, আহমাদ ২৭৩১১, ৯৬৮২।]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



39803 OK

(১৪৯৩)

সহিহ হাদিস

وَعَنْ خَوْلَةَ الْأَنْصَارِيَّةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم -: «إِنَّ رِجَالاً يَتخوَّضون فِي مَالِ اللَّهِ بِغَيْرِ حَقٍّ، فَلَهُمُ النَّارُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ» أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ


খাওলাহ্‌ আনসারীয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে, কিছু লোক আল্লাহ্‌র দেয়া সম্পদ অন্যায়ভাবে ব্যয় করে, কিয়ামতের দিন তাদের জন্য জাহান্নাম নির্ধারিত।’ [১৬০৩] [বুলুগুল মারাম : ১৪৯৩]


[[১৬০৩] বুখারী ৩১১৮, তিরমিযী ২৩৭৪, আমমাদ ২৬৫১৪, ২৬৫৮৩ । (আরবী) এর অর্থঃ অন্যায়ভাবে মুসলমানদের সম্পদ হস্তক্ষেপ করে। উক্ত হাদীসে পৃষ্ঠপোষকদের অন্যায়ভাবে কোন সম্পদ গ্রহণ করা এবং এর হকদারদের মানা করা থেকে নিবারণ করা হচ্ছে।]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



39804 OK

(১৪৯৪)

সহিহ হাদিস

وَعَنْ أَبِي ذَرٍّ - رضي الله عنه - عَنِ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - فِيمَا يَرْوِي عَنْ رَبِّهِ عَزَّ وَجَلَّ- قَالَ: «يَا عِبَادِي! إِنِّي حَرَّمْتُ الظُّلْمَ عَلَى نَفْسِي، وَجَعَلْتُهُ بَيْنَكُمْ مُحَرَّمًا، فَلَا تَظَالَمُوا» أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ


আবূ যার্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তাঁর প্রভু আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেছেনঃ হে আমার বান্দাগণ! আমি যুলুম করাকে নিজের উপর হারাম করেছি! এবং ওটা তোমাদের মধ্যেও হারাম করে দিয়েছি। অতএব, তোমরা পরস্পরের প্রতি যুলুম করো না। [১৬০৪] [বুলুগুল মারাম : ১৪৯৪]


[[১৬০৪] মুসলিম ২৫৭৭, তিরমিযী ২৪৯৫, ইবনু মাজাহ ৪২৫৭, আহমাদ ২০৮৬০, ২০৯১১, দারেমী ২৭৮৮ ।]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



39805 OK

(১৪৯৫)

সহিহ হাদিস

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «أَتَدْرُونَ مَا الْغِيبَةُ» ? قَالُوا: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ. قَالَ: «ذِكْرُكَ أَخَاكَ بِمَا يَكْرَهُ». قِيلَ: أَفَرَأَيْتَ إِنْ كَانَ فِي أَخِي مَا أَقُولُ? قَالَ: «إِنْ كَانَ فِيهِ مَا تَقُولُ فَقَدِ اغْتَبْتَهُ، وَإِنْ لَمْ يَكُنْ فَقَدْ بَهَتَّهُ» أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ


আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা কি জান গীবাত কাকে বলে? উপস্থিত সাহাবীগণ বলেচেহ, আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অধিক জানেন। তিনি বললেনঃ তোমার ভাই যে কথা তার প্রসঙ্গে বলা অপছন্দ মনে করে তার অসাক্ষাতে তা বলার নাম গীবাত। কেউ বললোঃ আপনি কি মনে করেন আমি যা বলছি তা যদি তার মধ্যে বিদ্যমান থাকে? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তুমি যা বলছ তা যদি তার মধ্য থাকে তাহলে তুমি তার গীবাত করলে, আর যদি তার মধ্যে তা না থাকে তুমি তার উপর মিথ্যা অপবাদ দিলে। [১৬০৫] [বুলুগুল মারাম : ১৪৯৫]


[[১৬০৫] মুসলিম ২৫৮৯, তিরমিযী ১৯৩৪, আবূ দাউদ ৪৮৩৪, আহমাদ ৭১০৬, ৮৭৫৯, দারেমী ২৭১৪ ।]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



39806 OK

(১৪৯৬)

সহিহ হাদিস

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم -: «لَا تَحَاسَدُوا وَلَا تَنَاجَشُوا، وَلَا تَبَاغَضُوا، وَلَا تَدَابَرُوا، وَلَا يَبِعْ بَعْضُكُمْ عَلَى بَيْعِ بَعْضٍ، وَكُونُوا عِبَادَ اللَّهِ إِخْوَانًا، الْمُسْلِمُ أَخُو الْمُسْلِمِ، لَا يَظْلِمُهُ، وَلَا يَخْذُلُهُ، وَلَا يَحْقِرُهُ، التَّقْوَى هَا هُنَا، -وَيُشِيرُ إِلَى صَدْرِهِ ثَلَاثَ مِرَارٍ-، بِحَسْبِ امْرِئٍ مِنَ الشَّرِّ أَنْ يَحْقِرَ أَخَاهُ الْمُسْلِمَ، كُلُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ حَرَامٌ، دَمُهُ، وَمَالُهُ، وَعِرْضُهُ» أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ


আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা একে অপরের প্রতি হিংসা করো না, (ক্রয় করার ভান করে) মূল্য বৃদ্ধি করে ধোঁকা দিও না। একে অপরের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে না। একে অপরকে পৃষ্ঠ প্রদর্শন (অবজ্ঞা প্রকাশ) করবে না। তোমাদের একজনের সাওদা করা শেষ না হলে ঐ বস্তুর সাওদা বা কেনা-বেচার প্রস্তাব করবে না। হে আল্লাহ্‌র বান্দাগণ! তোমরা পরস্পর ভাই-ভাই হয়ে যাও। মুসলিম মুসলিমের ভাই। সে তার উপর অত্যাচার করবে না, অসম্মান করবে না, তুচ্ছ ভাববে না। ‘ধর্ম ভীরুতা এখানে’-এটা বলার সময় তিনি স্বীয় বক্ষস্থলের প্রতি তিনবার ইঙ্গিত করেছিলেন। কোন মুসলিম ভাইকে তুচ্ছ জ্ঞান করাটা মন্দ ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট (অর্থাৎ এরূপ তুচ্ছ জ্ঞান প্রদর্শন দ্বারা পাপ কার্য হওয়া সুনিশ্চিত।) এক মুসলমান অন্য মুসলমানকে খুন করা, তাঁর মাল গ্রাস করা ও সম্মানে আঘাত দেয়া হারাম। [১৬০৬] [বুলুগুল মারাম : ১৪৯৬]


[[১৬০৬] বুখারী ৫১৪৪, ৬০৬৬, ২৫৬৩, ২৫৬৪, মুসলিম ২৫৬৩, ২৫৬৪, তিরমিযী ১১৩৪, ১৯৮৮, নাসায়ী ৩২৩৯, ৪৪৯৬, আবূ দাউদ ৩৪৩৮, ৩৪৪৩, ইবনু মাজাহ ১৮৬৭, ২১৭২,২১৭৪, আহমাদ ৭৬৭০, ৭৮১৫, মালেক ১৩৯১, ১৬৮৪ ।]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



39807 OK

(১৪৯৭)

সহিহ হাদিস

وَعَنْ قُطْبَةَ بْنِ مَالِكٍ - رضي الله عنه - قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يَقُولُ: «اللَّهُمَّ جَنِّبْنِي مُنْكَرَاتِ الْأَخْلَاقِ، وَالْأَعْمَالِ، وَالْأَهْوَاءِ، وَالْأَدْوَاءِ» أَخْرَجَهُ التِّرْمِذِيُّ، وَصَحَّحَهُ الْحَاكِمُ وَاللَّفْظُ لَهُ


কুত্ববাহ ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতেনঃ হে আল্লাহ! আমাকে ইসলাম গর্হিত স্বভাব ও মন্দ কাজ হতে, মন্দ কামনা হতে ও ব্যাধি হতে দূর রাখো। [১৬০৭] [বুলুগুল মারাম : ১৪৯৭]


[[১৬০৭] তিরমিযী ৩৫৯১, হাকিম ১ম ক্ষন্ড ৫৩২ পৃষ্ঠা। (আরবী) শব্দের বহুবচন। এর অর্থ হচ্ছেঃ রোগ-ব্যাধিসমূহ।]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



39808 OK

(১৪৯৮)

যঈফ হাদিস

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم -: «لَا تُمَارِ أَخَاكَ، وَلَا تُمَازِحْهُ، وَلَا تَعِدْهُ مَوْعِدًا فَتُخْلِفَهُ» أَخْرَجَهُ التِّرْمِذِيُّ بِسَنَدٍ فِيهِ ضَعْفٌ


ইবনু ‘আবাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তুমি তোমার মুসলিম ভাই এর সাথে ঝগড়া করবে না, তাকে ঠাট্টা করবে না ও তার সাথে ওয়াদা করে তা খিলাফ করবে না। [১৬০৮] [বুলুগুল মারাম : ১৪৯৮]


[[১৬০৮] তিরমিযী ১৯৯৫ । আবূ নাইম তাঁর হুলইয়াতুল আউলিয়া ৩/৩৯৪ পৃষ্ঠায় বলেন, ইকরামার হাদীস গারীব। আবদুর রহমান মুবারকপুরী তাঁর তুহফাতুল আহওয়ারী ৫/৪০৩ পৃষ্ঠায় বলেন, এর সনদে লাইস বিন আবূ সুলাইম রয়েছে। তার সম্পর্কে ইবনু হাজার আসকালানী বলেন, শেষ জীবনে তিনি হাদীস এলোমেলোভাবে বর্ণনা করেছেন, পার্থক্য করা যায় না এ হাদীস তার জীবনের কোন সময়ের তাই তার হাদীস বর্জন করা হয়েছে। শাইখ আলবানী যঈফ আল আদাবুল মুফরাদ ৫৯, তাখরীফ মিশকাতুল মাসাবীহ ৪৮১৮, যঈফুল জামে ৬২৭৪, যঈফ তিরমিযী ১৯৯৫ গ্রন্থে হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন, ইমাম সুয়ূত্বী তাঁর আল জামেউস সগীর ৯৮৬৫ গ্রন্থেও অনুরূপ বলেছেন। ইবনে উসাইমীনও শরহে বুলুগুল মারাম ৬/৩৯১ গ্রন্থেও এর সনদকে দুর্বল বলেছেন।]


হাদিসের মান : যঈফ হাদিস



39809 OK

(১৪৯৯)

যঈফ হাদিস

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم -: «خَصْلَتَانِ لَا يَجْتَمِعَانِ فِي مُؤْمِنٍ: الْبُخْلُ، وَسُوءُ الْخُلُقِ» أَخْرَجَهُ التِّرْمِذِيُّ، وَفِي سَنَدِهِ ضَعْفٌ


আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কোন মু’মিনের মধ্যে দুটো চরিত্র একত্রিত হয় না, কৃপনতা ও মন্দ চরিত্র। [১৬০৯] [বুলুগুল মারাম : ১৪৯৯]


[[১৬০৯] এই হাদীসটির হুকুমে দুদল মুহাদ্দিসীন দু ধরনের মত পাওয়া যায়। এক দলের মধ্যে যারা রয়েছেন, তাদের মধ্যে ইমাম মুনযিরী তাঁর তারগীর ও তারহীর (৩/৩৩৯) গ্রন্থে হাদীসটিকে হাসান হওয়ার সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেয়া যায় না। ইমাম সুয়ূতী তাঁর আল জামেউস সগীর (৩৯১৫) গ্রন্থে হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শাইখ আলবানী তাঁর সহীহ তারগীব (২৬০৮) গ্রন্থে হাদীসটিকে সহীহ লিগাইরিহী বলেছেন। পক্ষন্তরে দ্বিতীয় মতে হাদীসটিকে যারা দুর্বল বলেছেন তাদের মধ্যে শাইখ আলবানীই আবার সিলসিলা যঈফা (১১১৯), যঈফুল জামে’ (২৮৩৩), তাখরীফ মিশকাতুল মাসাবীহ (১৮১২), যঈফ তিরমিযী (১৯৬২) গ্রন্থসমূহে হাদীসটি দুর্বল বলেছেন। ইমাম দারাকুতনী তাঁর লিসানুল মীযানুল (২/৭৮) গ্রন্থে বলেন, এ হাদীসটি আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণনা করে বলেন, হাদীসটি প্রমাণিত নয়। ইবনু আবদুল বার তাঁর আত তামহীদ (১৬/২৫৪) গ্রন্থে আবূ হুরাইরাহ সূত্রে বর্ণিত এ হাদীসটিকে জাল বলে অভিহিত করেছেন। ইমাম মিযযী তাঁর তাহযীবুল কামাল (৯/৮৯) গ্রন্থে বলেন, এ হাদীসের বর্ণনাকারীদের মধ্যে সাদাকাহ বিন মূসা নামক বর্ণনাকারী রয়েছে, যাকে ইবনু মুঈন, ইমাম আবূ দাউদ, ইমাম নাসায়ী দূর্বল বলেছেন। ইবনু হাজারও তাখরীজ মিশকাতুল মাসাবীহ (২/২৮০) গ্রন্থে বলেছেন, এ হাদীসটি সাদাকাহ বিন মূসা এককভাবে বর্ণনা করেছেন, আর তিনি দুর্বল বর্ণনাকারী।]


হাদিসের মান : যঈফ হাদিস



39810 OK

(১৫০০)

সহিহ হাদিস

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم -: «الْمُسْتَبَّانِ مَا قَالَا، فَعَلَى الْبَادِئِ، مَا لَمْ يَعْتَدِ الْمَظْلُومُ» أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ


আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ গালিদাতাদের মধ্যে প্রথম গালিদাতার উপর যাবতীয় গালির পাপ বর্তাকে থাকে, যতক্ষণ অত্যাচারিত দ্বিতীয় ব্যক্তি সীমালংঘন না করে। (গালিদানে প্রতিপক্ষকে ছাড়িয়ে না যায়।) [১৬১০] [বুলুগুল মারাম : ১৫০০]


[[১৬১০] মুসলিম ২৪৮৭, ২৪৮৮, বুখারী ৪১৪১, ৪১৪৬ ।]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



39811 OK

(১৫০১)

হাসান হাদিস

وَعَنْ أَبِي صِرْمَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم -: «مَنْ ضَارَّ مُسْلِمًا ضَارَّهُ اللَّهُ، وَمَنْ شَاقَّ مُسْلِمًا شَقَّ اللَّهُ عَلَيْهِ» أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيُّ وَحَسَّنَهُ


আবূ সিরমাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের ক্ষতি করবে প্রতিদানে আল্লাহ তা’আলাও তার ক্ষতি করবেন। আর যে ব্যক্তি কোন মুসলিমকে কষ্ট দেবে আল্লাহ্‌ তার প্রতিদানে তাকে কষ্ট দেবেন। [১৬১১] [বুলুগুল মারাম : ১৫০১]


[[১৬১১] আবু দাউদ ৩৬৩৫, তিরমিযী ১৯৪০, ইবনি মাজাহ ২৩৪২, আহমাদ ১৫৩২৮ ।]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



39812 OK

(১৫০২)

সহিহ হাদিস

وَعَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم -: «إِنَّ اللَّهَ يُبْغِضُ الْفَاحِشَ الْبَذِيءَ» أَخْرَجَهُ التِّرْمِذِيُّ، وَصَحَّحَهُ


আবূ দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ্‌ তা’আলা অশ্লীলভাষী, নির্লজ্জ ইতরকে ঘৃণা করে থাকেন। [১৬১২] [বুলুগুল মারাম : ১৫০২]


[[১৬১২] তিরমিযী ২০০ ।]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



39813 OK

(১৫০৩)

সহিহ হাদিস

وَلَهُ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ مَسْعُودٍ -رَفَعَهُ-: «لَيْسَ الْمُؤْمِنُ بِالطَّعَّانِ، وَلَا اللَّعَّانِ، وَلَا الْفَاحِشِ، وَلَا الْبَذِيءِ» وَحَسَّنَهُ وَصَحَّحَهُ الْحَاكِمُ، وَرَجَّحَ الدَّارَقُطْنِيُّ وَقْفَهُ


ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

(রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, মু’মিন তিরস্কারকারী, অভিসম্পাত দানকারী, অশ্লীলভাষী, নির্লজ্জ ইতর প্রকৃতির হয় না। [১৬১৩] [বুলুগুল মারাম : ১৫০৩]


[[১৬১৩] তিরমিযী ১৯৭৭, আহমাদ ৩৮২৯, ৩৯৩৮ ।]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



39814 OK

(১৫০৪)

সহিহ হাদিস

وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم -: «لَا تَسُبُّوا الْأَمْوَاتَ ; فَإِنَّهُمْ قَدْ أَفْضَوْا إِلَى مَا قَدَّمُوا» أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ


আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা মৃতদের গালি দিও না। কারণ, তারা স্বীয় কর্মফল পর্যন্ত পৌছে গেছে। [১৬১৪] [বুলুগুল মারাম : ১৫০৪]


[[১৬১৪] বুখারী ১৩৯৩, ৬৫১৬, নাসায়ী ১৯৩৬, আবূ দাউদ ৪৮৯৯, আহমাদ ২৪৯৪২, দারেমী ২৫১১ ।]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



39815 OK

(১৫০৫)

সহিহ হাদিস

وَعَنْ حُذَيْفَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم -: «لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ قَتَّاتٌ» مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ


হুযাইফাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ চোগলখোর কক্ষনো জান্নাতে প্রবেশ করবে না। [১৬১৫] [বুলুগুল মারাম : ১৫০৫]


[[১৬১৫] বুখারী ৬০৫৬, মুসলিম ১০৫, তিরমিযী ২০২৬, আবূ দাউদ ৪৮৭১, আহমাদ ২২৭৩৬, ২২৭৯৪, (আরবী) শব্দের অর্থ; (আরবী) অর্থাৎ চোগলখোর ব্যক্তি।]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



39816 OK

(১৫০৬)

যঈফ হাদিস

وَعَنْ أَنَسٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم -: «مَنْ كَفَّ غَضَبَهُ، كَفَّ اللَّهُ عَنْهُ عَذَابَهُ» أَخْرَجَهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي «الْأَوْسَطِ»


আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার ক্রোধ সংবরণ করে (ক্রোধের বশে কোন অঘটন না ঘটায়) আল্লাহ্‌ তাকে শাস্তি প্রদানে বিরত থাকেন। [১৬১৬] [বুলুগুল মারাম : ১৫০৬]


[[১৬১৬] সিলসিলা সহীহাহ ২৩৬০, হাদীসটির সনদেক আলবানী হাসান বলেছেন। ইবনু হাজার বলেন, এর শাহেদ আছে।]


হাদিসের মান : যঈফ হাদিস



39817 OK

(১৫০৭)

নির্ণীত নয়

وَلَهُ شَاهِدٌ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ عُمَرَ عِنْدَ ابْنِ أَبِي الدُّنْيَا


বর্ণনাকারী থেকে বর্ণিতঃ

এ হাদীসের একটা পৃষ্ঠপোষক হাদীস ইবনু আবিদ দুনিয়া সাহাবী ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। [বুলুগুল মারাম : ১৫০৭]


হাদিসের মান : নির্ণীত নয়



39818 OK

(১৫০৮)

যঈফ হাদিস

وَعَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم -: «لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ خِبٌّ، وَلَا بَخِيلٌ، وَلَا سَيِّئُ الْمَلَكَةِ» أَخْرَجَهُ التِّرْمِذِيُّ وَفَرَّقَهُ حَدِيثَيْنِ، وَفِي إِسْنَادِهِ ضَعْفٌ


আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ জান্নাতে প্রবেশ করবে না ধোঁকাবাজ, কৃপণ, কর্তৃত্বের বা ক্ষমতার অপপ্রয়গকারী। [১৬১৭] [বুলুগুল মারাম : ১৫০৮]


[[১৬১৭] তিরমিযি ১৯৪৭, ১৯৬৪ । ইবনুল কীসরানী তাঁর দাখীরাতুল হুলফায ৫/২৭১০ গ্রন্থে বলেন, দুই দিক থেকে হাদীসটিতে দুর্বলতা পরিলক্ষিত হয়েছে।]


হাদিসের মান : যঈফ হাদিস



39819 OK

(১৫০৯)

সহিহ হাদিস

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم -: «مَنْ تَسَمَّعَ حَدِيثَ قَوْمٍ، وَهُمْ لَهُ كَارِهُونَ، صُبَّ فِي أُذُنَيْهِ الْآنُكُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ» يَعْنِي: الرَّصَاصَ. أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ


ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে কেউ কোন এক দলের কথার দিকে কান লাগাল – অথচ তারা এটা পছন্দ করে না – ক্বিয়ামাতের দিন তার উভয় কানে সীসা ঢলে দেয়া হবে। [১৬১৮] [বুলুগুল মারাম : ১৫০৯]


[[১৬১৮] বুখারী ২২২৫, ৫৯৬৩, ৭০৪২, মুসলিম ২১১০, তিরমিযী ১৭৫১, ২২৮৩, নাসায়ী ৫৩৫৮, ৫৩৫৯, ৬০২৪, ইবনু মাজাহ ৩৯১৬, আহমাদ ১৮৫৯, ২১৬৩ । হাদীসের প্রথমাংশ হচ্ছেঃ (আরবী) যে লোক এমন স্বপ্ন দেখার ভান করল যা সে দেখেনি তাকে দুটি যবের দানায় গিট দেয়ার জন্য বাধ্য করা হবে। অথচ সে তা কখনও পারবে না। তারপর তিনি উপরোক্ত হাদীসটি বর্ণনা করলেন। তিনি এতে আরো বৃদ্ধি করেন, আর যে কেউ প্রাণীর ছবি আঁকে-তাকে শাস্তি দেয়া হবে এবং তাতে প্রাণ ফুঁকে দেয়ার জন্য বাধ্য করা হবে। কিন্তু সে প্রাণ ফুঁকতে পারবে না।]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



39820 OK

(১৫১০)

হাসান হাদিস

وَعَنْ أَنَسٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم -: «طُوبَى لِمَنْ شَغَلَهُ عَيْبُهُ عَنْ عُيُوبِ النَّاسِ» أَخْرَجَهُ الْبَزَّارُ بِإِسْنَادٍ حَسَنٍ


আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ঐ ব্যক্তির জন্য তুবা নামক বিশেষ জান্নাত বা খুশি যে নিজের ত্রুটি-বিচ্যুতি নিয়ে ব্যস্ত থাকার জন্যে অন্যের ত্রুটির প্রতি তার কোন ভ্রুক্ষেপ থাকে না। [১৬১৯] [বুলুগুল মারাম : ১৫১০]


[[১৬১৯] আল ইরাকী তাঁর তাখরীজুল এহইয়া ৩/১৮৩ গ্রন্থে এর সনদকে দুর্বল বলেছেন। শাইখ আলবানী তাঁর যঈফুল জামে’ ৩৬৪৪ হাদীসটিকে অত্যন্ত দুর্বল বলেছেন।]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



39821 OK

(১৫১১)

হাসান হাদিস

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم -: «مَنْ تَعَاظَمَ فِي نَفْسِهِ، وَاخْتَالَ فِي مِشْيَتِهِ، لَقِيَ اللَّهَ وَهُوَ عَلَيْهِ غَضْبَانُ» أَخْرَجَهُ الْحَاكِمُ وَرِجَالُهُ ثِقَاتٌ


ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি নিজের মনেই নিজেকে বড় বলে জানে, চলার সময় অহংকার করে চলে, সে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎকালে তিনি তাঁর উপর রাগান্বিত অবস্থায় থাকবেন। [১৬২০] [বুলুগুল মারাম : ১৫১১]


[[১৬২০] বুখারী আদাবুল মুফরাদ ৫৪৯]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



39822 OK

(১৫১২)

হাসান হাদিস

وَعَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم -: «الْعَجَلَةُ مِنَ الشَّيْطَانِ» أَخْرَجَهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: «حَسَنٌ»


সাহেদ ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তাড়াহুড়া অর্থাৎ চিন্তাভাবনা না করেই কথা বলা বা কাজ করা শাইতানের প্রভাব থেকে হয়। [১৬২১] [বুলুগুল মারাম : ১৫১২]


[[১৬২১] হিলইয়াতুল আওলিয়া ৮/৭৮; শুআবুল ঈমান ৪/৮৯; মুসনাদ আবী ইয়া’লা ৭/২৪৭, হুসাইন সালিম আসাদ এর সনদকে দুর্বল বলেছেন। ইমাম তিরমিযী (২০১২) আবদুল মুহাইমিন বিন আব্বাস বিন সাহল বিন সা’দ আস সাঈদী এর সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে। এর পূর্বে অতিরিক্ত রয়েছে (আরবী)। (ধীরস্থিরতা আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে)। অনুরূপভাবে ইবনু হাজার ইমাম তিরমিযী কর্তৃক হাদীসটিকে হাসান বলার কথা বলেছেন। আবদুর রহমান মুবারকপুরী তাঁর তুহফাতুল আহওয়াযী (৪/১২৯) গ্রন্থে বলেন, ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান গরীব বলেছেন। কোন কোন মুদ্রণে “এ হাদীসটি গরীব” কথাটির উল্লেখ রয়েছে। কতিপয় মুহাদ্দিস আবদুল মুহাইমীন বিন আব্বাস বিন সাহলএর সমালোচনা করেছেন। স্মৃতিশক্তির দিক থেকে তাকে দুর্বল বলেছেন। ইমাম সুয়ূত্বী তাঁর আল জামেউস সগীর (৩০৮৮) গ্রন্থে হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। তার আনাস বিন মালিক সূত্রে বর্ণিত একই হাদীস আল জামেউস সগীর (৩৩৯০) গ্রন্থে দুর্বল বলেছেন। শাইখ আলবানী আবার উক্ত আনাস বিন মালিকের হাদীসকে সহীহুল জামে (৩০১১) গ্রন্থে হাসান বলেছেন। তিনি সিলসিলা সহীহাহ (১৭৯৫) গ্রন্থে বলেন, এর সনদ হাসান এবং প্রত্যেক বর্ণনাকারীই বিশ্বস্ত। ইবনুল কীসরানী তাঁর দাখীরাতুল হুফফায (৩/১৬০৬) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে ইবনু লাহিয়া নামক দুর্বল বর্ণনাকারী রয়েছে।]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



39823 OK

(১৫১৩)

যঈফ হাদিস

وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم -: «الشُّؤْمُ: سُوءُ الْخُلُقِ» أَخْرَجَهُ أَحْمَدُ، وَفِي إِسْنَادِهِ ضَعْفٌ


আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কুলক্ষণই মন্দ চরিত্র। [১৬২২] [বুলুগুল মারাম : ১৫১৩]


[[১৬২২] মুসলিম ২৫৮৯, তিরমিযী ১৯৩৪, আবূ দাউদ ৪৮-৭৪, আহমাদ ৭১০৬, ৮৭৫৯, দারেমী ২৭১৪। ইবনু আদী তাঁর আল কামিল ফিয যুআফা গ্রন্থে ২/১১ পৃষ্ঠায় বলেন, এর সনদে আবূ বকর বিন আবূ মারইয়াম রয়েছে তার অধিকাংশ হাদীস গরীব, তার দ্বারা দলীল গ্রহণ করা যায় না। আবূ নুআইম তাঁর হুলয়াতুল আউলিয়া ৬/১১০ গ্রন্থে বলেন, আবূ বকর বিন আবূ মারইয়াম এ হাদীসটি এককভাবে উল্লেখ করেছেন। ইমাম বাইহাকী শুআবুল ঈমান ৬/২৭৩১ পৃষ্ঠায় বলেন, এর সনদে আবূ বকর আবদুল্লাহ আল গাসানী রয়েছে, সে দুর্বল। শাইখ আলবানী সিলসিলা যঈফা ৭৯৩, যঈফুত তারগীব ১৬১০, যঈফুল জামে ৩৪২৬ গ্রন্থে হাদীসটিকে দুর্বল আখ্যায়িত করেছেন। অনুরূপ জাবের বিন আবদুল্লাহ সূত্রে বর্ণিত একটি হাদীসের সনদকে ইমাম বাইহাকী শুআবুল ঈমানে ৬/২৭৩১ দুর্বল বলেছেন। আর আলবানী যঈফ তারগীব ১৪৭১ গ্রন্থে হাদীসটিকে সরাসরি জাল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।]


হাদিসের মান : যঈফ হাদিস



39824 OK

(১৫১৪)

সহিহ হাদিস

وَعَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم -: «إِنَّ اللَّعَّانِينَ لَا يَكُونُونَ شُفَعَاءَ، وَلَا شُهَدَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ» أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ


আবূ দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ অধিক লা’নাতকারীগণ (তিরস্কার ও অভিসম্পাতকারী) পরকালে সুপারিশকারী ও সাক্ষ্য প্রদানকারী হতে পারবে না। (এরূপ দু’টো বিশেষ মর্যাদা লাভ হতে এরা বঞ্চিত হবে। [১৬২৩] [বুলুগুল মারাম : ১৫১৪]


[[১৬২৩] মুসলিম ২৫৯৮,আবূ দাউদ ৪৯০৭,আহমাদ ২৬৯৮১।]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



39825 OK

(১৫১৫)

অন্যান্য

وَعَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم -: «مَنْ عَيَّرَ أَخَاهُ بِذَنْبٍ، لَمْ يَمُتْ حَتَّى يَعْمَلَهُ» أَخْرَجَهُ التِّرْمِذِيُّ وَحَسَّنَهُ، وَسَنَدُهُ مُنْقَطِعٌ


‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইকে কোন পাপের কথা বলে লজ্জা দেয়, সে ঐ পাপ কাজ না করে মরবে না। (অর্থাৎ তাকে ঐ কাজে লিপ্ত হয়ে লোকচক্ষে হেয় হতে হয়।) [১৬২৪] [বুলুগুল মারাম : ১৫১৫]


[[১৬২৪] তিরমিযী ২৫০৫। শাইখ আলবানী তাঁর যঈফ তারগীব ১৪৭১ এ হাদীসটিকে বানোয়াট হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। আসসীগানীও অনুরূপ বলেছেন। ইবনু হিব্বান তাঁর আল মাজরুহীন গ্রন্থে ২/২৮৮ পৃষ্ঠায় বলেন, এর সনদে মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান মুনকারুল হাদীস। ইবনুল কীসরানী তাঁর তাযকিরাতুল হুফফায গ্রন্থেও একই কথা বলেছেন। আল মুনযিরী তাঁর তারগীব ওয়াত তারহীব গ্রন্থে ২/২৮৭ গ্রন্থে ইমাম তিরমিযীর একটি কওল উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, খালেদ বিন মাদান মুআযের যুগ পাননি। ইমাম যাহাবী মিযানুল ইতিদাল ৩/৫১৫ গ্রন্থে বলেন, এ হাদীসের সনদের একজন রাবী মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান বিন আবূ ইয়াযীদের দোষ উল্লেখ করা হয়েছে।]


হাদিসের মান : অন্যান্য



39826 OK

(১৫১৬)

হাসান হাদিস

وَعَنْ بَهْزِ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ - رضي الله عنه -: قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم -: «وَيْلٌ لِلَّذِي يُحَدِّثُ، فَيَكْذِبُ; لِيُضْحِكَ بِهِ الْقَوْمَ، وَيْلٌ لَهُ، ثُمَّ وَيْلٌ لَهُ» أَخْرَجَهُ الثَّلَاثَةُ، وَإِسْنَادُهُ قَوِيٌّ


বাহয ইবনু হাকিম (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি তাঁর পিতা, তিনি তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বরেন, চরম সর্বনাশ ঐ ব্যক্তির জন্য যে মানুষকে হাসানোর উদ্দেশ্যে মিথ্যা কথা বলে থাকে, তার জন্য সর্বনাশ, তার জন্য সর্বনাশ। সনদটি শক্তিশালী। [১৬২৫] [বুলুগুল মারাম : ১৫১৬]


[[১৬২৫] তিরমিযী ২৩১৫, আবূ দাঊদ ৪৯৯০, আহমাদ ১৯৫১৯, ১৯৫৪২, দারেমী ২৭০২। হাদীসটিকে আলবানী, বিনবায, ইবনুল মুলকিন, আল মুনযিরী হাসান বলেছেন। ইমাম সুয়ূত্বী আল জামেউস সগীর (৯৬৪৮) গ্রন্থে একে সহীহ বলেছেন।]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



39827 OK

(১৫১৭)

যঈফ হাদিস

وَعَنْ أَنَسٍ - رضي الله عنه - عَنِ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «كَفَّارَةُ مَنِ اغْتَبْتَهُ أَنْ تَسْتَغْفِرَ لَهُ» رَوَاهُ الْحَارِثُ بْنُ أَبِي أُسَامَةَ بِسَنَدٍ ضَعِيفٍ


আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: গীবাতের (পরনিন্দার) কাফ্ফারা (গুনাহ্ মাফের উপায়) হচ্ছে যার গীবাত করেছ তার পাপের ক্ষমার জন্য আল্লাহর দরবারে দু‘আ করতে থাকা। (হারেস বিন উসামা দুর্বল সনদে বর্ণনা করেছেন। [১৬২৬] [বুলুগুল মারাম : ১৫১৭]


[[১৬২৬] ইবনে উসাইমীন বুলুগুল মারামের শরাহ ৬/৪১৬ গ্রন্থে বলেন, এর সনদ দুর্বল তবে এর অর্থে লক্ষ্য করে আমল করা যেতে পারে। শাইখ আলবানী তাখরীজ মিশকাতুল মাসাবীহ ৪৮০৩ গ্রন্থে বলেন, এর তিনটি সনদ রয়েছে, যার প্রতিটিই দুর্বল। ইমাম বাইহাকী তাঁর আদ দাওয়াতুল কাবীর (২/২১৩) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে দুর্বলতা রয়েছে। আল বুসাইরী তার ইতহাফূল খিয়ারাতুল মুহাররাহ গ্রন্থে ৭/৪২৫ বলেন, এ হাদীসের সনদে আনবাসা বিন আবদুর রহমান রয়েছেন যিনি দুর্বল। ইমাম বাইহাক্বী শুআবুল ঈমান ৫/২৩১০ গ্রন্থে এর সনদকে দুর্বল বলেছেন। শাইখ সুমাইর আয যুহাইরী হাদীসটিকে মুওযূ বলেছেন। তিনি বলেন, আনাবাসা বিন আবদুর রহমান হাদীস রচনা করত।]


হাদিসের মান : যঈফ হাদিস



39828 OK

(১৫১৮)

সহিহ হাদিস

وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم -: «أَبْغَضُ الرِّجَالِ إِلَى اللَّهِ الْأَلَدُّ الْخَصِمُ» أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ


আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: আল্রাহর কাছে সবচেয়ে ঘৃণ্য ব্যক্তি হচ্ছে অতি ঝগড়াটে লোক। [১৬২৭] [বুলুগুল মারাম : ১৫১৮]


[[১৬২৭] বুখারী ২৪৫৭, ৭১৮৮, মুসলিম ২৬৬৮, তিরমিযী ২৯৭৬, নাসায়ী ৫৪২৩, আহমাদ ২৩৭৫৬, ২৩৮২২।]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস