
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، قَالَ: ` قَرَأْتُ عَلَى عَائِشَةَ {فَلَا جُنَاحَ} [البقرة: 158] عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا قُلْتُ: مَا أُبَالِي، أَنْ لَا أَطُوفَ بَيْنَهُمَا ` فَقَالَتْ: بِئْسَ مَا قُلْتَ: ` إِنَّمَا كَانَ نَاسٌ مِنْ أَهْلِ الْجَاهِلِيَّةِ لَا يَطُوفُونَ بَيْنَهُمَا، فَلَمَّا كَانَ الْإِسْلَامُ وَنَزَلَ الْقُرْآنُ {إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ} [البقرة: 158] الْآيَةَ فَطَافَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَطُفْنَا مَعَهُ فَكَانَتْ سُنَّةً `
উরওয়া (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ
আমি আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট (আরবী) (অর্থ: তাই যে কেউ কা'বা গৃহের (হজ্জ কিংবা উমরা করে) এ দুটির (সাফা-মারওয়ার) মধ্যে যাতায়াত (সাঈ) করাতে তাঁর কোন পাপ নেই। (২ : ১৫৮) এ আয়াত পাঠ করে বললাম: এ দুটির মধ্যে সাঈ না করাকে আমি মন্দ মনে করি না। তিনি বলেন : তুমি যা বললে তা মন্দ কথা, জাহিলী যুগে লোকেরা এই দু' পাহাড়ের সাঈ করতো না। যখন ইসলামের যুগ এলো এবং কুরআন নাযিল হলো : (আরবী) `নিশ্চয় সাফা ও মারওয়া আল্লাহ্র অন্যতম নিদর্শন` (২ : ১৫৮)। তখন রাসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাঈ করলেন এবং আমরাও তাঁর সঙ্গে সাঈ করলাম। তাই ইহা সুন্নত (বিধিবদ্ধ বিধান)। [সুনানে আন-নাসায়ী : ২৯৬৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ شُعَيْبٍ، عَنْ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، قَالَ: سَأَلْتُ عَائِشَةَ، عَنْ قَوْلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ {فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا} [البقرة: 158] فَوَاللَّهِ مَا عَلَى أَحَدٍ جُنَاحٌ أَنْ لَا يَطُوفَ بِالصَفَا وَالْمَرْوَةِ، قَالَتْ عَائِشَةُ: بِئْسَمَا قُلْتَ يَا ابْنَ أُخْتِي إِنَّ هَذِهِ الْآيَةَ لَوْ كَانَتْ كَمَا أَوَّلْتَهَا، كَانَتْ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ لَا يَطَّوَّفَ بِهِمَا، وَلَكِنَّهَا نَزَلَتْ فِي الْأَنْصَارِ قَبْلَ أَنْ يُسْلِمُوا، كَانُوا يُهِلُّونَ لِمَنَاةَ الطَّاغِيَةِ الَّتِي كَانُوا يَعْبُدُونَ عِنْدَ الْمُشَلَّلِ، وَكَانَ مَنْ أَهَلَّ لَهَا يَتَحَرَّجُ أَنْ يَطُوفَ بِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ، فَلَمَّا سَأَلُوا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ذَلِكَ؟ أَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ، {إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ} [البقرة: 158] اللَّهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا ثُمَّ قَدْ سَنَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، الطَّوَافَ بَيْنَهُمَا، فَلَيْسَ لِأَحَدٍ أَنْ يَتْرُكَ الطَّوَافَ بِهِمَا `
উরওয়া (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ
আমি আয়েশা (রাঃ) –কে (আরবী) এ আয়াত সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলাম এবং বললাম : আল্লাহ্র শপথ সাফা ও মারওয়ায় সা'ঈ না করলে কারো অন্যায় হবে না। আয়েশা (রাঃ) বললেন : তুমি যা ব্যাখ্যা করলে, তা ভাল নয়, হে ভাগ্নে! তুমি এই আয়াতের মর্ম যা বুঝেছ; যদি তা-ই হতো তাহলে তো বলা হত এর সাঈ না করলে কোন অন্যায় হবে না কিন্তু এই আয়াত নাযিল হয়েছে আনসারদের ইসলাম গ্রহণের (পূর্ববর্তী অবস্থা) সম্বন্ধে। (ইসলাম গ্রহণের) পূর্বে যারা 'মুশাল্লাল' (স্থান)-এর নিকট অবস্থিত 'মানাতে তাগিয়া' (একটি মূর্তি)-এর ইবাদত করতো। তারা এখানে ইহ্রাম বাঁধত এবং যারা এখানে ইহ্রাম বাঁধত তাঁরা সাফা ও মারওয়ার সা'ঈ করতো না। যখন তাঁরা রাসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করেছিল, তখন মহান মহিয়ান আল্লাহ্ তা'আলা নাযিল করেন : (আরবী)১ তারপর রাসুলুল্লাহ্ পর্বতদ্বয়ের সা'ঈ করাকে শরীআতের আহকামভুক্ত করেন। তাই কেউ পর্বতদ্বয়ের সা'ঈ বাদ দিতে পারবে না। [সুনানে আন-নাসায়ী : ২৯৬৮]
[[১] অর্থ: সাফা ও মারওয়া আল্লাহ তা’আলার ‘শি‘আর’ (বিশেষ) প্রতীক সমূহের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যারা বায়তুল্লাহর হ্জ্জ করবে তাদের জন্য এ দু’টিতে সা’ঈ (প্রদক্ষিণ) করলে কোন অপরাধ হবে না।]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، قَالَ: أَنْبَأَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْقَاسِمِ، قَالَ: حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ خَرَجَ مِنَ الْمَسْجِدِ وَهُوَ يُرِيدُ الصَّفَا، وَهُوَ يَقُولُ: «نَبْدَأُ بِمَا بَدَأَ اللَّهُ بِهِ»
জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন : আমি শুনেছি যে, রাসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন সাফায় গমনের ইচ্ছায় মসজিদ (অর্থাৎ তাওয়াফের স্থান) থেকে বের হলেন, তখন তিনি বললেন : আমরা সেখান থেকে আরম্ভ করব যেখান থেকে আল্লাহ্ তা'আলা আরম্ভ করেছেন। [সুনানে আন-নাসায়ী : ২৯৬৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

أَخْبَرَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: أَنْبَأَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ: حَدَّثَنَا جَابِرٌ، قَالَ: خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ إِلَى الصَّفَا وَقَالَ: ` نَبْدَأُ بِمَا بَدَأَ اللَّهُ بِهِ، ثُمَّ قَرَأَ: {إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ} [البقرة: 158] `
জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
রাসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাফার দিকে বের হয়ে বললেন : আল্লাহ তা'আলা যে স্থান থেকে আরম্ভ করেছেন, আমরাও সে স্থান থেকে আরম্ভ করবো। তারপর তিনি পাঠ করেন :
(আরবী)
(অর্থ : সাফা ও মারওয়া আল্লাহ্ তা'আলার 'শি'আর' (বিশেষ) প্রতীক সমুহের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যারা বায়তুল্লাহ্র হজ্জ করবে তাদের জন্য এ দুটিতে সা'ঈ করলে কোন অপরাধ হবে না।) [সুনানে আন-নাসায়ী : ২৯৭০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস