
حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَبِيبٍ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ دَاءً إِلَّا قَدْ أَنْزَلَ لَهُ شِفَاءً عَلِمَهُ مَنْ عَلِمَهُ وَجَهِلَهُ مَنْ جَهِلَهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ তাআলা যত প্রকারের রোগ সৃষ্টি করেছেন, তিনি প্রতিটি রোগেরই প্রতিষেধক সৃষ্টি করেছেন। যারা তা জানে, তারা তা জানে আর যারা তা জানে না, তারা তা জানে না।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৩৯৭]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ شِمْرٍ عَنْ مُغِيرَةَ بْنِ سَعْدِ بْنِ الْأَخْرَمِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا تَتَّخِذُوا الضَّيْعَةَ فَتَرْغَبُوا فِي الدُّنْيَا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “দুনিয়ায় বেশি সম্পত্তি নির্মাণ করো না। নতুবা দুনিয়ার প্রতি তোমার আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৩৯৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنِّي أَبْرَأُ إِلَى كُلِّ خَلِيلٍ مِنْ خُلَّتِهِ وَلَوْ كُنْتُ مُتَّخِذًا خَلِيلًا لَاتَّخَذْتُ أَبَا بَكْرٍ خَلِيلًا وَإِنَّ صَاحِبَكُمْ خَلِيلُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি বলে যে, আমি তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু, আমি তার বন্ধুত্বকে অস্বীকার করি। আমি যদি একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু (খলীল) গ্রহণ করতাম, তবে আমি হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করতাম। কিন্তু তোমাদের সঙ্গী (অর্থাৎ তিনি নিজেই) আল্লাহর একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু (খলীল)।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৩৯৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا سُفْيَانُ قَالَ سُلَيْمَانُ سَمِعْتُ شَقِيقًا يَقُولُ كُنَّا نَنْتَظِرُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ فِي الْمَسْجِدِ يَخْرُجُ عَلَيْنَا فَجَاءَنَا يَزِيدُ بْنُ مُعَاوِيَةَ يَعْنِي النَّخَعِيَّ قَالَ فَقَالَ أَلَا أَذْهَبُ فَأَنْظُرَ فَإِنْ كَانَ فِي الدَّارِ لَعَلِّي أَنْ أُخْرِجَهُ إِلَيْكُمْ فَجَاءَنَا فَقَامَ عَلَيْنَا فَقَالَ إِنَّهُ لَيُذْكَرُ لِي مَكَانُكُمْ فَمَا آتِيكُمْ كَرَاهِيَةَ أَنْ أُمِلَّكُمْ لَقَدْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَخَوَّلُنَا بِالْمَوْعِظَةِ فِي الْأَيَّامِ كَرَاهِيَةَ السَّآمَةِ عَلَيْنَا
হজরত শাকিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একদিন আমরা মসজিদে আমাদের কাছে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর আগমনের অপেক্ষায় ছিলাম। ইয়াযীদ বিন মুআবিয়া-অর্থাৎ আন-নাখায়ী- আমাদের কাছে এসে বললেন, “আমি কি গিয়ে দেখবো যে, তিনি ঘরে আছেন কিনা? হয়তো আমি তাকে আপনাদে কাছে নিয়ে আসতে পারবো।” কিছুক্ষণ পর হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু এসে আমাদের কাছে দাঁড়ালেন এবং বললেন, “আমাকে বলা হয়েছে যে, আপনারা আমার জন্যে অপেক্ষা করছেন। আমি আপনাদের কাছে এ জন্য আসিনি যে, আমি আপনাদেরকে বিরক্ত করা ভালো মনে করিনি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের বিরক্তির আশঙ্কায় তাঁর খুতবা ও উপদেশ দানের জন্যে উপযুক্ত সময় বেছে নিতেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৪০০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ يَزِيدَ عَنْ أَبِي الْكَنُودِ أَصَبْتُ خَاتَمًا يَوْمًا فَذَكَرَهُ فَرَآهُ ابْنُ مَسْعُودٍ فِي يَدِهِ فَقَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ حَلَقَةِ الذَّهَبِ
হজরত আবু আল-কুনুদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একদিন আমি আমার হাতে একটি স্বর্ণের আংটি পরেছিলাম। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু তা দেখে বললেন, “রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বর্ণের আংটি পরতে নিষেধ করেছেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৪০১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنْ أَبِي مَعْمَرٍ عَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ انْشَقَّ الْقَمَرُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شِقَّتَيْنِ حَتَّى نَظَرُوا إِلَيْهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اشْهَدُوا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে চাঁদ দুভাগ হয়ে গিয়েছিলো এবং সবাই তা দেখতে পেলো। আর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমরা সাক্ষী থাকো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৪০২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنْ أَبِي مَعْمَرٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ دَخَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَحَوْلَ الْكَعْبَةِ سِتُّونَ وَثَلَاثُ مِائَةِ نُصُبٍ فَجَعَلَ يَطْعُنُهَا بِعُودٍ كَانَ بِيَدِهِ وَيَقُولُ جَاءَ الْحَقُّ وَمَا يُبْدِئُ الْبَاطِلُ وَمَا يُعِيدُ جَاءَ الْحَقُّ وَزَهَقَ الْبَاطِلُ إِنَّ الْبَاطِلَ كَانَ زَهُوقًا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
মাক্কাহ বিজয়ের দিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মাক্কায় প্রবেশ করলেন, তখন কাবা ঘরের চারপাশে তিনশ ষাটটি মূর্তি ছিলো। তখন তিনি তাঁর হাতের লাঠি দিয়ে এগুলোকে ঠোকা দিতে লাগলেন এবং বলতে থাকলেন,
قُلۡ جَآءَ ٱلۡحَقُّ وَمَا يُبۡدِئُ ٱلۡبَٰطِلُ وَمَا يُعِيدُ٤٩
আপনি বলুন, “সত্য এসে গেছে। আর মিথ্যা নতুন কিছুই সৃষ্টি করতে পারে না ও কোনো সৃষ্টি ধ্বংসের পরে পুনরায় ঐ সৃষ্টিকে নতুন করে সৃষ্টি করতে পারে না।” (৩৪. সাবা : ৪৯)
وَقُلۡ جَآءَ ٱلۡحَقُّ وَزَهَقَ ٱلۡبَٰطِلُۚ إِنَّ ٱلۡبَٰطِلَ كَانَ زَهُوقٗا٨١
আপনি বলুন, “সত্য (অর্থাৎ কুরআন) এসেছে আর মিথ্যা (অর্থাৎ শয়তান) বিলুপ্ত হয়েছে। নিশ্চয় মিথ্যা বিলুপ্ত হওয়ারই ছিলো।” (১৭. বনী ইসরাঈল / আল ইসরা : ৮১) [মুসনাদে আহমাদ : ৩৪০৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا سُفْيَانُ قَالَ وَلَيْسَ مِنْهَا مَنْ يَقْدُمُهَا وَقُرِئَ عَلَى سُفْيَانَ سَمِعْتُ يَحْيَى الْجَابِرَ عَنْ أَبِي مَاجِدٍ الْحَنَفِيِّ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ يَقُولُ سَأَلْنَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ السَّيْرِ بِالْجِنَازَةِ فَقَالَ مَتْبُوعَةٌ وَلَيْسَتْ بِتَابِعَةٍ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একদা আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জানাজা নিয়ে হাঁটা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “লোকেরা যেনো জানাজার অনুসরণ করে আর জানাজার অগ্রগামী হওয়া লোকদের উচিত নয়।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৪০৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ الْأَسْوَدِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمِنًى قَالَ فَخَرَجَتْ عَلَيْنَا حَيَّةٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اقْتُلُوهَا فَابْتَدَرْنَاهَا فَسَبَقَتْنَا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমরা মিনার ময়দানে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে ছিলাম, তখন একটি সাপ দেখা দিলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “এটাকে হত্যা করো।” আমরা সাপটিকে হত্যা করতে ছুটে যাই, কিন্তু এটি আমাদের কাছ থেকে পালিয়ে যায়। [মুসনাদে আহমাদ : ৩৪০৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا سُفْيَانُ قَالَ سُلَيْمَانُ سَمِعْتُ شَقِيقًا يَقُولُ كُنَّا نَنْتَظِرُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ فِي الْمَسْجِدِ يَخْرُجُ عَلَيْنَا فَجَاءَنَا يَزِيدُ بْنُ مُعَاوِيَةَ يَعْنِي النَّخَعِيَّ قَالَ فَقَالَ أَلَا أَذْهَبُ فَأَنْظُرَ فَإِنْ كَانَ فِي الدَّارِ لَعَلِّي أَنْ أُخْرِجَهُ إِلَيْكُمْ فَجَاءَنَا فَقَامَ عَلَيْنَا فَقَالَ إِنَّهُ لَيُذْكَرُ لِي مَكَانُكُمْ فَمَا آتِيكُمْ كَرَاهِيَةَ أَنْ أُمِلَّكُمْ لَقَدْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَخَوَّلُنَا بِالْمَوْعِظَةِ فِي الْأَيَّامِ كَرَاهِيَةَ السَّآمَةِ عَلَيْنَا
হজরত শাকিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একদিন আমরা মসজিদে আমাদের কাছে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর আগমনের অপেক্ষায় ছিলাম। ইয়াযীদ বিন মুআবিয়া-অর্থাৎ আন-নাখায়ী- আমাদের কাছে এসে বললেন, “আমি কি গিয়ে দেখবো যে, তিনি ঘরে আছেন কিনা? হয়তো আমি তাকে আপনাদে কাছে নিয়ে আসতে পারবো।” কিছুক্ষণ পর হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু এসে আমাদের কাছে দাঁড়ালেন এবং বললেন, “আমাকে বলা হয়েছে যে, আপনারা আমার জন্যে অপেক্ষা করছেন। আমি আপনাদের কাছে এ জন্য আসিনি যে, আমি আপনাদেরকে বিরক্ত করা ভালো মনে করিনি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের বিরক্তির আশঙ্কায় তাঁর খুতবা ও উপদেশ দানের জন্যে উপযুক্ত সময় বেছে নিতেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৪০৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ الْأَسْوَدِ وَعَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ إِذَا رَكَعَ أَحَدُكُمْ فَلْيُفْرِشْ ذِرَاعَيْهِ فَخِذَيْهِ وَلْيَجْنَأْ ثُمَّ طَبَّقَ بَيْنَ كَفَّيْهِ فَكَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى اخْتِلَافِ أَصَابِعِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ ثُمَّ طَبَّقَ كَفَّيْهِ فَأَرَاهُمْ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
যখন তোমাদের কেউ রুকু করবে, তখন সে যেনো তার হাতের আঙ্গুলগুলো তার উরুর ওপর রাখে। তারপর তার হাতের তালু একত্রে করে ও রুকু করে। আমি যেনো এখনো রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিচ্ছিন্ন আঙ্গুলগুলো দেখতে পাচ্ছি। একথা বলার পর তিনি রুকু অবস্থায় দুই হাতের তালু একত্রে করে দেখালেন (তবে এ আদেশ রহিত হয়ে গেছে)। [মুসনাদে আহমাদ : ৩৪০৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ شَقَّ ذَلِكَ عَلَى النَّاسِ وَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ فَأَيُّنَا لَا يَظْلِمُ نَفْسَهُ قَالَ إِنَّهُ لَيْسَ الَّذِي تَعْنُونَ أَلَمْ تَسْمَعُوا مَا قَالَ الْعَبْدُ الصَّالِحُ يَا بُنَيَّ لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ إِنَّمَا هُوَ الشِّرْكُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হলো,
ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَلَمۡ يَلۡبِسُوٓاْ إِيمَٰنَهُم بِظُلۡمٍ أُوْلَٰٓئِكَ لَهُمُ ٱلۡأَمۡنُ وَهُم مُّهۡتَدُونَ٨٢
যারা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করে আর তাদের বিশ্বাসকে শিরক দ্বারা মিশ্রিত করে না, সুতরাং এদের জন্যেই আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা রয়েছে আর এরাই হচ্ছে সুপথগামী। (৬. আল আন-আম : ৮২)
তখন আমরা বললাম, “হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমাদের মধ্যে কে এমন আছে, যে নিজের উপর যুলম করেনি?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমরা যা ভাবছো, ব্যাপারটি আসলে তা নয়। বরং তাদের ঈমানকে ‘যুলম’ অর্থাৎ শিরক দ্বারা কলূষিত করেনি। তোমরা কি লুকমানের কথা শুননি? তিনি তাঁর পুত্রকে বলেছিলেন,”
وَإِذۡ قَالَ لُقۡمَٰنُ لِٱبۡنِهِۦ وَهُوَ يَعِظُهُۥ يَٰبُنَيَّ لَا تُشۡرِكۡ بِٱللَّهِۖ إِنَّ ٱلشِّرۡكَ لَظُلۡمٌ عَظِيمٞ١٣
যখন লুকমান তাঁর পুত্রকে উপদেশ দিচ্ছিলেন ও লুকমান তাঁর পুত্রকে বললেন, “হে আমার পুত্র, তুমি আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে অংশীদার করো না। নিশ্চয় আল্লাহর সঙ্গে অংশীদার করা মহা অন্যায়।” (৩১. লোকমান : ১৩) [মুসনাদে আহমাদ : ৩৪০৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ حَسَنٍ الْأَشْقَرُ حَدَّثَنَا أَبُو كُدَيْنَةَ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ أَبِي الضُّحَى عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ مَرَّ يَهُودِيٌّ بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ جَالِسٌ قَالَ كَيْفَ تَقُولُ يَا أَبَا الْقَاسِمِ يَوْمَ يَجْعَلُ اللَّهُ السَّمَاءَ عَلَى ذِهْ وَأَشَارَ بِالسَّبَّابَةِ وَالْأَرْضَ عَلَى ذِهْ وَالْمَاءَ عَلَى ذِهْ وَالْجِبَالَ عَلَى ذِهْ وَسَائِرَ الْخَلْقِ عَلَى ذِهْ كُلُّ ذَلِكَ يُشِيرُ بِأَصَابِعِهِ قَالَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ وَمَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
এক ইহুদি পাদরী রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো, যখন তিনি বসে ছিলেন। ঐ ইহুদি পাদরী বললো, “হে আবুল কাসিম, কিয়ামাতের দিন আল্লাহ তাআলা আকাশ মণ্ডলীকে এক আঙ্গুলে, জমিন সমূহকে এক আঙ্গুলে, পাহাড় ও গাছপালাকে এক আঙ্গুলে; পানি ও মাটি এক আঙ্গুলে এবং সকল প্রকার সৃষ্টিকে এক আঙ্গুলে তুলে ধরবেন। তারপর এগুলো দুলিয়ে বলবেন, আমিই বাদশাহ, আমিই অধিপতি।” আর সে প্রতিবার তার আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করলো। পাদরীর কথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিস্ময়ের সাথে তার সত্যায়ন স্বরূপ হাসলেন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা এই আয়াতটি অবতীর্ণ করলেন,
وَمَا قَدَرُواْ ٱللَّهَ حَقَّ قَدۡرِهِۦ وَٱلۡأَرۡضُ جَمِيعٗا قَبۡضَتُهُۥ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِ وَٱلسَّمَٰوَٰتُ مَطۡوِيَّٰتُۢ بِيَمِينِهِۦۚ سُبۡحَٰنَهُۥ وَتَعَٰلَىٰ عَمَّا يُشۡرِكُونَ٦٧
তারা আল্লাহকে যথার্থ রূপে সম্মান করে না। অথচ কিয়ামতের দিনে সব ভূমন্ডল থাকবে তাঁর হাতের মুঠোতে এবং নভোমন্ডল ভাঁজ করা অবস্থায় তাঁর ডান হাতে থাকবে। আল্লাহ পবিত্র আর তারা যাকে আল্লাহর সাথে অংশীদার করে, তা থেকে আল্লাহ অনেক উর্ধ্বে। [৩৯ : ৬৭]
[মুসনাদে আহমাদ : ৩৪০৯]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّهُ قَرَأَ سُورَةَ يُوسُفَ بِحِمْصَ فَقَالَ رَجُلٌ مَا هَكَذَا أُنْزِلَتْ فَدَنَا مِنْهُ عَبْدُ اللَّهِ فَوَجَدَ مِنْهُ رِيحَ الْخَمْرِ فَقَالَ أَتُكَذِّبُ بِالْحَقِّ وَتَشْرَبُ الرِّجْسَ لَا أَدَعُكَ حَتَّى أَجْلِدَكَ حَدًّا قَالَ فَضَرَبَهُ الْحَدَّ وَقَالَ وَاللَّهِ لَهَكَذَا أَقْرَأَنِيهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
হজরত আল-কামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হোমস শহরে সূরা ইউসুফ পাঠ করছিলেন। তখন এক ব্যক্তি বললো যে, “এই সূরাটি এভাবে অবতীর্ণ হয়নি।” হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু তার কাছে গেলেন এবং তার মুখ থেকে মদের গন্ধ পেলেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “তুমি কি সত্যকে প্রত্যাখ্যান করছো এবং মদ পান করেছো?” তিনি শাস্তি হিসেবে তাকে বেত্রাঘাত করলেন এবং এরপরে বললেন, “আল্লাহর কসম! রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে এই সূরাটি এভাবেই শিখিয়েছিলেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৪১০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ قَالَ كُنْتُ أَمْشِي مَعَ عَبْدِ اللَّهِ بِمِنًى فَلَقِيَهُ عُثْمَانُ فَقَامَ مَعَهُ يُحَدِّثُهُ فَقَالَ لَهُ عُثْمَانُ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَلَا نُزَوِّجُكَ جَارِيَةً شَابَّةً لَعَلَّهَا أَنْ تُذَكِّرَكَ مَا مَضَى مِنْ زَمَانِكَ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ أَمَا لَئِنْ قُلْتَ ذَاكَ لَقَدْ قَالَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنْ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاءٌ
হজরত আলকামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে মিনায় হেঁটে যাচ্ছিলাম, তখন উসমানের সাথে তার দেখা হয়েছিলো। তিনি দাঁড়িয়ে তাঁর সাথে কথা বললেন এবং উসমান তাঁকে বললেন, “হে আবু আবদুর-রহমান, আমরা কি তোমাকে এমন এক তরুণীর সাথে বিয়ে দেবো না, যে তোমাকে অতীতের কথা মনে করিয়ে দেবে?” হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “যদি তুমি আমাকে এটাই বলছো, (আমি তোমাকে বলি যে) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে বলেছেন যে, ‘হে যুবকরা! তোমাদের মধ্যে যার সামর্থ্য আছে, সে যেনো বিয়ে করে নেয়, কেননা তা দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং চরিত্র রক্ষায় অধিক কার্যকরী। আর যার সামর্থ্য নেই, সে যেনো রোজা রাখে, কেননা তা তার জন্যে ঢাল স্বরূপ হবে’।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৪১১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ صَلَّى عُثْمَانُ بِمِنًى أَرْبَعًا فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمِنًى رَكْعَتَيْنِ وَمَعَ أَبِي بَكْرٍ رَكْعَتَيْنِ وَمَعَ عُمَرَ رَكْعَتَيْنِ
হজরত আব্দুর রহমান বিন ইয়াযীদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
হজরত উসমান গনি রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন মিনার ময়দানে চার রাকাত সালাত পড়লেন, তখন হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “আমি মিনার ময়দানে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে দুই রাকাত এবং হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে দুই রাকাত এবং হজরত উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে দুই রাকাত সালাত আদায় করেছি।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৪১২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَبِيدَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَيْرُ النَّاسِ قَرْنِي ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ يَأْتِي بَعْدَ ذَلِكَ قَوْمٌ تَسْبِقُ شَهَادَاتُهُمْ أَيْمَانَهُمْ وَأَيْمَانُهُمْ شَهَادَاتِهِمْ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “সর্বোত্তম লোক আমার যুগের লোক (অর্থ্যাৎ সাহাববীগণ)। তারপর তাদের পরবর্তীগণ (অর্থ্যাৎ তাবিঈগণ), তারপর তার পরবর্তীগণ (অর্থ্যাৎ তাবি তাবিঈগণ)। তারপর এরূপ ব্যক্তিদের আগমন ঘটবে, যারা সাক্ষী দেবার আগে শপথ করবে অথবা শপথের আগে সাক্ষ্য দিবে। (অর্থাৎ, তারা তাদের শপথ এবং সাক্ষ্যকে একত্রিত করবে, কখনও কখনও একটিকে অন্যটির আগে রাখবে, যার অর্থ তারা সাক্ষ্য এবং শপথের বিষয়ে উদাসীন থাকবে।)” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৪১৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَبِيدَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّنِي لَأَعْرِفُ آخِرَ أَهْلِ النَّارِ خُرُوجًا مِنْ النَّارِ رَجُلٌ يَخْرُجُ مِنْهَا زَحْفًا فَيُقَالُ لَهُ انْطَلِقْ فَادْخُلْ الْجَنَّةَ قَالَ فَيَذْهَبُ يَدْخُلُ فَيَجِدُ النَّاسَ قَدْ أَخَذُوا الْمَنَازِلَ قَالَ فَيَرْجِعُ فَيَقُولُ يَا رَبِّ قَدْ أَخَذَ النَّاسُ الْمَنَازِلَ قَالَ فَيُقَالُ لَهُ أَتَذْكُرُ الزَّمَانَ الَّذِي كُنْتَ فِيهِ قَالَ فَيَقُولُ نَعَمْ فَيُقَالُ لَهُ تَمَنَّهْ فَيَتَمَنَّى فَيُقَالُ إِنَّ لَكَ الَّذِي تَمَنَّيْتَ وَعَشَرَةَ أَضْعَافِ الدُّنْيَا قَالَ فَيَقُولُ أَتَسْخَرُ بِي وَأَنْتَ الْمَلِكُ قَالَ فَلَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ضَحِكَ حَتَّى بَدَتْ نَوَاجِذُهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে লোক সবার শেষে জাহান্নাম থেকে বেরিয়ে আসবে, আমি তাকে জানি। সে নিতম্বের উপর ভর দিয়ে জাহান্নাম থেকে হেঁচড়িয়ে বের হয়ে আসবে। সে বলবে, ‘হে প্রভু! জান্নাতের জায়গাগুলো তো মানুষজন দখল করে নিয়েছে’।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তাকে বলা হবে, ‘তুমি জান্নাতের দিকে অগ্রসর হও এবং তাতে প্রবেশ করো।’ তখন সে জান্নাতে প্রবেশের উদ্দেশ্যে অগ্রসর হবে এবং দেখতে পাবে যে, সম্পূর্ণ জায়গা মানুষজন দখল করে নিয়েছে। সে ফিরে এসে বলবে, ‘হে প্রভু! সমস্ত জায়গা তো মানুষজন দখল করে নিয়েছে’!” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তাকে বলা হবে, ‘তোমার ঐ সময়ের কথা স্মরণ আছে কি, যাতে তুমি অবস্থান করছিলে?’ সে বলবে, ‘হ্যাঁ স্মরণ আছে।’ বলা হবে, ‘তুমি আকাঙ্ক্ষা করো।’ সে তখন আকাঙ্ক্ষা পেশ করবে। বলা হবে, ‘তুমি যা আকাঙ্ক্ষা করেছো তা দেয়া হলো, তদুপারি দুনিয়ার দশ গুণ দেয়া হলো’।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “এ কথা শোনার পর সে বলবে, ‘আপনি বাদশাহ হয়ে আমার সাথে উপহাস করছেন’?” (কথিত আছে যে, এই ব্যক্তি হবে সকল জান্নাতীদের মধ্যে সর্বনিম্ন মর্যাদার ব্যক্তি।) হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “এ কথা বলার পর আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হাসতে দেখলাম, এমনকি তাঁর মুখের দাঁত প্রকাশিত হলো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৪১৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ شَقِيقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِذَا أَحْسَنْتُ فِي الْإِسْلَامِ أُؤَاخَذُ بِمَا عَمِلْتُ فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَقَالَ إِذَا أَحْسَنْتَ فِي الْإِسْلَامِ لَمْ تُؤَاخَذْ بِمَا عَمِلْتَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ وَإِذَا أَسَأْتَ فِي الْإِسْلَامِ أُخِذْتَ بِالْأَوَّلِ وَالْآخِرِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একদা এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে এসে বললো, “হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি যদি ইসলাম গ্রহণ করি এবং ভালো কাজ করি, তাহলে কি জাহিলিয়াতের সময় আমি যা করেছি, তার জন্যে আমাকে দোষারোপ করা হবে?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “যখন তুমি ইসলাম গ্রহণ করেছো এবং নেক আমল করেছো, তখন জাহেলিয়াতের আমলের জন্যে তোমাকে দোষারোপ করা হবে না। তবে তুমি যদি ইসলাম গ্রহণের পর খারাপ কাজ করো, তবে তোমাকে পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সকল খারাপ কাজের জন্যে দায়ী করা হবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৪১৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ شَقِيقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ هُوَ فِيهَا فَاجِرٌ لِيَقْتَطِعَ بِهَا مَالَ امْرِئٍ مُسْلِمٍ لَقِيَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَهُوَ عَلَيْهِ غَضْبَانُ فَقَالَ الْأَشْعَثُ فِيَّ وَاللَّهِ كَانَ ذَلِكَ كَانَ بَيْنِي وَبَيْنَ رَجُلٍ مِنْ الْيَهُودِ أَرْضٌ فَجَحَدَنِي فَقَدَّمْتُهُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَلَكَ بَيِّنَةٌ قُلْتُ لَا فَقَالَ لِلْيَهُودِيِّ احْلِفْ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِذَنْ يَحْلِفَ فَيَذْهَبَ مَالِي فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ وَأَيْمَانِهِمْ ثَمَنًا قَلِيلًا إِلَى آخِرِ الْآيَةِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে লোক মাল আত্মসাৎ করার জন্যে মিথ্যা শপথ করে, সে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলার সঙ্গে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে, তিনি তার উপর অত্যন্ত রাগান্বিত থাকবেন।” এ ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা এই আয়াত অবতীর্ণ করেছেন,
إِنَّ ٱلَّذِينَ يَشۡتَرُونَ بِعَهۡدِ ٱللَّهِ وَأَيۡمَٰنِهِمۡ ثَمَنٗا قَلِيلًا أُوْلَٰٓئِكَ لَا خَلَٰقَ لَهُمۡ فِي ٱلۡأٓخِرَةِ وَلَا يُكَلِّمُهُمُ ٱللَّهُ وَلَا يَنظُرُ إِلَيۡهِمۡ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِ وَلَا يُزَكِّيهِمۡ وَلَهُمۡ عَذَابٌ أَلِيمٞ٧٧
নিশ্চয় যারা আল্লাহর অঙ্গীকার ও তাদের প্রতিশ্রুতিকে তুচ্ছ মূল্যের বিনিময়ে বিক্রী করে দেয়, এরাই তারা, যাদের জন্যে পরকালে কল্যাণের কোনো অংশ থাকবে না আর আল্লাহ তাদের সঙ্গে কথাও বলবেন না। কিয়ামতের দিনে আল্লাহ তাদের দিকে সদয় দৃষ্টিতে তাকাবেন না আর আল্লাহ তাদেরকে পরিশুদ্ধও করবেন না। আর তাদের জন্যে কঠোর শাস্তি রয়েছে। (৩. আল ইমরান : ৭৭)
(রাবী বলেন) পরে আশআস ইবনু কায়স রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাদের কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন, “আবূ আবদুর রহমান (ইবনু মাসঊদ) তোমাদের কী হাদীস শুনালেন?” (রাবী বলেন), আমরা তাকে হাদীসটি শুনালে, তিনি বললেন, “তিনি নির্ভুল হাদীস শুনিয়েছেন। আমাকে কেন্দ্র করেই তো আয়াতটি নাযিল হয়েছিলো। কুয়া (এর মালিকানা) নিয়ে আমার সাথে এক ইহুদী লোকের ঝগড়া চলছিলো। পরে আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খিদমতে বিরোধটি উত্থাপন করলাম। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বললেন, ‘তুমি দুইজন সাক্ষী উপস্থিত করবে, নতুবা সে হলফ করবে।’ আমি বললাম, তবে তো ইহুদী লোকটি নির্দ্বিধায় হলফ করে বসবে। তখন রসূলুলাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা হলফ করে অর্থ-সম্পদ হস্তগত করবে, সে কিয়ামতের দিন আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে এ অবস্থায় যে, আল্লাহ তার প্রতি রাগান্বিত থাকবেন।’ তখন আল্লাহ তাআলা এর সমর্থনে আয়াতটি নাযিল করলেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৪১৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ حَدَّثَنِي عَاصِمٌ عَنْ زِرٍّ عَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ كُنْتُ أَرْعَى غَنَمًا لِعُقْبَةَ بْنِ أَبِي مُعَيْطٍ فَمَرَّ بِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَبُو بَكْرٍ فَقَالَ يَا غُلَامُ هَلْ مِنْ لَبَنٍ قَالَ قُلْتُ نَعَمْ وَلَكِنِّي مُؤْتَمَنٌ قَالَ فَهَلْ مِنْ شَاةٍ لَمْ يَنْزُ عَلَيْهَا الْفَحْلُ فَأَتَيْتُهُ بِشَاةٍ فَمَسَحَ ضَرْعَهَا فَنَزَلَ لَبَنٌ فَحَلَبَهُ فِي إِنَاءٍ فَشَرِبَ وَسَقَى أَبَا بَكْرٍ ثُمَّ قَالَ لِلضَّرْعِ اقْلِصْ فَقَلَصَ قَالَ ثُمَّ أَتَيْتُهُ بَعْدَ هَذَا فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ عَلِّمْنِي مِنْ هَذَا الْقَوْلِ قَالَ فَمَسَحَ رَأْسِي وَقَالَ يَرْحَمُكَ اللَّهُ فَإِنَّكَ غُلَيِّمٌ مُعَلَّمٌ حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ عَاصِمٍ بِإِسْنَادِهِ قَالَ فَأَتَاهُ أَبُو بَكْرٍ بِصَخْرَةٍ مَنْقُورَةٍ فَاحْتَلَبَ فِيهَا فَشَرِبَ وَشَرِبَ أَبُو بَكْرٍ وَشَرِبْتُ قَالَ ثُمَّ أَتَيْتُهُ بَعْدَ ذَلِكَ قُلْتُ عَلِّمْنِي مِنْ هَذَا الْقُرْآنِ قَالَ إِنَّكَ غُلَامٌ مُعَلَّمٌ قَالَ فَأَخَذْتُ مِنْ فِيهِ سَبْعِينَ سُورَةً
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একদা আমি মাঠে উকবা ইবনে আবী মুয়াইতের কিছু ছাগল চরাচ্ছিলাম, তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও আবু বকর আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “হে বালক, তোমার কাছে কি দুধ আছে?” আমি বললাম, “হ্যাঁ, তবে ছাগল গুলো আমার নয়।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমার কাছে এমন কোনো ছাগল আছে কি, যা অন্য ছাগল দ্বারা গর্ভধারণ করেনি?” আমি একটি ছাগল নিয়ে এলাম এবং তিনি ছাগলের দুধের থলিতে হাত দিয়ে মাসেহ করলেন, সুতরাং তা দুধে ভরে গেলো। অতঃপর তিনি তা একটি পাত্রে দোহন করলেন এবং পান করলেন এবং কিছু আবু বকরকে পান করতে দিলেন। অতঃপর তিনি ছাগলের দুধের থলিকে বললেন, “শুকিয়ে যাও।” ফলে তা শুকিয়ে গেলো। তারপর আমি তাঁর কাছে এসে বললাম, “হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমাকে কয়েকটি শব্দ শিখিয়ে দিন।” তিনি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, “আল্লাহ তোমার প্রতি করুণা করুন; তুমি ছোট ছেলে এবং তুমি খুব শিঘ্রই শিখতে পারবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৪১৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ حَدَّثَنَا عَاصِمٌ عَنْ زِرِّ بْنِ حُبَيْشٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ إِنَّ اللَّهَ نَظَرَ فِي قُلُوبِ الْعِبَادِ فَوَجَدَ قَلْبَ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَيْرَ قُلُوبِ الْعِبَادِ فَاصْطَفَاهُ لِنَفْسِهِ فَابْتَعَثَهُ بِرِسَالَتِهِ ثُمَّ نَظَرَ فِي قُلُوبِ الْعِبَادِ بَعْدَ قَلْبِ مُحَمَّدٍ فَوَجَدَ قُلُوبَ أَصْحَابِهِ خَيْرَ قُلُوبِ الْعِبَادِ فَجَعَلَهُمْ وُزَرَاءَ نَبِيِّهِ يُقَاتِلُونَ عَلَى دِينِهِ فَمَا رَأَى الْمُسْلِمُونَ حَسَنًا فَهُوَ عِنْدَ اللَّهِ حَسَنٌ وَمَا رَأَوْا سَيِّئًا فَهُوَ عِنْدَ اللَّهِ سَيِّئٌ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আল্লাহ সত্যই তাঁর বান্দাদের অন্তরের দিকে তাকালেন এবং তিনি দেখতে পেলেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হৃদয় ছিলো, তাঁর বান্দাদের হৃদয়ের মধ্যে সর্বোত্তম। তাই তিনি তাকে নিজের জন্যে মনোনীত করেছেন এবং তাকে তার বাণী সহ প্রেরণ করেছেন। তারপর তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পরে, তাঁর বান্দাদের অন্তরের দিকে তাকালেন, এবং তাঁর সাহাবীদের হৃদয়, তাঁর বান্দাদের হৃদয়ের মধ্যে সেরা পেলেন। তাই তিনি তাদেরকে তাঁর নবীর সাহায্যকারী ও উপদেষ্টা বানিয়ে ছিলেন, তাঁর ধর্মকে সমর্থন করার জন্যে, আল্লাহর পথে লড়াই করার জন্যে। তাই মুসলমানরা যা ভালো মনে করে, তা আল্লাহর কাছে ভালো এবং মুসলমানরা যা খারাপ মনে করে, তা আল্লাহর কাছে খারাপ। [মুসনাদে আহমাদ : ৩৪১৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ حَدَّثَنَا عَاصِمٌ عَنْ زِرٍّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَعَلَّكُمْ سَتُدْرِكُونَ أَقْوَامًا يُصَلُّونَ صَلَاةً لِغَيْرِ وَقْتِهَا فَإِذَا أَدْرَكْتُمُوهُمْ فَصَلُّوا فِي بُيُوتِكُمْ فِي الْوَقْتِ الَّذِي تَعْرِفُونَ ثُمَّ صَلُّوا مَعَهُمْ وَاجْعَلُوهَا سُبْحَةً
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “সম্ভবত (অদূর ভবিষ্যতে) তোমরা এমন কোনো জাতিকে পাবে, যারা নির্ধারিত সময়ের পরে বা নির্ধারিত সময়ের আগে সালাত আদায় করবে। যদি তোমরা তাদের খুঁজে পাও, তাহলে তোমরা নিজেদের বাড়িতে নির্ধারিত সময়ে সালাত আদায় করবে। অতঃপর, যখন তারা সালাত আদায় করবে, তখন তাদের সাথে সালাতে যোগ দিবে এবং পরের সালাতটিকে নফল সালাত হিসাবে বিবেচনা করবে।”
[মুসনাদে আহমাদ : ৩৪১৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَاةً فَلَا أَدْرِي زَادَ أَمْ نَقَصَ فَلَمَّا سَلَّمَ قِيلَ لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلْ حَدَثَ فِي الصَّلَاةِ شَيْءٌ قَالَ لَا وَمَا ذَاكَ قَالُوا صَلَّيْتَ كَذَا وَكَذَا قَالَ فَثَنَى رِجْلَيْهِ فَسَجَدَ سَجْدَتَيْ السَّهْوِ فَلَمَّا سَلَّمَ قَالَ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ أَنْسَى كَمَا تَنْسَوْنَ وَإِذَا شَكَّ أَحَدُكُمْ فِي الصَّلَاةِ فَلْيَتَحَرَّ الصَّلَاةَ فَإِذَا سَلَّمَ فَلْيَسْجُدْ سَجْدَتَيْنِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে নামায পড়ালেন এবং আমি জানি না, তিনি নামাযে কোনো রাকাত যোগ করেছেন, নাকি বাদ দিয়েছেন। যখন তিনি সালাম ফিরালেন, তখন তাঁকে বলা হলো, “হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! নামাযে কি নতুন কিছু যোগ করা হয়েছে?” তিনি বললেন, “না। তোমরা কেনো তা জিজ্ঞেস করছো?” সাহাবীরা বললো, “আপনি নামাযে অমুক অমুক করেছেন।” তিনি কিবলার দিকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন, তারপর তিনি দুইবার সাহু সিজদা করলেন এবং সালাম ফিরালেন। তারপর বললেন, “আমি মানুষ, আমিও ভুলে যাই, যেমন তোমরা ভুলে যাও। যদি তোমাদের কেউ তার নামাযের ব্যাপারে অনিশ্চিত হয়, তাহলে সে যেনো, সঠিকটা বের করার চেষ্টা করে। এবং সেই ভিত্তিতেই এগিয়ে যায়, তারপর দুইবার সাহু সেজদা করে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৪২০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ خَيْثَمَةَ عَنْ رَجُلٍ مِنْ قَوْمِهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا سَمَرَ بَعْدَ الصَّلَاةِ يَعْنِي الْعِشَاءَ الْآخِرَةَ إِلَّا لِأَحَدِ رَجُلَيْنِ مُصَلٍّ أَوْ مُسَافِرٍ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “এশার নামাজের পরে কারো কথা বলার কোনো অনুমতি নেই। শুধু মাত্র ঐ দুইজন ব্যক্তি ছাড়া, যে ব্যক্তি নামাজ পড়ছে বা যে ব্যক্তি ভ্রমণ করছে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৪২১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ شَقِيقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِذَا أَحْسَنْتُ فِي الْإِسْلَامِ أُؤَاخَذُ بِمَا عَمِلْتُ فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَقَالَ إِذَا أَحْسَنْتَ فِي الْإِسْلَامِ لَمْ تُؤَاخَذْ بِمَا عَمِلْتَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ وَإِذَا أَسَأْتَ فِي الْإِسْلَامِ أُخِذْتَ بِالْأَوَّلِ وَالْآخِرِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একদা এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে এসে বললো, “হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি যদি ইসলাম গ্রহণ করি এবং ভালো কাজ করি, তাহলে কি জাহিলিয়াতের সময় আমি যা করেছি, তার জন্যে আমাকে দোষারোপ করা হবে?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “যখন তুমি ইসলাম গ্রহণ করেছো এবং নেক আমল করেছো, তখন জাহেলিয়াতের আমলের জন্যে তোমাকে দোষারোপ করা হবে না। তবে তুমি যদি ইসলাম গ্রহণের পর খারাপ কাজ করো, তবে তোমাকে পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সকল খারাপ কাজের জন্যে দায়ী করা হবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৪২২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنْ الرُّكَيْنِ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ حَسَّانَ عَنْ عَمِّهِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حَرْمَلَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَكْرَهُ عَشْرَ خِلَالٍ تَخَتُّمَ الذَّهَبِ وَجَرَّ الْإِزَارِ وَالصُّفْرَةَ يَعْنِي الْخَلُوقَ وَتَغْيِيرَ الشَّيْبِ قَالَ جَرِيرٌ إِنَّمَا يَعْنِي بِذَلِكَ نَتْفَهُ وَعَزْلَ الْمَاءِ عَنْ مَحِلِّهِ وَالرُّقَى إِلَّا بِالْمُعَوِّذَاتِ وَفَسَادَ الصَّبِيِّ غَيْرَ مُحَرِّمِهِ وَعَقْدَ التَّمَائِمِ وَالتَّبَرُّجَ بِالزِّينَةِ لِغَيْرِ مَحِلِّهَا وَالضَّرْبَ بِالْكِعَابِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দশটি জিনিস অপছন্দ করতেন। সেগুলো হলো, (১) পুরুষদের জন্যে স্বর্ণের আংটি ব্যবহার করা, (২) টাকনুর নিচে কাপড় পরে তা মাটিতে টেনে হেঁচড়ে চলা, (৩) সুফরাহ ব্যবহার করা (অর্থাৎ খালুক এক ধরনের সুগন্ধি বা হলুদ রং ব্যবহার), (৪) সাদা চুলে কলব করা, (৫) আজল করা (অর্থাৎ লজ্জাস্থানের বাইরে বীর্যপাত করা), (৬) মুআব্বিজাত অর্থাৎ সূরাহ নাস ও সূরাহ ফালাক্ব ছাড়া অন্য কোনো বাক্য দিয়ে ঝাড়ফুঁক করা, (৭) একটি শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছে, এমন একজন স্ত্রীর সাথে সহবাস করা (কারণ এটি দুধ সরবরাহে বাধা দিতে পারে, তবে তিনি বলেননি যে, এটি হারাম), (৮) তাবিজ পরা, (৯) কোনো নারী তার স্বামী ছাড়া অন্য কারো জন্যে সৌন্দর্য প্রদর্শন করা এবং (১০) পাশা খেলা বা দাবা খেলা বা অনুরূপ খেলার গুটি চালনা করা। [মুসনাদে আহমাদ : ৩৪২৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ سُفْيَانَ حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عُبَيْدَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ سُلَيْمَانُ وَبَعْضُ الْحَدِيثِ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ أَبِي الضُّحَى عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اقْرَأْ عَلَيَّ قَالَ قُلْتُ أَقْرَأُ عَلَيْكَ وَعَلَيْكَ أُنْزِلَ قَالَ إِنَّنِي أُحِبُّ أَنْ أَسْمَعَهُ مِنْ غَيْرِي فَقَرَأْتُ حَتَّى إِذَا بَلَغْتُ فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلَاءِ شَهِيدًا قَالَ رَأَيْتُ عَيْنَيْهِ تَذْرِفَانِ دُمُوعًا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বললেন, “আমার কাছে কুরআন পাঠ করো।” আমি বললাম, “আমি আপনার কাছে কুরআন পাঠ করবো? অথচ আপনার কাছেই তা অবতীর্ণ হয়েছে।” তিনি বললেন, “অন্যের মুখ থেকে কুরআন শুনতে আমি পছন্দ করি।” এরপর আমি তাঁর নিকট সূরাহ নিসা পাঠ করলাম, যখন আমি এই আয়াতে পৌঁছলাম, তখন তাঁর চোখ দিয়ে অশ্রু প্রবাহিত হয়েছিলো।
فَكَيۡفَ إِذَا جِئۡنَا مِن كُلِّ أُمَّةِۭ بِشَهِيدٖ وَجِئۡنَا بِكَ عَلَىٰ هَٰٓؤُلَآءِ شَهِيدٗا٤١
সুতরাং তখন তাদের অবস্থা কেমন হবে, যখন আমি কিয়ামতের দিনে প্রত্যেক জাতি থেকে একজন সাক্ষীকে আনবো আর আমি আপনাকে তাদের সবার উপরে সাক্ষী রূপে আনবো? (৪. আন নিসা : ৪১) [মুসনাদে আহমাদ : ৩৪২৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ شَقِيقِ بْنِ سَلَمَةَ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ مِنْ بَنِي بَجِيلَةَ يُقَالُ لَهُ نَهِيكُ بْنُ سِنَانٍ فَقَالَ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ كَيْفَ تَقْرَأُ هَذِهِ الْآيَةَ أَيَاءً تَجِدُهَا أَوْ أَلِفًا مِنْ مَاءٍ غَيْرِ آسِنٍ أَوْ غَيْرِ يَاسِنٍ فَقَالَ لَهُ عَبْدُ اللَّهِ أَوَكُلَّ الْقُرْآنِ أَحْصَيْتَ غَيْرَ هَذِهِ الْآيَةِ قَالَ إِنَّنِي لَأَقْرَأُ الْمُفَصَّلَ فِي رَكْعَةٍ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ هَذًّا كَهَذِّ الشِّعْرِ إِنَّ مِنْ أَحْسَنِ الصَّلَاةِ الرُّكُوعَ وَالسُّجُودَ وَلَيَقْرَأَنَّ الْقُرْآنَ أَقْوَامٌ لَا يُجَاوِزُ تَرَاقِيَهُمْ وَلَكِنَّهُ إِذَا قَرَأَهُ فَرَسَخَ فِي الْقَلْبِ نَفَعَ إِنِّي لَأَعْرِفُ النَّظَائِرَ الَّتِي كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقْرَأُ سُورَتَيْنِ فِي رَكْعَةٍ قَالَ ثُمَّ قَامَ فَدَخَلَ فَجَاءَ عَلْقَمَةُ فَدَخَلَ عَلَيْهِ قَالَ فَقُلْنَا لَهُ سَلْهُ لَنَا عَنْ النَّظَائِرِ الَّتِي كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقْرَأُ سُورَتَيْنِ فِي رَكْعَةٍ قَالَ فَدَخَلَ فَسَأَلَهُ ثُمَّ خَرَجَ إِلَيْنَا فَقَالَ عِشْرُونَ سُورَةً مِنْ أَوَّلِ الْمُفَصَّلِ فِي تَأْلِيفِ عَبْدِ اللَّهِ
হজরত আবূ ওয়ায়িল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
নাহীক ইবনু সিনান নামে জনৈক ব্যক্তি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকট এসে বলেন, “হে আবদুর রহমানের পিতা। নিম্নোক্ত শব্দটি আপনি কিভাবে পড়েন, ‘আলিফ’ সহযোগে না ‘ইয়া’ সহযোগে, অর্থাৎ ( ءَاسِنٖ ) অথবা ( ياسِنٖ ) ।”
فِيهَآ أَنۡهَٰرٞ مِّن مَّآءٍ غَيۡرِ ءَاسِنٖ
সেখানে এমন পানির ঝর্ণা আছে যার স্বাদ পরিবর্তিত হয় না।..........(৪৭. মোহাম্মদ : ১৫)
مَّثَلُ ٱلۡجَنَّةِ ٱلَّتِي وُعِدَ ٱلۡمُتَّقُونَۖ فِيهَآ أَنۡهَٰرٞ مِّن مَّآءٍ غَيۡرِ ءَاسِنٖ وَأَنۡهَٰرٞ مِّن لَّبَنٖ لَّمۡ يَتَغَيَّرۡ طَعۡمُهُۥ وَأَنۡهَٰرٞ مِّنۡ خَمۡرٖ لَّذَّةٖ لِّلشَّٰرِبِينَ وَأَنۡهَٰرٞ مِّنۡ عَسَلٖ مُّصَفّٗىۖ وَلَهُمۡ فِيهَا مِن كُلِّ ٱلثَّمَرَٰتِ وَمَغۡفِرَةٞ مِّن رَّبِّهِمۡۖ كَمَنۡ هُوَ خَٰلِدٞ فِي ٱلنَّارِ وَسُقُواْ مَآءً حَمِيمٗا فَقَطَّعَ أَمۡعَآءَهُمۡ١٥
আল্লাহ ভীরুদেরকে যে বেহেশতের অঙ্গীকার দেওয়া হয়েছে, তার উপমা হচ্ছে, সেখানে এমন পানির ঝর্ণা আছে যার স্বাদ পরিবর্তিত হয় না। আর সেখানে এমন দুধের ঝর্ণা আছে যার স্বাদ পরিবর্তিত হয় না। আর সেখানে এমন মদের ঝর্ণা আছে যা পানকারীদের জন্যে সুস্বাদু। আর সেখানে এমন মধুর ঝর্ণা আছে যা পরিশোধিত। আর সেখানে তাদের জন্যে সব রকমের ফল ও তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে ক্ষমা রয়েছে। আল্লাহ ভীরুরা কি তাদের মতো, যারা আগুনের মধ্যে অনন্তকাল থাকবে ও যাদেরকে ফুটন্ত পানি পান করতে দেওয়া হবে, ফলে সেই ফুটন্ত পানি তাদের নাড়িভূঁড়ি ছিড়ে ফেলবে? (৪৭. মোহাম্মদ : ১৫)
বর্ণনাকারী আবূ ওয়ায়িল (রহঃ) বলেন, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “এ শব্দটি ছাড়া তুমি কি কুরআনের সবটুকু আয়ত্ত করে ফেলেছো?” সে বললো, “আমি তো মুফাসসাল সূরাহ সমূহ (সূরা ৫০. ক্বাফ থেকে সূরা ১১৪. নাস পর্যন্ত অংশ) এক রাকআতেই পড়ি।” হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “দ্রুত গতিতে অর্থাৎ কবিতা পড়ার ন্যায় দ্রুত গতিতে? কোনো কোনো লোক কুরআন পড়ে, কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করে না। বরং (সুষ্ঠুভাবে পড়লে) তা যখন অন্তরে প্রবেশ করে, তখন তা হৃদয়ে বদ্ধমূল হয় এবং উপকারে আসে। সলাতের মধ্যে রুকু সাজদাহ হলো সর্বাধিক ফাযীলাতপূর্ণ। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন, তা আমি অবশ্যই জানি। তিনি প্রতি রাকআতে দুটি সূরা মিলিয়ে পড়তেন।” অতঃপর হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু উঠে দাঁড়ান, আলক্বামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু-ও তার পিছনে পিছনে প্রবেশ করেন। অতঃপর তিনি বের হয়ে এসে বলেন, “হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু এ সম্পর্কে আমাকে অবহিত করেছেন, তিনি মুফাসসাল সূরাহ গুলো থেকে বিশটি সূরার উল্লেখ করলেন, যার দুইটি করে সূরাহ প্রতি রাকআতে পড়া হতো।” ইবনু নুমায়র-এর রিওয়ায়াতে আছে, বাজীলাহ গোত্রের জনৈক ব্যক্তি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকট এলো। তার এ বর্ণনায় নাহীক ইবনু সিনান নাম উল্লেখ করেননি। [মুসনাদে আহমাদ : ৩৪২৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ شَقِيقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَسَمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ يَوْمٍ قَسْمًا قَالَ فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ الْأَنْصَارِ إِنَّ هَذِهِ لَقِسْمَةٌ مَا أُرِيدَ بِهَا وَجْهُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ قَالَ فَقُلْتُ يَا عَدُوَّ اللَّهِ أَمَا لَأُخْبِرَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمَا قُلْتَ قَالَ فَذَكَرَ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاحْمَرَّ وَجْهُهُ قَالَ ثُمَّ قَالَ رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَى مُوسَى لَقَدْ أُوذِيَ بِأَكْثَرَ مِنْ هَذَا فَصَبَرَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন কিছু গনীমতের মাল বন্টন করলেন এবং আনসারদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বললো, “এটা এমন একটি বন্টন যা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে করা হয়নি।” আমি বললাম, “হে আল্লাহর দুশমন, তুমি যা বলেছো, তা আমি অবশ্যই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলবো।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে তা উল্লেখ করলে, তাঁর মুখমন্ডল লাল হয়ে গেলো। তারপর তিনি বললেন, “আল্লাহ হজরত মূসা (আঃ)-এর প্রতি রহম করুন, তাঁকে এর চেয়েও বেশি কষ্ট দেওয়া হয়েছিলেন এবং তিনি ধৈর্যশীল ছিলেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৪২৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস