(৫) হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনা [হাদিসের সীমা (৫৩০-১৩০৮), সর্বমোট হাদিসঃ ৭৭৯টি]

[মোট হাদিসঃ ৩০টি] [অবশিষ্ট হাদিসঃ ৭১৯টি]



590 OK

(৫৯০)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ الدَّانَاجِ عَنْ حُضَيْنٍ أَبِي سَاسَانَ الرَّقَاشِيِّ أَنَّهُ قَدِمَ نَاسٌ مِنْ أَهْلِ الْكُوفَةِ عَلَى عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَأَخْبَرُوهُ بِمَا كَانَ مِنْ أَمْرِ الْوَلِيدِ أَيْ بِشُرْبِهِ الْخَمْرَ فَكَلَّمَهُ عَلِيٌّ فِي ذَلِكَ فَقَالَ دُونَكَ ابْنَ عَمِّكَ فَأَقِمْ عَلَيْهِ الْحَدَّ فَقَالَ يَا حَسَنُ قُمْ فَاجْلِدْهُ قَالَ مَا أَنْتَ مِنْ هَذَا فِي شَيْءٍ وَلِّ هَذَا غَيْرَكَ قَالَ بَلْ ضَعُفْتَ وَوَهَنْتَ وَعَجَزْتَ قُمْ يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ جَعْفَرٍ فَجَعَلَ عَبْدُ اللَّهِ يَضْرِبُهُ وَيَعُدُّ عَلِيٌّ حَتَّى بَلَغَ أَرْبَعِينَ ثُمَّ قَالَ أَمْسِكْ أَوْ قَالَ كُفَّ جَلَدَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرْبَعِينَ وَأَبُو بَكْرٍ أَرْبَعِينَ وَكَمَّلَهَا عُمَرُ ثَمَانِينَ وَكُلٌّ سُنَّةٌ


হুদাইন আবু সাসান আর-রাক্কাশী থেকে বর্ণিতঃ

কুফাবাসীর একটি দল উসমানের কাছে এল। তারা ওয়ালীদের কার্যকলাপ সম্পর্কে তাকে অবহিত করলো। অর্থাৎ ওয়ালীদের মদপান সম্পর্কে। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু এ ব্যাপারে তার সাথে কথা বললেন। তিনি বললেনঃ তোমার চাচাতো ভাইকে গ্রেফতার কর এবং তার ওপর হদ (শাস্তি) কার্যকর কর। তারপর বললেনঃ হে হাসান, ওঠ; ওকে বেত্রাঘাত কর। তিনি বললেনঃ এ ব্যাপারে আপনার কিছু করণীয় নেই। এ কাজে অন্য কাউকে দায়িত্ব দিন। তিনি বললেনঃ বরঞ্চ তুমি দুর্বল ও অক্ষম হয়ে গিয়েছ। হে আবদুল্লাহ ইবনে জাফর, তুমি ওঠ। তারপর আবদুল্লাহ বেত্রাঘাত করতে লাগলো আর আলী গণনা করতে লাগলেন। চল্লিশটিতে পৌছলে আলী বললেনঃ থাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চল্লিশটি বেত্রাঘাত করেছেন, আবু বাকরও চল্লিশটি বেত্রাঘাত করেছেন। কেবল উমার আশিটি পূর্ণ করেছেন। এর যেটাই করা হবে, সেটাই সুন্নাত। [মুসনাদে আহমাদ : ৫৯০]


[মুসলিম ১৭০৭]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



591 OK

(৫৯১)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ طَلْحَةَ بْنِ يَزِيدَ بْنِ رُكَانَةَ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ الْخَوْلَانِيِّ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ دَخَلَ عَلَيَّ عَلِيٌّ بَيْتِي فَدَعَا بِوَضُوءٍ فَجِئْتُهُ بِقَعْبٍ يَأْخُذُ الْمُدَّ أَوْ قَرِيبَهُ حَتَّى وُضِعَ بَيْنَ يَدَيْهِ وَقَدْ بَالَ فَقَالَ يَا ابْنَ عَبَّاسٍ أَلَا أَتَوَضَّأُ لَكَ وُضُوءَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُلْتُ بَلَى فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي قَالَ فَوُضِعَ لَهُ إِنَاءٌ فَغَسَلَ يَدَيْهِ ثُمَّ مَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ وَاسْتَنْثَرَ ثُمَّ أَخَذَ بِيَدَيْهِ فَصَكَّ بِهِمَا وَجْهَهُ وَأَلْقَمَ إِبْهَامَهُ مَا أَقْبَلَ مِنْ أُذُنَيْهِ قَالَ ثُمَّ عَادَ فِي مِثْلِ ذَلِكَ ثَلَاثًا ثُمَّ أَخَذَ كَفًّا مِنْ مَاءٍ بِيَدِهِ الْيُمْنَى فَأَفْرَغَهَا عَلَى نَاصِيَتِهِ ثُمَّ أَرْسَلَهَا تَسِيلُ عَلَى وَجْهِهِ ثُمَّ غَسَلَ يَدَهُ الْيُمْنَى إِلَى الْمِرْفَقِ ثَلَاثًا ثُمَّ يَدَهُ الْأُخْرَى مِثْلَ ذَلِكَ ثُمَّ مَسَحَ بِرَأْسِهِ وَأُذُنَيْهِ مِنْ ظُهُورِهِمَا ثُمَّ أَخَذَ بِكَفَّيْهِ مِنْ الْمَاءِ فَصَكَّ بِهِمَا عَلَى قَدَمَيْهِ وَفِيهِمَا النَّعْلُ ثُمَّ قَلَبَهَا بِهَا ثُمَّ عَلَى الرِّجْلِ الْأُخْرَى مِثْلَ ذَلِكَ قَالَ فَقُلْتُ وَفِي النَّعْلَيْنِ قَالَ وَفِي النَّعْلَيْنِ قُلْتُ وَفِي النَّعْلَيْنِ قَالَ وَفِي النَّعْلَيْنِ قُلْتُ وَفِي النَّعْلَيْنِ قَالَ وَفِي النَّعْلَيْنِ


ইবনুল আব্বাস থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেছেনঃ একদিন আলী আমার বাড়িতে এলেন। তিনি ওযূর পানি চাইলেন। আমি তাঁকে এক মুদ বা তার কাছাকাছি পানি ধরে এমন একটা পাত্র ভর্তি পানি এনে দিলাম। পাত্রটি তার সামনে রাখা হলো। তিনি একটু আগেই পেশাব করেছেন। তিনি বললেনঃ হে ইবনুল আব্বাস। আমি কি তোমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মত ওযূ করে দেখাবো? আমি বললামঃ আপনার জন্য আমার পিতা-মাতা উৎসর্গ হোক। অবশ্যই দেখান। এরপর তার জন্য একটা পাত্র আনা হলো। তিনি তার দু’হাত ধুলেন। তারপর কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন ও নাক সাফ করলেন। তারপর তাঁর দু’হাত দিয়ে মুখে প্রবল জোরে পানির ঝাপটা দিলেন এবং তাঁর বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে কানের বাহিরের অংশ ধুয়ে দিলেন। তারপর এই কাজগুলো তিন তিনবার করলেন। তারপর তার ডান হাত ভরে পানি নিয়ে তা তার কপালে ঢাললেন, অতঃপর তা তাঁর সমস্ত মুখমণ্ডলে বইয়ে দিলেন, তারপর তাঁর ডান হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধুলেন। তারপর তার অন্য হাতও কনুই পর্যন্ত ধুলেন। তারপর তার মাথা ও কানের মধ্যভাগ মাসেহ করলেন। তারপর দু’হাত ভর্তি পানি নিয়ে দু’পায়ে ঢাললেন, তখন তাঁর পায়ে পাদুকা ছিল। তিনি পাদুকা দুটিকে উল্টিয়ে ফেললেন, তারপর অপর পাও তদ্রুপ ধুলেন। আমি বললামঃ পাদুকা সহ? তিনি বললেনঃ পাদুকাসহ। আমি বললামঃ পাদুকাসহ? তিনি বললেনঃ পাদুকাসহ। আমি বললামঃ পাদুকাসহ? তিনি বললেনঃ পাদুকাসহ। [মুসনাদে আহমাদ : ৫৯১]


[ইবনু খুযাইমা ১৫৩, ইবনু হিব্বান ১০৮০, আবু দাউদ ১১৭]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



592 OK

(৫৯২)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ عَنْ مُحَمَّدٍ عَنْ عَبِيدَةَ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ ذُكِرَ الْخَوَارِجُ فَقَالَ فِيهِمْ مُخْدَجُ الْيَدِ أَوْ مُودَنُ الْيَدِ أَوْ مُثَدَّنُ الْيَدِ لَوْلَا أَنْ تَبْطَرُوا لَحَدَّثْتُكُمْ بِمَا وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ يَقْتُلُونَهُمْ عَلَى لِسَانِ مُحَمَّدٍ قُلْتُ أَنْتَ سَمِعْتَهُ مِنْ مُحَمَّدٍ قَالَ إِي وَرَبِّ الْكَعْبَةِ إِي وَرَبِّ الْكَعْبَةِ إِي وَرَبِّ الْكَعْبَةِ


আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ

একবার আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু এর উপস্থিতিতে খারিজীদের (বিদ্রোহী গোষ্ঠী) প্রসঙ্গ আলোচিত হলো। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ তাদের মধ্যে একজনের হাত জন্মগতভাবে অসম্পূর্ণ। তোমরা অহঙ্কারী হয়ে যাবে এই আশঙ্কা যদি না থাকতো, তবে আমি তোমাদেরকে জানাতাম, যারা তাদেরকে হত্যা করবে তাদের ব্যাপারে আল্লাহ্‌ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখ দিয়ে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সে সম্পর্কে। আবিদা বললেনঃ আমি জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখ থেকে এ কথা শুনেছেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, কাবার প্রভুর শপথ, হ্যাঁ, কা’বার প্রভুর শপথ, হ্যাঁ, কা’বার প্রভুর শপথ! [মুসনাদে আহমাদ : ৫৯২]


[মুসলিম ১০৬৬]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



593 OK

(৫৯৩)

হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلَمَةَ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُقْرِئُنَا الْقُرْآنَ مَا لَمْ يَكُنْ جُنُبًا


আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যতক্ষণ ’জুনুব’ (বীর্যপাত জনিত অপবিত্র) না হতেন, ততক্ষণ আমাদেরকে কুরআন পড়াতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৫৯৩]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



594 OK

(৫৯৪)

হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ سُفْيَانَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِذَا بَعَثْتَنِي أَكُونُ كَالسِّكَّةِ الْمُحْمَاةِ أَمْ الشَّاهِدُ يَرَى مَا لَا يَرَى الْغَائِبُ قَالَ الشَّاهِدُ يَرَى مَا لَا يَرَى الْغَائِبُ


আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ

হে আল্লাহ্‌র রাসূল, আপনি যখন আমাকে কোথাও দূত হিসাবে পাঠান তখন আমি কি উত্তপ্ত মুদ্রা ছাপানোর যন্ত্রের মত হব, নাকি উপস্থিত যা দেখতে পায়, অনুপস্থিত তা দেখতে পায়না? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ উপস্থিত যা দেখতে পায়, অনুপস্থিত তা দেখতে পায় না। [মুসনাদে আহমাদ : ৫৯৪]


[উত্তপ্ত মুদ্রা ছাপানোর যন্ত্রের মত হব? অর্থাৎ, যা শিখিয়ে দেয়া হয়, হুবহু তাই বলবো? আর উপস্থিত যা দেখতে পায়, অনুপস্থিত তা দেখতে পায় না। অর্থাৎ যে ব্যক্তি কর্মক্ষেত্রে উপস্থিত হয়, তাকে সেখানকার বাস্তবতা বুঝে কাজ করতে হবে। যারা সেখানে উপস্থিত নেই, তাদের শেখানো বুলি আওড়াতে হবে না। অর্থাৎ ইজতিহাদ ও নিজস্ব বুদ্ধি কাজে লাগাতে হবে।]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



595 OK

(৫৯৫)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ شُعْبَةَ حَدَّثَنَا مَنْصُورٌ قَالَ سَمِعْتُ رِبْعِيًّا قَالَ سَمِعْتُ عَلِيًّا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَكْذِبُوا عَلَيَّ فَإِنَّهُ مَنْ يَكْذِبْ عَلَيَّ يَلِجْ النَّارَ


আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আমার নামে মিথ্যা কথা রটিও না। যে ব্যক্তি আমার নামে মিথ্যা রটাবে, সে জাহান্নামে যাবে। [মুসনাদে আহমাদ : ৫৯৫]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



596 OK

(৫৯৬)

হাদিস দেখুন [৩১:৫৯৫] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ شُعْبَةَ حَدَّثَنَا مَنْصُورٌ قَالَ سَمِعْتُ رِبْعِيًّا قَالَ سَمِعْتُ عَلِيًّا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَكْذِبُوا عَلَيَّ فَإِنَّهُ مَنْ يَكْذِبْ عَلَيَّ يَلِجْ النَّارَ


আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আমার নামে মিথ্যা কথা রটিও না। যে ব্যক্তি আমার নামে মিথ্যা রটাবে, সে জাহান্নামে যাবে। [মুসনাদে আহমাদ : ৫৯৬]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



597 OK

(৫৯৭)

হাদিস দেখুন [৩১:৫৮৯] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ حَدَّثَنِي وَاقِدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ قَالَ شَهِدْتُ جَنَازَةً فِي بَنِي سَلِمَةَ فَقُمْتُ فَقَالَ لِي نَافِعُ بْنُ جُبَيْرٍ اجْلِسْ فَإِنِّي سَأُخْبِرُكَ فِي هَذَا بِثَبْتٍ حَدَّثَنِي مَسْعُودُ بْنُ الْحَكَمِ الزُّرَقِيُّ أَنَّهُ سَمِعَ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ بِرَحَبَةِ الْكُوفَةِ وَهُوَ يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَنَا بِالْقِيَامِ فِي الْجِنَازَةِ ثُمَّ جَلَسَ بَعْدَ ذَلِكَ وَأَمَرَنَا بِالْجُلُوسِ


সা’দ বিন মু’আযের পৌত্র ওয়াকিদ বিন আমার থেকে বর্ণিতঃ

আমি বনু সালমা গোত্রে একটা মৃতদেহ দেখলাম এবং দেখা মাত্রই উঠে দাঁড়ালাম। না’ফে বিন যুবাইর আমাকে বললেনঃ বস। আমি এক্ষুণি তোমাকে এ বিষয়ে প্রমাণ সহকারে জানাবো। আমাকে মাসউদ ইবনুল হাকাম আয যারাকী বলেছেনঃ তিনি কুফার এক মাঠে আলী ইবনে আবী তালিবকে বলতে শুনেছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সময় আমাদেরকে মৃতদেহ দেখে দাঁড়াতে বলতেন। পরে তিনি নিজেও বসে থাকতেন, আমাদেরকেও বসতে আদেশ দিতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৫৯৭]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



598 OK

(৫৯৮)

হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ شُعْبَةَ حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ مُدْرِكٍ عَنْ أَبِى زُرْعَةَ عَنِ ابْنِ نُجَيٍّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَدْخُلُ الْمَلَائِكَةُ بَيْتًا فِيهِ جُنُبٌ وَلَا صُورَةٌ وَلَا كَلْبٌ


আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ঘরে বীর্যপাতজনিত অপবিত্র লোক, ছবি বা কুকুর আছে, সে ঘরে ফেরেশতা প্রবেশ করে না। [মুসনাদে আহমাদ : ৫৯৮]


['জুনুব' বা 'অপবিত্র লোক' এর উল্লেখ ব্যতীত হাদিসটি হাসান লিগায়রিহি এবং উক্ত সানাদ দুর্বল। আবু দাউদ ২২৭, ৪১৫২, ইবনু মাজাহ, নাসায়ী ১/১৪১, ৭/১৮৫]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



599 OK

(৫৯৯)

হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ هِشَامٍ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ جُرَيِّ بْنِ كُلَيْبٍ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُضَحَّى بِعَضْبَاءِ الْقَرْنِ وَالْأُذُنِ


আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কানকাটা ও শিং ভাঙ্গা জন্তু দিয়ে কুরবানী দিতে নিষেধ করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৫৯৯]


[ইবনু খুযাইমা ২৯১৩, আবু দাউদ ২৮০৫, ইবনু মাজাহ ৩১৪৫, তিরমিযী ১৫০৪]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



600 OK

(৬০০)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ سُفْيَانَ حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ عَنِ الْحَارِثِ بْنِ سُوَيْدٍ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الدُّبَّاءِ وَالْمُزَفَّتِ قَالَ أَبُو عَبْد الرَّحْمَنِ سَمِعْت أَبِي يَقُولُ لَيْسَ بِالْكُوفَةِ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ حَدِيثٌ أَصَحُّ مِنْ هَذَا


আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ

লাউ-এর খোসা ও তৈলাক্ত পাত্র বিশেষে ভরে রেখে তৈরি করা মদ খেতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৬০০]


[বুখারী ৫৫৯৪, মুসলিম ১৯৯৪]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



601 OK

(৬০১)

হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ مُجَالِدٍ حَدَّثَنِي عَامِرٌ عَنْ الْحَارِثِ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَشَرَةً آكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ وَالْحَالَّ وَالْمُحَلَّلَ لَهُ وَمَانِعَ الصَّدَقَةِ وَالْوَاشِمَةَ وَالْمُسْتَوْشِمَةَ


আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ

দশ ব্যক্তিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিশাপ দিয়েছেন, সুদখোর, সুদদাতা, সুদ সংক্রান্ত বিষয়ের লেখক, সুদের দুইজন সাক্ষী, হিল্লাকারী, যার জন্যে হিল্লা করা হয়, যে ব্যক্তি যাকাত দেয় না, উল্কি অঙ্কনকারী, যে উল্কি করায়। [মুসনাদে আহমাদ : ৬০১]


[আবু দাউদ ২০৭৬, ২০৭৭, ইবনু মাজাহ ১৯৫৩, তিরমিযী ১১১৯, নাসাঈ ৮/১৪৭]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



602 OK

(৬০২)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ عَنْ أَبِي الْبَخْتَرِيِّ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى الْيَمَنِ وَأَنَا حَدِيثُ السِّنِّ قَالَ قُلْتُ تَبْعَثُنِي إِلَى قَوْمٍ يَكُونُ بَيْنَهُمْ أَحْدَاثٌ وَلَا عِلْمَ لِي بِالْقَضَاءِ قَالَ إِنَّ اللَّهَ سَيَهْدِي لِسَانَكَ وَيُثَبِّتُ قَلْبَكَ قَالَ فَمَا شَكَكْتُ فِي قَضَاءٍ بَيْنَ اثْنَيْنِ بَعْدُ


আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আমাকে ইয়ামানে পাঠালেন, তখন আমি বয়সে তরুণ। আমি বললামঃ আপনি আমাকে এমন একটি জনগোষ্ঠীর নিকট পাঠাচ্ছেন, যাদের মধ্যে অনেক ঘটনা সংঘটিত হয়ে থাকে। অথচ আমার বিচার কার্যে তেমন জ্ঞান নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ তোমার জিহ্বাকে সঠিক পথে চালাবেন এবং তোমার মনকে (বিরোধ মীমাংসায়) সৃদৃঢ় করবেন। তিনি বলেন, অতঃপর কোন দুই ব্যক্তির মাঝে ফায়সালা করাকালে আমি কখনো সন্দেহ-সংশয়ে পতিত হইনি। [মুসনাদে আহমাদ : ৬০২]


[হাদীস নং ১১৪৫ দ্রষ্টব্য]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



603 OK

(৬০৩)

হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ شُعْبَةَ حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مُرَّةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلَمَةَ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ مَرَّ بِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا وَجِعٌ وَأَنَا أَقُولُ اللَّهُمَّ إِنْ كَانَ أَجَلِي قَدْ حَضَرَ فَأَرِحْنِي وَإِنْ كَانَ آجِلًا فَارْفَعْنِي وَإِنْ كَانَ بَلَاءً فَصَبِّرْنِي قَالَ مَا قُلْتَ فَأَعَدْتُ عَلَيْهِ فَضَرَبَنِي بِرِجْلِهِ فَقَالَ مَا قُلْتَ قَالَ فَأَعَدْتُ عَلَيْهِ فَقَالَ اللَّهُمَّ عَافِهِ أَوْ اشْفِهِ قَالَ فَمَا اشْتَكَيْتُ ذَلِكَ الْوَجَعَ بَعْدُ حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ سَلَمَةَ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ كُنْتُ شَاكِيًا فَمَرَّ بِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرَ مَعْنَاهُ إِلَّا أَنَّهُ قَالَ اللَّهُمَّ عَافِهِ اللَّهُمَّ اشْفِهِ فَمَا اشْتَكَيْتُ ذَلِكَ الْوَجَعَ بَعْدُ


আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ

একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন আমি ব্যথায় কাতরাচ্ছিলাম ও বলছিলাম, হে আল্লাহ, আমার মৃত্যুর সময় যদি উপস্থিত হয়ে থাকে, তাহলে আমাকে অব্যাহতি দাও (অর্থাৎ মৃত্যু দাও)। যদি মৃত্যুর বিলম্ব থেকে থাকে। তবে আমাকে তুলে নাও (অর্থাৎ মৃত্যু ত্বরান্বিত কর।) আর যদি এটা আমার জন্য পরীক্ষা হয়, তবে আমাকে ধৈর্য দাও। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কী বললে? আমি আমার কথাটার পুনরাবৃত্তি করলাম। তিনি আমাকে তাঁর পা দিয়ে আঘাত করলেন এবং বললেনঃ কী বললে? আমি আবার কথাটার পুনরাবৃত্তি করে তাঁকে শুনলাম। তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ, একে আরোগ্য দান কর। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ এরপর আমি আর কখনো উক্ত ব্যথায় আক্রান্ত হইনি। [মুসনাদে আহমাদ : ৬০৩]


[তিরমিযী ৩৫৬৪]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



604 OK

(৬০৪)

হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ شُعْبَةَ حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ مُرَّةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلَمَةَ قَالَ أَتَيْتُ عَلَى عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَا وَرَجُلَانِ فَقَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقْضِي حَاجَتَهُ ثُمَّ يَخْرُجُ فَيَقْرَأُ الْقُرْآنَ وَيَأْكُلُ مَعَنَا اللَّحْمَ وَلَا يَحْجِزُهُ وَرُبَّمَا قَالَ يَحْجُبُهُ مِنْ الْقُرْآنِ شَيْءٌ لَيْسَ الْجَنَابَةَ


আবদুল্লাহ বিন সালামা থেকে বর্ণিতঃ

আমি ও অন্য দুই ব্যক্তি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকট উপস্থিত হলাম। তখন আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণ করে (পেশাব ও পায়খানা সেরে) বের হয়েই কুরআন পড়তেন, আমাদের সাথে মাংস খেতেন এবং জানাবাত (বীর্যপাত জনিত অপবিত্রতা) ব্যতীত কোন কারণেই তিনি কুরআন পাঠ থেকে বিরত হতেন না। [মুসনাদে আহমাদ : ৬০৪]


[ইবনু খুযাইমা ২০৮, আবু দাউদ ২২৯, ইবনু মাজাহ ৫৯৪, তিরমিযী ১৪৬, নাসায়ী ১৪৪/১]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



605 OK

(৬০৫)

সহিহ হাদিস

قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ خَيْرُ نِسَائِهَا مَرْيَمُ بِنْتُ عِمْرَانَ وَخَيْرُ نِسَائِهَا خَدِيجَةُ


আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ

আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ পূর্ববতী উম্মাতের শ্রেষ্ঠ নারী ইমরানের কন্যা মারইয়াম, আর বর্তমান উম্মাতের শ্রেষ্ঠ নারী খাদীজা রাদিয়াল্লাহু আনহু। [মুসনাদে আহমাদ : ৬০৫]


[বুখারী ৩৪৩২, মুসলিম ২৪৩০]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



606 OK

(৬০৬)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحِيمِ الْكِنْدِيِّ عَنْ زَاذَانَ أَبِي عُمَرَ قَالَ سَمِعْتُ عَلِيًّا فِي الرَّحْبَةِ وَهُوَ يَنْشُدُ النَّاسَ مَنْ شَهِدَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ غَدِيرِ خُمٍّ وَهُوَ يَقُولُ مَا قَالَ فَقَامَ ثَلَاثَةَ عَشَرَ رَجُلًا فَشَهِدُوا أَنَّهُمْ سَمِعُوا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يَقُولُ مَنْ كُنْتُ مَوْلَاهُ فَعَلِيٌّ مَوْلَاهُ


যাযান আবু উমার থেকে বর্ণিতঃ

আমি প্রকাশ্য ময়দানে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছিঃ গাদীরে খুমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সমাবেশে কে ছিল? সেখানে তিনি যা বলার তা বলেছেন। এ সময় তেরো ব্যক্তি উঠে দাঁড়ালেন। তারা সাক্ষ্য দিল যে, তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেঃ আমি যার অভিভাবক, আলী তার অভিভাবক। [মুসনাদে আহমাদ : ৬০৬]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



607 OK

(৬০৭)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ عَنْ زِرِّ بْنِ حُبَيْشٍ قَالَ قَالَ عَلِيٌّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَاللَّهِ إِنَّهُ مِمَّا عَهِدَ إِلَيَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ لَا يُبْغِضُنِي إِلَّا مُنَافِقٌ وَلَا يُحِبُّنِي إِلَّا مُؤْمِنٌ


আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে যে কয়টি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তার মধ্যে একটি হলো, মুনাফিক ব্যতীত কেউ আমার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে না এবং মু’মিন ছাড়া কেউ আমাকে ভালোবাসবে না। [মুসনাদে আহমাদ : ৬০৭]


[মুসলিম ৭৮, ইবনু হিব্বান ৬৯২৪]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



608 OK

(৬০৮)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ أَنْبَأَنَا زَائِدَةُ حَدَّثَنَا عَطَاءُ بْنُ السَّائِبِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ جَهَّزَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاطِمَةَ فِي خَمِيلٍ وَقِرْبَةٍ وَوِسَادَةِ أَدَمٍ حَشْوُهَا لِيفُ الْإِذْخِرِ


আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাতিমাকে একটা মোটা কাপড়ের চাদর, একটা মশক ও একটা ইযখারের আঁশ ভরা চামড়ার বালিশ উপহার হিসাবে দিয়েছিলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৬০৮]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



609 OK

(৬০৯)

যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا أَسْبَاطُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا نُعَيْمُ بْنُ حَكِيمٍ الْمَدَائِنِيُّ عَنْ أَبِي مَرْيَمَ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ انْطَلَقْتُ أَنَا وَالنَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى أَتَيْنَا الْكَعْبَةَ فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اجْلِسْ وَصَعِدَ عَلَى مَنْكِبَيَّ فَذَهَبْتُ لِأَنْهَضَ بِهِ فَرَأَى مِنِّي ضَعْفًا فَنَزَلَ وَجَلَسَ لِي نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَ اصْعَدْ عَلَى مَنْكِبَيَّ قَالَ فَصَعِدْتُ عَلَى مَنْكِبَيْهِ قَالَ فَنَهَضَ بِي قَالَ فَإِنَّهُ يُخَيَّلُ إِلَيَّ أَنِّي لَوْ شِئْتُ لَنِلْتُ أُفُقَ السَّمَاءِ حَتَّى صَعِدْتُ عَلَى الْبَيْتِ وَعَلَيْهِ تِمْثَالُ صُفْرٍ أَوْ نُحَاسٍ فَجَعَلْتُ أُزَاوِلُهُ عَنْ يَمِينِهِ وَعَنْ شِمَالِهِ وَبَيْنَ يَدَيْهِ وَمِنْ خَلْفِهِ حَتَّى إِذَا اسْتَمْكَنْتُ مِنْهُ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اقْذِفْ بِهِ فَقَذَفْتُ بِهِ فَتَكَسَّرَ كَمَا تَتَكَسَّرُ الْقَوَارِيرُ ثُمَّ نَزَلْتُ فَانْطَلَقْتُ أَنَا وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَسْتَبِقُ حَتَّى تَوَارَيْنَا بِالْبُيُوتِ خَشْيَةَ أَنْ يَلْقَانَا أَحَدٌ مِنْ النَّاسِ


আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ

একদিন আমি ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সাথে চলতে চলতে কা’বার সন্নিকটে উপনীত হলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, বস। আমি বসলে তিনি আমার ঘাড়ে চড়লেন। আমি তাঁকে নিয়ে উঠে দাঁড়ালাম; চলতে লাগলাম। কিন্তু তিনি আমার মধ্যে কিছু দুর্বলতা দেখলেন। তাই তিনি নামলেন। এরপর আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার জন্য বসলেন এবং বললেনঃ আমার ঘাড়ে ওঠ। আমি তাঁর ঘাড়ে উঠলাম। তিনি আমাকে নিয়ে উঠে দাঁড়ালেন। তখন আমার মনে হলো, আমি ইচ্ছে করলে আকাশের কিনারা ধরতে পারি। অবশেষে কা’বা ঘরের ওপরে আরোহণ করলাম। তখনও তার ওপরে একটা পিতল বা তামার মূর্তি ছিল। সেটি আমি তার আগে, পিছে, ডানে ও বামে ধরে নাড়াতে লাগলাম। যখন আমি মূর্তিটাকে নিজের হাতে নিয়ে নিলাম, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ ওটা ছুঁড়ে ফেলে দাও। আমি সঙ্গে সঙ্গে ছুঁড়ে ফেলে দিলাম। ফলে শিশি বোতল যেভাবে ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায়, মূর্তিটিও সেভাবে ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেল। এরপর আমি নামলাম। তারপর আমি ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরস্পর পাল্লা দিয়ে চলতে লাগলাম। অবশেষে বাড়ি-ঘর সমূহের আড়ালে লুকিয়ে চলতে লাগলাম, যাতে লোকেরা আমাদের দেখতে না পায়। [মুসনাদে আহমাদ : ৬০৯]


হাদিসের মান : যঈফ হাদিস



610 OK

(৬১০)

যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا فَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ حَدَّثَنَا يَاسِينُ الْعِجْلِيُّ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ ابْنِ الْحَنَفِيَّةِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَهْدِيُّ مِنَّا أَهْلَ الْبَيْتِ يُصْلِحُهُ اللَّهُ فِي لَيْلَةٍ


আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মাহদী আমাদের বংশধর থেকেই আবির্ভূত হবে। আল্লাহ তাকে এক রাতের মধ্যেই যোগ্যতা দান করবেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৬১০]


হাদিসের মান : যঈফ হাদিস



611 OK

(৬১১)

যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْبَرِيدِ عَنْ حُسَيْنِ بْنِ مَيْمُونٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَاضِي الرَّيِّ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى قَالَ سَمِعْتُ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ عَلِيًّا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَقُولُ اجْتَمَعْتُ أَنَا وَفَاطِمَةُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا وَالْعَبَّاسُ وَزَيْدُ بْنُ حَارِثَةَ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ الْعَبَّاسُ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَبِرَ سِنِّي وَرَقَّ عَظْمِي وَكَثُرَتْ مُؤْنَتِي فَإِنْ رَأَيْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنْ تَأْمُرَ لِي بِكَذَا وَكَذَا وَسْقًا مِنْ طَعَامٍ فَافْعَلْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَفْعَلُ فَقَالَتْ فَاطِمَةُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنْ رَأَيْتَ أَنْ تَأْمُرَ لِي كَمَا أَمَرْتَ لِعَمِّكَ فَافْعَلْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَفْعَلُ ذَلِكَ ثُمَّ قَالَ زَيْدُ بْنُ حَارِثَةَ يَا رَسُولَ اللَّهِ كُنْتَ أَعْطَيْتَنِي أَرْضًا كَانَتْ مَعِيشَتِي مِنْهَا ثُمَّ قَبَضْتَهَا فَإِنْ رَأَيْتَ أَنْ تَرُدَّهَا عَلَيَّ فَقَلْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَفْعَلُ فَقَالَتْ فَاطِمَةُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنْ رَأَيْتَ أَنْ تَأْمُرَ لِي كَمَا أَمَرْت لِعَمِّكَ فَافْعَلْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ نَفْعَلُ ذَلِكَ قَالَ فَقُلْتُ أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنْ رَأَيْتَ أَنْ تُوَلِّيَنِي هَذَا الْحَقَّ الَّذِي جَعَلَهُ اللَّهُ لَنَا فِي كِتَابِهِ مِنْ هَذَا الْخُمُسِ فَأَقْسِمُهُ فِي حَيَاتِكَ كَيْ لَا يُنَازِعَنِيهِ أَحَدٌ بَعْدَكَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَفْعَلُ ذَاكَ فَوَلَّانِيهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَسَمْتُهُ فِي حَيَاتِهِ ثُمَّ وَلَّانِيهِ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَقَسَمْتُهُ فِي حَيَاتِهِ ثُمَّ وَلَّانِيهِ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَقَسَمْتُ فِي حَيَاتِهِ حَتَّى كَانَتْ آخِرُ سَنَةٍ مِنْ سِنِي عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَإِنَّهُ أَتَاهُ مَالٌ كَثِيرٌ


আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ

আমি, ফাতিমা, আব্বাস ও যায়িদ বিন হারিসা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট সমবেত হলাম। আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ হে রাসূল, আমি বুড়ো, হাড় জিরজিরে হয়ে গেছি। আমার ব্যয়ও বেড়ে গেছে। কাজেই হে রাসূল, আপনি যদি মনে করেন আমাকে স্বল্পমূল্যে এক ওয়াসাক খাদ্য শস্য দেয়ার আদেশ দেবেন, তাহলে দিন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ঠিক আছে দিচ্ছি। এরপর ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, আপনি যদি মনে করেন, আপনার চাচার জন্য যেমন আদেশ দিয়েছেন, তেমনি আমাকে দেবেন, তাহলে দিন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ঠিক আছে, দিচ্ছি। তারপর যায়িদ বিন হারিসা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, আপনি আমাকে এক টুকরো জমি দিয়েছিলেন, তা দ্বারা আমার জীবিকা নির্বাহ হতো। তারপর সেটা আবার আপনি ফেরৎ নিয়েছেন। এখন আপনি যদি সেটা আমাকে ফিরিয়ে দেয়া ভালো মনে করেন, তবে দিন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ বেশ, দিচ্ছি।

আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এরপর আমি বললামঃ আল্লাহ তা’আলা তাঁর কিতাবে এই খুমুছ থেকে আমাদের জন্য যে প্রাপ্য নির্ধারণ করেছেন, সেই প্রাপ্য যদি আমাদেরকে দিতে চান, তবে দিন। তাহলে আমি আপনার জীবদ্দশায়ই তা বণ্টন করবো, যাতে আপনার পরে কেউ আমার সাথে ঝগড়া বিবাদ করতে না আসে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ঠিক আছে দিচ্ছি। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত প্রাপ্য আমার অধিকারে অর্পণ করলেন। আমি তার জীবিতাবস্থায় তা বণ্টন করলাম। পুনরায় আবু বাকর আমাকে তা অর্পণ করলেন। আমি তা তাঁর জীবিতাবস্থায় বণ্টন করলাম। পুনরায় উমার আমাকে উক্ত প্রাপ্য অর্পণ করলেন। আমি তাঁর জীবিতাবস্থায় তা বিতরণ করলাম। অবশেষে উমারের আমলের শেষ বছরগুলো এল। তখন তার কাছে প্রচুর সম্পদ জমা হতে লাগলো। [মুসনাদে আহমাদ : ৬১১]


[আবু দাউদ ২৯৮৩ ও ২৯৮৪]


হাদিসের মান : যঈফ হাদিস



612 OK

(৬১২)

যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ حَدَّثَنَا شُرَحْبِيلُ بْنُ مُدْرِكٍ الْجُعْفِيُّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُجَيٍّ الْحَضْرَمِيِّ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ لِي عَلِيٌّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ كَانَتْ لِي مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْزِلَةٌ لَمْ تَكُنْ لِأَحَدٍ مِنْ الْخَلَائِقِ إِنِّي كُنْتُ آتِيهِ كُلَّ سَحَرٍ فَأُسَلِّمُ عَلَيْهِ حَتَّى يَتَنَحْنَحَ وَإِنِّي جِئْتُ ذَاتَ لَيْلَةٍ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَقُلْتُ السَّلَامُ عَلَيْكَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ فَقَالَ عَلَى رِسْلِكَ يَا أَبَا حَسَنٍ حَتَّى أَخْرُجَ إِلَيْكَ فَلَمَّا خَرَجَ إِلَيَّ قُلْتُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ أَغْضَبَكَ أَحَدٌ قَالَ لَا قُلْتُ فَمَا لَكَ لَا تُكَلِّمُنِي فِيمَا مَضَى حَتَّى كَلَّمْتَنِي اللَّيْلَةَ قَالَ سَمِعْتُ فِي الْحُجْرَةِ حَرَكَةً فَقُلْتُ مَنْ هَذَا فَقَالَ أَنَا جِبْرِيلُ قُلْتُ ادْخُلْ قَالَ لَا اخْرُجْ إِلَيَّ فَلَمَّا خَرَجْتُ قَالَ إِنَّ فِي بَيْتِكَ شَيْئًا لَا يَدْخُلُهُ مَلَكٌ مَا دَامَ فِيهِ قُلْتُ مَا أَعْلَمُهُ يَا جِبْرِيلُ قَالَ اذْهَبْ فَانْظُرْ فَفَتَحْتُ الْبَيْتَ فَلَمْ أَجِدْ فِيهِ شَيْئًا غَيْرَ جَرْوِ كَلْبٍ كَانَ يَلْعَبُ بِهِ الْحَسَنُ قُلْتُ مَا وَجَدْتُ إِلَّا جَرْوًا قَالَ إِنَّهَا ثَلَاثٌ لَنْ يَلِجَ مَلَكٌ مَا دَامَ فِيهَا أَبَدًا وَاحِدٌ مِنْهَا كَلْبٌ أَوْ جَنَابَةٌ أَوْ صُورَةُ رُوحٍ


আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ

হজরত আলী (রা.) বলেন, আমি এমন সময় রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর খেদমতে উপস্থিত হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করতাম, যা আমি ছাড়া সৃষ্টির মধ্যে কেউ অর্জন করতে পারত না এবং আমাকে প্রবেশ করতে দিতেন। একদা আমি রাত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে যথারীতি সালাম দিলাম এবং বললামঃ হে আল্লাহর নবী, আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক, তিনি বললেন, আবুল হাসান! দাঁড়াও, আমি নিজে বের হয়ে আসছি, যখন নবীজি বের হলেন, তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর নবী! কেউ কি আপনাকে রাগান্বিত করেছে? তিনি বললেন না, আমি জিজ্ঞেস করলাম, তাহলে কাল রাতে আমার সাথে কথা বললে না কেন? তিনি বলেন, আমার রুমে কিছুর আওয়াজ পেলাম, আমি জিজ্ঞেস করলাম কে? আওয়াজ বলল যে আমি জিবরীল, আমি তাদের ভিতরে আসতে বললাম, তারা বলল না, আপনি বেরিয়ে আসুন। আমি যখন বের হলাম, তারা বলল, আপনার ঘরে এমন একটি জিনিস আছে যেটা যতক্ষণ ঘরে থাকবে, কোনো ফেরেশতা ঘরে প্রবেশ করবে না, আমি বললাম জিব্রাইল! আমি সেরকম কিছু জানি না, তারা বলল, যান ভালো করে দেখে আসুন এবং তাদেরকে আমি বললাম যে, আমি একটা ছোট কুকুর ছাড়া আর কিছুই পাইনি, তারা বললো যে, তিনটি জিনিস যতক্ষণ একটি বাড়িতে থাকে, রহমতের কোনো ফেরেশতা সেখানে প্রবেশ করবে না, কোনো কুকুর, কোনো অপবিত্র ব্যক্তি (যুনুবী ব্যক্তি) বা কোনো পশুর ছবি৷ [মুসনাদে আহমাদ : ৬১২]


হাদিসের মান : যঈফ হাদিস



613 OK

(৬১৩)

যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ حَدَّثَنَا شُرَحْبِيلُ بْنُ مُدْرِكٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُجَيٍّ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ سَارَ مَعَ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَكَانَ صَاحِبَ مِطْهَرَتِهِ فَلَمَّا حَاذَى نِينَوَى وَهُوَ مُنْطَلِقٌ إِلَى صِفِّينَ فَنَادَى عَلِيٌّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ اصْبِرْ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ اصْبِرْ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ بِشَطِّ الْفُرَاتِ قُلْتُ وَمَاذَا قَالَ قَالَ دَخَلْتُ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ يَوْمٍ وَعَيْنَاهُ تَفِيضَانِ قُلْتُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ أَغْضَبَكَ أَحَدٌ مَا شَأْنُ عَيْنَيْكَ تَفِيضَانِ قَالَ بَلْ قَامَ مِنْ عِنْدِي جِبْرِيلُ قَبْلُ فَحَدَّثَنِي أَنَّ الْحُسَيْنَ يُقْتَلُ بِشَطِّ الْفُرَاتِ قَالَ فَقَالَ هَلْ لَكَ إِلَى أَنْ أُشِمَّكَ مِنْ تُرْبَتِهِ قَالَ قُلْتُ نَعَمْ فَمَدَّ يَدَهُ فَقَبَضَ قَبْضَةً مِنْ تُرَابٍ فَأَعْطَانِيهَا فَلَمْ أَمْلِكْ عَيْنَيَّ أَنْ فَاضَتَا


নুজাই থেকে বর্ণিতঃ

একদিন নুজাই আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে কোথাও যাচ্ছিলেন। সিফফীনে যাওয়ার পথে যখন আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু নিনেভার সমান্তরালে পৌঁছলেন, তখন আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ হে আবু আবদুল্লাহ, ধৈর্য ধারণ কর। হে আবু আবদুল্লাহ, ফোরাতের তীরে ধৈর্য ধারণ কর। নুজাই বললেনঃ কী হয়েছে? আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ একদিন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গিয়ে দেখলাম, তাঁর দু’চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরছে। আমি বললামঃ হে আল্লাহর নবী, আপনার দু’চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরছে কেন? আপনাকে কি কেউ রাগান্বিত করেছে? তিনি বললেনঃ এইমাত্র জিবরীল আমার কাছ থেকে উঠে গেলেন। তিনি আমাকে বলে গেলেন যে, হুসাইনকে ফোরাতের তীরে হত্যা করা হবে। এরপর জিবরীল বললেনঃ আপনি কি চান, ফোরাতের তীরের মাটি থেকে কিছুটা এনে আপনাকে তার ঘ্রাণ শুঁকাই? আমি বললামঃ হ্যাঁ। এরপর জিবরীল হাত বাড়িয়ে এক মুঠ মাটি নিলেন এবং আমাকে দিলেন। তখন আমি চোখের পানি সম্বরণ করতে পারিনি। [মুসনাদে আহমাদ : ৬১৩]


হাদিসের মান : যঈফ হাদিস



614 OK
View Quran

(৬১৪)

যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ الْفَزَارِيُّ أَنْبَأَنَا الْأَزْهَرُ بْنُ رَاشِدٍ الْكَاهِلِيُّ عَنْ الْخَضِرِ بْنِ الْقَوَّاسِ عَنْ أَبِي سُخَيْلَةَ قَالَ قَالَ عَلِيٌّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِأَفْضَلِ آيَةٍ فِي كِتَابِ اللَّهِ تَعَالَى حَدَّثَنَا بِهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا أَصَابَكُمْ مِنْ مُصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ وَسَأُفَسِّرُهَا لَكَ يَا عَلِيُّ مَا أَصَابَكُمْ مِنْ مَرَضٍ أَوْ عُقُوبَةٍ أَوْ بَلَاءٍ فِي الدُّنْيَا فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَاللَّهُ تَعَالَى أَكْرَمُ مِنْ أَنْ يُثَنِّيَ عَلَيْهِمْ الْعُقُوبَةَ فِي الْآخِرَةِ وَمَا عَفَا اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ فِي الدُّنْيَا فَاللَّهُ تَعَالَى أَحْلَمُ مِنْ أَنْ يَعُودَ بَعْدَ عَفْوِهِ


আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ

আমি কি তোমাদেরকে আল্লাহর কিতাবের একটি শ্রেষ্ঠ আয়াতের পরিচয় জানাবোনা, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে জানিয়েছেন? সেটি হলোঃ “তোমাদের ওপর যে মুসিবাতই আসুক না। কেন, তা তোমাদের হাত দ্বারাই উপার্জিত এবং অনেকগুলোই আল্লাহ ক্ষমা করে দেন”। (সূরা আশ-শূরাঃ ৩০) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হে আলী, আমি তোমাকে এ আয়াতের ব্যাখ্যা দিচ্ছি। তোমরা যেসব রোগব্যাধি, আযাব অথবা বিপদাপদে দুনিয়ার জীবনে আক্রান্ত হও, তা তোমাদেরই কর্মফল। আল্লাহর সম্মান ও মর্যাদা এর অনেক ঊর্ধে যে, তিনি তোমাদেরকে দুনিয়ায় এ সব শান্তি ভোগ করানোর পর পুনরায় আখিরাতে তা ভোগ করবেন। আর যেসব গুনাহ আল্লাহ্‌ দুনিয়াতেই মাফ করে দেন, মাফ করার পর পুনরায় আখিরাতে তার জন্য শাস্তি দেবেন-- তার ধৈর্য এর চেয়ে অনেক ঊর্ধে। [মুসনাদে আহমাদ : ৬১৪]


হাদিসের মান : যঈফ হাদিস



615 OK

(৬১৫)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ وَإِسْرَائِيلُ وَأَبِي عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ عَاصِمِ بْنِ ضَمْرَةَ قَالَ سَأَلْنَا عَلِيًّا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ تَطَوُّعِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالنَّهَارِ فَقَالَ إِنَّكُمْ لَا تُطِيقُونَهُ قَالَ قُلْنَا أَخْبِرْنَا بِهِ نَأْخُذْ مِنْهُ مَا أَطَقْنَا قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا صَلَّى الْفَجْرَ أَمْهَلَ حَتَّى إِذَا كَانَتْ الشَّمْسُ مِنْ هَا هُنَا يَعْنِي مِنْ قِبَلِ الْمَشْرِقِ مِقْدَارُهَا مِنْ صَلَاةِ الْعَصْرِ مِنْ هَاهُنَا مِنْ قِبَلِ الْمَغْرِبِ قَامَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ يُمْهِلُ حَتَّى إِذَا كَانَتْ الشَّمْسُ مِنْ هَاهُنَا يَعْنِي مِنْ قِبَلِ الْمَشْرِقِ مِقْدَارُهَا مِنْ صَلَاةِ الظُّهْرِ مِنْ هَاهُنَا يَعْنِي مِنْ قِبَلِ الْمَغْرِبِ قَامَ فَصَلَّى أَرْبَعًا وَأَرْبَعًا قَبْلَ الظُّهْرِ إِذَا زَالَتْ الشَّمْسُ وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَهَا وَأَرْبَعًا قَبْلَ الْعَصْرِ يَفْصِلُ بَيْنَ كُلِّ رَكْعَتَيْنِ بِالتَّسْلِيمِ عَلَى الْمَلَائِكَةِ الْمُقَرَّبِينَ وَالنَّبِيِّينَ وَمَنْ تَبِعَهُمْ مِنْ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُسْلِمِينَ قَالَ قَالَ عَلِيٌّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ تِلْكَ سِتَّ عَشْرَةَ رَكْعَةً تَطَوُّعُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالنَّهَارِ وَقَلَّ مَنْ يُدَاوِمُ عَلَيْهَا حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ حَبِيبُ بْنُ أَبِي ثَابِتٍ لَأَبِي إِسْحَاقَ حِينَ حَدَّثَهُ يَا أَبَا إِسْحَاقَ يَسْوَى حَدِيثُكَ هَذَا مِلْءَ مَسْجِدِكَ ذَهَبًا


আসিম বিন যামরা থেকে বর্ণিতঃ

আমরা আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিনের বেলায় কেমন নফল ইবাদাত করতেন? আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ তোমরা তা পারবে না। আমরা বললামঃ আমাদেরকে বলুন না, যতদূর পারি অনুকরণ করবো। তিনি বললেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের নামায পড়ার পর কিছুটা বিরতি দিতেন। তারপর সূর্য যখন পূর্ব প্রান্তে এতটা ওপরে উঠতো, যতটা আছরের সময় পশ্চিম প্রান্তে থাকে, তখন উঠে দু’রাকাআত পড়তেন। তারপর আবার কিছুক্ষণ বিরতি দিতেন। তারপর যোহরের সময় সূর্য পশ্চিম প্রান্তে যতটা ওপরে থাকে, ততটা যখন পূর্ব প্রান্তে থাকতো, তখন উঠে চার রাকাআত পড়তেন। তারপর সূর্য পশ্চিমে ঢলে পড়ার পর যোহরের পূর্বে চার রাকাআত পড়তেন এবং দুরাকাআত যোহরের পরে পড়তেন। আর আছরের পূর্বে চার রাকাআত পড়তেন। এই চার রাকাআতের দুই দুই রাকাআত শেষে আল্লাহর ঘনিষ্ঠতম ফেরেশতাদের ওপর, নবীদের ওপর ও তাদের অনুসারী মুমিন ও মুসলিম নরনারীর ওপর সালাম পাঠাতেন। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ এই ষোল রাকাআত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিনের নফল নামায। তবে এই নামাযগুলো নিয়মিতভাবে খুব কম সংখ্যক লোকই পড়ে থাকে। [মুসনাদে আহমাদ : ৬১৫]


[ইবনু খুযাইমা ১২১১ ও ১২৩২, ইবনু মাজাহ ১১৬১, তিরমিযী। ৪২৪, ৪২৯, ৫৯৮, ৫৯,৯, নাসায়ী ১১৯/২]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



616 OK

(৬১৬)

যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا أَسْوَدُ بْنُ عَامِرٍ وَحُسَيْنٌ قَالَا حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنِ الْحَارِثِ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ مِنْ كُلِّ اللَّيْلِ قَدْ أَوْتَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ أَوَّلِهِ وَأَوْسَطِهِ وَآخِرِهِ فَثَبَتَ الْوَتْرُ آخِرَ اللَّيْلِ


আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের সকল অংশেই বিতর নামায পড়তেন। কখনো প্রথমভাগে, কখনো মধ্যভাগে এবং কখনো শেষ রাতে। অবশেষে শেষ রাতে বিতর পড়া স্থায়ী হয়। [মুসনাদে আহমাদ : ৬১৬]


হাদিসের মান : যঈফ হাদিস



617 OK

(৬১৭)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ عَاصِمِ بْنِ ضَمْرَةَ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ الْوَتْرُ لَيْسَ بِحَتْمٍ مِثْلَ الصَّلَاةِ وَلَكِنَّهُ سُنَّةٌ سَنَّهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ


আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ

বিতর ফরয নামাযের মত বাধ্যতামূলক নয়। তবে এটা সুন্নাত- যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চালু করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৬১৭]


[ইবনু খুযাইমা ১০৬৭, আবু দাউদ ১৪১৬, ইবনু মাজাহ ১১৬৯, তিরমিযী ৪৫৩, ৪৫৪, নাসায়ী ২২৮/৩]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



618 OK

(৬১৮)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ عَاصِمِ بْنِ ضَمْرَةَ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ أَوْتَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ أَوَّلِ اللَّيْلِ وَآخِرِهِ وَأَوْسَطِهِ فَانْتَهَى وِتْرُهُ إِلَى السَّحَرِ


আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের প্রথমভাগে, শেষভাগে ও মধ্যভাগে বিতর পড়তেন। অবশেষে তাঁর বিতর শেষ রাতে দাঁড়ায়। [মুসনাদে আহমাদ : ৬১৮]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



619 OK

(৬১৯)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ حَارِثَةَ بْنِ مُضَرِّبٍ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ لَقَدْ رَأَيْتُنَا يَوْمَ بَدْرٍ وَنَحْنُ نَلُوذُ بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ أَقْرَبُنَا إِلَى الْعَدُوِّ وَكَانَ مِنْ أَشَدِّ النَّاسِ يَوْمَئِذٍ بَأْسًا


আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ

আমরা বদরের দিন নিজেদের দিকে তাকালাম। আমরা সবাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আশ্রয় নিচ্ছিলাম। অথচ তিনি আমাদের মধ্যে শত্রুর সবচেয়ে নিকটে অবস্থান করছিলেন। সেদিন তিনি ছিলেন সবচেয়ে দুর্ধর্ষ বীরযোদ্ধা। [মুসনাদে আহমাদ : ৬১৯]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস