
عَنْ عَلِيِّ بْنِ طَلْقٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم -: «إِذَا فَسَا أَحَدُكُمْ فِي الصَّلَاةِ فَلْيَنْصَرِفْ، وَلْيَتَوَضَّأْ، وَلْيُعِدِ الصَّلَاةَ» رَوَاهُ الْخَمْسَةُ، وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ
আলী বিন ত্বলক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সলাতে বাতকর্ম করবে, (সলাত ছেড়ে) সরে গিয়ে উযু করবে ও সলাত পুনরায় সলাত আদায় করবে। ইবনু হিব্বান একে সহীহ বলেছেন।” [২৩৮] [বুলুগুল মারাম : ২০৫]
[[২৩৮] যঈফ। আবু দাউদ ২০৫; নাসায়ী তার ‘ইশরাতুন নিসায়’ (১৩৭-১৪০); তিরমিয়ী ১১৬৬ আহমাদ ১/৮৬। ইমাম আহমাদ একে মুসনাদে আলীর মুসনাদের অন্তর্ভুক্ত বলেছেন। তার দাবী ভুল। এ বিষয়ে ইবনু কাসীর তাঁর তাফসীরে (১/৩৮৫) এবং ইবনু হিব্বান তার সহীহ গ্রন্থে (২২৩৭) সর্তক করেছেন। মুহাক্কিক সুমাইর আয-যুহাইরি বুলুগুল মারামের ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলেন: হাদীসটি যঈফ। কেননা, এর ভিত্তি মাজহুলের উপর। আর এই বর্ধিত অংশটুকু সহীহ, যেহেতু এর পক্ষে সমর্থক হাদীস রয়েছে। তৃতীয়ত: হাদীসটি ইবনু মাজাহ বর্ণনা করেননি। এটা ইবনু হাজারের ভুল। শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদুল ওয়াহহাব তাঁর আল হাদীস (১/৩৬৪) গ্রন্থে এর সনদকে উত্তম বলেছেন। অপরপক্ষে ইমাম ইবনু কাসীর তার ইরশাদুল ফাকীহ (১/১৫৩) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে ইযতিয়াব সংঘটিত হয়েছে। ইবনুল কাত্তান বলেন, হাদীসটি বিশুদ্ধ নয়। (আল ওহম ওয়াল ইহাম ৫/১৯২) আলবানী দুর্বল বলেছেন; যঈফুল জামে ৬০৭, আবু দাউদ ২০৫, (যঈফ আবু দাউদ ১০০৫) ইবনু কাসীর বলেন, এ হাদীসে ইযতিয়াব সংঘটিত হয়েছে। (ইরশাদুল ফকীহ ১/১৫৩)]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم -: «مَنْ أَصَابَهُ قَيْءٌ، أَوْ رُعَافٌ، أَوْ مَذْيٌ، فَلْيَنْصَرِفْ، فَلْيَتَوَضَّأْ، ثُمَّ لِيَبْنِ عَلَى صَلَاتِهِ، وَهُوَ فِي ذَلِكَ لَا يَتَكَلَّمُ» رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ، وَضَعَّفَهُ أَحْمَدُ
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তির বমি, নাকের রক্ত বা মযি বের হবে সে যেন সলাত ছেড়ে দিয়ে অযু করে, আর (এর মাঝে) কোন কথা না বলে সলাতের বাকী অংশ আদায় করে নেয়। ইবনু মাজাহ বর্ণনা করেছেন এবং আহমাদ একে যঈফ বলেছেন। [২৩৯] [বুলুগুল মারাম : ২০৬]
[[২৩৯] যঈফ। ইবনু মাজাহ (১২২১) ইবনু হাজার আসকালানী তাঁর আদ দিরায়াহ (১/৩১) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে ইসমাইল বিন আইয়াশ রয়েছে, তিনি যখন শামবাসী ব্যতীত অন্যদের থেকে হাদীস বর্ণনা করবেন তখন তা দুর্বল হিসেবে বিবেচিত হবে। ইমাম দারাকুতনী বলেন, ইবনু জুরাইয কর্তৃক তাঁর পিতা থেকে বর্ণিত হাদীসটি মুরসাল হিসেবে সকল মুহাদ্দিসের নিকট স্বীকৃত। ইমাম শওকানী তাঁর নাইলুল আওত্বার (১/২৩৬) গ্রন্থে বলেন, হাদীসটিকে বিতর্ক থাকার কারনে যথাযথ বলে বিবেচিত নয়। মুহাদ্দিস আযীমাবাদী তাঁর গায়াতুল মাকসূদ (২/২১৩) বলেন, কেউ এটিকে সহীহ বলেননি। আর তিনি তাঁর আওনুল মা‘বুদ (১/১৮০) গ্রন্থে বলেন, আহমাদ ও অন্যান্যরা এক দুর্বল বলেছেন, দুর্বল হওয়ার কারণ হলো এটিকে মারফূ‘ বলাটা ভূল সঠিক হল এটি মুরসাল সূত্রে বর্ণিত। আবদুর রহমান মুবারকপুরী তাঁর তুহফাতুল আহওয়াযী (১/২১৩) গ্রন্থে বলেন, এটি দুর্বল আর সঠিক হচ্ছে এটি মুরসাল। শাইখ আলবানী তাঁর যঈফ ইবনু মাজাহ (২২৫), যঈফুল জামে’ (৫৪২৬) গ্রন্থে, ইবনু উসাইমীন তাঁর বুলুগুল মারামের শরাহ (১/২৬১) গ্রন্ত্রে হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন।]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস