

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ أَخْبَرَنِي نَافِعٌ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا مِنْكُمْ أَحَدٌ إِلَّا يُعْرَضُ عَلَيْهِ مَقْعَدُهُ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ إِنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَمِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ وَإِنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ النَّارِ فَمِنْ أَهْلِ النَّارِ يُقَالُ هَذَا مَقْعَدُكَ حَتَّى تُبْعَثَ إِلَيْهِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কবর বাসীদের প্রত্যেক ব্যক্তিকে সকাল ও সন্ধ্যায় তার বাসস্থানের সামনে হাজির করা হয়। যদি সে জান্নাত বাসী হয়, তাহলে তাকে জান্নাত বাসীদের আবাস দেখানো হয়। আর যদি সে জাহান্নাম বাসী হয়, তাহলে তাকে জাহান্নাম বাসীদের আবাস দেখানো হয়। আর বলা হয় যে, এটিই তোমার আবাসস্থল, যতক্ষণ না তোমরা পুনরুত্থিত হবে।”
[মুসনাদে আহমাদ : ৫৬৫৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ أَخْبَرَنَا غَيْرُ وَاحِدٍ وَابْنُ عَوْنٍ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْبَيْتَ وَمَعَهُ الْفَضْلُ بْنُ عَبَّاسٍ وَأُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ وَعُثْمَانُ بْنُ طَلْحَةَ وَبِلَالٌ فَأَمَرَ بِلَالًا فَأَجَافَ عَلَيْهِمْ الْبَابَ فَمَكَثَ فِيهِ مَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ خَرَجَ فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ فَكَانَ أَوَّلُ مَنْ لَقِيتُ مِنْهُمْ بِلَالًا فَقُلْتُ أَيْنَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ هَاهُنَا بَيْنَ الْأُسْطُوَانَتَيْنِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার আল্লাহর ঘরে প্রবেশ করলেন। আর সেই সময় হজরত ফজল ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে ছিলেন। ওসামা বিন যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু, হযরত উসমান বিন তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহু এবং হযরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু সেখানে ছিলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশে হজরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু দরজাটি বন্ধ করে রেখেছিলেন এবং যতক্ষণ আল্লাহর ইচ্ছা ছিলো, ততক্ষণ দরজা বন্ধ করে রেখেছিলেন। তাঁরা বের হলে আমি প্রথমে হজরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুর সঙ্গে দেখা করে জিজ্ঞেস করলাম, “রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোথায় নামাজ পড়েছেন?” তিনি বলেন, “এখানে এই দুই স্তম্ভের মাঝখানে।” কিন্তু আমি তাকে জিজ্ঞেস করতে ভুলে গিয়েছিলাম যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কতো রাকাত নামাজ পড়েছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৫৬৫৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ أَخْبَرَنَا أَيُّوبُ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ رَأَيْتُ الرِّجَالَ وَالنِّسَاءَ يَتَوَضَّئُونَ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَمِيعًا مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে নারী ও পুরুষদেরকে একই পাত্র থেকে, একসঙ্গে ওযু করতে দেখেছি। [মুসনাদে আহমাদ : ৫৬৫৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَزِيدُ عَنْ هَمَّامٍ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ عَائِشَةَ أَرَادَتْ أَنْ تَشْتَرِيَ بَرِيرَةَ فَأَبَى أَهْلُهَا أَنْ يَبِيعُوهَا إِلَّا أَنْ يَكُونَ لَهُمْ وَلَاؤُهَا فَذَكَرَتْ ذَلِكَ عَائِشَةُ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اشْتَرِيهَا فَأَعْتِقِيهَا فَإِنَّمَا الْوَلَاءُ لِمَنْ أَعْطَى الثَّمَنَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
সাইয়্যিদা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বারিরাকে কিনতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বারিরার মালিক তাকে বিক্রি করতে অস্বীকার করেন এবং বলেন, “যদি আমরা তার সম্পদের মালিকানা পাই, তবে আমরা তাকে বিক্রি করবো।” আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা এ কথা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট জানালে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তুমি তাকে ক্রয় করো এবং তাকে মুক্ত করে দাও। তার সম্পদের মালিকানা তারই থাকবে, যে তাকে মুক্ত করে দিবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৬৫৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ سَمِعْتُ بُرْدًا عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَبِيتُ أَحَدٌ ثَلَاثَ لَيَالٍ إِلَّا وَوَصِيَّتُهُ مَكْتُوبَةٌ قَالَ فَمَا بِتُّ مِنْ لَيْلَةٍ بَعْدُ إِلَّا وَوَصِيَّتِي عِنْدِي مَوْضُوعَةٌ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “প্রত্যেক মুসলমানের উচিত যে, সে যেনো তার কাছে লিখিত ওসীয়ত ছাড়া, তিন রাত না কাটায়।” হজরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “সেদিনের পর থেকে এমন একটি রাতও যায় নি, যেদিন আমার কাছে আমার ওসিয়ত লেখা নেই।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৬৬০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا سُفْيَانُ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دِينَارٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا تَدْخُلُوا عَلَى هَؤُلَاءِ الْقَوْمِ الَّذِينَ عُذِّبُوا إِلَّا أَنْ تَكُونُوا بَاكِينَ فَإِنْ لَمْ تَكُونُوا بَاكِينَ فَلَا تَدْخُلُوا عَلَيْهِمْ فَإِنِّي أَخَافُ أَنْ يُصِيبَكُمْ مِثْلُ مَا أَصَابَهُمْ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সামুদ সম্প্রদায়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি বললেন, “তোমরা এসব আযাব প্রাপ্ত সম্প্রদায়ের লোকালয়ে ক্রন্দনরত অবস্থা ব্যতীত প্রবেশ করবে না। কান্না না আসলে সেখানে প্রবেশ করো না। কারণ আমি ভয় পাচ্ছি যে, তাদের উপর যা আপতিত হয়েছিলো, তা তোমাদের প্রতিও আসতে পারে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৬৬১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ حَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ عَنْ حَدِيثِ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْتَمِسُوا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي السَّبْعِ الْأَوَاخِرِ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমরা রমজান মাসের শেষ সাত রাতে কদরের রাতের সন্ধান করো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৬৬২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ سُفْيَانَ حَدَّثَنِي ابْنُ دِينَارٍ سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا أَحَدُكُمْ قَالَ لِأَخِيهِ يَا كَافِرُ فَقَدْ بَاءَ بِهَا أَحَدُهُمَا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে কেউ যখন তার ভাইকে বলবে, ‘হে কাফির!’ তখন তাদের দুজনের একজন কাফির হয়ে যাবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৬৬৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ سُفْيَانَ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دِينَارٍ سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ يَقُولُ بَيْنَمَا النَّاسُ يُصَلُّونَ فِي مَسْجِدِ قُبَاءَ الْغَدَاةَ إِذْ جَاءَ جَاءٍ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ أُنْزِلَ عَلَيْهِ اللَّيْلَةَ قُرْآنٌ وَأُمِرَ أَنْ تُسْتَقْبَلَ الْكَعْبَةُ فَاسْتَقْبَلُوهَا وَاسْتَدَارُوا فَتَوَجَّهُوا نَحْوَ الْكَعْبَةِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
লোকেরা কুবা মসজিদে সকালের নামায বায়তুল-মাকসিদের দিকে মুখ করে আদায় করছিলো। এমন সময় এক ব্যক্তি এসে বললো যে, “আজ রাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে, তাঁকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে নামাযে কাবার দিকে মুখ করার জন্যে। অতএব আপনারাও কাবার দিকে মুখ করুন।” এ কথা শুনে লোকেরা সাথে সাথে সালাতের মধ্যেই কাবার দিকে মুখ ফিরিয়ে নিলো।
[মুসনাদে আহমাদ : ৫৬৬৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ حَدَّثَنِي مَالِكٌ عَنْ قَطَنِ بْنِ وَهْبٍ أَوْ وَهْبِ بْنِ قَطَنٍ اللَّيْثِيِّ شَكَّ إِسْحَاقُ عَنْ يُحَنَّسَ مَوْلَى الزُّبَيْرِ قَالَ كُنْتُ عِنْدَ ابْنِ عُمَرَ إِذْ أَتَتْهُ مَوْلَاةٌ لَهُ فَذَكَرَتْ شِدَّةَ الْحَالِ وَأَنَّهَا تُرِيدُ أَنْ تَخْرُجَ مِنْ الْمَدِينَةِ فَقَالَ لَهَا اجْلِسِي فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَا يَصْبِرُ أَحَدُكُمْ عَلَى لَأْوَائِهَا وَشِدَّتِهَا إِلَّا كُنْتُ لَهُ شَفِيعًا أَوْ شَهِيدًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ
হজরত যুবায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহুর আযাদকৃত ক্রীতদাস ইউহান্নাস থেকে বর্ণিতঃ
একবার আমি সায়্যিদুনা ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর সাথে বসে ছিলাম, এমন সময় একজন দাসী তার কাছে এসে পরিস্থিতির কষ্টের কথা বলতে শুরু করে। সে মদীনা ছেড়ে অন্য কোথাও যাওয়ার অনুমতি চাইলো। সায়্যিদুনা ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে বললেন, “বসো, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, ‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি মদীনার কষ্ট ও দুঃখ ভোগ করবে, সে যেনো কষ্টের মধ্যে ধৈর্য ধারণ করে, কেননা আমি কিয়ামতের দিন তার জন্যে সুপারিশ করবো’।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৬৬৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ قَالَ سَأَلْتُ مالِكًا عَنْ الرَّجُلِ يُوتِرُ وَهُوَ رَاكِبٌ فَقَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ يَسَارٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوْتَرَ وَهُوَ رَاكِبٌ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সওয়ারী উপর বসা অবস্থায় সূরা পাঠ করতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৫৬৬৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ تَأْمُرُنَا أَنْ نُصَلِّيَ مِنْ اللَّيْلِ قَالَ يُصَلِّي أَحَدُكُمْ مَثْنَى مَثْنَى فَإِذَا خَشِيَ الصُّبْحَ صَلَّى وَاحِدَةً فَأَوْتَرَتْ لَهُ مَا قَدْ صَلَّى مِنْ اللَّيْلِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একদা এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলো, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! রাতের নামায সম্পর্কে আপনি আমাদেরকে কি নির্দেশ দেন (রাতে কিভাবে নামাজ পড়তে হয়)?” তিনি বললেন, “তুমি দুই রাকাত নামায পড়ো এবং যখন ফজরের আশঙ্কা থাকে, তখন এ দুয়ের সাথে আরও এক রাকাত নামায যোগ করো। রাতে তুমি যতটুকু সালাত আদায় করেছো, ততটুকুই বিতরের জন্যে যথেষ্ট হবে।”
[মুসনাদে আহমাদ : ৫৬৬৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا سُفْيَانُ سَمِعْتُهُ مِنِ ابْنِ دِينَارٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا سَلَّمَ عَلَيْكَ الْيَهُودِيُّ فَإِنَّمَا يَقُولُ السَّامُ عَلَيْكَ فَقُلْ وَعَلَيْكَ وَقَالَ مَرَّةً إِذَا سَلَّمَ عَلَيْكُمْ الْيَهُودُ فَقُولُوا وَعَلَيْكُمْ فَإِنَّهُمْ يَقُولُونَ السَّامُ عَلَيْكُمْ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন কোন ইহুদী তোমাদেরকে সালাম দেয়, তখন তারা বলে যে, السَّامُ عَلَيْكَ (তোমার মৃত্যু হোক) , সুতরাং তোমাদেরকে তার জবাবে শুধু বলা উচিত, وَعَلَيْكَ (তোমার উপরেই তা হোক)। অন্য একটি রেওয়ায়েত আছে যে, ইহুদীরা যখন তোমাদেরকে সালাম দেয়, তখন তোমারা وَعَلَيْكُمْ (তোমাদের উপরেই তা হোক) বলবে, কারণ তারা السَّامُ عَلَيْكُمْ (তোমাদের মৃত্যু হোক) বলে। [মুসনাদে আহমাদ : ৫৬৬৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا سُرَيْجٌ حَدَّثَنَا مُلَازِمُ بْنُ عَمْرٍو حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَدْرٍ أَنَّهُ خَرَجَ فِي نَفَرٍ مِنْ أَصْحَابِهِ حُجَّاجًا حَتَّى وَرَدُوا مَكَّةَ فَدَخَلُوا الْمَسْجِدَ فَاسْتَلَمُوا الْحَجَرَ ثُمَّ طُفْنَا بِالْبَيْتِ أُسْبُوعًا ثُمَّ صَلَّيْنَا خَلْفَ الْمَقَامِ رَكْعَتَيْنِ فَإِذَا رَجُلٌ ضَخْمٌ فِي إِزَارٍ وَرِدَاءٍ يُصَوِّتُ بِنَا عِنْدَ الْحَوْضِ فَقُمْنَا إِلَيْهِ وَسَأَلْتُ عَنْهُ فَقَالُوا ابْنُ عَبَّاسٍ فَلَمَّا أَتَيْنَاهُ قَالَ مَنْ أَنْتُمْ قُلْنَا أَهْلُ الْمَشْرِقِ وَثَمَّ أَهْلُ الْيَمَامَةِ قَالَ فَحُجَّاجٌ أَمْ عُمَّارٌ قُلْتُ بَلْ حُجَّاجٌ قَالَ فَإِنَّكُمْ قَدْ نَقَضْتُمْ حَجَّكُمْ قُلْتُ قَدْ حَجَجْتُ مِرَارًا فَكُنْتُ أَفْعَلُ كَذَا قَالَ فَانْطَلَقْنَا مَكَانَنَا حَتَّى يَأْتِيَ ابْنُ عُمَرَ فَقُلْتُ يَا ابْنَ عُمَرَ إِنَّا قَدِمْنَا فَقَصَصْنَا عَلَيْهِ قِصَّتَنَا وَأَخْبَرْنَاهُ مَا قَالَ إِنَّكُمْ نَقَضْتُمْ حَجَّكُمْ قَالَ أُذَكِّرُكُمْ بِاللَّهِ أَخَرَجْتُمْ حُجَّاجًا قُلْنَا نَعَمْ فَقَالَ وَاللَّهِ لَقَدْ حَجَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ كُلُّهُمْ فَعَلَ مِثْلَ مَا فَعَلْتُمْ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে বদর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি আমরা একদল সাথীর সাথে হজ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই, মক্কায় পৌঁছে হারাম শরীফে প্রবেশ করি এবং কালো পাথর স্পর্শ করি। তারপর আমরা বায়তুল্লাহ প্রদক্ষিণ করলাম এবং মাকামে ইব্রাহিমের পিছনে দুই রাকাত নামায পড়লাম। হঠাৎ, একটি ভারী গড়নের লোক একটি পোশাক এবং একটি চাদর জড়িয়ে হাজির হলো, সে আমাদেরকে জমজম কুপের পাশ থেকে চিৎকার করে ডাক ছিলো। আমরা তার কাছে গেলাম। আমি লোকদেরকে তার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম এবং জানতে পারলাম যে, তিনি হযরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু। তার কাছে পৌঁছলে তিনি বললেন, “তোমরা কে?” আমি বললাম, “আমরা প্রাচ্যের মানুষ। তারপর ইয়ামামার লোকেরা আছে।” তিনি জানতে চাইলেন, “তোমরা কি হজ্জ করতে এসেছো, নাকি ওমরাহ করতে এসেছো?” আমরা পেশ করলাম যে, “আমরা হজের নিয়তে এসেছি।” তিনি বললেন, “তুমি কি এর আগে তোমার হজ সম্পন্ন করেছো?” আমি বললাম, “আমি এর আগেও বহুবার হজ করেছি এবং প্রতিবারই একইভাবে হজ করছি।” তারপর আমরা আমাদের জায়গায় চলে গেলাম, যতক্ষণ না হজরত ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাদের কাছে এলেন। আমি হজরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর সামনে পুরো ঘটনাটি উল্লেখ করলাম এবং হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর এই ফতোয়াটিও উল্লেখ করলাম যে, “আমি আমার হজ সম্পন্ন করেছি কিনা?” তিনি বললেন, “আমি তোমাকে আল্লাহর নামে উপদেশ দিচ্ছি, তুমি আমাকে বলো যে, তুমি কি হজের নিয়তে বের হয়েছো কিনা?” আমি বললাম, “জি হ্যাঁ, হজের নিয়তে বের হয়েছি।” তিনি বললেন, “আল্লাহর শপথ! রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং শাইখগণও হজ্জ করেছেন এবং তারা সবাই একই ভাবে হজ্জ করেছেন, যেমন ভাবে তুমি করেছো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৬৬৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي يَعْقُوبَ سَمِعْتُ ابْنَ أَبِي نُعَيْمٍ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ وَسَأَلَهُ رَجُلٌ عَنْ شَيْءٍ قَالَ شُعْبَةُ وَأَحْسِبُهُ سَأَلَهُ عَنْ الْمُحْرِمِ يَقْتُلُ الذُّبَابَ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ أَهْلُ الْعِرَاقِ يَسْأَلُونَ عَنْ الذُّبَابِ وَقَدْ قَتَلُوا ابْنَ بِنْتِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هُمَا رَيْحَانَتِي مِنْ الدُّنْيَا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার ইরাকের জনৈক ব্যক্তি সাইয়্যিদুনা ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞেস করলেন যে, “মহররম ব্যক্তি যদি একটি মাছি মেরে ফেলে, তাহলে তার হুকুম কি?” সাইয়্যিদুনা ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন যে, “এই ইরাকের লোকেরা এসে আমাকে মৌমাছি হত্যার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করছে, অথচো রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নাতিকে তারা (কাউকে জিজ্ঞাসা না করে) শহীদ করেছে। যদিও নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর দুই নাতি সম্পর্কে বলেছিলেন যে, ‘এই দুইজনই পৃথিবীতে আমার শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি’।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৬৭০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا سُرَيْجٌ حَدَّثَنَا فُلَيْحٌ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عِكْرِمَةَ عَنْ رَافِعِ بْنِ حُنَيْنٍ أَبِي الْمُغِيرَةِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ رَأَى مَذْهَبًا لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُوَاجَهَةَ الْقِبْلَةِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কিবলার দিকে হেঁটে যেতে দেখেছি। [মুসনাদে আহমাদ : ৫৬৭১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ قَالَ أَخْبَرَنِي نَافِعٌ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ فَرَضَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَدَقَةَ الْفِطْرِ عَلَى الصَّغِيرِ وَالْكَبِيرِ وَالْحُرِّ وَالْمَمْلُوكِ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ أَوْ شَعِيرٍ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, স্বাধীন ব্যক্তি, ক্রীতদাস, যুবক-বৃদ্ধ, ছোট-বড় সকল ব্যক্তির জন্যে এক সা খেজুর বা এক সা যব সাদাকা-তুল-ফিতর হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৫৬৭২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ أَخْبَرَنِي نَافِعٌ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّهُ كَانَ يَرْمُلُ ثَلَاثًا وَيَمْشِي أَرْبَعًا وَيَزْعُمُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَفْعَلُهُ وَكَانَ يَمْشِي مَا بَيْنَ الرُّكْنَيْنِ قَالَ إِنَّمَا كَانَ يَمْشِي مَا بَيْنَهُمَا لِيَكُونَ أَيْسَرَ لِاسْتِلَامِهِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
সাইয়্যিদুনা ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাওয়াফের প্রথম তিনটি চক্করে রমল করতেন এবং বাকি চারটি চক্করে স্বাভাবিক গতিতে চলতেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একই কাজ করতেন এবং রুকন ইয়ামানি ও হাজরে আসওয়াদের মধ্যে স্বাভাবিক গতিতে হাঁটতেন, যাতে ইসলাম পালন সহজ হয়ে যায়। [মুসনাদে আহমাদ : ৫৬৭৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا سُرَيْجٌ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّهُ كَانَ يَرْمِي الْجَمْرَةَ يَوْمَ النَّحْرِ رَاكِبًا وَسَائِرَ ذَلِكَ مَاشِيًا وَيُخْبِرُهُمْ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَفْعَلُ ذَلِكَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
সাইয়্যিদুনা ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু যিল-হজ্জের ১০ তারিখে জামারাতুল আকাবায় পাথর নিক্ষেপ করার জন্যে সওয়ার হয়ে যেতেন এবং অন্যান্য দিন গুলোতে তিনি পাথর নিক্ষেপ করার জন্যে পায়ে হেঁটে যেতেন। আর তিনি বলতেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও এমনটি করতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৫৬৭৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ أَخْبَرَنَا عَطَاءُ بْنُ السَّائِبِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَاهُ يَقُولُ لِابْنِ عُمَرَ مَا لِي لَا أَرَاكَ تَسْتَلِمُ إِلَّا هَذَيْنِ الرُّكْنَيْنِ الْحَجَرَ الْأَسْوَدَ وَالرُّكْنَ الْيَمَانِيَ فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ إِنْ أَفْعَلْ فَقَدْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّ اسْتِلَامَهُمَا يَحُطُّ الْخَطَايَا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
উবাইদ বিন উমায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহু একবার সাইয়্যিদুনা ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞেস করলেন যে, আমি আপনাকে শুধু কালো পাথর ও ইয়ামানি কোণ, এই দুটি কোণই স্পর্শ করতে দেখতে পাচ্ছি, এর কারণ কী? সাইয়্যিদুনা ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যদি আমি এটা করি, তাহলে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, “এ দুটি কোণ স্পর্শ করলে মানুষের গুনাহ মুছে যায়।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৬৭৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا سُرَيْجٌ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حُجَّاجًا فَمَا أَحْلَلْنَا مِنْ شَيْءٍ حَتَّى أَحْلَلْنَا يَوْمَ النَّحْرِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে হজ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলাম এবং কুরবানীর দিনের আগে আমরা নিজেদের জন্যে কোন কিছু হালাল করিনি। [মুসনাদে আহমাদ : ৫৬৭৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا سُرَيْجٌ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أُرِيدُ أَنْ أَتَصَدَّقَ بِمَالِي بِثَمْغٍ قَالَ احْبِسْ أَصْلَهُ وَسَبِّلْ ثَمَرَتَهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আমার ‘সামাগ’ নামক স্থানের সম্পদ দান করতে চাই।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “এর মূলধন তোমার কাছে রাখো এবং এর মুনাফা দান করো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৬৭৭]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا سُرَيْجٌ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ مَا صُمْتُ عَرَفَةَ قَطُّ وَلَا صَامَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَا أَبُو بَكْرٍ وَلَا عُمَرُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি আরাফার দিন কখনও রোজা রাখিনি এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু, উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাদের কেউ এই দিলে কখনোই রোজা রাখেননি। [মুসনাদে আহমাদ : ৫৬৭৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا سُرَيْجٌ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ قَالَ جَلَسْتُ إِلَى ابْنِ عُمَرَ وَمَعَهُ رَجُلٌ يُحَدِّثُهُ فَدَخَلْتُ مَعَهُمَا فَضَرَبَ بِيَدِهِ صَدْرِي وَقَالَ أَمَا عَلِمْتَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا تَنَاجَى اثْنَانِ فَلَا تَجْلِسْ إِلَيْهِمَا حَتَّى تَسْتَأْذِنَهُمَا
হজরত সাঈদ আল-মাকবারী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার হজরত ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু কারো সাথে কথোপকথন করছিলেন, আমি গিয়ে তাদের মাঝখানে বসলাম। তিনি আমার বুকে হাত মারলেন এবং বললেন, “তুমি কি জানো না রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যে, ‘যখন দুই জন লোক গোপনে কথা বলে, তখন তাদের অনুমতি ছাড়া তাদের কাছে বসবে না’।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৬৭৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ أَبِي سَعِيدٍ عَنْ جُرَيْجٍ أَوْ ابْنِ جُرَيْجٍ قَالَ قُلْتُ لِابْنِ عُمَرَ أَرْبَعُ خِلَالٍ رَأَيْتُكَ تَصْنَعُهُنَّ لَمْ أَرَ أَحَدًا يَصْنَعُهُنَّ قَالَ مَا هِيَ قَالَ رَأَيْتُكَ تَلْبَسُ هَذِهِ النِّعَالَ السِّبْتِيَّةَ وَرَأَيْتُكَ تَسْتَلِمُ هَذَيْنِ الرُّكْنَيْنِ الْيَمَانِيَيْنِ لَا تَسْتَلِمُ غَيْرَهُمَا وَرَأَيْتُكَ لَا تُهِلُّ حَتَّى تَضَعَ رِجْلَكَ فِي الْغَرْزِ وَرَأَيْتُكَ تُصَفِّرُ لِحْيَتَكَ قَالَ أَمَّا لُبْسِي هَذِهِ النِّعَالَ السِّبْتِيَّةَ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَلْبَسُهَا يَتَوَضَّأُ فِيهَا وَيَسْتَحِبُّهَا وَأَمَّا اسْتِلَامُ هَذَيْنِ الرُّكْنَيْنِ فَإِنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْتَلِمُهُمَا لَا يَسْتَلِمُ غَيْرَهُمَا وَأَمَّا تَصْفِيرِي لِحْيَتِي فَإِنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَفِّرُ لِحْيَتَهُ وَأَمَّا إِهْلَالِي إِذَا اسْتَوَتْ بِي رَاحِلَتِي فَإِنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا وَضَعَ رِجْلَهُ فِي الْغَرْزِ وَاسْتَوَتْ بِهِ رَاحِلَتُهُ أَهَلَّ
হজরত উবায়দ ইবনু জুরায়জ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললাম, “হে আবূ আবদুর রহমান! আমি আপনাকে এমন চারটি কাজ করতে দেখেছি, যা আপনার সঙ্গী-সাথীদের কাউকে করতে দেখিনি।” তিনি বললেন, “হে ইবনু জুরায়জ! সেগুলো কী কী?” আমি বললাম, “আমি দেখেছি আপনি রুকনে হাজারে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানী ব্যতীত আর কোনো রুকন স্পর্শ করেন না। আমি আরও লক্ষ্য করেছি যে, আপনি পশম বিহীন চামড়ার জুতা পরিধান করেন। আমি আরো দেখেছি যে, আপনি হলুদ রঙ্গ ব্যবহার করেন। আমি আরও লক্ষ্য করেছি যে, আপনি মাক্কাতে অবস্থান কালে (যিলহজ্জ মাসের) আট তারিখে ইহরাম বাঁধেন। অথচ লোকেরা নতুন চাঁদ দেখার সাথে সাথে ইহরাম বাঁধে।” হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “রুকন সমূহের ব্যাপারে কথা হচ্ছে এই যে, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রুকনে হাজারে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানী ছাড়া অন্য কোনো রুকন স্পর্শ করতে দেখিনি। আর পশম বিহীন জুতার ব্যাপার হচ্ছে এই যে, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পশম বিহীন চামড়ার জুতা পরিধান করতে দেখেছি। তিনি তা পায়ে দিয়ে ওযুও করতেন। আমিও তাই এ ধরনের জুতা পছন্দ করি। হলুদ রঙ্গের সম্পর্কে কথা হচ্ছে এই যে, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে এ রঙ্গ ব্যবহার করতে দেখেছি। অতএব আমিও এ রঙ্গ পছন্দ করি। ইহরাম সম্পর্কে বলতে হয় যে, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তখনি তালবিয়াহ পাঠ করতে শুনেছি, যখন তাঁর উট যাত্রা শুরু করতো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৬৮০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ أَخْبَرَنِي نَافِعٌ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ عُمَرَ رَأَى حُلَّةَ سِيَرَاءَ أَوْ حَرِيرٍ تُبَاعُ فَقَالَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَوْ اشْتَرَيْتَ هَذِهِ تَلْبَسُهَا يَوْمَ الْجُمُعَةِ أَوْ لِلْوُفُودِ قَالَ إِنَّمَا يَلْبَسُ هَذِهِ مَنْ لَا خَلَاقَ لَهُ قَالَ فَأُهْدِيَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْهَا حُلَلٌ فَبَعَثَ إِلَى عُمَرَ مِنْهَا بِحُلَّةٍ قَالَ سَمِعْتُ مِنْكَ تَقُولُ مَا قُلْتَ وَبَعَثْتَ إِلَيَّ بِهَا قَالَ إِنَّمَا بَعَثْتُ بِهَا إِلَيْكَ لِتَبِيعَهَا أَوْ تَكْسُوَهَا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার সাইয়্যিদুনা উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বাজারে একটি রেশম জোড়া বিক্রি হতে দেখলেন। তখন তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললো, “আপনি যদি তা ক্রয় করতেন, তবে শুক্রবারে পরিধান করতেন বা কোনো প্রতিনিধি দলের সাথে সাক্ষাতের সময় পরিধান করতেন।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “এটি এমন এক ব্যক্তির দ্বারা পরিধান করা হয়, যার আখেরাতের কোনো অংশ নেই।” এর পর ঐ রেশম জোড়া রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিয়া হিসাবে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে পাঠালেন। হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে এসে বললো, “আপনি রেশম সম্পর্কে যা বলেছিলেন, আমি তা শুনেছিলাম। এখন আপনি নিজেই এই রেশম জোড়া আমার কাছে পাঠিয়েছেন?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আমি এটি তোমাকে পরিধান করার জন্যে পাঠায়নি। আমি এটা তোমার কাছে পাঠিয়েছি, যাতে তুমি এটা বিক্রি করতে পারো এবং এর মূল্য নিজের কাজে লাগাতে পারো অথবা অন্য কারো কাজে লাগাতে পারো।” যাইহোক, হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু সেই রেশম জোড়াটি তাঁর মা সম্পর্কীয় ভাইকে দিয়েছিলেন, যিনি একজন মুশরিক ছিলেন এবং মক্কায় থাকতেন।
[মুসনাদে আহমাদ : ৫৬৮১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَسْوَدُ بْنُ عَامِرٍ حَدَّثَنَا سِنَانُ بْنُ هَارُونَ عَنْ كُلَيْبِ بْنِ وَائِلٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ ذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِتْنَةً فَمَرَّ رَجُلٌ فَقَالَ يُقْتَلُ فِيهَا هَذَا الْمُقَنَّعُ يَوْمَئِذٍ ظُلْمًا قَالَ فَنَظَرْتُ فَإِذَا هُوَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফিতনার কথা উল্লেখ করছিলেন, এমন সময় এক ব্যক্তি পাশ দিয়ে গেলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে দেখলেন বললেন, “এই মুখোশধারী ব্যক্তিটি এমন একজন শহীদ ব্যক্তি, যাকে নির্যাতিত অবস্থায় শহীদ করা হবে।” আমি গিয়ে দেখলাম, তিনি সাইয়্যিদুনা উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু।
[মুসনাদে আহমাদ : ৫৬৮২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ شُعْبَةَ حَدَّثَنِي سَلَمَةُ بْنُ كُهَيْلٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا الْحَكَمِ قَالَ سَأَلْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ نَبِيذِ الْجَرِّ وَالدُّبَّاءِ فَقَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ نَبِيذِ الْجَرِّ وَالدُّبَّاءِ وَقَالَ مَنْ سَرَّهُ أَنْ يُحَرِّمَ مَا حَرَّمَ اللَّهُ تَعَالَى وَرَسُولُهُ فَلْيُحَرِّمْ النَّبِيذَ قَالَ وَسَأَلْتُ ابْنَ الزُّبَيْرِ فَقَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الدُّبَّاءِ وَالْجَرِّ قَالَ وَسَأَلْتُ ابْنَ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَحَدَّثَ عَنْ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ الدُّبَّاءِ وَالْمُزَفَّتِ قَالَ وَحَدَّثَنِي أَخِي عَنْ أَبِي سَعِيدٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ الْجَرِّ وَالدُّبَّاءِ وَالْمُزَفَّتِ وَالْبُسْرِ وَالتَّمْرِ
আবুল হাকাম থেকে বর্ণিতঃ
আমি ইবনুল আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে কলসীতে বানানো ফলের রসের মদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কলসী ও লাউয়ের খোলে করে বানানো ফলের রসের মদ নিষিদ্ধ করেছেন এবং বলেছেন, আল্লাহ ও তার রাসূলের নিষিদ্ধকৃত জিনিসকে বর্জন করা যার কাছে আনন্দদায়ক, সে যেন ফলের রসের মদ বর্জন করে। ইবনুয যুবাইরও রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কলসী ও লাউয়ের খোলে করে বানানো মদ নিষিদ্ধ করেছেন। ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুও উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু এর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লাউয়ের খোলে করে বানানো মদ ও মুযাফফাত (আলকাতরার মত কালো এক ধরনের তরল মাদক) নিষিদ্ধ করেছেন। আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু ও বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কলসী, লাউয়ের খোল, মুযাফফাত এবং কাচা খেজুর ও খোরমার নির্যাস দিয়ে তৈরী মদ নিষিদ্ধ করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৫৬৮৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ صَحِبْتُ ابْنَ عُمَرَ إِلَى الْمَدِينَةِ فَلَمْ أَسْمَعْهُ يُحَدِّثُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَّا حَدِيثًا كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأُتِيَ بِجُمَّارَةٍ فَقَالَ إِنَّ مِنْ الشَّجَرِ شَجَرَةً مَثَلُهَا كَمَثَلِ الرَّجُلِ الْمُسْلِمِ فَأَرَدْتُ أَنْ أَقُولَ هِيَ النَّخْلَةُ فَنَظَرْتُ فَإِذَا أَنَا أَصْغَرُ الْقَوْمِ فَسَكَتُّ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هِيَ النَّخْلَةُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “গাছ সমূহের মধ্যে এমন একটি গাছ আছে যার পাতা কখনো ঝরে না। সেটিই মুমিনের উদাহরণ। তোমরা আমাকে বলো, সেটা কোন গাছ?” আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, সকলেই ধারণা করতে লাগলো পাহাড়ী অথবা জংলী গাছ হবে, কিন্তু আমার মনে হলো সেটা নিশ্চই খেজুর গাছ। অবশেষে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “সেটা খেজুর গাছ।” অথচ আমি সেটা বলতে লজ্জা পাচ্ছিলাম (বয়সে ছোট হবার কারণে তা বলিনি)। আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকট আমার মনের ধারণা প্রকাশ করলাম। তিনি বললেন, “তুমি যদি সেই কথাটা বলে দিতে, তাহলে সেটা আমার নিকট এতো এতো সম্পদের চাইতেও অধিক প্রিয় হতো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৬৮৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْد اللَّهِ قَالَ وَجَدْتُ هَذَا الْحَدِيثَ فِي كِتَابِ أَبِي بِخَطِّ يَدِهِ حَدَّثَنَا أَسْوَدُ وَحُسَيْنٌ قَالَا حَدَّثَنَا شَرِيكٌ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ إِسْحَاقَ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ رَجُلٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُرَاهُ ابْنَ عُمَرَ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ مَثَّلَ بِذِي الرُّوحِ ثُمَّ لَمْ يَتُبْ مَثَّلَ اللَّهُ بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ قَالَ حُسَيْنٌ مَنْ مَثَّلَ بِذِي رُوحٍ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোনো জীবের প্রতি অন্যায় আচরণ করবে এবং তওবা না করে মৃত্যু বরণ করবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তার সাথে অনুরূপ আচরণ করবেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৬৮৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস