(২৮) হজ্জ [হাদিসের সীমা (১৫১৩ - ১৭৭২), সর্বমোট হাদিসঃ ২৬৬টি]

২৫/১৪৫. অধ্যায়ঃ [মোট হাদিসঃ ৬টি] [অবশিষ্ট হাদিসঃ ১৬টি]


তাওয়াফে যিয়ারতের পর কোন স্ত্রী লোকের ঋতু আসলে।




1779 OK

(১৭৫৭)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ يُوسُفَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ بْنِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ صَفِيَّةَ بِنْتَ حُيَيٍّ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حَاضَتْ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَحَابِسَتُنَا هِيَ قَالُوا إِنَّهَا قَدْ أَفَاضَتْ قَالَ فَلاَ إِذًا


আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহধর্মিণী সাফিয়্যা বিনতে হুয়াই (রাঃ) ঋতুবর্তী হলেন এবং পরে এ কথাটি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে অবগত করানো হয়। তখন তিনি বললেনঃ সে কি আমাদের যাত্রায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে? তারা বললেন, তিনি তো তাওয়াফে যিয়ারত সমাধা করে নিয়েছেন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তাহলে তো আর বাধা নেই। (২৯৪) (আঃপ্রঃ ১৬৩৫, ইঃফাঃ ১৬৪৩) [সহিহ বুখারী : ১৭৫৭]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



1780 OK

(১৭৫৮)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ عِكْرِمَةَ أَنَّ أَهْلَ الْمَدِينَةِ سَأَلُوا ابْنَ عَبَّاسٍ عَنْ امْرَأَةٍ طَافَتْ ثُمَّ حَاضَتْ قَالَ لَهُمْ تَنْفِرُ قَالُوا لاَ نَأْخُذُ بِقَوْلِكَ وَنَدَعُ قَوْلَ زَيْدٍ قَالَ إِذَا قَدِمْتُمْ الْمَدِينَةَ فَسَلُوا فَقَدِمُوا الْمَدِينَةَ فَسَأَلُوا فَكَانَ فِيمَنْ سَأَلُوا أُمُّ سُلَيْمٍ فَذَكَرَتْ حَدِيثَ صَفِيَّةَ رَوَاهُ خَالِدٌ وَقَتَادَةُ عَنْ عِكْرِمَةَ


ইক্‌রিমা (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তাওয়াফে যিয়ারতর পর ঋতু এসেছে এমন মহিলা সম্পর্কে মাদিনাবাসী ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি তাদের বললেন, সে রওয়ানা হয়ে যাবে। তারা বললেন, আমরা আপনার কথা গ্রহন করব না এবং যায়েদের কথাও বর্জন করব না। তিনি বললেন, তোমরা মদীনায় ফিরে গিয়ে জিজ্ঞাস করে নিবে। তাঁরা মদীনায় এসে জিজ্ঞেস করলেন যাদের কাছে তাঁরা জিজ্ঞেস করেছিলেন তাঁদের মধ্যে উম্মে সুলাইম (রাঃ)-ও ছিলেন। তিনি তাঁদের সাফিয়্যা (রাঃ) (উম্মুল মু’মিনীন) -এর ঘটনাটি বর্ণনা করলেন। হাদীসটি খালিদ ও কাতাদাহ(রহঃ) ‘ইক্‌রিমা (রহঃ) হতে বর্ণনা করেন। (আঃপ্রঃ ১৬৩৬, ইঃফাঃ ১৬৪৪) [সহিহ বুখারী : ১৭৫৮]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



1781 OK

(১৭৫৯)

সহিহ হাদিস

. حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ عِكْرِمَةَ أَنَّ أَهْلَ الْمَدِينَةِ سَأَلُوا ابْنَ عَبَّاسٍ عَنْ امْرَأَةٍ طَافَتْ ثُمَّ حَاضَتْ قَالَ لَهُمْ تَنْفِرُ قَالُوا لاَ نَأْخُذُ بِقَوْلِكَ وَنَدَعُ قَوْلَ زَيْدٍ قَالَ إِذَا قَدِمْتُمْ الْمَدِينَةَ فَسَلُوا فَقَدِمُوا الْمَدِينَةَ فَسَأَلُوا فَكَانَ فِيمَنْ سَأَلُوا أُمُّ سُلَيْمٍ فَذَكَرَتْ حَدِيثَ صَفِيَّةَ رَوَاهُ خَالِدٌ وَقَتَادَةُ عَنْ عِكْرِمَةَ


ইক্‌রিমা (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তাওয়াফে যিয়ারতর পর ঋতু এসেছে এমন মহিলা সম্পর্কে মাদিনাবাসী ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি তাদের বললেন, সে রওয়ানা হয়ে যাবে। তারা বললেন, আমরা আপনার কথা গ্রহন করব না এবং যায়েদের কথাও বর্জন করব না। তিনি বললেন, তোমরা মদীনায় ফিরে গিয়ে জিজ্ঞাস করে নিবে। তাঁরা মদীনায় এসে জিজ্ঞেস করলেন যাদের কাছে তাঁরা জিজ্ঞেস করেছিলেন তাঁদের মধ্যে উম্মে সুলাইম (রাঃ)-ও ছিলেন। তিনি তাঁদের সাফিয়্যা (রাঃ) (উম্মুল মু’মিনীন) -এর ঘটনাটি বর্ণনা করলেন। হাদীসটি খালিদ ও কাতাদাহ(রহঃ) ‘ইক্‌রিমা (রহঃ) হতে বর্ণনা করেন। (আঃপ্রঃ ১৬৩৬, ইঃফাঃ ১৬৪৪) [সহিহ বুখারী : ১৭৫৯]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



1782 OK

(১৭৬০)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُسْلِمٌ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ حَدَّثَنَا ابْنُ طَاوُسٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ رُخِّصَ لِلْحَائِضِ أَنْ تَنْفِرَ إِذَا أَفَاضَتْ


ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, তাওয়াফে যিয়ারত আদায় করার পর ঋতুরর্তী মহিলাকে রওয়ানা হয়ে যাওয়ার জন্য অনুমতি দেয়া হয়েছে। (৩২৯) (আঃপ্রঃ ১৬৩৭, ইঃফাঃ ১৬৪৫) [সহিহ বুখারী : ১৭৬০]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



1783 OK

(১৭৬১)

সহিহ হাদিস

قَالَ وَسَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ يَقُولُ إِنَّهَا لاَ تَنْفِرُ ثُمَّ سَمِعْتُهُ يَقُولُ بَعْدُ إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَخَّصَ لَهُنَّ


বর্ণনাকারী থেকে বর্ণিতঃ

আমি ইব্‌নু উমর (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, সে মহিলা রওয়ানা হতে পারবেনা। পরবর্তীতে তাকে এ কথাও বলতে শুনেছি যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁদেরকে অনুমতি দিয়েছেন। (৩৩০) (আঃপ্রঃ ১৬৩৭, ইঃফাঃ ১৬৪৫) [সহিহ বুখারী : ১৭৬১]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



1784 OK

(১৭৬২)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ الأَسْوَدِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ خَرَجْنَا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَلاَ نَرَى إِلاَّ الْحَجَّ فَقَدِمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَطَافَ بِالْبَيْتِ وَبَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ وَلَمْ يَحِلَّ وَكَانَ مَعَهُ الْهَدْيُ فَطَافَ مَنْ كَانَ مَعَهُ مِنْ نِسَائِهِ وَأَصْحَابِهِ وَحَلَّ مِنْهُمْ مَنْ لَمْ يَكُنْ مَعَهُ الْهَدْيُ فَحَاضَتْ هِيَ فَنَسَكْنَا مَنَاسِكَنَا مِنْ حَجِّنَا فَلَمَّا كَانَ لَيْلَةَ الْحَصْبَةِ لَيْلَةُ النَّفْرِ قَالَتْ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم كُلُّ أَصْحَابِكَ يَرْجِعُ بِحَجٍّ وَعُمْرَةٍ غَيْرِي قَالَ مَا كُنْتِ تَطُوفِينَ بِالْبَيْتِ لَيَالِيَ قَدِمْنَا قُلْتُ لاَ قَالَ فَاخْرُجِي مَعَ أَخِيكِ إِلَى التَّنْعِيمِ فَأَهِلِّي بِعُمْرَةٍ وَمَوْعِدُكِ مَكَانَ كَذَا وَكَذَا فَخَرَجْتُ مَعَ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ إِلَى التَّنْعِيمِ فَأَهْلَلْتُ بِعُمْرَةٍ وَحَاضَتْ صَفِيَّةُ بِنْتُ حُيَيٍّ فَقَالَ النَّبِيُّ عَقْرَى حَلْقَى إِنَّكِ لَحَابِسَتُنَا أَمَا كُنْتِ طُفْتِ يَوْمَ النَّحْرِ قَالَتْ بَلَى قَالَ فَلاَ بَأْسَ انْفِرِي فَلَقِيتُهُ مُصْعِدًا عَلَى أَهْلِ مَكَّةَ وَأَنَا مُنْهَبِطَةٌ أَوْ أَنَا مُصْعِدَةٌ وَهُوَ مُنْهَبِطٌ وَقَالَ مُسَدَّدٌ قُلْتُ لاَ تَابَعَهُ جَرِيرٌ عَنْ مَنْصُورٍ فِي قَوْلِهِ لاَ


আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে বের হলাম। হজ্জই ছিল আমাদের উদ্দেশ্য। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কায় পৌঁছে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ ও সাফা ও মারওয়ার সা’য়ী করলেন। তবে ইহ্‌রাম খুলেনি। তাঁর সঙ্গে কুরবানীর জানওয়ার ছিল। তাঁর সহধর্মিণি ও সাহাবীগনের মধ্যে যারা তাঁর সঙ্গে ছিলেন তাঁরাও তাওয়াফ করলেন। তবে যাদের সঙ্গে কুরবানীর পশু ছিলনা, তাঁরা হালাল হয়ে গেলেন। এরপর ‘আয়েশা (রাঃ) ঋতুবর্তী হয়ে পড়লেও(বর্ণনাকারী) বলেন) আমরা হজ্জের সমুদয় হুকুম-আহকাম আদায় করলাম। এরপর যখন লায়লাতুল –হাসবা অর্থাৎ রওয়ানা হওয়ার রাত হল, তখন তিনি বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি ব্যতীত আপনার সকল সাহাবীতো হজ্জ ও উমরাহ করে ফিরেছেন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আমরা যে রাতে এসেছি সে রাতে তুমি কি বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করনি? আমি বললাম, না। অতঃপর তিনি বললেনঃ তুমি তোমার ভাইয়ের সঙ্গে তান’ঈম(নামক স্থানে) চলে যাও এবং সেখান হতে উমরাহ’র ইহ্‌রাম বেঁধে নাও। আর অমুক অমুক স্থানে তোমার সঙ্গে সাক্ষাতের ওয়াদা থাকল। ‘আয়েশা বলেন, এরপর আমি আব্দুর রাহমান (রাঃ)-এর সাথে তান’ঈম এর দিকে গেলাম এবং উমরাহর ইহ্‌রাম বাঁধলাম। আর সাফিয়্যা বিনতে হুয়াই (রাঃ)-এর ঋতু দেখা দিল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা শুনে বিরক্ত হয়ে বলেনঃ তুমিতো আমাদেরকে আটকিয়ে ফেললে। তুমি কি কুরবানীর দিন তাওয়াফ করেছিলে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন তাহলে কোন বাধা নেই, রওয়ানা হও।[আয়েশা (রাঃ) বলেন] আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে মিলিত হলাম। এমতাবস্থায় যে, তিনি মক্কার উপরের দিকে উঠছিলেন, আর আমি নিচের দিকে নামছিলাম। অথবা আমি উঠছিলাম আর তিনি নামছিলেন। মুসাদ্দাস(রহঃ)-এর বর্ণনায় এ হাদীসে(হ্যাঁ)-এর পরিবর্তে ‘লা’ (না) রয়েছে। রাবী জারীর (রহঃ) মনসূর (রহঃ) হতে এ হাদীস বর্ণনায় মুসাদ্দাদ(রহঃ)-এর অনুরূপ ‘লা’ (না) বর্ণনা করেছেন। (২৯৪) (আঃপ্রঃ ১৬৩৮, ইঃফাঃ ১৬৪৯) [সহিহ বুখারী : ১৭৬২]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস