
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ عَنْ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ نَادَى رَجُلٌ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَيُصَلِّي أَحَدُنَا فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ قَالَ أَوَكُلُّكُمْ يَجِدُ ثَوْبَيْنِ
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলো, “আমাদের কেউ কি এক কাপড় পরে সালাত আদায় করতে পারবে?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমাদের প্রত্যেকের কি দুটি করে কাপড় আছে?” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৮৫২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ عَنْ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَأَسْلَمُ وَغِفَارٌ وَشَيْءٌ مِنْ مُزَيْنَةَ وَجُهَيْنَةَ أَوْ شَيْءٌ مِنْ جُهَيْنَةَ وَمُزَيْنَةَ خَيْرٌ عِنْدَ اللَّهِ قَالَ أَحْسِبُهُ قَالَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ أَسَدٍ وَغَطَفَانَ وَهَوَازِنَ وَتَمِيمٍ
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কিয়ামতের দিন আসলাম গোত্রের লোক আর গাফফার, মুজাইনা এবং জুহাইনা গোত্রের কিছু লোক, আল্লাহর কাছে বনু আসাদ, বনু আজফান, হাওয়াজিন ও তামিম গোত্রের লোকদের চেয়ে উত্তম হবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৮৫৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ عَنْ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ أَبُو الْقَاسِمِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ فِي الْجُمُعَةِ لَسَاعَةً لَا يُوَافِقُهَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ قَائِمٌ يُصَلِّي يَسْأَلُ اللَّهَ خَيْرًا إِلَّا أَعْطَاهُ اللَّهُ إِيَّاهُ و قَالَ بِيَدِهِ قُلْنَا يُقَلِّلُهَا يُزَهِّدُهَا
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “শুক্রবারে এমন একটি সময় আছে, যখন কোনো মুসলিম বান্দা নামাজে দাঁড়িয়ে আল্লাহর কাছে কোনো কল্যাণ প্রার্থনা করে, তখন আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই তাকে তা দান করেন।” আর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাত দিয়ে ইশারা করে বুঝালেন যে, এই সময়টি খুবই সংক্ষিপ্ত। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৮৫৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ عَنْ مُحَمَّدٍ قَالَ إِمَّا تَفَاخَرُوا وَإِمَّا تَذَاكَرُوا الرِّجَالُ أَكْثَرُ أَمْ النِّسَاءُ فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ أَوَ لَمْ يَقُلْ أَبُو الْقَاسِمِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ أَوَّلَ زُمْرَةٍ تَدْخُلُ الْجَنَّةَ عَلَى صُورَةِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ وَالَّتِي تَلِيهَا عَلَى أَضْوَإِ كَوْكَبٍ دُرِّيٍّ فِي السَّمَاءِ لِكُلِّ امْرِئٍ مِنْهُمْ زَوْجَتَانِ ثِنْتَانِ يُرَى مُخُّ سَاقِهِمَا مِنْ وَرَاءِ اللَّحْمِ وَمَا فِي الْجَنَّةِ أَعْزَبُ
হজরত আইয়ুব আন-মুহাম্মদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার লোকেরা নিজেদের মধ্যে তর্ক করেছিলো যে, জান্নাতে পুরুষের সংখ্যা বেশি হবে, নাকি নারীর সংখ্যা বেশি হবে। তখন হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি বলেননি যে, “জান্নাতে প্রবেশকারী প্রথম দলটি হবে চৌদ্দ তারিখের রাতের চাঁদের মতো উজ্জ্বল মুখমন্ডল এবং পরবর্তী দলটি হবে আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল মুখমন্ডল। তাদের প্রত্যেকের দুটি করে স্ত্রী থাকবে, তাদের পায়ের মাংস তাদের শরীলের বাইরে থেকে দৃশ্যমান হবে এবং জান্নাতে কোনো ব্যক্তি একা থাকবে না।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৮৫৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ أَخْبَرَنَا أَيُّوبُ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى أَنْ يُشْرَبَ مِنْ فِي السِّقَاءِ قَالَ أَيُّوبُ فَأُنْبِئْتُ أَنَّ رَجُلًا شَرِبَ مِنْ فِي السِّقَاءِ فَخَرَجَتْ حَيَّةٌ
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মশকের মুখে মুখ রেখে পানি পান করতে নিষেধ করেছেন। বর্ণনাকারী আইয়ুব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমাকে বলা হয়েছে যে, এক ব্যক্তি মশকের মুখে মুখ রেখে পানি পান করলে, তা থেকে একটি সাপ বেরিয়ে আসে। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৮৫৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَمْنَعَنَّ رَجُلٌ جَارَهُ أَنْ يَجْعَلَ خَشَبَتَهُ أَوْ قَالَ خَشَبَةً فِي جِدَارِهِ
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কেউ যেনো তার প্রতিবেশীকে তার দেয়ালে কাঠ (বা বিম) রাখতে বাধা না দেয়।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৮৫৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا صَدَقَةَ إِلَّا عَنْ ظَهْرِ غِنًى وَالْيَدُ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِنْ الْيَدِ السُّفْلَى وَابْدَأْ بِمَنْ تَعُولُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন, “প্রকৃত দান হলো অন্তরের সন্তুষ্টি। নিচের হাতের চেয়ে ওপরের হাত উত্তম। আর যাদের লালন-পালনের দায়িত্ব তুমি করছো, তাদের থেকে দান করা শুরু করো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৮৫৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ عَنْ عُمَارَةَ عَنْ أَبِي زُرْعَةَ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ أَتَى جِبْرِيلُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذِهِ خَدِيجَةُ قَدْ أَتَتْكَ بِإِنَاءٍ مَعَهَا فِيهِ إِدَامٌ أَوْ طَعَامٌ أَوْ شَرَابٌ فَإِذَا هِيَ أَتَتْكَ فَاقْرَأْ عَلَيْهَا السَّلَامَ مِنْ رَبِّهَا وَمِنِّي وَبَشِّرْهَا بِبَيْتٍ فِي الْجَنَّةِ مِنْ قَصَبٍ لَا صَخَبَ فِيهِ وَلَا نَصَبَ
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার হযরত জিবরাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বললেন, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! ঐ যে খাদিজা আপনার কাছে খাবার ও পানীয়ের পাত্র নিয়ে আসছে। যখন সে আপনার কাছে পৌঁছাবে, তখন তাকে তার প্রভুর এবং আমার পক্ষ থেকে সালাম জানাবেন। আর তাকে জান্নাতে কাঠের তৈরি একটি ঘরের সুসংবাদ দিবেন, যেখানে কোনো কোলাহল বা ক্লান্তি থাকবে না।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৮৫৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ عَنْ عُمَارَةَ عَنْ أَبِي زُرْعَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ انْتَدَبَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لِمَنْ خَرَجَ فِي سَبِيلِهِ لَا يَخْرُجُ إِلَّا جِهَادًا فِي سَبِيلِي وَإِيمَانًا بِي وَتَصْدِيقًا بِرَسُولِي فَهُوَ عَلَيَّ ضَامِنٌ أَنْ أُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ أَوْ أُرْجِعَهُ إِلَى مَسْكَنِهِ الَّذِي خَرَجَ مِنْهُ نَائِلًا مَا نَالَ مِنْ أَجْرٍ أَوْ غَنِيمَةٍ وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ مَا مِنْ كَلْمٍ يُكْلَمُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ إِلَّا جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَهَيْئَتِهِ يَوْمَ كُلِمَ لَوْنُهُ لَوْنُ دَمٍ وَرِيحُهُ رِيحُ مِسْكٍ وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَوْلَا أَنْ أَشُقَّ عَلَى الْمُسْلِمِينَ مَا قَعَدْتُ خِلَافَ سَرِيَّةٍ تَغْزُو فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَبَدًا وَلَكِنِّي لَا أَجِدُ سَعَةً فَيَتْبَعُونِي وَلَا تَطِيبُ أَنْفُسُهُمْ فَيَتَخَلَّفُونَ بَعْدِي وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَوَدِدْتُ أَنْ أَغْزُوَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَأُقْتَلَ ثُمَّ أَغْزُوَ فَأُقْتَلَ ثُمَّ أَغْزُوَ فَأُقْتَلَ
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে জিহাদে বের হয়, আল্লাহ তার দায়িত্ব নিজের উপর নিয়েছেন যে, যদি সে কেবল যুদ্ধের উদ্দেশ্যে বের হয় এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে এবং আল্লাহর রাসূলের সত্যতা স্বীকার করে, তাহলে আল্লাহর কর্তব্য হলো, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো অথবা তাকে সওয়াব অথবা যুদ্ধের মালসহ তার ঘরে ফিরিয়ে দেওয়া। সেই সত্তার শপথ, যার হাতে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রাণ, যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে আহত হয়, তার আঘাত কিয়ামতের দিন ততটাই সতেজ থাকবে, যতটা আহত হওয়ার দিন ছিলো। এর রঙ রক্তের মতো হবে, কিন্তু এর গন্ধ হবে কস্তুরীর মতো মিষ্টি। সেই সত্তার শপথ, যার হাতে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রাণ, যদি আমি জানতাম যে, মুসলমানরা কষ্ট পাবে না, তাহলে আমি কখনোই আল্লাহর পথে বের হওয়া কোনো দলের থেকে পিছিয়ে থাকতাম না। কিন্তু আমি তাদের জন্যে যথেষ্ট জায়গা পাই না যে, তারা আমার অনুসরণ করবে এবং তাদের অন্তরের সম্মতি পাবে না এবং তারা আমার পরে জিহাদে অংশগ্রহণ করা থেকে পিছু হটতে শুরু করবে। সেই সত্তার শপথ, যার হাতে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রাণ, আমি আল্লাহর পথে যুদ্ধ করতে এবং শহীদ হতে চাই। তারপর আবার যদি আমাকে জীবন দেওয়া হয়, তাহলে আমি আল্লাহর পথে জিহাদে অংশগ্রহণ করবো এবং শহীদ হবো। তারপর আবার যদি আমাকে জীবন দেওয়া হয়, তাহলে আমি আল্লাহর পথে জিহাদে অংশগ্রহণ করবো এবং শহীদ হবো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৮৬০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ أَبِي زِيَادٍ عَنْ مِقْسَمٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِلْمُحَلِّقِينَ فَقَالَ رَجُلٌ وَلِلْمُقَصِّرِينَ فَقَالَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِلْمُحَلِّقِينَ فَقَالَ الرَّجُلُ وَلِلْمُقَصِّرِينَ فَقَالَ فِي الثَّالِثَةِ أَوْ الرَّابِعَةِ وَلِلْمُقَصِّرِينَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হুদায়বিয়ার দিন বলেছিলেন, “হে আল্লাহ, যারা তাদের মাথা মুণ্ডন করেছে, আপনি তাদেরকে ক্ষমা করুন।” এক ব্যক্তি বললো, “আর যারা চুল ছেটেছে? আপনি তাদের জন্যেও ক্ষমা প্রর্থনা করুন।” তিনি বললেন, “হে আল্লাহ, যারা তাদের মাথা মুণ্ডন করেছে, আপনি তাদেরকে ক্ষমা করুন।” লোকটি বললো, “আর যারা চুল ছেটেছে? আপনি তাদের জন্যেও ক্ষমা প্রর্থনা করুন।” তৃতীয় বা চতুর্থবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “হে আল্লাহ, আর যারা তাদের চুল ছেটেছে, আপনি তাদেরকে ক্ষমা করুন।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৮৬১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ عَنْ عُمَارَةَ عَنْ أَبِي زُرْعَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ الصَّدَقَةِ أَعْظَمُ أَجْرًا قَالَ أَمَا وَأَبِيكَ لَتُنَبَّأَنَّهُ أَنْ تَصَدَّقَ وَأَنْتَ صَحِيحٌ شَحِيحٌ تَخْشَى الْفَقْرَ وَتَأْمُلُ الْبَقَاءَ وَلَا تَمَهَّلْ حَتَّى إِذَا بَلَغَتْ الْحُلْقُومَ قُلْتَ لِفُلَانٍ كَذَا وَلِفُلَانٍ كَذَا وَقَدْ كَانَ لِفُلَانٍ
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বললো, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! কোন অবস্থায় দানের প্রতিদান সবচেয়ে বেশি?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমার পিতার কসম! তুমি অবশ্যই উত্তর পাবে। সর্বোত্তম দান হলো, সুস্থ থাকা অবস্থায় দান করা, যখন তুমি এখনও সম্পদের প্রতি লোভী। তুমি দারিদ্র্য ও ক্ষুধাকে ভয় পাও। আর যতদিন বেঁচে থাকার আশা করো। আর বেশি সময় দান করতে দেরি করো না, নতুবা যখন তোমার আত্মা তোমার গলায় পৌঁছায়, তখন তুমি বলবে, ‘অমুককে এতো দাও, আর অমুককে এতো দাও’ অথচো এটি ইতিমধ্যেই অমুকের (উত্তরাধিকারীদের) সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে।”
[মুসনাদে আহমাদ : ৬৮৬২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ عَنْ عُمَارَةَ عَنْ أَبِي زُرْعَةَ قَالَ وَلَا أَعْلَمُهُ إِلَّا عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ جَلَسَ جِبْرِيلُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَنَظَرَ إِلَى السَّمَاءِ فَإِذَا مَلَكٌ يَنْزِلُ فَقَالَ جِبْرِيلُ إِنَّ هَذَا الْمَلَكَ مَا نَزَلَ مُنْذُ يَوْمِ خُلِقَ قَبْلَ السَّاعَةِ فَلَمَّا نَزَلَ قَالَ يَا مُحَمَّدُ أَرْسَلَنِي إِلَيْكَ رَبُّكَ قَالَ أَفَمَلِكًا نَبِيًّا يَجْعَلُكَ أَوْ عَبْدًا رَسُولًا قَالَ جِبْرِيلُ تَوَاضَعْ لِرَبِّكَ يَا مُحَمَّدُ قَالَ بَلْ عَبْدًا رَسُولًا
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার হযরত জিবরাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে বসে ছিলেন, হঠাৎ তাঁর দৃষ্টি আকাশের দিকে পড়লো এবং তিনি একজন ফেরেশতাকে অবতরণ করতে দেখলেন। তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেন, “এই ফেরেশতা সৃষ্টির পর থেকে আজ পর্যন্ত পৃথিবীতে অবতরণ করেনি।” তিনি অবতরণ করার পর বললেন, “হে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আপনার রব আমাকে আপনার কাছে এই বার্তা দিয়ে পাঠিয়েছেন, তিনি কি আপনাকে ফেরেশতা বানিয়ে নবুয়ত দান করবেন, নাকি তিনি আপনাকে তাঁর দাস বানিয়ে নবুয়ত দান করবেন?” হযরত জিব্রাইল আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “হে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আপনার রবের সামনে বিনয়ী হোন।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “না, বরং আমাকে একজন দাস বানান এবং আমাকে নবুয়ত দান করুন।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৮৬৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ حَدَّثَنَا عُمَارَةُ عَنْ أَبِي زُرْعَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا فَإِذَا طَلَعَتْ وَرَآهَا النَّاسُ آمَنَ مَنْ عَلَيْهَا فَذَلِكَ حِينَ لَا يَنْفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قَبْلُ أَوْ كَسَبَتْ فِي إِيمَانِهَا خَيْرًا
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, “পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত না হওয়া পর্যন্ত, কিয়ামত সংঘটিত হবে না। যখন পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হবে এবং লোকেরা তা দেখবে, তখন তারা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে। কিন্তু যে ব্যক্তি পূর্বে ঈমান আনেনি অথবা তার ঈমানের মাধ্যমে কোনো নেক কাজ করেনি, সেই সময় তার ঈমান কোনো কাজে আসবে না।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৮৬৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ حَدَّثَنَا عُمَارَةُ عَنْ أَبِي زُرْعَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِيَّاكُمْ وَالْوِصَالَ قَالَهَا ثَلَاثَ مِرَارٍ قَالُوا فَإِنَّكَ تُوَاصِلُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ إِنَّكُمْ لَسْتُمْ فِي ذَلِكَ مِثْلِي إِنِّي أَبِيتُ يُطْعِمُنِي رَبِّي وَيَسْقِينِي فَاكْلَفُوا مِنْ الْعَمَلِ مَا تُطِيقُونَ
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “এক সেহরি দিয়ে পরপর কয়েকবার রোজা রাখা থেকে তোমরা নিজেদেরকে রক্ষা করো।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনবার এই কথাটি বললেন। সাহাবীরা বললো, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনিতো এভাবেই একটানা রোজা রাখেন।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমরা আমার মতো নও। আমি এমন অবস্থায় রাত কাটাই যে, আমার রব নিজেই আমাকে খাওয়ান। অতএব, তোমাদের উচিত কাজের সেই ভার নিজের উপর অর্পণ করা, যা বহন করার শক্তি তোমাদের আছে।”
[মুসনাদে আহমাদ : ৬৮৬৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ حَدَّثَنَا عُمَارَةُ عَنْ أَبِي زُرْعَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ سَأَلَ النَّاسَ أَمْوَالَهُمْ تَكَثُّرًا فَإِنَّمَا يَسْأَلُ جَمْرًا فَلْيَسْتَقِلَّ مِنْهُ أَوْ لِيَسْتَكْثِرْ
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি তার সম্পদ বৃদ্ধির জন্যে মানুষের কাছে অর্থ প্রার্থনা করে, সে যেনো মনে রাখে যে, সে কয়লা প্রার্থনা করছে, তা অল্পই হোক বা বেশিই হোক না কেনো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৮৬৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ حَدَّثَنَا عُمَارَةُ وَجَرِيرٌ عَنْ عُمَارَةَ عَنْ أَبِي زُرْعَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا كَبَّرَ فِي الصَّلَاةِ سَكَتَ بَيْنَ التَّكْبِيرِ وَالْقِرَاءَةِ فَقُلْتُ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي أَرَأَيْتَ إِسْكَاتَكَ بَيْنَ التَّكْبِيرِ وَالْقِرَاءَةِ أَخْبِرْنِي مَا هُوَ قَالَ أَقُولُ اللَّهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَايَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ اللَّهُمَّ نَقِّنِي مِنْ خَطَايَايَ كَالثَّوْبِ الْأَبْيَضِ مِنْ الدَّنَسِ قَالَ جَرِيرٌ كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ اللَّهُمَّ اغْسِلْنِي مِنْ خَطَايَايَ بِالثَّلْجِ وَالْمَاءِ وَالْبَرَدِ قَالَ أَبِي كُلُّهَا عَنْ أَبِي زُرْعَةَ إِلَّا هَذَا عَنْ أَبِي صَالِحٍ
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকবীর বলার পর তাকবীর ও তিলাওয়াতের মাঝামাঝি কিছু সময় নীরব থাকতেন। একবার আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললাম, “আমার পিতা-মাতা আপনার জন্যে উৎসর্গিত হোক। আমাকে বলুন, তাকবীর ও তিলাওয়াতের মাঝখানে আপনি কী তিলাওয়াত করেন?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমি এতে প্রার্থনা করি যে,
اللَّهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَايَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ اللَّهُمَّ نَقِّنِي مِنْ خَطَايَايَ كَالثَّوْبِ الْأَبْيَضِ مِنْ الدَّنَسِ جَرِيرٌ كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ اللَّهُمَّ اغْسِلْنِي مِنْ خَطَايَايَ بِالثَّلْجِ وَالْمَاءِ وَالْبَرَدِ
হে আল্লাহ, আমার পাপের মধ্যে ততটুকু দূরত্ব করে দা, পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে যতটুকু দূরত্ব তুমি রেখেছো। হে আল্লাহ, আমাকে আমার পাপ থেকে এমন ভাবে পরিষ্কার করো, যেমন ভাবে সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিষ্কার করা হয়। হে আল্লাহ, আমাকে তুষার, পানি এবং শিলাবৃষ্টি দিয়ে আমার পাপ থেকে ধুয়ে ফেলো।”
[মুসনাদে আহমাদ : ৬৮৬৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ عَنْ عُمَارَةَ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ أَوَّلَ زُمْرَةٍ تَدْخُلُ الْجَنَّةَ عَلَى صُورَةِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ عَلَى أَشَدِّ ضَوْءِ كَوْكَبٍ دُرِّيٍّ فِي السَّمَاءِ إِضَاءَةً لَا يَبُولُونَ وَلَا يَتَغَوَّطُونَ وَلَا يَتْفُلُونَ وَلَا يَمْتَخِطُونَ أَمْشَاطُهُمْ الذَّهَبُ وَرَشْحُهُمْ الْمِسْكُ وَمَجَامِرُهُمْ الْأَلُوَّةُ وَأَزْوَاجُهُمْ الْحُورُ الْعِينُ أَخْلَاقُهُمْ عَلَى خَلْقِ رَجُلٍ وَاحِدٍ عَلَى صُورَةِ أَبِيهِمْ آدَمَ فِي طُولِ سِتِّينَ ذِرَاعًا
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “প্রথম যে দলটি জান্নাতে প্রবেশ করবে, তাদের মুখমণ্ডল চতুর্দশ রাতের চাঁদের মতো উজ্জ্বল হবে এবং তাদের পরে যারা প্রবেশ করবে, তাদের চেহারা আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল হবে। তারা পেশাব বা মলত্যাগ করবে না। তারা থুতু ফেলবে না বা নাক পরিষ্কার করবে না। তাদের চিরুনি সোনার তৈরি হবে। তাদের ঘামে কস্তুরীর গন্ধ থাকবে। তাদের আংটিতে ধূপের সুবাস লেগে থাকবে। তাদের স্ত্রীরা হবে ফর্সা চুলের অধিকারী, চোখ বড় বড়, এবং তাদের নৈতিক চরিত্র হবে একজন অবিবাহিত ব্যক্তির মতো। তারা সকলেই তাদের পিতা হযরত আদম আলাইহি ওয়া সাল্লামের মতো দেখতে হবে এবং ষাট হাত লম্বা হবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৮৬৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ عَنْ عُمَارَةَ عَنْ أَبِي زُرْعَةَ قَالَ دَخَلْتُ مَعَ أَبِي هُرَيْرَةَ دَارَ مَرْوَانَ بْنِ الْحَكَمِ فَرَأَى فِيهَا تَصَاوِيرَ وَهِيَ تُبْنَى فَقَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ يَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ ذَهَبَ يَخْلُقُ خَلْقًا كَخَلْقِي فَلْيَخْلُقُوا ذَرَّةً أَوْ فَلْيَخْلُقُوا حَبَّةً أَوْ لِيَخْلُقُوا شَعِيرَةً ثُمَّ دَعَا بِوَضُوءٍ فَتَوَضَّأَ وَغَسَلَ ذِرَاعَيْهِ حَتَّى جَاوَزَ الْمِرْفَقَيْنِ فَلَمَّا غَسَلَ رِجْلَيْهِ جَاوَزَ الْكَعْبَيْنِ إِلَى السَّاقَيْنِ فَقُلْتُ مَا هَذَا فَقَالَ هَذَا مَبْلَغُ الْحِلْيَةِ
হজরত আবু জাররাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার আমি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে মারওয়ান বিন হাকামের ঘরে প্রবেশ করলাম। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু সেখানে কিছু ছবি দেখতে পেলেন। তিনি বললেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তাআলা বলেন, “যে ব্যক্তি আমার মতো সৃষ্টি করে, তার চেয়ে বেশি জালেম আর কে? এমন লোকদের উচিত একটি অণু, একটি দানা, একটি শস্য দানা তৈরি করা।” এরপর হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু ওযুর জন্যে পানি ডেকে আনলেন এবং ওযু করলেন। হাত ধোয়ার সময় তিনি কনুই ছাড়িয়ে গেলেন এবং পা ধোয়া শুরু করলে গোড়ালি ছাড়িয়ে পায়ের পাতা পর্যন্ত গেলেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, “এটা কী?” তিনি বললেন, “এটাই সাজসজ্জার সর্বোচ্চ স্তর।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৮৬৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ عَنْ عُمَارَةَ عَنْ أَبِي زُرْعَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَلِمَتَانِ خَفِيفَتَانِ عَلَى اللِّسَانِ ثَقِيلَتَانِ فِي الْمِيزَانِ حَبِيبَتَانِ إِلَى الرَّحْمَنِ سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “এমন দুইটি শব্দ আছে, যা জিহ্বায় উচ্চারণে হালকা, আমলের পাল্লায় ভারী এবং পরম করুণাম আল্লাহ তায়ালার কাছে খুবই প্রিয়ো।”
سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ
আল্লাহ তায়ালার জন্যে সকল পবিত্রতা ও প্রশংসা। আল্লাহ তায়ালা সর্বশক্তিমান। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৮৭০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ هُوَ الْأَزْرَقُ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ رَآنِي فِي الْمَنَامِ فَقَدْ رَآنِي فَإِنَّ الشَّيْطَانَ لَا يَنْبَغِي لَهُ أَنْ يَتَمَثَّلَ بِمَثَلِي
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি আমাকে স্বপ্নে দেখবে, সে যেনো বিশ্বাস করে যে, সে আমাকেই দেখেছে, কারণ আমার রূপ ধারণের শয়তানের কোনো ক্ষমতা নেই।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৮৭১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ رَجُلٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْإِمَامُ ضَامِنٌ وَالْمُؤَذِّنُ مُؤْتَمَنٌ اللَّهُمَّ أَرْشِدْ الْأَئِمَّةَ وَاغْفِرْ لِلْمُؤَذِّنِينَ
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “ইমাম হলেন জামিনদার এবং মুয়াজ্জিন হলেন আমানতদার। হে আল্লাহ, ইমামদের হেদায়েত দিন এবং মুয়াজ্জিনদের ক্ষমা করুন।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৮৭২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى يَعْنِي ابْنَ سَعِيدٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে এবং সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখে, তার পূর্ববর্তী সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৮৭৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ حَدَّثَنَا أَبِي عَنْ أَبِي حَازِمٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْحِنْطَةُ بِالْحِنْطَةِ وَالشَّعِيرُ بِالشَّعِيرِ وَالتَّمْرُ بِالتَّمْرِ وَالْمِلْحُ بِالْمِلْحِ كَيْلًا بِكَيْلٍ وَوَزْنًا بِوَزْنٍ فَمَنْ زَادَ أَوْ أَزَادَ فَقَدْ أَرْبَى إِلَّا مَا اخْتَلَفَ أَلْوَانُهُ
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “গমের বিনিময়ে গম, যবের বিনিময়ে যব, খেজুরের বিনিময়ে খেজুর এবং লবণের বিনিময়ে লবণ, সমান ভাবে পরিমাপ বা ওজন করে বিক্রি করতে হবে। যে ব্যক্তি তা বৃদ্ধি করে বা বৃদ্ধির দাবি করে, সে যেনো সুদখোর, যদি না রঙ ভিন্ন হয়।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৮৭৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ لِلصَّلَاةِ أَوَّلًا وَآخِرًا وَإِنَّ أَوَّلَ وَقْتِ الظُّهْرِ حِينَ تَزُولُ الشَّمْسُ وَإِنَّ آخِرَ وَقْتِهَا حِينَ يَدْخُلُ وَقْتُ الْعَصْرِ وَإِنَّ أَوَّلَ وَقْتِ الْعَصْرِ حِينَ يَدْخُلُ وَقْتُهَا وَإِنَّ آخِرَ وَقْتِهَا حِينَ تَصْفَرُّ الشَّمْسُ وَإِنَّ أَوَّلَ وَقْتِ الْمَغْرِبِ حِينَ تَغْرُبُ الشَّمْسُ وَإِنَّ آخِرَ وَقْتِهَا حِينَ يَغِيبُ الْأُفُقُ وَإِنَّ أَوَّلَ وَقْتِ الْعِشَاءِ الْآخِرَةِ حِينَ يَغِيبُ الْأُفُقُ وَإِنَّ آخِرَ وَقْتِهَا حِينَ يَنْتَصِفُ اللَّيْلُ وَإِنَّ أَوَّلَ وَقْتِ الْفَجْرِ حِينَ يَطْلُعُ الْفَجْرُ وَإِنَّ آخِرَ وَقْتِهَا حِينَ تَطْلُعُ الشَّمْسُ
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “নামাজের শুরুর সময় এবং শেষের সময় রয়েছে। সুতরাং, (১) যোহরের নামাযের শুরুর সময় হলো, সূর্যাস্তের সময় এবং শেষের সময় হলো, আসরের নামাযের সময় না আসা পর্যন্ত। (২) আসরের প্রথম সময় হলো, যখন যোহরের সময় শেষ হয়ে যায় এবং শেষ সময় হলো, সূর্য হলুদ না হওয়া পর্যন্ত। (৩) মাগরিবের শুরু হয়, যখন সূর্য অস্ত যায় এবং শেষ হয় যখন দিগন্ত অদৃশ্য হয়ে যায়। (৪) এশার নামাজের প্রথম সময় হলো, দিগন্ত অদৃশ্য হওয়ার সময় এবং এর শেষ সময় হলো মধ্যরাত পর্যন্ত। (৫) আর ফজরের নামাজের প্রথম সময় হলো, ফজর উদিত হওয়ার সময় এবং এর শেষ সময় হলো সূর্যোদয় পর্যন্ত।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৮৭৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ حَدَّثَنَا أَبِي عَنْ عُمَارَةَ بْنِ الْقَعْقَاعِ عَنْ أَبِي زُرْعَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اللَّهُمَّ اجْعَلْ رِزْقَ آلِ بَيْتِي قُوتًا
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার দুআ করেছিলেন,
اللَّهُمَّ اجْعَلْ رِزْقَ آلِ بَيْتِي قُوتًا
“হে আল্লাহ, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পরিবার যতটুকু জীবিকা নির্বাহ করতে পারে, ততটুকু রিযিক দাও।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৮৭৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ حَدَّثَنَا ضِرَارٌ وَهُوَ أَبُو سِنَانٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَأَبِي سَعِيدٍ قَالَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللَّهَ يَقُولُ إِنَّ الصَّوْمَ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ إِنَّ لِلصَّائِمِ فَرْحَتَيْنِ إِذَا أَفْطَرَ فَرِحَ وَإِذَا لَقِيَ اللَّهَ فَجَزَاهُ فَرِحَ وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَخُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,“রোজা আমার জন্যে, আর আমিই এর প্রতিদান দিবো।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন, “রোজাদার দুটি সময়ে খুশি হয়, (১) যখন সে ইফতার করে, তখন সে খুশি হয়। (২) আর যখন সে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে এবং আল্লাহ তাকে প্রতিদান দিবেন, তখন সে খুশি হবে। সেই সত্তার কসম, যার হাতে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রাণ, রোজাদারের মুখের সুগন্ধ, আল্লাহর কাছে কস্তুরীর সুগন্ধের চেয়েও প্রিয়ো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৮৭৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ هِشَامٍ عَنِ ابْنِ سِيرِينَ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الِاخْتِصَارِ فِي الصَّلَاةِ
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাজের সময় পেটের উপর হাত রাখতে নিষেধ করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৮৭৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ هِشَامٍ عَنْ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَامَ أَحَدُكُمْ يُصَلِّي بِاللَّيْلِ فَلْيَبْدَأْ بِرَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ তাহাজ্জুদের নামাজের জন্যে দাঁড়াবে, তখন সে যেনো দুই রাকাত হালকা নামাজ দিয়ে শুরু করে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৮৭৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ أَخْبَرَنَا ابْنُ شِهَابٍ عَنِ ابْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ فَأْرَةٍ وَقَعَتْ فِي سَمْنٍ فَمَاتَتْ قَالَ إِنْ كَانَ جَامِدًا فَخُذُوهَا وَمَا حَوْلَهَا ثُمَّ كُلُوا مَا بَقِيَ وَإِنْ كَانَ مَائِعًا فَلَا تَأْكُلُوهُ
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রশ্ন করলো, “ঘি-তে ইঁদুর মারা গেলে তার বিধান কী?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যদি ঘি শক্ত হয়, তাহলে সেই অংশ (যেখানে ইঁদুরটি পড়েছে) এবং তার চারপাশের ঘি সরিয়ে ফেলো, এবং তারপর অবশিষ্ট ঘি ব্যবহার করো। আর যদি ঘি তরল আকারে থাকে, তাহলে তা ব্যবহার করো না।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৮৮০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ أَخْبَرَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ ضَمْضَمٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقَتْلِ الْأَسْوَدَيْنِ فِي الصَّلَاةِ فَقُلْتُ لِيَحْيَى مَا يَعْنِي بِالْأَسْوَدَيْنِ قَالَ الْحَيَّةُ وَالْعَقْرَبُ
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাতের সময় দুটি কালো প্রাণীকে হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছেন। বর্ণনাকারী যখন তার শিক্ষক ইয়াহিয়াকে দুটি কালো প্রাণী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, তখন তিনি ব্যাখ্যা করলেন যে, এর একটি হলো সাপ এবং আপরটি হলো বিচ্ছু। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৮৮১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস