
حَدَّثَنَا يَزِيدُ أَخْبَرَنَا حَجَّاجٌ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ قَدْ زَادَكُمْ صَلَاةً وَهِيَ الْوَتْرُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ তোমাদের জন্যে একটি নামায যোগ করেছেন, এটি হলো বিতরের নামায। অতএব তোমরা তা আদায় করো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৪০৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَزِيدُ عَنْ حَجَّاجٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَمَعَ بَيْنَ الصَّلَاتَيْنِ فِي السَّفَرِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সফরে দুটি নামাজ একত্রে আদায় করতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৪০৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا بَهْزٌ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ كُلُوا وَاشْرَبُوا وَتَصَدَّقُوا وَالْبَسُوا فِي غَيْرِ مَخِيلَةٍ وَلَا سَرَفٍ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ أَنْ تُرَى نِعْمَتُهُ عَلَى عَبْدِهِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “খাও, পান করো, দান-সদকা করো এবং পোশাক পরিধান করো, কিন্তু অহঙ্কার করো না বা অতিরিক্ত খরচ করো না। আল্লাহ পছন্দ করেন যে তাঁর নিয়ামতের প্রভাব তাঁর বান্দার উপর স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হোক।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৪০৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَزِيدُ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُعَلِّمُنَا كَلِمَاتٍ نَقُولُهُنَّ عِنْدَ النَّوْمِ مِنْ الْفَزَعِ بِسْمِ اللَّهِ أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ غَضَبِهِ وَعِقَابِهِ وَشَرِّ عِبَادِهِ وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ قَالَ فَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو يُعَلِّمُهَا مَنْ بَلَغَ مِنْ وَلَدِهِ أَنْ يَقُولَهَا عِنْدَ نَوْمِهِ وَمَنْ كَانَ مِنْهُمْ صَغِيرًا لَا يَعْقِلُ أَنْ يَحْفَظَهَا كَتَبَهَا لَهُ فَعَلَّقَهَا فِي عُنُقِهِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের ঘুমের সময় ভয় পেলে, এই দুআ গুলো পাঠ করতে শেখাতেন,
بِسْمِ اللَّهِ أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ غَضَبِهِ وَعِقَابِهِ وَشَرِّ عِبَادِهِ وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ
“আমি আল্লাহর সকল গুণাবলীর মাধ্যমে তাঁর ক্রোধ, শাস্তি এবং তাঁর বান্দাদের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি, এবং শয়তানদের কুমন্ত্রণা এবং তাদের আমার কাছে আসা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি।”
হযরত সায়্যিদুনা আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু নিজে তাঁর বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছে যাওয়া সন্তানদের ঘুমের সময় এই দোয়াটি পাঠ করতে শেখাতেন। এবং তিনি এটি লিখে রাখতেন এবং যেসব ছোট বাচ্চারা এটি মনে রাখতে পারতো না, তাদের গলায় ঝুলিয়ে দিতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৪০৯]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا يَزِيدُ أَخْبَرَنَا حَجَّاجٌ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ جَابِرٍ وَعَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ وَعَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ وَقَّتَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِأَهْلِ الْمَدِينَةِ ذَا الْحُلَيْفَةِ وَلِأَهْلِ الشَّامِ الْجُحْفَةَ وَلِأَهْلِ الْيَمَنِ وَأَهْلِ تِهَامَةَ يَلَمْلَمَ وَلِأَهْلِ الطَّائِفِ وَهِيَ نَجْدٌ قَرْنًا وَلِأَهْلِ الْعِرَاقِ ذَاتَ عِرْقٍ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনা বাসীদের জন্য যুল-হিলাইফাহ, সিরিয়াবাসীদের জন্য জাফাহ, ইয়েমেন বাসীদের জন্য ইয়াল্লাম, তায়েফ (নজদ) বাসীদের জন্য ইয়াল্লামলাম ঘোষণা করেছেন। ইরাক বাসীদের জন্য জাআত-ইরককে মিকাত ঘোষণা করা হয়েছে। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৪১০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَزِيدُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ رَاشِدٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مُوسَى عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا تَجُوزُ شَهَادَةُ خَائِنٍ وَلَا خَائِنَةٍ وَرَدَّ شَهَادَةَ الْقَانِعِ الْخَادِمِ وَالتَّابِعِ لِأَهْلِ الْبَيْتِ وَأَجَازَهَا لِغَيْرِهِمْ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “বিশ্বাসঘাতক পুরুষ বা মহিলার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়।” আর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার মনিবের বিরুদ্ধে দাসের সাক্ষ্য গ্রহণ করেননি, বরং অন্যদের বিরুদ্ধে তা গ্রহণ করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৪১১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَزِيدُ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَاشِدٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مُوسَى عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَضَى أَيُّمَا مُسْتَلْحَقٍ اسْتُلْحِقَ بَعْدَ أَبِيهِ الَّذِي يُدْعَى لَهُ ادَّعَاهُ وَرَثَتُهُ قَضَى إِنْ كَانَ مِنْ حُرَّةٍ تَزَوَّجَهَا أَوْ مِنْ أَمَةٍ يَمْلِكُهَا فَقَدْ لَحِقَ بِمَا اسْتَلْحَقَهُ وَإِنْ كَانَ مِنْ حُرَّةٍ أَوْ أَمَةٍ عَاهَرَ بِهَا لَمْ يَلْحَقْ بِمَا اسْتَلْحَقَهُ وَإِنْ كَانَ أَبُوهُ الَّذِي يُدْعَى لَهُ هُوَ ادَّعَاهُ وَهُوَ ابْنُ زِنْيَةٍ لِأَهْلِ أُمِّهِ مَنْ كَانُوا حُرَّةً أَوْ أَمَةً
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কোনো ব্যাক্তির মৃত্যুর পর, কোনো শিশুকে তার সন্তানরুপে তার সাথে সম্পৃক্ত করা হলো এবং মৃতের ওয়ারিসগণ তার সম্পর্কে এই দাবি করলো, ‘সে আমাদের বংশীয়’, তার ক্ষেত্রে ফয়সালা এই যে, সে যে দাসীর গর্ভজাত, মালিকের মালিকানায় থাকা অবস্থায়, যদি তার সাথে সঙ্গম হয়ে থাকে, তবে সেই সন্তান যার বলে দাবি করা হচ্ছে, তার সাথে সম্পৃক্ত হবে। তবে ইতোপূর্বে (জাহিলী যুগে) যে ওয়ারিসী স্বত্ব বন্টিত হয়েছে, সে তার কিছুই পাবে না। আর যে ওয়ারিসী স্বত্ব এখনো বন্টিত হয়নি, তা থেকে সে তার অংশ পাবে। পক্ষান্তরে তাকে যে পিতার সাথে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে, সেই পিতা তাকে অস্বীকার করলে ওয়ারিসগণের দাবির কোনো কার্যকারিতা নেই। আর সেই সন্তান যদি তার মালিকানাধীন কোনো দাসীর গর্ভজাত হয়ে থাকে অথবা কোনো স্বাধীন নারীর সাথে তার যেনার পরিণতিতে হয়ে থাকে, তাহলে উক্ত সন্তান তার সাথে সম্পৃক্ত হবে না এবং সে তার পরিত্যক্ত সম্পত্তিও পাবে না, যদিও সে তাকে তার সন্তান বলে দাবি করে। সে হবে জারজ সন্তান। সে তার মায়ের বংশের সাথে সম্পৃক্ত হবে, সে স্বাধীন নারী হোক বা কৃতদাসী।” রাবী মুহাম্মাদ বিন রাশেদ বলেন, এখানে বন্টনের অর্থ হলো, যে ওয়ারিসী স্বত্ব ইসলামের পূর্বে জাহিলী যুগে বন্টিত হয়েছে। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৪১২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا الْحَجَّاجُ بْنُ أَرْطَأَةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ لِي ذَوِي أَرْحَامٍ أَصِلُ وَيَقْطَعُونِي وَأَعْفُو وَيَظْلِمُونَ وَأُحْسِنُ وَيُسِيئُونَ أَفَأُكَافِئُهُمْ قَالَ لَا إِذًا تُتْرَكُونَ جَمِيعًا وَلَكِنْ خُذْ بِالْفَضْلِ وَصِلْهُمْ فَإِنَّهُ لَنْ يَزَالَ مَعَكَ ظَهِيرٌ مِنْ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ مَا كُنْتَ عَلَى ذَلِكَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বললো, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার কিছু আত্মীয় আছে। আমি তাদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করি, তারা তাদের ছিন্ন করে, আমি তাদের ক্ষমা করি, তারা আমার উপর অত্যাচার করে, আমি তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করি, তারা আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে। আমি কি তাদের আচরনের অনুরূপ করবো?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “না, অন্যথায় তোমরা সকলেই পরিত্যক্ত হবে। তাই শ্রেষ্ঠত্বের পক্ষ গ্রহণ করো এবং তাদের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখো, এবং যতক্ষণ তুমি তা করতে থাকবে, আল্লাহ তোমাদের জন্যে একজন স্থায়ী সাহায্যকারী নিযুক্ত করবেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৪১৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا سَعِيدٌ عَنْ يُوسُفَ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَحْضُرُ الْجُمُعَةَ ثَلَاثَةٌ رَجُلٌ حَضَرَهَا بِدُعَاءٍ وَصَلَاةٍ فَذَلِكَ رَجُلٌ دَعَا رَبَّهُ إِنْ شَاءَ أَعْطَاهُ وَإِنْ شَاءَ مَنَعَهُ وَرَجُلٌ حَضَرَهَا بِسُكُوتٍ وَإِنْصَاتٍ فَذَلِكَ هُوَ حَقُّهَا وَرَجُلٌ يَحْضُرُهَا يَلْغُو فَذَلِكَ حَظُّهُ مِنْهَا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “শুক্রবারে তিন ধরণের লোক আসে। (১) একজন ব্যক্তি যে সালাত ও দুআয় শরীক হয় এবং তার রবের কাছে প্রার্থনা করে। আর আল্লাহ তায়ালা তা কবুল করবেন কিনা, তা তার নিজস্ব ইচ্ছা। (২) দ্বিতীয় ব্যক্তি সেই, যে এসে নীরবে এতে অংশ নেয় এবং কোনো মুসলমানের ঘাড় অতিক্রম করে না এবং কাউকে কষ্ট দেয় না, তাহলে তা তার গুনাহের কাফফারা হয়ে যাবে, আগামী শুক্রবার পর্যন্ত এবং আরো তিন দিনের জন্যে। কারণ আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন, যে ব্যক্তি নেক আমল নিয়ে আসবে তাকে দশগুণ সওয়াব দেওয়া হবে। (৩) এবং তৃতীয় ব্যক্তি যে অলস কাজে লিপ্ত হয় এবং এটি ঐ ব্যক্তিরই অংশ।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৪১৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ عِيَاضٍ حَدَّثَنَا أَبُو حَازِمٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ لَقَدْ جَلَسْتُ أَنَا وَأَخِي مَجْلِسًا مَا أُحِبُّ أَنَّ لِي بِهِ حُمْرَ النَّعَمِ أَقْبَلْتُ أَنَا وَأَخِي وَإِذَا مَشْيَخَةٌ مِنْ صَحَابَةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جُلُوسٌ عِنْدَ بَابٍ مِنْ أَبْوَابِهِ فَكَرِهْنَا أَنْ نُفَرِّقَ بَيْنَهُمْ فَجَلَسْنَا حَجْرَةً إِذْ ذَكَرُوا آيَةً مِنْ الْقُرْآنِ فَتَمَارَوْا فِيهَا حَتَّى ارْتَفَعَتْ أَصْوَاتُهُمْ فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُغْضَبًا قَدْ احْمَرَّ وَجْهُهُ يَرْمِيهِمْ بِالتُّرَابِ وَيَقُولُ مَهْلًا يَا قَوْمِ بِهَذَا أُهْلِكَتْ الْأُمَمُ مِنْ قَبْلِكُمْ بِاخْتِلَافِهِمْ عَلَى أَنْبِيَائِهِمْ وَضَرْبِهِمْ الْكُتُبَ بَعْضَهَا بِبَعْضٍ إِنَّ الْقُرْآنَ لَمْ يَنْزِلْ يُكَذِّبُ بَعْضُهُ بَعْضًا بَلْ يُصَدِّقُ بَعْضُهُ بَعْضًا فَمَا عَرَفْتُمْ مِنْهُ فَاعْمَلُوا بِهِ وَمَا جَهِلْتُمْ مِنْهُ فَرُدُّوهُ إِلَى عَالِمِهِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি এবং আমার ভাই এমন এক সমাবেশে বসে আছি যার বিনিময়ে আমি একটি লাল উটও পেতে চাই না। একবার আমি আমার ভাইয়ের সাথে এসেছিলাম এবং সাহাবীদের কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তি মসজিদে নববীর একটি দরজার কাছে বসে ছিলেন। তাদের মধ্যে প্রবেশ করে মতবিরোধ সৃষ্টি করা আমাদের জন্যে ভালো মনে হয়নি, তাই আমরা এক কোণে বসে পড়লাম। এই সময়, সাহাবীরা কুরআনের একটি আয়াত উল্লেখ করেন এবং এর ব্যাখ্যায় মতবিরোধ করেন, এমনকি তাদের কণ্ঠস্বর উঁচু হতে থাকে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাগে বেরিয়ে আসেন। তাঁর মুখ লাল হয়ে যাচ্ছিল এবং তিনি ধুলো ছুঁড়ে মারছিলেন এবং বলছিলেন, “হে লোক সকল! থামো! তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে, কারণ তারা তাদের নবীদের উপস্থিতিতে মতবিরোধ করেছিলো এবং তাদের কিতাবের এক অংশের সাথে অন্য অংশের বিরোধিতা করেছিলো। কুরআন এমনভাবে নাযিল হয়নি যে, এর এক অংশ অন্য অংশের বিরোধিতা করে, বরং এটি অন্য অংশকে সমর্থন করে। অতএব, তুমি যা জানো তা অনুসারে কাজ করো। এবং যা জানো না, যারা তা জানে তাদের কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৪১৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ عِيَاضٍ حَدَّثَنَا أَبُو حَازِمٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يُؤْمِنُ الْمَرْءُ حَتَّى يُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ قَالَ أَبُو حَازِمٍ لَعَنَ اللَّهُ دِينًا أَنَا أَكْبَرُ مِنْهُ يَعْنِي التَّكْذِيبَ بِالْقَدَرِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “ভালো ভাগ্য হোক বা খারাপ ভাগ্য হোক, ভাগ্যের উপর বিশ্বাস না করে কেউই মুমিন হতে পারে না।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৪১৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ أَخْبَرَنَا حَجَّاجٌ حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ الْعَاصَ بْنَ وَائِلٍ نَذَرَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ أَنْ يَنْحَرَ مِائَةَ بَدَنَةٍ وَأَنَّ هِشَامَ بْنَ الْعَاصِي نَحَرَ حِصَّتَهُ خَمْسِينَ بَدَنَةً وَأَنَّ عَمْرًا سَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ أَمَّا أَبُوكَ فَلَوْ كَانَ أَقَرَّ بِالتَّوْحِيدِ فَصُمْتَ وَتَصَدَّقْتَ عَنْهُ نَفَعَهُ ذَلِكَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আস বিন ওয়াইল জাহেলী যুগে একশটি উট কুরবানী করার মানত করেছিলো এবং তার এক পুত্র হিশাম বিন আল আস তার অংশ থেকে পঞ্চাশটি উট কুরবানী করেছিলো। তার অপর পুত্র আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যদি তোমার পিতা আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস করতেন, তাহলে তুমি তার পক্ষ থেকে যে রোজা এবং দান-খয়রাত দান করো, তা তার জন্যে উপকারী হতো।” (কিন্তু যেহেতু সে ইসলাম গ্রহণ করেনি, তাই তার জন্যে কী লাভ হবে?) [মুসনাদে আহমাদ : ৬৪১৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ عَنْ سَعِيدٍ عَنْ عَامِرٍ الْأَحْوَلِ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يَرْجِعُ فِي هِبَتِهِ إِلَّا الْوَالِدُ مِنْ وَلَدِهِ وَالْعَائِدُ فِي هِبَتِهِ كَالْعَائِدِ فِي قَيْئِهِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যে, “পিতা ব্যতীত অন্য কেউ তার উপহার তার ছেলেকে ফেরত দিবে না। যে ব্যক্তি কাউকে উপহার দেওয়ার পর, তা পুনরায় ফেরত নেয়, তার উদাহরণ হলো ঐ কুকুরের মতো, যে বমি করে আবার চেটে খায়।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৪১৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ قَالَ هَمَّامٌ أَخْبَرَنَا عَنْ قَتَادَةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ هِيَ اللُّوطِيَّةُ الصُّغْرَى يَعْنِي الرَّجُلَ يَأْتِي امْرَأَتَهُ فِي دُبُرِهَا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর পায়ুপথে সঙ্গম করে, সে ছোট ব্যভিচার করে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৪১৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا رَوْحٌ حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو أَنَّ امْرَأَةً أَتَتْ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ ابْنِي هَذَا كَانَ بَطْنِي لَهُ وِعَاءً وَحِجْرِي لَهُ حِوَاءً وَثَدْيِي لَهُ سِقَاءً وَزَعَمَ أَبُوهُ أَنَّهُ يَنْزِعُهُ مِنِّي قَالَ أَنْتِ أَحَقُّ بِهِ مَا لَمْ تَنْكِحِي
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
এক মহিলা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বললো, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এই আমার ছেলে, আমার পেট ছিলো তার পাত্র, আমার কোল ছিলো তার দোলনা, এবং আমার স্তন ছিলো তার পুষ্টির উৎস, কিন্তু এখন তার বাবা বলছে যে, সে তাকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিবে?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তুমি তার উপর অধিক হকদার, যতক্ষণ না তুমি অন্য কোথাও বিবাহ করো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৪২০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا بَهْزٌ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ كُلُوا وَاشْرَبُوا وَتَصَدَّقُوا وَالْبَسُوا فِي غَيْرِ مَخِيلَةٍ وَلَا سَرَفٍ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ أَنْ تُرَى نِعْمَتُهُ عَلَى عَبْدِهِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “খাও, পান করো, দান-সদকা করো এবং পোশাক পরিধান করো, কিন্তু অহঙ্কার করো না বা অতিরিক্ত খরচ করো না। আল্লাহ পছন্দ করেন যে তাঁর নিয়ামতের প্রভাব তাঁর বান্দার উপর স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হোক।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৪২১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ قَالَ قَالَ عَمْرُو بْنُ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَيُّمَا امْرَأَةٍ نَكَحَتْ عَلَى صَدَاقٍ أَوْ حِبَاءٍ أَوْ عِدَةٍ قَبْلَ عِصْمَةِ النِّكَاحِ فَهُوَ لَهَا وَمَا كَانَ بَعْدَ عِصْمَةِ النِّكَاحِ فَهُوَ لِمَنْ أُعْطِيَهُ وَأَحَقُّ مَا يُكْرَمُ عَلَيْهِ الرَّجُلُ ابْنَتُهُ أَوْ أُخْتُهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কোনো নারীকে বিয়ের পূর্বে মোহরানা বা দান হিসেবে কিংবা অন্য কোনো প্রকারে পাত্রের পক্ষ হতে কিছু দেয়া হলে, তা ওই স্ত্রীলোকটির জন্যেই। আর বিয়ের পরে যা কিছু দেয়া হবে, সেটা তার যাকে তা দেয়া হয়েছে। আর বিয়ে উপলক্ষে কেউ নিজ কন্যা বা বোনকে কিছু দিলে, সেটা অধিক সম্মানজনক।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৪২২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَخْبَرَنِي مَعْمَرٌ أَنَّ ابْنَ جُرَيْجٍ أَخْبَرَهُ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِي أَنَّ زِنْبَاعًا أَبَا رَوْحٍ وَجَدَ غُلَامًا لَهُ مَعَ جَارِيَةٍ لَهُ فَجَدَعَ أَنْفَهُ وَجَبَّهُ فَأَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ مَنْ فَعَلَ هَذَا بِكَ قَالَ زِنْبَاعٌ فَدَعَاهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ مَا حَمَلَكَ عَلَى هَذَا فَقَالَ كَانَ مِنْ أَمْرِهِ كَذَا وَكَذَا فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِلْعَبْدِ اذْهَبْ فَأَنْتَ حُرٌّ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَمَوْلَى مَنْ أَنَا قَالَ مَوْلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ فَأَوْصَى بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمُسْلِمِينَ قَالَ فَلَمَّا قُبِضَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَاءَ إِلَى أَبِي بَكْرٍ فَقَالَ وَصِيَّةُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ نَعَمْ نُجْرِي عَلَيْكَ النَّفَقَةَ وَعَلَى عِيَالِكَ فَأَجْرَاهَا عَلَيْهِ حَتَّى قُبِضَ أَبُو بَكْرٍ فَلَمَّا اسْتُخْلِفَ عُمَرُ جَاءَهُ فَقَالَ وَصِيَّةُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ نَعَمْ أَيْنَ تُرِيدُ قَالَ مِصْرَ فَكَتَبَ عُمَرُ إِلَى صَاحِبِ مِصْرَ أَنْ يُعْطِيَهُ أَرْضًا يَأْكُلُهَا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একদা একটি লোক চিৎকার করতে করতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে বললো, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! অমুকের দাসী!” তিনি বললেন, “দুর্ভাগা! তোমার কি হয়েছে বলো।” সে বললো, “আমার অনিষ্ট হয়েছে। সে তার মালিকের দাসীর প্রতি তাকানোর কারণে, সে তার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে তার লিঙ্গ কেটে দিয়েছে।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “লোকটিকে আমার নিকট নিয়ে আসো।” তাকে খুঁজে না পাওয়া গেলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তুমি দাসত্বমুক্ত; তুমি চলে যাও।” লোকটি বললো, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! কে আমাকে সাহায্য করবে?” তিনি বললেন, “(তোমায় সাহায্য করা) প্রত্যেক মুসলিম বা মুমিনের দায়িত্ব।” ইমাম আবূ দাঊদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, দাসত্বমুক্ত ব্যক্তির নাম ছিলো, রাওহ ইবনু দীনার। ইমাম আবূ দাঊদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, তার লিঙ্গ কর্তনকারীর নাম ছিল যিন্বা। ইমাম আবূ দাঊদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, এই যিন্বা আবূ রাওহ ছিলো দাসটির মনিব। যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মারা গেলেন, দাসটি সায়াইদুনা সিদ্দিক আকবর রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে গেলো ও রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা উল্লেখ করলো। তাই সাইয়্যিদুনা সিদ্দিক আকবর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর ভরণ-পোষণ পরিশোধ করলেন। তারপর যখন সাইয়্যিদুনা সিদ্দিক আকবর রাদিয়াল্লাহু আনহু ইন্তেকাল করলেন এবং সাইয়্যিদুনা ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহু খলিফা নিযুক্ত হলেন, তখন সে আবার এসে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অসিয়ত উল্লেখ করলেন। সাইয়্যিদুনা ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “হ্যাঁ! মনে আছে তুমি কোথায় যেতে চাও?” দাসটি মিশরের কথা উল্লেখ করলো। সাইয়্যিদুনা উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু মিশরের গভর্নরের কাছে একটি চিঠি লিখে অনুরোধ করেন যে, তাকে খাওয়া-দাওয়ার জন্যে পর্যাপ্ত জমি দেওয়া হোক। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৪২৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ يَعْنِي ابْنَ رَاشِدٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مُوسَى عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي كُلِّ إِصْبَعٍ عَشْرٌ مِنْ الْإِبِلِ وَفِي كُلِّ سِنٍّ خَمْسٌ مِنْ الْإِبِلِ وَالْأَصَابِعُ سَوَاءٌ وَالْأَسْنَانُ سَوَاءٌ قَالَ مُحَمَّدٌ وَسَمِعْتُ مَكْحُولًا يَقُولُ وَلَا يَذْكُرُهُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ عَبْدُ الرَّزَّاقِ مَا رَأَيْتُ أَحَدًا أَوْرَعَ فِي الْحَدِيثِ مِنْ مُحَمَّدِ بْنِ رَاشِدٍ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “রক্ত পণের ক্ষেত্রে প্রতিটি আঙুলের জন্যে দশটি উট ফরজ, প্রতিটি দাঁতের জন্যে পাঁচটি উট ফরজ। আর সব আঙুল একই সমান এবং সব দাঁতও একই সমান।”
[মুসনাদে আহমাদ : ৬৪২৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ الْجَزَرِيِّ أَنَّ عَمْرَو بْنَ شُعَيْبٍ أَخْبَرَهُ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اسْتَنَدَ إِلَى بَيْتٍ فَوَعَظَ النَّاسَ وَذَكَّرَهُمْ قَالَ لَا يُصَلِّي أَحَدٌ بَعْدَ الْعَصْرِ حَتَّى اللَّيْلِ وَلَا بَعْدَ الصُّبْحِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ وَلَا تُسَافِرُ الْمَرْأَةُ إِلَّا مَعَ ذِي مَحْرَمٍ مَسِيرَةَ ثَلَاثٍ وَلَا تَتَقَدَّمَنَّ امْرَأَةٌ عَلَى عَمَّتِهَا وَلَا عَلَى خَالَتِهَا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাবার দিকে হেলান দিয়ে লোকদের উপদেশ দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, “আসরের নামাজের পর রাত না হওয়া পর্যন্ত কেউ নামাজ পড়বে না। ফজরের নামাজের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত কেউ নামাজ পড়বে না। মাহরাম ছাড়া কোনো মহিলার তিন দিনের ভ্রমণ করা উচিত নয় এবং কোন মহিলাকে তার ফুফুর সাথে একত্রে বিয়ে করা উচিত নয়।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৪২৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَخْبَرَنَا دَاوُدُ بْنُ قَيْسٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الْعَقِيقَةِ فَقَالَ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْعُقُوقَ وَكَأَنَّهُ كَرِهَ الِاسْمَ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّمَا نَسْأَلُكَ عَنْ أَحَدِنَا يُولَدُ لَهُ قَالَ مَنْ أَحَبَّ مِنْكُمْ أَنْ يَنْسُكَ عَنْ وَلَدِهِ فَلْيَفْعَلْ عَنْ الْغُلَامِ شَاتَانِ مُكَافَأَتَانِ وَعَنْ الْجَارِيَةِ شَاةٌ قَالَ وَسُئِلَ عَنْ الْفَرَعِ قَالَ وَالْفَرَعُ حَقٌّ وَأَنْ تَتْرُكَهُ حَتَّى يَكُونَ شُغْزُبًّا أَوْ شُغْزُوبًّا ابْنَ مَخَاضٍ أَوْ ابْنَ لَبُونٍ فَتَحْمِلَ عَلَيْهِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَوْ تُعْطِيَهُ أَرْمَلَةً خَيْرٌ مِنْ أَنْ تَذْبَحَهُ يَلْصَقُ لَحْمُهُ بِوَبَرِهِ وَتُكْفِئُ إِنَاءَكَ وَتُولِهُ نَاقَتَكَ وَقَالَ وَسُئِلَ عَنْ الْعَتِيرَةِ فَقَالَ الْعَتِيرَةُ حَقٌّ قَالَ بَعْضُ الْقَوْمِ لِعَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ مَا الْعَتِيرَةُ قَالَ كَانُوا يَذْبَحُونَ فِي رَجَبٍ شَاةً فَيَطْبُخُونَ وَيَأْكُلُونَ وَيُطْعِمُونَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
কেউ একজন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আকীকা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আল্লাহ তাআলা কষ্ট পছন্দ করেন না।” সাহাবীগণ বললো, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমরা আপনাকে আমাদের সন্তানদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছি।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তার সন্তানদের পক্ষ থেকে কুরবানী করতে চায়, সে যেনো ছেলের জন্যে দুটি এবং মেয়ের জন্যে একটি ছাগল জবাই করে।” তারপর কেউ একজন উটের প্রথম বাছুর কুরবানী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “এটা জায়েজ, কিন্তু যদি তুমি দুই বা তিন বছর বয়স পর্যন্ত রেখে দাও, তারপর আল্লাহর পথে কাউকে সওয়ারী হিসেবে অথবা বিধবাদের হাতে তুলে দাও, তাহলে এ কাজ একে যাবাহ করে এর গোশত ও লোম চটচটে করার চেয়ে উত্তম হবে। অথবা তোমার উটকে ভারাক্রান্ত করা ও তোমার দুধের পাত্র উপুর করে দেয়ার চাইতে উত্তম হবে।” তারপর কেউ একজন “উতিরা” (প্রথম বাছুর) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “উতিরা” (প্রথম বাছুর) জায়েজ। কেউ একজন আমর বিন শুআইবকে “উতিরা” শব্দের অর্থ জিজ্ঞাসা করলে, তিনি তাকে বললেন যে, “লোকেরা রজব মাসে একটি ছাগল জবাই করতো, তা রান্না করতো, নিজে খেতো এবং অন্যদেরকেও খাওয়াত।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৪২৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ وَسُرَيْجٌ قَالَا حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَدْرَكَ رَجُلَيْنِ وَهُمَا مُقْتَرِنَانِ يَمْشِيَانِ إِلَى الْبَيْتِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا بَالُ الْقِرَانِ قَالَا يَا رَسُولَ اللَّهِ نَذَرْنَا أَنْ نَمْشِيَ إِلَى الْبَيْتِ مُقْتَرِنَيْنِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْسَ هَذَا نَذْرًا فَقَطَعَ قِرَانَهُمَا قَالَ سُرَيْجٌ فِي حَدِيثِهِ إِنَّمَا النَّذْرُ مَا ابْتُغِيَ بِهِ وَجْهُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুই ব্যক্তিকে একে অপরকে আঁকড়ে ধরে আল্লাহর ঘরের দিকে যেতে দেখে, জিজ্ঞেস করলেন, “এভাবে আঁকড়ে ধরে হাঁটার অর্থ কী?” তারা বলল, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমরা এই মানত নিয়েছিলাম যে, আমরা এই ভাবে একই পথে হেঁটে আল্লাহর ঘরের দিকে যাবো।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “এটা কোনো মানত নয়” এবং তিনি তাদের দুজনের মধ্যে এই পরিস্থিতির অবসান ঘটালেন। (বর্ণনাকারী তার হাদিসে আরও বলেছেন যে, মানত হলো এমন কিছুর জন্যে, যার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা হয়।) [মুসনাদে আহমাদ : ৬৪২৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا هَيْثَمُ بْنُ خَارِجَةَ حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ مَيْسَرَةَ عَنِ ابْنِ حَرْمَلَةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يَقُصُّ عَلَى النَّاسِ إِلَّا أَمِيرٌ أَوْ مَأْمُورٌ أَوْ مُرَاءٍ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “ধনী ব্যক্তি, অনুমতি প্রাপ্ত ব্যক্তি বা ভণ্ড ব্যক্তি ব্যতীত আর কেউ লোকদের কাছে গল্প বলে না।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৪২৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ وَعَبْدُ الصَّمَدِ قَالَا حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ يَعْنِي ابْنَ رَاشِدٍ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَضَى أَنَّ عَقْلَ أَهْلِ الْكِتَابَيْنِ نِصْفُ عَقْلِ الْمُسْلِمِينَ وَهُمْ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আহলে কিতাব অর্থাৎ ইহুদী ও খ্রিস্টানদের সম্পর্কে রায় দিয়েছেন, “তাদের রক্তপণ হবে একজন মুসলিমের রক্তপণের অর্ধেক।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৪২৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ وعَبْدُ الصَّمَدِ قَالَا حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ يَعْنِي ابْنَ مُوسَى عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ قَتَلَ مُتَعَمِّدًا دُفِعَ إِلَى أَوْلِيَاءِ الْقَتِيلِ فَإِنْ شَاءُوا قَتَلُوهُ وَإِنْ شَاءُوا أَخَذُوا الدِّيَةَ وَهِيَ ثَلَاثُونَ حِقَّةً وَثَلَاثُونَ جَذَعَةً وَأَرْبَعُونَ خَلِفَةً وَذَلِكَ عَقْلُ الْعَمْدِ وَمَا صَالَحُوا عَلَيْهِ فَهُوَ لَهُمْ وَذَلِكَ تَشْدِيدُ الْعَقْلِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত ভাবে কাউকে হত্যা করে, তাকে মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। যদি তারা ইচ্ছা করে, তাহলে তারা প্রতিশোধ হিসেবে তাকে হত্যা করতে পারে, এবং যদি তারা ইচ্ছা করে, তাহলে তারা রক্তপণ নিতে পারে। যার মধ্যে থাকবে ত্রিশটি এক বছর বয়সের, আর ত্রিশটি দুই বছর বয়সের এবং চল্লিশটি গর্ভবতী উট। এটি ইচ্ছাকৃত হত্যার রক্তপণ, এবং পক্ষ গুলির মধ্যে যা কিছু সম্মত হয়, রক্তপণ মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীদের কাছে যাবে, এবং এটি একটি গুরুতর রক্তপণ। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৪৩০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ وَعَبْدُ الصَّمَدِ قَالَا حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ عَقْلُ شِبْهِ الْعَمْدِ مُغَلَّظٌ مِثْلُ عَقْلِ الْعَمْدِ وَلَا يُقْتَلُ صَاحِبُهُ وَذَلِكَ أَنْ يَنْزُوَ الشَّيْطَانُ بَيْنَ النَّاسِ قَالَ أَبُو النَّضْرِ فَيَكُونُ رِمِّيًّا فِي عِمِّيًّا فِي غَيْرِ فِتْنَةٍ وَلَا حَمْلِ سِلَاحٍ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “সন্দেহভাজন ইচ্ছাকৃত হত্যার জন্যে রক্তপণ ইচ্ছাকৃত হত্যার জন্যে রক্তপণ (যা পূর্ববর্তী হাদিসে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে) এর মতোই ভারী হবে, তবে এই ক্ষেত্রে খুনিকে হত্যা করা হবে না এবং পরিস্থিতি এমন হবে যে, শয়তানরা মানুষের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়বে এবং কোনও পরীক্ষা ছাড়াই বা অস্ত্র হাতে না নিয়েই নির্বিচারে হত্যা করতে শুরু করবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৪৩১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَاشِدٍ عَنْ سُلَيْمَانَ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَضَى أَنَّ مَنْ قُتِلَ خَطَأً فَدِيَتُهُ مِائَةٌ مِنْ الْإِبِلِ ثَلَاثُونَ بِنْتَ مَخَاضٍ وَثَلَاثُونَ بِنْتَ لَبُونٍ وَثَلَاثُونَ حِقَّةً وَعَشَرَةٌ بَنُو لَبُونٍ ذُكُورٌ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “ভুলক্রমে নিহত ব্যক্তির রক্তপণ হলো একশটি উটনী, যাদের ত্রিশটি এক বছর বয়সের হতে হবে, আর ত্রিশটি দুই বছর বয়সের হতে হবে, আর ত্রিশটি চার বছর বয়সের হতে হবে আর দশটি উট হতে হবে, দুই বছর বয়সের নর বাচ্চা।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৪৩২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ الْحَنَفِيُّ حَدَّثَنَا أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ نَائِمًا فَوَجَدَ تَمْرَةً تَحْتَ جَنْبِهِ فَأَخَذَهَا فَأَكَلَهَا ثُمَّ جَعَلَ يَتَضَوَّرُ مِنْ آخِرِ اللَّيْلِ وَفَزِعَ لِذَلِكَ بَعْضُ أَزْوَاجِهِ فَقَالَ إِنِّي وَجَدْتُ تَمْرَةً تَحْتَ جَنْبِي فَأَكَلْتُهَا فَخَشِيتُ أَنْ تَكُونَ مِنْ تَمْرِ الصَّدَقَةِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার পাশে একটি খেজুর দেখতে পেলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা খেয়ে ফেললেন, তারপর রাতের শেষভাগে তিনি অস্থির হয়ে পড়লেন। এতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রী শঙ্কিত হয়ে পড়লে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন যে, “আমি আমার পাশে একটি খেজুর পেয়েছি, যা আমি খেয়েছি।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৪৩৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ أَخْبَرَنَا أَيُّوبُ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْبَيِّعَانِ بِالْخِيَارِ حَتَّى يَتَفَرَّقَا أَوْ يَكُونَ بَيْعَ خِيَارٍ قَالَ وَرُبَّمَا قَالَ نَافِعٌ أَوْ يَقُولَ أَحَدُهُمَا لِلْآخَرِ اخْتَرْ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “বিক্রেতা এবং ক্রেতা পৃথক না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্তৃত্ব রয়েছে যে, তারা পন্য ক্রয়-বিক্রয় করবে অথবা ক্রয়-বিক্রয় বাতিল করবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৪৩৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ يَعْنِي ابْنَ رَاشِدٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مُوسَى أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو كَتَبَ إِلَى عَامِلٍ لَهُ عَلَى أَرْضٍ لَهُ أَنْ لَا تَمْنَعْ فَضْلَ مَائِكَ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ مَنَعَ فَضْلَ الْمَاءِ لِيَمْنَعَ بِهِ فَضْلَ الْكَلَإِ مَنَعَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَضْلَهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
সায়্যিদুনা ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু একবার তার ক্ষেতের একজন শ্রমিককে চিঠি লিখেছিলেন, যেখানে তিনি বলেছিলেন, কাউকে পানি দিতে বাধা দিও না, কারণ আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, “যে ব্যক্তি কাউকে পানি বা ঘাস দিতে বাধা দেয়, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার কাছ থেকে তার অনুগ্রহ ছিনিয়ে নিবেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৪৩৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস