(২৬) জানাযা [হাদিসের সীমা (১২৩৭ - ১৩৯৪), সর্বমোট হাদিসঃ ১৫৮টি]

২৩/৪০.অধ্যায়ঃ [মোট হাদিসঃ ২টি] [অবশিষ্ট হাদিসঃ ৯৬টি]


যে ব্যক্তি বিপদের সময় এমন ভাবে বসে পড়ে যে, তার মধ্যে দুঃখবোধের পরিচয় পাওয়া যায়।




1309 OK

(১২৯৯)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، قَالَ سَمِعْتُ يَحْيَى، قَالَ أَخْبَرَتْنِي عَمْرَةُ، قَالَتْ سَمِعْتُ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ لَمَّا جَاءَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَتْلُ ابْنِ حَارِثَةَ وَجَعْفَرٍ وَابْنِ رَوَاحَةَ جَلَسَ يُعْرَفُ فِيهِ الْحُزْنُ، وَأَنَا أَنْظُرُ مِنْ صَائِرِ الْبَابِ ـ شَقِّ الْبَابِ ـ فَأَتَاهُ رَجُلٌ، فَقَالَ إِنَّ نِسَاءَ جَعْفَرٍ، وَذَكَرَ بُكَاءَهُنَّ، فَأَمَرَهُ أَنْ يَنْهَاهُنَّ، فَذَهَبَ ثُمَّ أَتَاهُ الثَّانِيَةَ، لَمْ يُطِعْنَهُ فَقَالَ انْهَهُنَّ‏.‏ فَأَتَاهُ الثَّالِثَةَ قَالَ وَاللَّهِ غَلَبْنَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ فَزَعَمَتْ أَنَّهُ قَالَ ‏ `‏ فَاحْثُ فِي أَفْوَاهِهِنَّ التُّرَابَ ‏`‏‏.‏ فَقُلْتُ أَرْغَمَ اللَّهُ أَنْفَكَ، لَمْ تَفْعَلْ مَا أَمَرَكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلَمْ تَتْرُكْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْعَنَاءِ‏.‏


‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, যখন (মুতা-র যুদ্ধ ক্ষেত্র হতে) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর খিদমতে (যায়দ) ইব্‌নূ হারিসা, জা’ফর ও ইব্‌নু রাওয়াহা (রাঃ)-এর শাহাদাতের খবর পৌঁছল, তখন তিনি (এমনভাবে) বসে পড়লেন যে, তাঁর মধ্যে দুঃখের চিহ্ন ফুটে উঠেছিল। আমি [‘আয়িশা (রাঃ)] দরজার ফাঁক দিয়ে তা প্রত্যক্ষ করছিলাম। এক ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হয়ে জা’ফর (রাঃ)-এর পরিবারের মহিলাদের কান্নাকাটির কথা উল্লেখ করলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঐ ব্যক্তিকে নির্দেশ দিলেন, তিনি যেন তাদেরকে (কান্নাকাটি করতে) নিষেধ করেন, লোকটি চলে গেল এবং দ্বিতীয়বার এসে (বলল) তারা তার কথা মানেনি। তিনি ইরশাদ করলেনঃ তাঁদেরকে নিষেধ করো। ঐ ব্যক্তি তৃতীয়বার এসে বললেন, আল্লাহর কসম! সে আল্লাহর রাসূল! তাঁরা আমাদের হার মানিয়েছে। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমার মনে হয়, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিরক্তির সাথে বললেনঃ তাহলে তাদের মুখে মাটি নিক্ষেপ করো। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, আল্লাহ্‌ তোমার নাকে ধূলি মিলিয়ে দেন। [১] তুমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নির্দেশ পালন করতে পারনি। অথচ তুমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বিরক্ত করতেও দ্বিধা করোনি। [সহিহ বুখারী : ১২৯৯]


[[১] أَرغَمَ اللهُ : আরবী ব্যবহারে বাক্যটি তোমাকে অপছন্দনীয় বিষয়ের সম্মুখীন করুন ও তোমাকে লজ্জিত, অপমানিত করুন, অর্থে ব্যবহৃত।]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



1310 OK

(১৩০০)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، حَدَّثَنَا عَاصِمٌ الأَحْوَلُ، عَنْ أَنَسٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ قَنَتَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَهْرًا حِينَ قُتِلَ الْقُرَّاءُ، فَمَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَزِنَ حُزْنًا قَطُّ أَشَدَّ مِنْهُ‏.‏


আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, (বীর-ই মাউনার ঘটনায়) ক্বারি (সাহাবীগনের) শাহাদাতের পর আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (ফজরের সালাতে) এক মাস যাবত কুনুত-ই নাযিলা [১] পাঠ করেছিলেন। (বর্ণনাকারী বলেন) আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আমি আর কখনো এর চেয়ে অধিক শোকাভিভূত হতে দেখিনি। [সহিহ বুখারী : ১৩০০]


[[২] কুনূত-ই-নাযিলাঃ মুসলমানদের জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় সার্বিক বিপদকালে ফজরের সালাতে দ্বিতীয় রাকা’আতের রুকূ’র পর দাঁড়িয়ে ইমাম সাহেব উচ্চস্বরে বিশেষ দু’আ পড়েন, (মুক্তাদীগণ আমীন, আমীন, বলতে থাকেন) এ দু’আকে কুনূত-ই-নাযিলা বলা হয়।]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস