
حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مُسْلِمٍ الْحَنَفِيُّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ جَاءَ أَعْرَابِيٌّ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا نَكُونُ بِالْبَادِيَةِ فَتَخْرُجُ مِنْ أَحَدِنَا الرُّوَيْحَةُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ لَا يَسْتَحْيِي مِنْ الْحَقِّ إِذَا فَعَلَ أَحَدُكُمْ فَلْيَتَوَضَّأْ وَلَا تَأْتُوا النِّسَاءَ فِي أَعْجَازِهِنَّ وَقَالَ مَرَّةً فِي أَدْبَارِهِنَّ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
জনৈক বেদুইন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এল এবং বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমরা মরুবাসীদের কারো কারো পেট থেকে হালকা বাতাস বের হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ তা’আলা সত্য প্রকাশে লজ্জা পান না। তোমাদের কেউ একাজ করলে সে যেন ওযূ করে নেয়। আর তোমরা কখনো তোমাদের স্ত্রীদের মল দ্বারে সহবাস করো না। [মুসনাদে আহমাদ : ৬২০]
[তিরমিযী ১১৬৬]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ عِيسَى الطَّبَّاعُ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ سُلَيْمٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ خُثَيْمٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عِيَاضِ بْنِ عَمْرٍو الْقَارِيِّ قَالَ جَاءَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ شَدَّادٍ فَدَخَلَ عَلَى عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا وَنَحْنُ عِنْدَهَا جُلُوسٌ مَرْجِعَهُ مِنْ الْعِرَاقِ لَيَالِيَ قُتِلَ عَلِيٌّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَقَالَتْ لَهُ يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ شَدَّادٍ هَلْ أَنْتَ صَادِقِي عَمَّا أَسْأَلُكَ عَنْهُ تُحَدِّثُنِي عَنْ هَؤُلَاءِ الْقَوْمِ الَّذِينَ قَتَلَهُمْ عَلِيٌّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ وَمَا لِي لَا أَصْدُقُكِ قَالَتْ فَحَدِّثْنِي عَنْ قِصَّتِهِمْ قَالَ فَإِنَّ عَلِيًّا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ لَمَّا كَاتَبَ مُعَاوِيَةَ وَحَكَمَ الْحَكَمَانِ خَرَجَ عَلَيْهِ ثَمَانِيَةُ آلَافٍ مِنْ قُرَّاءِ النَّاسِ فَنَزَلُوا بِأَرْضٍ يُقَالُ لَهَا حَرُورَاءُ مِنْ جَانِبِ الْكُوفَةِ وَإِنَّهُمْ عَتَبُوا عَلَيْهِ فَقَالُوا انْسَلَخْتَ مِنْ قَمِيصٍ أَلْبَسَكَهُ اللَّهُ تَعَالَى وَاسْمٍ سَمَّاكَ اللَّهُ تَعَالَى بِهِ ثُمَّ انْطَلَقْتَ فَحَكَّمْتَ فِي دِينِ اللَّهِ فَلَا حُكْمَ إِلَّا لِلَّهِ تَعَالَى فَلَمَّا أَنْ بَلَغَ عَلِيًّا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ مَا عَتَبُوا عَلَيْهِ وَفَارَقُوهُ عَلَيْهِ فَأَمَرَ مُؤَذِّنًا فَأَذَّنَ أَنْ لَا يَدْخُلَ عَلَى أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ إِلَّا رَجُلٌ قَدْ حَمَلَ الْقُرْآنَ فَلَمَّا أَنْ امْتَلَأَتْ الدَّارُ مِنْ قُرَّاءِ النَّاسِ دَعَا بِمُصْحَفٍ إِمَامٍ عَظِيمٍ فَوَضَعَهُ بَيْنَ يَدَيْهِ فَجَعَلَ يَصُكُّهُ بِيَدِهِ وَيَقُولُ أَيُّهَا الْمُصْحَفُ حَدِّثْ النَّاسَ فَنَادَاهُ النَّاسُ فَقَالُوا يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ مَا تَسْأَلُ عَنْهُ إِنَّمَا هُوَ مِدَادٌ فِي وَرَقٍ وَنَحْنُ نَتَكَلَّمُ بِمَا رُوِينَا مِنْهُ فَمَاذَا تُرِيدُ قَالَ أَصْحَابُكُمْ هَؤُلَاءِ الَّذِينَ خَرَجُوا بَيْنِي وَبَيْنَهُمْ كِتَابُ اللَّهِ يَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى فِي كِتَابِهِ فِي امْرَأَةٍ وَرَجُلٍ وَإِنْ خِفْتُمْ شِقَاقَ بَيْنِهِمَا فَابْعَثُوا حَكَمًا مِنْ أَهْلِهِ وَحَكَمًا مِنْ أَهْلِهَا إِنْ يُرِيدَا إِصْلَاحًا يُوَفِّقْ اللَّهُ بَيْنَهُمَا فَأُمَّةُ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَعْظَمُ دَمًا وَحُرْمَةً مِنْ امْرَأَةٍ وَرَجُلٍ وَنَقَمُوا عَلَيَّ أَنْ كَاتَبْتُ مُعَاوِيَةَ كَتَبَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ وَقَدْ جَاءَنَا سُهَيْلُ بْنُ عَمْرٍو وَنَحْنُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْحُدَيْبِيَةِ حِينَ صَالَحَ قَوْمَهُ قُرَيْشًا فَكَتَبَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ فَقَالَ سُهَيْلٌ لَا تَكْتُبْ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ فَقَالَ كَيْفَ نَكْتُبُ فَقَالَ اكْتُبْ بِاسْمِكَ اللَّهُمَّ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاكْتُبْ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ فَقَالَ لَوْ أَعْلَمُ أَنَّكَ رَسُولُ اللَّهِ لَمْ أُخَالِفْكَ فَكَتَبَ هَذَا مَا صَالَحَ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ قُرَيْشًا يَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى فِي كِتَابِهِ لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ فَبَعَثَ إِلَيْهِمْ عَلِيٌّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَخَرَجْتُ مَعَهُ حَتَّى إِذَا تَوَسَّطْنَا عَسْكَرَهُمْ قَامَ ابْنُ الْكَوَّاءِ يَخْطُبُ النَّاسَ فَقَالَ يَا حَمَلَةَ الْقُرْآنِ إِنَّ هَذَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَمَنْ لَمْ يَكُنْ يَعْرِفُهُ فَأَنَا أُعَرِّفُهُ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ مَا يَعْرِفُهُ بِهِ هَذَا مِمَّنْ نَزَلَ فِيهِ وَفِي قَوْمِهِ قَوْمٌ خَصِمُونَ فَرُدُّوهُ إِلَى صَاحِبِهِ وَلَا تُوَاضِعُوهُ كِتَابَ اللَّهِ فَقَامَ خُطَبَاؤُهُمْ فَقَالُوا وَاللَّهِ لَنُوَاضِعَنَّهُ كِتَابَ اللَّهِ فَإِنْ جَاءَ بِحَقٍّ نَعْرِفُهُ لَنَتَّبِعَنَّهُ وَإِنْ جَاءَ بِبَاطِلٍ لَنُبَكِّتَنَّهُ بِبَاطِلِهِ فَوَاضَعُوا عَبْدَ اللَّهِ الْكِتَابَ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ فَرَجَعَ مِنْهُمْ أَرْبَعَةُ آلَافٍ كُلُّهُمْ تَائِبٌ فِيهِمْ ابْنُ الْكَوَّاءِ حَتَّى أَدْخَلَهُمْ عَلَى عَلِيٍّ الْكُوفَةَ فَبَعَثَ عَلِيٌّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ إِلَى بَقِيَّتِهِمْ فَقَالَ قَدْ كَانَ مِنْ أَمْرِنَا وَأَمْرِ النَّاسِ مَا قَدْ رَأَيْتُمْ فَقِفُوا حَيْثُ شِئْتُمْ حَتَّى تَجْتَمِعَ أُمَّةُ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَنْ لَا تَسْفِكُوا دَمًا حَرَامًا أَوْ تَقْطَعُوا سَبِيلًا أَوْ تَظْلِمُوا ذِمَّةً فَإِنَّكُمْ إِنْ فَعَلْتُمْ فَقَدْ نَبَذْنَا إِلَيْكُمْ الْحَرْبَ عَلَى سَوَاءٍ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْخَائِنِينَ فَقَالَتْ لَهُ عَائِشَةُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا يَا ابْنَ شَدَّادٍ فَقَدْ قَتَلَهُمْ فَقَالَ وَاللَّهِ مَا بَعَثَ إِلَيْهِمْ حَتَّى قَطَعُوا السَّبِيلَ وَسَفَكُوا الدَّمَ وَاسْتَحَلُّوا أَهْلَ الذِّمَّةِ فَقَالَتْ أَاللَّهِ قَالَ أَاللَّهِ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ لَقَدْ كَانَ قَالَتْ فَمَا شَيْءٌ بَلَغَنِي عَنْ أَهْلِ الذِّمَّةِ يَتَحَدَّثُونَهُ يَقُولُونَ ذُو الثُّدَيِّ وَذُو الثُّدَيِّ قَالَ قَدْ رَأَيْتُهُ وَقُمْتُ مَعَ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَلَيْهِ فِي الْقَتْلَى فَدَعَا النَّاسَ فَقَالَ أَتَعْرِفُونَ هَذَا فَمَا أَكْثَرَ مَنْ جَاءَ يَقُولُ قَدْ رَأَيْتُهُ فِي مَسْجِدِ بَنِي فُلَانٍ يُصَلِّي وَرَأَيْتُهُ فِي مَسْجِدِ بَنِي فُلَانٍ يُصَلِّي وَلَمْ يَأْتُوا فِيهِ بِثَبَتٍ يُعْرَفُ إِلَّا ذَلِكَ قَالَتْ فَمَا قَوْلُ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ حِينَ قَامَ عَلَيْهِ كَمَا يَزْعُمُ أَهْلُ الْعِرَاقِ قَالَ سَمِعْتُهُ يَقُولُ صَدَقَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ قَالَتْ هَلْ سَمِعْتَ مِنْهُ أَنَّهُ قَالَ غَيْرَ ذَلِكَ قَالَ اللَّهُمَّ لَا قَالَتْ أَجَلْ صَدَقَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ يَرْحَمُ اللَّهُ عَلِيًّا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ إِنَّهُ كَانَ مِنْ كَلَامِهِ لَا يَرَى شَيْئًا يُعْجِبُهُ إِلَّا قَالَ صَدَقَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ فَيَذْهَبُ أَهْلُ الْعِرَاقِ يَكْذِبُونَ عَلَيْهِ وَيَزِيدُونَ عَلَيْهِ فِي الْحَدِيثِ
উবাইদুল্লাহ বিন ইয়াদ থেকে বর্ণিতঃ
আবদুল্লাহ বিন শাদ্দাদ আলীর রাদিয়াল্লাহু আনহু নিহত হওয়ার কয়েকদিন পর ইরাক থেকে ফিরে আয়িশার কাছে এলেন। আমরা তখন আয়িশার নিকট বসেছিলাম। আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে বললেনঃ হে আবদুল্লাহ বিন শাদ্দাদ, আমি যা তোমাকে জিজ্ঞাসা করবো তুমি কি তার জবাবে আমাকে সত্য বলবে? আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক নিহত লোকদের ঘটনা আমাকে বলবে? সে বললোঃ আমার কী হয়েছে যে আপনার কাছে সত্য বলবো না? আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এরপর তিনি তাদের কাহিনী নিম্নরূপ বর্ণনা করলেনঃ
আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন মুয়াবিয়ার সাথে চুক্তিবদ্ধ হলেন এবং দু’জন শালিশ তাদের সিদ্ধান্ত দিলেন, তখন আট হাজার কুরআনের পাঠক (হাফিয) তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলো। তার হারুরা নামক স্থানে কুফার দিক থেকে এসে সমবেত হলো এবং তারা এই বলে ভর্ৎসনা করলোঃ যে জামাটি আল্লাহ আপনাকে পরিয়েছিলেন, (অর্থাৎ খিলাফাত) তা আপনি খুলে ফেলেছেন এবং যে নামে আল্লাহ আপনাকে নামকরণ করেছিলেন তা আপনি খুইয়ে ফেলেছেন। তারপর আপনি এতদূর গিয়েছেন যে, আল্লাহর দীনের ব্যাপারে অন্যদের শালিশ মেনেছেন। সুতরাং আল্লাহ ছাড়া আর কারো শাসন নয়। (অর্থাৎ আপনাকে শাসক মানি না) আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন তাদের এই ভর্ৎসনা ও তাদের পক্ষ থেকে তাকে ত্যাগ করার খবর শুনলেন, তখন জনৈক ঘোষণাকারীকে আদেশ দিয়ে এই ঘোষণা জারী করালেন যে, আমীরুল মুমিনীনের কাছে কুরআন বহনকারী ছাড়া আর কেউ যেন না আসে।
এ ঘোষণার ফলে যখন আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু এর বাড়ি হাফিযদের দ্বারা পূর্ণ হয়ে গেল, তখন একটি বড় আকারের কুরআন শরীফ তাঁর কাছে নিয়ে আসার আদেশ দিলেন। সেই কুরআন শরীফটি তার সামনে রাখা হলো। তিনি তার ওপর হাত চাপড়ে বললেনঃ ওহে কুরআন শরীফ, মানুষকে জানাও। লোকেরা তাকে বললেনঃ হে আমীরুল মুমিনীন, তার কাছে আপনি কী চাইছেন? সেতো একটা কাগজের ওপর কিছু কালি ছাড়া কিছু নয়। আর আমরা কথা বলছি আমাদের পক্ষ থেকে যা বর্ণনা করা হয়েছে সে সম্পর্কে। সুতরাং আপনি কী চান?
আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ তোমাদের এই সব সাথী, যারা বিদ্রোহ করেছে, তাদের মধ্যে ও আমাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাব ফায়সালাকারী হিসাবে বিদ্যমান। আল্লাহ তাঁর কিতাবে একজন পুরুষ ও স্ত্রী সম্পর্কে বলেছেনঃ তোমরা যদি স্বামী ও স্ত্রীর মাঝে বিরোধের আশঙ্কা কর, তাহলে স্বামীর পরিবার থেকে একজন শালিশ এবং স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন শালিশ পাঠাও। তারা উভয়ে যদি নিজেদের সংশোধন কামনা করে, তাহলে আল্লাহ তাদের মধ্যে সম্প্রীতির সৃষ্টি করে দেবেন।” মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মাতের রক্ত ও সম্মান একজন স্বামী ও স্ত্রীর চেয়ে অনেক বেশি মর্যাদা সম্পন্ন। তারা আমার ওপর রাগান্বিত এ জন্য যে, আমি মুয়াবিয়ার সাথে সন্ধি করেছি। অথচ আবু তালিবের ছেলে আলী চুক্তি লিখেছিল তখন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্বগোত্র কুরাইশের সাথে সন্ধি করেছিলেন।
তখন সুহাইল বিন আমর আমাদের নিকট উপস্থিত হয়েছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লিখলেন “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।” সুহাইল বললোঃ “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” লিখবেন না। তিনি বললেনঃ তাহলে কী লিখবো? সে বললোঃ লিখুন, বিসমিকা আল্লাহুম্মা”। এরপর রাসূলুল্লাহ আমাকে বললেনঃ লেখঃ “আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ” ... সুহাইল বাধা দিয়ে বললোঃ আমরা যদি আপনাকে আল্লাহর রাসূল মানতাম, তাহলে তো আপনার বিরোধিতাই করতাম না। তাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লিখলেনঃ এটা সেই সন্ধি, যা আবদুল্লাহর ছেলে মুহাম্মাদ কুরাইশের সাথে স্থাপন করেছেন। আল্লাহ তাঁর কিতাবে বলেনঃ “আল্লাহর রাসূলের মধ্যে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ রয়েছে যারা আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস রাখে তাদের জন্য।” (অর্থাৎ কাফিরদের সাথে যদি সন্ধি করা বৈধ হয়ে থাকে, তাহলে মুয়াবিয়ার সাথে তা অবশ্যই বৈধ হবে)
অতঃপর আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু তাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসকে পাঠালেন। আমিও তার সাথে রওনা হলাম। যখন তাদের বাহিনীর মাঝে পৌঁছলাম, তখন ইবনুল কাওয়া জনগণের সামনে ভাষণ দিতে আরম্ভ করলো। সে বললোঃ হে কুরআন বহনকারীগণ, এ হচ্ছে আবদুল্লাহ ইবনুল আব্বাস। তাঁকে যারা চেনে না, আমি তাদের সামনে আল্লাহর কিতাব থেকে তাঁর পরিচয় তুলে ধরছি। এই ব্যক্তি তাদেরই একজন, যাদের সম্পর্কে কুরআনে নাযিল হয়েছে قَوْمٌ خَصِمُونَ “তারা হলো একটা ঝগড়াটে জাতি।” সুতরাং তাকে তার বন্ধুর কাছে (আলীর কাছে) ফেরত পাঠাও এবং তার সাথে আল্লাহর কিতাব দ্বারা বাজি ধরোনা।
তৎক্ষণাত তাদের মধ্য থেকে অন্যান্য ভাষণদাতা উঠে বললোঃ আল্লাহর কসম, আমরা অবশ্যই তার সাথে আল্লাহর কিতাব দ্বারা বাজি ধরবো। সে যদি সত্য ও সঠিক বক্তব্য নিয়ে আসে এবং আমরা তা বুঝতে পারি। তাহলে আমরা অবশ্যই তা মেনে চলবো। আর যদি অসত্য নিয়ে আসে, তাহলে আমরা তাকে অবশ্যই তার বাতিলযুক্তিতে পরাজিত করবো। তারপর তারা আবদুল্লাহর সাথে তিনদিন আল্লাহর কিতাবের বাজি ধরে রইল। এরপর তাদের (মুয়াবিয়ার পক্ষের) মধ্য থেকে চারহাজার ব্যক্তি তাদের বাজি প্রত্যাহার করলো এবং প্রত্যেকে তাওবা করলো। ইবনুল কাওয়াও তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যিনি তাদের সবাইকে কুফায় আলীর নিকট হাজির করলেন।
আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু অবশিষ্ট লোকদের নিকট এই মর্মে বার্তা পাঠালেন, ইতিমধ্যে আমাদের ও জনগনের মধ্যে যা হয়েছে, তা তো তোমরা দেখতেই পেয়েছ। সুতরাং তোমরা যেখানে চাও, স্থির হও, যতক্ষণ মুহাম্মাদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর উম্মাত আমাদের ও তোমাদের মধ্যে সমবেত না হয়। তোমরা কোন অবৈধ রক্তপাত করো না। ডাকাতি রাহাজানি ও লুণ্ঠন করো না এবং কোন সংখ্যালঘুর ওপর যুলুম করো না। যদি এসব কর, তাহলে আমরাও একইভাবে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবো। কেননা আল্লাহ বিশ্বাসঘাতকদেরকে পছন্দ করেন না। আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ হে ইবনে শাদ্দাদ, আলী কি তাদেরকে হত্যা করেছিলেন? ইবনে শাদ্দাদ বললেনঃ আল্লাহর কসম, তাদের কাছে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু কোন বাহিনী ততক্ষণ পাঠাননি, যতক্ষণ না তারা ডাকাতি ও লুটপাট চালিয়েছে, রক্তপাত করেছে এবং অমুসলিমদের ওপর অত্যাচার চালিয়েছে।
আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ সত্যি? সে বললোঃ আল্লাহর কসম, যিনি ব্যতীত আর কোন ইলাহ নাই। এটাই ঘটেছিল। আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ তাহলে ইরাকীদের সম্পর্কে আমি যে শুনলাম, তারা বলাবলি করে, “উন্নত বক্ষা নারীদের মালিক”, উন্নত বক্ষা নারীদের মালিক”- এটা কী? ইবনে শাদ্দাদ বললেনঃ যে ব্যক্তি এ রকম রটনা করে, তাকে আমি দেখেছি এবং আলীকে সাথে নিয়ে নিহতদের মধ্যে তার জানাযা পড়েছি। তিনি লোকজনকে ডাকলেন এবং বললেনঃ তোমরা একে চিন? বহুলোক এসে বললোঃ ওকে অমুক গোত্রের মসজিদে নামায পড়তে দেখেছি, অমুক মসজিদে নামায পড়তে দেখেছি। কিন্তু তারা এইটুকু ছাড়া কোন সুনির্দিষ্ট প্রমাণ কেউ দিতে পারলো না।
আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন তার জানাযা পড়লেন, তখন ইরাকবাসী যে ধারণা পোষণ করে, তার সম্পর্কে তিনি কী বললেন? ইবনে শাদ্দাদ বললেনঃ তাকে বলতে শুনলামঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সত্য বলেছেন। আয়িশা বললেনঃ তাকে কি অন্য কিছু বলতে শুনেছি? ইবনে শাদ্দাদ বললেনঃ আল্লাহর কসম, না। আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, হ্যাঁ। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সত্যই বলেছেন। আল্লাহ আলীর ওপর রহমত করুন। কারণ তিনি যে কোন বিস্ময়কর ব্যাপার দেখলেই বলতেনঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সত্য বলেছেন। অথচ ইরাকবাসী তার ওপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে ও অতিরঞ্জিত কথা বলে। [মুসনাদে আহমাদ : ৬২১]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ عَنْ شُعْبَةَ عَنِ الْحَكَمِ عَنِ أَبِي مُحَمَّدٍ الْهُذَلِيِّ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي جَنَازَةٍ فَقَالَ أَيُّكُمْ يَنْطَلِقُ إِلَى الْمَدِينَةِ فَلَا يَدَعُ بِهَا وَثَنًا إِلَّا كَسَرَهُ وَلَا قَبْرًا إِلَّا سَوَّاهُ وَلَا صُورَةً إِلَّا لَطَّخَهَا فَقَالَ رَجُلٌ أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ فَانْطَلَقَ فَهَابَ أَهْلَ الْمَدِينَةِ فَرَجَعَ فَقَالَ عَلِيٌّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَا أَنْطَلِقُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ فَانْطَلِقْ فَانْطَلَقَ ثُمَّ رَجَعَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَمْ أَدَعْ بِهَا وَثَنًا إِلَّا كَسَرْتُهُ وَلَا قَبْرًا إِلَّا سَوَّيْتُهُ وَلَا صُورَةً إِلَّا لَطَّخْتُهَا ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ عَادَ لِصَنْعَةِ شَيْءٍ مِنْ هَذَا فَقَدْ كَفَرَ بِمَا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ قَالَ لَا تَكُونَنَّ فَتَّانًا وَلَا مُخْتَالًا وَلَا تَاجِرًا إِلَّا تَاجِرَ الْخَيْرِ فَإِنَّ أُولَئِكَ هُمْ الْمَسْبُوقُونَ بِالْعَمَلِ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنِ الْحَكَمِ عَنْ رَجُلٍ مِنْ أَهْلِ الْبَصْرَةِ قَالَ وَيُكَنُّونَهُ أَهْلُ الْبَصْرَةِ أَبَا مُوَرِّعٍ قَالَ وَأَهْلُ الْكُوفَةِ يُكَنُّونَهُ بِأَبِي مُحَمَّدٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي جَنَازَةٍ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ وَلَمْ يَقُلْ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَقَالَ وَلَا صُورَةً إِلَّا طَلَخَهَا فَقَالَ مَا أَتَيْتُكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ حَتَّى لَمْ أَدَعْ صُورَةً إِلَّا طَلَخْتُهَا وَقَالَ لَا تَكُنْ فَتَّانًا وَلَا مُخْتَالًا
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি জানাযায় ছিলেন। তারপর বললেনঃ তোমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে, মদীনায় গিয়ে সকল মূর্তি ভেঙ্গে দেবে, সকল কবর সমান করে দেবে এবং সকল ছবির ওপর কালো কালি মেখে দেবে? এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমি পারবো। অতঃপর সে চলে গেল। কিন্তু মদীনাবাসীর ভয়ে ভীত হয়ে ফিরে এল। তখন আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমি যাবো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ বেশ, যাও। তিনি গেলেন, আবার ফিরে এলেন। এসে বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমি প্রতিটি মূর্তি ভেঙ্গে এসেছি, প্রতিটি কবর সমান করে এসেছি এবং প্রতিটি ছবিতে কালি মেখে এসেছি। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এর একটিও যে ব্যক্তি পুনরায় করবে, সে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাযিলকৃত দীনকে অস্বীকার করবে। তারপর বললেনঃ কেউ নির্যাতনকারী হয়ো না, অহংকারী হয়ো না, ব্যবসায়ী হয়ো না, তবে সৎ ব্যবসায়ী হয়ো। কেননা এসকল (নির্যাতনকারী, অহংকারী ও অসৎ ব্যবসায়ী) লোক সৎকাজে পেছনে পড়ে যাবে। (সুতরাং কোন অজুহাতেই কোন প্রাণীর ছবি বা প্রতিকৃতি তৈরি করা ও স্থাপন করা ইসলাম সম্মত নয়।) [মুসনাদে আহমাদ : ৬২২]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ وَحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَا حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنِ الْحَارِثِ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي رَكْعَتَيْ الْفَجْرِ عِنْدَ الْإِقَامَةِ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের দু’রাকাআত (সুন্নাত) নামায ইকামাতের সময় (অর্থাৎ পূর্ব মুহুর্তে) পড়তেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৬২৩]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস


حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ مُجَالِدٍ حَدَّثَنِي عَامِرٌ عَنْ الْحَارِثِ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَشَرَةً آكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ وَالْحَالَّ وَالْمُحَلَّلَ لَهُ وَمَانِعَ الصَّدَقَةِ وَالْوَاشِمَةَ وَالْمُسْتَوْشِمَةَ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
দশ ব্যক্তিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিশাপ দিয়েছেন, সুদখোর, সুদদাতা, সুদ সংক্রান্ত বিষয়ের লেখক, সুদের দুইজন সাক্ষী, হিল্লাকারী, যার জন্যে হিল্লা করা হয়, যে ব্যক্তি যাকাত দেয় না, উল্কি অঙ্কনকারী, যে উল্কি করায়। [মুসনাদে আহমাদ : ৬২৪]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا خَلَفٌ حَدَّثَنَا قَيْسٌ عَنِ الْأَشْعَثِ بْنِ سَوَّارٍ عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ عَنْ أَبِي ظَبْيَانَ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا عَلِيُّ إِنْ أَنْتَ وُلِّيتَ الْأَمْرَ بَعْدِي فَأَخْرِجْ أَهْلَ نَجْرَانَ مِنْ جَزِيرَةِ الْعَرَبِ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেনঃ হে আলী, তুমি যদি আমার পরে শাসক নিযুক্ত হও, তাহলে নাজরানবাসী (খৃষ্টান) কে আরব উপদ্বীপ থেকে বহিষ্কার করে দিও।
(এ হাদীস থেকে দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রমাণিত হয়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী বা অন্য কাউকে খালীফা মনোনীত করে যাননি। তবে আলীকে খালীফা হওয়ার যোগ্য মনে করতেন, তা বুঝা যায়।) [মুসনাদে আহমাদ : ৬২৫]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস


حَدَّثَنَا عَبْد اللَّهِ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنِ الْمُنْذِرِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ كُنْتُ رَجُلًا مَذَّاءً فَكُنْتُ أَسْتَحِي أَنْ أَسْأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِمَكَانِ ابْنَتِهِ فَأَمَرْتُ الْمِقْدَادَ فَسَأَلَهُ فَقَالَ يَغْسِلُ ذَكَرَهُ وَيَتَوَضَّأُ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
আমার পুরুষাঙ্গ দিয়ে ঘন ঘন মযি (লালার মত তরল পদার্থ) নির্গত হতো। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে জিজ্ঞাসা করতে লজ্জা পেতাম। কেননা আমার কাছে তাঁর মেয়ে রয়েছে। তাই মিকদাদকে জিজ্ঞাসা করতে অনুরোধ করলাম। সে জিজ্ঞাসা করলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পুরুষাঙ্গ ধুয়ে ওযূ করবে। [মুসনাদে আহমাদ : ৬২৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا خَلَفٌ حَدَّثَنَا خَالِدٌ عَنْ مُطَرِّفٍ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنِ الْحَارِثِ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى أَنْ يَرْفَعَ الرَّجُلُ صَوْتَهُ بِالْقِرَاءَةِ قَبْلَ الْعِشَاءِ وَبَعْدَهَا يُغَلِّطُ أَصْحَابَهُ وَهُمْ يُصَلُّونَ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার আগে ও পরে উচ্চস্বরে কুরআন পড়তে নিষেধ করেছেন। এতে নামায আদায়রত অন্যান্য লোকের নামাযে ভুল হতে পারে। [মুসনাদে আহমাদ : ৬২৭]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا خَلَفٌ حَدَّثَنَا خَالِدٌ عَنْ عَاصِمِ بْنِ كُلَيْبٍ عَنْ أَبِي بُرْدَةَ بْنِ أَبِي مُوسَى أَنَّ عَلِيًّا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَلْ اللَّهَ تَعَالَى الْهُدَى وَالسَّدَادَ وَاذْكُرْ بِالْهُدَى هِدَايَتَكَ الطَّرِيقَ وَاذْكُرْ بِالسَّدَادِ تَسْدِيدَكَ السَّهْمَ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর কাছ থেকে সঠিক পথের সন্ধান চাও এবং সঠিক কাজ করার প্রেরণা চাও। যখন সঠিক পথের সন্ধান চাইবে তখন দীনের পথে থাকার কথা বলবে। আর যখন সঠিক কাজ করার প্রেরণা চাইবে, তখন বিশেষভাবে তোমার তীর যাতে লক্ষ্যভেদী হয়, তার উল্লেখ করবে। [মুসনাদে আহমাদ : ৬২৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ قَالَ عَبْد اللَّهِ وَسَمِعْتُهُ أَنَا مِنْ مُحَمَّدِ بْنِ الصَّبَّاحِ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ زَكَرِيَّا عَنْ كَثِيرٍ النَّوَّاءِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُلَيْلٍ قَالَ سَمِعْتُ عَلِيًّا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَيْسَ مِنْ نَبِيٍّ كَانَ قَبْلِي إِلَّا قَدْ أُعْطِيَ سَبْعَةَ نُقَبَاءَ وُزَرَاءَ نُجَبَاءَ وَإِنِّي أُعْطِيتُ أَرْبَعَةَ عَشَرَ وَزِيرًا نَقِيبًا نَجِيبًا سَبْعَةً مِنْ قُرَيْشٍ وَسَبْعَةً مِنْ الْمُهَاجِرِينَ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ আমার পূর্ববতী প্রত্যেক নবী সাতজন এমন উপদেষ্ট পেতেন যারা হতেন তার উত্তরাধিকারীদের নেতা ও সর্বগুণে গুণান্বিত। আর আমি পেয়েছি চৌদ্দজন সর্বগুণে গুণান্বিত, উত্তরাধিকারীদের নেতা ও উপদেষ্টা। সাতজন কুরাইশ থেকে এবং সাতজন মুহাজিরদের মধ্য থেকে। [মুসনাদে আহমাদ : ৬২৯]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ حَارِثَةَ بْنِ مُضَرِّبٍ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى الْيَمَنِ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّكَ تَبْعَثُنِي إِلَى قَوْمٍ هُمْ أَسَنُّ مِنِّي لِأَقْضِيَ بَيْنَهُمْ قَالَ اذْهَبْ فَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى سَيُثَبِّتُ لِسَانَكَ وَيَهْدِي قَلْبَكَ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ইয়ামানে পাঠিয়েছিলেন। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, আপনি আমাকে আমার চেয়ে প্রবীন একটি গোষ্ঠীর নিকট তাদের বিচার ফায়সালার জন্য পাঠাচ্ছেন? তিনি বললেনঃ যাও, আল্লাহ তোমার জিহ্বাকে সংযত ও বলিষ্ঠ করবেন এবং তোমার মনকে সঠিক পথ দেখাবেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৩০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ حَدَّثَنَا أَبَانُ يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ اللَّهِ حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ غُزَيٍّ حَدَّثَنِي عَمِّي عِلْبَاءُ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ مَرَّتْ إِبِلُ الصَّدَقَةِ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فَأَهْوَى بِيَدِهِ إِلَى وَبَرَةٍ مِنْ جَنْبِ بَعِيرٍ فَقَالَ مَا أَنَا بِأَحَقَّ بِهَذِهِ الْوَبَرَةِ مِنْ رَجُلٍ مِنْ الْمُسْلِمِينَ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
যাকাতের এক পাল উট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ দিয়ে গেল। তিনি একটি উটের পাঁজরের একটা পশম হাত দিয়ে স্পর্শ করলেন এবং বললেনঃ এই পশমটার ওপর আমার অধিকার যে কোন একজন সাধারণ মুসলিমের চেয়ে বেশি নয়। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৩১]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا حَسَنُ بْنُ مُوسَى حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ حَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ يَزِيدَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زُرَيْرٍ الْغَافِقِيِّ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ بَيْنَمَا نَحْنُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نُصَلِّي إِذْ انْصَرَفَ وَنَحْنُ قِيَامٌ ثُمَّ أَقْبَلَ وَرَأْسُهُ يَقْطُرُ فَصَلَّى لَنَا الصَّلَاةَ ثُمَّ قَالَ إِنِّي ذَكَرْتُ أَنِّي كُنْتُ جُنُبًا حِينَ قُمْتُ إِلَى الصَّلَاةِ لَمْ أَغْتَسِلْ فَمَنْ وَجَدَ مِنْكُمْ فِي بَطْنِهِ رِزًّا أَوْ كَانَ عَلَى مِثْلِ مَا كُنْتُ عَلَيْهِ فَلْيَنْصَرِفْ حَتَّى يَفْرُغَ مِنْ حَاجَتِهِ أَوْ غُسْلِهِ ثُمَّ يَعُودُ إِلَى صَلَاتِهِ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ إِسْحَاقَ حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ عَنِ الْحَارِثِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زُرَيْرٍ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَذَكَرَ مِثْلَهُ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে নামায পড়ছিলাম। সহসা তিনি চলে গেলেন। আমরা তখনো নামাযে দাঁড়িয়ে। তারপর তিনি ফিরে এলেন। তার মাথা দিয়ে তখনও পানি টপকাচ্ছিল। তারপর তিনি আমাদের নামায পড়ালেন। তারপর বললেন, আমার মনে পড়লো, আমি যখন নামাযে দাড়াই, তখন “জানাবাত” (বীর্যপাত জনিত অপবিত্রতা) অবস্থায় ছিলাম। অথচ গোসল করিনি। সুতরাং তোমাদের কেউ যদি পেটে কোন ব্যথা অনুভব করে, অথবা আমার যে অবস্থা ছিল, সে অবস্থায় থাকে, তাহলে তার বেরিয়ে গিয়ে প্রয়োজন সেরে অথবা গোসল করে এসে পুনরায় নামায পড়া উচিত। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৩২]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ يَعْنِي ابْنَ أَبِي صَالِحٍ الْأَسْلَمِيَّ حَدَّثَنِي زِيَادُ بْنُ أَبِي زِيَادٍ سَمِعْتُ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَنْشُدُ النَّاسَ فَقَالَ أَنْشُدُ اللَّهَ رَجُلًا مُسْلِمًا سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ يَوْمَ غَدِيرِ خُمٍّ مَا قَالَ فَقَامَ اثْنَا عَشَرَ بَدْرِيًّا فَشَهِدُوا
যিয়াদ থেকে বর্ণিতঃ
আমি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জনগণের কাছ থেকে শপথ নিয়ে বলতে শুনেছিঃ আমি আল্লাহর শপথ দিয়ে প্রত্যেক মুসলিমকে জিজ্ঞাসা করছি, খুমের জলাশয়ের কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে ভাষণ দিয়েছিলেন তা কেউ শুনেছ কিনা। তখন বারো জন বদর যোদ্ধা দাঁড়িয়ে সাক্ষ্য দিল যে, তারা শুনেছে। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৩৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنِ الْحَارِثِ عَنِ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَاحِبَ الرِّبَا وَآكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ وَالْمُحَلِّلَ وَالْمُحَلَّلَ لَهُ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
সুদদাতা, সুদ গ্রহীতা, সুদের লেখক, সুদের সাক্ষীদ্বয়, সুদকে হালাল প্রতিপন্নকারী এবং যার জন্য হালাল প্রতিপন্ন করা হয়- এদের সকলকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিসম্পাত করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৩৪]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ مَوْلَى بَنِي هَاشِمٍ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُسْلِمٍ الْعَبْدِيُّ حَدَّثَنَا أَبُو كَثِيرٍ مَوْلَى الْأَنْصَارِ قَالَ كُنْتُ مَعَ سَيِّدِي عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ حَيْثُ قُتِلَ أَهْلُ النَّهْرَوَانِ فَكَأَنَّ النَّاسَ وَجَدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ مِنْ قَتْلِهِمْ فَقَالَ عَلِيٌّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ حَدَّثَنَا بِأَقْوَامٍ يَمْرُقُونَ مِنْ الدِّينِ كَمَا يَمْرُقُ السَّهْمُ مِنْ الرَّمِيَّةِ ثُمَّ لَا يَرْجِعُونَ فِيهِ أَبَدًا حَتَّى يَرْجِعَ السَّهْمُ عَلَى فُوقِهِ وَإِنَّ آيَةَ ذَلِكَ أَنَّ فِيهِمْ رَجُلًا أَسْوَدَ مُخْدَجَ الْيَدِ إِحْدَى يَدَيْهِ كَثَدْيِ الْمَرْأَةِ لَهَا حَلَمَةٌ كَحَلَمَةِ ثَدْيِ الْمَرْأَةِ حَوْلَهُ سَبْعُ هُلْبَاتٍ فَالْتَمِسُوهُ فَإِنِّي أُرَاهُ فِيهِمْ فَالْتَمَسُوهُ فَوَجَدُوهُ إِلَى شَفِيرِ النَّهَرِ تَحْتَ الْقَتْلَى فَأَخْرَجُوهُ فَكَبَّرَ عَلِيٌّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَقَالَ اللَّهُ أَكْبَرُ صَدَقَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَإِنَّهُ لَمُتَقَلِّدٌ قَوْسًا لَهُ عَرَبِيَّةً فَأَخَذَهَا بِيَدِهِ فَجَعَلَ يَطْعَنُ بِهَا فِي مُخْدَجَتِهِ وَيَقُولُ صَدَقَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَكَبَّرَ النَّاسُ حِينَ رَأَوْهُ وَاسْتَبْشَرُوا وَذَهَبَ عَنْهُمْ مَا كَانُوا يَجِدُونَ
আনসারদের মুক্ত দাস আবু কাছীর থেকে বর্ণিতঃ
নাহরাওয়ানবাসীকে যখন হত্যা করা হয়, তখন আমি আমার মনিব আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে ছিলাম। তখন মনে হচ্ছিল, তাদের হত্যাকাণ্ডে জনগণ বিক্ষুব্ধ ও ক্রুদ্ধ ছিল। তাই আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ হে জনতা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে জানিয়েছেন, এক শ্রেণীর লোক ইসলাম থেকে এরূপ দ্রুত গতিতে বেরিয়ে যাবে, যেরূপ দ্রুত ধনুক থেকে তীর বেরিয়ে যায় এবং আর কখনো ফিরে আসবে না, যেমন তীর তার ধনুকে ফিরে আসে না। এর নিদর্শন হলো, তাদের মধ্যে এমন একজন কালো মানুষ থাকবে, যার হাতের গঠন অসম্পূর্ণ। তার একখানা হাত মহিলাদের স্তনের মত। সে হাতখানিতে মহিলার স্তনের বোটার মত একটা বোঁটা থাকবে। তার পাশে সাতটি লোমগুচ্ছ থাকবে। সুতরাং তোমরা তাঁকে খুঁজে দেখ। আমার মনে হচ্ছে, এই নিহতদের মধ্যেই সে আছে।
তখন লোকেরা তাকে খুঁজলো। কিছুক্ষণের মধ্যেই নদীর তীরে নিহতদের লাশের নিচে তাঁকে পেল এবং তাকে টেনে বের করলো। তাকে দেখেই আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু আল্লাহু আকবার বলে উঠলেন এবং বললেনঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অবশ্যই সত্য বলেছেন। তখন তাঁর কাঁধে আরবীয় ধনুক ছিল। সেটি তিনি হাতে নিলেন এবং তা দিয়ে তার হাতের অসম্পূর্ণতার স্থানটিতে খোঁচা দিয়ে বললেনঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সত্য বলেছেন। লোকেরা তাকে দেখে আল্লাহু আকবার ধ্বনি দিল। উল্লাস প্রকাশ করলো এবং তাদের মধ্যে যে ক্ষোভ ছিল তা প্রশমিত হলো। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৩৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنِ الْحَارِثِ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِلْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ مِنْ الْمَعْرُوفِ سِتٌّ يُسَلِّمُ عَلَيْهِ إِذَا لَقِيَهُ وَيُشَمِّتُهُ إِذَا عَطَسَ وَيَعُودُهُ إِذَا مَرِضَ وَيُجِيبُهُ إِذَا دَعَاهُ وَيَشْهَدُهُ إِذَا تُوُفِّيَ وَيُحِبُّ لَهُ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ وَيَنْصَحُ لَهُ بِالْغَيْبِ حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنِ الْحَارِثِ فَذَكَرَ نَحْوَهُ بِإِسْنَادِهِ وَمَعْنَاهُ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক মুসলিমের ওপর অপর মুসলিমের ছয়টি মহৎ কাজের দায়িত্ব রয়েছেঃ তার সাথে সাক্ষাত হলে সালাম দেবে, কেউ হাঁচি দিলে ইয়ারহামুকাল্লাহ বলবে, কেউ অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাবে, কেউ তাকে দাওয়াত করলে তা গ্রহণ করবে, কেউ মারা গেলে তার জানাযায় উপস্থিত হবে, নিজের জন্য যা পছন্দ করে তার জন্যও তা পছন্দ করবে এবং তার অনুপস্থিতিতে তার হিতকামী থাকবে। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৩৬]
[ইবনু মাজাহ ১৪৩৩, তিরমিযী ২৭৩৬]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ عَنْ الْحَارِثِ عَنِ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يُلْتَمَسَ رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِي كَمَا تُلْتَمَسُ أَوْ تُبْتَغَى الضَّالَّةُ فَلَا يُوجَدُ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামত ততক্ষণ পর্যন্ত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ আমার একজন সাহাবীকে হারানো জিনিস খোঁজার মত হন্যে হয়ে খোঁজা হবে, কিন্তু পাওয়া যাবে না। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৩৭]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ حَارِثَةَ بْنِ مُضَرِّبٍ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ بَدْرٍ مَنْ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ تَأْسِرُوهُ مِنْ بَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ فَإِنَّهُمْ خَرَجُوا كُرْهًا
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
বদরের যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আবদুল মুত্তালিবের বংশধরের মধ্য থেকে যাকে তোমরা বাগে পাও, গ্রেফতার করো, (হত্যা করো না) কেননা তারা বাধ্য হয়ে যুদ্ধের ময়দানে এসেছে। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৩৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ وَتَجْعَلُونَ رِزْقَكُمْ أَنَّكُمْ تُكَذِّبُونَ قَالَ شِرْكُكُمْ مُطِرْنَا بِنَوْءِ كَذَا وَكَذَا بِنَجْمِ كَذَا وَكَذَا
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম “আর তোমরা তোমাদের জীবিকাকে মিথ্যা বলার উপলক্ষ বানিয়ে থাকো” (সূরা আল ওয়াকিয়াঃ ৮২) এই আয়াতটি পাঠ করে বললেন, তোমাদের শিরক হলো এই মিথ্যা কথন যে, অমুক গ্রহ ও অমুক নক্ষত্রের উসিলায় আমরা বৃষ্টি পেলাম। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৩৯]
[তিরমিযী ৩২৯৫]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ وَأَسْوَدُ بْنُ عَامِرٍ قَالَا حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنِ الْحَارِثِ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُوتِرُ بِتِسْعِ سُوَرٍ مِنْ الْمُفَصَّلِ قَالَ أَسْوَدُ يَقْرَأُ فِي الرَّكْعَةِ الْأُولَى أَلْهَاكُمْ التَّكَاثُرُ وَإِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ وَإِذَا زُلْزِلَتْ الْأَرْضُ وَفِي الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ وَالْعَصْرِ وَإِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ وَإِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ وَفِي الرَّكْعَةِ الثَّالِثَةِ قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ وَتَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ وَقُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নয়টি সূরা দিয়ে বিতরের নামায পড়তেনঃ প্রথম রাকাআতে “আলহাকুমুত তাকাছুর” “ইন্না আনযালনাহু ফী লাইলাতিল কাদর” ও “ইযা যুলাযিলাতিল আরদু”, দ্বিতীয় রাকাআতে ওয়াল আসরি, ইযা জা’য়া নাসরুল্লাহি ও ইন্না আতাইনা কাল কাউছার এবং তৃতীয় রাকাআতে কুল ইয়া আইউহাল কাফিরুন, তাব্বাত ইয়াদা আবি লাহাব ও কুল হুয়াল্লাহু আহাদ পড়তেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৪০]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ سَمِعْتُ عَبْدَ الْأَعْلَى يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي جَمِيلَةَ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ أَمَةً لَهُمْ زَنَتْ فَحَمَلَتْ فَأَتَى عَلِيٌّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَخْبَرَهُ فَقَالَ لَهُ دَعْهَا حَتَّى تَلِدَ أَوْ تَضَعَ ثُمَّ اجْلِدْهَا
আবু জামিলা আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একজন বাঁদী ব্যভিচার করে গর্ভবতী হয়ে পড়লো। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গেলেন এবং ঘটনাটা জানালেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ওকে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়া পর্যন্ত অবকাশ দাও, তারপর বেত মারো। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৪১]
[আবু দাউদ ৪৪৭৩]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا هَاشِمٌ وَحَسَنٌ قَالَا حَدَّثَنَا شَيْبَانُ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ زِرِّ بْنِ حُبَيْشٍ قَالَ اسْتَأْذَنَ ابْنُ جُرْمُوزٍ عَلَى عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَقَالَ مَنْ هَذَا قَالُوا ابْنُ جُرْمُوزٍ يَسْتَأْذِنُ قَالَ ائْذَنُوا لَهُ لِيَدْخُلْ قَاتِلُ الزُّبَيْرِ النَّارَ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّ لِكُلِّ نَبِيٍّ حَوَارِيًّا وَحَوَارِيَّ الزُّبَيْرُ
যির ইবনে হুবাইশ থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, ইবনে জুরমুয একবার আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে সাক্ষাতের অনুমতি চাইল। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ সে কে? লোকেরা বললোঃ ইবনে জুরমুয সাক্ষাতের অনুমতি চাচ্ছে। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ ওকে আসতে দাও। যুবাইরের হত্যাকারীর পরিণাম জাহান্নামে প্রবেশ। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ প্রত্যেক নবীর একজন হাওয়ারী (অন্তরঙ্গ সহচর) থাকে। আমার হাওয়ারী হলো, যুবাইর। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৪২]
[তিরমিযী ৩৭৪৪]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ عَمْرٍو حَدَّثَنَا زَائِدَةُ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ زِرِّ بْنِ حُبَيْشٍ قَالَ اسْتَأْذَنَ ابْنُ جُرْمُوزٍ عَلَى عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَأَنَا عِنْدَهُ فَقَالَ عَلِيٌّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ بَشِّرْ قَاتِلَ ابْنِ صَفِيَّةَ بِالنَّارِ ثُمَّ قَالَ عَلِيٌّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّ لِكُلِّ نَبِيٍّ حَوَارِيًّا وَحَوَارِيَّ الزُّبَيْرُ سَمِعْت سُفْيَانَ يَقُولُ الْحَوَارِيُّ النَّاصِرُ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, ইবনে জুরমুয একবার আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে সাক্ষাতের অনুমতি চাইল। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ সে কে? লোকেরা বললোঃ ইবনে জুরমুয সাক্ষাতের অনুমতি চাচ্ছে। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ ওকে আসতে দাও। ছাফিয়ার ছেলের হত্যাকারীকে জাহান্নামের সুসংবাদ দাও। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ প্রত্যেক নবীর একজন হাওয়ারী (অন্তরঙ্গ সহচর) থাকে। আমার হাওয়ারী হলো, যুবাইর।
আবদুল্লাহ বলেন, আমার পিতা বলেছেনঃ আমি সুফিয়ানকে বলতে শুনেছিঃ হাওয়ারী অর্থ সাহায্যকারী। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৪৩]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস


حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ وَإِسْرَائِيلُ وَأَبِي عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ عَاصِمِ بْنِ ضَمْرَةَ قَالَ سَأَلْنَا عَلِيًّا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ تَطَوُّعِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالنَّهَارِ فَقَالَ إِنَّكُمْ لَا تُطِيقُونَهُ قَالَ قُلْنَا أَخْبِرْنَا بِهِ نَأْخُذْ مِنْهُ مَا أَطَقْنَا قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا صَلَّى الْفَجْرَ أَمْهَلَ حَتَّى إِذَا كَانَتْ الشَّمْسُ مِنْ هَا هُنَا يَعْنِي مِنْ قِبَلِ الْمَشْرِقِ مِقْدَارُهَا مِنْ صَلَاةِ الْعَصْرِ مِنْ هَاهُنَا مِنْ قِبَلِ الْمَغْرِبِ قَامَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ يُمْهِلُ حَتَّى إِذَا كَانَتْ الشَّمْسُ مِنْ هَاهُنَا يَعْنِي مِنْ قِبَلِ الْمَشْرِقِ مِقْدَارُهَا مِنْ صَلَاةِ الظُّهْرِ مِنْ هَاهُنَا يَعْنِي مِنْ قِبَلِ الْمَغْرِبِ قَامَ فَصَلَّى أَرْبَعًا وَأَرْبَعًا قَبْلَ الظُّهْرِ إِذَا زَالَتْ الشَّمْسُ وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَهَا وَأَرْبَعًا قَبْلَ الْعَصْرِ يَفْصِلُ بَيْنَ كُلِّ رَكْعَتَيْنِ بِالتَّسْلِيمِ عَلَى الْمَلَائِكَةِ الْمُقَرَّبِينَ وَالنَّبِيِّينَ وَمَنْ تَبِعَهُمْ مِنْ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُسْلِمِينَ قَالَ قَالَ عَلِيٌّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ تِلْكَ سِتَّ عَشْرَةَ رَكْعَةً تَطَوُّعُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالنَّهَارِ وَقَلَّ مَنْ يُدَاوِمُ عَلَيْهَا حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ حَبِيبُ بْنُ أَبِي ثَابِتٍ لَأَبِي إِسْحَاقَ حِينَ حَدَّثَهُ يَا أَبَا إِسْحَاقَ يَسْوَى حَدِيثُكَ هَذَا مِلْءَ مَسْجِدِكَ ذَهَبًا
আসিম বিন যামরা থেকে বর্ণিতঃ
আমরা আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিনের বেলায় কেমন নফল ইবাদাত করতেন? আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ তোমরা তা পারবে না। আমরা বললামঃ আমাদেরকে বলুন না, যতদূর পারি অনুকরণ করবো। তিনি বললেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের নামায পড়ার পর কিছুটা বিরতি দিতেন। তারপর সূর্য যখন পূর্ব প্রান্তে এতটা ওপরে উঠতো, যতটা আছরের সময় পশ্চিম প্রান্তে থাকে, তখন উঠে দু’রাকাআত পড়তেন। তারপর আবার কিছুক্ষণ বিরতি দিতেন। তারপর যোহরের সময় সূর্য পশ্চিম প্রান্তে যতটা ওপরে থাকে, ততটা যখন পূর্ব প্রান্তে থাকতো, তখন উঠে চার রাকাআত পড়তেন। তারপর সূর্য পশ্চিমে ঢলে পড়ার পর যোহরের পূর্বে চার রাকাআত পড়তেন এবং দুরাকাআত যোহরের পরে পড়তেন। আর আছরের পূর্বে চার রাকাআত পড়তেন। এই চার রাকাআতের দুই দুই রাকাআত শেষে আল্লাহর ঘনিষ্ঠতম ফেরেশতাদের ওপর, নবীদের ওপর ও তাদের অনুসারী মুমিন ও মুসলিম নরনারীর ওপর সালাম পাঠাতেন। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ এই ষোল রাকাআত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিনের নফল নামায। তবে এই নামাযগুলো নিয়মিতভাবে খুব কম সংখ্যক লোকই পড়ে থাকে। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৪৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ يَعْنِي ابْنَ سَلَمَةَ عَنْ يُونُسَ بْنِ خَبَّابٍ عَنْ جَرِيرِ بْنِ حَيَّانَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ عَلِيًّا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ أَبْعَثُكَ فِيمَا بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَنِي أَنْ أُسَوِّيَ كُلَّ قَبْرٍ وَأَطْمِسَ كُلَّ صَنَمٍ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু জাবিরের পিতা হাইয়ানকে বললেন, যে কাজে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে পাঠিয়েছিলেন, তোমাকে আমি সেই কাজে পাঠাবো। তিনি আমাকে আদেশ দিয়েছিলেন প্রতিটি কবরকে সমান করে দিতে এবং প্রতিটি মূর্তির চেহারা বিকৃত করতে। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৪৫]
[মুসলিম ৯৬৯]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا يُونُسُ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ضَخْمَ الرَّأْسِ عَظِيمَ الْعَيْنَيْنِ هَدِبَ الْأَشْفَارِ مُشْرَبَ الْعَيْنِ بِحُمْرَةٍ كَثَّ اللِّحْيَةِ أَزْهَرَ اللَّوْنِ إِذَا مَشَى تَكَفَّأَ كَأَنَّمَا يَمْشِي فِي صُعُدٍ وَإِذَا الْتَفَتَ الْتَفَتَ جَمِيعًا شَثْنَ الْكَفَّيْنِ وَالْقَدَمَيْنِ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মাথা বড়, চোখ বড়, চোখের পাপড়ি ঝুলন্ত, ঈষৎ লাল রং যুক্ত চোখ, ঘন দাড়ি ও গায়ের রং উজ্জ্বল দীপ্তিময়। তিনি যখন হাঁটতেন, এমনভাবে হাঁটতেন যেন নীচ থেকে ওপরে উঠছেন, আর যখন আশপাশের দিকে তাকাতেন, তখন সমগ্র শরীর নিয়ে ঘুরে তাকাতেন। তার হাতের পাতা ও পায়ের পাতা ছিল মাংসল ও পরিপুষ্ট। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৪৬]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنِي أَسْوَدُ بْنُ عَامِرٍ أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنِ الْحَارِثِ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُوتِرُ بِثَلَاثٍ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনটে সূরা দিয়ে বিতর নামায পড়তেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৪৭]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا أَسْوَدُ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنِ الْحَارِثِ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعْدَ مَا أَحْدَثَ قَبْلَ أَنْ يَمَسَّ مَاءً وَرُبَّمَا قَالَ إِسْرَائِيلُ عَنْ رَجُلٍ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপবিত্র হওয়ার পর পানি স্পর্শ করা ছাড়াই কুরআন পড়তেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৪৮]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا أَسْوَدُ حَدَّثَنَا شَرِيكٌ عَنْ مُوسَى الصَّغِيرِ الطَّحَّانِ عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ قَالَ عَلِيٌّ خَرَجْتُ فَأَتَيْتُ حَائِطًا قَالَ فَقَالَ دَلْوٌ بِتَمْرَةٍ قَالَ فَدَلَّيْتُ حَتَّى مَلَأْتُ كَفِّي ثُمَّ أَتَيْتُ الْمَاءَ فَاسْتَعْذَبْتُ يَعْنِي شَرِبْتُ ثُمَّ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَطْعَمْتُهُ بَعْضَهُ وَأَكَلْتُ أَنَا بَعْضَهُ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
একদিন বাড়ি থেকে বেরিয়ে একটি বাগানের দেয়ালের কাছে গেলাম। বাগানের মালিক আমাকে বললোঃ এক বালতি পানি তুলে দিলে একটা খোরমা পাবে। তদনুসারে আমি বালতি বালতি করে পানি তুলে খোরমা দিয়ে মুঠো পূর্ণ করলাম। তারপর পানির কাছে গিয়ে পানি পান করলাম। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গেলাম এবং তাকে কিছু খোরমা খাওয়ালাম এবং নিজে কিছু খেলাম। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৪৯]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস