
حَدَّثَنَا يَحْيَى حَدَّثَنَا ابْنُ عَوْنٍ عَنْ مُحَمَّدٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ سِرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَ مَكَّةَ وَالْمَدِينَةِ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ لَا يَخَافُ إِلَّا اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে মক্কা ও মদীনার মধ্যে ভ্রমণ করেছিলাম। আর আমরা সফর থেকে ফিরে আসার আগ পর্যন্ত, দুই রাকাত করে সালাত আদায় করেছিলাম। অথচ তখন আমরা নিরাপদে ছিলাম, ঐ সময় একমাত্র আল্লাহর ভয় ব্যতীত আমাদের মনে অন্য কোনো শত্রুর ভয় ছিলো না। [মুসনাদে আহমাদ : ১৮৯১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ هِشَامٍ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ مُوسَى بْنِ سَلَمَةَ قَالَ قُلْتُ لِابْنِ عَبَّاسٍ إِذَا لَمْ تُدْرِكْ الصَّلَاةَ فِي الْمَسْجِدِ كَمْ تُصَلِّي بِالْبَطْحَاءِ قَالَ رَكْعَتَيْنِ تِلْكَ سُنَّةُ أَبِي الْقَاسِمِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
হজরত মূসা বিন সালামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি যখন মসজিদে জামাতে নামায পড়তে পারলেন না এবং আপনি মুসাফির, তখন আপনি কত রাকাত নামায পড়বেন? তিনি বললেন, দুই রাকাত। কারণ এটি আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত। [মুসনাদে আহমাদ : ১৮৯২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى قَالَ أَمْلَاهُ عَلَيَّ سُفْيَانُ إِلَى شُعْبَةَ قَالَ سَمِعْتُ عَمْرَو بْنَ مُرَّةَ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحَارِثِ الْمُعَلِّمُ حَدَّثَنِي طَلِيقُ بْنُ قَيْسٍ الْحَنَفِيُّ أَخُو أَبِي صَالِحٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَدْعُو رَبِّ أَعِنِّي وَلَا تُعِنْ عَلَيَّ وَانْصُرْنِي وَلَا تَنْصُرْ عَلَيَّ وَامْكُرْ لِي وَلَا تَمْكُرْ عَلَيَّ وَاهْدِنِي وَيَسِّرْ الْهُدَى إِلَيَّ وَانْصُرْنِي عَلَى مَنْ بَغَى عَلَيَّ رَبِّ اجْعَلْنِي لَكَ شَكَّارًا لَكَ ذَكَّارًا لَكَ رَهَّابًا لَكَ مِطْوَاعًا إِلَيْكَ مُخْبِتًا لَكَ أَوَّاهًا مُنِيبًا رَبِّ تَقَبَّلْ تَوْبَتِي وَاغْسِلْ حَوْبَتِي وَأَجِبْ دَعْوَتِي وَثَبِّتْ حُجَّتِي وَاهْدِ قَلْبِي وَسَدِّدْ لِسَانِي وَاسْلُلْ سَخِيمَةَ قَلْبِي
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই দোয়াটি বলতেন,
رَبِّ أَعِنِّي وَلَا تُعِنْ عَلَيَّ وَانْصُرْنِي وَلَا تَنْصُرْ عَلَيَّ وَامْكُرْ لِي وَلَا تَمْكُرْ عَلَيَّ وَاهْدِنِي وَيَسِّرْ الْهُدَى إِلَيَّ وَانْصُرْنِي عَلَى مَنْ بَغَى عَلَيَّ رَبِّ اجْعَلْنِي لَكَ شَكَّارًا لَكَ ذَكَّارًا لَكَ رَهَّابًا لَكَ مِطْوَاعًا إِلَيْكَ مُخْبِتًا لَكَ أَوَّاهًا مُنِيبًا رَبِّ تَقَبَّلْ تَوْبَتِي وَاغْسِلْ حَوْبَتِي وَأَجِبْ دَعْوَتِي وَثَبِّتْ حُجَّتِي وَاهْدِ قَلْبِي وَسَدِّدْ لِسَانِي وَاسْلُلْ سَخِيمَةَ قَلْبِي
“হে প্রভু, আমাকে সাহায্য করুন এবং আমার বিরুদ্ধে অন্যদের সাহায্য করবেন না, আমাকে সমর্থন করুন এবং আমার বিরুদ্ধে অন্যদের সমর্থন করবেন না, আমার জন্য পরিকল্পনা করুন এবং আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পনা করবেন না, আমাকে পথ দেখান এবং আমার জন্য পথনির্দেশ সহজ করুন এবং যারা আমাকে গালি দেয় তার বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করুন, অন্যায়কারীদের বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করুন। হে প্রভু, আমাকে আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ করুন, আমাকে আপনার প্রতি স্মরণকারী, আমাকে আপনার প্রতি ভয়কারী, আপনার প্রতি আনুগত্যকারী, আপনার প্রতি বিনয়কারী এবং আপনার দিকে ফিরিয়ে আনুন। হে প্রভু, আমার তওবা কবুল করুন এবং আমার পাপ ধুয়ে ফেলুন, আমার প্রার্থনার উত্তর দিন, আমার প্রমাণকে দৃঢ় করুন, আমার হৃদয়কে পরিচালনা করুন, আমার জিহ্বাকে সত্য কথা বলতে সাহায্য করুন এবং আমার অন্তর থেকে অপবিত্রতা দূর করুন।”
[মুসনাদে আহমাদ : ১৮৯৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ شُعْبَةَ حَدَّثَنَا أَبُو بِشْرٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصُومُ حَتَّى نَقُولَ لَا يُفْطِرُ وَيُفْطِرُ حَتَّى نَقُولَ لَا يَصُومُ وَمَا صَامَ شَهْرًا تَامًّا مُنْذُ قَدِمَ الْمَدِينَةَ إِلَّا رَمَضَانَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
কখনও কখনও রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন ধারাবাহিক ভাবে রোজা রাখতেন যে, আমরা বলতাম যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আর কখনোই রোযা ভঙ্গ করবেন না এবং কখনও কখনও এমন ভাবে রোজা ভঙ্গ করতেন যে, আমরা বলতাম যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আর কখনোই রোজা রাখবেন না। যখন থেকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় এসেছেন, তখন থেকে তিনি রমজান মাস ব্যতীত অন্য কোনো মাসে পুরো মাস রোজা রাখেননি। [মুসনাদে আহমাদ : ১৮৯৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ شُعْبَةَ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ هَذِهِ وَهَذِهِ سَوَاءٌ الْخِنْصَرُ وَالْإِبْهَامُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, (রক্তপন দেয়ার ক্ষেত্রে) বুড়ো আঙুল ও কনিষ্ঠ আঙুল উভয়ই এক সমান। [মুসনাদে আহমাদ : ১৮৯৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ الْأَخْنَسِ قَالَ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ يُوسُفَ بْنِ مَاهَكَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا اقْتَبَسَ رَجُلٌ عِلْمًا مِنْ النُّجُومِ إِلَّا اقْتَبَسَ بِهَا شُعْبَةً مِنْ السِّحْرِ مَا زَادَ زَادَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি জ্যোতিষশাস্ত্র শিখে, সে জাদুবিদ্যার একটি শাখা শিখে। সে যত বেশি জ্যোতিষশাস্ত্রে অগ্রসর হয়, ততই সে জাদুবিদ্যায় অগ্রসর হয়।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৮৯৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ ذَكْوَانَ عَنْ أَبِي رَجَاءٍ حَدَّثَنِي ابْنُ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنْ هَمَّ بِحَسَنَةٍ فَعَمِلَهَا كُتِبَتْ عَشْرًا وَإِنْ لَمْ يَعْمَلْهَا كُتِبَتْ حَسَنَةً وَإِنْ هَمَّ بِسَيِّئَةٍ فَعَمِلَهَا كُتِبَتْ سَيِّئَةً وَإِنْ لَمْ يَعْمَلْهَا كُتِبَتْ حَسَنَةً
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি একটি ভালো কাজ করার নিয়ত করে এবং ঐ কাজটি করে, তবে তার জন্য দশটি নেক আমলের সওয়াব লিপিবদ্ধ করা হয়। অথবা সাতশত গুন বা তার চেয়েও বেশি সওয়াব লিপিবদ্ধ করা হয়। যদি সে ঐ কাজটি না করে, তবে শুধুমাত্র নিয়তের উপরই একটি নেক কাজের সওয়াব লেখা হয়। আর কেউ যদি কোনো পাপ কাজ করার নিয়ত করে এবং তা করে, তবে তার জন্য একটি গুনাহ লেখা হয়। আর যদি সে তা না করে, তবে তার জন্য একটি নেকী লেখা হয়।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৮৯৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ حَدَّثَنِي وَهْبُ بْنُ كَيْسَانَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ عَنْ أَبِيهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ وَحَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ عَنْ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَكَلَ لَحْمًا أَوْ عَرْقًا فَصَلَّى وَلَمْ يَمَسَّ مَاءً
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাড়সহ কিছু গোশত বা শুধু গোশত খেলেন ও নামাজ পড়লেন এবং নতুন করে পানি স্পর্শ করলেন না। [মুসনাদে আহমাদ : ১৮৯৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ حَدَّثَنَا عَطَاءٌ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ دَاجِنَةً لِمَيْمُونَةَ مَاتَتْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَلَّا انْتَفَعْتُمْ بِإِهَابِهَا أَلَّا دَبَغْتُمُوهُ فَإِنَّهُ ذَكَاتُهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
হজরত মায়মুনা রাদিয়াল্লাহু আনহুর একটি ছাগল মারা গেলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, “তুমি কেনো এর চামড়া ব্যবহার করছো না? এর চামড়া প্রক্রিয়াজাত করলে, তা চামড়াকে পবিত্র করবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৮৯৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ حَدَّثَنِي الْحَسَنُ بْنُ مُسْلِمٍ عَنْ طَاوُسٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَّى الْعِيدَ بِغَيْرِ أَذَانٍ وَلَا إِقَامَةٍ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আযান ও ইকামত ছাড়াই ঈদের সালাত আদায় করেছেন।
[মুসনাদে আহমাদ : ১৯০০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ مُسْلِمٍ الْبَطِينِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ أَتَتْ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ امْرَأَةٌ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أُمِّي مَاتَتْ وَعَلَيْهَا صَوْمُ شَهْرٍ أَفَأَقْضِي عَنْهَا قَالَ فَقَالَ أَرَأَيْتِ لَوْ كَانَ عَلَى أُمِّكِ دَيْنٌ أَمَا كُنْتِ تَقْضِينَهُ قَالَتْ بَلَى قَالَ فَدَيْنُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ أَحَقُّ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
এক মহিলা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে এসে বললো, “হে আল্লাহর রসূল, আমার মা এক মাসের রোজা বাকি রেখে ইন্তেকাল করেছেন।” আমি কি তার পক্ষ থেকে এটা পূরণ করতে পারি? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তুমি আমাকে বলো, তোমার মায়ের ঋণ থাকলে, তুমি তা পরিশোধ করবে কি না?” মহিলা বললো, “অবশ্যই, কেনো নয়।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তাহলে তো আল্লাহর ঋণ পরিশোধের অধিকতর যোগ্য।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৯০১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ أَخْبَرَنَا هِشَامٌ الدَّسْتُوَائِيُّ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمُخَنَّثِينَ مِنْ الرِّجَالِ وَالْمُتَرَجِّلَاتِ مِنْ النِّسَاءِ وَقَالَ أَخْرِجُوهُمْ مِنْ بُيُوتِكُمْ فَأَخْرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فُلَانًا وَأَخْرَجَ عُمَرُ فُلَانًا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই সব নারীরূপী পুরুষদেরকে অভিশাপ দিয়েছেন, যারা মহিলা হিজরা সাজে বা হয়ে যায় এবং সেইসব পুরুষরূপী নারীদেরকে অভিশাপ দিয়েছেন, যারা পুরুষ হিজরা সাজে বা হয়ে যায়। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “এ ধরনের লোকদেরকে তোমরা তোমাদের ঘর থেকে বের করে দাও।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন ব্যক্তিকে বহিষ্কার করেছেন এবং হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-ও এমন ব্যক্তিকে বহিষ্কার করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ১৯০২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ حَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَرِبَ لَبَنًا فَمَضْمَضَ وَقَالَ إِنَّ لَهُ دَسَمًا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার দুধ পান করলেন এবং মুখ ধুয়ে ফেলার পর বললেন যে, “দুধে চর্বি রয়েছে (দুধ কিছুটা চর্বিযুক্ত)।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৯০৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ سُفْيَانَ حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ يَعْنِي الْأَعْمَشَ عَنْ يَحْيَى بْنِ عُمَارَةَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ مَرِضَ أَبُو طَالِبٍ فَأَتَتْهُ قُرَيْشٌ وَأَتَاهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعُودُهُ وَعِنْدَ رَأْسِهِ مَقْعَدُ رَجُلٍ فَقَامَ أَبُو جَهْلٍ فَقَعَدَ فِيهِ فَقَالُوا إِنَّ ابْنَ أَخِيكَ يَقَعُ فِي آلِهَتِنَا قَالَ مَا شَأْنُ قَوْمِكَ يَشْكُونَكَ قَالَ يَا عَمِّ أُرِيدُهُمْ عَلَى كَلِمَةٍ وَاحِدَةٍ تَدِينُ لَهُمْ بِهَا الْعَرَبُ وَتُؤَدِّي الْعَجَمُ إِلَيْهِمْ الْجِزْيَةَ قَالَ مَا هِيَ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فَقَامُوا فَقَالُوا أَجَعَلَ الْآلِهَةَ إِلَهًا وَاحِدًا قَالَ وَنَزَلَ ص وَالْقُرْآنِ ذِي الذِّكْرِ فَقَرَأَ حَتَّى بَلَغَ إِنَّ هَذَا لَشَيْءٌ عُجَابٌ و حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ حَدَّثَنَا عَبَّادٌ فَذَكَرَ نَحْوَهُ و قَالَ أَبِي قَالَ الْأَشْجَعِيُّ يَحْيَى بْنُ عَبَّادٍ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার আবু তালিব অসুস্থ হয়ে পড়লে কুরাইশের কিছু লোক তাঁকে দেখতে আসেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও তাঁকে দেখতে আসেন। আবু তালিবের মাথার কাছে একজন ব্যক্তি বসার মতো জায়গা ফাঁকা ছিলো, তাই সেখানে আবু জেহেল এসে বসলো। কুরাইশের লোকেরা আবু তালিবকে বললো, তোমার ভাইয়ের ছেলে আমাদের দেবতাদের সমালোচনা করছে। আবু তালিব বললেন, তোমার লোকেরা তোমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে কেনো? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “চাচা! আমি তাদেরকে এমন একটি বাক্যের দিকে আনতে চাই, যার কারণে সমগ্র আরব তাদের আনুগত্য করবে এবং সমগ্র বিশ্বের অনারবরা তাদেরকে জিযিয়া প্রদান করবে।” আবু তালিব জিজ্ঞেস করলেন, সেটি কোন বাক্য? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই।” একথা শুনে কুরাইশের লোকেরা উঠে দাঁড়ালো এবং বললো, সে কি সব উপাস্যকে এক ইলাহ বানাতে চায়। তখন এই আয়াতটি নাযিল হলো,
أَجَعَلَ ٱلۡأٓلِهَةَ إِلَٰهٗا وَٰحِدًاۖ إِنَّ هَٰذَا لَشَيۡءٌ عُجَابٞ٥
সে কি বহু উপাস্যের পরিবর্তে এক উপাস্যের উপাসনা স্থির করেছে। নিশ্চয় এ তো এক আশ্চর্যজনক ব্যাপার।” [৩৮ : ৫]
وَٱنطَلَقَ ٱلۡمَلَأُ مِنۡهُمۡ أَنِ ٱمۡشُواْ وَٱصۡبِرُواْ عَلَىٰٓ ءَالِهَتِكُمۡۖ إِنَّ هَٰذَا لَشَيۡءٞ يُرَادُ٦
তাদের মধ্যে প্রধান ব্যক্তিরা একথা বলে সরে পড়ে যে, “তোমরা চলে যাও এবং তোমাদের উপাস্যদের প্রতি পূজায় দৃঢ় থাকো। নিশ্চয় এ কুরআন হচ্ছে এমন এক ব্যাপার, যা কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য মূলক। (৩৮. ছোয়াদ : ৬)
مَا سَمِعۡنَا بِهَٰذَا فِي ٱلۡمِلَّةِ ٱلۡأٓخِرَةِ إِنۡ هَٰذَآ إِلَّا ٱخۡتِلَٰقٌ٧
আমরা পূর্বর্তী ধর্মের মধ্যে এ ধরনের কথা শুনিনি। এ কুরআন মনগড়া বাণী ব্যতীত অন্য কিছুই নয়। (৩৮. ছোয়াদ : ৭)
أَءُنزِلَ عَلَيۡهِ ٱلذِّكۡرُ مِنۢ بَيۡنِنَاۚ بَلۡ هُمۡ فِي شَكّٖ مِّن ذِكۡرِيۚ بَل لَّمَّا يَذُوقُواْ عَذَابِ٨
আমাদের মধ্যে কি কেবল মাত্র তাঁর প্রতিই উপদেশ বাণী অবতীর্ণ হলো?” বরং তারা আমার উপদেশ সম্পর্কে সন্দেহের মধ্যে রয়েছে। বরং তারা এখনো আমার শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করেনি। (৩৮. ছোয়াদ : ৮) [মুসনাদে আহমাদ : ১৯০৪]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنِ عُيَيْنَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ فَقَالَ إِنِّي رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ خُرَاسَانَ وَإِنَّ أَرْضَنَا أَرْضٌ بَارِدَةٌ فَذَكَرَ مِنْ ضُرُوبِ الشَّرَابِ فَقَالَ اجْتَنِبْ مَا أَسْكَرَ مِنْ زَبِيبٍ أَوْ تَمْرٍ أَوْ مَا سِوَى ذَلِكَ قَالَ مَا تَقُولُ فِي نَبِيذِ الْجَرِّ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ نَبِيذِ الْجَرِّ
হজরত উয়াইনা ইবনে আবদুর-রহমান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমার পিতা আমাকে বলেছেন, এক ব্যক্তি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে এসে বললো, আমি আমি খোরাসানের বাসিন্দা এবং আমাদের দেশটি একটি শীতল দেশ। সে বিভিন্ন ধরণের পানীয়ের কথা উল্লেখ করলো। হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, কিসমিস, খেজুর বা যে কোন ধরনের নেশাকারী খাবার এড়িয়ে চলো। ঐ ব্যক্তি বললো, মাটির পাত্রে পানীয় (নাবীজ) তৈরি করা সম্পর্কে আপনি কি বলেন? হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাটির পাত্রে নাবীজ তৈরি করতে নিষেধ করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ১৯০৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ الْأَخْنَسِ قَالَ أَخْبَرَنِي ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ أَخْبَرَهُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَيْهِ أَسْوَدَ أَفْحَجَ يَنْقُضُهَا حَجَرًا حَجَرًا يَعْنِي الْكَعْبَةَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আমি যেনো আমার চোখের সামনে এমন এক ব্যক্তিকে দেখতে পাচ্ছি, যে খুব কালো হবে এবং পা চওড়া হবে এবং কাবার প্রতিটি পাথর ভেঙে ফেলে দিবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৯০৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ حَدَّثَنِي قَارِظٌ عَنْ أَبِي غَطَفَانَ قَالَ رَأَيْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ تَوَضَّأَ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اسْتَنْثِرُوا مَرَّتَيْنِ بَالِغَتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا
হজরত আবু গাতাফান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু ওযু করার সময় বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুইবার বা তিনবার নাকে পানি ঢালতে এবং ভালোভাবে পরিষ্কার করতে বলেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ১৯০৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى حَدَّثَنَا هِشَامٌ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ عِنْدَ الْكَرْبِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ الْعَظِيمُ الْحَلِيمُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ رَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন কষ্ট পেতেন, তখন তিনি বলতেন,
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ الْعَظِيمُ الْحَلِيمُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ رَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ
“সর্বশক্তিমান, সহনশীল আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নেই। পরাক্রমশালী আরশের অধিপতি আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। আসমান ও যমীনের পালনকর্তা, মহান আরশের মালিক আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই।”
[মুসনাদে আহমাদ : ১৯০৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ مَسْعُودِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنِّي نُصِرْتُ بِالصَّبَا وَإِنَّ عَادًا أُهْلِكَتْ بِالدَّبُورِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমাকে পূর্ব দিকের বাতাস (কাবার দিক থেকে আসা বাতাস) দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে এবং পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত বাতাস দ্বারা আদ জাতিকে ধ্বংস করা হয়েছে।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৯০৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا سُفْيَانُ قَالَ عَمْرٌو قَالَ أَبُو الشَّعْثَاءِ مَنْ هِيَ قَالَ قُلْتُ يَقُولُونَ مَيْمُونَةُ قَالَ أَخْبَرَنِي ابْنُ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَكَحَ مَيْمُونَةَ وَهُوَ مُحْرِمٌ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত মায়মুনা বিনতে আল হারিস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বিয়ে করেছিলেন, যখন তারা উভয়েই ইহরাম অবস্থায় ছিলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ১৯১০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ أَنْبَأَنَا عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ زَيْدٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ خَطَبَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَ إِذَا لَمْ يَجِدْ الْمُحْرِمُ إِزَارًا فَلْيَلْبَسْ السَّرَاوِيلَ وَإِذَا لَمْ يَجِدْ النَّعْلَيْنِ فَلْيَلْبَسْ الْخُفَّيْنِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার খুতবা দেওয়ার সময় রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, “যদি মুহরিম ইজার (কোমর মোড়ানো) না পায়, তবে তার প্যান্ট পরা উচিত এবং যদি সে স্যান্ডেল না পায় তবে তার চামড়ার মোজা পরা উচিত।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৯১১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَمْرٍو عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ سَمِعَ ابْنَ عَبَّاسٍ يَقُولُ كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَتَى الْغَائِطَ ثُمَّ خَرَجَ فَدَعَا بِالطَّعَامِ وَقَالَ مَرَّةً فَأُتِيَ بِالطَّعَامِ فَقِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلَا تَوَضَّأُ قَالَ لَمْ أُصَلِّ فَأَتَوَضَّأَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে ছিলাম। তিনি টয়লেটে গেলেন, তারপর তিনি বাইরে এসে খাবার আনতে বললেন। খাবার আনা হলো এবং বলা হলো, “হে আল্লাহর রাসূল, আপনি কি অযু করবেন না?” তিনি বললেন, “আমি তো এখন নামায পড়তে যাচ্ছি না, যে আমাকে উযূ করতে হবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৯১২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ هِشَامٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أُنْزِلَ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ ابْنُ ثَلَاثٍ وَأَرْبَعِينَ فَمَكَثَ بِمَكَّةَ عَشْرًا وَبِالْمَدِينَةِ عَشْرًا وَقُبِضَ وَهُوَ ابْنُ ثَلَاثٍ وَسِتِّينَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে ওহীর ধারাবাহিকতা শুরু হয়েছিল তেতাল্লিশ (৪৩) বছর বয়সে, তিনি মক্কায় দশ (১০) বছর, মদীনায় দশ (১০) বছর অবস্থান করেন এবং তেষট্টি (৬৩) বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। [মুসনাদে আহমাদ : ১৯১৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ عَنِ الْحَسَنِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ فَرَضَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَذِهِ الصَّدَقَةَ كَذَا وَكَذَا وَنِصْفَ صَاعٍ بُرًّا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অমুক অমুক জিনিসের উপর যাকাত ফরয করেছেন এবং তিনি গমের যাকাত নির্ধারণ করেছেন অর্ধ সা। [মুসনাদে আহমাদ : ১৯১৪]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ شُعْبَةَ عَنْ أَبِي جَمْرَةَ قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ قَالَ إِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَّى مِنْ اللَّيْلِ ثَلَاثَ عَشْرَةَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাতে সর্বমোট তেরো (১৩) রাকাত নামায পড়তেন। (আট রাকাত তাহাজ্জুদ, তিন রাকাত বিতর এবং দুই রাকাত ফজরের সুন্নত।)
[মুসনাদে আহমাদ : ১৯১৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ شُعْبَةَ حَدَّثَنِي أَبُو جَمْرَةَ وَابْنُ جَعْفَرٍ قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي جَمْرَةَ قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ يَقُولُ إِنَّ وَفْدَ عَبْدِ الْقَيْسِ لَمَّا قَدِمُوا الْمَدِينَةَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مِمَّنْ الْوَفْدُ أَوْ قَالَ الْقَوْمُ قَالُوا رَبِيعَةُ قَالَ مَرْحَبًا بِالْوَفْدِ أَوْ قَالَ الْقَوْمِ غَيْرَ خَزَايَا وَلَا نَدَامَى قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتَيْنَاكَ مِنْ شُقَّةٍ بَعِيدَةٍ وَبَيْنَنَا وَبَيْنَكَ هَذَا الْحَيُّ مِنْ كُفَّارِ مُضَرَ وَلَسْنَا نَسْتَطِيعُ أَنْ نَأْتِيَكَ إِلَّا فِي شَهْرٍ حَرَامٍ فَأَخْبِرْنَا بِأَمْرٍ نَدْخُلُ بِهِ الْجَنَّةَ وَنُخْبِرُ بِهِ مَنْ وَرَاءَنَا وَسَأَلُوهُ عَنْ أَشْرِبَةٍ فَأَمَرَهُمْ بِأَرْبَعٍ وَنَهَاهُمْ عَنْ أَرْبَعٍ أَمَرَهُمْ بِالْإِيمَانِ بِاللَّهِ قَالَ أَتَدْرُونَ مَا الْإِيمَانُ بِاللَّهِ قَالُوا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ وَإِقَامُ الصَّلَاةِ وَإِيتَاءُ الزَّكَاةِ وَصَوْمُ رَمَضَانَ وَأَنْ تُعْطُوا الْخُمُسَ مِنْ الْمَغْنَمِ وَنَهَاهُمْ عَنْ الدُّبَّاءِ وَالْحَنْتَمِ وَالنَّقِيرِ وَالْمُزَفَّتِ قَالَ وَرُبَّمَا قَالَ وَالْمُقَيَّرِ قَالَ احْفَظُوهُنَّ وَأَخْبِرُوا بِهِنَّ مَنْ وَرَاءَكُمْ
হজরত আবূ জামরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছি, আবদুল কায়েসের প্রতিনিধি দল রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এলো এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “এই প্রতিনিধি দলটি কে?” বা “এরা কারা?” তারা বললো, আমরা রাবীআহ গোত্রের। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “ঐ প্রতিনিধি দলকে বা লোকেদেরকে স্বাগত জানাই, যারা অপদস্থ ও লজ্জিত না হয়েই আগমন করেছে।” তারা বললো, হে আল্লাহর রসূল, আমরা আপনার কাছে দূরবর্তী দেশ থেকে এসেছি। আমাদের এবং আপনার মধ্যে এই কাফের মুদার গোত্র রয়েছে। আমরা কেবল আপনার কাছে পবিত্র মাসেই আসতে পারি। সুতরাং আপনি আমাদেরকে একটি স্পষ্ট নির্দেশ দিন যার মাধ্যমে আমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারি এবং যা আমরা তাদের কাছে বলতে পারি, যাদেরকে আমরা পিছনে ফেলে এসেছি। তারা পানীয় সম্বন্ধেও জিজ্ঞেস করল। তিনি তাদেরকে চারটি জিনিসের নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং চারটি জিনিস থেকে নিষেধ করেছিলেন। তিনি তাদেরকে এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার নির্দেশ দিয়েছিলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমরা কি জানো, এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার অর্থ কী?” তারা বললো, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন, “এর অর্থ হলো, সাক্ষ্য দেওয়া যে, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর প্রেরিত রসূল। নিয়মিত নামায কায়েম করা, রমযানের রোযা রাখা এবং যুদ্ধের গনীমতের এক পঞ্চমাংশ সম্পদ (খুমুস) দান করা। তিনি তাদেরকে সবুজ কলস, শুকনো কদুর খোল, খেজুর বৃক্ষের গুড়ি হতে তৈরী বাসন এবং আলকাতরা দ্বারা রাঙানো পাত্র ব্যবহার করতে নিষেধ করেছিলেন। এবং তিনি তাদেরকে আরো বললেন, “তোমরা এ বিষয়গুলো ভালো করে মনে রেখো এবং যাদেরকে তোমরা পিছনে ফেলে এসেছো, তাদেরকেও জানাও। ” [মুসনাদে আহমাদ : ১৯১৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ شُعْبَةَ وَابْنُ جَعْفَرٍ قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ حَدَّثَنِي أَبُو جَمْرَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ جُعِلَ فِي قَبْرِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَطِيفَةٌ حَمْرَاءُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কবরে একটি লাল চাদর বিছিয়ে দেওয়া হয়েছিলো।
[মুসনাদে আহমাদ : ১৯১৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قِيلَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ فَرَغَ مِنْ بَدْرٍ عَلَيْكَ الْعِيرَ لَيْسَ دُونَهَا شَيْءٌ قَالَ فَنَادَاهُ الْعَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ إِنَّهُ لَا يَصْلُحُ لَكَ قَالَ وَلِمَ قَالَ لِأَنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ إِنَّمَا وَعَدَكَ إِحْدَى الطَّائِفَتَيْنِ وَقَدْ أَعْطَاكَ مَا وَعَدَكَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন বদরের যুদ্ধ শেষ করলেন, তখন কেউ একজন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কুরাইশদের কাফেলার পিছনে ধাওয়া করতে বললো। সে বললো ঐ কাফেলা আপনার হস্তগত করতে আর কোনো বাধা নেই। তখন আল আব্বাস বিন আব্দুল-মুত্তালিব রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেন, আপনি এটি পেতে পারবেন না। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “কেনো নয়?” আল আব্বাস বিন আব্দুল-মুত্তালিব বললেন, আল্লাহ আপনাকে দুটি দলের মধ্যে একটির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং তিনি আপনাকে যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা আপনাকে দিয়েছেন।
وَإِذۡ يَعِدُكُمُ ٱللَّهُ إِحۡدَى ٱلطَّآئِفَتَيۡنِ أَنَّهَا لَكُمۡ وَتَوَدُّونَ أَنَّ غَيۡرَ ذَاتِ ٱلشَّوۡكَةِ تَكُونُ لَكُمۡ وَيُرِيدُ ٱللَّهُ أَن يُحِقَّ ٱلۡحَقَّ بِكَلِمَٰتِهِۦ وَيَقۡطَعَ دَابِرَ ٱلۡكَٰفِرِينَ٧
যখন বদর যুদ্ধের সময় আল্লাহ তোমাদেরকে শত্রু পক্ষের দুই দলের একটি সম্পর্কে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, তা তোমাদের হস্তগত হবে। আর তোমরা চেয়েছিলে যে, অস্ত্র সজ্জিত নয় এমন দলটি তোমাদের হস্তগত হোক। অথচ আল্লাহ চেয়েছিলেন যে, সত্যকে স্বীয় বাণীর মাধ্যমে সত্যে পরিণত করতে। আর যেনো আল্লাহ অবিশ্বাসীদের শিকড় কেটে দেন, [৮ : ৭] [মুসনাদে আহমাদ : ১৯১৮]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ سِمَاكٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ مَرَّ رَجُلٌ مِنْ بَنِي سُلَيْمٍ بِنَفَرٍ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يَسُوقُ غَنَمًا لَهُ فَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ فَقَالُوا مَا سَلَّمَ عَلَيْنَا إِلَّا لِيَتَعَوَّذَ مِنَّا فَعَمَدُوا إِلَيْهِ فَقَتَلُوهُ وَأَتَوْا بِغَنَمِهِ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَنَزَلَتْ الْآيَةُ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا ضَرَبْتُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَتَبَيَّنُوا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
বনু সুলাইমের এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীদের একটি দলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো। সে তার কিছু বকরীর পাল চালাচ্ছিলো এবং তাদেরকে সালাম দিলো। সাহাবী বললেন, সে আমাদেরকে সালাম দিচ্ছে যাতে আমাদের থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারে। অতঃপর তারা গিয়ে তাকে হত্যা করলেন এবং তার বকরী গুলোকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামর কাছে নিয়ে এলেন। অতঃপর এই আয়াতটি নাযিল হয়,
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِذَا ضَرَبۡتُمۡ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ فَتَبَيَّنُواْ وَلَا تَقُولُواْ لِمَنۡ أَلۡقَىٰٓ إِلَيۡكُمُ ٱلسَّلَٰمَ لَسۡتَ مُؤۡمِنٗا تَبۡتَغُونَ عَرَضَ ٱلۡحَيَوٰةِ ٱلدُّنۡيَا فَعِندَ ٱللَّهِ مَغَانِمُ كَثِيرَةٞۚ كَذَٰلِكَ كُنتُم مِّن قَبۡلُ فَمَنَّ ٱللَّهُ عَلَيۡكُمۡ فَتَبَيَّنُوٓاْۚ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ بِمَا تَعۡمَلُونَ خَبِيرٗا٩٤
ওহে যারা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করেছো! তোমরা যখন আল্লাহর পথে জিহাদের জন্যে যাত্রা করো, তখন তোমরা সব কিছু যাচাই করে নিও। যে ব্যক্তি তোমাদের প্রতি সালাম নিবেদন করে, তোমরা তাকে এ কথা বলো না যে, “তুমি বিশ্বাসী নও।” তোমরা পার্থিব জীবনের সম্পদ অনুসন্ধান করো অথচ আল্লাহর কাছে প্রচুর যুদ্ধ লব্ধ সম্পদ রয়েছে। ইতিপূর্বে তোমরা এমনই ছিলে, কিন্তু আল্লাহ তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। সুতরাং এখন থেকে তোমরা সব কিছু, যাচাই করে নিও। নিশ্চয় তোমরা যা করো আল্লাহ ঐ বিষয়ে সংবাদ রাখেন। [৪ : ৯৪] [মুসনাদে আহমাদ : ১৯১৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ شُعْبَةَ حَدَّثَنِي عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مَيْسَرَةَ عَنْ طَاوُسٍ قَالَ أَتَى ابْنَ عَبَّاسٍ رَجُلٌ فَسَأَلَهُ وَسُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ قَالَ أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ أَنْبَأَنِي عَبْدُ الْمَلِكِ قَالَ سَمِعْتُ طَاوُسًا يَقُولُ سَأَلَ رَجُلٌ ابْنَ عَبَّاسٍ الْمَعْنَى عَنْ قَوْلِهِ عَزَّ وَجَلَّ قُلْ لَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا إِلَّا الْمَوَدَّةَ فِي الْقُرْبَى فَقَالَ سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ قَرَابَةُ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ عَجِلْتَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَكُنْ بَطْنٌ مِنْ قُرَيْشٍ إِلَّا لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيهِمْ قَرَابَةٌ فَنَزَلَتْ قُلْ لَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا إِلَّا الْمَوَدَّةَ فِي الْقُرْبَى إِلَّا أَنْ تَصِلُوا قَرَابَةَ مَا بَيْنِي وَبَيْنَكُمْ
হজরত তাউস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে এসে এই আয়াতের অর্থ জিজ্ঞেস করলো,
ذَٰلِكَ ٱلَّذِي يُبَشِّرُ ٱللَّهُ عِبَادَهُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّٰلِحَٰتِۗ قُل لَّآ أَسۡـَٔلُكُمۡ عَلَيۡهِ أَجۡرًا إِلَّا ٱلۡمَوَدَّةَ فِي ٱلۡقُرۡبَىٰۗ وَمَن يَقۡتَرِفۡ حَسَنَةٗ نَّزِدۡ لَهُۥ فِيهَا حُسۡنًاۚ إِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٞ شَكُورٌ٢٣
বেহেশত হচ্ছে ঐ বিরাট অনুগ্রহ আল্লাহ যার সুসংবাদ দেন তাঁর ঐ বান্দাদেরকে, যারা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করে ও সৎকাজ করে। আপনি বলুন, “আমি তোমাদের কাছে এ আহবানের জন্যে কোনো প্রতিদান চাই না, তবে এ ব্যতীত যে, আমি নিকট আত্মীয়তার ভালোবাসা চাই।” যে কেউ ভালো কাজ অর্জন করে, আমি তার জন্যে ঐ ভালো কাজের মধ্যে আরো পুণ্য বাড়িয়ে দেই। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, গুণগ্রাহী। [৪২ : ২৩]
তিনি উত্তর দেওয়ার আগেই হজরত সাঈদ ইবনে জুবায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন যে, এটি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আত্মীয়দেরকে বোঝায়। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন যে, “আপনি অর্থ বোঝার ক্ষেত্রে খুব তাড়াহুড়ো করেছেন। কুরাইশদের এমন কোন গোত্র ছিলো না যে, তাদের সাথে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিলো না।” এই আয়াতে ٱلۡمَوَدَّةَ فِي ٱلۡقُرۡبَىٰۗ “আমি নিকট আত্মীয়তার ভালোবাসা চাই।” এর অর্থ হলো, “তোমারা কি আমার ও তোমাদের মধ্যে আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করবে না?”
[মুসনাদে আহমাদ : ১৯২০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস