
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: انْخَسَفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللهِ - صلى الله عليه وسلم - فَصَلَّى، فَقَامَ قِيَامًا طَوِيلًا، نَحْوًا مِنْ قِرَاءَةِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ، ثُمَّ رَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلًا، ثُمَّ رَفَعَ فَقَامَ قِيَامًا طَوِيلًا وَهُوَ دُونَ الْقِيَامِ الْأَوَّلِ، ثُمَّ رَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلًا، وَهُوَ دُونَ الرُّكُوعِ الْأَوَّلِ، ثُمَّ سَجَدَ، ثُمَّ قَامَ قِيَامًا طَوِيلاً، وَهُوَ دُونَ الْقِيَامِ الْأَوَّلِ، ثُمَّ رَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلًا، وَهُوَ دُونَ الرُّكُوعِ الْأَوَّلِ، ثُمَّ رَفَعَ، فَقَامَ قِيَامًا طَوِيلًا، وَهُوَ دُونَ الْقِيَامِ الْأَوَّلِ، ثُمَّ رَكَعَ ركُوعًا طَوِيلاً، وَهُوَ دُونَ الرُّكُوعِ الْأَوَّلِ، ثُمَّ سَجَدَ، ثُمَّ انْصَرَفَ وَقَدْ تَجَلَّتِ الشَّمْسُ، فَخَطَبَ النَّاسَ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ، وَاللَّفْظُ لِلْبُخَارِيِّ
আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সময় সুর্যগ্রহন হল। আল্লাহর রসূল (সাঃ) তখন সলাত আদায় করেন এবং তিনি সূরাহ আল-বাক্বারাহ পাঠ করতে যত সময় লাগে সে পরিমান দীর্ঘ কিয়াম করেন। অতঃপর দীর্ঘ রুকু’ করেন। অতঃপর মাথা তুলে পুনরায় দীর্ঘ কিয়াম করেন। তবে তা প্রথম কিয়ামের চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। আবার তিনি দীর্ঘ রুকু’ করলেন। তবে তা প্রথম রুকু’র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি সাজদাহ করেন। আবার দাঁড়ালেন এং দীর্ঘ কিয়াম করলন। তবে তা প্রথম কিয়ামের চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর আবার দীর্ঘ রুকু’ করেন, তবে তা পূর্বের রুকু’র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি মাথা তুললেন এবং দীর্ঘ সময় পর্যন্ত কিয়াম করলেন, তবে তা প্রথম কিয়াম অপেক্ষা অল্পস্থায়ী ছিল। আবার তিনি দীর্ঘ রুকু’ করেন, তবে তা প্রথম রুকু’র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি সাজদাহ করেন এবং সলাত শেষ করেন। ততক্ষনে সূর্যগ্রহন মুক্ত হয়ে গেছে। তারপর লোকেদের জন্য একটি ভাষন দিলেন। [৫৪৪] –শব্দ বিন্যাস বুখারীর। [৫৪৫] [বুলুগুল মারাম : ৫০৫]
[[৫৪৪] (আরবী) উক্তিটি হাদীসের নাস নয়। বরং তা ইমাম হাফিয ইবনু হাজার আসকালানী (রঃ) এর অভিব্যক্তি। কেননা নাবী (সাঃ) সালাতের পরই খুতবা দিতেন। তারপর তিনি বললেনঃ নিঃসন্দেহে সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দু’টি নিদর্শন। কারো মৃত্যু বা জন্মের কারনে এ দু’টির গ্রহন হয় না। কাজেই যখন তোমরা গ্রহন দেখবে তখনই আল্লাহকে স্মরণ করবে। লোকেরা জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা দেখলাম, আপনি নিজের জায়গা হতে কি যেন ধরছেন, আবার দেখলাম, আপনি যেন পিছনে সরে এলেন। তিনি বললেনঃ আমিতো জান্নাত দেখেছিলাম এবং এক গুচ্ছ আঙ্গুরের প্রতি হাত বাড়িয়েছিলাম। আমি তা পেয়ে গেলে দুনিয়া কায়িম থাকা পর্যন্ত অবশ্য তোমরা তা খেতে পারতে। অতঃপর আমাকে জাহান্নাম দেখানো হয়, আমি আজকের মত ভয়াবহ দৃশ্য কখনো দেখিনি। আর আমি দেখলাম, জাহান্নামের অধিকাংশ বাসিন্দা নারী। লোকেরা জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! কী কারণে? তিনি বললেনঃ তাদের কুফরীর কারনে। জিজ্ঞেস করা হল, তারা কি আল্লাহর সাথে কুফরী করে ? তিনি জবাব দিলেন, তারা স্বামীর অবাধ্য থাকে এবং ইহসান অস্বীকার করে। তুমি যদি তাদের কারো প্রতি সারা জীবন সদাচরণ কর, অতঃপর সে তোমার হতে (যদি) সামান্য ত্রুটি পায়, তা হলে বলে ফেলে, তোমার কাছ থেকে কখনো ভাল ব্যবহার পেলাম না। [৫৪৫] বুখারী ২৯, ৪৩১, ৪৪৮, ১০৪৬, ১০৪৭, ১০৫২, মুসলিম ৯০৭, ১৪৯৩, আহমাদ ১৮৬৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ: صَلَّى حِينَ كَسَفَتِ الشَّمْسُ ثَمَانِيَ رَكَعَاتٍ فِي أَرْبَعِ سَجَدَاتٍ
বর্ণনাকারী থেকে বর্ণিতঃ
মুসলিমের একটি বর্ণনায় আছে-সূর্যগ্রহন লাগলে তিনি আট রুকু’ ও চার সাজদাহতে (দু-রাক্আত) সলাত আদায় করলেন। [৫৪৬] [বুলুগুল মারাম : ৫০৬]
[[৫৪৬] মুসলিম ৯০৮ সহীহ। ইমাম বাইহাকী তার সুনানুল কুবরা (৩/৩২৭) গ্রন্থে বলেন, ইমাম বুখারী এ সংক্রান্ত ব্যাপারে চার রুকু ও চার সাজদা ব্যাতীত অন্য কোন রেওয়ায়াত বর্ণনা করেন নি। ইমাম বাযযার আল বাহরুখ যিখার (১১/১৩৮) গ্রন্থে এর সনদকে সহীহ বলেছেন।]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

َعَنْ عَلِيٍّ مِثْلُ ذَلِكَ
আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। [বুলুগুল মারাম : ৫০৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

وَلَهُ عَنْ جَابِرٍ - رضي الله عنه - صَلَّى سِتَّ رَكَعَاتٍ بِأَرْبَعِ سَجَدَاتٍ
জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ৬টি রুকূ’ ও চারটি সাজদাহতে (দু’রাকআত) সলাত আদায় করেছিলেন। [বুলুগুল মারাম : ৫০৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

وَلِأَبِي دَاوُدَ عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ: صَلَّى، فَرَكَعَ خَمْسَ رَكَعَاتٍ وَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ، وَفَعَلَ فِي الثَّانِيَةِ مِثْلَ ذَلِكَ
উবাই বিন কা’ব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-পাঁচ রুকূ’ ও দু’ সাজদাহতে এ সলাত আদায় করলেন। দ্বিতীয় রাক্আতেও তাই করলেন। [৫৪৭] [বুলুগুল মারাম : ৫০৯]
[[৫৪৭] আবূ দাঊদ ১১৮২, আহমাদ ১০৭১৯ বিন বায বুলুগুল মারামের হাশিয়ায় (৩২৮) বলেন, এর সনদে আবূ জাফর আররাযী নামক দুর্বল রাবী রয়েছেন। স্মৃতিশক্তির দুর্বলতার কারণে তার দলীল অগ্রহণযোগ্য। ইমাম যায়লায়ী নাসবুর রায়াহ (২/২২৭) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে আবূ জাফর আর রাযী ঈসা বিন আব্দুল্লাহ বিন মাহান রয়েছেন যিনি সমালোচিত। আলবানী আবূ দাউদের (১১৮২) নং হাদিসটিকে দুর্বল বলেছেন। ইবনু আবদুল বার (৩/৩১১) বলেন, এর সনদ শক্তিশালী নয়। ইমাম নববী আল খুলাসা (২/৮৫৮) গ্রন্থে এর সনদে দুর্বলতার কথা উল্লেখ করেছেন।]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস