(২৭) হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনা [হাদিসের সীমা (৪২১৭-৬৮০৭), সর্বমোট হাদিসঃ ২৫৯১টি]

[মোট হাদিসঃ ৩০টি] [অবশিষ্ট হাদিসঃ ১১২১টি]



5686 OK

(৫৬৮৬)

যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا أَسْوَدُ بْنُ عَامِرٍ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ جَابِرٍ عَنْ مُسْلِمٍ الْبَطِينِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ صَلَّيْتُ خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ فَقَرَأَ السَّجْدَةَ فِي الْمَكْتُوبَةِ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পিছনে তিন বার ফরজ সালাত আদায় করেছি এবং তিনি প্রতি সালাতেই সিজদার আয়াত পাঠ করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৫৬৮৬]


হাদিসের মান : যঈফ হাদিস



5687 OK

(৫৬৮৭)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْد اللَّهِ قَالَ وَجَدْتُ هَذَا الْحَدِيثَ فِي كِتَابِ أَبِي بِخَطِّ يَدِهِ حَدَّثَنَا أَسْوَدُ بْنُ عَامِرٍ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ بْنُ عُتْبَةَ حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ خَالِدٍ قَالَ سَأَلْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ عَنْ امْرَأَةٍ أَرَادَ أَنْ يَتَزَوَّجَهَا رَجُلٌ وَهُوَ خَارِجٌ مِنْ مَكَّةَ فَأَرَادَ أَنْ يَعْتَمِرَ أَوْ يَحُجَّ فَقَالَ لَا تَزَوَّجْهَا وَأَنْتَ مُحْرِمٌ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْهُ


হজরত ইকরিমা বিন খালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

আমি ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞাসা করলাম, “যদি কোন পুরুষ মক্কার বাইরে কোন মহিলাকে বিয়ে করে এবং হজ্জ বা ওমরাহ পালনের ইচ্ছা করে, তাহলে তার বিধান কী হবে?” তিনি বললেন, “ইহরাম অবস্থায় বিয়ে করো না, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা নিষেধ করেছেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৬৮৭]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



5688 OK

(৫৬৮৮)

হাদিস দেখুন [৩১:৪৫০৯] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَى فِي بَعْضِ مَغَازِيهِ امْرَأَةً مَقْتُولَةً فَنَهَى عَنْ قَتْلِ النِّسَاءِ وَالصِّبْيَانِ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন যুদ্ধে একজন নারীকে নিহত হতে দেখলেন, তখন তিনি নারী ও শিশুদের হত্যা বন্ধ করে দেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৫৬৮৮]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



5689 OK

(৫৬৮৯)

হাদিস দেখুন [৩১:১৮০] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ شُعْبَةَ حَدَّثَنِي سَلَمَةُ بْنُ كُهَيْلٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا الْحَكَمِ قَالَ سَأَلْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ نَبِيذِ الْجَرِّ وَالدُّبَّاءِ فَقَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ نَبِيذِ الْجَرِّ وَالدُّبَّاءِ وَقَالَ مَنْ سَرَّهُ أَنْ يُحَرِّمَ مَا حَرَّمَ اللَّهُ تَعَالَى وَرَسُولُهُ فَلْيُحَرِّمْ النَّبِيذَ قَالَ وَسَأَلْتُ ابْنَ الزُّبَيْرِ فَقَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الدُّبَّاءِ وَالْجَرِّ قَالَ وَسَأَلْتُ ابْنَ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَحَدَّثَ عَنْ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ الدُّبَّاءِ وَالْمُزَفَّتِ قَالَ وَحَدَّثَنِي أَخِي عَنْ أَبِي سَعِيدٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ الْجَرِّ وَالدُّبَّاءِ وَالْمُزَفَّتِ وَالْبُسْرِ وَالتَّمْرِ


আবুল হাকাম থেকে বর্ণিতঃ

আমি ইবনুল আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে কলসীতে বানানো ফলের রসের মদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কলসী ও লাউয়ের খোলে করে বানানো ফলের রসের মদ নিষিদ্ধ করেছেন এবং বলেছেন, আল্লাহ ও তার রাসূলের নিষিদ্ধকৃত জিনিসকে বর্জন করা যার কাছে আনন্দদায়ক, সে যেন ফলের রসের মদ বর্জন করে। ইবনুয যুবাইরও রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কলসী ও লাউয়ের খোলে করে বানানো মদ নিষিদ্ধ করেছেন। ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুও উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু এর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লাউয়ের খোলে করে বানানো মদ ও মুযাফফাত (আলকাতরার মত কালো এক ধরনের তরল মাদক) নিষিদ্ধ করেছেন। আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু ও বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কলসী, লাউয়ের খোল, মুযাফফাত এবং কাচা খেজুর ও খোরমার নির্যাস দিয়ে তৈরী মদ নিষিদ্ধ করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৫৬৮৯]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



5690 OK

(৫৬৯০)

হাদিস দেখুন [৩১:৪২৩৬] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا جَاءَ أَحَدُكُمْ إِلَى الْجُمُعَةِ فَلْيَغْتَسِلْ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ জুমুআর নামাযের জন্যে আসে, তখন সে যেনো গোসল করে আসে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৬৯০]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



5691 OK

(৫৬৯১)

হাদিস দেখুন [৩১:৪৩৩৪] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ سُئِلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الضَّبِّ فَقَالَ لَا آكُلُهُ وَلَا أُحَرِّمُهُ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দব্ব (অনেকটা গুইসাপের মতো দেখতে) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, “আমি তা খাই না এবং হারামও করি না।”

[মুসনাদে আহমাদ : ৫৬৯১]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



5692 OK

(৫৬৯২)

হাদিস দেখুন [৩১:৪৩১৬] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الشُّؤْمُ فِي ثَلَاثٍ الْفَرَسِ وَالْمَرْأَةِ وَالدَّارِ قَالَ سُفْيَانُ إِنَّمَا نَحْفَظُهُ عَنْ سَالِمٍ يَعْنِي الشُّؤْمَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তিনটি জিনিসের মধ্যে অশুভ লক্ষণ থাকতে পারে, ঘরের মধ্যে, ঘোড়ার মধ্যে ও মহিলাদের মধ্যে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৬৯২]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



5693 OK

(৫৬৯৩)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ حَدَّثَنَا زَمْعَةُ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَالِمٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يُلْدَغُ الْمُؤْمِنُ مِنْ جُحْرٍ مَرَّتَيْنِ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “একজন প্রকৃত মুমিন ব্যক্তি একই গর্ত থেকে দুই বার দংশিত হয় না।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৬৯৩]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



5694 OK

(৫৬৯৪)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي رَوَّادٍ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَسْتَلِمُ الرُّكْنَ الْيَمَانِيَ وَالْأَسْوَدَ كُلَّ طَوَافِهِ وَلَا يَسْتَلِمُ الرُّكْنَيْنِ الْآخَرَيْنِ اللَّذَيْنِ يَلِيَانِ الْحَجَرَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পুরো তাওয়াফের সময় কেবল মাত্র ইয়ামানী কোণ এবং কালো পাথর স্পর্শ করতেন এবং তারপরে আর বাকী দুইটি কোণ স্পর্শ করতেন না। [মুসনাদে আহমাদ : ৫৬৯৪]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



5695 OK

(৫৬৯৫)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ حَدَّثَنَا شَرِيكٌ سَمِعْتُ سَلَمَةَ بْنَ كُهَيْلٍ يُحَدِّثُ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالشَّمْسُ عَلَى قُعَيْقِعَانَ بَعْدَ الْعَصْرِ فَقَالَ مَا أَعْمَارُكُمْ فِي أَعْمَارِ مَنْ مَضَى إِلَّا كَمَا بَقِيَ مِنْ النَّهَارِ فِيمَا مَضَى مِنْهُ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একবার আমরা আসরের নামাযের পর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে বসা ছিলাম, তখনও সূর্য কায়কান পাহাড়ে ছিলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “পূর্ববর্তী উম্মতের যুগের তুলনায়, তোমাদের এই যুগ, দিনের এই অবশিষ্ট অংশের মতো, যা পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় খুবই সংক্ষিপ্ত।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৬৯৫]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



5696 OK

(৫৬৯৬)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৩৯] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ يَقُولُ سَأَلَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ تُصِيبُنِي الْجَنَابَةُ مِنْ اللَّيْلِ فَمَا أَصْنَعُ قَالَ اغْسِلْ ذَكَرَكَ ثُمَّ تَوَضَّأْ ثُمَّ ارْقُدْ


উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করেন, “রাতে (যদি) আমার বীর্যপাত হয় তখন কী করবো?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমার যৌনাঙ্গ ধুয়ে ফেলো, তারপর ওযূ করো। তারপর ঘুমাও।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৬৯৬]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



5697 OK

(৫৬৯৭)

হাদিস দেখুন [৩১:৫১২৩] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا حَسَنُ بْنُ مُوسَى حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ بِشْرِ بْنِ حَرْبٍ سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عِنْدَ حُجْرَةِ عَائِشَةَ يَقُولُ يُنْصَبُ لِكُلِّ غَادِرٍ لِوَاءٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَا غَدْرَةَ أَعْظَمُ مِنْ غَدْرَةِ إِمَامِ عَامَّةٍ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কেয়ামতের দিন প্রত্যেক প্রতারকের জন্যে একটি পতাকা থাকবে। আর বলা হবে যে, ‘এটি অমুক প্রতারকের পতাকা’। আর রাষ্ট্রের চেয়ে বড় কোনো প্রতারণা হবে না।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৬৯৭]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



5698 OK

(৫৬৯৮)

হাদিস দেখুন [৩১:৪৪৭২] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ سُفْيَانَ حَدَّثَنِي ابْنُ دِينَارٍ سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَسْلَمُ سَالَمَهَا اللَّهُ وَغِفَارٌ غَفَرَ اللَّهُ لَهَا وَعُصَيَّةُ عَصَتْ اللَّهَ وَرَسُولَهُ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আসলাম গোত্রকে আল্লাহ রক্ষা করুন, গাফফার গোত্রকে আল্লাহ ক্ষমা করুন। আর উসিয়া গোত্র আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্যতা করেছে (সুতরাং আল্লাহ উসিয়া গোত্রকে ধংস করুন)। হে আল্লাহ জাকওয়ান ও বনু লাহিয়ানকে অভিশাপ দিন।”

[মুসনাদে আহমাদ : ৫৬৯৮]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



5699 OK

(৫৬৯৯)

হাদিস দেখুন [৩১:৪৭৯৩] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ قَالَ كَانَ رَجُلٌ مِنْ قُرَيْشٍ يُغْبَنُ فِي الْبَيْعِ فَذَكَرَ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُلْ لَا خِلَابَةَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

কুরাইশদের মধ্যে এক ব্যক্তি ছিলো, যে ব্যবসার ক্ষেত্রে লোকদের থেকে প্রতারণায় পড়তো। সে এই বিষয়টি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে উল্লেখ করলে, তিনি বললেন, “তুমি লেন-দেনের সময় বলো যে, এই লেন-দেনে কোনো প্রতারণা নেই।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৬৯৯]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



5700 OK

(৫৭০০)

হাদিস দেখুন [৩১:৪৯৯৮] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ وَيَزِيدُ قَالَ أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ اتَّخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَاتَمًا مِنْ ذَهَبٍ فَاتَّخَذَ النَّاسُ خَوَاتِيمَهُمْ مِنْ ذَهَبٍ فَرَمَى بِهِ وَقَالَ لَنْ أَلْبَسَهُ أَبَدًا قَالَ يَزِيدُ فَنَبَذَ النَّاسُ خَوَاتِيمَهُمْ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বর্ণের একটি আংটি পরেন। আংটিটির মোহর হাতের তালুর ভিতরের দিকে ঘুরিয়ে রাখেন। তাতে তিনি مُحَمَّدٌ رَسُوْلُ اللهِ খোদাই করেছিলেন। লোকেরাও এ রকম আংটি ব্যবহার করতে শুরু করেন। যখন তিনি দেখলেন যে, তারাও ঐ রকম আংটি ব্যবহার করছে, তখন তিনি তা ছুঁড়ে ফেলে দেন এবং বলেন, “আমি আর কখনও এটা ব্যবহার করবো না।” তাই লোকেরাও তাদের আংটি গুলি নিক্ষেপ করেছিলো। এরপর তিনি একটি রূপার আংটি ব্যবহার করেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা দিয়ে মোহর করতেন, কিন্তু পরতেন না। লোকেরাও রূপার আংটি পরা শুরু করে। ইবনু উমার বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরে আবূ বাকর , তারপর উমার ও তারপর উসমান তা ব্যবহার করেছেন। শেষে উসমানের হাত থেকে আংটিটি ‘আরীস’ নামক কূপের মধ্যে পড়ে যায়। [মুসনাদে আহমাদ : ৫৭০০]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



5701 OK

(৫৭০১)

যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ حَدَّثَنَا هِشَامٌ يَعْنِي ابْنَ سَعْدٍ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَى رَجُلًا سَاقِطًا يَدَهُ فِي الصَّلَاةِ فَقَالَ لَا تَجْلِسْ هَكَذَا إِنَّمَا هَذِهِ جِلْسَةُ الَّذِينَ يُعَذَّبُونَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তিকে দেখলেন যে, সালাতের সময় সে তার হাত নিচু করে রেখেছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “এভাবে বসো না, কারণ এটা তাদের বসার মতো বসা, যাদেরকে আল্লাহর আযাব দেওয়া হয়।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৭০১]


হাদিসের মান : যঈফ হাদিস



5702 OK

(৫৭০২)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَمْزَةَ الْعُمَرِيُّ حَدَّثَنَا سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ أَنْ يَكُونَ مِثْلَ صَاحِبِ فَرَقِ الْأَرُزِّ فَلْيَكُنْ مِثْلَهُ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا صَاحِبُ فَرَقِ الْأَرُزِّ قَالَ خَرَجَ ثَلَاثَةٌ فَغَيَّمَتْ عَلَيْهِمْ السَّمَاءُ فَدَخَلُوا غَارًا فَجَاءَتْ صَخْرَةٌ مِنْ أَعْلَى الْجَبَلِ حَتَّى طَبَّقَتْ الْبَابَ عَلَيْهِمْ فَعَالَجُوهَا فَلَمْ يَسْتَطِيعُوهَا فَقَالَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ لَقَدْ وَقَعْتُمْ فِي أَمْرٍ عَظِيمٍ فَلْيَدْعُ كُلُّ رَجُلٍ بِأَحْسَنِ مَا عَمِلَ لَعَلَّ اللَّهَ تَعَالَى أَنْ يُنْجِيَنَا مِنْ هَذَا فَقَالَ أَحَدُهُمْ اللَّهُمَّ إِنَّكَ تَعْلَمُ أَنَّهُ كَانَ لِي أَبَوَانِ شَيْخَانِ كَبِيرَانِ وَكُنْتُ أَحْلُبُ حِلَابَهُمَا فَأَجِيئُهُمَا وَقَدْ نَامَا فَكُنْتُ أَبِيتُ قَائِمًا وَحِلَابُهُمَا عَلَى يَدِي أَكْرَهُ أَنْ أَبْدَأَ بِأَحَدٍ قَبْلَهُمَا أَوْ أَنْ أُوقِظَهُمَا مِنْ نَوْمِهِمَا وَصِبْيَتِي يَتَضَاغَوْنَ حَوْلِي فَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنِّي إِنَّمَا فَعَلْتُهُ مِنْ خَشْيَتِكَ فَافْرُجْ عَنَّا قَالَ فَتَحَرَّكَتْ الصَّخْرَةُ قَالَ وَقَالَ الثَّانِي اللَّهُمَّ إِنَّكَ تَعْلَمُ أَنَّهُ كَانَتْ لِي ابْنَةُ عَمٍّ لَمْ يَكُنْ شَيْءٌ مِمَّا خَلَقْتَ أَحَبَّ إِلَيَّ مِنْهَا فَسُمْتُهَا نَفْسَهَا فَقَالَتْ لَا وَاللَّهِ دُونَ مِائَةِ دِينَارٍ فَجَمَعْتُهَا وَدَفَعْتُهَا إِلَيْهَا حَتَّى إِذَا جَلَسْتُ مِنْهَا مَجْلِسَ الرَّجُلِ فَقَالَتْ اتَّقِ اللَّهَ وَلَا تَفُضَّ الْخَاتَمَ إِلَّا بِحَقِّهِ فَقُمْتُ عَنْهَا فَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّمَا فَعَلْتُهُ مِنْ خَشْيَتِكَ فَافْرُجْ عَنَّا قَالَ فَزَالَتْ الصَّخْرَةُ حَتَّى بَدَتْ السَّمَاءُ وَقَالَ الثَّالِثُ اللَّهُمَّ إِنَّكَ تَعْلَمُ أَنِّي كُنْتُ اسْتَأْجَرْتُ أَجِيرًا بِفَرَقٍ مِنْ أَرُزٍّ فَلَمَّا أَمْسَى عَرَضْتُ عَلَيْهِ حَقَّهُ فَأَبَى أَنْ يَأْخُذَهُ وَذَهَبَ وَتَرَكَنِي فَتَحَرَّجْتُ مِنْهُ وَثَمَّرْتُهُ لَهُ وَأَصْلَحْتُهُ حَتَّى اشْتَرَيْتُ مِنْهُ بَقَرًا وَرَاعِيَهَا فَلَقِيَنِي بَعْدَ حِينٍ فَقَالَ اتَّقِ اللَّهَ وَأَعْطِنِي أَجْرِي وَلَا تَظْلِمْنِي فَقُلْتُ انْطَلِقْ إِلَى ذَلِكَ الْبَقَرِ وَرَاعِيهَا فَخُذْهَا فَقَالَ اتَّقِ اللَّهَ وَلَا تَسْخَرْ بِي فَقُلْتُ إِنِّي لَسْتُ أَسْخَرُ بِكَ فَانْطَلَقَ فَاسْتَاقَ ذَلِكَ فَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنِّي إِنَّمَا فَعَلْتُهُ ابْتِغَاءَ مَرْضَاتِكَ خَشْيَةً مِنْكَ فَافْرُجْ عَنَّا فَتَدَحْرَجَتْ الصَّخْرَةُ فَخَرَجُوا يَمْشُونَ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ حَدَّثَنَا أَبِي عَنْ صَالِحٍ حَدَّثَنَا نَافِعٌ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَمَا ثَلَاثَةُ رَهْطٍ يَتَمَاشَوْنَ أَخَذَهُمْ الْمَطَرُ فَأَوَوْا إِلَى غَارٍ فِي جَبَلٍ فَبَيْنَمَا هُمْ فِيهِ حَطَّتْ صَخْرَةٌ مِنْ الْجَبَلِ فَأَطْبَقَتْ عَلَيْهِمْ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ مِثْلَ مَعْنَاهُ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি চাল মাপার যন্ত্রের মতো হতে পারে, সে যেনো চাল মাপার যন্ত্রের মতো হয়।” লোকেরা জিজ্ঞাসা করলো, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! চাল মাপার যন্ত্র বলতে কী বোঝায়?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, একবার তিন জন লোক পথ চলছিলো, তারা বৃষ্টিতে আক্রান্ত হলো। অতঃপর তারা এক পাহাড়ের গুহায় আশ্রয় নিলো। হঠাৎ পাহাড় হতে এক খন্ড পাথর পড়ে তাদের গুহার মুখ বন্ধ হয়ে গেলো। তারা একে অপরকে বললো, “নিজেদের কৃত কিছু সত্কাজের কথা চিন্তা করে বের করো, যা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা হয়েছে এবং তার ওয়াসীলা করে আল্লাহর নিকট দু’আ করো। তাহলে হয়তো আল্লাহ তোমাদের উপর হতে পাথরটি সরিয়ে দিবেন।” তাদের একজন বলতে লাগলো, “হে আল্লাহ! আমার আব্বা-আম্মা খুব বৃদ্ধ ছিলেন এবং আমার ছোট ছোট সন্তানও ছিলো। আমি তাদের ভরণ-পোষণের জন্যে পশু পালন করতাম। সন্ধ্যায় যখন আমি বাড়ি ফিরতাম তখন দুধ দোহন করতাম এবং আমার সন্তানদের আগে আমার আব্বা-আম্মাকে পান করাতাম। একদিন আমার ফিরতে দেরী হয় এবং সন্ধ্যা হওয়ার আগে আসতে পারলাম না। এসে দেখি তারা ঘুমিয়ে পড়েছেন। তখন আমি দুধ দোহন করলাম, যেমন প্রতিদিন দোহন করি। তারপর আমি তাঁদের শিয়রে (দুধ নিয়ে) দাঁড়িয়ে রইলাম। তাদেরকে জাগানো আমি পছন্দ করিনি এবং তাদের আগে আমার বাচ্চাদেরকে পান করানোও অসঙ্গত মনে করি। অথচ বাচ্চাগুলো দুধের জন্য আমার পায়ের কাছে পড়ে কান্নাকাটি করছিলো। এভাবে ভোর হয়ে গেলো। হে আল্লাহ! আপনি জানেন আমি যদি শুধু আপনার সন্তুষ্টির জন্যই এ কাজটি করে থাকি তবে আপনি আমাদের হতে পাথরটা খানিক সরিয়ে দিন, যাতে আমরা আসমানটা দেখতে পাই।” তখন আল্লাহ পাথরটাকে একটু সরিয়ে দিলেন এবং তারা আসমান দেখতে পেলো। দ্বিতীয় ব্যক্তি বললো, “হে আল্লাহ! আমার এক চাচাতো বোন ছিলো। পুরুষরা যেমন মহিলাদের ভালবাসে, আমি তাকে তার চেয়ে অধিক ভালবাসতাম। একদিন আমি তার কাছে চেয়ে বসলাম (অর্থাৎ খারাপ কাজ করতে চাইলাম) কিন্তু তা সে অস্বীকার করলো, যে পর্যন্ত না আমি তার জন্য একশ’ দিনার নিয়ে আসি। পরে চেষ্টা করে আমি তা যোগাড় করলাম (এবং তার কাছে এলাম)। যখন আমি তার দু’পায়ের মাঝে বসলাম (অর্থাৎ সম্ভোগ করতে তৈরী হলাম) তখন সে বললো, হে আল্লাহর বান্দা! আল্লাহকে ভয় করো। অন্যায়ভাবে মাহর (পর্দা) ছিঁড়ে দিয়ো না। (অর্থাৎ আমার কুমারীর সতীত্ব নষ্ট করো না) তখন আমি দাঁড়িয়ে গেলাম। হে আল্লাহ! আপনি জানেন আমি যদি শুধু আপনার সন্তুষ্টির জন্যে এ কাজটি করে থাকি, তবে আপনি আমাদের জন্য পাথরটা সরিয়ে দিন।” তখন পাথরটা কিছু সরে গেলো। তৃতীয় ব্যক্তি বললো, “হে আল্লাহ! আমি এক ফারাক চাউলের বিনিময়ে একজন শ্রমিক নিযুক্ত করেছিলাম। যখন সে তার কাজ শেষ করলো আমাকে বললো, আমার পাওনা দিয়ে দাও। আমি তাকে তার পাওনা দিতে গেলে সে তা নিলো না। আমি তা দিয়ে কৃষি কাজ করতে লাগলাম এবং এর দ্বারা অনেক গরু ও তার রাখাল জমা করলাম। বেশ কিছু দিন পর সে আমার কাছে আসলো এবং বললো, আল্লাহকে ভয় কর (আমার মজুরী দাও)। আমি বললাম, এই সব গরু ও রাখাল নিয়ে নাও। সে বললো, আল্লাহকে ভয় কর, আমার সাথে ঠাট্টা করো না। আমি বললাম, আমি তোমার সাথে ঠাট্টা করছি না, ওইগুলো নিয়ে নাও। তখন সে তা নিয়ে গেল। হে আল্লাহ! আপনি জানেন, যদি আমি আপনার সন্তুষ্টি লাভের জন্য এ কাজটি করে থাকি, তবে পাথরের বাকীটুকু সরিয়ে দিন।” তখন আল্লাহ পাথরটাকে পুরোটাই সরিয়ে দিলেন। আর তারা গুহা থেকে বেরিয়ে এলো এবং হাঁটা শুরু করলো। [মুসনাদে আহমাদ : ৫৭০২]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



5703 OK

(৫৭০৩)

হাদিস দেখুন [৩১:৪৫১৪] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الْحَفَرِيُّ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ إِسْمَاعِيلَ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَ بِقَتْلِ الْكِلَابِ حَتَّى قَتَلْنَا كَلْبَ امْرَأَةٍ جَاءَتْ مِنْ الْبَادِيَةِ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনায় কুকুর হত্যা করার নির্দেশ দেন। এক মহিলা গ্রাম থেকে এসেছিলেন এবং আমরা তার কুকুরটিকেও হত্যা করেছিলাম। [মুসনাদে আহমাদ : ৫৭০৩]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



5704 OK

(৫৭০৪)

হাদিস দেখুন [৩১:৫৫৮৫] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ حَدَّثَنِي سَالِمٌ عَنْ رُؤْيَا رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي وَبَاءِ الْمَدِينَةِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ رَأَيْتُ امْرَأَةً سَوْدَاءَ ثَائِرَةَ الرَّأْسِ خَرَجَتْ مِنْ الْمَدِينَةِ حَتَّى قَامَتْ بِمَهْيَعَةَ فَأَوَّلْتُ أَنَّ وَبَاءَهَا نُقِلَ إِلَى مَهْيَعَةَ وَهِيَ الْجُحْفَةُ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, মদীনা থেকে কালো চুলের এক মহিলা বের হয়ে যাচ্ছে। সে মাহিয়্যাহ অর্থাৎ জাফফায় গিয়ে সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলো। আমি এর অর্থ এই করেছি যে, মদীনার মহামারী ও দুর্যোগ জাফফায় স্থানান্তরিত হয়েছে।”

[মুসনাদে আহমাদ : ৫৭০৪]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



5705 OK

(৫৭০৫)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا رَوْحٌ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ يُونُسَ عَنِ الْحَسَنِ عَنْ ابْنِ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيمَا يَحْكِي عَنْ رَبِّهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى قَالَ أَيُّمَا عَبْدٍ مِنْ عِبَادِي خَرَجَ مُجَاهِدًا فِي سَبِيلِي ابْتِغَاءَ مَرْضَاتِي ضَمِنْتُ لَهُ أَنْ أُرْجِعَهُ بِمَا أَصَابَ مِنْ أَجْرٍ وَغَنِيمَةٍ وَإِنْ قَبَضْتُهُ أَنْ أَغْفِرَ لَهُ وَأَرْحَمَهُ وَأُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, “যে ব্যক্তি শুধুমাত্র আমার সন্তুষ্টির জন্যে আমার পথে জিহাদের জন্যে বের হয়, আমি তার জন্যে নিশ্চয়তা দিচ্ছি যে, আমি তাকে দুইটি পুরস্কার মধ্যে একটি পুরস্কার আবশ্যই দিবো। হয় আমি তাকে গনীমতের মাল দিয়ে, তাকে তার ঘরে ফিরিয়ে দিবো, অথবা আমি তার আত্মা দখল করে নিয়ে, তাকে ক্ষমা করে দিবো, আমি তার প্রতি রহম করবো এবং তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৭০৫]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



5706 OK

(৫৭০৬)

হাদিস দেখুন [৩১:৫৪৮০] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا رَوْحٌ حَدَّثَنَا ابْنُ عَوْنٍ عَنْ مُحَمَّدٍ عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ سَلْمَانَ قَالَ قَالَ ابْنُ عُمَرَ حَفِظْتُ مِنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَشْرَ صَلَوَاتٍ رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ صَلَاةِ الصُّبْحِ وَرَكْعَتَيْنِ قَبْلَ صَلَاةِ الظُّهْرِ وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ صَلَاةِ الظُّهْرِ وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ صَلَاةِ الْمَغْرِبِ وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعِشَاءِ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে দশ রাকাত নামাজ সংরক্ষণ করেছি। যোহরের নামাযের আগে দুই রাকাত এবং তার পরে দুই রাকাত, মাগরিবের নামাযের পরে দুই রাকাত, ইশার নামাযের পরে দুই রাকাত এবং দুই রাকাত ফজরের নামাজের আগে। [মুসনাদে আহমাদ : ৫৭০৬]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



5707 OK

(৫৭০৭)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُسْلِمِ بْنِ مِهْرَانَ مَوْلًى لِقُرَيْشٍ سَمِعْتُ جَدِّي يُحَدِّثُ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ لَا يَنَامُ إِلَّا وَالسِّوَاكُ عِنْدَهُ فَإِذَا اسْتَيْقَظَ بَدَأَ بِالسِّوَاكِ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘুমানোর সময় মেসওয়াক করতেন এবং যখন জেগে উঠতেন, তখন সর্বপ্রথম মেসওয়াক করতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৫৭০৭]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



5708 OK

(৫৭০৮)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُسْلِمِ بْنِ مِهْرَانَ أَنَّهُ سَمِعَ جَدَّهُ يُحَدِّثُ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ رَحِمَ اللَّهُ امْرَأً صَلَّى قَبْلَ الْعَصْرِ أَرْبَعًا


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি আসরের নামাজের আগে দুই রাকাত নামাজ পড়ে, আল্লাহ তার উপর রহমত বর্ষণ করেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৭০৮]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



5709 OK

(৫৭০৯)

হাদিস দেখুন [৩১:৪৪৭২] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ سُفْيَانَ حَدَّثَنِي ابْنُ دِينَارٍ سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَسْلَمُ سَالَمَهَا اللَّهُ وَغِفَارٌ غَفَرَ اللَّهُ لَهَا وَعُصَيَّةُ عَصَتْ اللَّهَ وَرَسُولَهُ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আসলাম গোত্রকে আল্লাহ রক্ষা করুন, গাফফার গোত্রকে আল্লাহ ক্ষমা করুন। আর উসিয়া গোত্র আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্যতা করেছে (সুতরাং আল্লাহ উসিয়া গোত্রকে ধংস করুন)। হে আল্লাহ জাকওয়ান ও বনু লাহিয়ানকে অভিশাপ দিন।”

[মুসনাদে আহমাদ : ৫৭০৯]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



5710 OK

(৫৭১০)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنِي عَبْدُ الصَّمَدِ حَدَّثَنِي أَبِي حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ صُهَيْبٍ عَنْ عَبْدِ الْوَاحِدِ الْبُنَانِيِّ قَالَ كُنْتُ مَعَ ابْنِ عُمَرَ فَجَاءَهُ رَجُلٌ فَقَالَ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ إِنِّي أَشْتَرِي هَذِهِ الْحِيطَانَ تَكُونُ فِيهَا الْأَعْنَابُ فَلَا نَسْتَطِيعُ أَنْ نَبِيعَهَا كُلَّهَا عِنَبًا حَتَّى نَعْصِرَهُ قَالَ فَعَنْ ثَمَنِ الْخَمْرِ تَسْأَلُنِي سَأُحَدِّثُكَ حَدِيثًا سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كُنَّا جُلُوسًا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذْ رَفَعَ رَأْسَهُ إِلَى السَّمَاءِ ثُمَّ أَكَبَّ وَنَكَتَ فِي الْأَرْضِ وَقَالَ الْوَيْلُ لِبَنِي إِسْرَائِيلَ فَقَالَ عُمَرُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ لَقَدْ أَفْزَعَنَا قَوْلُكَ لِبَنِي إِسْرَائِيلَ فَقَالَ لَيْسَ عَلَيْكُمْ مِنْ ذَلِكَ بَأْسٌ إِنَّهُمْ لَمَّا حُرِّمَتْ عَلَيْهِمْ الشُّحُومُ فَتَوَاطَئُوهُ فَيَبِيعُونَهُ فَيَأْكُلُونَ ثَمَنَهُ وَكَذَلِكَ ثَمَنُ الْخَمْرِ عَلَيْكُمْ حَرَامٌ


হজরত আব্দুল ওয়াহিদ বিনানী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

আমি একবার হজরত ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে ছিলাম, এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বললো, “হে আবু আবদুল রহমান! আমি এই বাগান কিনছি। তারা আঙ্গুর ধারণ করবে। আমি শুধু আঙ্গুর বিক্রি করতে ইচ্ছুক নই। আমি কি আঙ্গুর চেপে তার রস বিক্রি করতে পারি?” হজরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “এটা যেনো এমন, যেনো তুমি আমাকে মদের দাম জিজ্ঞেস করছো। আমি তোমাদের সামনে একটি হাদীস বর্ণনা করছি, যা আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শুনেছি। আমরা একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে বসে ছিলাম, হঠাৎ তিনি আকাশের দিকে মাথা তুললেন, অতঃপর তা নতো করলেন এবং মাটির দিকে তাকিয়ে বললেন, “আল্লাহ বনী ইসরাইলদের উপর অভিসম্পাত করুন।” হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! বনী ইসরাইল সম্পর্কে আপনার কথা শুনে আমরা ভয় পেয়েছি।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “এটা তোমাদের কোনো ক্ষতি করবে না। বাস্তবতা হলো, যখন আল্লাহ বনী ইসরাইলদের উপর পশুর চর্বি হারাম করলেন, তখন তারা পশুর চর্বি গলিয়ে তা থেকে তেল তৈরি করে বিক্রি করতে লাগলো। যদিও আল্লাহ তায়ালা যখন মানুষকে কিছু খেতে নিষেধ করেন, তখন তিনি তাদের জন্যে তার মূল্যও হারাম করেন। একই ভাবে মদের দামও তোমাদের জন্যে হারাম।”
[মুসনাদে আহমাদ : ৫৭১০]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



5711 OK

(৫৭১১)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ حَدَّثَنَا أَبِي حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ يَعْنِي الْمُعَلِّمَ عَنْ ابْنِ بُرَيْدَةَ حَدَّثَنِي ابْنُ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ إِذَا تَبَوَّأَ مَضْجَعَهُ قَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي كَفَانِي وَآوَانِي وَأَطْعَمَنِي وَسَقَانِي وَالَّذِي مَنَّ عَلَيَّ وَأَفْضَلَ وَالَّذِي أَعْطَانِي فَأَجْزَلَ الْحَمْدُ لِلَّهِ عَلَى كُلِّ حَالٍ اللَّهُمَّ رَبَّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِكَ كُلِّ شَيْءٍ وَإِلَهَ كُلِّ شَيْءٍ وَلَكَ كُلُّ شَيْءٍ أَعُوذُ بِكَ مِنْ النَّارِ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন রাতে শোয়ার জন্যে যেতেন তখন বলতেন,

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي كَفَانِي وَآوَانِي وَأَطْعَمَنِي وَسَقَانِي وَالَّذِي مَنَّ عَلَيَّ وَأَفْضَلَ وَالَّذِي أَعْطَانِي فَأَجْزَلَ الْحَمْدُ لِلَّهِ عَلَى كُلِّ حَالٍ اللَّهُمَّ رَبَّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِكَ كُلِّ شَيْءٍ وَإِلَهَ كُلِّ شَيْءٍ وَلَكَ كُلُّ شَيْءٍ أَعُوذُ بِكَ مِنْ النَّارِ

“সকল প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা আল্লাহর জন্যে, যিনি আমার প্রয়োজন পুরা করলেন, আমাকে মুক্তি দিলেন, আমাকে পানাহার করালেন, যিনি আমার প্রতি অসীম দয়াবান এবং আমাকে দান করলেন। সুতরাং সর্বাবস্থায় আল্লাহর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা। হে আল্লাহ! প্রত্যেক বস্তুর রব ও অধিকারী এবং প্রত্যেক জিনিসের ইলাহ! আমি আপনার নিকট জাহান্নামের শাস্তি হতে আশ্রয় চাই।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৭১১]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



5712 OK

(৫৭১২)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ حَدَّثَنَا صَخْرٌ يَعْنِي ابْنَ جُوَيْرِيَةَ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ نَزَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالنَّاسِ عَامَ تَبُوكَ نَزَلَ بِهِمْ الْحِجْرَ عِنْدَ بُيُوتِ ثَمُودَ فَاسْتَسْقَى النَّاسُ مِنْ الْآبَارِ الَّتِي كَانَ يَشْرَبُ مِنْهَا ثَمُودُ فَعَجَنُوا مِنْهَا وَنَصَبُوا الْقُدُورَ بِاللَّحْمِ فَأَمَرَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَهَرَاقُوا الْقُدُورَ وَعَلَفُوا الْعَجِينَ الْإِبِلَ ثُمَّ ارْتَحَلَ بِهِمْ حَتَّى نَزَلَ بِهِمْ عَلَى الْبِئْرِ الَّتِي كَانَتْ تَشْرَبُ مِنْهَا النَّاقَةُ وَنَهَاهُمْ أَنْ يَدْخُلُوا عَلَى الْقَوْمِ الَّذِينَ عُذِّبُوا قَالَ إِنِّي أَخْشَى أَنْ يُصِيبَكُمْ مِثْلُ مَا أَصَابَهُمْ فَلَا تَدْخُلُوا عَلَيْهِمْ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

তাবুক যুদ্ধের সময়, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবীদের রাদিয়াল্লাহু আনহু সাথে সামুদ জাতির ধ্বংসপ্রাপ্ত ধ্বংসাবশেষ এবং ঘরবাড়ির কাছে তাঁবু স্থাপন করেছিলেন। সামুদ জাতির লোকেরা যে কূপ থেকে পানি পান করতো, সেখান থেকে সাহাবীরা পানি পান করতো, এবং তারা ময়দা মেখে, মাংস ঢালতো এবং হাঁড়ি গরম করতো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন এই কথা জানতে পারলেন, তখন তিনি লোকদের হাঁড়ি উল্টে দিতে এবং উটদের নষ্ট আটা খাওয়াতে নির্দেশ দিলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেখান থেকে চলে গেলেন এবং সেই কূপের কাছে তাঁবু স্থাপন করলেন, যেখান থেকে সালেহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উটনী পানি পান করতো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নির্যাতিত সম্প্রদায়ের লোকদের ধ্বংসাবশেষে প্রবেশ করতে নিষেধ করেছিলেন এবং বলেছিলেন যে, “আমি আশঙ্কা করছি যে, তোমাদের উপরও একই আযাব আসবে, যেমন তাদের উপর এসেছিলো, তাই তোমরা কখনোই আযাব প্রাপ্ত এলাকায় যেও না।”
[মুসনাদে আহমাদ : ৫৭১২]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



5713 OK

(৫৭১৩)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ عَنْ يُوسُفَ بْنِ مِهْرَانَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّهُ كَانَ عِنْدَهُ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْكُوفَةِ فَجَعَلَ يُحَدِّثُهُ عَنْ الْمُخْتَارِ فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ إِنْ كَانَ كَمَا تَقُولُ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّ بَيْنَ يَدَيْ السَّاعَةِ ثَلَاثِينَ كَذَّابًا


হজরত ইউসুফ বিন মেহরান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একবার কুফার এক ব্যক্তি সাইয়্যিদুনা ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে বসে ছিলো এবং সে মুখতার সাকাফী সম্পর্কে কথা বলতে শুরু করলো। সাইয়্যিদুনা ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “যদি তুমি যা বলছো, তা যদি সত্য হয়, তাহলে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, ‘কেয়ামতের আগে ত্রিশ জন দাজ্জাল এবং মিথ্যাবাদী আসবে’।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৭১৩]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



5714 OK

(৫৭১৪)

হাদিস দেখুন [৩১:২১৬৭] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ أَبِي يَحْيَى عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَجُلَيْنِ اخْتَصَمَا إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَأَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمُدَّعِيَ الْبَيِّنَةَ فَلَمْ يَكُنْ لَهُ بَيِّنَةٌ فَاسْتَحْلَفَ الْمَطْلُوبَ فَحَلَفَ بِاللَّهِ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّكَ قَدْ فَعَلْتَ وَلَكِنْ غُفِرَ لَكَ بِإِخْلَاصِكَ قَوْلَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

দুই জন ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে একটি বিবাদ নিয়ে এলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাবিদারের কাছে প্রমাণ চাইলেন। তার কাছে কোনো প্রমাণ ছিলো না, তাই তিনি বিবাদীকে একটি শপথ করতে বললেন এবং সে আল্লাহর নামে শপথ করলো যে, “ঐ আল্লাহর নামে শপথ করছি, যিনি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তুমি এই কাজটি করেছো। কিন্তু ‘আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই’ তোমার এ কথা আল্লাহর প্রতি আন্তরিকতার সাথে বলার কারণে, তোমার অপরাধ ক্ষমা করা হয়ে গেছে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৭১৪]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



5715 OK

(৫৭১৫)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَزْهَرُ بْنُ سَعْدٍ أَبُو بَكْرٍ السَّمَّانُ أَخْبَرَنَا ابْنُ عَوْنٍ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي شَامِنَا اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي يَمَنِنَا قَالُوا وَفِي نَجْدِنَا قَالَ اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي شَامِنَا اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي يَمَنِنَا قَالُوا وَفِي نَجْدِنَا قَالَ هُنَالِكَ الزَّلَازِلُ وَالْفِتَنُ مِنْهَا أَوْ قَالَ بِهَا يَطْلُعُ قَرْنُ الشَّيْطَانِ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনবার দোয়া করলেন, “হে আল্লাহ! সিরিয়া ও ইয়েমেনে আমাদের বরকত দিন।” এক ব্যক্তি বললো, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমাদের নজদের জন্যও দোয়া করুন।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “পূর্ব দিকে থেকেই ফিতনা ও ভূমিকম্প শুরু হবে, যেখান থেকে শয়তানের শিং বেরোয়।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৭১৫]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস