
حَدَّثَنَا عَبْد اللَّهِ حَدَّثَنِي زِيَادُ بْنُ أَيُّوبَ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ قَالَ زَعَمَ أَبُو الْمِقْدَامِ عَنِ الْحَسَنِ بْنِ أَبِي الْحَسَنِ قَالَ دَخَلْتُ الْمَسْجِدَ فَإِذَا أَنَا بِعُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ مُتَّكِئٌ عَلَى رِدَائِهِ فَأَتَاهُ سَقَّاءَانِ يَخْتَصِمَانِ إِلَيْهِ فَقَضَى بَيْنَهُمَا ثُمَّ أَتَيْتُهُ فَنَظَرْتُ إِلَيْهِ فَإِذَا رَجُلٌ حَسَنُ الْوَجْهِ بِوَجْنَتِهِ نَكَتَاتُ جُدَرِيٍّ وَإِذَا شَعْرُهُ قَدْ كَسَا ذِرَاعَيْهِ
হাসান ইবনে আবিল হাসান থেকে বর্ণিতঃ
আমি মসজিদে (নববীতে) প্রবেশ করেই দেখি, আমার সামনে উসমান বিন আফফান চাদর গায়ে হেলান দিয়ে বসে আছেন। এ সময়ে তাঁর দু’জন পানি সিঞ্চনকারী তাঁর নিকট তাদের বিবাদ নিয়ে এল। তিনি তাদের বিবাদ মিটিয়ে দিলেন। তারপর আমি তার নিকট হাজির হলাম। দেখলাম, তিনি একজন সুদর্শন পুরুষ। তাঁর দুই গালে বসন্তের দাগ। তাঁর চুল তাঁর দুই বাহু ঢেকে ফেলেছে। [মুসনাদে আহমাদ : ৫০৬]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَتْنِي أُمُّ غُرَابٍ عَنْ بُنَانَةَ قَالَتْ مَا خَضَبَ عُثْمَانُ قَطُّ
বুনানা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু কখনো খিযাব ব্যবহার করেননি। [মুসনাদে আহমাদ : ৫০৭]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْد اللَّهِ حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْقَوَارِيرِيُّ حَدَّثَنَا أَبُو الْقَاسِمِ بْنُ أَبِي الزِّنَادِ حَدَّثَنِي وَاقِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ التَّمِيمِيُّ عَنْ مَنْ رَأَى عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ ضَبَّبَ أَسْنَانَهُ بِذَهَبٍ
ওয়াকিদ বিন আবদুল্লাহ আত্-তামীমী এক ব্যক্তি থেকে বর্ণিতঃ
তিনি উসমানকে স্বর্ণ দিয়ে দাঁত বাঁধানো দেখেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৫০৮]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا هُشَيْمُ بْنُ بُشَيْرٍ إِمْلَاءً قَالَ أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ قَيْسٍ الْأَسَدِيُّ عَنْ مُوسَى بْنِ طَلْحَةَ قَالَ سَمِعْتُ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ وَالْمُؤَذِّنُ يُقِيمُ الصَّلَاةَ وَهُوَ يَسْتَخْبِرُ النَّاسَ يَسْأَلُهُمْ عَنْ أَخْبَارِهِمْ وَأَسْعَارِهِمْ
মূসা বিন তালহা থেকে বর্ণিতঃ
উসমান বিন আফফান যখন মিম্বরে উপবিষ্ট এবং মুয়াযযিন নামাযের জন্য ইকামাত বলছে, তখনও আমি দেখেছি, উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু লোকজনকে তাদের খবরাদি ও বাজার দর জিজ্ঞাসা করছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৫০৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْد اللَّهِ حَدَّثَنِي سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ أَنَّ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ سَجَدَ فِي ص
সায়িব বিন ইয়াযীদ থেকে বর্ণিতঃ
উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু সূরা সোয়াদে সিজদা করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৫১০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْد اللَّهِ حَدَّثَنِي سُرَيْجُ بْنُ يُونُسَ حَدَّثَنَا مَحْبُوبُ بْنُ مُحْرِزٍ بَيَّاعُ الْقَوَارِيرِ كُوفِيٌّ ثِقَةٌ كَذَا قَالَ سُرَيْجٌ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ يَعْنِي ابْنَ فَرُّوخَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ صَلَّيْتُ خَلْفَ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ الْعِيدَ فَكَبَّرَ سَبْعًا وَخَمْسًا
আবদুল্লাহ ইবনে ফাররুখের পিতা থেকে বর্ণিতঃ
আমি উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু এর পেছনে ঈদের নামায পড়েছি। তিনি সাত ও পাঁচটি তাকবীর বলেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৫১১]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ حَدَّثَنَا سَالِمٌ أَبُو جُمَيْعٍ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ وَذَكَرَ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَشِدَّةَ حَيَائِهِ فَقَالَ إِنْ كَانَ لَيَكُونُ فِي الْبَيْتِ وَالْبَابُ عَلَيْهِ مُغْلَقٌ فَمَا يَضَعُ عَنْهُ الثَّوْبَ لِيُفِيضَ عَلَيْهِ الْمَاءَ يَمْنَعُهُ الْحَيَاءُ أَنْ يُقِيمَ صُلْبَهُ
হাসান থেকে বর্ণিতঃ
হাসান উসমানের তীব্র লজ্জার বিবরণ দিয়ে বলেছেন, তিনি ঘরের দরজা বন্ধ করে ভেতরে বসে থাকতেন, শরীরে পানি ঢালার জন্য কাপড় খুলতেন না, লজ্জার কারণে তিনি মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতেন না। [মুসনাদে আহমাদ : ৫১২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ خَالِدٍ الصَّنْعَانِيُّ حَدَّثَنِي أُمَيَّةُ بْنُ شِبْلٍ وَغَيْرُهُ قَالُوا وَلِيَ عُثْمَانُ ثِنْتَيْ عَشْرَةَ وَكَانَتْ الْفِتْنَةُ خَمْسَ سِنِينَ
উমাইয়া বিন শিবল থেকে বর্ণিতঃ
উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু শাসনকার্য পরিচালনা করেন বারো বছর, আর দেশে গোলযোগ চলেছিল পাঁচ বছর। [মুসনাদে আহমাদ : ৫১৩]
[সানাদ মুনকাতি]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ عِيسَى بْنِ الطَّبَّاعِ عَنْ أَبِي مَعْشَرٍ قَالَ وَقُتِلَ عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ لِثَمَانِ عَشْرَةَ مَضَتْ مِنْ ذِي الْحِجَّةِ سَنَةَ خَمْسٍ وَثَلَاثِينَ وَكَانَتْ خِلَافَتُهُ ثِنْتَيْ عَشْرَةَ سَنَةً إِلَّا اثْنَيْ عَشَرَ يَوْمًا
আবু মা’শার থেকে বর্ণিতঃ
উসমান নিহত হন শুক্রবারে ১৮ই জিলহজ্জ হিঃ ৩৫ সন। তাঁর খিলাফাত ছিল ১২ দিন কম ১২ বছর। [মুসনাদে আহমাদ : ৫১৪]
[সানাদ মুনকাতি]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْد اللَّهِ حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ حَدَّثَنَا مُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ قَالَ أَبِي حَدَّثَنَا أَبُو عُثْمَانَ أَنَّ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قُتِلَ فِي أَوْسَطِ أَيَّامِ التَّشْرِيقِ
আবু উসমান থেকে বর্ণিতঃ
উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু কে আইয়ামে তাশরিকের দিনগুলির মাঝখানে হত্যা করা হয়। (জিলহজের ৯ তারিখের ফজর থেকে ১৩ তারিখের আসর পর্যন্ত দিনগুলোকে তাশরিকের দিন বলে। এসব দিনে মুসল্লিরা যে তাকবির পড়েন তাকে তাকবিরে তাশরিক বলে।)। [মুসনাদে আহমাদ : ৫১৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا حَسَنُ بْنُ مُوسَى حَدَّثَنَا أَبُو هِلَالٍ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ أَنَّ عُثْمَانَ قُتِلَ وَهُوَ ابْنُ تِسْعِينَ سَنَةً أَوْ ثَمَانٍ وَثَمَانِينَ
কাতাদাহ থেকে বর্ণিতঃ
উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন নিহত হন তখন তাঁর বয়স নব্বই বা অষ্টাশি বছর ছিল। [মুসনাদে আহমাদ : ৫১৬]
[সানাদ মুনকাতি]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْد اللَّهِ حَدَّثَنِي جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ فُضَيْلٍ حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا أَبُو خَلْدَةَ عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ قَالَ كُنَّا بِبَابِ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فِي عَشْرِ الْأَضْحَى
আবু আল-আলিয়া থেকে বর্ণিতঃ
আমরা ঈদুল আযহার দশদিন হজরত উসমান গণি (রা.)-এর ঘরের দরজায় পাহারা দিচ্ছিলাম। [মুসনাদে আহমাদ : ৫১৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ عَنْ قَتَادَةَ قَالَ صَلَّى الزُّبَيْرُ عَلَى عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَدَفَنَهُ وَكَانَ أَوْصَى إِلَيْهِ
কাতাদাহ থেকে বর্ণিতঃ
যুবাইর উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু এর জানাযা পড়েছিলেন এবং দাফন করেছিলেন। উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে এ জন্য ওয়াসিয়াত করেছিলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৫১৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ عَدِيٍّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ قَالَ قُتِلَ عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ سَنَةَ خَمْسٍ وَثَلَاثِينَ فَكَانَتْ الْفِتْنَةُ خَمْسَ سِنِينَ مِنْهَا أَرْبَعَةُ أَشْهُرٍ لِلْحَسَنِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ
আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ বিন আকীল থেকে বর্ণিতঃ
হযরত উসমান গনি (রা.) ৩৫ হিজরিতে শহীদ হন। গোলযোগ চলেছিল পাঁচ বছর, যার মধ্যে হযরত ইমাম হাসান (রা.)-ও চার মাস খলিফা ছিলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৫১৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَبْد اللَّهِ حَدَّثَنِي جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ فُضَيْلٍ حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا أَبُو خَلْدَةَ عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ قَالَ كُنَّا بِبَابِ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فِي عَشْرِ الْأَضْحَى
আবু আল-আলিয়া থেকে বর্ণিতঃ
আমরা ঈদুল আযহার দশদিন হজরত উসমান গণি (রা.)-এর ঘরের দরজায় পাহারা দিচ্ছিলাম। [মুসনাদে আহমাদ : ৫২০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْد اللَّهِ حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْقَوَارِيرِيُّ حَدَّثَنِي الْقَاسِمُ بْنُ الْحَكَمِ بْنِ أَوْسٍ الْأَنْصَارِيُّ حَدَّثَنِي أَبُو عُبَادَةَ الزُّرَقِيُّ الْأَنْصَارِيُّ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ شَهِدْتُ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَوْمَ حُوصِرَ فِي مَوْضِعِ الْجَنَائِزِ وَلَوْ أُلْقِيَ حَجَرٌ لَمْ يَقَعْ إِلَّا عَلَى رَأْسِ رَجُلٍ فَرَأَيْتُ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَشْرَفَ مِنْ الْخَوْخَةِ الَّتِي تَلِي مَقَامَ جِبْرِيلَ عَلَيْهِ السَّلَام فَقَالَ أَيُّهَا النَّاسُ أَفِيكُمْ طَلْحَةُ فَسَكَتُوا ثُمَّ قَالَ أَيُّهَا النَّاسُ أَفِيكُمْ طَلْحَةُ فَسَكَتُوا ثُمَّ قَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ أَفِيكُمْ طَلْحَةُ فَقَامَ طَلْحَةُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ فَقَالَ لَهُ عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَلَا أَرَاكَ هَاهُنَا مَا كُنْتُ أَرَى أَنَّكَ تَكُونُ فِي جَمَاعَةٍ تَسْمَعُ نِدَائِي آخِرَ ثَلَاثِ مَرَّاتٍ ثُمَّ لَا تُجِيبُنِي أَنْشُدُكَ اللَّهَ يَا طَلْحَةُ تَذْكُرُ يَوْمَ كُنْتُ أَنَا وَأَنْتَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي مَوْضِعِ كَذَا وَكَذَا لَيْسَ مَعَهُ أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِهِ غَيْرِي وَغَيْرُكَ قَالَ نَعَمْ فَقَالَ لَكَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا طَلْحَةُ إِنَّهُ لَيْسَ مِنْ نَبِيٍّ إِلَّا وَمَعَهُ مِنْ أَصْحَابِهِ رَفِيقٌ مِنْ أُمَّتِهِ مَعَهُ فِي الْجَنَّةِ وَإِنَّ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ هَذَا يَعْنِينِي رَفِيقِي مَعِي فِي الْجَنَّةِ قَالَ طَلْحَةُ اللَّهُمَّ نَعَمْ ثُمَّ انْصَرَفَ
যায়িদ বিন আসলামের পিতা থেকে বর্ণিতঃ
উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু যেদিন অবরুদ্ধ হলেন, সেদিন আমি জানাযার স্থানে বসে তাঁকে দেখেছিলাম। যদি একটি পাথরও নিক্ষিপ্ত হতো, তবে তা কোন না কোন মানুষের মাথার ওপর পড়তো। (অর্থাৎ বিপুল জনসমাগম হয়েছিল) দেখলাম, উসমান জিবরীলের দাঁড়ানোর জায়গার পার্শ্বে অবস্থিত একটি ছোট দরজায় দাঁড়িয়ে বলছেন, হে জনতা, তোমাদের মধ্যে কি তালহা আছে? সবাই নীরবতা অবলম্বন করলো। তিনি আবার বললেন, হে জনতা, তোমাদের মধ্যে কি তালহা আছে? এবারও কেউ জবাব দিল না। (পুনরায় তিনি বললেন, হে জনতা, তোমাদের মধ্যে কি তালহা আছে? এবারও কেউ জবাব দিলনা।) পুনরায় তিনি বললেন, হে জনতা, তোমাদের মধ্যে কি তালহা আছে? তখন তালহা বিন উবায়দুল্লাহ উঠে দাঁড়ালেন। তখন উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে বললেনঃ আমি তোমাকে এখানে দেখছি না কেন?
আমি কখনো ভাবিনি যে, তুমি একটি দলের মধ্যে আমার ডাক শুনবে এবং তিনবার শুনেও জবাব দেবেনা। হে তালহা, তোমাকে আল্লাহর দোহাই দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, তোমার কি মনে পড়ে অমুক জায়গায় একদিন আমি আর তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম? আমাদের সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মধ্য থেকে আমি আর তুমি ব্যতীত আর কেউ ছিল না? তালহা বললেনঃ হ্যাঁ। উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাকে বললেনঃ হে তালহা, আল্লাহর নবী মাত্রেরই সাহাবীদের মধ্য থেকে এমন একজন লোক জান্নাতে তাঁর সঙ্গী হয়, যে তাঁর উম্মাতের মধ্য থেকে একজন বিশিষ্ট বন্ধু। আর উসমান বিন আফফান জান্নাতে আমার সঙ্গী। তিনি আমার কথাই বলেছিলেন। তালহা বললেনঃ আল্লাহর কসম, হ্যাঁ। অতঃপর তালহা চলে গেলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৫২১]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا سَعِيدٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ مُسْلِمِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ حُمْرَانَ بْنِ أَبَانَ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّهُ دَعَا بِمَاءٍ فَتَوَضَّأَ وَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلَاثًا وَذِرَاعَيْهِ ثَلَاثًا ثَلَاثًا وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ وَظَهْرِ قَدَمَيْهِ ثُمَّ ضَحِكَ فَقَالَ لِأَصْحَابِهِ أَلَا تَسْأَلُونِي عَمَّا أَضْحَكَنِي فَقَالُوا مِمَّ ضَحِكْتَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَعَا بِمَاءٍ قَرِيبًا مِنْ هَذِهِ الْبُقْعَةِ فَتَوَضَّأَ كَمَا تَوَضَّأْتُ ثُمَّ ضَحِكَ فَقَالَ أَلَا تَسْأَلُونِي مَا أَضْحَكَنِي فَقَالُوا مَا أَضْحَكَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا دَعَا بِوَضُوءٍ فَغَسَلَ وَجْهَهُ حَطَّ اللَّهُ عَنْهُ كُلَّ خَطِيئَةٍ أَصَابَهَا بِوَجْهِهِ فَإِذَا غَسَلَ ذِرَاعَيْهِ كَانَ كَذَلِكَ وَإِنْ مَسَحَ بِرَأْسِهِ كَانَ كَذَلِكَ وَإِذَا طَهَّرَ قَدَمَيْهِ كَانَ كَذَلِكَ
হুমরান বিন আবান থেকে বর্ণিতঃ
উসমান বিন আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু পানি চাইলেন, তারপর তা দিয়ে ওযূ করলেন, কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন, অতঃপর তিনবার তার মুখ ধুলেন, হাত দুখানাও তিনবার করে ধুলেন, তার মাথা ও পায়ের পিঠ মাসেহ করলেন, তারপর হাসলেন। তারপর তার সাথীদেরকে বললেনঃ আমি হাসলাম কেন, তা তোমরা জিজ্ঞাসা করলেনা? তারা বললোঃ হে আমীরুল মুমিনীন, কেন হাসলেন? তিনি বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি, এই জায়গার নিকটবর্তী জায়গা থেকে পানি চাইলেন, অতঃপর আমি যেভাবে ওযূ করেছি, সেভাবে ওযূ করলেন। তারপর হাসলেন। অতঃপর বললেনঃ তোমরা জিজ্ঞাসা করছনা আমি কেন হাসলাম? লোকেরা বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, কেন হাসলেন? তিনি বললেনঃ কোন বান্দা যখন ওযূর পানি চেয়ে নিয়ে মুখ ধোয়, তখন আল্লাহ তার মুখমণ্ডল দ্বারা অর্জিত সমস্ত গুনাহ নিশ্চিহ্ন করে দেন। তারপর যখন সে তার হাত ধোয় তখনো তদ্রুপ হয়, যখন মাথা মাসেহ করে তখনো তদ্রুপ হয় এবং যখন পা দু’খানাকে পবিত্র করে তখনো তদ্রুপ হয়। [মুসনাদে আহমাদ : ৫২২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْد اللَّهِ حَدَّثَنِي وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ الْوَاسِطِيُّ أَنْبَأَنَا خَالِدٌ يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ الْجُرَيْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ قَبِيصَةَ عَنْ رَجُلٍ مِنْ الْأَنْصَارِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كُنْتُ قَائِمًا عِنْدَ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَقَالَ أَلَا أُنَبِّئُكُمْ كَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَوَضَّأُ قُلْنَا بَلَى فَدَعَا بِمَاءٍ فَغَسَلَ وَجْهَهُ ثَلَاثًا وَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ ثَلَاثًا ثُمَّ غَسَلَ يَدَيْهِ إِلَى مِرْفَقَيْهِ ثَلَاثًا ثُمَّ مَسَحَ بِرَأْسِهِ وَأُذُنَيْهِ وَغَسَلَ رِجْلَيْهِ ثَلَاثًا ثُمَّ قَالَ هَكَذَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَوَضَّأُ
জনৈক আনসারী স্বীয় পিতা থেকে বর্ণিতঃ
উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিভাবে ওযূ করতেন, তা কি আমি দেখাবো না? লোকেরা বললোঃ হ্যাঁ, দেখান। তখন তিনি পানি আনতে বললেন, তারপর তিনবার কুলি করলেন, তিনবার নাকে পানি দিলেন, তিনবার মুখ ধুলেন, তিনবার দু’হাত ধুলেন, মাথা মাসেহ করলেন এবং তিনবার দু’পা ধুলেন। তারপর বললেনঃ তোমরা জেনে রেখ যে, কান দুটো মাথার অংশ। তারপর বললেন, আমি তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওযূ সর্বোত্তমভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। [মুসনাদে আহমাদ : ৫২৩]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو قَطَنٍ حَدَّثَنَا يُونُسُ يَعْنِي ابْنَ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَ أَشْرَفَ عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ مِنْ الْقَصْرِ وَهُوَ مَحْصُورٌ فَقَالَ أَنْشُدُ بِاللَّهِ مَنْ شَهِدَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ حِرَاءٍ إِذْ اهْتَزَّ الْجَبَلُ فَرَكَلَهُ بِقَدَمِهِ ثُمَّ قَالَ اسْكُنْ حِرَاءُ لَيْسَ عَلَيْكَ إِلَّا نَبِيٌّ أَوْ صِدِّيقٌ أَوْ شَهِيدٌ وَأَنَا مَعَهُ فَانْتَشَدَ لَهُ رِجَالٌ قَالَ أَنْشُدُ بِاللَّهِ مَنْ شَهِدَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ بَيْعَةِ الرِّضْوَانِ إِذْ بَعَثَنِي إِلَى الْمُشْرِكِينَ إِلَى أَهْلِ مَكَّةَ قَالَ هَذِهِ يَدِي وَهَذِهِ يَدُ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَبَايَعَ لِي فَانْتَشَدَ لَهُ رِجَالٌ قَالَ أَنْشُدُ بِاللَّهِ مَنْ شَهِدَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ يُوَسِّعُ لَنَا بِهَذَا الْبَيْتِ فِي الْمَسْجِدِ بِبَيْتٍ فِي الْجَنَّةِ فَابْتَعْتُهُ مِنْ مَالِي فَوَسَّعْتُ بِهِ الْمَسْجِدَ فَانْتَشَدَ لَهُ رِجَالٌ قَالَ وَأَنْشُدُ بِاللَّهِ مَنْ شَهِدَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ جَيْشِ الْعُسْرَةِ قَالَ مَنْ يُنْفِقُ الْيَوْمَ نَفَقَةً مُتَقَبَّلَةً فَجَهَّزْتُ نِصْفَ الْجَيْشِ مِنْ مَالِي قَالَ فَانْتَشَدَ لَهُ رِجَالٌ وَأَنْشُدُ بِاللَّهِ مَنْ شَهِدَ رُومَةَ يُبَاعُ مَاؤُهَا ابْنَ السَّبِيلِ فَابْتَعْتُهَا مِنْ مَالِي فَأَبَحْتُهَا لِابْنِ السَّبِيلِ قَالَ فَانْتَشَدَ لَهُ رِجَالٌ
আবু সালামা বিন আবদুর রহমান থেকে বর্ণিতঃ
উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন অবরুদ্ধ, তখন প্রাসাদ থেকে নিচের দিকে তাকালেন। তারপর বললেন, আমি আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করি, হেরার দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে কে ছিল, যখন পাহাড় কেঁপে উঠলো? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে পা দিয়ে লাথি মারলেন, তারপর বললেন, থামো হেরা, তোমার ওপরে একজন নবী, একজন সিদ্দিক ও একজন শহীদ ছাড়া আর কেউ নেই। তখন আমি তার সাথেই ছিলাম। উসমানের এ কথায় অনেকেই কসম খেয়ে সমর্থন জানালো।
উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমি আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, বাইয়াতুর রিদওয়ানের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কে ছিল? যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে মক্কার মুশরিকদের নিকট পাঠালেন। তিনি বললেন, এটা আমার হাত, আর এটা উসমানের হাত। এভাবে আমার জন্য বাইয়াত নিলেন। এ কথার পক্ষেও সমবেত লোকদের অনেকে সায় দিল। উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, সেই সময়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কে ছিল যখন তিনি বললেন, এই বাড়িটি কিনে দিয়ে কে মসজিদে নববীর সম্প্রসারণ করিয়ে দেবে? এর বিনিময়ে সে জান্নাতে একটা বাড়ি পাবে। তখন আমি নিজের টাকা দিয়ে বাড়িটি কিনে দিলাম এবং তা দ্বারা মসজিদের সম্প্রসারণ করলাম। অনেকেই তার এ কথার পক্ষে সাক্ষ্য দিল।
উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু পুনরায় বললেন, মুসিবতের বাহিনীর দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কে ছিল? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আজকে কে এমন দান করবে, যা আল্লাহর নিকট কবুল হয়ে গেছে? আমি তৎক্ষণাত অর্ধেক বাহিনীকে নিজের টাকায় যাবতীয় প্রয়োজনীয় সাজসরঞ্জাম দিয়ে সজ্জিত করলাম। আমি আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি সেই জলাশয়টির কাছে কে ছিল, যার পানি পথিকের নিকট বিক্রি করা হতো? আমি নিজের টাকা দিয়ে সেটি কিনে দিয়েছি। এভাবে মুসাফিরের জন্য সেই জলাশয়কে অবাধ করে দিয়েছি। (যার ফলে এখন সে জলাশয় থেকে বিনা মূল্যে পানি পাওয়া যায়) এ সময়ও বহু লোক তাঁর পক্ষে সাক্ষ্য দিল। [মুসনাদে আহমাদ : ৫২৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ عَمْرٍو حَدَّثَنَا زَائِدَةُ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ شَقِيقٍ قَالَ لَقِيَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ الْوَلِيدَ بْنَ عُقْبَةَ فَقَالَ لَهُ الْوَلِيدُ مَا لِي أَرَاكَ قَدْ جَفَوْتَ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَقَالَ لَهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ أَبْلِغْهُ أَنِّي لَمْ أَفِرَّ يَوْمَ عَيْنَيْنِ قَالَ عَاصِمٌ يَقُولُ يَوْمَ أُحُدٍ وَلَمْ أَتَخَلَّفْ يَوْمَ بَدْرٍ وَلَمْ أَتْرُكْ سُنَّةَ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ فَانْطَلَقَ فَخَبَّرَ ذَلِكَ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ فَقَالَ أَمَّا قَوْلُهُ إِنِّي لَمْ أَفِرَّ يَوْمَ عَيْنَيْنَ فَكَيْفَ يُعَيِّرُنِي بِذَنْبٍ وَقَدْ عَفَا اللَّهُ عَنْهُ فَقَالَ إِنَّ الَّذِينَ تَوَلَّوْا مِنْكُمْ يَوْمَ الْتَقَى الْجَمْعَانِ إِنَّمَا اسْتَزَلَّهُمْ الشَّيْطَانُ بِبَعْضِ مَا كَسَبُوا وَلَقَدْ عَفَا اللَّهُ عَنْهُمْ وَأَمَّا قَوْلُهُ إِنِّي تَخَلَّفْتُ يَوْمَ بَدْرٍ فَإِنِّي كُنْتُ أُمَرِّضُ رُقَيَّةَ بِنْتَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ مَاتَتْ وَقَدْ ضَرَبَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِسَهْمِي وَمَنْ ضَرَبَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِسَهْمِهِ فَقَدْ شَهِدَ وَأَمَّا قَوْلُهُ إِنِّي لَمْ أَتْرُكْ سُنَّةَ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَإِنِّي لَا أُطِيقُهَا وَلَا هُوَ فَأْتِهِ فَحَدِّثْهُ بِذَلِكَ
ওয়ালীদ থেকে বর্ণিতঃ
আবদুর রহমান বিন আওফের সাথে ওয়ালীদ বিন উকবার সাক্ষাত হলো। ওয়ালীদ তাকে বললেন, ব্যাপার কী? দেখতে পাচ্ছি, তুমি আমীরুল মুমিনীন উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু এর সাথে রূঢ় আচরণ করেছ? আবদুর রহমান বললেন, তাকে জানাও যে, আমি উহুদের দিন পালাইনি, বদরেও অনুপস্থিত থাকিনি এবং উমারের সুন্নাত (রীতি) বর্জন করেনি। এরপর ওয়ালীদ চলে গেলেন এবং উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু কে বিষয়টি জানালেন। তখন উসমান বললেন, সে বলেছেঃ আমি উহুদের দিন পালাইনি। তাহলে আমাকে সে কিভাবে এমন গুনাহর জন্য লজ্জা দেয় যা আল্লাহ মাফ করে দিয়েছেন? আল্লাহ তো বলেছেনঃ “তোমাদের মধ্য থেকে যারা উভয় দলের মুখোমুখি হবার দিন পালিয়েছিল, তাদেরকে তো শয়তানই তাদের কিছু গুনাহর কারণে পদস্থলন ঘটিয়েছিল। আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করেছেন। আর সে বলেছে যে, আমি বদরের দিন অনুপস্থিত ছিলাম। সেদিন তো আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মেয়ে রুকাইয়ার সেবা সুশ্রুষা করছিলাম। শেষ পর্যন্ত সে মারা গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার জন্য গনীমাতের অংশ নির্ধারণ করেন। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যার জন্য গনীমাতের অংশ নির্ধারণ করেন, সে তো (যুদ্ধের ময়দানে) উপস্থিতদের অন্তর্ভুক্ত। আর সে বলেছেঃ “আমি উমারের রীতি বর্জন করিনি” এ ব্যাপারে আমার কথা হলো, এটা করা আমার পক্ষেও সম্ভব নয়। তার পক্ষেও নয়। যাও তার কাছে, তাকে এ কথাগুলো জানিয়ে দাও। [মুসনাদে আহমাদ : ৫২৫]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْد اللَّهِ حَدَّثَنِي سُفْيَانُ بْنُ وَكِيعٍ حَدَّثَنِي قَبِيصَةُ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَيَّاشٍ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ أَبِي وَائِلٍ قَالَ قُلْتُ لِعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ كَيْفَ بَايَعْتُمْ عُثْمَانَ وَتَرَكْتُمْ عَلِيًّا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ مَا ذَنْبِي قَدْ بَدَأْتُ بِعَلِيٍّ فَقُلْتُ أُبَايِعُكَ عَلَى كِتَابِ اللَّهِ وَسُنَّةِ رَسُولِهِ وَسِيرَةِ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ فَقَالَ فِيمَا اسْتَطَعْتُ قَالَ ثُمَّ عَرَضْتُهَا عَلَى عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَقَبِلَهَا
আবু ওয়ায়েল থেকে বর্ণিতঃ
আমি আবদুর রহমান বিন আওফকে বললামঃ আপনারা আলীকে বাদ দিয়ে কিভাবে উসমানের নিকট বাইয়াত করলেন? তিনি বললেনঃ আমার কী দোষ? প্রথমে আলীর কাছেই বাইয়াত করতে গিয়েছিলাম। বললাম, আল্লাহর কিতাব, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ এবং আবু বাকরের ও উমারের আদর্শের ভিত্তিতে আপনার নিকট বাইয়াত করছি। তিনি বললেনঃ যত দূর পারি। (অর্থাৎ আল্লাহর কিতাব, রাসূলের সুন্নাহ এবং আবু বাকর ও উমারের আদর্শ যতদূর পারি অনুকরণ করবো।)। এরপর আমি উসমানের নিকট বাইয়াত করতে গেলাম। তিনি গ্রহণ করলেন। (সম্ভবতঃ আলীর “যতদূর পারি।” এই উক্তিকে তিনি বাইয়াত কবুলে অনীহার ইঙ্গিত মনে করেছেন। -অনুবাদক) [মুসনাদে আহমাদ : ৫২৬]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ مَوْلَى بَنِي هَاشِمٍ حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ حَدَّثَنَا زُهْرَةُ بْنُ مَعْبَدٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ مَوْلَى عُثْمَانَ أَنَّهُ حَدَّثَهُ قَالَ سَمِعْتُ عُثْمَانَ بِمِنًى يَقُولُ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي أُحَدِّثُكُمْ حَدِيثًا سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ رِبَاطُ يَوْمٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَفْضَلُ مِنْ أَلْفِ يَوْمٍ فِيمَا سِوَاهُ فَلْيُرَابِطْ امْرُؤٌ كَيْفَ شَاءَ هَلْ بَلَّغْتُ قَالُوا نَعَمْ قَالَ اللَّهُمَّ اشْهَدْ
উসমানের মুক্ত গোলাম আবু সালেহ থেকে বর্ণিতঃ
আমি মীনায় উসমানকে বলতে শুনেছি, হে জনতা, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে একটি হাদীস শুনেছি, সেটি তোমাদেরকে শুনাচ্ছি। তিনি বলেন, আল্লাহর পথে একদিন পাহারা দেয়া অন্য ক্ষেত্রে এক হাজার দিন পাহারা দেয়ার চেয়ে উত্তম। অতএব, প্রত্যেক মানুষের যেভাবে ইচ্ছা পাহারা দেয়া উচিত। আমি কথাটা পৌছে দিয়েছি তো? সবাই বললোঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ তুমি সাক্ষী থাক। [মুসনাদে আহমাদ : ৫২৭]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ يَعْنِي مَوْلَى بَنِي هَاشِمٍ حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْبَاهِلِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي ذُبَابٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ صَلَّى بِمِنًى أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ فَأَنْكَرَهُ النَّاسُ عَلَيْهِ فَقَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي تَأَهَّلْتُ بِمَكَّةَ مُنْذُ قَدِمْتُ وَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ تَأَهَّلَ فِي بَلَدٍ فَلْيُصَلِّ صَلَاةَ الْمُقِيمِ
আবু যুবাব তাঁর পিতা থেকে বর্ণিতঃ
উসমান বিন আফফান মীনায় চার রাকআত করে নামায পড়তেন, (অর্থাৎ কসর করতেন না)। লোকেরা এ ব্যাপারে তার নিকট অসন্তোষ ব্যক্ত করলো। তখন উসমান বললেন, হে জনতা, আমি যেদিন মক্কায় এসেছি, সেদিন থেকেই এখানকার স্থায়ী অধিবাসী হয়েছি। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি কোন শহরে স্থায়ী হয়ে যায়, সে যেন স্থায়ী বসবাসকারীর মত নামায পড়ে। (মীনাকে মক্কার অন্তর্ভুক্ত ধরা হয়।) [মুসনাদে আহমাদ : ৫২৮]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস


حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ شُعَيْبٍ حَدَّثَنِي أَبِي عَنِ الزُّهْرِيِّ حَدَّثَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ أَنَّ عُبَيْدَ اللَّهِ بْنَ عَدِيِّ بْنِ الْخِيَارِ أَخْبَرَهُ أَنَّ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ لَهُ ابْنَ أَخِي أَدْرَكْتَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فَقُلْتُ لَهُ لَا وَلَكِنْ خَلَصَ إِلَيَّ مِنْ عِلْمِهِ وَالْيَقِينِ مَا يَخْلُصُ إِلَى الْعَذْرَاءِ فِي سِتْرِهَا قَالَ فَتَشَهَّدَ ثُمَّ قَالَ أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ بَعَثَ مُحَمَّدًا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْحَقِّ فَكُنْتُ مِمَّنْ اسْتَجَابَ لِلَّهِ وَلِرَسُولِهِ وَآمَنَ بِمَا بُعِثَ بِهِ مُحَمَّدٌ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ هَاجَرْتُ الْهِجْرَتَيْنِ كَمَا قُلْتُ وَنِلْتُ صِهْرَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَبَايَعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَوَاللَّهِ مَا عَصَيْتُهُ وَلَا غَشَشْتُهُ حَتَّى تَوَفَّاهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ
উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
উসমান বিন আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু উবাইদুল্লাহ বিন আদী ইবনুল খিয়ারকে বললেন, হে ভাতিজা, তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জীবিত পেয়েছ? সে বললো, না, তবে তাঁর জ্ঞান ও বিশ্বাস আমার নিকট এমন নির্ভেজাল ও খাঁটিভাবে পৌছেছে, যেমন খাঁটি ও নির্ভেজাল থাকে কুমারীর কুমারীত্ব তার নির্জন কক্ষে। এরপর উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু কালেমা শাহাদাত পাঠ করলেন। তারপর বললেনঃ এখন তোমরা শোন, আল্লাহ তা’আলা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সত্য দিয়ে পাঠিয়েছেন, আমি (সেই সত্যকে গ্রহণের জন্য) আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দাওয়াত গ্রহণকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছি, এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট যে বাণী এসেছে তার প্রতি ঈমান আনয়নকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছি। তারপর উভয় হিজরতে (হাবশায় ও মদীনায়) শরীক হয়েছি যেমন আগে বলেছি। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জামাতাও হয়েছি। এবং তাঁর নিকট বাইয়াতও করেছি। আল্লাহর কসম, আল্লাহ তাঁকে যেদিন তুলে নিয়েছেন, সেদিন পর্যন্ত আমি কখনো তাঁর নির্দেশ অমান্যও করিনি, তাকে ধোঁকাও দিইনি। [মুসনাদে আহমাদ : ৫২৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস