
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ أَنَّ ابْنَ عُمَرَ كَانَ يُصَلِّي عَلَى رَاحِلَتِهِ تَطَوُّعًا فَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَسْجُدَ نَزَلَ فَأَوْتَرَ عَلَى الْأَرْضِ
হজরত সাঈদ বিন জুবায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
সাইয়্যিদুনা ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু সওয়ারী অবস্থায় নফল নামায পড়তেন, কিন্তু যখন তিনি বিতর নামায পড়তে চাইতেন, তখন তিনি মাটিতে নেমে বিতর নামায পড়তেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৪২৪৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ قَالَ قُلْتُ لِابْنِ عُمَرَ رَجُلٌ قَذَفَ امْرَأَتَهُ فَقَالَ فَرَّقَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَ أَخَوَيْ بَنِي الْعَجْلَانِ وَقَالَ اللَّهُ يَعْلَمُ أَنَّ أَحَدَكُمَا كَاذِبٌ فَهَلْ مِنْكُمَا تَائِبٌ فَأَبَيَا فَرَدَّدَهُمَا ثَلَاثَ مَرَّاتٍ فَأَبَيَا فَفَرَّقَ بَيْنَهُمَا
হজরত সাঈদ বিন জুবায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি সায়্যিদুনা ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে লিয়ান-কারীদের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার এক স্বামী-স্ত্রীকে লিয়ান করার পর বললেন যে, “আল্লাহ জানেন যে, তোমাদের মধ্যে একজন অবশ্যই মিথ্যাবাদী, তাহলে তোমাদের কেউ কি তওবা করতে প্রস্তুত?” কিন্তু তারা কেউই প্রস্তুত ছিলো না, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের কাছে এটি তিনবার পুনরাবৃত্তি করলেন এবং তাদের অস্বীকৃতিতে তিনি তাদেরকে পৃথক করে দিলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৪২৪৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ عَنْ نَافِعٍ قَالَ نَادَى ابْنُ عُمَرَ بِالصَّلَاةِ بِضَجْنَانَ ثُمَّ نَادَى أَنْ صَلُّوا فِي رِحَالِكُمْ ثُمَّ حَدَّثَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ كَانَ يَأْمُرُ الْمُنَادِيَ فَيُنَادِي بِالصَّلَاةِ ثُمَّ يُنَادِي أَنْ صَلُّوا فِي رِحَالِكُمْ فِي اللَّيْلَةِ الْبَارِدَةِ وَفِي اللَّيْلَةِ الْمَطِيرَةِ فِي السَّفَرِ
হজরত নাফি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
জাজনান উপত্যকায় একবার সাইয়্যিদুনা ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু নামাযের ঘোষণা দেন, তারপর প্রচার করেন যে, তোমরা তোমাদের নিজেদের তাঁবুতে নামায পড়ো এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে এই হাদীসটি বর্ণনা করলেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভ্রমণের সময় ঠান্ডার রাতে বা বৃষ্টির রাতে নামাযের ঘোষণা দিতেন এবং প্রচার করতেন যে, “তোমরা নিজেদের তাঁবুতে নামায পড়ো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪২৪৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ مَنْ اتَّخَذَ أَوْ قَالَ اقْتَنَى كَلْبًا لَيْسَ بِضَارٍ وَلَا كَلْبَ مَاشِيَةٍ نَقَصَ مِنْ أَجْرِهِ كُلَّ يَوْمٍ قِيرَاطَانِ فَقِيلَ لَهُ إِنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ وَكَلْبَ حَرْثٍ فَقَالَ أَنَّى لِأَبِي هُرَيْرَةَ حَرْثٌ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি এমন কুকুর রাখবে যেটি পাহারাদার ও শিকারী কুকুর নয়, তার সওয়াব প্রতিদিন দুই কিরাত কম হবে।” আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু মাঠ পাহারাদার কুকুরের কথাও উল্লেখ করেছেন। তাই সাইয়্যিদুনা ইবন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, সাইয়্যিদনা আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু এর নিজস্ব খামার আছে, তাই তিনি এই ব্যতিক্রমটি খুব ভালোভাবে মনে রাখতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৪২৪৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ أَخْبَرَنَا أَيُّوبُ عَنْ نَافِعٍ أَنَّ ابْنَ عُمَرَ دَخَلَ عَلَيْهِ ابْنُهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ وَظَهْرُهُ فِي الدَّارِ فَقَالَ إِنِّي لَا آمَنُ أَنْ يَكُونَ الْعَامَ بَيْنَ النَّاسِ قِتَالٌ فَتُصَدَّ عَنْ الْبَيْتِ فَلَوْ أَقَمْتَ فَقَالَ قَدْ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَحَالَ كُفَّارُ قُرَيْشٍ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْبَيْتِ فَإِنْ يُحَلْ بَيْنِي وَبَيْنَهُ أَفْعَلْ كَمَا فَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ قَالَ إِنِّي قَدْ أَوْجَبْتُ عُمْرَةً ثُمَّ سَارَ حَتَّى إِذَا كَانَ بِالْبَيْدَاءِ قَالَ مَا أَرَى أَمْرَهُمَا إِلَّا وَاحِدًا أُشْهِدُكُمْ أَنِّي قَدْ أَوْجَبْتُ مَعَ عُمْرَتِي حَجًّا ثُمَّ قَدِمَ فَطَافَ لَهُمَا طَوَافًا وَاحِدًا
হজরত নাফি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
তার পুত্র আবদুল্লাহ সায়্যিদুনা ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে এসে বললেন, “আমি ভয় পাচ্ছি যে এই বছর মানুষের মধ্যে হত্যা ও যুদ্ধ হবে এবং আপনাকে হারাম শরীফে পৌঁছাতে বাধা দেওয়া হবে, আপনি যদি এ বছর হজে না যেতেন, তাহলে কি ভালো হতো না?” সায়্যিদুনা ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হুদায়বিয়ার ময়দান থেকেও চলে গিয়েছিলেন এবং কুরাইশ কাফেররা তাঁর ও হারাম শরীফের মধ্যে বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো, আমি তাই করবো, যা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম করেছেন।” অতঃপর তিনি এই আয়াতটি পাঠ করলেন যে,
لَّقَدۡ كَانَ لَكُمۡ فِي رَسُولِ ٱللَّهِ أُسۡوَةٌ حَسَنَةٞ لِّمَن كَانَ يَرۡجُواْ ٱللَّهَ وَٱلۡيَوۡمَ ٱلۡأٓخِرَ وَذَكَرَ ٱللَّهَ كَثِيرٗا٢١
অবশ্যই তোমাদের জন্যে আল্লাহর রসূলের মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে। তাদের জন্যে আদর্শ রয়েছে, যারা আল্লাহ ও শেষ দিনের আশা রাখে আর আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে। (৩৩. আল আহযাব : ২১)
এবং বললেন যে, “আমি ওমরার নিয়ত করেছি।” অতঃপর তাঁরা চলে গেলেন এবং বায়দা নামক স্থানে পৌঁছে বলতে লাগলেন যে, “হজ্জ ও উমরা উভয়ের বিষয় একই” এবং তিনি উভয়ের জন্যেই তাওয়াফ করলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৪২৫০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ أَخْبَرَنَا أَيُّوبُ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ رَأَيْتُ الرِّجَالَ وَالنِّسَاءَ يَتَوَضَّئُونَ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَمِيعًا مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে নারী ও পুরুষদেরকে একই পাত্র থেকে, একসঙ্গে ওযু করতে দেখেছি। [মুসনাদে আহমাদ : ৪২৫১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ أَخْبَرَنَا أَيُّوبُ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَجُلًا قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا يَلْبَسُ الْمُحْرِمُ أَوْ قَالَ مَا يَتْرُكُ الْمُحْرِمُ فَقَالَ لَا يَلْبَسُ الْقَمِيصَ وَلَا السَّرَاوِيلَ وَلَا الْعِمَامَةَ وَلَا الْخُفَّيْنِ إِلَّا أَنْ لَا يَجِدَ نَعْلَيْنِ فَمَنْ لَمْ يَجِدْ نَعْلَيْنِ فَلْيَلْبَسْهُمَا أَسْفَلَ مِنْ الْكَعْبَيْنِ وَلَا الْبُرْنُسَ وَلَا شَيْئًا مِنْ الثِّيَابِ مَسَّهُ وَرْسٌ وَلَا زَعْفَرَانٌ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলো, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! মুহাররম কি ধরনের পোশাক পরতে পারে?” অথবা জিজ্ঞেস করলো, “মহাররমকে কি ধরনের পোশাক পরিত্যাগ করতে হবে?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “একজন মুহাররম জামা, শালওয়ার, পাগড়ী ও মোজা পরিধান করতে পারবে না। যার জুতা নেই, সে যেনো পায়ের গোড়ালির নিচে কাটা মোজা পরিধান করে এবং সেই সাথে টুপি বা টুপির টুকরো পরিধান করে। ওয়ারিস (এক প্রকার হলুদ রঙের তৃণ জাতীয় সুগন্ধি) নামক ঘাসযুক্ত কাপড় বা জাফরান কাপড়ে লাগালে মুহাররম ঐ কাপড় পরিধান করতে পারবে না।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪২৫২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ أَخْبَرَنَا أَيُّوبُ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّهُ قَالَ فِي عَاشُورَاءَ صَامَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَمَرَ بِصَوْمِهِ فَلَمَّا فُرِضَ رَمَضَانُ تُرِكَ فَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ لَا يَصُومُهُ إِلَّا أَنْ يَأْتِيَ عَلَى صَوْمِهِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও আশুরার রোজা রাখতেন এবং অন্যদেরকেও রোজা রাখার নির্দেশ দিতেন। যখন রমজানের রোজা ফরজ হয়, তখন এই রোজা অচল হয়ে যায়। সাইয়্যিদুনা ইবনে উমর নিজেও সেদিন রোজা রাখতেন না, যতক্ষণ না তিনি তাঁর স্বাভাবিক রোজা রাখতেন।
[মুসনাদে আহমাদ : ৪২৫৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ أَخْبَرَنَا أَيُّوبُ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْبَيِّعَانِ بِالْخِيَارِ حَتَّى يَتَفَرَّقَا أَوْ يَكُونَ بَيْعَ خِيَارٍ قَالَ وَرُبَّمَا قَالَ نَافِعٌ أَوْ يَقُولَ أَحَدُهُمَا لِلْآخَرِ اخْتَرْ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “বিক্রেতা এবং ক্রেতা পৃথক না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্তৃত্ব রয়েছে যে, তারা পন্য ক্রয়-বিক্রয় করবে অথবা ক্রয়-বিক্রয় বাতিল করবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪২৫৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ أَخْبَرَنَا أَيُّوبُ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّهُ كَانَ يُحَدِّثُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَزُورُهُ رَاكِبًا وَمَاشِيًا يَعْنِي مَسْجِدَ قُبَاءَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পায়ে হেঁটে ও ঘোড়ায় চড়ে মসজিদ কুবাতে আসতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৪২৫৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ أَخْبَرَنَا أَيُّوبُ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ فَرَضَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَدَقَةَ رَمَضَانَ عَلَى الذَّكَرِ وَالْأُنْثَى وَالْحُرِّ وَالْمَمْلُوكِ صَاعَ تَمْرٍ أَوْ صَاعَ شَعِيرٍ قَالَ فَعَدَلَ النَّاسُ بِهِ بَعْدُ نِصْفَ صَاعِ بُرٍّ قَالَ أَيُّوبُ وَقَالَ نَافِعٌ كَانَ ابْنُ عُمَرَ يُعْطِي التَّمْرَ إِلَّا عَامًا وَاحِدًا أَعْوَزَ التَّمْرُ فَأَعْطَى الشَّعِيرَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক সা খেজুর বা এক সা যবকে সাদাকাহ আল ফিতর হিসেবে সকল নারী-পুরুষ ও স্বাধীন দাস-দাসীদের জন্যে নির্ধারণ করেছেন। কিন্তু রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পর লোকেরা অর্ধ সা গম দিতো। নাফি বলেন, সায়্যিদুনা ইবনে উমর সাদাকাহ আল-ফিতরে খেজুর দিতেন। খেজুরের অভাব হলে লোকেরা যব দিতো। [মুসনাদে আহমাদ : ৪২৫৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ أَخْبَرَنَا أَيُّوبُ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ سَبَّقَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَ الْخَيْلِ فَأَرْسَلَ مَا ضُمِّرَ مِنْهَا مِنْ الْحَفْيَاءِ أَوْ الحَيْفَاءِ إِلَى ثَنِيَّةِ الْوَدَاعِ وَأَرْسَلَ مَا لَمْ يُضَمَّرْ مِنْهَا مِنْ ثَنِيَّةِ الْوَدَاعِ إِلَى مَسْجِدِ بَنِي زُرَيْقٍ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ فَكُنْتُ فَارِسًا يَوْمَئِذٍ فَسَبَقْتُ النَّاسَ طَفَّفَ بِيَ الْفَرَسُ مَسْجِدَ بَنِي زُرَيْقٍ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোড়ার প্রতিযোগিতার আয়োজন করলেন আয়োজন করেন এবং বিজয়ীকে পুরস্কার দেন। তাদের মধ্যে যে সব ঘোড়া পাতলা ছিলো, তিনি তাদেরকে প্রতিযোগিতার জন্যে হাফিয়া থেকে দ্বিতীয় বিদায় পর্যন্ত নিযুক্ত করলেন। এবং যারা পাতলা দেহের অধিকারী তারা সানিয়াহ আল-ওয়াদা থেকে মসজিদ বনী জারিক পর্যন্ত। আমি সেই সময় ঘোড়ায় চড়েছিলাম এবং আমি প্রতিযোগিতা জিতেছিলাম। আমার ঘোড়াটি আমাকে মসজিদ বনী জারিকের কাছে নিয়ে যায়। [মুসনাদে আহমাদ : ৪২৫৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ أَخْبَرَنَا أَيُّوبُ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّمَا الشَّهْرُ تِسْعٌ وَعِشْرُونَ فَلَا تَصُومُوا حَتَّى تَرَوْهُ وَلَا تُفْطِرُوا حَتَّى تَرَوْهُ فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ فَاقْدُرُوا لَهُ قَالَ نَافِعٌ فَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ إِذَا مَضَى مِنْ شَعْبَانَ تِسْعٌ وَعِشْرُونَ يَبْعَثُ مَنْ يَنْظُرُ فَإِنْ رُئِيَ فَذَاكَ وَإِنْ لَمْ يُرَ وَلَمْ يَحُلْ دُونَ مَنْظَرِهِ سَحَابٌ وَلَا قَتَرٌ أَصْبَحَ مُفْطِرًا وَإِنْ حَالَ دُونَ مَنْظَرِهِ سَحَابٌ أَوْ قَتَرٌ أَصْبَحَ صَائِمًا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “মাস কখনো কখনো ২৯ দিন দীর্ঘ হয়, তাই চাঁদ না দেখা পর্যন্ত রোজা রাখবে না এবং চাঁদ না দেখে ঈদ উদযাপন করবে না।” নাফি বলেন, এ কারণে হজরত ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু শাবানের ২৯ তারিখের পর কাউকে চাঁদ দেখতে পাঠাতেন এবং পরের দিন রোজা রাখতেন না এবং মেঘলা হলে রোজা রাখতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৪২৫৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ أَخْبَرَنَا أَيُّوبُ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ الَّذِي يَجُرُّ ثَوْبَهُ مِنْ الْخُيَلَاءِ لَا يَنْظُرُ اللَّهُ إِلَيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ قَالَ نَافِعٌ فَأُنْبِئْتُ أَنَّ أُمَّ سَلَمَةَ قَالَتْ فَكَيْفَ بِنَا قَالَ شِبْرًا قَالَتْ إِذَنْ تَبْدُوَ أَقْدَامُنَا قَالَ ذِرَاعًا لَا تَزِدْنَ عَلَيْهِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি গর্বভরে নিজের কাপড় হেচড়িয়ে চলে (টাকনুর নিচে কাপড় পরে), কিয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা তার প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করবেন না।” উম্মে সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন, “ইয়া রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! নারীরা তাদের কাপড়ের নিম্নাংশ কিভাবে রাখবে?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তারা তা এক বিঘত লম্বা করে দিবে।” উম্মে সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন, “তা হলে তো তাদের পা খোলা থাকবে।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তাহলে তারা তা এক হাত লম্বা করবে, এর উপর যেনো, তারা লম্বা না করে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪২৫৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ أَخْبَرَنَا أَيُّوبُ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ الْمُزَابَنَةِ وَالْمُزَابَنَةُ أَنْ يُبَاعَ مَا فِي رُءُوسِ النَّخْلِ بِتَمْرٍ بِكَيْلٍ مُسَمًّى إِنْ زَادَ فَلِي وَإِنْ نَقَصَ فَعَلَيَّ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুযাবানা নিষেধ করেছেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, মুযাবানা হলো তাজা খেজুর, শুকনো খেজুরের বদলে ওজন করে বিক্রি করা এবং কিসমিস, তাজা আঙ্গুরের বদলে ওজন করে বিক্রি করা। [মুসনাদে আহমাদ : ৪২৬০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

قَالَ ابْنُ عُمَرَ حَدَّثَنِي زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَخَّصَ فِي بَيْعِ الْعَرَايَا بِخَرْصِهَا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরাইয়ার ব্যাপারে অনুমতি দিয়েছেন যে, ওজনকৃত খেজুরের বিনিময়ে গাছের অনুমানকৃত খেজুর বিক্রি করা যেতে পারে। মূসা ইবনে উকবা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আরাইয়া বলা হয়, বাগানে এসে কতগুলো নির্দিষ্ট গাছের খেজুর, শুকনা খেজুরের বদলে ক্রয় করে নেয়া। তবে তা পাঁচ ওসাক অথবা পাঁচ ওসাকের কম পরিমাণে হতে হবে। [মুসনাদে আহমাদ : ৪২৬১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ عِيسَى أَنْبَأَنَا مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ بَيْعِ حَبَلِ الْحَبَلَةِ
ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গর্ভবতী জন্তুর গর্ভস্থ বাচ্চাকে বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন (অর্থাৎ তার মা ব্যতীত)। [মুসনাদে আহমাদ : ৪২৬২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ تَأْمُرُنَا أَنْ نُصَلِّيَ مِنْ اللَّيْلِ قَالَ يُصَلِّي أَحَدُكُمْ مَثْنَى مَثْنَى فَإِذَا خَشِيَ الصُّبْحَ صَلَّى وَاحِدَةً فَأَوْتَرَتْ لَهُ مَا قَدْ صَلَّى مِنْ اللَّيْلِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একদা এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলো, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! রাতের নামায সম্পর্কে আপনি আমাদেরকে কি নির্দেশ দেন (রাতে কিভাবে নামাজ পড়তে হয়)?” তিনি বললেন, “তুমি দুই রাকাত নামায পড়ো এবং যখন ফজরের আশঙ্কা থাকে, তখন এ দুয়ের সাথে আরও এক রাকাত নামায যোগ করো। রাতে তুমি যতটুকু সালাত আদায় করেছো, ততটুকুই বিতরের জন্যে যথেষ্ট হবে।”
[মুসনাদে আহমাদ : ৪২৬৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ أَخْبَرَنَا أَيُّوبُ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ بَيْعِ النَّخْلِ حَتَّى يَزْهُوَ وَعَنْ السُّنْبُلِ حَتَّى يَبْيَضَّ وَيَأْمَنَ الْعَاهَةَ نَهَى الْبَائِعَ وَالْمُشْتَرِيَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খেজুর বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন, যতক্ষণ না তা মুকুলে পরিণত হয়। আর গমের দানা পাকা ও সংরক্ষিত না হওয়া পর্যন্ত বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিক্রেতা এবং ক্রেতা উভয়ের জন্যেই এই নিষেধ করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৪২৬৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ عَنْ نَافِعٍ قَالَ قَالَ ابْنُ عُمَرَ رَأَيْتُ فِي الْمَنَامِ كَأَنَّ بِيَدِي قِطْعَةَ إِسْتَبْرَقٍ وَلَا أُشِيرُ بِهَا إِلَى مَكَانٍ مِنْ الْجَنَّةِ إِلَّا طَارَتْ بِي إِلَيْهِ فَقَصَّتْهَا حَفْصَةُ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ إِنَّ أَخَاكِ رَجُلٌ صَالِحٌ أَوْ إِنَّ عَبْدَ اللَّهِ رَجُلٌ صَالِحٌ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, আমার হাতে রেশমী কাপড়ের একটি টুকরো আছে এবং আমি তা দিয়ে যেখানেই জান্নাতের স্থানের দিকে ইশারা করি, সেখানেই তা আমাকে উড়ে নিয়ে যায়। হাফসা রাদিয়াল্লাহু আনহা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এই স্বপ্নের কথা উল্লেখ করলে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমার ভাই একজন ভালো মানুষ।” অথবা তিনি বলেছেন, “আবদুল্লাহ একজন ভালো মানুষ।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪২৬৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ أَخْبَرَنَا أَيُّوبُ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ فَالْأَمِيرُ الَّذِي عَلَى النَّاسِ رَاعٍ وَهُوَ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ وَالرَّجُلُ رَاعٍ عَلَى أَهْلِ بَيْتِهِ وَهُوَ مَسْئُولٌ وَالْمَرْأَةُ رَاعِيَةٌ عَلَى بَيْتِ زَوْجِهَا وَهِيَ مَسْئُولَةٌ وَالْعَبْدُ رَاعٍ عَلَى مَالِ سَيِّدِهِ وَهُوَ مَسْئُولٌ أَلَا فَكُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল। কাজেই প্রত্যেকেই নিজ অধীনস্থদের বিষয়ে জিজ্ঞাসার সম্মুখীন হবে। জনগণের শাসক তাদের দায়িত্বশীল, কাজেই সে তাদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। একজন পুরুষ তার পরিবার পরিজনদের দায়িত্বশীল, কাজেই সে তাদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। স্ত্রী স্বামীর ঘরের এবং তার সন্তানের দায়িত্বশীল, কাজেই সে তাদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। আর ক্রীতদাস আপন মনিবের সম্পদের রক্ষণা-বেক্ষণকারী। কাজেই এ বিষয়ে সে জিজ্ঞাসিত হবে। শোন! তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল। কাজেই প্রত্যেকেই আপন অধীনস্থদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪২৬৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَفَلَ مِنْ حَجٍّ أَوْ غَزْوٍ فَعَلَا فَدْفَدًا مِنْ الْأَرْضِ أَوْ شَرَفًا قَالَ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ آيِبُونَ تَائِبُونَ سَاجِدُونَ عَابِدُونَ لِرَبِّنَا حَامِدُونَ صَدَقَ اللَّهُ وَعْدَهُ وَنَصَرَ عَبْدَهُ وَهَزَمَ الْأَحْزَابَ وَحْدَهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন হজ্জ, জিহাদ বা ওমরাহ থেকে ফিরে আসতেন, তখন তিনি এই দুআ পাঠ করতেন।
اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ آيِبُونَ تَائِبُونَ سَاجِدُونَ عَابِدُونَ لِرَبِّنَا حَامِدُونَ صَدَقَ اللَّهُ وَعْدَهُ وَنَصَرَ عَبْدَهُ وَهَزَمَ الْأَحْزَابَ وَحْدَهُ
“আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। সত্যিকার অর্থে আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। তিনি এক, তাঁর কোন শারীক নেই। সকল রাজত্ব এবং প্রশংসা একমাত্র তাঁরই। সব বিষয়ে তিনিই সর্বশক্তিমান। আমরা তাঁরই কাছে প্রত্যাবর্তনকারী, তওবাহ্কারী, তাঁরই ইবাদাতকারী। আমরা আমাদের প্রভুর কাছে সাজদাহ্কারী, তাঁরই প্রশংসাকারী। আল্লাহ তাঁর ওয়াদা সত্যে পরিণত করেছেন। তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং একাই তিনি সকল শত্রু বাহিনীকে পরাজিত করেছেন।”
[মুসনাদে আহমাদ : ৪২৬৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَدْ أُتِيَ بِهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعْنِي الضَّبَّ فَلَمْ يَأْكُلْهُ وَلَمْ يُحَرِّمْهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামর কাছে দব্ব (অনেকটা গুইসাপের মতো দেখতে) পেশ করা হয়েছিলো, কিন্তু রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা খেলেন না এবং তা খেতে নিষেধও করেননি। [মুসনাদে আহমাদ : ৪২৬৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ الْيَهُودَ أَتَوْا النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِرَجُلٍ وَامْرَأَةٍ مِنْهُمْ قَدْ زَنَيَا فَقَالَ مَا تَجِدُونَ فِي كِتَابِكُمْ فَقَالُوا نُسَخِّمُ وُجُوهَهُمَا وَيُخْزَيَانِ فَقَالَ كَذَبْتُمْ إِنَّ فِيهَا الرَّجْمَ فَأْتُوا بِالتَّوْرَاةِ فَاتْلُوهَا إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ فَجَاءُوا بِالتَّوْرَاةِ وَجَاءُوا بِقَارِئٍ لَهُمْ أَعْوَرَ يُقَالُ لَهُ ابْنُ صُورِيَا فَقَرَأَ حَتَّى إِذَا انْتَهَى إِلَى مَوْضِعٍ مِنْهَا وَضَعَ يَدَهُ عَلَيْهِ فَقِيلَ لَهُ ارْفَعْ يَدَكَ فَرَفَعَ يَدَهُ فَإِذَا هِيَ تَلُوحُ فَقَالَ أَوْ قَالُوا يَا مُحَمَّدُ إِنَّ فِيهَا الرَّجْمَ وَلَكِنَّا كُنَّا نَتَكَاتَمُهُ بَيْنَنَا فَأَمَرَ بِهِمَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرُجِمَا قَالَ فَلَقَدْ رَأَيْتُهُ يُجَانِئُ عَلَيْهَا يَقِيهَا الْحِجَارَةَ بِنَفْسِهِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
ইয়াহূদীরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে জানালো, তাদের একজন পুরুষ ও একজন নারী যিনা করেছে। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন যে, “তোমরা তাওরাতে রজম সম্পর্কে কী পাচ্ছো?” তারা বললো, “তাদেরকে অপমান ও বেত্রাঘাত করা হয়।” আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “তোমরা মিথ্যে বলেছো। তাওরাতে অবশ্যই রজমের কথা আছে।” তারা তাওরাত নিয়ে এলো এবং তা খুললো। আর তাদের একজন রজমের আয়াতের ওপর হাত রেখে দিয়ে, তার অগ্র পশ্চাৎ পাঠ করলো। তখন আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “তোমার হাত উঠাও।” সে হাত উঠালে দেখা গেলো, তাতে রজমের আয়াত ঠিকই আছে। তারা বললো, “আবদুল্লাহ্ ইবনে সালাম সত্যই বলেছেন। হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তাতে রজমের আয়াত রয়েছে।” তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের উভয়ের ব্যাপারে আদেশ করলেন এবং তাদের উভয়কে রজম করা হলো। আমি দেখলাম, পুরুষটি নারীটির উপর উপুড় হয়ে আছে। সে তাকে পাথরের আঘাত হতে রক্ষা করছে। [মুসনাদে আহমাদ : ৪২৬৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ أَخْبَرَنَا أَيُّوبُ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ كَانَ النَّاسُ يَرَوْنَ الرُّؤْيَا فَيَقُصُّونَهَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ إِنِّي أَوْ قَالَ أَسْمَعُ رُؤْيَاكُمْ قَدْ تَوَاطَأَتْ عَلَى السَّبْعِ الْأَوَاخِرِ فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مُتَحَرِّيَهَا فَلْيَتَحَرَّهَا فِي السَّبْعِ الْأَوَاخِرِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কতিপয় সাহাবীকে স্বপ্নের মাধ্যমে রমযানের শেষের সাত রাত্রে লাইলাতুল কদর দেখানো হয়। (এ শুনে) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আমাকেও তোমাদের স্বপ্নের অনুরূপ দেখানো হয়েছে। (তোমাদের দেখা ও আমার দেখা) শেষ সাত রাতের ক্ষেত্রে স্বপ্ন মিলে গেছে। অতএব, তোমাদের মধ্যে যারা কদরের রাত খুঁজে পেতে চায়, তারা যেনো শেষ সাত রাতে তা অনুসন্ধান করে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪২৭০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ عَنْ نَافِعٍ أَنَّ ابْنَ عُمَرَ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ تَطْلِيقَةً وَهِيَ حَائِضٌ فَسَأَلَ عُمَرُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَمَرَهُ أَنْ يَرْجِعَهَا ثُمَّ يُمْهِلَهَا حَتَّى تَحِيضَ حَيْضَةً أُخْرَى ثُمَّ يُمْهِلَهَا حَتَّى تَطْهُرَ ثُمَّ يُطَلِّقَهَا قَبْلَ أَنْ يَمَسَّهَا قَالَ وَتِلْكَ الْعِدَّةُ الَّتِي أَمَرَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ يُطَلَّقَ لَهَا النِّسَاءُ فَكَانَ ابْنُ عُمَرَ إِذَا سُئِلَ عَنْ الرَّجُلِ يُطَلِّقُ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ فَيَقُولُ أَمَّا أَنَا فَطَلَّقْتُهَا وَاحِدَةً أَوْ اثْنَتَيْنِ ثُمَّ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَهُ أَنْ يُرْجِعَهَا ثُمَّ يُمْهِلَهَا حَتَّى تَحِيضَ حَيْضَةً أُخْرَى ثُمَّ يُمْهِلَهَا حَتَّى تَطْهُرَ ثُمَّ يُطَلِّقَهَا قَبْلَ أَنْ يَمَسَّهَا وَأَمَّا أَنْتَ طَلَّقْتَهَا ثَلَاثًا فَقَدْ عَصَيْتَ اللَّهَ بِمَا أَمَرَكَ بِهِ مِنْ طَلَاقِ امْرَأَتِكَ وَبَانَتْ مِنْكَ
হজরত নাফি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর স্ত্রীকে ঋতুবতী অবস্থায় এক ত্বলাক্ব দেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে আদেশ দিলেন, তিনি যেনো তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনেন এবং মহিলা পবিত্র হয়ে, আবার ঋতুবতী হয়ে, পরবর্তী পবিত্রা অবস্থা আসা পর্যন্ত, তাকে নিজের কাছে রাখেন। পবিত্র অবস্থায় যদি তাকে ত্বলাক্ব দিতে চায়, তবে সঙ্গমের পূর্বে ত্বলাক দিতে হবে। এটাই ইদ্দাত, যে সময় স্ত্রীদেরকে ত্বলাক্ব দেয়ার জন্যে আল্লাহ আদেশ দিয়েছেন। আবদুল্লাহকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে, তিনি তাদেরকে বলেন, “তুমি যদি তাকে তিন ত্বলাক্ব দিয়ে দাও, তবে স্ত্রীলোকটি অন্য স্বামী গ্রহণ না করা পর্যন্ত, তোমার জন্যে হারাম হয়ে যাবে।” অন্য বর্ণনায় হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “তুমি যদি এক বা দুইত্বলাক্ব দিতে, তবে সেটাই উত্তম। কারণ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে এরকমই নির্দেশ দিয়েছেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪২৭১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ أَخْبَرَنَا أَيُّوبُ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ رَفَعَهُ قَالَ إِنَّ الْيَدَيْنِ يَسْجُدَانِ كَمَا يَسْجُدُ الْوَجْهُ فَإِذَا وَضَعَ أَحَدُكُمْ وَجْهَهُ فَلْيَضَعْ يَدَيْهِ وَإِذَا رَفَعَهُ فَلْيَرْفَعْهُمَا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
যেভাবে মুখমণ্ডল সেজদা করে, সেভাবে হাতও সেজদা করে। তাই তোমাদের কেউ যখন তার মুখ মাটিতে রাখবে, তখন সে হাতও রাখবে এবং যখন মুখ উঠাবে, তখন হাতও উঠাবে। [মুসনাদে আহমাদ : ৪২৭২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ أَخْبَرَنَا أَيُّوبُ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ بَاعَ نَخْلًا قَدْ أُبِّرَتْ فَثَمَرَتُهَا لِلْبَائِعِ إِلَّا أَنْ يَشْتَرِطَ الْمُبْتَاعُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি খেজুর লাগানো গাছ বিক্রি করবে, তার ফল বিক্রেতার হবে। তবে ক্রেতা যদি কেনার সময় শর্ত দেয় যে, আমি ফল সহ এই গাছটি কিনছি। তবে তা ক্রেতার হবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪২৭৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ أَخْبَرَنَا أَيُّوبُ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَطَعَ فِي مِجَنٍّ ثَمَنُهُ ثَلَاثَةُ دَرَاهِمَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিন দিরহাম মূল্যের একটি ঢাল চুরি করার অপরাধে, এক ব্যক্তির হাত কেটে দিয়েছিলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৪২৭৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ أَخْبَرَنَا أَيُّوبُ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَدْ عَلِمْتُ أَنَّ الْأَرْضَ كَانَتْ تُكْرَى عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمَا عَلَى الْأَرْبِعَاءِ وَشَيْءٍ مِنْ التِّبْنِ لَا أَدْرِي كَمْ هُوَ وَإِنَّ ابْنَ عُمَرَ كَانَ يُكْرِي أَرْضَهُ فِي عَهْدِ أَبِي بَكْرٍ وَعَهْدِ عُمَرَ وَعَهْدِ عُثْمَانَ وَصَدْرِ إِمَارَةِ مُعَاوِيَةَ حَتَّى إِذَا كَانَ فِي آخِرِهَا بَلَغَهُ أَنَّ رَافِعًا يُحَدِّثُ فِي ذَلِكَ بِنَهْيِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَتَاهُ وَأَنَا مَعَهُ فَسَأَلَهُ فَقَالَ نَعَمْ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ كِرَاءِ الْمَزَارِعِ فَتَرَكَهَا ابْنُ عُمَرَ فَكَانَ لَا يُكْرِيهَا فَكَانَ إِذَا سُئِلَ يَقُولُ زَعَمَ ابْنُ خَدِيجٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ كِرَاءِ الْمَزَارِعِ
হজরত সালিম ইবনে আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু নিজের জমি বর্গা দিতেন। পরে তার কাছে এ সংবাদ পৌঁছল যে, রাফি ইবনু খাদীজ আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু জমি বর্গা দিতে নিষেধ করে থাকেন। আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর সাথে দেখা করে জিজ্ঞেস করেন, “হে ইবনু খাদীজ! জমি বর্গার ব্যাপারে আপনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে কি হাদীস বর্ণনা করেছেন?” রাফি ইবনু খাদীজ রাদিয়াল্লাহু আনহু আবদুল্লাহকে বললেন, আমি আমার দুজন চাচার নিকট শুনেছি- যাঁরা বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন, তারা পরিবার-পরিজনের নিকট বর্ণনা করেন যে, “রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জমি বর্গা দিতে নিষেধ করেছেন।” আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামর সময়ে আমি ভাল করেই জানতাম যে, জমি বর্গা দেয়া যায়।” এরপর আবদুল্লাহ ভীত হলো যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হয়তো এমন কিছু বলেছেন, যা তিনি জানতে পারেননি। সুতরাং তিনি জমি বর্গা দেওয়া ত্যাগ করেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৪২৭৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস