
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ قُدَامَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: مَرَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِحَائِطٍ مِنْ حِيطَانِ مَكَّةَ أَوِ الْمَدِينَةِ سَمِعَ صَوْتَ إِنْسَانَيْنِ يُعَذَّبَانِ فِي قُبُورِهِمَا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يُعَذَّبَانِ وَمَا يُعَذَّبَانِ فِي كَبِيرٍ»، ثُمَّ قَالَ: «بَلَى، كَانَ أَحَدُهُمَا لَا يَسْتَبْرِئُ مِنْ بَوْلِهِ، وَكَانَ الْآخَرُ يَمْشِي بِالنَّمِيمَةِ»، ثُمَّ دَعَا بِجَرِيدَةٍ فَكَسَرَهَا كِسْرَتَيْنِ، فَوَضَعَ عَلَى كُلِّ قَبْرٍ مِنْهُمَا كِسْرَةً، فَقِيلَ لَهُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، لِمَ فَعَلْتَ هَذَا؟ قَالَ: «لَعَلَّهُ أَنْ يُخَفَّفَ عَنْهُمَا مَا لَمْ يَيْبَسَا أَوْ إِلَى أَنْ يَيْبَسَا»
ইব্ন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কা অথবা মদিনার বাগান সমূহের কোনও এক বাগানে গেলে দুই ব্যক্তির শব্দ শুনতে পেলেন, যারা নিজ নিজ কবরে আযাবের সম্মুখীন হচ্ছিল। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তাদের কবরে আযাব দেওয়া হচ্ছে। আর তারা কোন বড় অপরাধে শাস্তি পাচ্ছে না। তারপর তিনি বললেন, তবে তাদের একজন নিজ পেশাব থেকে পবিত্র থাকত না আর অন্যজন চোগলখুরী করে বেড়াত। অতঃপর তিনি একটি খেজুরের ডাল চাইলেন এবং তা দ্বিখণ্ডিত করে প্রত্যেক কবরে তার একটা খণ্ড গেড়ে দিলেন। তখন তাঁকে বলা হলঃ ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আপনি এরূপ কেন করলেন? তিনি বললেন, হয়ত এগুলো না শুকানো পর্যন্ত তাদের থেকে আযাব লাঘব করা হতে পারে। [সুনানে আন-নাসায়ী : ২০৬৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

أَخْبَرَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، فِي حَدِيثِهِ، عَنْ أَبِي مُعَاوِيَةَ، عَنْ الْأَعْمَشِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: مَرَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقَبْرَيْنِ فَقَالَ: «إِنَّهُمَا لَيُعَذَّبَانِ وَمَا يُعَذَّبَانِ فِي كَبِيرٍ، أَمَّا أَحَدُهُمَا فَكَانَ لَا يَسْتَبْرِئُ مِنْ بَوْلِهِ، وَأَمَّا الْآخَرُ فَكَانَ يَمْشِي بِالنَّمِيمَةِ»، ثُمَّ أَخَذَ جَرِيدَةً رَطْبَةً فَشَقَّهَا نِصْفَيْنِ، ثُمَّ غَرَزَ فِي كُلِّ قَبْرٍ وَاحِدَةً، فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، لِمَ صَنَعْتَ هَذَا؟ فَقَالَ: «لَعَلَّهُمَا أَنْ يُخَفَّفَ عَنْهُمَا مَا لَمْ يَيْبَسَا»
ইব্ন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুইটি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেন যে, এই দুইজন ব্যক্তিকে আযাব দেওয়া হচ্ছে কোন বড় অপরাধের জন্য নয় বরং তাদের একজন নিজ পেশাব থেকে পবিত্র থাকত না আর অন্যজন চোগলখুরী করে বেড়াত। অতঃপর তিনি একটি তাজা খেজুরের ডাল নিয়ে তা দ্বিখণ্ডিত করে প্রত্যেক কবরে একটি করে গেড়ে দিলেন। সাহাবীগন জিজ্ঞাসা করলেনঃ ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আপনি এরূপ কেন করলেন? তখন তিনি বললেন, হয়ত এগুলো শুষ্ক না হওয়া পর্যন্ত এদের আযাব লাঘব করা হবে। [সুনানে আন-নাসায়ী : ২০৬৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ: حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أَلَا إِنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا مَاتَ عُرِضَ عَلَيْهِ مَقْعَدُهُ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ، إِنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَمِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ، وَإِنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ النَّارِ فَمِنْ أَهْلِ النَّارِ، حَتَّى يَبْعَثَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ»
ইব্ন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, শুনো, যখন তোমাদের কেউ মৃত্যুবরণ করে তখন তাকে সকাল সন্ধ্যা তার স্থান দেখানো হয়। যদি সে বেহেশতী হয় তবে বেহেশতীদের স্থান। আর যদি দোযখী হয় দোযখীদের স্থান দেখানো হয়। আল্লাহ্ তা’আলা তাকে কিয়ামতের দিন উঠানোর পূর্ব পর্যন্ত (তাকে এরূপ দেখানো হবে)। [সুনানে আন-নাসায়ী : ২০৭০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: أَنْبَأَنَا الْمُعْتَمِرُ، قَالَ: سَمِعْتُ عُبَيْدَ اللَّهِ يُحَدِّثُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ ابْنِ عُمَرَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ` يُعْرَضُ عَلَى أَحَدِكُمْ إِذَا مَاتَ مَقْعَدُهُ مِنَ الْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ، فَإِنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ النَّارِ فَمِنْ أَهْلِ النَّارِ، قِيلَ: هَذَا مَقْعَدُكَ حَتَّى يَبْعَثَكَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ `
ইব্ন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন মৃত্যুবরণ করে তখন সকাল সন্ধ্যা তাকে তার স্থান দেখানো হয়। যদি সে জান্নাতী হয় তবে তাকে জান্নাতীদের স্থান এবং যদি জাহান্নামী হয় তবে তাকে জাহান্নামীদের স্থান দেখিয়ে বলা হয় যে, এটাই তোমার স্থান। কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা’আলা তাকে উঠানো পর্যন্ত (তাকে এরূপ দেখানো হবে)। [সুনানে আন-নাসায়ী : ২০৭১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، وَالْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ وَاللَّفْظُ لَهُ، عَنْ ابْنِ الْقَاسِمِ، حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ` إِذَا مَاتَ أَحَدُكُمْ عُرِضَ عَلَى مَقْعَدِهِ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ، إِنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَمِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ، وَإِنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ النَّارِ فَمِنْ أَهْلِ النَّارِ، فَيُقَالُ: هَذَا مَقْعَدُكَ حَتَّى يَبْعَثَكَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ `
ইব্ন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কারো যখন মৃত্যু হয় তখন সকাল সন্ধ্যা তার স্থান তাকে দেখানো হয়। যদি সে জান্নাতী হয় তবে জান্নাতীদের স্থান। আর জাহান্নামী হলে জাহান্নামীদের স্থান দেখিয়ে বলা হয় যে, এটা তোমার স্থান। কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা’আলা তাকে উঠানো পর্যন্ত (তাকে এরূপ দেখানো হবে)। [সুনানে আন-নাসায়ী : ২০৭২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ كَعْبٍ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ، أَنَّ أَبَاهُ كَعْبَ بْنَ مَالِكٍ كَانَ يُحَدِّثُ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّمَا نَسَمَةُ الْمُؤْمِنِ طَائِرٌ فِي شَجَرِ الْجَنَّةِ حَتَّى يَبْعَثَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ إِلَى جَسَدِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ»
কা’ব ইব্ন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ মুমিনদের রুহ জান্নাতের গাছের পাখীর রুপ ধারন করে থাকবে, কিয়ামতের দিন তাদের স্বীয় শরীরে পুনঃ স্থাপন করা পর্যন্ত। ১ [সুনানে আন-নাসায়ী : ২০৭৩]
[[১] অধিকাংশ আলেমগনের অভিমতঃ ইহা শহীদগণের রুহের বৈশিষ্ট্য।]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ وَهُوَ ابْنُ الْمُغِيرَةِ، قَالَ: حَدَّثَنَا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ: كُنَّا مَعَ عُمَرَ بَيْنَ مَكَّةَ وَالْمَدِينَةِ أَخَذَ يُحَدِّثُنَا عَنْ أَهْلِ بَدْرٍ، فَقَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيُرِينَا مَصَارِعَهُمْ بِالْأَمْسِ، قَالَ: «هَذَا مَصْرَعُ فُلَانٍ إِنْ شَاءَ اللَّهُ غَدًا»، قَالَ عُمَرُ: وَالَّذِي بَعَثَهُ بِالْحَقِّ مَا أَخْطَئُوا تِيكَ، فَجُعِلُوا فِي بِئْرٍ، فَأَتَاهُمُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَنَادَى: «يَا فُلَانُ بْنَ فُلَانٍ، يَا فُلَانُ بْنَ فُلَانٍ، هَلْ وَجَدْتُمْ مَا وَعَدَ رَبُّكُمْ حَقًّا؟ فَإِنِّي وَجَدْتُ مَا وَعَدَنِي اللَّهُ حَقًّا»، فَقَالَ: عُمَرُ: تُكَلِّمُ أَجْسَادًا لَا أَرْوَاحَ فِيهَا، فَقَالَ: «مَا أَنْتُمْ بِأَسْمَعَ لِمَا أَقُولُ مِنْهُمْ»
আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, একদা আমরা মক্কা এবং মদিনার মাঝপথে উমর (রাঃ)-এর সাথে ছিলাম। তখন তিনি আমাদের নিকট বদরের জিহাদে অংশ গ্রহণকারী মুশরিকদের সম্পর্কে বলতে লাগলেন। তিনি বললেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (সেদিন) আমাদেরকে আগামীকাল তাদের পড়ে যাওয়ার স্থান (মৃত্যুর স্থান) সমূহ দেখিয়ে বলেছিলেন, ইনশাআল্লাহ্ ইহা আগামীকাল অমুকের পড়ে যাওয়ার স্থান। উমর (রাঃ) বলেন, আল্লাহ্র কসম যিনি তাঁকে সত্য সহকারে প্রেরণ করেছেন, তারা ঐ সমস্থ স্থান সমূহ ভুল করেনি (দেখানো স্থানেই তারা নিহত হয়েছে)। অতঃপর তাদের একটি কুয়ায় (গর্তে) ফেলা হল। তারপর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের ডেকে ডেকে বললেন, হে অমুকের পুত্র অমুক! হে অমুকের পুত্র অমুক! তোমাদের রব তোমাদের সাথে যে ওয়াদা করেছিলেন তা কি তোমরা সত্যরূপে পেয়েছ? আল্লাহ্ তা’আলা আমার সাথে যে ওয়াদা করেছিলেন তা আমি সত্যরূপে পেয়েছি। তখন উমর (রাঃ) বললেন, আপনি এমন দেহের সাথে কথা বলছেন যাদের মধ্যে রূহ নেই। তিনি বললেন, আমি যা বলছি তা তোমরা তাদের থেকে অধিক শ্রবন করছ না। [সুনানে আন-নাসায়ী : ২০৭৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ: أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ: سَمِعَ الْمُسْلِمُونَ مِنَ اللَّيْلِ بِبِئْرِ بَدْرٍ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَائِمٌ يُنَادِي: «يَا أَبَا جَهْلِ بْنَ هِشَامٍ، وَيَا شَيْبَةُ بْنَ رَبِيعَةَ، وَيَا عُتْبَةُ بْنَ رَبِيعَةَ، وَيَا أُمَيَّةَ بْنَ خَلَفٍ، هَلْ وَجَدْتُمْ مَا وَعَدَ رَبُّكُمْ حَقًّا؟ فَإِنِّي وَجَدْتُ مَا وَعَدَنِي رَبِّي حَقًّا»، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَوَ تُنَادِي قَوْمًا قَدْ جَيَّفُوا؟ فَقَالَ: «مَا أَنْتُمْ بِأَسْمَعَ لِمَا أَقُولُ مِنْهُمْ، وَلَكِنَّهُمْ لَا يَسْتَطِيعُونَ أَنْ يُجِيبُوا»
আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, মুসলমানগণ এক রাতে বদরের কুপের পাশে আওয়াজ শুনলেনঃ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাড়িয়ে ডাকছিলেন, হে আবূ জাহল ইব্ন হিশাম, হে শাইবা ইব্ন রবীআ, হে উতবা ইব্ন রবীআ, হে উমাইয়া ইব্ন খালফ! তোমাদের প্রভু তোমাদের সাথে যে অঙ্গীকার করেছিলেন তা কি তোমরা সত্যরূপে পেয়েছ? আমার প্রভু আমার সাথে যে ওয়াদা করেছিলেন তা আমি সত্যরূপে পেয়েছি। সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আপনি তো এমন লোকদের ডাকছেন যারা পচে গিয়েছে। তিনি বললেন, আমি যা বলছি তা তাদের অপেক্ষা তোমরা অধিক শুনতে পাচ্ছ না কিন্তু তারা উত্তর দানের ক্ষমতা রাখে না। [সুনানে আন-নাসায়ী : ২০৭৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ آدَمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَفَ عَلَى قَلِيبِ بَدْرٍ، فَقَالَ: «هَلْ وَجَدْتُمْ مَا وَعَدَ رَبُّكُمْ حَقًّا؟»، قَالَ: «إِنَّهُمْ لَيَسْمَعُونَ الْآنَ مَا أَقُولُ لَهُمْ»، فَذُكِرَ ذَلِكَ لِعَائِشَةَ، فَقَالَتْ: وَهِلَ ابْنُ عُمَرَ، إِنَّمَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّهُمُ الْآنَ يَعْلَمُونَ أَنَّ الَّذِي كُنْتُ أَقُولُ لَهُمْ هُوَ الْحَقُّ»، ثُمَّ قَرَأَتْ قَوْلَهُ {إِنَّكَ لَا تُسْمِعُ الْمَوْتَى} [النمل: 80] حَتَّى قَرَأَتِ الْآيَةَ
ইব্ন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বদরে কূপের কাছে দাঁড়িয়ে বললেন, তোমাদের প্রভু তোমাদের সাথে যে ওয়াদা করেছিলেন তা যথার্থ রূপে পেয়েছ কি? তিনি বললেন, আমি এখন তাদের যা বলছি তা তারা শুনতে পাচ্ছে। এ কথা আয়েশা (রাঃ)-কে বলা হলে তিনি বললেন, এটা ইব্ন উমর (রাঃ)-এর ধারনা। প্রকৃত পক্ষে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছিলেন, তারা এখন বুঝতে পারছে যে আমি তাদের যা বলেছিলাম তা ছিল সত্য। অতঃপর আয়েশা (রাঃ) (আরবী¬) (মৃতকে তো তুমি কথা শুনাতে পারবে না, বধিরকেও পারবেনা আহবান শুনাতে, যখন তারা পিঠ ফিরিয়ে চলে যায়) এই আয়াত পাঠ করলেন। [সুনানে আন-নাসায়ী : ২০৭৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، وَمُغِيرَةُ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ الْأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كُلُّ بَنِي آدَمَ» ـ وَفِي حَدِيثِ مُغِيرَةَ ـ: «كُلُّ ابْنِ آدَمَ يَأْكُلُهُ التُّرَابُ إِلَّا عَجْبَ الذَّنَبِ مِنْهُ خُلِقَ، وَفِيهِ يُرَكَّبُ»
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, প্রত্যেক আদম সন্তানকে মাটি খেয়ে ফেলবে মেরুদণ্ডের হাড়টুকু ব্যতীত; এথেকেই তাঁকে সৃষ্টি করা হয়েছে এ থেকেই তাকে আবার জোড়া দেয়া হবে। আবূ হুরায়রা (রাঃ)- এর রেওয়ায়তে (আরবী¬) এবং মুগিরা (রাঃ)-এর রেওয়ায়তে (আরবী¬) আছে। [সুনানে আন-নাসায়ী : ২০৭৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

أَخْبَرَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ اللَّيْثِ، قَالَ: حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ ابْنِ عَجْلَانَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ الْأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ` قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: كَذَّبَنِي ابْنُ آدَمَ، وَلَمْ يَكُنْ يَنْبَغِي لَهُ أَنْ يُكَذِّبَنِي، وَشَتَمَنِي ابْنُ آدَمَ، وَلَمْ يَكُنْ يَنْبَغِي لَهُ أَنْ يَشْتُمَنِي، أَمَّا تَكْذِيبُهُ إِيَّايَ، فَقَوْلُهُ: إِنِّي لَا أُعِيدُهُ كَمَا بَدَأْتُهُ، وَلَيْسَ آخِرُ الْخَلْقِ بِأَعَزَّ عَلَيَّ مِنْ أَوَّلِهِ، وَأَمَّا شَتْمُهُ إِيَّايَ، فَقَوْلُهُ: اتَّخَذَ اللَّهُ وَلَدًا وَأَنَا اللَّهُ الْأَحَدُ الصَّمَدُ، لَمْ أَلِدْ وَلَمْ أُولَدْ، وَلَمْ يَكُنْ لِي كُفُوًا أَحَدٌ `
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা’আলা বলেন, আদম সন্তান আমাকে অস্বীকার করে অথচ তার জন্য উচিত ছিল না আমাকে অস্বীকার করা। আদম সন্তান আমাকে গালি দেয় অথচ তার জন্য উচিত ছিল না আমাকে গালি দেয়া। আমাকে তার অস্বীকার করার অর্থ হল তার একথা বলা যে, আমি তাকে পুনরায় সৃষ্টি করব না যেরূপ প্রথমে সৃষ্টি করেছিলাম অথচ দ্বিতীয়বার সৃষ্টি করা প্রথমবার সৃষ্টি করা অপেক্ষা আমার জন্য কোন কঠিন ব্যাপারই নয়। আর আমাকে তার গালি দেওয়ার অর্থ হলঃ সে বলে যে, আল্লাহ্ তা’আলা সন্তান গ্রহন করেছেন অথচ আমি আল্লাহ্ একক ও অদ্বিতীয়, কারো মুখাপেক্ষী নই। আমি কাউকে জন্মও দেইনি আর আমি কারও জাতও নই আর আমার সমকক্ষও কেহ নেই। [সুনানে আন-নাসায়ী : ২০৭৮]
হাদিসের মান : হাসান সহিহ

أَخْبَرَنَا كَثِيرُ بْنُ عُبَيْدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَرْبٍ، عَنْ الزُّبَيْدِيِّ، عَنْ الزُّهْرِيِّ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: ` أَسْرَفَ عَبْدٌ عَلَى نَفْسِهِ حَتَّى حَضَرَتْهُ الْوَفَاةُ، قَالَ لِأَهْلِهِ: إِذَا أَنَا مُتُّ فَأَحْرِقُونِي، ثُمَّ اسْحَقُونِي، ثُمَّ اذْرُونِي فِي الرِّيحِ فِي الْبَحْرِ، فَوَاللَّهِ لَئِنْ قَدَرَ اللَّهُ عَلَيَّ لَيُعَذِّبَنِّي عَذَابًا لَا يُعَذِّبُهُ أَحَدًا مِنْ خَلْقِهِ، قَالَ: فَفَعَلَ أَهْلُهُ ذَلِكَ، قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لِكُلِّ شَيْءٍ أَخَذَ مِنْهُ شَيْئًا: أَدِّ مَا أَخَذْتَ، فَإِذَا هُوَ قَائِمٌ، قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: مَا حَمَلَكَ عَلَى مَا صَنَعْتَ؟ قَالَ: خَشْيَتُكَ، فَغَفَرَ اللَّهُ لَهُ `
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি যে, এক বান্দা নিজের উপর অত্যাচার করছিল। এমতাবস্থায় তার কাছে মৃত্যু উপস্থিত হলে সে তার পরিবার পরিজন কে বললঃ যখন আমি মৃত্যুবরণ করি তখন তোমরা আমাকে পুড়ে ফেলবে এবং ছাই করে ফেলবে। তারপর আমাকে বাতাসে সাগরে ফেলে দেবে। আল্লাহ্র কসম, যদি আল্লাহ্ তা’আলা আমার উপর ক্ষমতা পান তাহলে তিনি আমাকে এমন শাস্তি দিবেন যা তাঁর সৃষ্টির কাউকেও দেননি। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ তার পরিবার পরিজন তাই করল। (আল্লাহ্ তা’আলা কেয়ামতের দিন) ঐ ব্যক্তিকে বলবেন, যে নিজের কিছু অংশ বিনষ্ট করে দিয়েছিলে “তুমি তা ফিরিয়ে দাও।” তখন সে দাঁড়িয়ে যাবে। তখন আল্লাহ্ তা’আলা জিজ্ঞেস করবেনঃ “তুমি কেন এরূপ করেছিলে?” সে বলবে, “তোমার ভয়ে! অতঃপর আল্লাহ্ তা’আলা তাকে ক্ষমা করে দিবেন। [সুনানে আন-নাসায়ী : ২০৭৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ رِبْعِيٍّ، عَنْ حُذَيْفَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ` كَانَ رَجُلٌ مِمَّنْ كَانَ قَبْلَكُمْ يُسِيءُ الظَّنَّ بِعَمَلِهِ، فَلَمَّا حَضَرَتْهُ الْوَفَاةُ قَالَ لِأَهْلِهِ: إِذَا أَنَا مُتُّ فَأَحْرِقُونِي، ثُمَّ اطْحَنُونِي، ثُمَّ اذْرُونِي فِي الْبَحْرِ، فَإِنَّ اللَّهَ إِنْ يَقْدِرْ عَلَيَّ لَمْ يَغْفِرْ لِي، قَالَ: فَأَمَرَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ الْمَلَائِكَةَ فَتَلَقَّتْ رُوحَهُ، قَالَ لَهُ: مَا حَمَلَكَ عَلَى مَا فَعَلْتَ؟ قَالَ: يَا رَبِّ، مَا فَعَلْتُ إِلَّا مِنْ مَخَافَتِكَ، فَغَفَرَ اللَّهُ لَهُ `
হুযায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাদের পূর্বেকার এক ব্যক্তি তার আমল সম্পর্কে মন্দ ধারনা করেছিল। যখন তার মৃত্যু উপস্থিত হল সে তার পরিবারের লোকজনকে বললো যে, আমি মৃত্যুবরণ করলে তোমরা আমাকে পুড়ে ফেলবে এবং আমাকে নিশ্চিহ্ন করে সাগরে ফেলে দেবে। কেননা আল্লাহ্ তা’আলা যদি আমার উপর ক্ষমতাবান হন তাহলে আমাকে ক্ষমা করবেন না। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তখন আল্লাহ্ তা’আলা ফিরিশতাগনকে আদেশ করলে তারা তার আত্মা কে উপস্থিত করবে। আল্লাহ্ তা’আলা তাকে তখন জিজ্ঞাসা করবেন, “তুমি যা করেছিলে তা করতে তোমাকে কোন জিনিস উদ্বুদ্ধ করেছিল?” সে বলবে, “হে আমার প্রভু! আমি একমাত্র তোমার ভয়ে ঐরূপ করেছিলাম।” তখন আল্লাহ্ তা’আলা তাকে ক্ষমা করে দিবেন। [সুনানে আন-নাসায়ী : ২০৮০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

وأَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْطُبُ عَلَى الْمِنْبَرِ يَقُولُ: «إِنَّكُمْ مُلَاقُو اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ حُفَاةً عُرَاةً غُرْلًا»
ইব্ন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মিম্বারের উপর ওয়াজ করার সময় বলতে শুনেছিঃ নিশ্চয়ই তোমরা নগ্ন পায়ে, বস্ত্রহীন ও খাৎনাবিহীন অবস্থায় আল্লাহ্র সাথে সাক্ষাৎ করবে। [সুনানে আন-নাসায়ী : ২০৮১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنِي الْمُغِيرَةُ بْنُ النُّعْمَانِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «يُحْشَرُ النَّاسُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عُرَاةً غُرْلًا، وَأَوَّلُ الْخَلَائِقِ يُكْسَى إِبْرَاهِيمُ عَلَيْهِ السَّلَامُ»، ثُمَّ قَرَأَ: {كَمَا بَدَأْنَا أَوَّلَ خَلْقٍ نُعِيدُهُ} [الأنبياء: 104]
ইব্ন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকদের কিয়ামতের দিন উলঙ্গ শরীরে খাৎনাবিহীন অবস্থায় উঠানো হবে। প্রথম যে ব্যক্তিকে কাপড় পরিধান করানো হবে তিনি হলেন হযরত ইবরাহীম (আঃ)। অতঃপর তিনি পাঠ করলেনঃ (আরবী) [সুনানে আন-নাসায়ী : ২০৮২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، قَالَ: أَخْبَرَنِي الزُّبَيْدِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي الزُّهْرِيُّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «يُبْعَثُ النَّاسُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حُفَاةً عُرَاةً غُرْلًا»، فَقَالَتْ عَائِشَةُ: فَكَيْفَ بِالْعَوْرَاتِ؟ قَالَ: {لِكُلِّ امْرِئٍ مِنْهُمْ يَوْمَئِذٍ شَأْنٌ يُغْنِيهِ} [عبس: 37]
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন যে, কিয়ামতের দিন লোকদের উঠানো হবে নগ্ন পায়ে উলঙ্গ শরীরে খাৎনাবিহীন অবস্থায়। তখন আয়েশা (রাঃ) বললেন যে, লজ্জাস্থানের অবস্থা কিরূপ হবে? তিনি বললেনঃ সে দিন তাদের প্রত্যেকের অবস্থা এমন হবে যে, তারা প্রত্যেকেই অন্য থেকে বিমুখ থাকবে। [সুনানে আন-নাসায়ী : ২০৮৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو يُونُسَ الْقُشَيْرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّكُمْ تُحْشَرُونَ حُفَاةً عُرَاةً»، قُلْتُ: الرِّجَالُ وَالنِّسَاءُ يَنْظُرُ بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ؟ قَالَ: «إِنَّ الْأَمْرَ أَشَدُّ مِنْ أَنْ يُهِمَّهُمْ ذَلِكَ»
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, অবশ্যই তোমাদেরকে (কিয়ামতের দিন) নগ্ন পায়ে উলঙ্গ শরীরে একত্রিত করা হবে। আমি বললাম যে, পুরুষ এবং রমণীগণ একে অন্যের প্রতি তাকাবে না? তিনি বললেনঃ তাদের একে অন্যের প্রতি তাকাবার খেয়াল আসা অপেক্ষা তখন অবস্থা আরো ভয়াবহ হবে। [সুনানে আন-নাসায়ী : ২০৮৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو هِشَامٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا وُهَيْبُ بْنُ خَالِدٍ أَبُو بَكْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ` يُحْشَرُ النَّاسُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى ثَلَاثِ طَرَائِقَ: رَاغِبِينَ رَاهِبِينَ، اثْنَانِ عَلَى بَعِيرٍ، وَثَلَاثَةٌ عَلَى بَعِيرٍ، وَأَرْبَعَةٌ عَلَى بَعِيرٍ، وَعَشْرَةٌ عَلَى بَعِيرٍ، وَتَحْشُرُ بَقِيَّتَهُمُ النَّارُ تَقِيلُ مَعَهُمْ حَيْثُ قَالُوا، وَتَبِيتُ مَعَهُمْ حَيْثُ بَاتُوا، وَتُصْبِحُ مَعَهُمْ حَيْثُ أَصْبَحُوا، وَتُمْسِي مَعَهُمْ حَيْثُ أَمْسَوْا `
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন লোকজন তিন দল হয়ে হাশরের মাঠে উপস্থিত হবে। একদল তারা বেহেশতের আশা রাখবে, আর একদল তারা দোযখের ভয়ে ভীত থাকবে তারা দুই দুইজন, তিন তিনজন, চার চারজন, দশ দশজন এক এক উটে আরোহণ করে আসবে। আর অবশিষ্ট লোকদের অগ্নি তাড়িয়ে আনবে। অগ্নি তাদের সাথে দ্বি-প্রহরে অবস্থান করবে যেখানে তারা দ্বি-প্রহরের সময় অবস্থান করবে। তাদের সাথে রাত্রে অবস্থান করবে যেখানে তারা রাত্রে অবস্থান করবে। তাদের সাথে সকালে অবস্থান করবে যেখানে তারা সকালে অবস্থান করবে। তাদের সাথে সন্ধ্যায় অবস্থান করবে যেখানে তারা সন্ধ্যায় অবস্থান করবে। [সুনানে আন-নাসায়ী : ২০৮৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

خْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ الْوَلِيدِ بْنِ جُمَيْعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الطُّفَيْلِ، عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ أَسِيدٍ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ: إِنَّ الصَّادِقَ الْمَصْدُوقَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَدَّثَنِي: ` أَنَّ النَّاسَ يُحْشَرُونَ ثَلَاثَةَ أَفْوَاجٍ: فَوْجٌ رَاكِبِينَ طَاعِمِينَ كَاسِينَ، وَفَوْجٌ تَسْحَبُهُمُ الْمَلَائِكَةُ عَلَى وُجُوهِهِمْ وَتَحْشُرُهُمُ النَّارُ، وَفَوْجٌ يَمْشُونَ وَيَسْعَوْنَ يُلْقِي اللَّهُ الْآفَةَ عَلَى الظَّهْرِ فَلَا يَبْقَى، حَتَّى إِنَّ الرَّجُلَ لَتَكُونُ لَهُ الْحَدِيقَةُ يُعْطِيهَا بِذَاتِ الْقَتَبِ لَا يَقْدِرُ عَلَيْهَا `
আবূ যর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, পরম সত্যবাদী রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, হাশরের দিন লোকজন তিন দলে বিভক্ত হয়ে উপস্থিত হবে। একদল হবে পরিতৃপ্ত ও পোশাক পরিহিত আরোহী, আর একদল হবে ফিরিশতাগণ তাদেরকে সামনা-সামনি টেনে আনবে। আর অগ্নি তাদের তাড়িয়ে আনবে। আর একদল হবে তারা হেটে আসবে দ্রুতগতিতে। তাদের পিঠের উপর আল্লাহ্ তা’আলা মুসীবত ঢেলে দেবেন। অতএব তাদের শক্তি আর অবশিষ্ট থাকবে না। এমনকি এক ব্যক্তির একটি বাগান হবে, সে একটি উটের বিনিময়ে তা দিয়ে দিতে চাইবে কিন্তু তা তার সাধ্যের বাইরে হবে। [সুনানে আন-নাসায়ী : ২০৮৬]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস