(৩) হযরত উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনা [হাদিসের সীমা (৩৭৬-৫০৫), সর্বমোট হাদিসঃ ১৩০টি]

[মোট হাদিসঃ ৩০টি] [অবশিষ্ট হাদিসঃ ৪০টি]



466 OK

(৪৬৬)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৯৬] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ نُبَيْهِ بْنِ وَهْبٍ قَالَ أَرْسَلَ عُمَرُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ إِلَى أَبَانَ بْنِ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَيُكَحِّلُ عَيْنَيْهِ وَهُوَ مُحْرِمٌ أَوْ بِأَيِّ شَيْءٍ يُكَحِّلُهُمَا وَهُوَ مُحْرِمٌ فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ أَنْ يُضَمِّدَهُمَا بِالصَّبِرِ فَإِنِّي سَمِعْتُ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يُحَدِّثُ ذَلِكَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ


নুবাইহ বিন ওয়াহব থেকে বর্ণিতঃ

উমার ইবনে উবাইদুল্লাহ উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু এর ছেলে আবানের নিকট লোক পাঠিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন যে, ইহরাম অবস্থায় চোখে সুরমা লাগাতে পারবে কি? অথবা, ইহরাম অবস্থায় চোখে কী ব্যবহার করবো? আবান এর জবাবে জানালেন যে, সাবির নামক উদ্ভিদ দ্বারা চোখে পট্টি বাঁধবেন। কেননা আমি উসমান বিন আফফানকে একথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বরাত দিয়ে বলতে শুনেছি। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৬৬]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



467 OK

(৪৬৭)

হাদিস দেখুন [৩১:৪৩৪] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ سَمِعْتُ خَالِدًا عَنْ أَبِي بِشْرٍ الْعَنْبَرِيِّ عَنْ حُمْرَانَ بْنِ أَبَانَ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ مَاتَ وَهُوَ يَعْلَمُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ


উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এই বিশ্বাসসহ মারা যায় যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৬৭]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



468 OK

(৪৬৮)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৭৬] view_link


যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا عَوْفٌ حَدَّثَنَا يَزِيدُ يَعْنِي الْفَارِسِيَّ قَالَ أَبِي أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ و حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا عَوْفٌ عَنْ يَزِيدَ قَالَ قَالَ لَنَا ابْنُ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قُلْتُ لِعُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ مَا حَمَلَكُمْ عَلَى أَنْ عَمَدْتُمْ إِلَى الْأَنْفَالِ وَهِيَ مِنْ الْمَثَانِي وَإِلَى بَرَاءَةٌ وَهِيَ مِنْ الْمِئِينَ فَقَرَنْتُمْ بَيْنَهُمَا وَلَمْ تَكْتُبُوا قَالَ ابْنُ جَعْفَرٍ بَيْنَهُمَا سَطْرًا بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ وَوَضَعْتُمُوهَا فِي السَّبْعِ الطِّوَالِ مَا حَمَلَكُمْ عَلَى ذَلِكَ قَالَ عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ مِمَّا يَأْتِي عَلَيْهِ الزَّمَانُ يُنْزَلُ عَلَيْهِ مِنْ السُّوَرِ ذَوَاتِ الْعَدَدِ وَكَانَ إِذَا أُنْزِلَ عَلَيْهِ الشَّيْءُ يَدْعُو بَعْضَ مَنْ يَكْتُبُ عِنْدَهُ يَقُولُ ضَعُوا هَذَا فِي السُّورَةِ الَّتِي يُذْكَرُ فِيهَا كَذَا وَكَذَا وَيُنْزَلُ عَلَيْهِ الْآيَاتُ فَيَقُولُ ضَعُوا هَذِهِ الْآيَاتِ فِي السُّورَةِ الَّتِي يُذْكَرُ فِيهَا كَذَا وَكَذَا وَيُنْزَلُ عَلَيْهِ الْآيَةُ فَيَقُولُ ضَعُوا هَذِهِ الْآيَةَ فِي السُّورَةِ الَّتِي يُذْكَرُ فِيهَا كَذَا وَكَذَا وَكَانَتْ الْأَنْفَالُ مِنْ أَوَائِلِ مَا أُنْزِلَ بِالْمَدِينَةِ وَبَرَاءَةٌ مِنْ آخِرِ الْقُرْآنِ فَكَانَتْ قِصَّتُهَا شَبِيهًا بِقِصَّتِهَا فَقُبِضَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَمْ يُبَيِّنْ لَنَا أَنَّهَا مِنْهَا وَظَنَنْتُ أَنَّهَا مِنْهَا فَمِنْ ثَمَّ قَرَنْتُ بَيْنَهُمَا وَلَمْ أَكْتُبْ بَيْنَهُمَا سَطْرًا بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ قَالَ ابْنُ جَعْفَرٍ وَوَضَعْتُهَا فِ السَّبْعِ الطِّوَالِ


ইবনুল আব্বাস থেকে বর্ণিতঃ

আমি উসমান বিন আফফানকে জিজ্ঞাসা করলাম, আল আনফালের মত ছোট সূরা ও আত তাওবার মত বৃহৎ সূরাকে পরস্পরের সাথে সংযুক্ত করলেন কেন? কেনইবা এই দুটোর মধ্যে “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” লিখলেন না, অথচ বৃহৎ সাতটি সূরায় বিসমিল্লাহ লিখেছেন? উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ কখনো কখনো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর বহু আয়াত সম্বলিত সূরা নাযিল হতো। যখন কোন সূরার অংশ বিশেষ নাযিল হতো তখন তিনি তার নিকটে অবস্থানরত এমন কাউকে ডাকতেন, যিনি লিখতে জানতেন। তাঁকে বলতেন, এই অংশটা অমুক বিষয় সম্বলিত সূরার অন্তর্ভুক্ত কর। কখনো কখনো তাঁর ওপর কতিপয় আয়াত নাযিল হতো। তখন তিনি বলতেন, এ আয়াতগুলিকে অমুক বিষয় সম্বলিত সূরায় লিপিবদ্ধ কর। আবার কখনো একটি আয়াত নাযিল হতো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন, এ আয়াতটিকে অমুক বিষয় সম্বলিত সূরায় অন্তর্ভুক্ত কর।

সূরা আল আনফাল ছিল মদীনায় নাযিলকৃত প্রাথমিক সূরাগুলির অন্যতম। আর আত তাওবা ছিল আল কুরআনের শেষাংশের সূরা। উভয় সূরার ঘটনাবলীতে সাদৃশ্য রয়েছে। সহসা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করলেন সূরা আত তাওবা কোথায় থাকবে সে সম্পর্কে কিছু না জানিয়েই। আমি মনে করলাম এটি আল আনফালেরই অংশ। তাই দুটিকে সংযুক্ত করলাম এবং উভয়ের মধ্যে বিসমিল্লাহও লিখিনি। (ইবনে জাফরের বর্ণনামতে) তিনি আরো বললেন যে, বড় বড় সাতটি সূরায় বিসমিল্লাহ উল্লেখ করেছি। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৬৮]


হাদিসের মান : যঈফ হাদিস



469 OK

(৪৬৯)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৮২] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَفْضَلُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَهُ


উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি শ্রেষ্ঠ, যে আল কুরআন শেখে ও শেখায়। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৬৯]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



470 OK

(৪৭০)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৮৪] view_link


হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ قَالَ قَالَ قَيْسٌ فَحَدَّثَنِي أَبُو سَهْلَةَ أَنَّ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ يَوْمَ الدَّارِ حِينَ حُصِرَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَهِدَ إِلَيَّ عَهْدًا فَأَنَا صَابِرٌ عَلَيْهِ قَالَ قَيْسٌ فَكَانُوا يَرَوْنَهُ ذَلِكَ الْيَوْمَ


কায়েস থেকে বর্ণিতঃ

আবু সাহলা আমাকে জানিয়েছেন যে, যেদিন উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ হয়ে গেলেন, সেদিন বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে একটি ব্যাপারে (ধৈর্য ধারণ) করতে আদেশ করেছেন। তা পালন করতে আমি ধৈর্য ধারণ করবো। কায়েস বলেন, সেদিন জনগণ তাকে সেই আদেশ পালন করতে দেখছিল। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৭০]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



471 OK

(৪৭১)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৯২] view_link


যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا بَهْزٌ أَخْبَرَنَا مَهْدِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي يَعْقُوبَ عَنِ الْحَسَنِ بْنِ سَعْدٍ مَوْلَى حَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ عَنْ رَبَاحٍ قَالَ زَوَّجَنِي أَهْلِي أَمَةً لَهُمْ رُومِيَّةً فَوَقَعْتُ عَلَيْهَا فَوَلَدَتْ لِي غُلَامًا أَسْوَدَ مِثْلِي فَسَمَّيْتُهُ عَبْدَ اللَّهِ ثُمَّ وَقَعْتُ عَلَيْهَا فَوَلَدَتْ لِي غُلَامًا أَسْوَدَ مِثْلِي فَسَمَّيْتُهُ عُبَيْدَ اللَّهِ ثُمَّ طَبِنَ لَهَا غُلَامٌ لِأَهْلِي رُومِيٌّ يُقَالُ لَهُ يُوحَنَّسُ فَرَاطَنَهَا بِلِسَانِهِ قَالَ فَوَلَدَتْ غُلَامًا كَأَنَّهُ وَزَغَةٌ مِنْ الْوَزَغَاتِ فَقُلْتُ لَهَا مَا هَذَا قَالَتْ هُوَ لِيُوحَنَّسَ قَالَ فَرُفِعْنَا إِلَى أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ مَهْدِيٌّ أَحْسَبُهُ قَالَ سَأَلَهُمَا فَاعْتَرَفَا فَقَالَ أَتَرْضَيَانِ أَنْ أَقْضِيَ بَيْنَكُمَا بِقَضَاءِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَضَى أَنَّ الْوَلَدَ لِلْفِرَاشِ وَلِلْعَاهِرِ الْحَجَرَ قَالَ مَهْدِيٌّ وَأَحْسَبُهُ قَالَ جَلَدَهَا وَجَلَدَهُ وَكَانَا مَمْلُوكَيْنِ حَدَّثَنَا شَيْبَانُ أَبُو مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا مَهْدِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي يَعْقُوبَ عَنِ الْحَسَنِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ رَبَاحٍ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ قَالَ فَرَفَعْتُهُمَا إِلَى أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَضَى أَنَّ الْوَلَدَ لِلْفِرَاشِ فَذَكَرَ مِثْلَهُ


রাবাহ থেকে বর্ণিতঃ

আমার পরিবার আমাকে তাদের জনৈক রোমক দাসীর সাথে বিয়ে দিল। তার গর্ভে আমারই মত কালো একটা ছেলে জন্ম নিল। আমি তার নাম রাখলাম আবদুল্লাহ। এরপরে পুনরায় তার গর্ভে আমার মত কালো আরো একটা ছেলে ভূমিষ্ঠ হলো। আমি তার নাম রাখলাম উবাইদুল্লাহ। এরপর আমার পরিবারের আর একটি রোমক গোলাম- যার নাম ইউহান্‌স- দাসীটির কাছে সুদর্শন ও উজ্জ্বল মনে হলো। (অর্থাৎ ভালো লাগলো।) গোলামটি দাসীটির সাথে তার ভাষায় কথা বললো। (অর্থাৎ রোমক ভাষায়) এরপর দাসীটি এমন একটি সন্তান জন্ম দিল যেন তা একটি গিরগিটি। আমি বললাম, এ কী? সে বললোঃ এ সন্তান ইউহানসের। এরপর আমরা আমীরুল মুমিনীন উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু এর নিকট বিষয়টি নিয়ে গেলাম।

(বর্ণনাকারী বলেনঃ আমার মনে হয়, তিনি গোলাম ও দাসীটিকে জিজ্ঞাসা করলে তারা উভয়ে (ব্যভিচারের কথা) স্বীকার করলো। তখন আমীরুল মুমিনীন বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিচার অনুসারে তোমাদের দু’জনের বিচার করি, এতে রাজী আছ? অতঃপর তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিচার করেছেন এভাবে যে, বিছানা যার সন্তান তার (অর্থাৎ বিবাহিত স্বামীর) আর ব্যভিচারীর জন্য পাথর। (বর্ণনাকারী বলেনঃ আমার যতদূর মনে হয় তিনি উভয়কে বেত্রাঘাত করেছেন। তারা উভয়েই ছিল দাস ও দাসী।)

[অর্থাৎ বিবাহিত ব্যক্তির ব্যভিচার প্রমাণিত হলে তাকে রজম করতে হবে। কিন্তু ব্যভিচারজনিত সন্তানের দায়িত্ব স্বামীর ঘাড়েই অপিত হবে অন্যান্য বৈধ সন্তানের মতই। -অনুবাদক।] [মুসনাদে আহমাদ : ৪৭১]


হাদিসের মান : যঈফ হাদিস



472 OK

(৪৭২)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৮৩] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ جَامِعِ بْنِ شَدَّادٍ قَالَ سَمِعْتُ حُمْرَانَ بْنَ أَبَانَ يُحَدِّثُ عَنْ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ أَتَمَّ الْوُضُوءَ كَمَا أَمَرَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فَالصَّلَوَاتُ الْمَكْتُوبَاتُ كَفَّارَاتٌ لِمَا بَيْنَهُنَّ


উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর আদেশ অনুসারে পূর্ণাঙ্গভাবে ওযূ করে, তার (পাঁচ ওয়াক্ত) ফারয নামাযসমূহ তার মধ্যবর্তী সকল গুনাহর জন্য কাফফারা স্বরূপ। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৭২]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



473 OK

(৪৭৩)

হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ قَالَ سَمِعْتُ عَبَّادَ بْنَ زَاهِرٍ أَبَا رُوَاعٍ قَالَ سَمِعْتُ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَخْطُبُ فَقَالَ إِنَّا وَاللَّهِ قَدْ صَحِبْنَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي السَّفَرِ وَالْحَضَرِ وَكَانَ يَعُودُ مَرْضَانَا وَيَتْبَعُ جَنَائِزَنَا وَيَغْزُو مَعَنَا وَيُوَاسِينَا بِالْقَلِيلِ وَالْكَثِيرِ وَإِنَّ نَاسًا يُعْلِمُونِي بِهِ عَسَى أَنْ لَا يَكُونَ أَحَدُهُمْ رَآهُ قَطُّ


আব্বাদ বিন যাহির আবু রু’য়া থেকে বর্ণিতঃ

আমি উসমান বিন আফফানকে ভাষণ দিতে শুনেছি। তিনি বলেছেন, আল্লাহর কসম, আমরা প্রবাসকালে ও নিজ এলাকায় বসবাসকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে থাকতাম। তিনি (সকল অবস্থায়) আমাদের মধ্যে যে রোগাক্রান্ত হতো, তাকে দেখতে আসতেন, যে মারা যেত তার জানাযায় উপস্থিত হতেন, আমাদের সাথে থেকে যুদ্ধ করতেন। কমবেশি যাই হোক তা দ্বারা আমাদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করতেন। এমন অনেক লোক আমাকে তার সম্পর্কে তথ্য জানাতো যাদের কেউ কেউ হয়তো তাকে কখনো দেখেনি।

(“কমবেশি যাই হোক” এর অর্থ দু’রকম হতে পারে, এক, বিপদাপদ কম বা বেশি যাই হোক, তাতে তিনি সহানুভূতি জানাতেন। দুই, কম হোক বা বেশি হোক সাহায্য বা উপহার সহকারে তিনি সহানুভূতি জানাতেন। -অনুবাদক) [মুসনাদে আহমাদ : ৪৭৩]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



474 OK

(৪৭৪)

হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ حَدَّثَنِي شُعَيْبٌ أَبُو شَيْبَةَ قَالَ سَمِعْتُ عَطَاءً الْخُرَاسَانِيَّ يَقُولُ سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ يَقُولُ رَأَيْتُ عُثْمَانَ قَاعِدًا فِي الْمَقَاعِدِ فَدَعَا بِطَعَامٍ مِمَّا مَسَّتْهُ النَّارُ فَأَكَلَهُ ثُمَّ قَامَ إِلَى الصَّلَاةِ فَصَلَّى ثُمَّ قَالَ عُثْمَانُ قَعَدْتُ مَقْعَدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَكَلْتُ طَعَامَ رَسُولِ اللَّهِ وَصَلَّيْتُ صَلَاةَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ


সাঈদ ইবনুল মুসাইয়াব (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু কে দেখেছি আসনে বসা। তারপর তিনি আগুনে রান্না করা খাবার আনতে আদেশ দিলেন এবং তা খেলেন, তারপর নামাযের জন্য উঠে দাঁড়ালেন এবং নামায পড়লেন। তারপর উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ন্যায় আসনে বসেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা খেতেন তা খেয়েছি এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে নামায পড়তেন সেভাবে নামায পড়েছি। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৭৪]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



475 OK

(৪৭৫)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا الضَّحَّاكُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ مَحْمُودِ بْنِ لَبِيدٍ أَنَّ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَرَادَ أَنْ يَبْنِيَ مَسْجِدَ الْمَدِينَةِ فَكَرِهَ النَّاسُ ذَاكَ وَأَحَبُّوا أَنْ يَدَعُوهُ عَلَى هَيْئَتِهِ فَقَالَ عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ بَنَى مَسْجِدًا لِلَّهِ بَنَى اللَّهُ لَهُ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ مِثْلَهُ


মাহমুদ বিন লবীদ থেকে বর্ণিতঃ

উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু ইচ্ছা করলেন মদীনার মসজিদকে পুননির্মাণ করতে। কিন্তু লোকেরা তা অপছন্দ করলো এবং ওটা যেমন আছে তেমন থাকুক এটাই তারা কামনা করতো। উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে তদ্রুপ একটি ঘর নির্মাণ করবেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৭৫]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



476 OK

(৪৭৬)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْكَبِيرِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ أَبُو بَكْرٍ الْحَنَفِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ جَعْفَرٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ مَحْمُودِ بْنِ لَبِيدٍ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ تَعَمَّدَ عَلَيَّ كَذِبًا فَلْيَتَبَوَّأْ بَيْتًا فِي النَّارِ


মাহমুদ বিন লাবীদ থেকে বর্ণিতঃ

উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে সে যেন জাহান্নামের একটি বাড়িকে নিজের বাসস্থান রূপে গ্রহণ করে।

(অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেননি বা করেননি, তা মনগড়াভাবে তিনি বলেছেন বা করেছেন বলে প্রচার করে, অথবা তিনি যা বলেছেন বা করেছেন, তা করেননি বা বলেননি বলে প্রচার করে বা বিকৃত করে। -অনুবাদক) [মুসনাদে আহমাদ : ৪৭৬]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



477 OK

(৪৭৭)

হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ حَدَّثَنَا يُونُسُ حَدَّثَنَا عَطَاءُ بْنُ فَرُّوخَ مَوْلَى الْقُرَشِيِّينَ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَدْخَلَ اللَّهُ رَجُلًا الْجَنَّةَ كَانَ سَهْلًا مُشْتَرِيًا وَبَائِعًا وَقَاضِيًا وَمُقْتَضِيًا


উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা এমন এক ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যে ক্রেতা হিসাবে, বিক্রেতা হিসাবে, বিচারক হিসাবে ও বিচার প্রার্থী হিসাবে (অর্থাৎ সকল অবস্থায়) কোমল আচরণকারী ছিল। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৭৭]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



478 OK

(৪৭৮)

হাদিস দেখুন [৩১:৪১১] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ وَعَفَّانُ الْمَعْنَى قَالَا حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلٍ قَالَ كُنَّا مَعَ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَهُوَ مَحْصُورٌ فِي الدَّارِ فَدَخَلَ مَدْخَلًا كَانَ إِذَا دَخَلَهُ يَسْمَعُ كَلَامَهُ مَنْ عَلَى الْبَلَاطِ قَالَ فَدَخَلَ ذَلِكَ الْمَدْخَلَ وَخَرَجَ إِلَيْنَا فَقَالَ إِنَّهُمْ يَتَوَعَّدُونِي بِالْقَتْلِ آنِفًا قَالَ قُلْنَا يَكْفِيكَهُمُ اللَّهُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ قَالَ وَبِمَ يَقْتُلُونَنِي إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَا يَحِلُّ دَمُ امْرِئٍ مُسْلِمٍ إِلَّا بِإِحْدَى ثَلَاثٍ رَجُلٌ كَفَرَ بَعْدَ إِسْلَامِهِ أَوْ زَنَى بَعْدَ إِحْصَانِهِ أَوْ قَتَلَ نَفْسًا فَيُقْتَلُ بِهَا فَوَاللَّهِ مَا أَحْبَبْتُ أَنَّ لِي بِدِينِي بَدَلًا مُنْذُ هَدَانِي اللَّهُ وَلَا زَنَيْتُ فِي جَاهِلِيَّةٍ وَلَا فِي إِسْلَامٍ قَطُّ وَلَا قَتَلْتُ نَفْسًا فَبِمَ يَقْتُلُونَنِي حَدَّثَنَا عَبْد اللَّهِ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْقَوَارِيرِيُّ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا أَبُو أُمَامَةَ بْنُ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ قَالَ إِنِّي لَمَعَ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فِي الدَّارِ وَهُوَ مَحْصُورٌ وَقَالَ كُنَّا نَدْخُلُ مَدْخَلًا فَذَكَرَ الْحَدِيثَ مِثْلَهُ وَقَالَ قَدْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ مِثْلَهُ أَوْ نَحْوَهُ


আবু উমামা বিন সাহল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

উসমান যখন তাঁর বাড়িতে অবরুদ্ধ, তখন আমরা তাঁর সাথে ছিলাম। অতঃপর তিনি এমন একটা কক্ষে প্রবেশ করলেন, যেখানে তিনি প্রবেশ করলে তাঁর আওয়ায প্রাসাদের ওপর অবস্থানকারীরা শুনতে পেত। তিনি সেখানে প্রবেশ করে আবার আমাদের কাছে বেরিয়ে এলেন। তিনি বললেন, অবরোধকারীরা আমাকে হত্যারও হুমকি দিচ্ছে। আমরা বললাম, হে আমীরুল মুমিনীন, আপনার পক্ষে আল্লাহই ওদের জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবেন। (অর্থাৎ প্রতিহত করবেন।) উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমাকে কোন অপরাধে তারা হত্যা করবে? আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ তিনটি কারণের যে কোন একটি ব্যতীত কোন মুসলিমকে হত্যা করা বৈধ নয়ঃ মুসলিম হওয়ার পর কাফির হওয়া, বিয়ে করার পর ব্যভিচার করা এবং কাউকে হত্যা করা। আল্লাহর কসম, আল্লাহ যেদিন আমাকে হিদায়াত করেছেন, তারপর থেকে আমি কখনো পছন্দ করিনি যে, আমার এই দীনের পরিবর্তে অন্য কোন দীন আমার হোক। জাহিলিয়াতে বা ইসলামে কখনো আমি ব্যভিচার করিনি, আর কাউকে আমি হত্যাও করিনি। তাহলে তারা কী কারণে আমাকে হত্যা করবে? [মুসনাদে আহমাদ : ৪৭৮]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



479 OK

(৪৭৯)

হাদিস দেখুন [৩১:৪০১] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْد اللَّهِ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَارِظٍ عَنْ أَبِي عُبَيْدٍ قَالَ شَهِدْتُ عَلِيًّا وَعُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا فِي يَوْمِ الْفِطْرِ وَالنَّحْرِ يُصَلِّيَانِ ثُمَّ يَنْصَرِفَانِ فَيُذَكِّرَانِ النَّاسَ فَسَمِعْتُهُمَا يَقُولَانِ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ صَوْمِ هَذَيْنِ الْيَوْمَيْنِ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ حَدَّثَنِي ابْنُ شِهَابٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ الْجُنْدَعِيِّ أَنَّهُ سَمِعَ حُمْرَانَ مَوْلَى عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ رَأَيْتُ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ عُثْمَانَ يَتَوَضَّأُ فَأَهْرَاقَ عَلَى يَدَيْهِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ اسْتَنْثَرَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ وَمَضْمَضَ ثَلَاثًا وَذَكَرَ الْحَدِيثَ مِثْلَ مَعْنَى حَدِيثِ مَعْمَرٍ


আবু উবাইদ থেকে বর্ণিতঃ

আমি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু ও উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু কে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিনে দেখেছি, তারা উভয়ে নামায পড়েই ঘুরে দাঁড়াতেন এবং জনগণকে উপদেশ দিতেন। তাদের উভয়কে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দু’দিন রোযা রাখতে নিষেধ করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৭৯]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



480 OK

(৪৮০)

সহিহ হাদিস

قَالَ وَسَمِعْتُ عَلِيًّا يَقُولُ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَبْقَى مِنْ نُسُكِكُمْ عِنْدَكُمْ شَيْءٌ بَعْدَ ثَلَاثٍ


উসমান গনি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

আর আমি হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু কেও বলতে শুনেছি যে, নবী করীম (সঃ) তিন দিন পর কোরবানির গোশত খেতে নিষেধ করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৮০]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



481 OK

(৪৮১)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا بَهْزٌ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ حَدَّثَنَا حُصَيْنٌ عَنْ عَمْرِو بْنِ جَاوَانَ قَالَ قَالَ الْأَحْنَفُ انْطَلَقْنَا حُجَّاجًا فَمَرَرْنَا بِالْمَدِينَةِ فَبَيْنَمَا نَحْنُ فِي مَنْزِلِنَا إِذْ جَاءَنَا آتٍ فَقَالَ النَّاسُ مِنْ فَزَعٍ فِي الْمَسْجِدِ فَانْطَلَقْتُ أَنَا وَصَاحِبِي فَإِذَا النَّاسُ مُجْتَمِعُونَ عَلَى نَفَرٍ فِي الْمَسْجِدِ قَالَ فَتَخَلَّلْتُهُمْ حَتَّى قُمْتُ عَلَيْهِمْ فَإِذَا عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ وَالزُّبَيْرُ وَطَلْحَةُ وَسَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ فَلَمْ يَكُنْ ذَلِكَ بِأَسْرَعَ مِنْ أَنْ جَاءَ عُثْمَانُ يَمْشِي فَقَالَ أَهَاهُنَا عَلِيٌّ قَالُوا نَعَمْ قَالَ أَهَاهُنَا الزُّبَيْرُ قَالُوا نَعَمْ قَالَ أَهَاهُنَا طَلْحَةُ قَالُوا نَعَمْ قَالَ أَهَاهُنَا سَعْدٌ قَالُوا نَعَمْ قَالَ أَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ أَتَعْلَمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ يَبْتَاعُ مِرْبَدَ بَنِي فُلَانٍ غَفَرَ اللَّهُ لَهُ فَابْتَعْتُهُ فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ إِنِّي قَدْ ابْتَعْتُهُ فَقَالَ اجْعَلْهُ فِي مَسْجِدِنَا وَأَجْرُهُ لَكَ قَالُوا نَعَمْ قَالَ أَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ أَتَعْلَمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ يَبْتَاعُ بِئْرَ رُومَةَ فَابْتَعْتُهَا بِكَذَا وَكَذَا فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ إِنِّي قَدْ ابْتَعْتُهَا يَعْنِي بِئْرَ رُومَةَ فَقَالَ اجْعَلْهَا سِقَايَةً لِلْمُسْلِمِينَ وَأَجْرُهَا لَكَ قَالُوا نَعَمْ قَالَ أَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ أَتَعْلَمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَظَرَ فِي وُجُوهِ الْقَوْمِ يَوْمَ جَيْشِ الْعُسْرَةِ فَقَالَ مَنْ يُجَهِّزُ هَؤُلَاءِ غَفَرَ اللَّهُ لَهُ فَجَهَّزْتُهُمْ حَتَّى مَا يَفْقِدُونَ خِطَامًا وَلَا عِقَالًا قَالُوا اللَّهُمَّ نَعَمْ قَالَ اللَّهُمَّ اشْهَدْ اللَّهُمَّ اشْهَدْ اللَّهُمَّ اشْهَدْ ثُمَّ انْصَرَفَ


আহনাফ থেকে বর্ণিতঃ

আমরা হজ করতে রওনা হলাম এবং মদীনা অতিক্রম করলাম। আমরা যখন আমাদের মানযিলে অবস্থান করছিলাম, তখন সহসা এক ব্যক্তি আমাদের নিকট উপস্থিত হলো। সে বললোঃ লোকেরা ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় মসজিদে অবস্থান করছে। এ কথা শুনে আমি ও আমার সাথী চলে গেলাম। অল্পক্ষণের মধ্যেই আমি তাদের সাথে মিলিত হলাম এবং তাদের সামনে দাঁড়ালাম। দেখলাম, সেখানে আলী বিন আবি তালিব, যুবাইর, তালহা ও সা’দ বিন আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু রয়েছেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু সেখানে উপস্থিত হলেন। তিনি বললেন, এখানে কি আলী আছে? লোকেরা বললোঃ হ্যাঁ। তিনি বললেন, এখানে কি যুবাইর আছে? লোকেরা বললোঃ হ্যাঁ। তিনি বললেন, এখানে কি তালহা আছে? লোকেরা বললোঃ হ্যাঁ। তিনি বললেন, এখানে কি সা’দ আছে? লোকেরা বললোঃ হ্যাঁ।

তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ করে তোমাদেরকে বলছি, যিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই, তোমরা কি জান যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেনঃ যে ব্যক্তি অমুক গোত্রের উম্মুক্ত প্রান্তরটি খরিদ করবে, আল্লাহ তাকে মাফ করে দেবেন। তখন আমি সেটি খরিদ করলাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত হলাম। আমি বললামঃ আমি সেই প্রান্তরটি খরিদ করেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ওটাকে আমাদের মসজিদের অন্তর্ভুক্ত কর, তুমিই এর সওয়াব পাবে। লোকেরা বললোঃ হ্যাঁ, জানি।

উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু পুনরায় বললেনঃ আমি তোমাদেরকে আল্লাহর শপথ করে বলছি, যিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই, তোমরা কি জান যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, রুমার কূপটি কে খরিদ করবে? তখন আমি সেটা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে খরিদ করলাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এলাম এবং বললামঃ আমি রুমার কূপটি খরিদ করেছি। তিনি বললেনঃ ওটাকে মুসলিমদের খাবার পানির উৎসরূপে নির্ধারণ কর এবং এর সাওয়াব তুমিই পাবে। লোকেরা বললোঃ হ্যাঁ, জানি, এ সবই সত্য।

উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু আবার বললেনঃ তোমাদেরকে আল্লাহর শপথ করে জিজ্ঞাসা করছি, যিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই, তোমরা কি জান যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম দুর্যোগের সেনাবাহিনী সংগঠনের দিনে মুসলিমদের দিকে দৃষ্টি দিয়ে বললেনঃ যে ব্যক্তি এই মুসলিমদেরকে যুদ্ধের সাজ সরঞ্জাম সজ্জিত করবে, আল্লাহ তার গুনাহ মাফ করে দেবেন। তখন আমি তাদেরকে যুদ্ধ সাজে সজ্জিত করলাম। এমনকি তাদের একটি লাগাম, ধনুকের জ্যা ও এক গাছি রাশিরও অভাব রইল না। লোকেরা বললোঃ হ্যাঁ, জানি। এসবই আপনি করেছেন। উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ হে আল্লাহ, তুমি সাক্ষী থাক, হে আল্লাহ, তুমি সাক্ষী থাক, হে আল্লাহ, তুমি সাক্ষী থাক। অতঃপর তিনি চলে গেলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৮১]


[ইবনু হিব্বান-৬৯২০, ইবনু খুযাইমা-২৪৮৭, নাসায়ী-৪৬/৬, ২৩৩, ২৩৪]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



482 OK

(৪৮২)

হাদিস দেখুন [৩১:২৯৬] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا رَوْحٌ حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ عَتِيقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَابَيْهِ عَنْ بَعْضِ بَنِي يَعْلَى عَنْ يَعْلَى بْنِ أُمَيَّةَ قَالَ طُفْتُ مَعَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَاسْتَلَمَ الرُّكْنَ قَالَ يَعْلَى فَكُنْتُ مِمَّا يَلِي الْبَيْتَ فَلَمَّا بَلَغْتُ الرُّكْنَ الْغَرْبِيَّ الَّذِي يَلِي الْأَسْوَدَ جَرَرْتُ بِيَدِهِ لِيَسْتَلِمَ فَقَالَ مَا شَأْنُكَ فَقُلْتُ أَلَا تَسْتَلِمُ قَالَ أَلَمْ تَطُفْ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ بَلَى فَقَالَ أَفَرَأَيْتَهُ يَسْتَلِمُ هَذَيْنِ الرُّكْنَيْنِ الْغَرْبِيَّيْنِ قَالَ فَقُلْتُ لَا قَالَ أَفَلَيْسَ لَكَ فِيهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ قَالَ قُلْتُ بَلَى قَالَ فَانْفُذْ عَنْكَ


ইয়ালা বিন উমাইয়া থেকে বর্ণিতঃ

আমি উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু এর সাথে তাওয়াফ করেছিলাম। তখন তিনি রুকনে ইয়ামানীকে স্পর্শ করলেন। ইয়ালা বলেন, আমি আল্লাহর ঘরের সংলগ্ন স্থানে ছিলাম। যখন রুকনে হাজরে আসওয়াদ সংলগ্ন পশ্চিমাংশে পৌছলাম, তার হাত টেনে ধরলাম, যাতে উনি ওটা স্পর্শ করেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার কী হয়েছে? আমি বললামঃ স্পর্শ করবেন না? তিনি বললেন, তুমি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তাওয়াফ করনি? আমি বললামঃ করেছি। তিনি বললেন, পশ্চিম পাশের এই দুই রুকনকে কি স্পর্শ করতে তাকে দেখেছ? আমি বললাম, না। তিনি বললেনঃ তবে কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মধ্যে তোমার জন্য উত্তম আদর্শ নেই? আমি বললামঃ আছে। তিনি বললেন, তাহলে এগিয়ে যাও। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৮২]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



483 OK

(৪৮৩)

হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُقْرِئُ حَدَّثَنَا حَيْوَةُ أَنْبَأَنَا أَبُو عَقِيلٍ أَنَّهُ سَمِعَ الْحَارِثَ مَوْلَى عُثْمَانَ يَقُولُ جَلَسَ عُثْمَانُ يَوْمًا وَجَلَسْنَا مَعَهُ فَجَاءَهُ الْمُؤَذِّنُ فَدَعَا بِمَاءٍ فِي إِنَاءٍ أَظُنُّهُ سَيَكُونُ فِيهِ مُدٌّ فَتَوَضَّأَ ثُمَّ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَوَضَّأُ وُضُوئِي هَذَا ثُمَّ قَالَ وَمَنْ تَوَضَّأَ وُضُوئِي ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى صَلَاةَ الظُّهْرِ غُفِرَ لَهُ مَا كَانَ بَيْنَهَا وَبَيْنَ الصُّبْحِ ثُمَّ صَلَّى الْعَصْرَ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهَا وَبَيْنَ صَلَاةِ الظُّهْرِ ثُمَّ صَلَّى الْمَغْرِبَ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهَا وَبَيْنَ صَلَاةِ الْعَصْرِ ثُمَّ صَلَّى الْعِشَاءَ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهَا وَبَيْنَ صَلَاةِ الْمَغْرِبِ ثُمَّ لَعَلَّهُ أَنْ يَبِيتَ يَتَمَرَّغُ لَيْلَتَهُ ثُمَّ إِنْ قَامَ فَتَوَضَّأَ وَصَلَّى الصُّبْحَ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهَا وَبَيْنَ صَلَاةِ الْعِشَاءِ وَهُنَّ الْحَسَنَاتُ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ قَالُوا هَذِهِ الْحَسَنَاتُ فَمَا الْبَاقِيَاتُ يَا عُثْمَانُ قَالَ هُنَّ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَاللَّهُ أَكْبَرُ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ


উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু এর মুক্ত দাস হারেস থেকে বর্ণিতঃ

একদিন উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বসে ছিলেন, আমরাও তার সাথে বসেছিলাম। তখন তাঁর কাছে ঘোষণাকারী এল। তিনি এমন একটি পাত্রে করে পানি আনতে বললেন, যাতে আমার মনে হয়, এক মুদ পরিমাণ থাকতে পারে। অতঃপর তিনি ওযূ করলেন, তারপর বললেন, আমি যে রকম ওযূ করলাম, ঠিক এ রকম ওযূ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে করতে দেখেছি। ওযূ করে তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার এই ওযূর মত ওযূ করবে, তারপর দাঁড়িয়ে যোহরের নামায পড়বে, তার ফযর ও যোহরের মাঝখানে সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। তারপর (একই রকম ওযূ করে) আসরের নামায পড়লে তার যোহর ও আসরের মাঝখানের সমস্ত গুনাহ মাফ হয়ে যাবে। তারপর মাগরিবের নামায পড়লে তার মাগরিব ও আসরের মাঝখানের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। তারপর ইশার নামায পড়লে তার মাগরিব ও ইশার মাঝখানের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। তারপর হয়তো সে রাত্রে মুখ দিয়ে প্রচুর লালা ঝরাবে। তারপর যদি সে ঘুম থেকে উঠে ওযূ করে ও ফজরের নামায পড়ে, তার ইশা ও ফজরের মাঝখানের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। এগুলো (ওযূ ও নামায) সৎকাজ, যা খারাপ কাজকে নষ্ট করে দেয়। লোকেরা বললোঃ (বুঝলাম) এগুলো সৎকাজ। তাহলে হে উসমান, স্থায়ী কাজগুলো কী কী? তিনি বললেনঃ

لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَاللَّهُ أَكْبَرُ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ

(অর্থাৎ নামায শেষে নিয়মিত এ তাসবীহগুলো পাঠ করা।) [মুসনাদে আহমাদ : ৪৮৩]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



484 OK

(৪৮৪)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ حَدَّثَنَا لَيْثٌ حَدَّثَنِي عُقَيْلٌ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ أَنَّ سَعِيدَ بْنَ الْعَاصِ أَخْبَرَهُ أَنَّ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعُثْمَانَ حَدَّثَاهُ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ اسْتَأْذَنَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ مُضْطَجِعٌ عَلَى فِرَاشِهِ لَابِسٌ مِرْطَ عَائِشَةَ فَأَذِنَ لِأَبِي بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَهُوَ كَذَلِكَ فَقَضَى إِلَيْهِ حَاجَتَهُ ثُمَّ انْصَرَفَ ثُمَّ اسْتَأْذَنَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَأَذِنَ لَهُ وَهُوَ عَلَى تِلْكَ الْحَالِ فَقَضَى إِلَيْهِ حَاجَتَهُ ثُمَّ انْصَرَفَ قَالَ عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ثُمَّ اسْتَأْذَنْتُ عَلَيْهِ فَجَلَسَ وَقَالَ لِعَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا اجْمَعِي عَلَيْكِ ثِيَابَكِ فَقَضَى إِلَيَّ حَاجَتِي ثُمَّ انْصَرَفْتُ قَالَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا لِي لَمْ أَرَكَ فَزِعْتَ لِأَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ كَمَا فَزِعْتَ لِعُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ عُثْمَانَ رَجُلٌ حَيِيٌّ وَإِنِّي خَشِيتُ إِنْ أَذِنْتُ لَهُ عَلَى تِلْكَ الْحَالِ أَنْ لَا يَبْلُغَ إِلَيَّ فِي حَاجَتِهِ و قَالَ اللَّيْثُ وَقَالَ جَمَاعَةُ النَّاسِ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِعَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا أَلَا أَسْتَحْيِي مِمَّنْ يَسْتَحْيِي مِنْهُ الْمَلَائِكَةُ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ حَدَّثَنَا أَبِي عَنْ صَالِحٍ قَالَ ابْنُ شِهَابٍ أَخْبَرَنِي يَحْيَى بْنُ سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ أَنَّ سَعِيدَ بْنَ الْعَاصِ أَخْبَرَهُ أَنَّ عُثْمَانَ وَعَائِشَةَ حَدَّثَاهُ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ اسْتَأْذَنَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ مُضْطَجِعٌ عَلَى فِرَاشِهِ لَابِسٌ مِرْطَ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا فَذَكَرَ مَعْنَى حَدِيثِ عُقَيْلٍ


উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিনী আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা ও উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু জানিয়েছেন যে, (একবার) আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সাক্ষাতের অনুমতি চাইলেন। তখন তিনি আয়িশার চাদর গায়ে জড়িয়ে শুয়েছিলেন। তিনি ঐ অবস্থাতেই আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু কে অনুমতি দিলেন। আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তার নিকট যা বলার ছিল তা বলে চলে গেলেন। এরপর উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু অনুমতি চাইলেন। তাঁকেও তিনি ঐ অবস্থায় অনুমতি দিলেন। তিনিও প্রয়োজনীয় কথা বলে চলে গেলেন। উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এরপর আমি তার সাথে সাক্ষাতের অনুমতি চাইলাম। তিনি উঠে বসলেন এবং আয়িশাকে বললেনঃ তোমার কাপড় চোপড় দিয়ে নিজকে আচ্ছাদিত কর। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে প্রয়োজনীয় কথাবার্তা বললেন। তারপর আমি চলে গেলাম।

আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! ব্যাপার কি, আপনাকে তো আবু বকর ও উমারের জন্য এতটা উদ্বিগ্ন হতে দেখলাম না, যতটা উসমানের জন্য হলেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ উসমান একজন অতিশয় লাজুক ব্যাক্তি। আমি আশংকা করেছিলাম যে, তাকে যদি আমার ঐ অবস্থায় (শুয়ে থাকা অবস্থায়) আসবার অনুমতি দেই, তাহলে হয়ত সে আমার সাথে তার প্রয়োজনীয় কথা বলতে পারবে না।

(এই হাদীসের জনৈক বর্ণনাকারী) লায়স বলেন, একদল লোকের বর্ণনা অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যে ব্যাক্তিকে ফেরেশতারা পর্যন্ত লজ্জা পায়, আমি কি তাকে লজ্জা পাব না? [মুসনাদে আহমাদ : ৪৮৪]


[মুসলিম-২৪০২]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



485 OK

(৪৮৫)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يُونُسُ حَدَّثَنَا لَيْثٌ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ يَعْنِي ابْنَ أَبِي سَلَمَةَ وَنَافِعِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ عَنْ مُعَاذِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ التَّيْمِيِّ عَنْ حُمْرَانَ مَوْلَى عُثْمَانَ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ تَوَضَّأَ فَأَسْبَغَ الْوُضُوءَ ثُمَّ مَشَى إِلَى صَلَاةٍ مَكْتُوبَةٍ فَصَلَّاهَا غُفِرَ لَهُ ذَنْبُهُ


হজরত উসমান গণি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ভালোভাবে অজু করে এবং ফরজ সালাতের জন্য রওয়ানা হয় এবং তা আদায় করে, আল্লাহ তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৮৫]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



486 OK

(৪৮৬)

যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَوْهَبٍ أَخْبَرَنِي عَمِّي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنُ مَوْهَبٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ رَاحَ عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ إِلَى مَكَّةَ حَاجًّا وَدَخَلَتْ عَلَى مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرِ بْنِ أَبِي طَالِبٍ امْرَأَتُهُ فَبَاتَ مَعَهَا حَتَّى أَصْبَحَ ثُمَّ غَدَا عَلَيْهِ رَدْعُ الطِّيبِ وَمِلْحَفَةٌ مُعَصْفَرَةٌ مُفْدَمَةٌ فَأَدْرَكَ النَّاسَ بِمَلَلٍ قَبْلَ أَنْ يَرُوحُوا فَلَمَّا رَآهُ عُثْمَانُ انْتَهَرَ وَأَفَّفَ وَقَالَ أَتَلْبَسُ الْمُعَصْفَرَ وَقَدْ نَهَى عَنْهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لَهُ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَنْهَهُ وَلَا إِيَّاكَ إِنَّمَا نَهَانِي


আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একবার উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু হজ্জ করতে মক্কায় গেলেন। সেই সময় একদিন জাফর বিন আবু তালিবের ছেলে মুহাম্মাদের নিকট তাঁর স্ত্রী গেল এবং মুহাম্মাদ তাঁর কাছে সাথে রাত যাপন করলো এবং ভোর পর্যন্ত অবস্থান করলো। তারপর সকাল বেলা সে উসমানের কাছে গেল। গায়ে জাফরানী সুগন্ধি মেখে ও হলুদ রঙের আবরণীতে শরীরের সম্মুখভাগ আবৃত করে। সেখানে উপস্থিত লোকেরা বিদায় হওয়ার আগে এই দৃশ্য দেখে বিরক্তি বোধ করলো। উসমান যখন মুহাম্মাদকে দেখলেন, তখন বিরক্তি সহকারে উফ্‌ আফ্‌ করতে লাগলেন এবং বললেন, তুমি হলুদ রঙের কাপড় পর? অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওটা পরতে নিষেধ করেছেন। তখন আলী ইবনে আবি তালেব তাকে বললেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকেও নিষেধ করেননি, তোমাকেও নিষেধ করেননি। নিষেধ করেছেন শুধু আমাকে। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৮৬]


হাদিসের মান : যঈফ হাদিস



487 OK

(৪৮৭)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْد اللَّهِ حَدَّثَنِي أَبِي وَأَبُو خَيْثَمَةَ قَالَا حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ قَالَ أَبِي فِي حَدِيثِهِ قَالَ أَخْبَرَنَا ابْنُ أَخِي ابْنِ شِهَابٍ وَقَالَ أَبُو خَيْثَمَةَ حَدَّثَنِي عَنْ عَمِّهِ قَالَ أَخْبَرَنِي صَالِحُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي فَرْوَةَ أَنَّ عَامِرَ بْنَ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَانَ بْنَ عُثْمَانَ يَقُولُ قَالَ عُثْمَانُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ أَرَأَيْتَ لَوْ كَانَ بِفِنَاءِ أَحَدِكُمْ نَهَرٌ يَجْرِي يَغْتَسِلُ مِنْهُ كُلَّ يَوْمٍ خَمْسَ مَرَّاتٍ مَا كَانَ يَبْقَى مِنْ دَرَنِهِ قَالُوا لَا شَيْءَ قَالَ إِنَّ الصَّلَوَاتِ تُذْهِبُ الذُّنُوبَ كَمَا يُذْهِبُ الْمَاءُ الدَّرَنَ


উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু এর ছেলে আবান থেকে বর্ণিতঃ

উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ ভেবে দেখেছ কি, তোমাদের কারো বাড়ির পাশ দিয়ে যদি একটা নদী প্রবাহিত থাকে এবং সে তাতে প্রতিদিন পাঁচবার গোসল করে, তাহলে তার শরীরে কোন ময়লা অবশিষ্ট থাকতে পারে কি? লোকেরা বললোঃ না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “পানি যেভাবে ময়লা দূর করে, নামায সেভাবে পাপ দূর করে দেয়।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪৮৭]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



488 OK

(৪৮৮)

যঈফ হাদিস

قَالَ أَبُو عَبْد الرَّحْمَنِ وَجَدْتُ فِي كِتَابِ أَبِي حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْأَسْوَدِ عَنْ حُصَيْنِ بْنِ عُمَرَ عَنْ مُخَارِقِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَابِرٍ الْأَحْمَسِيِّ عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ غَشَّ الْعَرَبَ لَمْ يَدْخُلْ فِي شَفَاعَتِي وَلَمْ تَنَلْهُ مَوَدَّتِي


উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

যে ব্যক্তি আরবদেরকে ধোকা দেবে সে আমার শাফায়াতের (সুপারিশ) অন্তর্ভুক্ত হবে না এবং আমার ভালোবাসাও পাবে না। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৮৮]


হাদিসের মান : যঈফ হাদিস



489 OK

(৪৮৯)

হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْد اللَّهِ حَدَّثَنِي عَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدٍ وَأَبُو يَحْيَى الْبَزَّازُ قَالَا حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ نُصَيْرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنِ الْعَوَّامِ بْنِ مُرَاجِمٍ مِنْ بَنِي قَيْسِ بْنِ ثَعْلَبَةَ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ عَنْ عُثْمَانَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ الْجَمَّاءَ لَتُقَصُّ مِنْ الْقَرْنَاءِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ


উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন শিংবিহীন মেষের জন্য শিংওয়ালা মেষের কাছ থেকে বদলা আদায় করা হবে। (অর্থাৎ শিংওয়ালা মেষ দুনিয়ায় শিংবিহীন মেষকে গুতো দিয়ে যে যুলম করেছে, কিয়ামতের দিন সেই যুলমের প্রতিশোধ নেয়া হবে।) [মুসনাদে আহমাদ : ৪৮৯]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



490 OK

(৪৯০)

যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْد اللَّهِ حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا مُبَارَكُ بْنُ فَضَالَةَ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ قَالَ شَهِدْتُ عُثْمَانَ يَأْمُرُ فِي خُطْبَتِهِ بِقَتْلِ الْكِلَابِ وَذَبْحِ الْحَمَامِ


হাসান থেকে বর্ণিতঃ

আমি উপস্থিত থেকে শুনেছি, উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর ভাষণে কুকুর হত্যা করা ও কবুতর যবেহ করার আদেশ দিয়েছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৯০]


হাদিসের মান : যঈফ হাদিস



491 OK

(৪৯১)

হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْد اللَّهِ حَدَّثَنِي عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنْ مُغِيرَةَ عَنْ أُمِّ مُوسَى قَالَتْ كَانَ عُثْمَانُ مِنْ أَجْمَلِ النَّاسِ


উম্মু মূসা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

উসমান ছিলেন সর্বাধিক সুদর্শন লোকদের অন্যতম। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৯১]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



492 OK

(৪৯২)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْد اللَّهِ حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ أَبِيهِ قَالَ كُنْتُ أُصَلِّي فَمَرَّ رَجُلٌ بَيْنَ يَدَيَّ فَمَنَعْتُهُ فَأَبَى فَسَأَلْتُ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ فَقَالَ لَا يَضُرُّكَ يَا ابْنَ أَخِي


ইবরাহীম বিন সা’দ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

আমার আব্বা তাঁর আব্বা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি (আমার দাদা) বলেনঃ আমি নামায পড়ছিলাম, এ সময়ে এক ব্যক্তি আমার সামনে দিয়ে যাচ্ছিল। আমি তাকে নিষেধ করলাম। কিন্তু সে তা মানলো না। বিষয়টি সম্পর্কে আমি উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেনঃ হে ভাতিজা, এতে তোমার কোন ক্ষতি নেই। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৯২]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



493 OK

(৪৯৩)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْد اللَّهِ حَدَّثَنَا سُوَيْدٌ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ عُثْمَانُ إِنْ وَجَدْتُمْ فِي كِتَابِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ تَضَعُوا رِجْلِي فِي الْقَيْدِ فَضَعُوهَا


ইবরাহীম বিন সা’দ থেকে বর্ণিতঃ

আমার পিতা আমার দাদার কাছ থেকে আমাকে জানিয়েছেন যে, উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু একবার বললেনঃ তোমরা যদি আল্লাহর কিতাবে প্রমাণ পাও যে, তোমরা আমার পায়ে শেকল পরাতে পার, তাহলে পরাও। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৯৩]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



494 OK

(৪৯৪)

হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْد اللَّهِ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ الْبَصْرِيُّ حَدَّثَنَا الْمُغِيرَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ الْمَخْزُومِيُّ حَدَّثَنِي أَبِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْحَارِثِ عَنْ زَيْدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ حُسَيْنٍ عَنْ أَبِيهِ عَلِيِّ بْنِ حُسَيْنٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي رَافِعٍ مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَفَ بِعَرَفَةَ وَهُوَ مُرْدِفٌ أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ فَقَالَ هَذَا الْمَوْقِفُ وَكُلُّ عَرَفَةَ مَوْقِفٌ ثُمَّ دَفَعَ يَسِيرُ الْعَنَقَ وَجَعَلَ النَّاسُ يَضْرِبُونَ يَمِينًا وَشِمَالًا وَهُوَ يَلْتَفِتُ وَيَقُولُ السَّكِينَةَ أَيُّهَا النَّاسُ السَّكِينَةَ أَيُّهَا النَّاسُ حَتَّى جَاءَ الْمُزْدَلِفَةَ وَجَمَعَ بَيْنَ الصَّلَاتَيْنِ ثُمَّ وَقَفَ بِالْمُزْدَلِفَةِ فَوَقَفَ عَلَى قُزَحَ وَأَرْدَفَ الْفَضْلَ بْنَ الْعَبَّاسِ وَقَالَ هَذَا الْمَوْقِفُ وَكُلُّ مُزْدَلِفَةَ مَوْقِفٌ ثُمَّ دَفَعَ وَجَعَلَ يَسِيرُ الْعَنَقَ وَالنَّاسُ يَضْرِبُونَ يَمِينًا وَشِمَالًا وَهُوَ يَلْتَفِتُ وَيَقُولُ السَّكِينَةَ أَيُّهَا النَّاسُ السَّكِينَةَ وَذَكَرَ الْحَدِيثَ بِطُولِهِ


উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুক্ত গোলাম আবু রাফে’র ছেলে উবায়দুল্লাহ আলী বিন আবী তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসামাকে নিজের পেছনে বসিয়ে আরাফাতে অবস্থান করলেন এবং বললেন, এটা অবস্থানস্থল এবং সমগ্র আরাফাতই অবস্থান স্থল। অতঃপর তিনি (তার উটনীকে) ধাক্কা দিয়ে দ্রুত চললেন এবং লোকেরা ডানে ও বামে যাত্রা শুরু করলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলেনঃ হে জনতা, প্রশান্তি, হে জনতা, প্রশান্তি। অবশেষে মুযদালিফায় এলেন এবং দুই ওয়াক্তের নামায একত্রে পড়লেন। তারপর মুযদালিফায় অবস্থান করলেন এবং কুযাহতে অবস্থান করলেন। পেছনে বসিয়ে রাখলেন ফযল বিন আব্বাসকে। বললেনঃ এটা অবস্থানস্থল এবং সমগ্র মুযদালিফাই অবস্থানস্থল। অতঃপর পুনরায় (উটনীকে) ধাক্কা দিয়ে দ্রুত চললেন এবং জনতা ডানে ও বামে চলতে লাগলো। তিনি তাদের দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলেন, “হে জনতা, প্রশান্তি, প্রশান্তি”। অতঃপর বর্ণনাকারী পুরো হাদীস সবিস্তারে বর্ণনা করলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৯৪]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



495 OK

(৪৯৫)

যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْد اللَّهِ حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ أَبِي الْيَعْفُورِ الْعَبْدِيُّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ مُسْلِمٍ أَبِي سَعِيدٍ مَوْلَى عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ أَنَّ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ أَعْتَقَ عِشْرِينَ مَمْلُوكًا وَدَعَا بِسَرَاوِيلَ فَشَدَّهَا عَلَيْهِ وَلَمْ يَلْبَسْهَا فِي جَاهِلِيَّةٍ وَلَا إِسْلَامٍ وَقَالَ إِنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْبَارِحَةَ فِي الْمَنَامِ وَرَأَيْتُ أَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا وَإِنَّهُمْ قَالُوا لِي اصْبِرْ فَإِنَّكَ تُفْطِرُ عِنْدَنَا الْقَابِلَةَ ثُمَّ دَعَا بِمُصْحَفٍ فَنَشَرَهُ بَيْنَ يَدَيْهِ فَقُتِلَ وَهُوَ بَيْنَ يَدَيْهِ


সমানের মুক্ত গোলাম আবু সাঈদ থেকে বর্ণিতঃ

উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বিশটি গোলাম মুক্ত করলেন এবং পাজামা আনতে বললেন ও তা পরে বাঁধলেন। অথচ ইতিপূর্বে জাহিলিয়াতের যুগে তিনি পাজামা পরেননি, মুসলিম হওয়ার পরেও পরেননি। তারপর তিনি বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গতরাতে স্বপ্নে দেখেছি। আবু বাকর ও উমারকেও দেখেছি। তাঁরা আমাকে বললেনঃ ধৈর্য ধারণ কর, তুমি অচিরেই আমাদের কাছে ইফতার করবে। অতঃপর উসমান কুরআন শরীফ আনতে বললেন এবং তা নিজের সামনে খুললেন। তৎক্ষণাত তিনি নিহত হলেন। তখনো কুরআন তাঁর সামনে ছিল। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৯৫]


হাদিসের মান : যঈফ হাদিস