
وَلِأَحْمَدَ وَأَبِي دَاوُدَ وَالنَّسَائِيِّ، مِنْ حَدِيثِ عَبْدِ اللهِ بْنِ جَعْفَرٍ مَرْفُوعاً: «مَنْ شَكَّ فِي صَلَاتِهِ، فَلْيَسْجُدْ سَجْدَتَيْنِ بَعْدَمَا يُسَلِّمُ» وَصَحَّحَهُ ابْنُ خُزَيْمَةَ
আবদুল্লাহ বিন জাফর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
মারফূ’ হাদীসে রয়েছে, “যে ব্যক্তি সলাতে সন্দেহ পোষণ করবে সে যেন সালামের পর দুটি সাজদাহ করে।” ইবনু খুযাইমাহ একে সহীহ বলেছেন । [৩৭৬] [বুলুগুল মারাম : ৩৩৫]
[[৩৭৬] আবূ দাউদ ১০৩৩, আহমাদ ১৭৫০, ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ তাঁর মাজমূ ফাতাওয়া ২৩/২২ গ্রন্থে বলেন, এর সনদে ইবনু আবূ লাইলা রয়েছে। ইমাম যাহাবী তাঁর তানকীহুত তাহকীক ১/১৯৭ গ্রন্থে হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন, ইমাম যইলঈ তাঁর নাসবুর রায়াহ ২/১৬৮ গ্রন্থে বলেন, এর সনদে মুসআব বিন শাইবান রয়েছেন যাকে আহমাদ, আবূ হাতিম ও দারাকুতনি দুর্বল বলেছেন। মুহাদ্দিস আযীমবাদী তাঁর আওনুল মা’বূদ ৩/১৯৭ গ্রন্থে বলেন, হাদিসটির সনদে বিতর্ক রয়েছে। শাইখ আলবানী তাঁর যঈফ আবূ দাঊদ ১০৩৩, যঈফ নাসায়ী ১২৪৯, যঈফুল জামে ৫৬৪৭ গ্রন্থে হাদিসটিকে দুর্বল বলেছেন। তবে সহীহ নাসায়ী গ্রন্থে উক্ত হাদীসের শেষে [আরবি] সহযোগে হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। ইমাম শওকানী তাঁর নাইলুল আওত্বার (৩/১৪৪) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে মুসআব বিন শাইবান রয়েছেন যার সম্পর্কে ইমাম নাসায়ী তাকে কখনও বলেছেন তিনি মুনকারুল হাদীস (হাদীস হিসেবে বর্জনযোগ্য)। আবার কখনও বলেছেন তিনি হাদীস বর্ণনাকারী হিসেবে মা’রূফ (পরিচিত) নন। ইবনু মুঈন তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে তার বর্ণিত হাদিসকে দলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি অসংখ্য মুনকার হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবূ হাতিম আর রাযী বলেন, মুহাদ্দিসগন তার সুনাম করেননি এবং তিনি শক্তিশালী নন। ইমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি শক্তিশালী নন ও হাফিযও নন। ইমাম শওকানী তাঁর নাইলুল আওত্বার (৩/১৪৪) গ্রন্থে, ইমাম নাসায়ীর মন্তব্যই নকল করেছেন। আর উতবাহ বিন মুহাম্মাদ ইবনুল হারিস সম্পর্কে আল ইরাকী বলেন, তিনি পরিচিত নন।]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস

وَعَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ - رضي الله عنه - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «إِذَا شَكَّ أَحَدُكُمْ فَقَامَ فِي الرَّكْعَتَيْنِ، فَاسْتَتَمَّ قَائِمًا، فَلْيَمْضِ، وَلْيَسْجُدْ سَجْدَتَيْنِ، وَإِنْ لَمْ يَسْتَتِمَّ قَائِمًا فَلْيَجْلِسْ وَلَا سَهْوَ عَلَيْهِ» رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَابْنُ مَاجَهْ وَالدَّارَقُطْنِيُّ، وَاللَّفْظُ لَهُ بِسَنَدٍ ضَعِيفٍ
মুগীরাহ বিন শু’বাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ সলাতে সন্দেহ বশতঃ দু’রাকআতের পর না বসে পূর্ণভাবে দাঁড়িয়ে যায়- তাহলে সে সলাত পূর্ণ করে নিবে এবং সলাত শেষ করে দুটি সাহউ সাজদাহ করবে। আর যদি পূর্ণভাবে না দাঁড়িয়ে থাকে তাহলে বসে পড়বে; এর ফলে তাকে কোন সাহউ সাজদাহ করতে হবে না। শব্দ বিন্যাস দারাকুতনির দুর্বল সানাদে। [৩৭৭] [বুলুগুল মারাম : ৩৩৬]
[[৩৭৭] আবূ দাউদ ১০৩৬, তিরমিযী ৩৬৫, ইবনু মাজাহ ১২০৮, আহমাদ ১৭৬৯৮, ১৭৭০৮, ১৭৭৫১, দারেমী ১৫০১। ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ তাঁর মাজমূ ফাতাওয়া ২৩/২২ গ্রন্থে বলেন, এর সনদে ইবনু আবূ লাইলা রয়েছে। ইমাম যাহাবী তাঁর তানকীহুত তাহকীক ১/১৯৭ গ্রন্থে হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন, ইমাম যইলঈ তাঁর নাসবুর রায়াহ ২/১৬৮ গ্রন্থে বলেন, [আরবী]। মুহাদ্দিস আযীমবাদী তাঁর আওনুল মা’বূদ ৩/১৯৭ গ্রন্থে বলেন, হাদিসটির সনদে বিতর্ক রয়েছে। শাইখ আলবানী তাঁর যঈফ আবূ দাঊদ ১০৩৩, যঈফ নাসায়ী ১২৪৯, যঈফুল জামে ৫৬৪৭ গ্রন্থে হাদিসটিকে দুর্বল বলেছেন। তবে সহীহ নাসায়ী গ্রন্থে উক্ত হাদীসের শেষে [আরবী] সহযোগে হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস

وَعَنْ عُمَرَ - رضي الله عنه - عَنِ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «لَيْسَ عَلَى مَنْ خَلْفَ الْإِمَامِ سَهْوٌ، فَإِنْ سَهَا الْإِمَامُ، فَعَلَيْهِ وَعَلَى مَنْ خَلْفَهُ» رَوَاهُ الْبَزَّارُ وَالْبَيْهَقِيُّ بِسَنَدٍ ضَعِيفٍ
উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণনা করেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ইমামের পিছনের লোকেদের (মুক্তাদীর) জন্য কোন সাহ্উ সাজদাহ নাই, ইমাম ভুল করলে তাঁকে ও মুক্তাদীর সকলকেই সাহ্উ সাজদাহ করতে হবে। বায্যার ও বাইহাকী এটিকে দুর্বল সানাদে রিওয়ায়াত করেছেন। [৩৭৮] [বুলুগুল মারাম : ৩৩৭]
[[৩৭৮] অত্যন্ত দুর্বল। বাইহাকী ২/৩৫২, ইবনুল মুলকীন আল বাদরুল মুনীর (৪/২২৯) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে খারেজা বিন মুসআব রয়েছেন যাকে ইমাম দারাকুতনী ও প্রমুখ দুর্বল বলেছেন। আর আবুল হাসান হচ্ছে অপরিচিত ব্যক্তি। ইবনু হাজার আসকালানী তাঁর আত তালখীসুল হাবীর (২/৪৮০) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে খারেজা বিন মুসআব রয়েছেন যিনি দুর্বল। ইমাম সনআনী তাঁর সুবুলুস সালাম (১/৩২৭) গ্রন্থেও উক্ত রাবী সম্পর্কে একই কথা বলেছেন। ইবনু কাসীর তাঁর ইরশাদুল ফাক্বীহ (১/১৬১) গ্রন্থে এ রাবীকে মাতরুকুল হাদীস বলেছেন।]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস