

حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ الَّذِي يَكْذِبُ عَلَيَّ يُبْنَى لَهُ بَيْتٌ فِي النَّارِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি আমার সম্পর্কে মিথ্যা বলবে, তার জন্যে জাহান্নামে একটি ঘর তৈরি করা হবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৫৩৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ أَخْبَرَنَا أَيُّوبُ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ رَأَيْتُ الرِّجَالَ وَالنِّسَاءَ يَتَوَضَّئُونَ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَمِيعًا مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে নারী ও পুরুষদেরকে একই পাত্র থেকে, একসঙ্গে ওযু করতে দেখেছি। [মুসনাদে আহমাদ : ৫৫৩৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ عَنْ نَافِعٍ قَالَ نَادَى ابْنُ عُمَرَ بِالصَّلَاةِ بِضَجْنَانَ ثُمَّ نَادَى أَنْ صَلُّوا فِي رِحَالِكُمْ ثُمَّ حَدَّثَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ كَانَ يَأْمُرُ الْمُنَادِيَ فَيُنَادِي بِالصَّلَاةِ ثُمَّ يُنَادِي أَنْ صَلُّوا فِي رِحَالِكُمْ فِي اللَّيْلَةِ الْبَارِدَةِ وَفِي اللَّيْلَةِ الْمَطِيرَةِ فِي السَّفَرِ
হজরত নাফি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
জাজনান উপত্যকায় একবার সাইয়্যিদুনা ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু নামাযের ঘোষণা দেন, তারপর প্রচার করেন যে, তোমরা তোমাদের নিজেদের তাঁবুতে নামায পড়ো এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে এই হাদীসটি বর্ণনা করলেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভ্রমণের সময় ঠান্ডার রাতে বা বৃষ্টির রাতে নামাযের ঘোষণা দিতেন এবং প্রচার করতেন যে, “তোমরা নিজেদের তাঁবুতে নামায পড়ো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৫৩৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنِ الْمِنْهَالِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ جُبَيْرٍ قَالَ مَرَرْتُ مَعَ ابْنِ عُمَرَ وَابْنِ عَبَّاسٍ فِي طَرِيقٍ مِنْ طُرُقِ الْمَدِينَةِ فَإِذَا فِتْيَةٌ قَدْ نَصَبُوا دَجَاجَةً يَرْمُونَهَا لَهُمْ كُلُّ خَاطِئَةٍ قَالَ فَغَضِبَ وَقَالَ مَنْ فَعَلَ هَذَا قَالَ فَتَفَرَّقُوا فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ يُمَثِّلُ بِالْحَيَوَانِ
হজরত সাঈদ বিন যুবায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার আমি, ইবনে ওমর ও ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু মদীনার একটি রাস্তা দিয়ে হেঁটেছিলাম এবং আমরা কিছু অল্প বয়স্ক ছেলেকে দেখলাম যে, তারা একটি মুরগিকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে নিয়ে, সেটিকে লক্ষ্য করে তীর ছুড়ছিলো। তাদের নিক্ষেপকৃত যে তীর গুলো মুরগির গায়ে লাগবে না, ঐ প্রতিটি তীর মুরগির মালিকদের থাকবে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু রাগান্বিত হয়ে বললেন, “কে করেছে এটা?” ফলে ঐ ছেলেরা বিক্ষিপ্ত হয়ে গেলো। ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঐ ব্যক্তিকে অভিসম্পাত করেছেন, যে কোনো প্রাণীকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গ্রহণ করে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৫৩৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ وَحَجَّاجٌ قَالَا حَدَّثَنَا شُعْبَةُ الْمَعْنَى قَالَ حَجَّاجٌ عَنْ جَبَلَةَ وَقَالَ ابْنُ جَعْفَرٍ سَمِعْتُ جَبَلَةَ قَالَ كَانَ ابْنُ الزُّبَيْرِ يَرْزُقُنَا التَّمْرَ قَالَ وَقَدْ كَانَ أَصَابَ النَّاسَ يَوْمَئِذٍ جَهْدٌ فَكُنَّا نَأْكُلُ فَيَمُرُّ عَلَيْنَا ابْنُ عُمَرَ وَنَحْنُ نَأْكُلُ فَيَقُولُ لَا تُقَارِنُوا فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ الْإِقْرَانِ قَالَ حَجَّاجٌ نَهَى عَنْ الْقِرَانِ إِلَّا أَنْ يَسْتَأْذِنَ الرَّجُلُ أَخَاهُ وَقَالَ شُعْبَةُ لَا أُرَى هَذِهِ الْكَلِمَةَ فِي الِاسْتِئْذَانِ إِلَّا مِنْ كَلَامِ ابْنِ عُمَرَ
হজরত জাবলা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
সাইয়্যিদুনা আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাদেরকে খেজুর খেতে দিতেন। একদা আমরা খেজুর খাচ্ছিলাম, তখন সাইয়্যিদনা ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাদের পাশ দিয়ে গেলেন ও তিনি বললেন, “তোমরা একসাথে অনেক গুলো খেজুর খাবেন না, কারণ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার ভাইয়ের অনুমতি ছাড়া, একসাথে অনেক খেজুর খেতে নিষেধ করেছেন।” ইমাম শুবা বলেন যে, “আমি মনে করি যে, জায়েজ জিনিস হলো, সাইয়্যিদুনা ইবনে উমরের কথা।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৫৪০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ سَمِعَ ابْنَ عُمَرَ ابْنَ ابْنِهِ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ وَاقِدٍ يَا بُنَيَّ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَا يَنْظُرُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ إِلَى مَنْ جَرَّ إِزَارَهُ خُيَلَاءَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি অহঙ্কার বশত তার কাপড় মাটিতে টেনে হেঁটে চলে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার প্রতি রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না, তার সাথে কোনো কথা বলবেন না।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৫৪১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ عَنِ الْأَعْمَشِ سَمِعَ أَبَا وَائِلٍ يُحَدِّثُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ لِكُلِّ غَادِرٍ لِوَاءٌ وَيُقَالُ هَذِهِ غَدْرَةُ فُلَانٍ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কেয়ামতের দিন প্রত্যেক প্রতারকের জন্যে একটি পতাকা থাকবে। আর বলা হবে যে, ‘এটি অমুক প্রতারকের পতাকা’।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৫৪২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنِ ابْنِ جُدْعَانَ عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ رَبِيعَةَ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ وَهُوَ عَلَى دَرَجِ الْكَعْبَةِ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي صَدَقَ وَعْدَهُ وَنَصَرَ عَبْدَهُ وَهَزَمَ الْأَحْزَابَ وَحْدَهُ أَلَا إِنَّ قَتِيلَ الْعَمْدِ الْخَطَإِ بِالسَّوْطِ أَوْ الْعَصَا فِيهِ مِائَةٌ مِنْ الْإِبِلِ وَقَالَ مَرَّةً الْمُغَلَّظَةُ فِيهَا أَرْبَعُونَ خَلِفَةً فِي بُطُونِهَا أَوْلَادُهَا إِنَّ كُلَّ مَأْثُرَةٍ كَانَتْ فِي الْجَاهِلِيَّةِ وَدَمٍ وَدَعْوَى وَقَالَ مَرَّةً وَدَمٍ وَمَالٍ تَحْتَ قَدَمَيَّ هَاتَيْنِ إِلَّا مَا كَانَ مِنْ سِقَايَةِ الْحَاجِّ وَسِدَانَةِ الْبَيْتِ فَإِنِّي أُمْضِيهِمَا لِأَهْلِهِمَا عَلَى مَا كَانَتْ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
মক্কা বিজয়ের দিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাবার সিঁড়িতে বসে বলেছিলেন, “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছেন, তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন। সমস্ত সৈন্যবাহিনীকে একাই পরাজিত করেছেন। তোমরা মনে রাখবেন যে, একজন নিহত ব্যক্তির রক্তপণ হলো চল্লিশটি গর্ভবতী উটসহ একশত উট। তোমরা মনে রাখবেন যে, জাহেলী যুগের প্রতিটি অহঙ্কার, প্রতিটি রক্ত এবং প্রতিটি দাবী আমার দুই পায়ের নিচে। (সুরতাং তা বাতিল করা হলো।) তবে হাজীদের পানি সরবরাহ এবং বায়তুল্লাহ শরীফের চাবি বহন করার অবস্থান, যতক্ষণ পর্যন্ত বিশ্ব থাকবে, আমি ততক্ষণ পর্যন্ত এই পদের অধিকারীদের জন্যে তা বজায় রাখবো। (এই অবস্থানগুলি একই লোকেদের সাথেই থাকবে।)” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৫৪৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا وُضِعَ الْعَشَاءُ وَأُقِيمَتْ الصَّلَاةُ فَابْدَءُوا بِالْعَشَاءِ قَالَ وَلَقَدْ تَعَشَّى ابْنُ عُمَرَ مَرَّةً وَهُوَ يَسْمَعُ قِرَاءَةَ الْإِمَامِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমাদের কারো সামনে খাবার রাখা হয় এবং নামায দাঁড়িয়ে যায়, তখন তোমরা আগে খেয়ে নাও।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৫৪৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ عَنْ نَافِعٍ أَنَّ ابْنَ عُمَرَ كَانَ يَغْدُو إِلَى الْمَسْجِدِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَيُصَلِّي رَكَعَاتٍ يُطِيلُ فِيهِنَّ الْقِيَامَ فَإِذَا انْصَرَفَ الْإِمَامُ رَجَعَ إِلَى بَيْتِهِ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ وَقَالَ هَكَذَا كَانَ يَفْعَلُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
হজরত নাফী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
হযরত ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু জুমার দিনে মসজিদে যেতেন এবং কয়েক রাকাত সালাত পড়তেন, যাতে তিনি দীর্ঘ সময় দাড়িয়ে থাকতেন। এরপর জুমার নামায শেষ হলে, ঘরে ফিরে তিনি দুই রাকাত নামায পড়তেন এবং বলতেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও এইরূপ করতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৫৫৪৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ إِيَادِ بْنِ لَقِيطٍ حَدَّثَنَا إِيَادٌ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ نُعْمٍ أَوْ نُعَيْمٍ الْأَعْرَجِيِّ شَكَّ أَبُو الْوَلِيدِ قَالَ سَأَلَ رَجُلٌ ابْنَ عُمَرَ عَنْ الْمُتْعَةِ وَأَنَا عِنْدَهُ مُتْعَةِ النِّسَاءِ فَقَالَ وَاللَّهِ مَا كُنَّا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ زَانِينَ وَلَا مُسَافِحِينَ ثُمَّ قَالَ وَاللَّهِ لَقَدْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَيَكُونَنَّ قَبْلَ يَوْمِ الْقِيَامَةِ الْمَسِيحُ الدَّجَّالُ وَكَذَّابُونَ ثَلَاثُونَ أَوْ أَكْثَرُ حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ حُمَيْدٍ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ إِيَادِ بْنِ لَقِيطٍ أَخْبَرَنَا إِيَادٌ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْأَعْرَجِيِّ عَنِ ابْنِ عُمَرَ وَلَمْ يَشُكَّ فِيهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلَهُ
হজরত আব্দুর রহমান আল-আরজি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি আমার উপস্থিতিতে হজরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে নারীদের সঙ্গে যৌন মিলন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে, তিনি বললেন যে, “আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময়ে কোনো অনৈতিক বা যৌন অনৈতিক কাজ করিনি।” তিনি আরো বললেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, “কিয়ামতের পূর্বে খ্রীষ্ট দাজ্জাল এবং ত্রিশ বা ততোধিক মিথ্যাবাদী অবশ্যই আসবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৫৪৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ يُحَدِّثُ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا تَرْجِعُوا بَعْدِي كُفَّارًا يَضْرِبُ بَعْضُكُمْ رِقَابَ بَعْضٍ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (বিদায় হজ্জ উপলক্ষে) বলেছেন, “আমার মৃত্যুর পরে তোমরা একে অপরের ঘাড়ে আঘাত করে, কাফের হয়ে যেও না।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৫৪৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ يُحَدِّثُ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا تَرْجِعُوا بَعْدِي كُفَّارًا يَضْرِبُ بَعْضُكُمْ رِقَابَ بَعْضٍ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (বিদায় হজ্জ উপলক্ষে) বলেছেন, “আমার মৃত্যুর পরে তোমরা একে অপরের ঘাড়ে আঘাত করে, কাফের হয়ে যেও না।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৫৪৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ حَدَّثَنَا قُدَامَةُ بْنُ مُوسَى حَدَّثَنَا أَيُّوبُ بْنُ حُصَيْنٍ التَّمِيمِيُّ عَنْ أَبِي عَلْقَمَةَ مَوْلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ عَنْ يَسَارٍ مَوْلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ رَآنِي ابْنُ عُمَرَ وَأَنَا أُصَلِّي بَعْدَمَا طَلَعَ الْفَجْرُ فَقَالَ يَا يَسَارُ كَمْ صَلَّيْتَ قُلْتُ لَا أَدْرِي قَالَ لَا دَرَيْتَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ عَلَيْنَا وَنَحْنُ نُصَلِّ هَذِهِ الصَّلَاةَ فَقَالَ أَلَا لِيُبَلِّغْ شَاهِدُكُمْ غَائِبَكُمْ أَنْ لَا صَلَاةَ بَعْدَ الصُّبْحِ إِلَّا سَجْدَتَانِ
হজরত ইয়াসার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
ইয়াসার যিনি হজরত ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর আযাদকৃত গোলাম তিনি বলেন, একবার হজরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাকে ফজরের পর সালাত আদায় করতে দেখে বললেন, “হে ইয়াসার! আপনি কত রাকাত পড়েছেন?” আমি বললাম যে, “আমার মনে নেই।” তিনি বললেন, “মনে নেই। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও এমন সময় একবার এসেছিলেন এবং আমরাও একই ভাবে সালাত আদায় করছিলাম, তাই তিনি উপস্থিত ও অনুপস্থিত সকলকে এই বার্তা পৌঁছে দিতে বললেন যে, ‘ফজরের পর দুই রাকাত ছাড়া আর কোনো সালাত নেই’।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৫৪৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ حَدَّثَنَا أَبُو عَقِيلٍ قَالَ أَبِي وَهُوَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَقِيلٍ صَالِحُ الْحَدِيثِ ثِقَةٌ حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَمْزةَ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ اللَّهُمَّ الْعَنْ فُلَانًا اللَّهُمَّ الْعَنْ الْحَارِثَ بْنَ هِشَامٍ اللَّهُمَّ الْعَنْ سُهَيْلَ بْنَ عَمْرٍو اللَّهُمَّ الْعَنْ صَفْوَانَ بْنَ أُمَيَّةَ قَالَ فَنَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ لَيْسَ لَكَ مِنْ الْأَمْرِ شَيْءٌ أَوْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ أَوْ يُعَذِّبَهُمْ فَإِنَّهُمْ ظَالِمُونَ قَالَ فَتِيبَ عَلَيْهِمْ كُلِّهِمْ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ফাজরের সলাতের শেষ রাকআতে রুকু থেকে মাথা উঠিয়ে سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ বলার পর বলতে শুনেছেন যে, “হে আল্লাহ! আপনি অমুক, অমুক এবং অমুকের উপর আপনার অভিশাপ বর্ষণ করুন। হে আল্লাহ! আপনি হারিস বিন হিশাম, সুহাইল বিন আমর ও সাফওয়ান বিন উমাইয়ার উপর আপনার অভিশাপ বর্ষণ করুন।” তখন আল্লাহ তায়ালা এই আয়াত অবতীর্ণ করলেন,
لَيۡسَ لَكَ مِنَ ٱلۡأَمۡرِ شَيۡءٌ أَوۡ يَتُوبَ عَلَيۡهِمۡ أَوۡ يُعَذِّبَهُمۡ فَإِنَّهُمۡ ظَٰلِمُونَ١٢٨
হে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এই ব্যাপারে আপনার কোনো কিছুই করণীয় নেই যে, হয় আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করবেন অথবা তাদেরকে শাস্তি দিবেন, কেননা নিশ্চয় তারা অন্যায়কারী। (৩. আল ইমরান : ১২৮)
[মুসনাদে আহমাদ : ৫৫৫০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ الْغَلَابِيُّ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَجْلَانَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَزَلَ الْعَقِيقَ فَنَهَى عَنْ طُرُوقِ النِّسَاءِ اللَّيْلَةَ الَّتِي يَأْتِي فِيهَا فَعَصَاهُ فَتَيَانِ فَكِلَاهُمَا رَأَى مَا كَرِهَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওয়াদী আকিকে শিবির স্থাপন করেছিলেন এবং লোকদেরকে তাদের স্ত্রীদেরকে না জানিয়ে হঠাৎ করে তাদের কাছে যেতে নিষেধ করেছিলেন। দুই জন যুবক এই নিষেধ মানেনি, তাই তাদেরকে বিভীষিকাময় দৃশ্য দেখতে হয়। [মুসনাদে আহমাদ : ৫৫৫১]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস


قَالَ مُوسَى وَأَخْبَرَنِي سَالِمٌ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَتَى فِي مُعَرَّسِهِ فَقِيلَ لَهُ إِنَّكَ فِي بَطْحَاءَ مُبَارَكَةٍ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একজন ফেরেশতা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শিবিরে এসে বললেন যে, “আপনি বরকতময় উপত্যকায় আছেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৫৫২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ سَمِعْتُ مُحَارِبَ بْنَ دِثَارٍ سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ جَرَّ ثَوْبَهُ مِنْ مَخِيلَةٍ لَمْ يَنْظُرْ اللَّهُ إِلَيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি অহঙ্কার বশত মাটিতে কাপড় টেনে নিয়ে হাঁটে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার প্রতি রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না। আল্লাহ তার সাথে কথা বলবেন না ও তার প্রতি দয়া করবেন না।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৫৫৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا رَوْحٌ حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ قَالَ أَخْبَرَنِي مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ حَدَّثَنِي سَالِمٌ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنْ رُؤْيَا رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ قَالَ رَأَيْتُ النَّاسَ قَدْ اجْتَمَعُوا فَقَامَ أَبُو بَكْرٍ فَنَزَعَ ذَنُوبًا أَوْ ذَنُوبَيْنِ وَفِي نَزْعِهِ ضَعْفٌ وَاللَّهُ يَغْفِرُ لَهُ ثُمَّ نَزَعَ عُمَرُ فَاسْتَحَالَتْ غَرْبًا فَمَا رَأَيْتُ عَبْقَرِيًّا مِنْ النَّاسِ يَفْرِي فَرِيَّهُ حَتَّى ضَرَبَ النَّاسُ بِعَطَنٍ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “একদা (স্বপ্নে) লোকজনকে একটি মাঠে সমবেত দেখতে পেলাম। তখন আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু উঠে দাঁড়ালেন এবং এক অথবা দুই বালতি পানি উঠালেন। পানি উঠাতে তিনি দুর্বলতা বোধ করছিলেন। আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন। অতঃপর উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বালতিটি হাতে নিলেন। বালতিটি তখন বড় আকার ধারণ করলো। আমি মানুষের মধ্যে পানি উঠাতে উমারের মত সুদক্ষ ও শক্তিশালী ব্যক্তি আর দেখিনি। শেষে উপস্থিত লোক তাদের উটগুলোকে পানি পান করিয়ে উটশালে নিয়ে গেলো।” হাম্মাম রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “আমি আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণনা করতে শুনেছি, আবূ বকর দুই বালতি পানি উঠালেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৫৫৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ أَيُّوبَ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ اسْتَطَاعَ أَنْ يَمُوتَ بِالْمَدِينَةِ فَلْيَفْعَلْ فَإِنِّي أَشْفَعُ لِمَنْ مَاتَ بِهَا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি মদীনায় মারা যেতে পারে, সে যেনো তা করে। কেননা যে ব্যক্তি মদীনায় মারা যাবে, আমি তার জন্যে সুপারিশ করবো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৫৫৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ قَالَ سَأَلْتُ ابْنَ عُمَرَ عَنْ نَبِيذِ الْجَرِّ فَقَالَ حَرَامٌ فَقُلْتُ أَنَهَى عَنْهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ يَزْعُمُونَ ذَلِكَ
হজরত সাবিত বিনানী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি সাইয়্যিদুনা ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু কে মটকার নাবীজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেন, “এটা হারাম।” আমি জিজ্ঞেস করলাম, “রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি তা নিষেধ করেছেন?” তিনি বললেন, “হ্যাঁ, লোকেরা তাই বলে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৫৫৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا رَوْحٌ حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنِي مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ كُلُّ مُسْكِرٍ خَمْرٌ وَكُلُّ خَمْرٍ حَرَامٌ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “প্রতিটি নেশাকারী দ্রব্যই মদ এবং প্রতিটি মদই হারাম।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৫৫৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ عِيسَى أَنْبَأَنَا مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ أَعْتَقَ شِرْكًا لَهُ فِي عَبْدٍ فَكَانَ لَهُ مَا يَبْلُغُ ثَمَنَ الْعَبْدِ فَإِنَّهُ يُقَوَّمُ قِيمَةَ عَدْلٍ فَيُعْطَى شُرَكَاؤُهُ حَقَّهُمْ وَعَتَقَ عَلَيْهِ الْعَبْدَ وَإِلَّا فَقَدْ أَعْتَقَ مَا أَعْتَقَ
ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি যৌথ মালিকানাভুক্ত দাসের নিজের প্রাপ্য অংশকে স্বাধীন করে দেয়, যদি সে ধনী হয়, তবে দাসটিকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত করা তার দায়িত্ব হয়ে যায়। এরপর ঐ দাসের আনুপাতিক অংশের মূল্য নির্ধারণ করা হবে, অতঃপর তার শরীকদেরকে তাদের প্রাপ্য দেয়া হবে এবং তার জন্যে দাসটি স্বাধীন হয়ে যাবে। অন্যথায় (আনুপাতিক অংশের মূল্য নির্ধারণ ও অন্যান্য শরীককে তাদের প্রাপ্য না দেয়া হলে) সে যেটুকু স্বাধীন করেছে, দাসটি সেটুকুই স্বাধীন হবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৫৫৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى عَنْ مَعْمَرٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُصَلِّي عَلَى رَاحِلَتِهِ حَيْثُ تَوَجَّهَتْ بِهِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সওয়ারীর উপর নফল নামায পড়তেন, সওয়ারী যে দিকেই মুখ করে থাকতো না কেনো। [মুসনাদে আহমাদ : ৫৫৫৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ حَدَّثَنِي نَافِعٌ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ يَقُومُ النَّاسُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ يَقُومُ فِي رَشْحِهِ إِلَى أَنْصَافِ أُذُنَيْهِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই আয়াতের তাফসীরে বলেছেন,
يَوۡمَ يَقُومُ ٱلنَّاسُ لِرَبِّ ٱلۡعَٰلَمِينَ٦
যেদিন মানুষ বিশ্বজগতের পালনকর্তার সামনে দাঁড়াবে। (৮৩. আত মুতাফফিফীন : ৬)
ঐ দিনের দৈর্ঘ্য হবে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। তখন মানুষ অর্ধেক কান পর্যন্ত ঘামে উঠে দাঁড়াবে। [মুসনাদে আহমাদ : ৫৫৬০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ سُفْيَانَ حَدَّثَنِي ابْنُ دِينَارٍ سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا أَحَدُكُمْ قَالَ لِأَخِيهِ يَا كَافِرُ فَقَدْ بَاءَ بِهَا أَحَدُهُمَا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে কেউ যখন তার ভাইকে বলবে, ‘হে কাফির!’ তখন তাদের দুজনের একজন কাফির হয়ে যাবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৫৬১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا بَهْزٌ وَعَفَّانُ قَالَا حَدَّثَنَا هَمَّامٌ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ قَالَ عَفَّانُ عَنْ صَفْوَانَ بْنِ مُحْرِزٍ قَالَ كُنْتُ آخِذًا بِيَدِ ابْنِ عُمَرَ إِذْ عَرَضَ لَهُ رَجُلٌ فَقَالَ كَيْفَ سَمِعْتَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ فِي النَّجْوَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَقَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يُدْنِي الْمُؤْمِنَ فَيَضَعُ عَلَيْهِ كَنَفَهُ وَيَسْتُرُهُ مِنْ النَّاسِ وَيُقَرِّرُهُ بِذُنُوبِهِ وَيَقُولُ لَهُ أَتَعْرِفُ ذَنْبَ كَذَا أَتَعْرِفُ ذَنْبَ كَذَا أَتَعْرِفُ ذَنْبَ كَذَا حَتَّى إِذَا قَرَّرَهُ بِذُنُوبِهِ وَرَأَى فِي نَفْسِهِ أَنَّهُ قَدْ هَلَكَ قَالَ فَإِنِّي قَدْ سَتَرْتُهَا عَلَيْكَ فِي الدُّنْيَا وَإِنِّي أَغْفِرُهَا لَكَ الْيَوْمَ ثُمَّ يُعْطَى كِتَابَ حَسَنَاتِهِ وَأَمَّا الْكُفَّارُ وَالْمُنَافِقُونَ فَيَقُولُ الْأَشْهَادُ هَؤُلَاءِ الَّذِينَ كَذَبُوا عَلَى رَبِّهِمْ أَلَا لَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الظَّالِمِينَ
হজরত সাফওয়ান ইবনু মুহরিব আল–মাযিনী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একদিন আমি ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে তাঁর হাত ধরে চলছিলাম। এ সময় এক ব্যক্তি এসে বললো, “কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা ও তাঁর মুমিন বান্দার একান্তে কথাবার্তা সম্পর্কে আপনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কি বলতে শুনেছেন?” তখন তিনি বললেন, “আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ তাআলা মুমিন ব্যক্তিকে নিজের কাছে নিয়ে আসবেন এবং তার উপর স্বীয় আবরণ দ্বারা তাকে ঢেকে নিবেন। তারপর বলবেন, ‘অমুক পাপের কথা কি তুমি জানো?’ তখন সে বলবে, ‘হ্যাঁ, হে আমার প্রতিপালক!’ এভাবে তিনি তার কাছ হতে তার পাপগুলো স্বীকার করিয়ে নিবেন। আর সে মনে করবে যে, তার ধ্বংস অনিবার্য। তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, ‘আমি পৃথিবীতে তোমার পাপ গোপন রেখেছিলাম। আর আজ আমি তা মাফ করে দিবো।’ তারপর তার নেক আমলনামা তাকে দেয়া হবে। কিন্তু কাফির ও মুনাফিকদের সম্পর্কে সাক্ষীরা বলবে, এরাই তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে মিথ্যা বলেছিলো। সাবধান, যালিমদের উপর আল্লাহর অভিসম্পাত রয়েছে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৫৬২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى عَنْ مَعْمَرٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُصَلِّي عَلَى رَاحِلَتِهِ حَيْثُ تَوَجَّهَتْ بِهِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সওয়ারীর উপর নফল নামায পড়তেন, সওয়ারী যে দিকেই মুখ করে থাকতো না কেনো। [মুসনাদে আহমাদ : ৫৫৬৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ سُفْيَانَ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دِينَارٍ سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ يَقُولُ بَيْنَمَا النَّاسُ يُصَلُّونَ فِي مَسْجِدِ قُبَاءَ الْغَدَاةَ إِذْ جَاءَ جَاءٍ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ أُنْزِلَ عَلَيْهِ اللَّيْلَةَ قُرْآنٌ وَأُمِرَ أَنْ تُسْتَقْبَلَ الْكَعْبَةُ فَاسْتَقْبَلُوهَا وَاسْتَدَارُوا فَتَوَجَّهُوا نَحْوَ الْكَعْبَةِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
লোকেরা কুবা মসজিদে সকালের নামায বায়তুল-মাকসিদের দিকে মুখ করে আদায় করছিলো। এমন সময় এক ব্যক্তি এসে বললো যে, “আজ রাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে, তাঁকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে নামাযে কাবার দিকে মুখ করার জন্যে। অতএব আপনারাও কাবার দিকে মুখ করুন।” এ কথা শুনে লোকেরা সাথে সাথে সালাতের মধ্যেই কাবার দিকে মুখ ফিরিয়ে নিলো।
[মুসনাদে আহমাদ : ৫৫৬৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا جَاءَ أَحَدُكُمْ إِلَى الْجُمُعَةِ فَلْيَغْتَسِلْ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ জুমুআর নামাযের জন্যে আসে, তখন সে যেনো গোসল করে আসে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৫৬৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস