

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ حَدَّثَنِي نَافِعٌ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الصَّلَاةُ فِي الْجَمِيعِ تَزِيدُ عَلَى صَلَاةِ الرَّجُلِ وَحْدَهُ سَبْعًا وَعِشْرِينَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “জামাতে নামাজ পড়ার ফজিলত, একাকী নামাজ পড়ার চেয়ে সাতাশ (২৭) গুণ বেশি।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬১৬৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ أَنْبَأَنَا نَافِعٌ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَحْفُوا الشَّوَارِبَ وَأَعْفُوا اللِّحَى
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমরা গোঁফ ভালো ভাবে ছাঁটো এবং দাড়ি ভালো ভাবে বড় করো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬১৬৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا سُرَيْجٌ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّهُ كَانَ يَرْمِي الْجَمْرَةَ يَوْمَ النَّحْرِ رَاكِبًا وَسَائِرَ ذَلِكَ مَاشِيًا وَيُخْبِرُهُمْ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَفْعَلُ ذَلِكَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
সাইয়্যিদুনা ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু যিল-হজ্জের ১০ তারিখে জামারাতুল আকাবায় পাথর নিক্ষেপ করার জন্যে সওয়ার হয়ে যেতেন এবং অন্যান্য দিন গুলোতে তিনি পাথর নিক্ষেপ করার জন্যে পায়ে হেঁটে যেতেন। আর তিনি বলতেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও এমনটি করতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৬১৬৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ خَالِدٍ الْخَيَّاطُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ يَعْنِي الْعُمَرِيَّ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَقْطَعَ الزُّبَيْرَ حُضْرَ فَرَسِهِ بِأَرْضٍ يُقَالُ لَهَا ثُرَيْرٌ فَأَجْرَى الْفَرَسَ حَتَّى قَامَ ثُمَّ رَمَى بِسَوْطِهِ فَقَالَ أَعْطُوهُ حَيْثُ بَلَغَ السَّوْطُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, জুবাইর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে শারীর নামক একখণ্ড জমি জামিন হিসেবে দিয়েছিলেন। আর ঘটনাক্রমে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি দ্রুতগামী ঘোড়ায় চড়ে তাকে দৌড়াতে বাধ্য করলেন, তারপর এক জায়গায় থামলেন এবং চাবুক ছুঁড়ে মারলেন এবং বললেন, “জুবাইর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে যতদূর এই চাবুক গেছে ততদূর জমি দাও।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬১৬৯]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস


حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُثْمَانَ يَعْنِي الْغَطَفَانِيَّ أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ نَافِعٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الْقَزَعِ وَالْقَزَعُ أَنْ يُحْلَقَ الصَّبِيُّ فَيُتْرَكَ بَعْضُ شَعَرِهِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ‘কুযা’ করতে নিষেধ করেছেন। ‘কুযা’ অর্থ হলো শিশুদের মাথার সম্পূর্ণ চুল না কেটে, মাথায় কিছু চুল বাকি রাখা। [মুসনাদে আহমাদ : ৬১৭০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا حَمَّادٌ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ أَوَّلُ صَدَقَةٍ كَانَتْ فِي الْإِسْلَامِ صَدَقَةُ عُمَرَ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ احْبِسْ أُصُولَهَا وَسَبِّلْ ثَمَرَتَهَا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
ইসলামে সর্বপ্রথম দান ছিলো উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু যা দান করেছিলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বলেছিলেন, “যদি তোমার কাছে দান করার মতো কিছু থাকে, তাহলে তার আসল পরিমাণ রেখে দাও এবং তার লাভ দান করে দাও।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬১৭১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا حَمَّادٌ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُعَلِّمُنَا الْقُرْآنَ فَإِذَا مَرَّ بِسُجُودِ الْقُرْآنِ سَجَدَ وَسَجَدْنَا مَعَهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে কুরআন শিক্ষা দিতেন। এই সময় তিনি যদি সিজদার আয়াত তেলাওয়াত করে সিজদা করতেন, তাহলে আমরাও তাঁর সাথে সিজদা করতাম। [মুসনাদে আহমাদ : ৬১৭২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ قَالَ كَانَ ابْنُ عُمَرَ يَبِيتُ بِذِي طُوًى فَإِذَا أَصْبَحَ اغْتَسَلَ وَأَمَرَ مَنْ مَعَهُ أَنْ يَغْتَسِلُوا وَيَدْخُلُ مِنْ الْعُلْيَا فَإِذَا خَرَجَ خَرَجَ مِنْ السُّفْلَى وَيَزْعُمُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَفْعَلُ ذَلِكَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু যিতুওয়ায় রাত কাটাতেন এবং ফজরের পর গোসল করতেন এবং তাঁর সাথীদেরও গোসল করার নির্দেশ দিতেন। তিনি উপরের সানিয়া দিয়ে প্রবেশ করতেন এবং নীচের সানিয়া দিয়ে বের হতেন। তিনি বলতেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও একই কাজ করতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৬১৭৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ قَالَ كَانَ ابْنُ عُمَرَ يَرْمُلُ مِنْ الْحَجَرِ إِلَى الْحَجَرِ وَيَزْعُمُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَفْعَلُهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু কালো পাথর থেকে কালো পাথর পর্যন্ত তাওয়াফের প্রথম তিনি চক্কর রমল আদায় করতেন। তারা বিশ্বাস করতো যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও একই কাজ করতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৬১৭৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ خَالِدٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَمَى النَّقِيعَ لِلْخَيْلِ قَالَ حَمَّادٌ فَقُلْتُ لَهُ لِخَيْلِهِ قَالَ لَا لِخَيْلِ الْمُسْلِمِينَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নাকিয়াকে ঘোড়ার চারণভূমি বানিয়ে ছিলেন। হাম্মাদ বলেন, আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম: “নিজের ঘোড়ার জন্যে?” শিক্ষক উত্তর দিলেন, “না, বরং মুসলমানদের ঘোড়ার জন্যে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬১৭৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ سُئِلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الضَّبِّ فَقَالَ لَا آكُلُهُ وَلَا أُحَرِّمُهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দব্ব (অনেকটা গুইসাপের মতো দেখতে) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, “আমি তা খাই না এবং হারামও করি না।”
[মুসনাদে আহমাদ : ৬১৭৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ أَخْبَرَنَا أَيُّوبُ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ سَبَّقَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَ الْخَيْلِ فَأَرْسَلَ مَا ضُمِّرَ مِنْهَا مِنْ الْحَفْيَاءِ أَوْ الحَيْفَاءِ إِلَى ثَنِيَّةِ الْوَدَاعِ وَأَرْسَلَ مَا لَمْ يُضَمَّرْ مِنْهَا مِنْ ثَنِيَّةِ الْوَدَاعِ إِلَى مَسْجِدِ بَنِي زُرَيْقٍ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ فَكُنْتُ فَارِسًا يَوْمَئِذٍ فَسَبَقْتُ النَّاسَ طَفَّفَ بِيَ الْفَرَسُ مَسْجِدَ بَنِي زُرَيْقٍ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোড়ার প্রতিযোগিতার আয়োজন করলেন আয়োজন করেন এবং বিজয়ীকে পুরস্কার দেন। তাদের মধ্যে যে সব ঘোড়া পাতলা ছিলো, তিনি তাদেরকে প্রতিযোগিতার জন্যে হাফিয়া থেকে দ্বিতীয় বিদায় পর্যন্ত নিযুক্ত করলেন। এবং যারা পাতলা দেহের অধিকারী তারা সানিয়াহ আল-ওয়াদা থেকে মসজিদ বনী জারিক পর্যন্ত। আমি সেই সময় ঘোড়ায় চড়েছিলাম এবং আমি প্রতিযোগিতা জিতেছিলাম। আমার ঘোড়াটি আমাকে মসজিদ বনী জারিকের কাছে নিয়ে যায়। [মুসনাদে আহমাদ : ৬১৭৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَتَّابٌ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ أَخْبَرَنَا أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَ بِزَكَاةِ الْفِطْرِ أَنْ تُؤَدَّى قَبْلَ خُرُوجِ النَّاسِ إِلَى الصَّلَاةِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “ঈদগাহে রওয়ানা হওয়ার আগে সাদাকাহ ফিতর আদায় করতে হবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬১৭৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ صَحِبْتُ ابْنَ عُمَرَ إِلَى الْمَدِينَةِ فَلَمْ أَسْمَعْهُ يُحَدِّثُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَّا حَدِيثًا كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأُتِيَ بِجُمَّارَةٍ فَقَالَ إِنَّ مِنْ الشَّجَرِ شَجَرَةً مَثَلُهَا كَمَثَلِ الرَّجُلِ الْمُسْلِمِ فَأَرَدْتُ أَنْ أَقُولَ هِيَ النَّخْلَةُ فَنَظَرْتُ فَإِذَا أَنَا أَصْغَرُ الْقَوْمِ فَسَكَتُّ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هِيَ النَّخْلَةُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “গাছ সমূহের মধ্যে এমন একটি গাছ আছে যার পাতা কখনো ঝরে না। সেটিই মুমিনের উদাহরণ। তোমরা আমাকে বলো, সেটা কোন গাছ?” আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, সকলেই ধারণা করতে লাগলো পাহাড়ী অথবা জংলী গাছ হবে, কিন্তু আমার মনে হলো সেটা নিশ্চই খেজুর গাছ। অবশেষে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “সেটা খেজুর গাছ।” অথচ আমি সেটা বলতে লজ্জা পাচ্ছিলাম (বয়সে ছোট হবার কারণে তা বলিনি)। আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকট আমার মনের ধারণা প্রকাশ করলাম। তিনি বললেন, “তুমি যদি সেই কথাটা বলে দিতে, তাহলে সেটা আমার নিকট এতো এতো সম্পদের চাইতেও অধিক প্রিয় হতো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬১৭৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ خَالِدٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَاطَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَهْلَ خَيْبَرَ عَلَى الشَّطْرِ وَكَانَ يُعْطِي نِسَاءَهُ مِنْهَا مِائَةَ وَسْقٍ ثَمَانِينَ تَمْرًا وَعِشْرِينَ شَعِيرًا قَالَ أَبُو عَبْد الرَّحْمَنِ قَرَأْتُ عَلَى أَبِي هَذِهِ الْأَحَادِيثَ إِلَى آخِرِهَا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খায়বারের লোকদের সাথে একটি চুক্তি করেছিলেন, “তোমরা যে ফলের চাষ করবে তার অর্ধেক আমাদের দেবে।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতি বছর তাঁর স্ত্রীদের এই ফলের একশ ওয়াশক দিতেন, যার মধ্যে আশি ওয়াশক খেজুর এবং বিশ ওয়াশক যব ছিলো। [মুসনাদে আহমাদ : ৬১৮০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ عَنْ خَالِهِ الْحَارِثِ عَنْ حَمْزَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كَانَتْ تَحْتِي امْرَأَةٌ كَانَ عُمَرُ يَكْرَهُهَا فَقَالَ طَلِّقْهَا فَأَبَيْتُ فَأَتَى عُمَرُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَطِعْ أَبَاكَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু আমার স্ত্রীকে অপছন্দ করতেন, তাই তিনি আমার স্ত্রীকে আমাকে তালাক দিতে বললেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার কাছে এসে বললেন যে, “তোমার পিতার আনুগত্য করো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬১৮১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ عَنْ خَالِهِ الْحَارِثِ عَنْ سَالِمٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْمُرُنَا بِالتَّخْفِيفِ وَإِنْ كَانَ لَيَؤُمُّنَا بِالصَّافَّاتِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে সংক্ষিপ্ত নামাযের ইমামতি করার নির্দেশ দিতেন। আর আমাদের ইমামতি করার সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সূরা সাফাতের কয়েকটি আয়াতের মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৬১৮২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ كُنَّا نَشْتَرِي الطَّعَامَ مِنْ الرُّكْبَانِ جُزَافًا فَنَهَانَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ نَبِيعَهُ حَتَّى نَنْقُلَهُ مِنْ مَكَانِهِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে আমরা ঘোড়ায় চড়ে আসা লোকদের কাছ থেকে শস্য কিনতাম। কিন্তু রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে সেখানে দাঁড়িয়ে অন্য কারো কাছে তা বিক্রি করতে নিষেধ করেছিলেন, যতক্ষণ না আমরা তা আমাদের তাঁবুতে নিয়ে যাই। [মুসনাদে আহমাদ : ৬১৮৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ سُفْيَانَ حَدَّثَنِي أَبُو إِسْحَاقَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ ابْنَ عُمَرَ صَلَّى الْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ بِجَمْعٍ بِإِقَامَةٍ وَاحِدَةٍ فَقَالَ لَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَالِكٍ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ مَا هَذِهِ الصَّلَاةُ فَقَالَ صَلَّيْتُهَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي هَذَا الْمَكَانِ بِإِقَامَةٍ وَاحِدَةٍ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মালিক আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার সাইয়্যিদুনা ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু মুযদালিফায় একই সময়ে মাগরিবের তিন রাকাত ও এশার দুই রাকাত নামায আদায় করলেন। আমি বললাম, “হে আবদুর রহমান! এটা কি ধরনের নামায?” তিনি বললেন, “আমি এই নামায গুলো রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে, এই স্থানে এক ইকামাতে আদায় করেছি।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬১৮৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَزِيدُ بَنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ كَانَ مُتَحَرِّيَهَا فَلْيَتَحَرَّهَا لَيْلَةَ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ وَقَالَ تَحَرَّوْهَا لَيْلَةَ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ يَعْنِي لَيْلَةَ الْقَدْرِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমাদের মধ্যে যারা কদরের রাত খুঁজে পেতে চায়, তারা যেনো রমযানের ২৭তম রাতে তা অনুসন্ধান করে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬১৮৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْد اللَّهِ قَالَ قَرَأْتُ عَلَى أَبِي حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا أَبِي عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ حَدَّثَنِي عِكْرِمَةُ بْنُ خَالِدِ بْنِ الْعَاصِ الْمَخْزُومِيُّ قَالَ قَدِمْتُ الْمَدِينَةَ فِي نَفَرٍ مِنْ أَهْلِ مَكَّةَ نُرِيدُ الْعُمْرَةَ مِنْهَا فَلَقِيتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ فَقُلْتُ إِنَّا قَوْمٌ مِنْ أَهْلِ مَكَّةَ قَدِمْنَا الْمَدِينَةَ وَلَمْ نَحُجَّ قَطُّ أَفَنَعْتَمِرُ مِنْهَا قَالَ نَعَمْ وَمَا يَمْنَعُكُمْ مِنْ ذَلِكَ فَقَدْ اعْتَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عُمَرَهُ كُلَّهَا قَبْلَ حَجَّتِهِ فَاعْتَمَرْنَا
হজরত ইকরিমা বিন খালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার আমি মক্কা থেকে কিছু লোকের সাথে মদিনায় আসি। আমরা মদিনা থেকে ওমরার ইহরাম বাঁধতে চেয়েছিলাম। সেখানে আমার সাথে সায়্যিদুনা ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর দেখা হয়। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করি, “আমরা মক্কা থেকে কিছু লোক মদিনায় এসেছি। আমরা আগে কখনও হজ্জ করিনি। আমরা কি মদিনা থেকে ওমরার ইহরাম বাঁধতে পারি?” তিনি বললেন, “হ্যাঁ, এতে নিষেধ কী? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজ্জের পূর্বে তাঁর সকল ওমরাহ পালন করেছিলেন, এবং আমরাও উমরাহ পালন করেছি।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬১৮৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حَفْصٍ أَخْبَرَنَا وَرْقَاءُ قَالَ وَقَالَ عَطَاءٌ عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْكَوْثَرُ نَهَرٌ فِي الْجَنَّةِ حَافَّتَاهُ مِنْ ذَهَبٍ وَالْمَاءُ يَجْرِي عَلَى اللُّؤْلُؤِ وَمَاؤُهُ أَشَدُّ بَيَاضًا مِنْ اللَّبَنِ وَأَحْلَى مِنْ الْعَسَلِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে বলেছেন, “‘কাওসার’ জান্নাতে একটি নদী হবে, যার দুপাশে সোনার নদী থাকবে এবং তার পানি মুক্তার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হবে এবং তার পানি হবে দুধের চেয়েও সাদা এবং তা মধুর চেয়েও মিষ্টি।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬১৮৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ عَنْ حُصَيْنِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَمُغِيرَةَ الضَّبِّيِّ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ زَوَّجَنِي أَبِي امْرَأَةً مِنْ قُرَيْشٍ فَلَمَّا دَخَلَتْ عَلَيَّ جَعَلْتُ لَا أَنْحَاشُ لَهَا مِمَّا بِي مِنْ الْقُوَّةِ عَلَى الْعِبَادَةِ مِنْ الصَّوْمِ وَالصَّلَاةِ فَجَاءَ عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ إِلَى كَنَّتِهِ حَتَّى دَخَلَ عَلَيْهَا فَقَالَ لَهَا كَيْفَ وَجَدْتِ بَعْلَكِ قَالَتْ خَيْرَ الرِّجَالِ أَوْ كَخَيْرِ الْبُعُولَةِ مِنْ رَجُلٍ لَمْ يُفَتِّشْ لَنَا كَنَفًا وَلَمْ يَعْرِفْ لَنَا فِرَاشًا فَأَقْبَلَ عَلَيَّ فَعَذَمَنِي وَعَضَّنِي بِلِسَانِهِ فَقَالَ أَنْكَحْتُكَ امْرَأَةً مِنْ قُرَيْشٍ ذَاتَ حَسَبٍ فَعَضَلْتَهَا وَفَعَلْتَ وَفَعَلْتَ ثُمَّ انْطَلَقَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَشَكَانِي فَأَرْسَلَ إِلَيَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَتَيْتُهُ فَقَالَ لِي أَتَصُومُ النَّهَارَ قُلْتُ نَعَمْ قَالَ وَتَقُومُ اللَّيْلَ قُلْتُ نَعَمْ قَالَ لَكِنِّي أَصُومُ وَأُفْطِرُ وَأُصَلِّي وَأَنَامُ وَأَمَسُّ النِّسَاءَ فَمَنْ رَغِبَ عَنْ سُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي قَالَ اقْرَإِ الْقُرْآنَ فِي كُلِّ شَهْرٍ قُلْتُ إِنِّي أَجِدُنِي أَقْوَى مِنْ ذَلِكَ قَالَ فَاقْرَأْهُ فِي كُلِّ عَشَرَةِ أَيَّامٍ قُلْتُ إِنِّي أَجِدُنِي أَقْوَى مِنْ ذَلِكَ قَالَ أَحَدُهُمَا إِمَّا حُصَيْنٌ وَإِمَّا مُغِيرَةُ قَالَ فَاقْرَأْهُ فِي كُلِّ ثَلَاثٍ قَالَ ثُمَّ قَالَ صُمْ فِي كُلِّ شَهْرٍ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ قُلْتُ إِنِّي أَقْوَى مِنْ ذَلِكَ قَالَ فَلَمْ يَزَلْ يَرْفَعُنِي حَتَّى قَالَ صُمْ يَوْمًا وَأَفْطِرْ يَوْمًا فَإِنَّهُ أَفْضَلُ الصِّيَامِ وَهُوَ صِيَامُ أَخِي دَاوُدَ قَالَ حُصَيْنٌ فِي حَدِيثِهِ ثُمَّ قَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَإِنَّ لِكُلِّ عَابِدٍ شِرَّةً وَلِكُلِّ شِرَّةٍ فَتْرَةً فَإِمَّا إِلَى سُنَّةٍ وَإِمَّا إِلَى بِدْعَةٍ فَمَنْ كَانَتْ فَتْرَتُهُ إِلَى سُنَّةٍ فَقَدْ اهْتَدَى وَمَنْ كَانَتْ فَتْرَتُهُ إِلَى غَيْرِ ذَلِكَ فَقَدْ هَلَكَ قَالَ مُجَاهِدٌ فَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو حَيْثُ ضَعُفَ وَكَبِرَ يَصُومُ الْأَيَّامَ كَذَلِكَ يَصِلُ بَعْضَهَا إِلَى بَعْضٍ لِيَتَقَوَّى بِذَلِكَ ثُمَّ يُفْطِرُ بِعَدِّ تِلْكَ الْأَيَّامِ قَالَ وَكَانَ يَقْرَأُ فِي كُلِّ حِزْبِهِ كَذَلِكَ يَزِيدُ أَحْيَانًا وَيَنْقُصُ أَحْيَانًا غَيْرَ أَنَّهُ يُوفِي الْعَدَدَ إِمَّا فِي سَبْعٍ وَإِمَّا فِي ثَلَاثٍ قَالَ ثُمَّ كَانَ يَقُولُ بَعْدَ ذَلِكَ لَأَنْ أَكُونَ قَبِلْتُ رُخْصَةَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَحَبُّ إِلَيَّ مِمَّا عُدِلَ بِهِ أَوْ عَدَلَ لَكِنِّي فَارَقْتُهُ عَلَى أَمْرٍ أَكْرَهُ أَنْ أُخَالِفَهُ إِلَى غَيْرِهِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমার পিতা আমাকে কুরাইশ বংশের এক মহিলার সাথে বিবাহ করালেন এবং তাকে দেখতে আসলেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন যে, “তুমি তোমার স্বামীকে কেমন পেলে?” সে বললো, “সে খুবই ভাল লোক। তিনি রাত্রে নিদ্রাও যান না আর দিনেও সাওম (রোযা) ভঙ্গ করেন না।” তখন আমার পিতা আমাকে তিরস্কার করে বললেন, “আমি তোমাকে এক মুসলিম মহিলা বিবাহ করালাম আর তুমি তাকে এভাবে ঠেলে রাখলে।” আমি নিজের মধ্যে শক্তি অনুভব করার কারণে আমর পিতার তিরস্কারের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করছিলাম না। এ সংবাদ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছালে তিনি বললেন, “আমি তো সালাতও আদায় করি আবার নিদ্রাও যাই, সাওম (রোযা) পালনও করি আবার সাওম (রোযা) ভঙ্গও করি। তাই তুমিও সালাত আদায় করো, নিদ্রা যাও, সাওম (রোযা) পালন করো এবং সাওম (রোযা) ভঙ্গও করো।” তিনি বললেন, “তুমি প্রত্যেক মাসে তিন দিন সাওম (রোযা) পালন করো।” তখন আমি বললাম, “আমি তো এরও অধিক সাওম (রোযা) পালনের সামর্থ্য রাখি।” তিনি বললেন, “তাহলে তুমি দাঊদ আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাওম (রোযা) পালন করো। একদিন সাওম (রোযা) পালন করো আর একদিন সাওম (রোযা) ভঙ্গ করো। এটি সর্বোত্তম রোজা এবং এটিই আমার ভাই সায়্যিদুনা দাঊদ আলাইহি ওয়া সাল্লামের পদ্ধতি। ” আমি বললাম, “আমি তো এর চেয়েও অধিক সাওম (রোযা) পালনের সামর্থ্য রাখি।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তাহলে তুমি প্রতি মাসে এক খতম করে কুরআন তিলাওয়াত করো।” অতঃপর তিনি তা পনের দিনে খতম করার অনুমতি দিলেন। আমি বলেছিলাম, “আমি এর চেয়েও অধিক এর চেয়ে অধিক সামর্থ্য রাখি।” এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “প্রত্যেক ইবাদতের একটি ধারালো বিন্দু থাকে এবং প্রতিটি ধারালো বিন্দুর একটি বিরতি থাকে, হয় সুন্নাতের দিকে অথবা বিদআতের দিকে। যে ব্যক্তি সুন্নাতের দিকে এগিয়ে যায়, সে হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়। আর যে ব্যক্তি অন্য কিছুর দিকে এগিয়ে যায়, সে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।” মুজাহিদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, যখন সাইয়্যিদুনা আব্দুল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বৃদ্ধ ও দুর্বল হয়ে পড়তেন, তখন তিনি একইভাবে রোজা রাখতেন এবং কখনও কখনও তিনি কয়েকটি রোজা একত্রিত করতেন যাতে একটি অন্যটিকে শক্তিশালী করে। তারপর দিনের সংখ্যা অনুসারে রোজা রাখতেন। একইভাবে, তিনি কখনও কখনও পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত বৃদ্ধি বা হ্রাস করতেন, তবে তিনি অবশ্যই সাত বা তিনটি সংখ্যা সম্পূর্ণ করতেন। পরে, তিনি বলতেন, “আমি যদি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দেয়া অবকাশকে গ্রহণ করতাম, তবে তা অস্বীকার করার চেয়ে আমার কাছে বেশি আনন্দদায়ক হতো। কিন্তু এখন আমি ভয় পাচ্ছি যে, আমি যে অবস্থায় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছি, এখন ঐ অবকাশকে লঙ্ঘন না করে ফেলি।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬১৮৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ إِسْحَاقَ أَخْبَرَنِي ابْنُ لَهِيعَةَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ الْوَلِيدِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ قَالَ عَلَيَّ مَا لَمْ أَقُلْ فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنْ النَّارِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, “যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করবে এবং এমন কথা বলবে যা আমি বলিনি, সে জাহান্নামে তার ঠিকানা করে নিবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬১৮৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

وَنَهَى عَنْ الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ وَالْكُوبَةِ وَالْغُبَيْرَاءِ قَالَ وَكُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদ, জুয়া, দাবা নিষিদ্ধ করেছেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “প্রত্যেক নেশাকর দ্রব্যই হারাম।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬১৯০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَكْرٍ قَالَ حَاتِمُ بْنُ أَبِي صَغِيرَةَ عَنْ أَبِي بَلْجٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا عَلَى الْأَرْضِ رَجُلٌ يَقُولُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ إِلَّا كُفِّرَتْ عَنْهُ ذُنُوبُهُ وَلَوْ كَانَتْ أَكْثَرَ مِنْ زَبَدِ الْبَحْرِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি পৃথিবীতে এই বাক্য গুলি বলবে, এই বাক্যগুলি তার সমস্ত পাপের কাফফারা হিসেবে গণ্য হবে, যদিও তা সমুদ্রের ফেনার সমান হয়।”
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ
“আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহর জন্যে অনেক প্রশংসা, আল্লাহর জন্যে সকল মহিমা, আল্লাহ ছাড়া কোন শক্তি ও কোন সামর্থ নেই।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬১৯১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَارِمٌ حَدَّثَنَا مُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ أَبِي حَدَّثَنَا الْحَضْرَمِيُّ عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو أَنَّ رَجُلًا مِنْ الْمُسْلِمِينَ اسْتَأْذَنَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي امْرَأَةٍ يُقَالُ لَهَا أُمُّ مَهْزُولٍ وَكَانَتْ تُسَافِحُ وَتَشْتَرِطُ لَهُ أَنْ تُنْفِقَ عَلَيْهِ قَالَ فَاسْتَأْذَنَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوْ ذَكَرَ لَهُ أَمْرَهَا قَالَ فَقَرَأَ عَلَيْهِ نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الزَّانِيَةُ لَا يَنْكِحُهَا إِلَّا زَانٍ أَوْ مُشْرِكٌ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
উম্মে মাহযুল নামে এক মহিলা ব্যভিচার করেছিলো এবং ব্যভিচারীর কাছ থেকে তার খোরপোশ আদায় করতো। এক মুসলিম ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে তাকে বিয়ে করার জন্যে অনুমতি চাইতে এসেছিলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে এই আয়াতটি তেলাওয়াত করে শুনালেন,
ٱلزَّانِي لَا يَنكِحُ إِلَّا زَانِيَةً أَوۡ مُشۡرِكَةٗ وَٱلزَّانِيَةُ لَا يَنكِحُهَآ إِلَّا زَانٍ أَوۡ مُشۡرِكٞۚ وَحُرِّمَ ذَٰلِكَ عَلَى ٱلۡمُؤۡمِنِينَ٣
ব্যভিচারী পুরুষ ব্যভিচারিণী নারীকে অথবা অংশীবাদীণী নারীকে ব্যতীত অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারবে না। আর ব্যভিচারিণী নারীকে ব্যভিচারী পুরুষ অথবা অংশীবাদী পুরুষ ব্যতীত অন্য কেউ বিয়ে করতে পারবে না। এদেরকে বিয়ে করা বিশ্বাসীদের জন্যে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। (২৪. আন নূর : ৩) [মুসনাদে আহমাদ : ৬১৯২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنِي ابْنُ لَهِيعَةَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَمْرٍو عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ صَمَتَ نَجَا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে চুপ থাকে সে নাজাত পায়।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬১৯৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ يُوسُفَ الْأَزْرَقُ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ عَنِ الْقَاسِمِ يَعْنِي ابْنَ مُخَيْمِرَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا أَحَدٌ مِنْ النَّاسِ يُصَابُ بِبَلَاءٍ فِي جَسَدِهِ إِلَّا أَمَرَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ الْمَلَائِكَةَ الَّذِينَ يَحْفَظُونَهُ فَقَالَ اكْتُبُوا لِعَبْدِي كُلَّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ مَا كَانَ يَعْمَلُ مِنْ خَيْرٍ مَا كَانَ فِي وِثَاقِي
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন কোনো বান্দা সৎকর্মের পথে থাকে এবং অসুস্থ হয়ে পড়ে (এবং সেই ইবাদত করতে অক্ষম হয়), তখন তার সৎকর্ম লিপিবদ্ধ করার জন্যে নিযুক্ত ফেরেশতাকে বলা হয় (অর্থাৎ আল্লাহ বলেন), ‘তার জন্যে (তার আমলনামায়) সেই আমলের অনুরূপ আমল লিখে রাখো, যা সে সুস্থ থাকাকালীন করতো, যতক্ষণ না আমি তাকে সুস্থতা দান করি অথবা তাকে (আমার কাছে) ডাকি’।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬১৯৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ حَدَّثَنَا عَطَاءُ بْنُ السَّائِبِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ كَسَفَتْ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَامَ وَقُمْنَا مَعَهُ فَأَطَالَ الْقِيَامَ حَتَّى ظَنَنَّا أَنَّهُ لَيْسَ بِرَاكِعٍ ثُمَّ رَكَعَ فَلَمْ يَكَدْ يَرْفَعُ رَأْسَهُ ثُمَّ رَفَعَ فَلَمْ يَكَدْ يَسْجُدُ ثُمَّ سَجَدَ فَلَمْ يَكَدْ يَرْفَعُ رَأْسَهُ ثُمَّ جَلَسَ فَلَمْ يَكَدْ يَسْجُدُ ثُمَّ سَجَدَ فَلَمْ يَكَدْ يَرْفَعُ رَأْسَهُ ثُمَّ فَعَلَ فِي الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ كَمَا فَعَلَ فِي الْأُولَى وَجَعَلَ يَنْفُخُ فِي الْأَرْضِ وَيَبْكِي وَهُوَ سَاجِدٌ فِي الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ وَجَعَلَ يَقُولُ رَبِّ لِمَ تُعَذِّبُهُمْ وَأَنَا فِيهِمْ رَبِّ لِمَ تُعَذِّبُنَا وَنَحْنُ نَسْتَغْفِرُكَ فَرَفَعَ رَأْسَهُ وَقَدْ تَجَلَّتْ الشَّمْسُ وَقَضَى صَلَاتَهُ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ فَإِذَا كَسَفَ أَحَدُهُمَا فَافْزَعُوا إِلَى الْمَسَاجِدِ فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَقَدْ عُرِضَتْ عَلَيَّ الْجَنَّةُ حَتَّى لَوْ أَشَاءُ لَتَعَاطَيْتُ بَعْضَ أَغْصَانِهَا وَعُرِضَتْ عَلَيَّ النَّارُ حَتَّى إِنِّي لَأُطْفِئُهَا خَشْيَةَ أَنْ تَغْشَاكُمْ وَرَأَيْتُ فِيهَا امْرَأَةً مِنْ حِمْيَرَ سَوْدَاءَ طُوَالَةً تُعَذَّبُ بِهِرَّةٍ لَهَا تَرْبِطُهَا فَلَمْ تُطْعِمْهَا وَلَمْ تَسْقِهَا وَلَا تَدَعُهَا تَأْكُلُ مِنْ خَشَاشِ الْأَرْضِ كُلَّمَا أَقْبَلَتْ نَهَشَتْهَا وَكُلَّمَا أَدْبَرَتْ نَهَشَتْهَا وَرَأَيْتُ فِيهَا أَخَا بَنِي دَعْدَعٍ وَرَأَيْتُ صَاحِبَ الْمِحْجَنِ مُتَّكِئًا فِي النَّارِ عَلَى مِحْجَنِهِ كَانَ يَسْرِقُ الْحَاجَّ بِمِحْجَنِهِ فَإِذَا عَلِمُوا بِهِ قَالَ لَسْتُ أَنَا أَسْرِقُكُمْ إِنَّمَا تَعَلَّقَ بِمِحْجَنِي
হজরত জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যামানায় অর্থাৎ যেদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রিয় পুত্র ইব্রাহীম মৃত্যুবরণ করেন, সূর্যগ্রহণ লেগেছিলো। এতে লোকেরা বলতে লাগল ইব্রাহীমের মৃত্যুর কারণে সূর্যগ্রহণ লেগেছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঠে গিয়ে উপস্থিত লোকদের নিয়ে ছয় রুকূ’ ও চার সাজদায় সলাত আদায় করলেন। সূচনাতে তাকবীর উচ্চারণ করলেন পরে ক্বিরাআত পাঠ করলেন এবং ক্বিরাআত বেশ লম্বা করলেন। অতঃপর রুকূ’ করলেন। রুকূ’তে ক্বিয়ামের সমপরিমাণ সময় অবস্থান করলেন। অতঃপর রুকূ’ থেকে মাথা উঠালেন এবং ক্বিয়ামে প্রথম ক্বিরাআত অপেক্ষা কিছু ছোট ক্বিরাআত পাঠ করলেন। অতঃপর ক্বিয়ামের সমপরিমাণ সময় রুকূতে কাটালেন। তারপর রুকূ থেকে মাথা উঠিয়ে ক্বিরাআত পাঠ করলেন যা পূর্বের ক্বিরাআত অপেক্ষা ছোট ছিল। অতঃপর রুকূতে গিয়ে ক্বিয়ামের পরিমাণ সময় অতিবাহিত করলেন। এরপর রুকূ থেকে মাথা উঠিয়ে সাজদায় গেলেন এবং দুটি সাজদাহ করলেন। তারপর দাঁড়িয়ে আরো তিনটি রুকূ করলেন যাতে কোন রাক‘আত ছিল না। শেষের তিন রুকূ’ এরূপ ছিল যে, প্রত্যেক রুকূ’ পূর্ববর্তী রুকূ’ অপেক্ষা ছোট এবং পরবর্তী রুকূ’ অপেক্ষা দীর্ঘ ছিল। আর প্রতিটি রুকূ’র সময় সাজদার সমপরিমাণ ছিল। অতঃপর তিনি একটু পিছনে সরে আসলেন আর তাঁর পিছনের সারিগুলোও পিছনে সরে গিয়ে আমরা পৌছে গেলাম। আবূ বাক্র বলেন, মহিলাদের কাতার পর্যন্ত পৌছে গেলেন। অতঃপর তিনি সামনে এগিয়ে গেলেন এবং তাঁর সাথে সব লোক সামনে এগিয়ে গেল। অবশেষে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর নির্দিষ্ট স্থানে দাঁড়িয়ে সলাত শেষ করলেন। এদিকে সূর্য তার পূর্বের অবস্থায় ফিরে এলো। সলাত শেষে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপস্থিত লোকদেরকে সম্বোধন করে বললেন, হে লোক সকল। চন্দ্র ও সূর্য আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দু’টি নিদর্শন। আর এ দুটি কোনো মানুষের মৃত্যুর কারণে গ্রাসপ্রাপ্ত হয় না। আবূ বাক্রর বর্ণনায় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কোনে মানুষের মৃত্যুর কারণে” (এ দুটি গ্রহণ হয় না)। অতএব, তোমরা যখন এরূপ কিছু ঘটতে দেখো তখন সলাত আদায় করো, যে পর্যন্ত সূর্য স্পষ্ট হয়ে না যায়। তোমাদের কাছে যে সব বিষয় সম্পর্কে ওয়া’দা করা হয়েছে তার প্রতিটি আমি আমার সলাতের মধ্যে দেখতে পেয়েছি। আমার কাছে জাহান্নাম তুলে ধরা হয়েছে। আর এটা তখন যখন তোমরা আমাকে দেখেছ যে, আমি পিছনে সরে এসেছি এর লেলিহান শিখা আমাকে স্পর্শ করার ভয়ে। অবশেষে আমি জাহান্নামের মধ্যে লৌহশলাকাধারীকে (‘আমর ইবনু মালিক) দেখলাম, সে জাহান্নামের মধ্যে নিজের নাড়ীভূঁড়ি টানছে। এ ব্যক্তি নিজ লাঠি দ্বারা হাজ্জ যাত্রীদের মালপত্র চুরি করতো। এরপর যদি ধরা পড়ে যেতো তখন বলত আহ! আমার শলাকার সাথে লেগে গেছে। আর কেউ অসাবধান থাকলে তা নিয়ে যেতো। এছাড়া জাহান্নামের মধ্যে ঐ মহিলাকেও দেখতে পেলাম যে, একটি বিড়ালকে বেঁধে রেখেছিলো। এরপর এটাকে আহারও দেয়নি, ছেড়েও দেয়নি, যাতে জমিনের পোকামাকড় খেয়ে জীবন ধারণ করতে পারতো। শেষ পর্যন্ত বিড়ালটি ক্ষুধায় ছটফট করে মারা গেলো। অতঃপর আমার সামনে জান্নাত তুলে ধরা হয়েছে। আর এটা তখন দৃষ্ট হয়েছে, যখন তোমরা আমাকে দেখতে পেয়েছ যে, আমি সামনে এগিয়ে গেছি এবং নিজস্থানে দাঁড়িয়েছি। আমি আমার হাত প্রসারিত করলাম এবং এর ফল তুলে নেবার ইচ্ছা করলাম যাতে তোমরা তা দেখতে পাও। অতঃপর এরূপ না করাই স্থিরকৃত হলো। যেসব বিষয় তোমাদের জানানো হয়েছিলো তার প্রতিটি বিষয় আমি আমার এ সলাতে থাকাকালীন দেখতে পেয়েছি। [মুসনাদে আহমাদ : ৬১৯৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস