
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ حَدَّثَنَا عَمْرٌو حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ عَنْ أَبِيهِ كُنْتُ أَطْلُبُ بَعِيرًا لِي ح وحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَمْرٍو سَمِعَ مُحَمَّدَ بْنَ جُبَيْرٍ عَنْ أَبِيهِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ قَالَ أَضْلَلْتُ بَعِيرًا لِي فَذَهَبْتُ أَطْلُبُهُ يَوْمَ عَرَفَةَ فَرَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَاقِفًا بِعَرَفَةَ فَقُلْتُ هَذَا وَاللهِ مِنْ الْحُمْسِ فَمَا شَأْنُهُ هَا هُنَا
জুবাইর ইব্নু মুত’য়িম (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমি আমার একটি উট হারিয়ে ‘আরাফার দিনে তা তালাশ করতে লাগলাম। তখন আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- কে ‘আরাফায় উকূফ করতে দেখলাম এবং বললাম, আল্লাহর কসম! তিনি তো কুরায়শ বংশীয় [৬০]। এখানে তিনি কী করছেন? (মুসলিম ১৫/২১, হাঃ ১২২০) (আঃপ্রঃ ১৫৫১, ইঃফাঃ ১৫৫৭) [সহিহ বুখারী : ১৬৬৪]
[[৬০] মক্কার অধিবাসী কতক হঠকারী উদ্ধত গোত্র অন্যান্য লোকদের সঙ্গে আরাফাতে যেত না এবং মুজদালিফায় সংক্ষিপ্ত অবস্থান করত। তাদের ঔদ্ধত্যের কারণে তাদেরকে তিরস্কার করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে যে অন্যান্য হাজীদের ন্যায় তাদেরকেও হজ্জের সকল নিয়ম পালন করতে হবে। ইসলাম হচ্ছে সমতার ধর্ম। জাহিলী যুগের প্রথা অনুযায়ী যুবাইর ইব্নু মুত’য়িম (রাঃ) -এর ধারণা ছিল কুরাইশদের আরাফাতে আসার প্রয়োজন নেই। তাই তিনি বলে উঠেন, আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তো কুরাইশ; তিনি কেন আরাফাতে এসেছেন। আল্লাহর নির্দেশে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঐ জাহিলী নিয়ম ভেঙ্গে ফেলেন এবং আরাফাতে অবস্থানসহ হজ্জের যাবতীয় নিয়মই সকলের জন্য সমানভাবে আবশ্যকীয় করেন। (সূরা আল-বাক্বারাহ ১৯৮-১৯৯)]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا فَرْوَةُ بْنُ أَبِي الْمَغْرَاءِ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ قَالَ عُرْوَةُ كَانَ النَّاسُ يَطُوفُونَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ عُرَاةً إِلاَّ الْحُمْسَ وَالْحُمْسُ قُرَيْشٌ وَمَا وَلَدَتْ وَكَانَتْ الْحُمْسُ يَحْتَسِبُونَ عَلَى النَّاسِ يُعْطِي الرَّجُلُ الرَّجُلَ الثِّيَابَ يَطُوفُ فِيهَا وَتُعْطِي الْمَرْأَةُ الْمَرْأَةَ الثِّيَابَ تَطُوفُ فِيهَا فَمَنْ لَمْ يُعْطِهِ الْحُمْسُ طَافَ بِالْبَيْتِ عُرْيَانًا وَكَانَ يُفِيضُ جَمَاعَةُ النَّاسِ مِنْ عَرَفَاتٍ وَيُفِيضُ الْحُمْسُ مِنْ جَمْعٍ قَالَ وَأَخْبَرَنِي أَبِي عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ هَذِهِ الآيَةَ نَزَلَتْ فِي الْحُمْسِ {ثُمَّ أَفِيضُوا مِنْ حَيْثُ أَفَاضَ النَّاسُ} قَالَ كَانُوا يُفِيضُونَ مِنْ جَمْعٍ فَدُفِعُوا إِلَى عَرَفَاتٍ
‘উরওইয়াহ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ
জাহিলী যুগে হুমস ব্যতীত অন্য লোকেরা উলঙ্গ অবস্থায় (বাইতুল্লাহ) তাওয়াফ করত। আর হুমস হলো কুরায়শ এবং তাদের ঔরসজাত সন্তান-সন্ততি। হুমসরা লোকেদের সেবা করে সওয়াবের আশায় পুরুষ পুরুষকে কাপড় দিত এবং সে তা পরে তাওয়াফ করত। আর স্ত্রীলোক স্ত্রীলোককে কাপড় দিত এবং এ কাপড়ে সে তাওয়াফ করত। হুমসরা যাকে কাপড় না দিত সে উলঙ্গ অবস্থায় বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করত। সব লোক ‘আরাফা হতে প্রত্যাবর্তন করত আর হুমসরা প্রত্যাবর্তন করত মুযদালিফা হতে। রাবী হিশাম (রহঃ) বলেন, আমার পিতা আমার নিকট ‘আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, এই আয়াতটি হুমস সম্পর্কে নাযিল হয়েছেঃ (আরবি) (এরপর যেখান হতে অন্য লোকেরা প্রত্যাবর্তন করে, তোমরাও সেখান হতে প্রত্যাবর্তন করবে) রাবী বলেন, তারা মুযদালিফা হতে প্রত্যাবর্তন করত, এতে তাদের ‘আরাফাহ পর্যন্ত যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হল। (৪৫২০, মুসলিম ১৫/২১, হাঃ ১২১৯) (আঃপ্রঃ ১৫৫২, ইঃফাঃ ১৫৫৮) [সহিহ বুখারী : ১৬৬৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস