(২৮৬) সহিহ হাদিসের কুদসি সমগ্র [হাদিসের সীমা (১ - ১৬৩), সর্বমোট হাদিসঃ ১৬৩টি]

৯৫. অধ্যায়ঃ [মোট হাদিসঃ ৪টি] [অবশিষ্ট হাদিসঃ ৮টি]


তাকদির অধ্যায়




48300 OK

(১৫৬)

সহিহ হাদিস

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ -رضي الله عنهما- عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: « أَخَذَ اللَّهُ الْمِيثَاقَ مِنْ ظَهْرِ آدَمَ بِنَعْمَانَ -يَعْنِي عَرَفَةَ- فَأَخْرَجَ مِنْ صُلْبِهِ كُلَّ ذُرِّيَّةٍ ذَرَأَهَا فَنَثَرَهُمْ بَيْنَ يَدَيْهِ كَالذَّرِّ ثُمَّ كَلَّمَهُمْ قِبَلاً قَالَ: ﴿ وَإِذۡ أَخَذَ رَبُّكَ مِنۢ بَنِيٓ ءَادَمَ مِن ظُهُورِهِمۡ ذُرِّيَّتَهُمۡ وَأَشۡهَدَهُمۡ عَلَىٰٓ أَنفُسِهِمۡ أَلَسۡتُ بِرَبِّكُمۡۖ قَالُواْ بَلَىٰ شَهِدۡنَآۚ أَن تَقُولُواْ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِ إِنَّا كُنَّا عَنۡ هَٰذَا غَٰفِلِينَ ١٧٢ ﴾ [الاعراف: ١٧١] . ( حم ) صحيح


ইব্‌ন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “আল্লাহ তা‘আলা না‘মান নামক স্থানে (অর্থাৎ আরাফায়) আদমের পিঠে থাকাবস্থায় অঙ্গিকার গ্রহণ করেছেন, তিনি তার পিঠ থেকে প্রত্যেক সন্তান বের করেন যা সে জন্ম দিবে, অতঃপর তাদেরকে সামনে অণুর ন্যায় রাখেন, অতঃপর তাদের মুখোমুখি হয়ে কথা বলেনঃ তিনি বলেনঃ
﴿ وَإِذۡ أَخَذَ رَبُّكَ مِنۢ بَنِيٓ ءَادَمَ مِن ظُهُورِهِمۡ ذُرِّيَّتَهُمۡ وَأَشۡهَدَهُمۡ عَلَىٰٓ أَنفُسِهِمۡ أَلَسۡتُ بِرَبِّكُمۡۖ قَالُواْ بَلَىٰ شَهِدۡنَآۚ أَن تَقُولُواْ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِ إِنَّا كُنَّا عَنۡ هَٰذَا غَٰفِلِينَ ١٧٢ ﴾ [الاعرافঃ ١٧١]
“আর স্মরণ কর, যখন তোমার রব বনী-আদমের ‎পৃষ্ঠদেশ হতে তাদের বংশধরকে বের করলেন ‎এবং তাদেরকে তাদের নিজদের উপর সাক্ষী ‎করলেন যে, ‘আমি কি তোমাদের রব নই’? ‎তারা বলল, ‘হ্যাঁ, আমরা সাক্ষ্য দিলাম।’ যাতে ‎কিয়ামতের দিন তোমরা বলতে না পার যে, ‎নিশ্চয় আমরা এ বিষয়ে অনবহিত ছিলাম” (সূরা আরাফঃ১৭১) [আহমদ] [সহিহ হাদিসে কুদসি : ১৫৬]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



48301 OK

(১৫৭)

হাসান হাদিস

عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ قَتَادَةَ السُّلَمِيِّ -رضي الله عنه- أَنَّهُ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: « إِنَّ اللَّهَ -عَزَّ وَجَلَّ- خَلَقَ آدَمَ ثُمَّ أَخَذَ الْخَلْقَ مِنْ ظَهْرِهِ وَقَالَ: هَؤُلَاءِ فِي الْجَنَّةِ وَلَا أُبَالِي، وَهَؤُلَاءِ فِي النَّارِ وَلَا أُبَالِي » . فَقَالَ قَائِلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ فَعَلَى مَاذَا نَعْمَلُ؟ قَالَ: « عَلَى مَوَاقِعِ الْقَدَرِ » . (حم) حسن


আব্দুর রহমান ইব্‌ন কাতাদা আসসুলামি থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেছেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে বলতে শুনেছিঃ “নিশ্চয় আল্লাহ আদমকে সৃষ্টি করেন, অতঃপর তার পিঠ থেকে মখলুক বের করেন ও বলেনঃ এরা জান্নাতি আমি কোন পরোয়া করি না, এরা জাহান্নামী আমি কোন পরোয়া করি না। তিনি বলেন এক ব্যক্তি বললঃ হে আল্লাহর রাসূল তাহলে কিসের ওপর আমল করব”? তিনি বললেনঃ “তাকদিরে নির্ধারিত স্থানে” [১]। [আহমদ] [সহিহ হাদিসে কুদসি : ১৫৭]


[[১] অর্থাৎ আমল করার বিষয়টিও তাকদীরে লেখা আছে। যদি ভালো আমল করার সৌভাগ্য হয়, তবে সেটাও তার তাকদীরে লেখা আছে। সুতরাং তাকদীরে কী আছে তা খুজে বের করার চেষ্টায় আমল করা পরিত্যাগ করা যাবে না, বরং সর্বদা ভালো আমল করার প্রচেষ্টায় লেগে থাকতে হবে, আর তখনই তার জন্য সে ভালো আমলটি করা সহজ করে দেয়া হবে। একজন মুমিন এ কাজটিই করে এবং করা উচিত। মুমিন কখনো তাকদীরের দোহাই দিয়ে নেক আমল করা থেকে বিরত থাকে না। যারা কাফের ও বদকার তারাই শুধু তাকদীরের দোহাই দিয়ে নেক আমল করা থেকে বিরত থাকে এবং বলে যদি আল্লাহ চাইত তবে আমি অবশ্যই নেক আমল করতে সমর্থ হতাম। বস্তুতঃ এ ধরনের কথা বলে নেক আমল থেকে বিরত থাকা আরবের মুশরিকদের কাজ। মোটকথাঃ মুমিনের দায়িত্ব হচ্ছে, নেক আমলের জন্য সদা সচেষ্ট থাকা। যাতে করে তার তাকদীরের লেখা অনুসারে সে ভালো কাজ করতে পারে। আর আল্লাহও তার জন্য তা সহজ করে দেন। এটাই বিভিন্ন হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে। [সম্পাদক]]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



48302 OK

(১৫৮)

সহিহ হাদিস

عَنْ أَبِي نَضْرَةَ أَنَّ رَجُلاً مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يُقَالُ لَهُ: أَبُو عَبْدِ اللَّهِ دَخَلَ عَلَيْهِ أَصْحَابُهُ يَعُودُونَهُ وَهُوَ يَبْكِي فَقَالُوا لَهُ: مَا يُبْكِيكَ أَلَمْ يَقُلْ لَكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : « خُذْ مِنْ شَارِبِكَ ثُمَّ أَقِرَّهُ حَتَّى تَلْقَانِي » , قَالَ: بَلَى وَلَكِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: « إِنَّ اللَّهَ -عَزَّ وَجَلَّ- قَبَضَ بِيَمِينِهِ قَبْضَةً وَأُخْرَى بِالْيَدِ الْأُخْرَى وَقَالَ: هَذِهِ لِهَذِهِ, وَهَذِهِ لِهَذِهِ، وَلَا أُبَالِي». فَلَا أَدْرِي فِي أَيِّ الْقَبْضَتَيْنِ أَنَا. ( حم ) صحيح


আবু নাদরাহ থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক সাহাবি যাকে আবু আব্দুল্লাহ বলা হয়, তাকে দেখার জন্য তার সাথীবৃন্দ আসেন, তিনি কাঁদতে ছিলেন, তারা বললঃ আপনি কি জন্য কাঁদছেন, আপনাকে কি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেননিঃ “তুমি তোমার মোচ ছাট, অতঃপর তার ওপর স্থির থাক, যতক্ষণ না আমার সাথে সাক্ষাত কর”। তিনি বলেনঃ অবশ্যই, কিন্তু আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে বলতে শুনেছিঃ “আল্লাহ তা‘আলা তার ডান হাতে এক মুষ্টি ও অপর হাতে অপর মুষ্টি গ্রহণ করেন, অতঃপর বলেনঃ এরা হচ্ছে এর জন্য এবং এরা হচ্ছে এর জন্য, আমি কোন পরোয়া করি না”। আমি জানি না আমি কোন মুষ্টির অন্তর্ভুক্ত। [আহমদ] [সহিহ হাদিসে কুদসি : ১৫৮]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



48303 OK

(১৫৯)

সহিহ হাদিস

عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ -رضي الله عنه- عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: « خَلَقَ اللَّهُ آدَمَ حِينَ خَلَقَهُ، فَضَرَبَ كَتِفَهُ الْيُمْنَى، فَأَخْرَجَ ذُرِّيَّةً بَيْضَاءَ كَأَنَّهُمْ الذَّرُّ، وَضَرَبَ كَتِفَهُ الْيُسْرَى، فَأَخْرَجَ ذُرِّيَّةً سَوْدَاءَ. كَأَنَّهُمْ الْحُمَمُ، فَقَالَ لِلَّذِي فِي يَمِينِهِ: إِلَى الْجَنَّةِ وَلَا أُبَالِي، وَقَالَ لِلَّذِي فِي كَفِّهِ الْيُسْرَى: إِلَى النَّارِ وَلَا أُبَالِي ». ( حم ) صحيح


আবু দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “আল্লাহ তা‘আলা আদমকে সৃষ্টি করেন যখন সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তার ডান কাঁধে হাত মারেন ও ধবধবে সাদা এক প্রজন্ম বের করেন যেন তারা পতঙ্গ, অতঃপর বাম কাঁধে হাত মারেন ও কালো এক প্রজন্ম বের করেন যেন তারা জ্বলন্ত ছাই। অতঃপর ডান হাতের তালুর দিকে লক্ষ্য করে বলেনঃ এগুলো জান্নাতের জন্য আমি কোন পরোয়া করি না, বাম হাতের তালুর দিকে লক্ষ্য করে বলেনঃ এগুলো জাহান্নামের জন্য আমি কোন পরোয়া করি না”। [আহমদ] [সহিহ হাদিসে কুদসি : ১৫৯]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস