(৪১২) তালাক [হাদিসের সীমা (৩৩৮৯ – ৩৫৬০), সর্বমোট হাদিসঃ ১৭২টি]

পরিচ্ছেদ [মোট হাদিসঃ ৪টি] [অবশিষ্ট হাদিসঃ ১১০টি]


যে দাসী আযাদ হয়েছে এবং তার স্বামী দাস, তার ইখতিয়ার সম্পর্কে




18548 OK

(৩৪৫১)

সহিহ হাদিস

أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: أَنْبَأَنَا جَرِيرٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: كَاتَبَتْ بَرِيرَةُ عَلَى نَفْسِهَا بِتِسْعِ أَوَاقٍ، فِي كُلِّ سَنَةٍ بِأُوقِيَّةٍ، فَأَتَتْ عَائِشَةَ تَسْتَعِينُهَا، فَقَالَتْ: لَا، إِلَّا أَنْ يَشَاءُوا أَنْ أَعُدَّهَا لَهُمْ عَدَّةً وَاحِدَةً وَيَكُونُ الْوَلَاءُ لِي، فَذَهَبَتْ بَرِيرَةُ فَكَلَّمَتْ فِي ذَلِكَ أَهْلَهَا فَأَبَوْا عَلَيْهَا، إِلَّا أَنْ يَكُونَ الْوَلَاءُ لَهُمْ، فَجَاءَتْ إِلَى عَائِشَةَ وَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عِنْدَ ذَلِكَ، فَقَالَتْ لَهَا مَا قَالَ أَهْلُهَا، فَقَالَتْ: لَا هَا اللَّهِ إِذًا إِلَّا أَنْ يَكُونَ الْوَلَاءُ لِي، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا هَذَا؟» فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ بَرِيرَةَ أَتَتْنِي تَسْتَعِينُ بِي عَلَى كِتَابَتِهَا، فَقُلْتُ: لَا، إِلَّا أَنْ يَشَاءُوا أَنْ أَعُدَّهَا لَهُمْ عَدَّةً وَاحِدَةً وَيَكُونُ الْوَلَاءُ لِي، فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لِأَهْلِهَا فَأَبَوْا عَلَيْهَا، إِلَّا أَنْ يَكُونَ الْوَلَاءُ لَهُمْ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «ابْتَاعِيهَا وَاشْتَرِطِي لَهُمُ الْوَلَاءَ، فَإِنَّ الْوَلَاءَ لِمَنْ أَعْتَقَ»، ثُمَّ قَامَ فَخَطَبَ النَّاسَ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: ` مَا بَالُ أَقْوَامٍ يَشْتَرِطُونَ شُرُوطًا لَيْسَتْ فِي كِتَابِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ يَقُولُونَ: أَعْتِقْ فُلَانًا وَالْوَلَاءُ لِي. كِتَابُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ أَحَقُّ، وَشَرْطُ اللَّهِ أَوْثَقُ، وَكُلُّ شَرْطٍ لَيْسَ فِي كِتَابِ اللَّهِ فَهُوَ بَاطِلٌ وَإِنْ كَانَ مِائَةَ شَرْطٍ ` فَخَيَّرَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، مِنْ زَوْجِهَا وَكَانَ عَبْدًا فَاخْتَارَتْ نَفْسَهَا قَالَ عُرْوَةُ: «فَلَوْ كَانَ حُرًّا، مَا خَيَّرَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ»


আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ বারীরা (রাঃ) নিজের ব্যাপারে তার মালিকের সংগে দাসত্ব হতে মুক্তির (কিতাবাত) চুক্তি করে যে, সে নয় বছরে তার মালিকের নয় উকিয়া, প্রতি বছর এক উকিয়া করে আদায় করবে। এরপর সে আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট সাহায্যপ্রার্থী হয়ে আগমন করলে তিনি বলেনঃ না, তবে যদি তারা চায় তাহলে আমি তাদেরকে একত্রে সব পাওনা আদায় করে দেব। আর ‘ওয়ালা’(মীরাছ)আমার হবে। বারীরা (রাঃ) এরপর তার মালিকের নিকট গিয়ে এ ব্যাপারে তাদের সাথে আলোচনা করলে তারা তা মানলো না। তারা বলল, ‘ওয়ালা’(মীরাছ) আমাদের থাকবে। তখন বারীরা (রাঃ) আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট এসে তাঁর মালিক যা বলেছে, তা তাঁকে বললেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আগমন করেন। আয়েশা (রাঃ) বললেনঃ তা হয় না, ‘ওয়ালা’ (মীরাছ) আমারই থাকবে। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেনঃ কি ব্যাপার? তিনি (আয়েশা (রাঃ)) বললেনঃ ইয়া রাসুলুল্লাহ! বারীরা (রাঃ) তাঁর দাসত্ব মুক্তির অর্থ আদায়ের ব্যাপারে আমার নিকট সাহায্য চাইলে, আমি বললামঃ না,(তা হবেনা,)যদি তারা ইচ্ছা করে, তবে আমি একসঙ্গে তাদের পাওনা আদায় করে দেব, কিন্তু ‘ওয়ালা’ (মীরাছ) আমার থাকবে। সে তার মালিকের নিকট এ কথা বললে তারা তা মানতে অস্বীকার করে এবং বলেঃ ‘ওয়ালা’ (মীরাছ) আমাদের থাকবে। তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেনঃ তুমি তাঁকে ক্রয় করে নাও তাদের ওয়ালার শর্ত (করতে) দাও। কেননা ‘ওয়ালা’(মীরাছ) যে মুক্ত করবে তারই থাকবে। পড়ে তিনি দাঁড়িয়ে লোকদের সামনে ভাষণ দিতে গিয়ে আল্লাহ্‌র হামদ ও প্রশংসা বর্ণনার পর বললেনঃ মানুষের কী হলো, তারা এমন এমন শর্ত করে যা আল্লাহ্‌র কিতাবে নেই। তারা বলেঃ অমুককে মুক্ত কর তাঁর ‘ওয়ালা’ (মীরাছ) আমি পাব। মহান মহিয়ান আল্লাহ্‌র কিতাব অধিক পালনীয়। মহান মহিয়ান আল্লাহ তা’য়ালা যে শর্ত ঠিক করেছেন, তা খুবই সুদৃঢ়। আর যে শর্ত আল্লাহ্‌র কিতাবে নেই, তা বাতিল। যদিও তা একশত শর্তও হয়। এর পর রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বারীরা (রাঃ)-কে তাঁর স্বামীর ব্যাপারে ইখতিয়ার প্রদান করেন, সে (স্বামী) ছিল দাস। তখন সে নিজেকে গ্রহণ করে ও (স্বামীকে ছেড়ে দেয়)। উরওয়া (রহঃ) বলেনঃ যদি তাঁর স্বামী স্বাধীন হতো তাহলে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তাঁকে ইখতিয়ার দিতেন না। [সুনানে আন-নাসায়ী : ৩৪৫১]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



18549 OK

(৩৪৫২)

সহিহ হাদিস

أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: أَنْبَأَنَا الْمُغِيرَةُ بْنُ سَلَمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ رُومَانَ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، قَالَتْ: «كَانَ زَوْجُ بَرِيرَةَ عَبْدًا»


আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ বারীরা (রাঃ)-এর স্বামী ছিল দাস। [সুনানে আন-নাসায়ী : ৩৪৫২]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



18550 OK

(৩৪৫৩)

হাসান সহিহ

أَخْبَرَنَا الْقَاسِمُ بْنُ زَكَرِيَّا بْنِ دِينَارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ، عَنْ زَائِدَةَ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ عَائِشَةَ: أَنَّهَا اشْتَرَتْ بَرِيرَةَ مِنْ أُنَاسٍ مِنَ الْأَنْصَارِ فَاشْتَرَطُوا الْوَلَاءَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْوَلَاءُ لِمَنْ وَلِيَ النِّعْمَةَ» وَخَيَّرَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَكَانَ زَوْجُهَا عَبْدًا. وَأَهْدَتْ لِعَائِشَةَ لَحْمًا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَوْ وَضَعْتُمْ لَنَا مِنْ هَذَا اللَّحْمِ». قَالَتْ عَائِشَةُ: تُصُدِّقَ بِهِ عَلَى بَرِيرَةَ، فَقَالَ: «هُوَ عَلَيْهَا صَدَقَةٌ وَهُوَ لَنَا هَدِيَّةٌ» --- [حكم الألباني] حسن صحيح


আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি কয়েকজন আনসারী হতে বারীরা (রাঃ)-কে ক্রয় করেন। তারা ওয়ালার (মীরাছের)শর্ত আরোপ করে। তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ যে আযাদ করে, সে-ই ওয়ালার (মীরাছের) হকদার। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তাঁকে ইখতিয়ার প্রদান করেন। তাঁর স্বামী ছিল দাস। একদা বারীরা (রাঃ) আয়েশা (রাঃ)-কে গোশত হাদিয়া দিলে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেনঃ তোমরা আমার জন্য এ গোশত থেকে কিছু রেখে দিলে (ভাল হতো)। আয়েশ (রাঃ)বলেনঃ এ তো বারীরা (রাঃ) কে সাদাকা স্বরূপ দান করা হয়েছে। তখন তিনি বললেনঃ তা তাঁর জন্য তো সাদাকা কিন্তু আমাদের জন্য হাদিয়া। [সুনানে আন-নাসায়ী : ৩৪৫৩]


হাদিসের মান : হাসান সহিহ



18551 OK

(৩৪৫৪)

সহিহ হাদিস

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ الْكَرْمَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ - عَنْ عَائِشَةَ، قَالَ: وَكَانَ وَصِيَّ أَبِيهِ قَالَ: وَفَرِقْتُ أَنْ أَقُولَ سَمِعْتُهُ مِنْ أَبِيكَ -، قَالَتْ عَائِشَةُ: سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ بَرِيرَةَ وَأَرَدْتُ أَنْ أَشْتَرِيَهَا وَاشْتُرِطَ الْوَلَاءُ لِأَهْلِهَا، فَقَالَ: «اشْتَرِيهَا، فَإِنَّ الْوَلَاءَ لِمَنْ أَعْتَقَ» قَالَ: وَخُيِّرَتْ وَكَانَ زَوْجُهَا عَبْدًا، ثُمَّ قَالَ بَعْدَ ذَلِكَ: مَا أَدْرِي، وَأُتِيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِلَحْمٍ، فَقَالُوا: هَذَا مِمَّا تُصُدِّقَ بِهِ عَلَى بَرِيرَةَ، قَالَ: «هُوَ لَهَا صَدَقَةٌ وَلَنَا هَدِيَّةٌ»


আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-কে বারীরা (রাঃ)-এর ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করি। আমি বলিঃ আমার ইচ্ছা আমি বারীরা (রাঃ)-কে ক্রয় করি, আর তাঁর মালিকের জন্য ‘ওয়ালার’ (মীরাছের) শর্ত রাখি। তিনি বলেনঃ তুমি তাঁকে ক্রয় কর। কেননা, যে মুক্ত করে ওয়ালা (মীরাছ) তারই। বর্ণনাকারী বলেনঃ রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বারীরা (রাঃ)-কে তাঁর স্বামীর ব্যাপারে, ইখতিয়ার দিয়েছিলেন। তাঁর স্বামী ছিল দাস। এরপর রাবী বলেনঃ আমি জানিনা, (তিনি দাস না স্বাধীন)। (একদা) রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর নিকট গোশত আনা হলে তাঁর পরিবারের লোক বললেনঃ এটা বারীরা (রাঃ)-কে প্রদত্ত সাদাকা। তিনি বললেনঃ তা তাঁর জন্য সাদাকা ছিল, এখন তা আমাদের জন্য হাদিয়া। [সুনানে আন-নাসায়ী : ৩৪৫৪]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস