
(۷۲۱۶) حَدَّثَنَا وَکِیعٌ ، عَنْ إسْمَاعِیلَ ، عَنْ قَیْسٍ ، عَنْ أَبِی ہُرَیْرَۃَ ، قَالَ : الإِمَام أَمِیرٌ ، فَإِنْ صَلَّی قَائِمًا فَصَلُّوا قِیَامًا وَإِنْ صَلَّی قَاعِدًا فَصَلُّوا قُعُودًا۔
থেকে বর্ণিতঃ
(7216) হজরত আবু হারি বলেন , ইমাম হলেন আমীর । যদি সে দাঁড়িয়ে নামায পড়ে তবে তুমি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে। যদি সে বসে নামায পড়ে তবে তুমিও বসে নামায পড়ো ।
[ইবনে আবি শাঈবাহ : ৭২১৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

(۷۲۱۷) حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَۃَ ، عَنْ إسْمَاعِیلَ ، عَنْ قَیْسِ بْنِ قَہْدٍ ، قَالَ اشْتَکَی إمَامُنَا فَصَلَّی قَاعِدًا أَیَّامًا فَصَلَّیْنَا بِصَلاَتِہِ ، فَقَالَ : أَبُو ہُرَیْرَۃَ الإِمَام أَمِیْرٌ، فَإِنْ صَلَّی قَائِمًا فَصَلُّوا قِیَامًا وَإِنْ صَلَّی قَاعِدًا فَصَلُّوا قُعُودًا۔
থেকে বর্ণিতঃ
( 7217) হজরত কায়স বিন কাহদ বলেন , আমাদের ইমাম একবার অসুস্থ হয়ে পড়লেন , আমরা তার নামায অনুযায়ী নামায পড়লাম , তখন হজরত আবু হুরায়রা বললেন , ইমাম আমীর হ্যাঁ, তিনি দাঁড়িয়ে নামায পড়লে তুমিও দাঁড়িয়ে নামায পড় , আর যদি সে বসে সালাত আদায় করে তবে তুমিও। এছাড়াও বসতে হবে । দোয়া করবেন ।
[ইবনে আবি শাঈবাহ : ৭২১৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

(۷۲۱۸) حَدَّثَنَا یَزِیدُ بْنُ ہَارُونَ ، عَنْ یَحْیَی بْنِ سَعِیدٍ ، عَنْ عَبْدِ اللہِ بْنِ ہُبَیْرَۃَ ، أَنَّ أُسَیْدَ بْنَ حُضَیْرٍ کَانَ یَؤُمُّ قَومَہُ بَنِی عَبْدِ الأَشْہَلِ وَأَنَّہُ اشْتَکَی فَخَرَجَ إلَیْہِمْ بَعْدَ شَکْوَاہُ ، فَقَالُوا لَہُ تَقَدَّمْ ، قَالَ : لاَ أَسْتَطِیعُ أَنْ أُصَلِّیَ، قَالُوا : لاَ یَؤُمُّنَا أَحَدٌ غَیْرُک مَا دُمْت ، فَقَالَ : اجْلِسُوا فَصَلَّی بِہِمْ جُلُوسًا۔
থেকে বর্ণিতঃ
( 7218) হজরত উবায়দ আল্লাহ ইবনে হাবিরাহ বলেন , হজরত আসায়েদ ইবনে হুদযির ( রা . ) তার সম্প্রদায় বনু আবদুল আশহালকে নেতৃত্ব দিতেন । তিনি একবার অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং অসুস্থতার পর যখন তিনি আসেন , তখন লোকেরা তাকে এগিয়ে গিয়ে নামাজ পড়তে বলে । তিনি বলেন , নামাজ শেখানোর শক্তি আমার নেই । লোকেরা বলল, আপনি এখানে না থাকা পর্যন্ত আপনি ছাড়া কেউ নামাজ পড়বে না । হযরত সৈয়দ তাদের বললেন , আপনারা সবাই বসুন এবং তিনি সেখানে বসেই নামাজের ইমামতি করলেন ।
[ইবনে আবি শাঈবাহ : ৭২১৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

(۷۲۱۹) حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ ، عَنْ سُلَیْمَانَ بْنِ بِلاَلٍ ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ ، قَالَ : سَمِعْتُ الْقَاسِمَ بْنَ مُحَمَّدٍ یَقُولُ ، قَالَ مُعَاوِیَۃُ ، قَالَ رَسُولُ اللہِ صَلَّی اللَّہُ عَلَیْہِ وَسَلَّمَ : إذَا صَلَّی الإِمَام جَالِسًا فَصَلُّوا جُلُوسًا ، قَالَ فَعَجِبَ النَّاسُ مِنْ صِدْقِ مُعَاوِیَۃَ۔
থেকে বর্ণিতঃ
( 7219) হজরত কাসিম বিন মুহাম্মদ বলেন , হজরত মুয়াবিয়া ( রা .) তাকে বলেন যে, রাসূলুল্লাহ ( সা . ) বলেছেন , যখন ইমাম বসে বসে সালাত আদায় করেন , তখন তোমরাও দাঁড়িয়ে নামায পড়ো । এতে মানুষ অবাক হয়ে যায় ।
[ইবনে আবি শাঈবাহ : ৭২১৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

(۷۲۲۰) حَدَّثَنَا وَکِیعٌ ، قَالَ : حدَّثَنَا إسْمَاعِیلُ ، عَنْ قَیْسِ بْنِ أَبِی حَازِمٍ ، عَنْ قَیْسِ بْنِ قَہْدٍ ، قَالَ : کَانَ لَنَا إمَامٌ فَمَرِضَ فَصَلَّیْنَا بِصَلاَتِہِ قُعُودًا۔
থেকে বর্ণিতঃ
( ৭২২০ ) হজরত কায়স বিন কাহদ বলেন , আমাদের এক ইমাম অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা তাঁর পায়ে বসে নামাজ পড়লাম ।
[ইবনে আবি শাঈবাহ : ৭২২০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

(۷۲۲۱) حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ ، عَنْ أَبِی إِسْحَاقَ ، عَنْ أَبِی الأَحْوَص ، قَالَ : قَالَ عَبْدُ اللہِ إنَّمَا جُعِلَ الإِمَام لِیُؤْتَمَّ بِہِ فَإِذَا کَبَّرَ فَکَبِّرُوا ، وَإِذَا رَکَعَ فَارْکَعُوا ، وَإِذَا سَجَدَ فَاسْجُدُوا ، فَإِنَّہُ أَوَّلُ مَنْ یَرْفَعُ وَأَوَّلُ مَنْ یَضَعُ۔
থেকে বর্ণিতঃ
( ৭২২১ ) হজরত আবদুল্লাহ বলেন , ইমামকে এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে তাকে অনুসরণ করা হয় । যখন সে তাকবীর বলবে , তুমিও তাকবীর বল । সে যখন প্রণাম কর, তুমিও নত করো । সে যখন সিজদা করে, তোমরাও সেজদা কর । প্রথমে তাকে মাথা তুলতে হবে এবং প্রথমে তাকে মাথা রাখতে হবে ।
[ইবনে আবি শাঈবাহ : ৭২২১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

(۷۲۲۲) حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَیْلٍ ، عَنْ لَیْثٍ ، عَنْ طَلْحَۃَ ، قَالَ : قَالَ سَلْمَانُ : مَنْ رَفَعَ رَأْسَہُ قَبْلَ الإِمَام وَوَضَعَ رَأْسَہُ قَبْلَ الإِمَام فَنَاصِیَتُہُ بِیَدِ الشَّیْطَانِ یَرْفَعُہَا وَیَضَعُہَا۔
থেকে বর্ণিতঃ
( ৭২২২) হযরত সালমান (রাঃ) বলেন , যে ব্যক্তি ইমামের সামনে মাথা তুলবে বা ইমামের সামনে মাথা রাখবে , তার অহংকার শয়তানের হাতে , সে - ই তা উঠায় এবং সে - ই রাখে।
[ইবনে আবি শাঈবাহ : ৭২২২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

(۷۲۲۳) حَدَّثَنَا عَبْدَۃُ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو ، عَنْ مَلِیحِ بْنِ عَبْدِ اللہِ السَّعْدِیِّ ، قَالَ : قَالَ أَبُو ہُرَیْرَۃَ : إنَّ الَّذِی یَخْفِضُ وَیَرْفَعُ رَأْسَہُ قَبْلَ الإِمَام فَإِنَّمَا نَاصِیَتُہُ بِیَدِ شَیْطَانِ۔
থেকে বর্ণিতঃ
(৭২২৩) হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ ) বলেন , যে ব্যক্তি ইমামের সামনে মাথা তুলবে বা ইমামের সামনে মাথা নিচু করবে , তার অহংকার শয়তানের হাতে ।
[ইবনে আবি শাঈবাহ : ৭২২৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

(۷۲۲۴) حَدَّثَنَا وَکِیعٌ ، قَالَ : حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَۃَ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زِیَادٍ ، عَنْ أَبِی ہُرَیْرَۃَ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللہِ صَلَّی اللَّہُ عَلَیْہِ وَسَلَّمَ : أَمَا یَخَافُ الَّذِی یَرْفَعُ رَأْسَہُ قَبْلَ الإِمَام أَنْ یُحَوِّلَ اللَّہُ رَأْسَہُ رَأْسَ حِمَارٍ۔ (بخاری ۶۹۱۔ ابوداؤد ۶۲۳)
থেকে বর্ণিতঃ
(৭২২৪) হজরত আবু হুরায়রা ( রা .) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ ( সা . ) বলেছেন , যে ব্যক্তি ইমামের সামনে মাথা তুলবে , সে তার মুখমণ্ডল হওয়ার ভয় পায় না গাধার মত ?
[ইবনে আবি শাঈবাহ : ৭২২৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

(۷۲۲۵) حَدَّثَنَا وَکِیعٌ ، عَنْ سُفْیَانَ ، عَنْ زِیَادِ بْنِ فَیَّاضٍ ، عَنْ تَمِیمِ بْنِ سَلَمَۃَ ، قَالَ : قَالَ عَبْدُ اللہِ : أَمَا یَخَافُ الَّذِی یَرْفَعُ رَأْسَہُ قَبْلَ الإِمَام أَنْ یُحَوِّلَ اللَّہُ رَأْسَہُ رَأْسَ کَلْبٍ۔
থেকে বর্ণিতঃ
(7225) হজরত আবদুল্লাহ বলেন , যে ব্যক্তি ইমামের আগে মাথা তুলবে, সে ভয় করে না যে তার মাথা কুকুরের মতো হয়ে যাবে ।
[ইবনে আবি শাঈবাহ : ৭২২৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

(۷۲۲۶) حَدَّثَنَا ہُشَیْمٌ ، قَالَ : أَخْبَرَنَا الْعَوَّامُ ، عَنْ عَزْرَۃَ بْنِ الْحَارِثِ ، أَنَّہُ حَدَّثَہُ ، عَنِ الْبَرَائِ بْنِ عَازِبٍ ، قَالَ : کُنَّا إذَا صَلَّیْنَا خَلْفَ رَسُولِ اللہِ صَلَّی اللَّہُ عَلَیْہِ وَسَلَّمَ فَرَفَعْنَا رُؤُوسَنَا مِنَ الرُّکُوعِ قُمْنَا صُفُوفًا حَتَّی یَسْجُدَ فَإِذَا سَجَدَ تَبِعْنَاہُ۔ (احمد ۴/۲۹۲۔ ابو یعلی ۱۶۷۳)
থেকে বর্ণিতঃ
(৭২২৬) হযরত বারা ইবনে আযিব (রাঃ) বলেন , আমরা রাসূলুল্লাহ ( সাল্লাল্লাহু ‘ আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) এর পিছনে নামায পড়তাম যে , রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সিজদা করতেন তখন আমরাও তাঁর পিছনে সেজদা করতাম ।
[ইবনে আবি শাঈবাহ : ৭২২৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

(۷۲۲۷) حَدَّثَنَا عَبْدُ اللہِ بْنُ إدْرِیسَ ، عَنْ یَحْیَی بْنِ سَعِیدٍ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ یَحْیَی بْنِ حَبَّانَ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللہِ صَلَّی اللَّہُ عَلَیْہِ وَسَلَّمَ : إنِّی قَدْ بَدَنْتُ فَلاَ تُبَادِرُونِی بِالرُّکُوعِ ، وَلاَ بِالسُّجُودِ فَإِنِّی مَہْمَا أَسْبِقُکُمْ بِہِ إذَا رَکَعْت فَإِنَّکُمْ تُدْرِکُونِی بِہِ إذَا رَفَعْت وَمَہْمَا أَسْبِقُکُمْ بِہِ إذَا سَجَدْت فَإِنَّکُمْ تُدْرِکُونِی بِہِ إذَا وَضَعْت۔
থেকে বর্ণিতঃ
( ৭২২৭ ) হজরত মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহিয়া ইবনে হিব্বান ( রা . ) থেকে বর্ণিত যে , রাসূলুল্লাহ ( সা . ) বলেছেন , বয়স বৃদ্ধির কারণে তার শরীরে গোশত গজিয়েছে । রুকু ও সিজদায় আমার সামনে যেও না । আমি প্রণাম করতে করতে আপনার সামনে যেতে পারি . আমি যখন সিজদায় যাব , আমি তোমার সামনে যাব ।
[ইবনে আবি শাঈবাহ : ৭২২৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

(۷۲۲۸) حَدَّثَنَا ابْنُ إدْرِیسَ ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ یَحْیَی بْنِ حَبَّانَ ، عَنِ ابْنِ مُحَیْرِیزٍ ، عَنْ مُعَاوِیَۃَ ، رَفَعَہ مِثْلَہُ۔ (ابوداؤد ۶۱۹۔ احمد ۹۸)
থেকে বর্ণিতঃ
(7228 ) হযরত মুয়াবিয়া থেকেও এটা হস্তান্তরযোগ্য নয় ।
[ইবনে আবি শাঈবাহ : ৭২২৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

(۷۲۲۹) حَدَّثَنَا ہُشَیْمٌ ، وَابْنُ إدْرِیسَ ، عَنْ حُصَیْنٍ ، عَنْ ہِلاَلِ بْنِ یَِسَافٍ ، عَنْ أَبِی حَیَّانَ ، قَالَ : قَالَ عَبْدُ اللہِ : لاَ تُبَادِرُوا أَئِمَّتَکُمْ بِالرُّکُوعِ ، وَلاَ بِالسُّجُودِ۔
থেকে বর্ণিতঃ
(7229) হজরত আবদুল্লাহ বলেন : রুকু ও সিজদায় তোমার ইমামের সামনে যেও না ।
[ইবনে আবি শাঈবাহ : ৭২২৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

(۷۲۳۰) حَدَّثَنَا جَرِیرُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِیدِ ، عَنْ یَزِیدَ بْنِ أَبِی زِیَادٍ ، عَنِ ابْنِ أَبِی لَیْلَی ، قَالَ : مَنْ کَانَ مَعَ الإِمَامِ فَرَکَعَ قَبْلَ رُکُوعِہِ وَسَجَدَ قَبْلَ سُجُودِہِ فَلَیْسَ مَعَہُ۔
থেকে বর্ণিতঃ
(৭২৩০) হজরত ইবনে আবি লায়লা বলেন , যে ব্যক্তি ইমামের সাথে সালাত আদায় করে এবং তার সামনে রুকু ও সিজদা করে , সে ইমামের সাথে নয় ।
[ইবনে আবি শাঈবাহ : ৭২৩০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

(۷۲۳۱) حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ، عَنْ کَہْمَسٍ، قَالَ: صَلَّیْت إلَی جَنْبِ أَبِی قِلاَبَۃَ، فَکَانَ لاَ یَصْنَعُ شَیْئًا حَتَّی یَصْنَعَہُ الإِمَام۔
থেকে বর্ণিতঃ
(7231) হযরত খামস বলেন যে, আমি হযরত আবু কালাবার সাথে সালাত আদায় করেছি এবং ইমাম না হওয়া পর্যন্ত তিনি কোন আমল করেননি ।
[ইবনে আবি শাঈবাহ : ৭২৩১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

(۷۲۳۲) حَدَّثَنَا وَکِیعٌ ، عَنْ سُفْیَانَ ، عَنْ أَبِی إِسْحَاقَ ، عَنْ عَبْدِ اللہِ بْنِ یَزِیدَ ، عَنِ الْبَرَائِ بْنِ عَازِبٍ ، قَالَ : کَانَ رَسُولُ اللہِ صَلَّی اللَّہُ عَلَیْہِ وَسَلَّمَ إذَا رَفَعَ رَأْسَہُ مِنَ الرُّکُوعِ لَمْ یَحْنِ أَحَدٌ مِنَّا ظَہْرَہُ حَتَّی یَسْجُدَ فَإِذَا سَجَدَ تَبِعْنَاہُ۔ (بخاری ۷۴۷۔ ابوداؤد ۶۲۰)
থেকে বর্ণিতঃ
(৭২৩২) হজরত বারা ইবনে আযিব ( রা ) বলেন , রাসুলুল্লাহ ( সা . ) যখন রুকু থেকে মাথা উঠাতেন , তখন আমরা কেউ সেজদা না করা পর্যন্ত পিঠ বাঁকতাম না আপনাকে অনুসরণ করেছি ।
[ইবনে আবি শাঈবাহ : ৭২৩২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

(۷۲۳۳) حَدَّثَنَا عَلِیُّ بْنُ مُسْہِرٍ ، عَنِ الْمُخْتَارِ بْنِ فُلْفُلٍ ، عَنْ أَنَسٍ ، قَالَ : صَلَّی بِنَا رَسُولُ اللہِ صَلَّی اللَّہُ عَلَیْہِ وَسَلَّمَ ذَاتَ یَوْمٍ ، فَلَمَّا قَضَی الصَّلاَۃ أَقْبَلَ عَلَیْنَا بِوَجْہِہِ ، فَقَالَ : أَیُّہَا النَّاسُ إنِّی إمَامُکُمْ فَلاَ تَسْبِقُونِی بِالرُّکُوعِ، وَلاَ بِالسُّجُودِ ، وَلاَ بِالْقِیَامِ ، وَلاَ بِالإِنْصِرَافِ فَإِنِّی أَرَاکُمْ أَمَامِی وَمِنْ خَلْفِی۔ (مسلم ۱۱۲۔ ابوداؤد ۶۲۴)
থেকে বর্ণিতঃ
(৭২৩৩) হজরত আনাস (রাঃ) বলেন , একদিন নবী ( সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) আমাদেরকে নামায পড়ালেন এবং সালাত শেষ করে আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন , হে লোক সকল ! আমি তোমার ইমাম , রুকু - সিজদাতে , দাঁড়ানো ও সালাম দিতে আমার সামনে যেও না , আমি তোমাকে আমার সামনে ও পিছনে দেখছি ।
[ইবনে আবি শাঈবাহ : ৭২৩৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

(۷۲۳۴) حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَۃَ ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ ، قَالَ : کَانَ مُحَمَّدُ یَکْرَہُ أَنْ یُسْبَقَ الإِمَام بِشَیْئٍ مِنَ التَّکْبِیرِ۔
থেকে বর্ণিতঃ
(৭২৩৪) হজরত ইবনে আউন বলেন , হজরত মুহাম্মদ মনে করতেন যে , ইমামের আগে কারো তাকবীর বলা জঘন্য কাজ ।
[ইবনে আবি শাঈবাহ : ৭২৩৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

(۷۲۳۵) حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَۃَ ، قَالَ : حدَّثَنَا ابْنُ أَبِی عَرُوبَۃَ ، قَالَ : حَدَّثَنَا قَتَادَۃُ ، عَنْ یُونُسَ بْنِ جُبَیْرٍ ، عَنْ حِطَّانَ بْنِ عَبْدِ اللہِ ، قَالَ : صَلَّی بِنَا أَبُو مُوسَی ، فَلَمَّا انْفَتَلَ ، قَالَ : إنَّ نَبِیَّ اللہِ صَلَّی اللَّہُ عَلَیْہِ وَسَلَّمَ خَطَبَنَا فَبَیَّنَ لَنَا سُنَّتَنَا وَعَلَّمَنَا صَلاَتَنَا ، فَقَالَ : إذَا کَبَّرَ الإِمَام فَکَبِّرُوا ، وَإِذَا رَکَعَ فَارْکَعُوا فَإِنَّ الإِمَام یَرْکَعُ قَبْلَکُمْ وَیَرْفَعُ قَبْلَکُمْ۔ (مسلم ۳۰۳۔ ابوداؤد ۹۶۵)
থেকে বর্ণিতঃ
(7235) হজরত হাতান ইবনে আবদুল্লাহ বলেন , হজরত আবু মূসা ( রা . ) আমাদের নামায পড়ালেন , যখন তিনি নামায শেষ করলেন, তখন তিনি বললেন , রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি খুতবা দিয়েছিলেন এবং তাতে আমাদের জন্য দ্বীনের ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন । এবং আমাদেরকে নামায শিখিয়েছেন যে , ইমাম যখন তাকবীর বলেন । কারণ ইমাম আপনার সামনে মাথা নত করেন এবং আপনার সামনে মাথা তোলেন ।
[ইবনে আবি শাঈবাহ : ৭২৩৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

(۷۲۳۶) حَدَّثَنَا وَکِیعٌ ، قَالَ : حدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ قَیْسٍ ، عَنْ عَلِیِّ بْنِ مُدْرِکٍ ، أَنَّ مُعَاذًا لَمَّا قَدِمَ الْیَمَنَ کَانَ یُعْلَمُ النَّخْعَ ، فَقَالَ لَہُم : إذَا رَأَیْتُمُونِی صَنَعْت شَیْئًا فِی الصَّلاَۃ فَاصْنَعُوا مِثْلَہُ ، فَلَمَّا سَجَدَ أَضَرَّ بِعَیْنَیْہِ غُصْنُ شَجَرَۃٍ فَکَسَرَہُ فِی الصَّلاَۃ فَعَمَدَ کُلُّ رَجُلٍ مِنْہُمْ إلَی غُصْنٍ فِی الصَّلاَۃ فَکَسَرَہُ ، فَلَمَّا صَلَّی ، قَالَ إنِّی إنَّمَا کَسَرْتُہُ لأَنَّہُ أَضَرَّ بِعَیْنَیْ حِینَ سَجَدْت وَقَدْ أَحْسَنْتُمْ فِیمَا أَطَعْتُمْ۔
থেকে বর্ণিতঃ
(৭২৩৬) হজরত আলী ইবনে মুদরাক বলেন , হজরত মুআয ( রা.) যখন মানুষের কাছে এলেন , তখন সেখানকার লোকদেরকে জ্ঞান শিক্ষা দিতে গিয়ে বললেন, আমি যেভাবে নামাজ পড়ি, তোমরা সেভাবে নামাজ পড় । তাই যখন তারা সেজদা করতে লাগলো , গাছের একটি ডাল তাদের নজরে পড়ল , তারা ডালটি ভেঙে ফেলল , তাই তারা সবাই গাছের দিকে দৌড়ে গেল এবং তারা ডাল ভাঙতে শুরু করল । হজরত মুআয যখন নামায শেষ করলেন , তখন তিনি বললেন , সেজদা করতে গিয়ে আমার চোখে আঘাত লেগেছিল বলে আমি ডাল ভেঙে দিয়েছিলাম । তবে আপনি যে আনুগত্যের সাথে কাজ করেছেন তা প্রশংসনীয় ।
[ইবনে আবি শাঈবাহ : ৭২৩৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

(۷۲۳۷) حَدَّثَنَا وَکِیعٌ ، قَالَ : حدَّثَنَا سُفْیَانُ ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاہِیمَ ، عَن نَافِعِ بْنِ جُبَیْرِ بْنِ مُطْعِمٍ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللہِ صَلَّی اللَّہُ عَلَیْہِ وَسَلَّمَ : إنِّی امْرُؤٌ قَدْ بَدَنْتُ فَلاَ تُبَادِرُونِی بِالْقِیَامِ ، وَلاَ بِالسُّجُودِ۔ (ابن سعد ۴۲۰۔ طبرانی ۱۵۷۹)
থেকে বর্ণিতঃ
(৭২৩৭) হজরত নাফি ইবনে জাবির ইবনে মুতআম ( রা . ) বলেন , রাসুলুল্লাহ ( সা . ) বলেছেন , বার্ধক্যজনিত কারণে আমার শরীরের গোশত বেড়ে গেছে , তাই তোমরা দাঁড়ানো ও সিজদা করার ক্ষেত্রে আমার থেকে এগিয়ে যাবে না ।
[ইবনে আবি শাঈবাহ : ৭২৩৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

(۷۲۳۸) حَدَّثَنَا وَکِیعٌ ، قَالَ : حدَّثَنَا الأَعْمَشُ ، عَنْ إبْرَاہِیمَ ، عَنِ الأَسْوَدِ ، عَنْ عَائِشَۃَ ، قَالَتْ لَمَّا مَرِضَ رَسُولُ اللہِ صَلَّی اللَّہُ عَلَیْہِ وَسَلَّمَ مَرَضَہُ الَّذِی مَاتَ فِیہِ جَائَ بِلاَلٌ یُؤْذِنُہُ بِالصَّلاَۃ ، فَقَالَ : مُرُوا أَبَا بَکْرٍ فَلْیُصَلِّ بِالنَّاسِ قُلْنَا یَا رَسُولَ اللہِ إنَّ أَبَا بَکْرٍ رَجُلٌ رَقِیقٌ أَسِیفٌ وَمَتَی یَقُومُ مَقَامَک یَبْکِی فَلاَ یَسْتَطِیعُ فَلَوْ أَمَرْت عُمَرَ ، فَقَالَ : مُرُوا أَبَا بَکْرٍ فَلْیُصَلِّ بِالنَّاسِ فَإِنَّکُنَّ صَوَاحِبَاتُ یُوسُفَ فَأُرْسَلَ إلَی أَبِی بَکْرٍ فَصَلَّی بِالنَّاسِ فَوَجَدَ النَّبِیُّ صَلَّی اللَّہُ عَلَیْہِ وَسَلَّمَ مِنْ نَفْسِہِ خِفَّۃً فَخَرَجَ إلَی الصَّلاَۃ یُہَادَی بَیْنَ رَجُلَیْنِ وَرِجْلاَہُ تَخُطَّانِ فِی الأَرْضِ ، فَلَمَّا أَحَسَّ بِہِ أَبُو بَکْرٍ ذَہَبَ یَتَأَخَّرُ فَأَوْمَأَ إلَیْہِ النَّبِیُّ صَلَّی اللَّہُ عَلَیْہِ وَسَلَّمَ أَنْ مَکَانَک ، قَالَتْ : فَجَائَ النَّبِیُّ صَلَّی اللَّہُ عَلَیْہِ وَسَلَّمَ فَجَلَسَ إلَی جَنْبِ أَبِی بَکْرٍ ، فَکَانَ أَبُو بَکْرٍ یَأْتَمُّ بِالنَّبِیِّ صَلَّی اللَّہُ عَلَیْہِ وَسَلَّمَ وَالنَّاسُ یَأْتَمُّونَ بِأَبِی بَکْرٍ۔ (مسلم ۹۵۔ ابن ماجہ ۱۲۳۲)
থেকে বর্ণিতঃ
(৭২৩৮) হজরত আয়েশা (রা.) বলেন , রাসূলুল্লাহ ( সাল্লাল্লাহু ‘ আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) -এর ইন্তেকালের সময় হজরত বিলাল তাঁকে নামাযের কথা জানাতে এসেছিলেন , তখন তিনি বললেন , আবু বকরকে সালাতের ইমামতি করতে বলুন । আমরা বললাম হে আল্লাহর রাসূল ! আবু বকর একজন কোমল হৃদয় এবং দয়ালু ব্যক্তি , যখন তারা আপনার জায়গায় দাঁড়াবে তখন তাদের সহ্য করা হবে না এবং তারা কাঁদতে শুরু করবে । আপনি হযরত উমর (রাঃ) কে নামায পড়ার নির্দেশ দিন । রাসুলুল্লাহ ( সাঃ ) বললেনঃ আবু বকর (রাঃ) -কে বলুন যেন তিনি লোকদের নামাযের ইমামতি করেন । তুমি সেই নারীদের মত যারা হযরত ওয়াসিফের সাথে ছিল । তাই হজরত আবু বকর (রা.)- কে বার্তা পাঠানো হয় এবং তিনি লোকদের নামাজ পড়তে শেখান । কিছুক্ষণ পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শরীরে কিছুটা দুর্বলতা অনুভব করলে দু’জন লোকের সাহায্যে তাকে তিশরীফে নিয়ে যান । সেই সময় তোমার পা দুটো মাটিতে লেগেছিল । হজরত আবু বকর (রা.) যখন মহানবী (সা . ) - এর আগমন টের পেলেন , তখন তিনি পিছু হটতে লাগলেন । নবী ( সাল্লাল্লাহু ‘ আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) তাদেরকে নিজ নিজ স্থানে অবস্থান করার ইঙ্গিত দিলেন । হজরত আয়েশা (রা.) বলেন , রাসুলুল্লাহ ( সা . ) হজরত আবু বকর (রা.)-এর সঙ্গে বসতেন , হজরত আবু বকর ( রা .) রাসূলুল্লাহ ( সা . ) - এর অনুসরণ করতেন এবং লোকেরা আবু বকর (রা.)-কে অনুসরণ করতেন ।
[ইবনে আবি শাঈবাহ : ৭২৩৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

(۷۲۳۹) حَدَّثَنَا یَزِیدُ بْنُ ہَارُونَ ، قَالَ : أَخْبَرَنَا سُفْیَانُ بْنُ حُسَیْنٍ ، عَنِ الزُّہْرِیِّ ، عَنْ أَنَسٍ ، قَالَ : لَمَّا مَرِضَ رَسُولُ اللہِ صَلَّی اللَّہُ عَلَیْہِ وَسَلَّمَ فِی مَرَضِہِ الَّذِی مَاتَ فِیہِ أَتَاہُ بِلاَلٌ فَأَذَّنَہُ بِالصَّلاَۃ ، فَقَالَ : یَا بِلاَلُ قَدْ بَلَّغْت فَمَنْ شَائَ فَلْیُصَلِّ وَمَنْ شَائَ فَلْیَدَعْ ، فَقَالَ : یَا رَسُولَ اللہِ فَمَنْ یُصَلِّی بِالنَّاسِ؟ قَالَ : مُرُوا أَبَا بَکْرٍ فَلْیُصَلِّ بِالنَّاسِ ، فَلَمَّا تَقَدَّمَ أَبُو بَکْرٍ رُفِعَتِ السُّتُورُ ، عَنْ رَسُولِ اللہِ صَلَّی اللَّہُ عَلَیْہِ وَسَلَّمَ فَنَظَرْنَا إلَیْہِ کَأَنَّہُ وَرَقَۃٌ بَیْضَائُ عَلَیْہِ خَمِیصَۃٌ فَظَنَّ أَبُو بَکْرٍ ، أَنَّہُ یُرِیدُ الْخُرُوجَ فَتَأَخَّرَ وَأَشَارَ إلَیْہِ رَسُولُ اللہِ صَلَّی اللَّہُ عَلَیْہِ وَسَلَّمَ أَنْ صَلِّ مَکَانَک فَصَلَّی أَبُو بَکْرٍ وَمَا رَأَیْنَا رَسُولَ اللہِ صَلَّی اللَّہُ عَلَیْہِ وَسَلَّمَ حَتَّی مَاتَ مِنْ یَوْمِہِ۔ (بخاری ۶۸۰۔ مسلم ۹۸)
থেকে বর্ণিতঃ
(৭২৩৯) হযরত আনাস (রাঃ) বলেন যে , রাসূলুল্লাহ ( সাল্লাল্লাহু ‘ আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) এর ইন্তেকালের সময় তিনি হযরত বিলাল হুযূর ( রাঃ ) -কে নামাযের কথা জানিয়েছিলেন তিনি বললেনঃ হে বিলাল ! আপনি বার্তা দিয়েছেন , এখন যে প্রার্থনা করতে চায় তাকে ছেড়ে দিন। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে মানুষকে নামাজে ইমামতি করবে কে? রাসুলুল্লাহ ( সাঃ ) বললেনঃ আবু বকর (রাঃ ) -কে বলুন যেন তিনি লোকদের নামাযের ইমামতি করেন । হজরত আবু বকর ( রা . ) নামাজের ইমামতি করার জন্য এগিয়ে গেলে রাসূলুল্লাহ ( সা . ) - এর পবিত্র কক্ষের তাঁবু উঠিয়ে দেওয়া হয় এবং তিনি সেখান থেকে এমনভাবে বেরিয়ে আসেন যে , তাঁর মুখমণ্ডল বরকতময় হয়ে ওঠে একটি টুকরা মত অনুভূত তুমি একটা কালো জামা পরেছিলে ... যখন হজরত আবু বকর ( রা . ) আপনাকে বললেন যে , আপনি তিশরীফ আনতে চান , তখন তিনি সালাত থেকে পিছু হটে গেলেন , রাসূলুল্লাহ ( সা . ) আল্লাহ তাদেরকে ইঙ্গিত করলেন যে তারা যেন নামায পড়তে থাকে । তাই হজরত আবু বকর (রা.) লোকদের নামাজ পড়তে শিখিয়েছিলেন । এরপর আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ঘুমাতে দেইনি এবং একই দিনে তিনি ইন্তেকাল করেন ।
[ইবনে আবি শাঈবাহ : ৭২৩৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

(۷۲۴۰) حَدَّثَنَا حُسَیْنُ بْنُ عَلِیٍّ ، عَنْ زَائِدَۃَ ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِکِ بْنِ عُمَیْرٍ ، عَنْ أَبِی بُرْدَۃَ ، عَنْ أَبِی مُوسَی ، قَالَ : مَرِضَ رَسُولُ اللہِ صَلَّی اللَّہُ عَلَیْہِ وَسَلَّمَ فَاشْتَدَّ مَرَضُہُ ، فَقَالَ : مُرُوا أَبَا بَکْرٍ فَلْیُصَلِّ بِالنَّاسِ ، فَقَالَتْ عَائِشَۃُ یَا رَسُولَ اللہِ إنَّ أَبَا بَکْرٍ رَجُلٌ رَقِیقٌ مَتَی یَقُمُ مَقَامَک فَلاَ یَسْتَطِیعُ أَنْ یُصَلِّیَ بِالنَّاسِ ، فَقَالَ : مُرِی أَبَا بَکْرٍ فَلْیُصَلِّ بِالنَّاسِ فَإِنَّکُنَّ صَوَاحِبُ یُوسُفَ ، قَالَ : فَصَلَّی بِہِمْ أَبُو بَکْرٍ حَیَاۃَ رَسُولِ اللہِ صَلَّی اللَّہُ عَلَیْہِ وَسَلَّمَ۔ (بخاری ۶۷۸۔ مسلم ۱۰۱)
থেকে বর্ণিতঃ
(৭২৪০) হজরত আবু মূসা (রাঃ) বলেন , রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তেকালের সময় যখন তাঁর অসুস্থতা তীব্র আকার ধারণ করে, তখন তিনি বললেনঃ আবু বকর (রাঃ) -কে বলুনঃ তারা নামায পড়ান । এ বিষয়ে হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, তিনি একজন নরম মনের মানুষ , যখন তিনি আপনার জায়গায় দাঁড়াবেন , তখন তিনি লোকদের নামাজে ইমামতি করতে পারবেন না । নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) বললেনঃ আবু বকরকে সালাত আদায় করতে বল , তুমি ওয়াসিফের সাহাবীদের মত । তাই হজরত আবু বকর ( রা . ) নবী ( সাল্লাল্লাহু ‘ আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) -কে নামায পড়তে শিখিয়েছিলেন ।
[ইবনে আবি শাঈবাহ : ৭২৪০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

(۷۲۴۱) حَدَّثَنَا حُمَیْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ، عَنْ أَبِیہِ ، عَنْ أَبِی الزُبَیْرٍ ، عَنْ جَابِرٍ ، أَنَّ رَسُولَ اللہِ صَلَّی اللَّہُ عَلَیْہِ وَسَلَّمَ أَمَّہُمْ وَکَانَ أَبُو بَکْرٍ خَلْفَہُ فَیُکَبِّرُ النَّبِیُّ صَلَّی اللَّہُ عَلَیْہِ وَسَلَّمَ فَیُکَبِّرُ أَبُو بَکْرٍ یُسْمِعُ النَّاسَ۔ (مسلم ۸۵۔ ابوداؤد ۶۰۶)
থেকে বর্ণিতঃ
(৭২৪১) হজরত জাবির (রা.) বলেন , রাসূলুল্লাহ ( সা . ) লোকদের নামাযের ইমামতি করতেন , হজরত আবু বকর (রা .) তাঁর পেছনে ছিলেন , তারা যখন বলতেন , তখন হজরত আবু বকর ( রা . ) তাকবীর বলতেন উচ্চস্বরে তাকবীর ধ্বনি জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া ।
[ইবনে আবি শাঈবাহ : ৭২৪১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

(۷۲۴۲) حَدَّثَنَا حُسَیْنُ بْنُ عَلِیٍّ ، عَنْ زَائِدَۃَ ، عَنْ عَاصِمٍ ، عَنْ زِرٍّ ، عَنْ عَبْدِ اللہِ ، قَالَ : لَمَّا قُبِضَ النَّبِیُّ صَلَّی اللَّہُ عَلَیْہِ وَسَلَّمَ ، قَالَتِ الأَنْصَارُ مِنَّا أَمِیرٌ وَمِنْکُمْ أَمِیرٌ فَأَتَاہُمْ عُمَرُ ، فَقَالَ : یَا مَعْشَرَ الأَنْصَارِ أَلَسْتُمْ تَعْلَمُونَ ، أَنَّ رَسُولَ اللہِ صَلَّی اللَّہُ عَلَیْہِ وَسَلَّمَ أَمَّرَ أَبَا بَکْرٍ یُصَلِّی بِالنَّاسِ ، قَالُوا : بَلَی ، قَالَ : فَأَیُّکُمْ تَطِیبُ نَفْسُہُ أَنْ یَتَقَدَّمَ أَبَا بَکْرٍ۔ (نسائی ۸۵۲۔ احمد ۱/۳۹۶)
থেকে বর্ণিতঃ
(7242) হজরত আবদুল্লাহ বলেন , রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন চলে গেলেন , তখন আনসাররা বললেন , হে কামীর আমাদের পক্ষ থেকে এবং হে তোমার পক্ষ থেকে । তখন হযরত ওমর (রাঃ) তাদের কাছে এসে বললেন, হে আনসারগণ ! তুমি কি জানো না যে, রাসূলুল্লাহ ( সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) আবু বকর (রাঃ ) -কে নামাযের ইমামতি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন ? তিনি বললেন , হ্যাঁ , ব্যাপারটা ঠিক তাই । হজরত ওমর (রা) বললেন , তাহলে তোমাদের মধ্যে কে আবু বকরের চেয়ে এগিয়ে যেতে চাইবে ?
[ইবনে আবি শাঈবাহ : ৭২৪২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

(۷۲۴۳) حَدَّثَنَا وَکِیعٌ ، قَالَ : حدَّثَنَا إسْمَاعِیلُ بْنُ أَبِی خَالِدٍ ، قَالَ : سَمِعْتُ أَبَا سَلَمَۃَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ یُحَدِّثُ ، أَنَّ النَّبِیَّ صَلَّی اللَّہُ عَلَیْہِ وَسَلَّمَ اشْتَکَی ، فَقَالَ : مُرُوا أَبَا بَکْرٍ فَلْیُصَلِّ بِالنَّاسِ فَوَجَدَ النَّبِیُّ صَلَّی اللَّہُ عَلَیْہِ وَسَلَّمَ مِنْ نَفْسِہِ خِفَّۃً فَخَرَجَ ، فَلَمَّا رَآہُ أَبُو بَکْرٍ ذَہَبَ لِیَتَأَخَّرَ فَأَوْمَأَ إلَیْہِ النَّبِیُّ صَلَّی اللَّہُ عَلَیْہِ وَسَلَّمَ مَکَانَک فَجَائَ النَّبِیُّ صَلَّی اللَّہُ عَلَیْہِ وَسَلَّمَ حَتَّی جَلَسَ إلَی جَنْبِ أَبِی بَکْرٍ ، فَکَانَ أَبُو بَکْرٍ یَأْتَمُّ بِالنَّبِیِّ صَلَّی اللَّہُ عَلَیْہِ وَسَلَّمَ وَالنَّاسُ یَأْتَمُّونَ بِأَبِی بَکْرٍ۔
থেকে বর্ণিতঃ
(৭২৪৩) হজরত আবু সালামা ইবনে আবদ আল-রহমান বলেন, রাসুলুল্লাহ ( সা . ) অসুস্থ হয়ে পড়লে রাসূলুল্লাহ ( সা. ) বললেন , আবু বকর ( রা .) তাকে লোকদের নামায পড়াতে নির্দেশ দিন । কিছুক্ষণ পর মহানবী ( সা.) তাঁর বরকতময় শরীরে দুর্বলতা অনুভব করলেন , তাই তিনি তাঁর যত্ন নেওয়ার জন্য বাইরে এলেন । হযরত আবু বকর (রাঃ ) তাকে তিশরীফ নিয়ে আসলে তিনি পিছু হটতে লাগলেন । নবী ( সাল্লাল্লাহু ‘ আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) তাদেরকে নিজ নিজ স্থানে দাঁড়াতে নির্দেশ দিলেন । অতঃপর রাসুলুল্লাহ ( সা . ) এসে হজরত আবু বকর (রা. )- এর কাছে বসলেন । হজরত আবু বকর রাসুলুল্লাহ ( সা . ) - এর আদর্শ অনুসরণ করছিলেন এবং লোকেরা হজরত আবু বকরের আদর্শ অনুসরণ করে নামাজ পড়ছিল ।
[ইবনে আবি শাঈবাহ : ৭২৪৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

(۷۲۴۴) حَدَّثَنَا حُسَیْنُ بْنُ عَلِیٍّ ، عَنْ زَائِدَۃَ ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ أَبِی النَّجُودِ ، عَنْ شَقِیقٍ ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عائِشَۃَ، قَالَتْ : أُغْمِیَ عَلَی النَّبِیِّ صَلَّی اللَّہُ عَلَیْہِ وَسَلَّمَ ، فَلَمَّا أَفَاقَ ، قَالَ : أَصَلَّی النَّاسُ ؟ قَالَتْ : فَقُلْنَا : لاَ ، قَالَ : مُرُوا أَبَا بَکْرٍ فَلْیُصَلِّ بِالنَّاسِ ، قَالَتْ : فَقُلْنَا : یَا رَسُولَ اللہِ صَلَّی اللَّہُ عَلَیْک وَسَلَّمَ إنَّ أَبَا بَکْرٍ رَجُلٌ أَسِیفٌ ، قَالَ : عَاصِمٌ الأَسِیفُ الرَّقِیقُ الرَّحِیمُ ، وَإِنَّہُ مَتَی یَقُمُ مَقَامَک لاَ یَسْتَطِیعُ أَنْ یُصَلِّیَ بِالنَّاسِ ، قَالَتْ : ثُمَّ أُغْمِیَ عَلَیْہِ ، ثُمَّ أَفَاقَ ، فَقَالَ : مِثْلَ ذَلِکَ ، فَرَدَّت عَلَیْہِ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ ، فَقَالَ : إنَّکُنَّ صَوَاحِبُ یُوسُفَ مُرُوا أَبَا بَکْرٍ فَلْیُصَلِّ بِالنَّاسِ ، فَقَالَتْ : فَوَجَدَ النَّبِیُّ صَلَّی اللَّہُ عَلَیْہِ وَسَلَّمَ مِنْ نَفْسِہِ خِفَّۃً فَخَرَجَ بَیْنَ بَرِیرَۃَ وَنَوْبَۃَ ، تَخُطُّ نَعْلاَہُ إنِّی لأَرَی بَیَاضَ بُطُون قَدَمَیْہِ ، وَأَبُو بَکْرٍ یَؤُمُّ النَّاسَ ، فَلَمَّا رَآہُ أَبُو بَکْرٍ ذَہَبَ یَتَأَخَّرُ فَأَوْمَأَ إلَیْہِ أَنْ لاَ یَتَأَخَّرَ ، قَالَتْ : فَقَامَ أَبُو بَکْرٍ بِجَنْبِ النَّبِیِّ صَلَّی اللَّہُ عَلَیْہِ وَسَلَّمَ ، والنَّبیُّ صَلَّی اللَّہُ عَلَیْہِ وَسَلَّمَ قَاعِدٌ ، یُصَلِّی أَبُو بَکْرٍ بِصَلاَۃِ النَّبِیِّ صَلَّی اللَّہُ عَلَیْہِ وَسَلَّمَ وَالنَّاسُ یُصَلُّونَ بِصَلاَۃِ أَبِی بَکْرٍ۔(ابن حبان ۲۱۱۸)
থেকে বর্ণিতঃ
( ৭২৪৪ ) হজরত আয়েশা ( রা . ) বলেন , রাসূলুল্লাহ ( সা . ) - এর ইন্তেকালের সময় আপনি কি নামাজ পড়েছিলেন ? আমরা বললাম না । তিনি ( সাল্লাল্লাহু ‘ আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) বললেনঃ আবূ বকর (রাঃ)-কে আদেশ কর লোকদের নামায পড়াতে । আমরা বললাম হে আল্লাহর রাসূল ! এরা খুবই নরম মনের এবং দয়ালু মানুষ , তারা আপনার জায়গায় দাঁড়ালে মানুষের কাছে প্রার্থনা করতে পারবে না । হজরত আয়েশা ( রা . ) বলেন , তখন রাসুলুল্লাহ ( সা . ) বিভ্রান্ত হয়ে গেলেন , আফাকাহ হলে তিনি আবারও একই কথা বললেন , আমি আপনাকে বললাম , তিনি যখন উত্তর দিলেন , তখন তিনি বললেন , আপনি তো এমনই ওয়াসিফের সাথে মহিলারা , আবু বকরকে নামাজের ইমামতি করতে বলুন । হজরত আয়েশা ( রা . ) বলেন , কিছুক্ষণ পর নবী ( সাল্লাল্লাহু ‘ আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) তাঁর বরকতময় শরীরে কিছুটা দুর্বলতা অনুভব করলেন , আমার বরকতময় শরীরে দুর্বলতার কারণে উভয় পা মাটিতে স্পর্শ করছিল এবং আমি দেখতে পাচ্ছিলাম ।আপনার পায়ের পাতার শুভ্রতা এ সময় আবু বকর (রা) লোকদের নামাজ পড়াচ্ছিলেন। তারা তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দিলে তিনি পিছু হটতে লাগলেন । কিন্তু নবী ( সাল্লাল্লাহু ‘ আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) তাদেরকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে নির্দেশ দিলেনরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার পাশে বসলেন । হজরত আবু বকর নবী ( সাল্লাল্লাহু ‘ আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) নামায পড়ছিলেন এবং লোকেরা হজরত আবু বকর (রা.)- কে অনুসরণ করছিলেন ।
[ইবনে আবি শাঈবাহ : ৭২৪৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

(۷۲۴۵) حَدَّثَنَا شَبَابَۃُ بْنُ سَوَّارٍ ، قَالَ : حدَّثَنَا شُعْبَۃُ ، عَنْ نُعَیْمِ بْنِ أَبِی ہِنْدٍ ، عَنْ أَبِی وَائِلٍ ، عَنْ مَسْرُوقٍ ، عَنْ عَائِشَۃَ ، قَالَتْ : صَلَّی رَسُولُ اللہِ صَلَّی اللَّہُ عَلَیْہِ وَسَلَّمَ فِی مَرَضِہِ الَّذِی مَاتَ فِیہِ خَلْفَ أَبِی بَکْرٍ قَاعِدًا۔ (ترمذی ۳۶۲۔ احمد ۶/۱۵۹)
থেকে বর্ণিতঃ
(৭২৪৫) হজরত আয়েশা (রা.) বলেন , রাসুলুল্লাহ ( সা . ) হজরত আবু বকর ( রা . ) - এর মৃত্যুকালীন অসুস্থতার সময় তাঁর পেছনে নামায পড়েছিলেন ।
[ইবনে আবি শাঈবাহ : ৭২৪৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস