(২৫) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনা [হাদিসের সীমা (১৭৪২-৩৩৬৭), সর্বমোট হাদিসঃ ১৬২৬টি]

[মোট হাদিসঃ ৩০টি] [অবশিষ্ট হাদিসঃ ৬০৬টি]



2761 OK

(২৭৬১)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ حَدَّثَنَا شَرِيكٌ عَنْ سِمَاكٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ أَمَرَ عَلِيًّا فَوَضَعَ لَهُ غُسْلًا ثُمَّ أَعْطَاهُ ثَوْبًا فَقَالَ اسْتُرْنِي وَوَلِّنِي ظَهْرَكَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে তাঁর গোসলের জন্যে কিছু পানি প্রস্তুত করতে বললেন, তারপর তিনি তাকে একটি চাদর দিলেন এবং বললেন, “আমাকে আড়াল করো এবং আমার দিকে পিছন ফিরো।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৭৬১]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2762 OK

(২৭৬২)

হাদিস দেখুন [৩১:১৯৯৪] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ سِمَاكٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا اخْتَلَفْتُمْ فِي الطَّرِيقِ فَاجْعَلُوهُ سَبْعَ أَذْرُعٍ وَمَنْ بَنَى بِنَاءً فَلْيَدْعَمْهُ حَائِطَ جَارِهِ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমরা পথ পরিমাপ সম্পর্কে মতানৈক্য করো, তখন তোমরা ঐ পথকে সাত হাত পর্যন্ত বাড়িয়ে দাও। আর যে ব্যক্তি কোনো ভবন নির্মাণ করে ও তার প্রতিবেশীর দেয়ালে কাঠ লাগাতে চায়। তবে তার প্রতিবেশীর উচিত তাকে অনুমতি দেওয়া।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৭৬২]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2763 OK

(২৭৬৩)

হাদিস দেখুন [৩১:২৬৭৭] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ عَنْ زُهَيْرٍ عَنْ عَمْرٍو يَعْنِي ابْنَ أَبِي عَمْرٍو عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَعَنَ اللَّهُ مَنْ ذَبَحَ لِغَيْرِ اللَّهِ لَعَنَ اللَّهُ مَنْ غَيَّرَ تُخُومَ الْأَرْضِ وَلَعَنَ اللَّهُ مَنْ كَمَهَ الْأَعْمَى عَنْ السَّبِيلِ وَلَعَنَ اللَّهُ مَنْ سَبَّ وَالِدَهُ وَلَعَنَ اللَّهُ مَنْ تَوَلَّى غَيْرَ مَوَالِيهِ وَلَعَنَ اللَّهُ مَنْ عَمِلَ عَمَلَ قَوْمِ لُوطٍ وَلَعَنَ اللَّهُ مَنْ عَمِلَ عَمَلَ قَوْمِ لُوطٍ وَلَعَنَ اللَّهُ مَنْ عَمِلَ عَمَلَ قَوْمِ لُوطٍ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে পশু জবাই করে, সে অভিশপ্ত। যে সীমানা চিহ্নিতকারী পরিবর্তন করে, আল্লাহ তাকে অভিশাপ দেন। যে ব্যক্তি একজন অন্ধকে ভুল রাস্তা দেখায়, আল্লাহ তাকে অভিশাপ দেন। যে তার পিতা-মাতাকে গালি দেয়, আল্লাহ তাকে অভিশাপ দেন। যে দাস তার মালিক ব্যতীত অন্য কারো মালিকানা দাবি করে, আল্লাহ তাকে অভিশাপ দেন। যে ব্যক্তি লুতের সম্প্রদায়ের মতো আচরণ করে, আল্লাহ তাকে অভিশাপ দিক। যে ব্যক্তি লুতের সম্প্রদায়ের মতো আচরণ করে, আল্লাহ তাকে অভিশাপ দিক। যে ব্যক্তি লুতের সম্প্রদায়ের মতো আচরণ করে, আল্লাহ তাকে অভিশাপ দিক।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৭৬৩]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2764 OK

(২৭৬৪)

হাদিস দেখুন [৩১:২৬৭৭] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ عَنْ زُهَيْرٍ عَنْ عَمْرٍو يَعْنِي ابْنَ أَبِي عَمْرٍو عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَعَنَ اللَّهُ مَنْ ذَبَحَ لِغَيْرِ اللَّهِ لَعَنَ اللَّهُ مَنْ غَيَّرَ تُخُومَ الْأَرْضِ وَلَعَنَ اللَّهُ مَنْ كَمَهَ الْأَعْمَى عَنْ السَّبِيلِ وَلَعَنَ اللَّهُ مَنْ سَبَّ وَالِدَهُ وَلَعَنَ اللَّهُ مَنْ تَوَلَّى غَيْرَ مَوَالِيهِ وَلَعَنَ اللَّهُ مَنْ عَمِلَ عَمَلَ قَوْمِ لُوطٍ وَلَعَنَ اللَّهُ مَنْ عَمِلَ عَمَلَ قَوْمِ لُوطٍ وَلَعَنَ اللَّهُ مَنْ عَمِلَ عَمَلَ قَوْمِ لُوطٍ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে পশু জবাই করে, সে অভিশপ্ত। যে সীমানা চিহ্নিতকারী পরিবর্তন করে, আল্লাহ তাকে অভিশাপ দেন। যে ব্যক্তি একজন অন্ধকে ভুল রাস্তা দেখায়, আল্লাহ তাকে অভিশাপ দেন। যে তার পিতা-মাতাকে গালি দেয়, আল্লাহ তাকে অভিশাপ দেন। যে দাস তার মালিক ব্যতীত অন্য কারো মালিকানা দাবি করে, আল্লাহ তাকে অভিশাপ দেন। যে ব্যক্তি লুতের সম্প্রদায়ের মতো আচরণ করে, আল্লাহ তাকে অভিশাপ দিক। যে ব্যক্তি লুতের সম্প্রদায়ের মতো আচরণ করে, আল্লাহ তাকে অভিশাপ দিক। যে ব্যক্তি লুতের সম্প্রদায়ের মতো আচরণ করে, আল্লাহ তাকে অভিশাপ দিক।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৭৬৪]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2765 OK

(২৭৬৫)

হাদিস দেখুন [৩১:২৬৭৭] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ عَنْ زُهَيْرٍ عَنْ عَمْرٍو يَعْنِي ابْنَ أَبِي عَمْرٍو عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَعَنَ اللَّهُ مَنْ ذَبَحَ لِغَيْرِ اللَّهِ لَعَنَ اللَّهُ مَنْ غَيَّرَ تُخُومَ الْأَرْضِ وَلَعَنَ اللَّهُ مَنْ كَمَهَ الْأَعْمَى عَنْ السَّبِيلِ وَلَعَنَ اللَّهُ مَنْ سَبَّ وَالِدَهُ وَلَعَنَ اللَّهُ مَنْ تَوَلَّى غَيْرَ مَوَالِيهِ وَلَعَنَ اللَّهُ مَنْ عَمِلَ عَمَلَ قَوْمِ لُوطٍ وَلَعَنَ اللَّهُ مَنْ عَمِلَ عَمَلَ قَوْمِ لُوطٍ وَلَعَنَ اللَّهُ مَنْ عَمِلَ عَمَلَ قَوْمِ لُوطٍ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে পশু জবাই করে, সে অভিশপ্ত। যে সীমানা চিহ্নিতকারী পরিবর্তন করে, আল্লাহ তাকে অভিশাপ দেন। যে ব্যক্তি একজন অন্ধকে ভুল রাস্তা দেখায়, আল্লাহ তাকে অভিশাপ দেন। যে তার পিতা-মাতাকে গালি দেয়, আল্লাহ তাকে অভিশাপ দেন। যে দাস তার মালিক ব্যতীত অন্য কারো মালিকানা দাবি করে, আল্লাহ তাকে অভিশাপ দেন। যে ব্যক্তি লুতের সম্প্রদায়ের মতো আচরণ করে, আল্লাহ তাকে অভিশাপ দিক। যে ব্যক্তি লুতের সম্প্রদায়ের মতো আচরণ করে, আল্লাহ তাকে অভিশাপ দিক। যে ব্যক্তি লুতের সম্প্রদায়ের মতো আচরণ করে, আল্লাহ তাকে অভিশাপ দিক।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৭৬৫]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2766 OK

(২৭৬৬)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ جَابِرٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُمِرْتُ بِرَكْعَتَيْ الضُّحَى وَلَمْ تُؤْمَرُوا بِهَا وَأُمِرْتُ بِالْأَضْحَى وَلَمْ تُكْتَبْ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমাকে দুই রাকাত চাশত পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তোমাদেরকে তা দেওয়া হয়নি। এমনকি আমার ওপর কুরবানীও ওয়াজিব করা হয়েছে। যদিও আমার নিসাব নেই, কিন্তু নিসাবের অনুপস্থিতিতে তোমাদের উপর কোরবানি ওয়াজিব নয়।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৭৬৬]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2767 OK

(২৭৬৭)

হাদিস দেখুন [৩১:২৭৬৬] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ جَابِرٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُمِرْتُ بِرَكْعَتَيْ الضُّحَى وَلَمْ تُؤْمَرُوا بِهَا وَأُمِرْتُ بِالْأَضْحَى وَلَمْ تُكْتَبْ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমাকে দুই রাকাত চাশত পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তোমাদেরকে তা দেওয়া হয়নি। এমনকি আমার ওপর কুরবানীও ওয়াজিব করা হয়েছে। যদিও আমার নিসাব নেই, কিন্তু নিসাবের অনুপস্থিতিতে তোমাদের উপর কোরবানি ওয়াজিব নয়।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৭৬৭]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2768 OK

(২৭৬৮)

হাদিস দেখুন [৩১:২৭৬৬] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ جَابِرٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُمِرْتُ بِرَكْعَتَيْ الضُّحَى وَلَمْ تُؤْمَرُوا بِهَا وَأُمِرْتُ بِالْأَضْحَى وَلَمْ تُكْتَبْ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমাকে দুই রাকাত চাশত পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তোমাদেরকে তা দেওয়া হয়নি। এমনকি আমার ওপর কুরবানীও ওয়াজিব করা হয়েছে। যদিও আমার নিসাব নেই, কিন্তু নিসাবের অনুপস্থিতিতে তোমাদের উপর কোরবানি ওয়াজিব নয়।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৭৬৮]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2769 OK
View Quran

(২৭৬৯)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا شَيْبَانُ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ أَبِي رَزِينٍ عَنْ أَبِي يَحْيَى مَوْلَى ابْنِ عُقَيْلٍ الْأَنْصَارِيِّ قَالَ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ قَالَ لَقَدْ عُلِّمْتُ آيَةً مِنْ الْقُرْآنِ مَا سَأَلَنِي عَنْهَا رَجُلٌ قَطُّ فَمَا أَدْرِي أَعَلِمَهَا النَّاسُ فَلَمْ يَسْأَلُوا عَنْهَا أَمْ لَمْ يَفْطِنُوا لَهَا فَيَسْأَلُوا عَنْهَا ثُمَّ طَفِقَ يُحَدِّثُنَا فَلَمَّا قَامَ تَلَاوَمْنَا أَنْ لَا نَكُونَ سَأَلْنَاهُ عَنْهَا فَقُلْتُ أَنَا لَهَا إِذَا رَاحَ غَدًا فَلَمَّا رَاحَ الْغَدَ قُلْتُ يَا ابْنَ عَبَّاسٍ ذَكَرْتَ أَمْسِ أَنَّ آيَةً مِنْ الْقُرْآنِ لَمْ يَسْأَلْكَ عَنْهَا رَجُلٌ قَطُّ فَلَا تَدْرِي أَعَلِمَهَا النَّاسُ فَلَمْ يَسْأَلُوا عَنْهَا أَمْ لَمْ يَفْطِنُوا لَهَا فَقُلْتُ أَخْبِرْنِي عَنْهَا وَعَنْ اللَّاتِي قَرَأْتَ قَبْلَهَا قَالَ نَعَمْ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِقُرَيْشٍ يَا مَعْشَرَ قُرَيْشٍ إِنَّهُ لَيْسَ أَحَدٌ يُعْبَدُ مِنْ دُونِ اللَّهِ فِيهِ خَيْرٌ وَقَدْ عَلِمَتْ قُرَيْشٌ أَنَّ النَّصَارَي تَعْبُدُ عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ وَمَا تَقُولُ فِي مُحَمَّدٍ فَقَالُوا يَا مُحَمَّدُ أَلَسْتَ تَزْعُمُ أَنَّ عِيسَى كَانَ نَبِيًّا وَعَبْدًا مِنْ عِبَادِ اللَّهِ صَالِحًا فَلَئِنْ كُنْتَ صَادِقًا فَإِنَّ آلِهَتَهُمْ لَكَمَا تَقُولُونَ قَالَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ وَلَمَّا ضُرِبَ ابْنُ مَرْيَمَ مَثَلًا إِذَا قَوْمُكَ مِنْهُ يَصِدُّونَ قَالَ قُلْتُ مَا يَصِدُّونَ قَالَ يَضِجُّونَ وَإِنَّهُ لَعِلْمٌ لِلسَّاعَةِ قَالَ هُوَ خُرُوجُ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ عَلَيْهِ السَّلَام قَبْلَ يَوْمِ الْقِيَامَةِ


হজরত আবু ইয়াহিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একবার হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “আমি কোরানের এমন একটি আয়াত শিখেছি, যেটি সম্পর্কে কোনো মানুষ আমাকে কখনও জিজ্ঞাসা করেনি। আর আমি জানি না যে, লোকেরা এটি সম্পর্কে কি জানতো, অথবা তারা এটি সম্পর্কে অবগত আছে কিনা, তাই তারা এটা সম্পর্কে আমাকে কখনও জিজ্ঞাসা করেনি।” তারপর তিনি আমাদের সাথে কথা বলতে শুরু করলেন, এবং যখন তিনি চলে যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ালেন, তখন আমরা আফসোস করলাম যে, আমরা তাকে এটি সম্পর্কে কোনো জিজ্ঞাসা করিনি। আমি বললাম, কাল দেখা হলে আমি তাকে জিজ্ঞেস করবো। পরের দিন এলে আমি বললাম, “হে ইবনে আব্বাস, গতকাল তুমি বলেছিলে যে, কোরানে এমন একটি আয়াত আছে যেটা সম্পর্কে কোন মানুষ তোমাকে কখনও জিজ্ঞেস করেনি, এবং তুমি জানো না যে লোকেরা এটি সম্পর্কে জানতো কি না, তাই জিজ্ঞেসও করেনি। অথবা তারা এটি সম্পর্কে সচেতন ছিলো না।” আমি বললাম, “আমাকে এ সম্পর্কে এবং এর পূর্ববর্তী আয়াত সম্পর্কে বলুন।” তিনি বললেন, “হ্যাঁ। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরাইশদেরকে বললেন, ‘হে কুরাইশগণ, আল্লাহর পরিবর্তে যার ইবাদত করা হয়, তার মধ্যে কোন কল্যাণ নেই।’ কুরাইশরা জানতো যে, খ্রিস্টানরা ঈসা ইবনে মরিয়মের উপাসনা করে, তাই তারা বললো, ‘হে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আপনি কি বলেননি যে, ঈসা একজন নবী এবং আল্লাহর সৎ বান্দাদের একজন ছিলেন? আপনি যদি সত্য বলে থাকেন, তাহলে তো ঈসাও তাদের উপাস্য হয়ে গোলো’।” তখন আল্লাহ তাআলা এই আয়াত নাজিল করলেন,
۞وَلَمَّا ضُرِبَ ٱبۡنُ مَرۡيَمَ مَثَلًا إِذَا قَوۡمُكَ مِنۡهُ يَصِدُّونَ٥٧
যখনই মারইয়ামের পুত্রের দৃষ্টান্ত বর্ণনা করা হলো, তখনই আপনার জাতি শোরগোল শুরু করে দিলো। (৪৩. আয যুখরুফ : ৫৭)
وَإِنَّهُۥ لَعِلۡمٞ لِّلسَّاعَةِ فَلَا تَمۡتَرُنَّ بِهَا وَٱتَّبِعُونِۚ هَٰذَا صِرَٰطٞ مُّسۡتَقِيمٞ٦١
নিশ্চয় ঈসা হচ্ছেন কিয়ামতের একটি নিদর্শন। সুতরাং তোমরা কিয়ামত সম্পর্কে সন্দেহ করো না আর তোমরা আমাকে মেনে চলো। এটিই হচ্ছে সরল পথ। (৪৩. আয যুখরুফ : ৬১)

আমি বললাম, “ يَصِدُّونَ (জোরে কান্না) মানে কি?” তিনি বললেন, “আওয়াজ করা।” আমি বললাম, “ لَعِلۡمٞ (পরিচিত একটি নিদর্শন) মানে কি?” তিনি বললেন, “এটা কেয়ামতের পূর্বে ঈসা ইবনে মারইয়ামের আবির্ভাব।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৭৬৯]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2770 OK
View Quran

(২৭৭০)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ حَدَّثَنَا شَهْرٌ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ قَالَ بَيْنَمَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِفِنَاءِ بَيْتِهِ بِمَكَّةَ جَالِسٌ إِذْ مَرَّ بِهِ عُثْمَانُ بْنُ مَظْعُونٍ فَكَشَرَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَلَا تَجْلِسُ قَالَ بَلَى قَالَ فَجَلَسَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُسْتَقْبِلَهُ فَبَيْنَمَا هُوَ يُحَدِّثُهُ إِذْ شَخَصَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِبَصَرِهِ إِلَى السَّمَاءِ فَنَظَرَ سَاعَةً إِلَى السَّمَاءِ فَأَخَذَ يَضَعُ بَصَرَهُ حَتَّى وَضَعَهُ عَلَى يَمِينِهِ فِي الْأَرْضِ فَتَحَرَّفَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ جَلِيسِهِ عُثْمَانَ إِلَى حَيْثُ وَضَعَ بَصَرَهُ وَأَخَذَ يُنْغِضُ رَأْسَهُ كَأَنَّهُ يَسْتَفْقِهُ مَا يُقَالُ لَهُ وَابْنُ مَظْعُونٍ يَنْظُرُ فَلَمَّا قَضَى حَاجَتَهُ وَاسْتَفْقَهَ مَا يُقَالُ لَهُ شَخَصَ بَصَرُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى السَّمَاءِ كَمَا شَخَصَ أَوَّلَ مَرَّةٍ فَأَتْبَعَهُ بَصَرَهُ حَتَّى تَوَارَى فِي السَّمَاءِ فَأَقْبَلَ إِلَى عُثْمَانَ بِجِلْسَتِهِ الْأُولَى قَالَ يَا مُحَمَّدُ فِيمَ كُنْتُ أُجَالِسُكَ وَآتِيكَ مَا رَأَيْتُكَ تَفْعَلُ كَفِعْلِكَ الْغَدَاةَ قَالَ وَمَا رَأَيْتَنِي فَعَلْتُ قَالَ رَأَيْتُكَ تَشْخَصُ بِبَصَرِكَ إِلَى السَّمَاءِ ثُمَّ وَضَعْتَهُ حَيْثُ وَضَعْتَهُ عَلَى يَمِينِكَ فَتَحَرَّفْتَ إِلَيْهِ وَتَرَكْتَنِي فَأَخَذْتَ تُنْغِضُ رَأْسَكَ كَأَنَّكَ تَسْتَفْقِهُ شَيْئًا يُقَالُ لَكَ قَالَ وَفَطِنْتَ لِذَاكَ قَالَ عُثْمَانُ نَعَمْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَتَانِي رَسُولُ اللَّهِ آنِفًا وَأَنْتَ جَالِسٌ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ قَالَ نَعَمْ قَالَ فَمَا قَالَ لَكَ قَالَ إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنْ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ وَالْبَغْيِ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ قَالَ عُثْمَانُ فَذَلِكَ حِينَ اسْتَقَرَّ الْإِيمَانُ فِي قَلْبِي وَأَحْبَبْتُ مُحَمَّدًا


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর মক্কার বাড়ির আঙ্গিনায় বসা ছিলেন। তখন হজরত উসমান ইবনে মাযউন রাদিয়াল্লাহু আনহু সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বলেন, “তুমি কি আমার পাশে বসবে না?” হজরত উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বললো, “হাঁ।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার দিকে মুখ করে বসলেন। তিনি তার সাথে কথা বলছিলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আকাশের দিকে দৃষ্টি তুললেন এবং আকাশের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলেন। তারপর দৃষ্টি নামিয়ে তাঁর ডানদিকে মাটির দিকে তাকালেন। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর অবস্থান পরিবর্তন করলেন। উসমানের কাছ থেকে সেই স্থানের দিকে সরে গেলেন যে দিকে তিনি দৃষ্টি নিচু করেছিলেন এবং তিনি মাথা নাড়তে লাগলেন, কারণ তাঁকে যা বলা হচ্ছে তা তিনি বোঝার চেষ্টা করছেন। হজরত উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর দিকে তাকিয়ে ছিলেন। যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কথা বলে শেষ করলেন এবং তাকে যা বলা হয়েছিল তা বুঝতে পারলেন, তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আকাশের দিকে তাকালেন, যেমন তিনি প্রথমবা তা করেছিলেন, তিনি তাঁর দৃষ্টি দিয়ে কিছু অনুসরণ করলেন, যতক্ষণ না তা আকাশে অদৃশ্য হয়ে যায়। অতঃপর তিনি উসমানের দিকে মুখ ফিরিয়ে বসলেন এবং তিনি যেভাবে বসেছিলেন সেভাবে বসলেন। হজরত উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বললো, “হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমি এর আগেও আপনার সাথে বসেছি এবং কথা বলেছি, কিন্তু আপনি এখন যা করেছেন, তা আপনাকে এর আগে কখনও করতে দেখিনি।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তুমি আমাকে কি করতে দেখেছে?” হজরত উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বললো, “আমি আপনাকে আপনার দৃষ্টি আকাশের দিকে তুলতে দেখলাম, তারপর আপনি আপনার ডান দিকে তাকাতে থাকলেন, অতঃপর আপনি এমনভাবে মাথা নাড়তে লাগলেন, যেনো আপনি কিছু বোঝার চেষ্টা করছেন, যা আপনাকে বলা হচ্ছিলো।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তুমি কি তা লক্ষ্য করছো?” হজরত উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বললো, “হ্যা।” রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তুমি যখন এখানে বসে আছো, ঠিক তখনই আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন দূত আমার কাছে এসেছিলেন।” হজরত উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বললো, “আল্লাহর দূত?” রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “হ্যাঁ।” হজরত উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু জিজ্ঞেস করলো, “তিনি আপনাকে কি বলেছেন?” তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই আয়াতটি পাঠ করলেন,
۞إِنَّ ٱللَّهَ يَأۡمُرُ بِٱلۡعَدۡلِ وَٱلۡإِحۡسَٰنِ وَإِيتَآيِٕ ذِي ٱلۡقُرۡبَىٰ وَيَنۡهَىٰ عَنِ ٱلۡفَحۡشَآءِ وَٱلۡمُنكَرِ وَٱلۡبَغۡيِۚ يَعِظُكُمۡ لَعَلَّكُمۡ تَذَكَّرُونَ٩٠
নিশ্চয় আল্লাহ ন্যায় বিচারের, সৎআচরণের আর নিকট আত্মীয়কে দান করার আদেশ দেন। আর আল্লাহ অশ্লীলতা, অসৎ কাজ ও অবাধ্যতা থেকে নিষেধ করেন। আল্লাহ তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছেন, যেনো তোমরা স্মরণ রাখো। (১৬. আন নাহল : ৯০)
এখানে যা বুঝানো হয়েছে,
بِٱلۡعَدۡلِ অর্থাৎ ন্যায় বিচারের
وَٱلۡإِحۡسَٰنِ অর্থাৎ একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কারো ইবাদত না করার ও ইসলামী একত্ববাদের নির্দেশ দান। সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে এবং রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ (আইন পদ্ধতি) অনুযায়ী নিখুঁতভাবে আল্লাহর প্রতি দায়িত্ব পালনে ধৈর্য ধারণ করা।
بِٱلۡعَدۡلِ অর্থাৎ আত্মীয়-স্বজনদের আল্লাহর সমস্ত কিছু দিয়ে সাহায্য করা। যেমন, ধন-সম্পদ, পরিদর্শন, তাদের দেখাশোনা, বা অন্য কোন ধরনের সাহায্য।
ٱلۡفَحۡشَآءِ অর্থাৎ সমস্ত খারাপ কাজ, যেমন অবৈধ যৌনকর্ম, পিতামাতার অবাধ্যতা, শিরক, মিথ্যা বলা, মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া, অধিকারহীন জীবনকে হত্যা করা।
وَٱلۡمُنكَرِ অর্থাৎ, ইসলামী আইন দ্বারা নিষিদ্ধ সমস্ত: সমস্ত ধরণের শিরক, কুফর এবং সমস্ত ধরণের খারাপ কাজ।
وَٱلۡبَغۡيِۚ অর্থাৎ, সব ধরনের অত্যাচার।

হজরত উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “এটা তখনকার কথা যখন ঈমান আমার অন্তরে ঠাঁই করে নিয়েছে এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আমি ভালোবাসতে শুরু করেছি।”

[মুসনাদে আহমাদ : ২৭৭০]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2771 OK

(২৭৭১)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ حَدَّثَنَا شَهْرٌ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِكُلِّ نَبِيٍّ حَرَمٌ وَحَرَمِي الْمَدِينَةُ اللَّهُمَّ إِنِّي أُحَرِّمُهَا بِحُرَمِكَ أَنْ لَا يُؤْوَى فِيهَا مُحْدِثٌ وَلَا يُخْتَلَى خَلَاهَا وَلَا يُعْضَدُ شَوْكُهَا وَلَا تُؤْخَذُ لُقَطَتُهَا إِلَّا لِمُنْشِدٍ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “প্রত্যেক নবীরই একটি পবিত্র স্থান ছিলো এবং আমার পবিত্র স্থান হলো মদীনা। হে আল্লাহ! আমি তোমার কর্তৃত্বে মদিনাকে তোমার পবিত্র স্থান মক্কার মতো পবিত্র স্থান ঘোষণা করছি। এখানে কোনো অন্যায়কারীকে আশ্রয় দেওয়া যাবে না, এখানে কোনো ঘাস কাটা যাবে না, এখানে কোনো কাঁটাও ভাঙা যাবে না এবং এখানে পড়ে থাকা কোনো কিছুই তুলে নেওয়া যাবে না, একমাত্র যে ঘোষণা করতে পারে সে ছাড়া।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৭৭১]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2772 OK

(২৭৭২)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ حَدَّثَنَا شَهْرٌ قَالَ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّمَا رَجُلٍ ادَّعَى إِلَى غَيْرِ وَالِدَيْهِ أَوْ تَوَلَّى غَيْرَ مَوَالِيهِ الَّذِينَ أَعْتَقُوهُ فَإِنَّ عَلَيْهِ لَعْنَةَ اللَّهِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ لَا يُقْبَلُ مِنْهُ صَرْفٌ وَلَا عَدْلٌ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি তার পিতা ছাড়া, অন্য কাউকে তার পিতা বলা শুরু করে অথবা যে দাস নিজেকে তার পূর্ববর্তী প্রভুকে ছাড়া, অন্য কারোর অধিকারী বলে দাবী করে, তার উপর আল্লাহ, ফেরেশতা ও সকল মানুষের অভিশাপ। কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তার কোনো ফরজ বা নফল ইবাদত কবুল করবেন না।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৭৭২]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2773 OK
View Quran

(২৭৭৩)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ حَدَّثَنِي شَهْرٌ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ نُهِيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ أَصْنَافِ النِّسَاءِ إِلَّا مَا كَانَ مِنْ الْمُؤْمِنَاتِ الْمُهَاجِرَاتِ قَالَ لَا يَحِلُّ لَكَ النِّسَاءُ مِنْ بَعْدُ وَلَا أَنْ تَبَدَّلَ بِهِنَّ مِنْ أَزْوَاجٍ وَلَوْ أَعْجَبَكَ حُسْنُهُنَّ إِلَّا مَا مَلَكَتْ يَمِينُكَ وَأَحَلَّ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فَتَيَاتِكُمْ الْمُؤْمِنَاتِ وَامْرَأَةً مُؤْمِنَةً إِنْ وَهَبَتْ نَفْسَهَا لِلنَّبِيِّ وَحَرَّمَ كُلَّ ذَاتِ دِينٍ غَيْرَ دِينِ الْإِسْلَامِ قَالَ وَمَنْ يَكْفُرْ بِالْإِيمَانِ فَقَدْ حَبِطَ عَمَلُهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنْ الْخَاسِرِينَ وَقَالَ يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَحْلَلْنَا لَكَ أَزْوَاجَكَ اللَّاتِي آتَيْتَ أُجُورَهُنَّ وَمَا مَلَكَتْ يَمِينُكَ إِلَى قَوْلِهِ خَالِصَةً لَكَ مِنْ دُونِ الْمُؤْمِنِينَ وَحَرَّمَ سِوَى ذَلِكَ مِنْ أَصْنَافِ النِّسَاءِ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মুমিন ও মুহাজিরা নারী ব্যতীত সকল প্রকার নারীকে বিবাহ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো। যেমনটি কুরআনে বলা হয়েছে যে,
يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّبِيُّ إِنَّآ أَحۡلَلۡنَا لَكَ أَزۡوَٰجَكَ ٱلَّٰتِيٓ ءَاتَيۡتَ أُجُورَهُنَّ وَمَا مَلَكَتۡ يَمِينُكَ مِمَّآ أَفَآءَ ٱللَّهُ عَلَيۡكَ وَبَنَاتِ عَمِّكَ وَبَنَاتِ عَمَّٰتِكَ وَبَنَاتِ خَالِكَ وَبَنَاتِ خَٰلَٰتِكَ ٱلَّٰتِي هَاجَرۡنَ مَعَكَ وَٱمۡرَأَةٗ مُّؤۡمِنَةً إِن وَهَبَتۡ نَفۡسَهَا لِلنَّبِيِّ إِنۡ أَرَادَ ٱلنَّبِيُّ أَن يَسۡتَنكِحَهَا خَالِصَةٗ لَّكَ مِن دُونِ ٱلۡمُؤۡمِنِينَۗ قَدۡ عَلِمۡنَا مَا فَرَضۡنَا عَلَيۡهِمۡ فِيٓ أَزۡوَٰجِهِمۡ وَمَا مَلَكَتۡ أَيۡمَٰنُهُمۡ لِكَيۡلَا يَكُونَ عَلَيۡكَ حَرَجٞۗ وَكَانَ ٱللَّهُ غَفُورٗا رَّحِيمٗا٥٠
হে প্রিয় নবী! নিশ্চয় আমি আপনার জন্যে আপনার স্ত্রীগণকে বৈধ করেছি, যাদেরকে আপনি তাদের দেনমোহর প্রদান করেছেন। আর যাদেরকে আল্লাহ আপনাকে যুদ্ধের দানরূপে দিয়েছেন, আপনার এমন দাসীদেরকে আমি আপনার জন্যে বৈধ করেছি। আর আমি আপনার বিবাহের জন্যে বৈধ করেছি আপনার চাচাতো বোন, ফুফাতো বোন, মামাতো বোন, খালাতো বোনকে, যারা আপনার সঙ্গে দেশ ত্যাগ করেছে। আর কোনো বিশ্বাসী নারী যদি নিজেকে স্বেচ্ছায় নবীর কাছে সমর্পন করে আর নবীও যদি চান যে, তাকে বিবাহ করতে, তবে সে নারীও নবীর জন্যে কোনো দেনমোহর ছাড়াই বৈধ করা হলো। এটা বিশেষ ভাবে আপনার জন্যেই প্রযোজ্য, অন্য বিশ্বাসীদের জন্যে প্রযোজ্য নয়। আমি অবশ্যই জানি বিশ্বাসীদের স্ত্রী ও বিশ্বাসীদের দাসীদের ব্যাপারে আমি কী বিধান দিয়েছি। আমি আপনাকে ব্যতিক্রম রেখেছি যেনো আপনার উপরে কোনো অসুবিধা না থাকে। আল্লাহ হচ্ছেন ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু। (৩৩. আল আহযাব : ৫০)
لَّا يَحِلُّ لَكَ ٱلنِّسَآءُ مِنۢ بَعۡدُ وَلَآ أَن تَبَدَّلَ بِهِنَّ مِنۡ أَزۡوَٰجٖ وَلَوۡ أَعۡجَبَكَ حُسۡنُهُنَّ إِلَّا مَا مَلَكَتۡ يَمِينُكَۗ وَكَانَ ٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ رَّقِيبٗا٥٢
এদের পরে আপনার জন্যে অন্য কোনো নারী বৈধ নয়। আর তাদের পরিবর্তে অন্য কোনো স্ত্রী গ্রহণ করাও বৈধ নয়, যদিও তাদের সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করে, তবে আপনার দাসীদের ব্যাপারে কোনো অপরাধ হবে না। আল্লাহ হচ্ছেন সব কিছুর উপরে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিশীল। (৩৩. আল আহযাব : ৫২)
ٱلۡيَوۡمَ أُحِلَّ لَكُمُ ٱلطَّيِّبَٰتُۖ وَطَعَامُ ٱلَّذِينَ أُوتُواْ ٱلۡكِتَٰبَ حِلّٞ لَّكُمۡ وَطَعَامُكُمۡ حِلّٞ لَّهُمۡۖ وَٱلۡمُحۡصَنَٰتُ مِنَ ٱلۡمُؤۡمِنَٰتِ وَٱلۡمُحۡصَنَٰتُ مِنَ ٱلَّذِينَ أُوتُواْ ٱلۡكِتَٰبَ مِن قَبۡلِكُمۡ إِذَآ ءَاتَيۡتُمُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ مُحۡصِنِينَ غَيۡرَ مُسَٰفِحِينَ وَلَا مُتَّخِذِيٓ أَخۡدَانٖۗ وَمَن يَكۡفُرۡ بِٱلۡإِيمَٰنِ فَقَدۡ حَبِطَ عَمَلُهُۥ وَهُوَ فِي ٱلۡأٓخِرَةِ مِنَ ٱلۡخَٰسِرِينَ٥
আজ পবিত্র বস্তু সমূহ তোমাদের জন্যে বৈধ করা হলো। যাদেরকে গ্রন্থ দেওয়া হয়েছে তাদের খাদ্য তোমাদের জন্যে বৈধ এবং তোমাদের খাদ্যও তাদের জন্যে বৈধ। বিশ্বাসীদের মধ্যে হতে সতী নারী আর তোমাদের আগে যাদেরকে গ্রন্থ দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে হতে সতী নারীও তোমাদের জন্যে বৈধ, যখন তোমরা তাদের মহরানা আদায় করো বিবাহ বন্ধনের জন্যে, ব্যভিচারের জন্যে নয় ও গুপ্ত প্রেমিকা গ্রহণকারী হিসেবেও নয়। যে কেউ বিশ্বাসের বিষয় অবিশ্বাস করে, তাহলে অবশ্যই সে তার যাবতীয় কর্ম ব্যর্থ করেছে আর সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (৫. আল মায়েদাহ : ৫) [মুসনাদে আহমাদ : ২৭৭৩]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2774 OK

(২৭৭৪)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ حَدَّثَنَا شَهْرٌ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَطَبَ امْرَأَةً مِنْ قَوْمِهِ يُقَالُ لَهَا سَوْدَةُ وَكَانَتْ مُصْبِيَةً كَانَ لَهَا خَمْسَةُ صِبْيَةٍ أَوْ سِتَّةٌ مِنْ بَعْلٍ لَهَا مَاتَ فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا يَمْنَعُكِ مِنِّي قَالَتْ وَاللَّهِ يَا نَبِيَّ اللَّهِ مَا يَمْنَعُنِي مِنْكَ أَنْ لَا تَكُونَ أَحَبَّ الْبَرِيَّةِ إِلَيَّ وَلَكِنِّي أُكْرِمُكَ أَنْ يَضْغُوَ هَؤُلَاءِ الصِّبْيَةَ عِنْدَ رَأْسِكَ بُكْرَةً وَعَشِيَّةً قَالَ فَهَلْ مَنَعَكِ مِنِّي شَيْءٌ غَيْرُ ذَلِكَ قَالَتْ لَا وَاللَّهِ قَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَرْحَمُكِ اللَّهُ إِنَّ خَيْرَ نِسَاءٍ رَكِبْنَ أَعْجَازَ الْإِبِلِ صَالِحُ نِسَاءِ قُرَيْشٍ أَحْنَاهُ عَلَى وَلَدٍ فِي صِغَرٍ وَأَرْعَاهُ عَلَى بَعْلٍ بِذَاتِ يَدٍ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সম্প্রদায়ের একজন মহিলার কাছে বিবাহের বার্তা পাঠালেন, যার নাম সাওদা ছিলো। তার স্বামী মারা গিয়েছিলো ও তার পাঁচ বা ছয়টি সন্তান ছিলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, “আমাকে বিয়ে করতে তোমাকে কিসে বাধা দিচ্ছে?” সে বললো, “আল্লাহর কসম, হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেটি আমাকে আপনার সাথে বিয়ে করতে বাধা দিচ্ছে, তা এই নয় যে, আপনি আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় মানুষ নন, তবে আমি চাই না যে এই শিশুরা সকাল-সন্ধ্যা আপনার মাথার কাছে কান্নার আওয়াজ করুক।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আর কিছু কি তোমাকে আমাকে বিয়ে করতে বাধা দিচ্ছে?” সে বললো, “না, আল্লাহর কসম।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, “আল্লাহ তোমার প্রতি রহম করুন; সর্বোত্তম নারী যারা উটে চড়েছে, তারা হলেন কুরাইশের সৎ নারী। তারা শৈশবে তাদের সন্তানদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু এবং তারা তাদের স্বামীর সম্পদের সর্বোত্তম যত্ন নেয়।”

[টীকাঃ এখানে যে সাওদার কথা বলা হয়েছে, সে ভিন্ন একজন মহিলা, সে উম্মুল মুমিনীন হযরত সাওদা বিনতে জামআহ রাদিয়াল্লাহু আনহু নন।] [মুসনাদে আহমাদ : ২৭৭৪]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2775 OK
View Quran

(২৭৭৫)

সহিহ হাদিস

و قَالَ جَلَسَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَجْلِسًا لَهُ فَأَتَاهُ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَام فَجَلَسَ بَيْنَ يَدَيْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاضِعًا كَفَّيْهِ عَلَى رُكْبَتَيْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ حَدِّثْنِي مَا الْإِسْلَامُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْإِسْلَامُ أَنْ تُسْلِمَ وَجْهَكَ لِلَّهِ وَتَشْهَدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ قَالَ فَإِذَا فَعَلْتُ ذَلِكَ فَأَنَا مُسْلِمٌ قَالَ إِذَا فَعَلْتَ ذَلِكَ فَقَدْ أَسْلَمْتَ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَحَدِّثْنِي مَا الْإِيمَانُ قَالَ الْإِيمَانُ أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّينَ وَتُؤْمِنَ بِالْمَوْتِ وَبِالْحَيَاةِ بَعْدَ الْمَوْتِ وَتُؤْمِنَ بِالْجَنَّةِ وَالنَّارِ وَالْحِسَابِ وَالْمِيزَانِ وَتُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ كُلِّهِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ قَالَ فَإِذَا فَعَلْتُ ذَلِكَ فَقَدْ آمَنْتُ قَالَ إِذَا فَعَلْتَ ذَلِكَ فَقَدْ آمَنْتَ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ حَدِّثْنِي مَا الْإِحْسَانُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْإِحْسَانُ أَنْ تَعْمَلَ لِلَّهِ كَأَنَّكَ تَرَاهُ فَإِنَّكَ إِنْ لَمْ تَرَهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَحَدِّثْنِي مَتَى السَّاعَةُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُبْحَانَ اللَّهِ فِي خَمْسٍ مِنْ الْغَيْبِ لَا يَعْلَمُهُنَّ إِلَّا هُوَ إِنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ مَاذَا تَكْسِبُ غَدًا وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ بِأَيِّ أَرْضٍ تَمُوتُ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ وَلَكِنْ إِنْ شِئْتَ حَدَّثْتُكَ بِمَعَالِمَ لَهَا دُونَ ذَلِكَ قَالَ أَجَلْ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَحَدِّثْنِي قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا رَأَيْتَ الْأَمَةَ وَلَدَتْ رَبَّتَهَا أَوْ رَبَّهَا وَرَأَيْتَ أَصْحَابَ الشَّاءِ تَطَاوَلُوا بِالْبُنْيَانِ وَرَأَيْتَ الْحُفَاةَ الْجِيَاعَ الْعَالَةَ كَانُوا رُءُوسَ النَّاسِ فَذَلِكَ مِنْ مَعَالِمِ السَّاعَةِ وَأَشْرَاطِهَا قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَنْ أَصْحَابُ الشَّاءِ وَالْحُفَاةُ الْجِيَاعُ الْعَالَةُ قَالَ الْعَرَبُ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লোকদের সঙ্গে তাঁর একটি মজলিসে বসেছিলেন। এমন সময় হজরত জিবরীল (আঃ) তাঁর কাছে এসে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাঁটুর উপর তার হাত রেখে বসলো। হজরত জিবরীল (আঃ) জিজ্ঞেস করলো, “হে আল্লাহর রাসূলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমাকে ইসলাম সম্পর্কে বলুন।” রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “ইসলাম হলো, তোমার মুখ আল্লাহর দিকে ফেরানো, সাক্ষ্য দেওয়া যে, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তার কোনো শরীক নেই এবং সাক্ষ্য দেওয়া যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর বান্দা ও রসুল। আল্লাহর ইবাদাত করবে ও তাঁর সঙ্গে অন্য কাউকে শরীক করবে না এবং সলাত কায়িম করবে, ফারয যাকাত দিবে ও রমাযানের সিয়াম পালন করবে।” হজরত জিবরীল (আঃ) জিজ্ঞেস করলো, “যদি আমি তা করি, তাহলে কি আমি মুসলমান হয়ে যাবো?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তুমি যদি তা করো, তাহলে তুমি মুসলমান হয়ে যাবে।” হজরত জিবরীল (আঃ) জিজ্ঞেস করলো, “ঈমান কী?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে এবং তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর নবী-রসূলগণের প্রতি ঈমান আনবে এবং আল্লাহর দর্শন ও পুনরুত্থানের ওপর ঈমান আনবে।” হজরত জিবরীল (আঃ) জিজ্ঞেস করলো, “ইহ্সান কী?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “ইহ্সান হচ্ছে আল্লাহর ইবাদাত এমন নিষ্ঠার সঙ্গে করবে, যেনো তুমি তাঁকে দেখছো। আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও, তবে জানবে আল্লাহ তোমাকে দেখছেন।” হজরত জিবরীল (আঃ) জিজ্ঞেস করলো, “হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! কখন ক্বিয়ামাত ঘটবে?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “সুবহানাল্লাহ, গায়েবের এমন পাঁচটি বিষয় রয়েছে, যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।” এরপর তিনি এই আয়াত পাঠ করলেন,
إِنَّ ٱللَّهَ عِندَهُۥ عِلۡمُ ٱلسَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ ٱلۡغَيۡثَ وَيَعۡلَمُ مَا فِي ٱلۡأَرۡحَامِۖ وَمَا تَدۡرِي نَفۡسٞ مَّاذَا تَكۡسِبُ غَدٗاۖ وَمَا تَدۡرِي نَفۡسُۢ بِأَيِّ أَرۡضٖ تَمُوتُۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرُۢ٣٤
নিশ্চয় কেবল মাত্র আল্লাহর কাছেই কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে। তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন ও মায়ের গর্ভাশয়ের মধ্যে যা আছে, তিনি তা জানেন। কেউ জানে না যে, আগামীকাল সে কী উপার্জন করবে। আর কেউ জানে না যে, কোন দেশে সে মারা যাবে। নিশ্চয় আল্লাহ হচ্ছেন সর্বজ্ঞ, পূর্ণ অবগত। (৩১. লোকমান : ৩৪)

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বললেন, “এ ব্যাপারে প্রশ্নকারীর চেয়ে যাকে প্রশ্ন করা হয়েছে, সে অধিক জানে না। তবে আমি তোমার কাছে এর কতগুলো নিদর্শন বলছি। তা হলো, যখন দাসী তার মনিবকে জন্ম দিবে, এটা তার একটি নিদর্শন। আর যখন তুমি দেখবে যে, নগ্নপদ ও নগ্নদেহ বিশিষ্ট ক্ষুধার্ত আশ্রিত রাখালরা মানুষের নেতা হবে, এও তার একটি নিদর্শন।” হজরত জিবরীল (আঃ) জিজ্ঞেস করলো, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, নগ্নপদ ও নগ্নদেহ বিশিষ্ট ক্ষুধার্ত আশ্রিত রাখালরা কারা?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আরবরা।” আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে আরো বর্ণিত আছে যে, এরপরে হজরত জিবরীল (আঃ) চলে গেলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তাকে আমার নিকট ফিরিয়ে আনো।” সহাবীগণ তাঁকে ফিরিয়ে আনতে গেলেন, কিন্তু কিছুই দেখতে পেলেন না। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তিনি হলেন হজরত জিবরীল (আঃ) লোকেদেরকে ইসলাম শিক্ষা দেওয়ার জন্যে এসেছিলেন। ” [মুসনাদে আহমাদ : ২৭৭৫]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2776 OK

(২৭৭৬)

হাদিস দেখুন [৩১:২২১৩] view_link


হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ عَبْد اللَّهِ بْن أَحْمَد وَسَمِعْتُهُ أَنَا مِنْهُ قَالَ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنْ لَيْثِ بْنِ أَبِي سُلَيْمٍ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَفَاءَلُ وَلَا يَتَطَيَّرُ وَيُعْجِبُهُ الِاسْمُ الْحَسَنُ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সৌভাগ্য গ্রহণ করতেন, সন্দেহ পোষণ করতেন না এবং ভালো নাম পছন্দ করতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২৭৭৬]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



2777 OK

(২৭৭৭)

হাদিস দেখুন [৩১:২৩৩৪] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ وَأَبُو نُعَيْمٍ قَالَا حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ سِمَاكٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ فِي قَوْلِهِ عَزَّ وَجَلَّ كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنْ الْمُنْكَرِ قَالَ هُمْ الَّذِينَ هَاجَرُوا مَعَ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى الْمَدِينَةِ قَالَ أَبُو نُعَيْمٍ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

كُنتُمۡ خَيۡرَ أُمَّةٍ أُخۡرِجَتۡ لِلنَّاسِ تَأۡمُرُونَ بِٱلۡمَعۡرُوفِ وَتَنۡهَوۡنَ عَنِ ٱلۡمُنكَرِ وَتُؤۡمِنُونَ بِٱللَّهِۗ وَلَوۡ ءَامَنَ أَهۡلُ ٱلۡكِتَٰبِ لَكَانَ خَيۡرٗا لَّهُمۚ مِّنۡهُمُ ٱلۡمُؤۡمِنُونَ وَأَكۡثَرُهُمُ ٱلۡفَٰسِقُونَ١١٠
তোমরা হচ্ছো এক শ্রেষ্ঠ জাতি, পৃথিবীতে তোমাদেরকে মানব জাতির জন্যে বের করা হয়েছে, যেনো তোমরা মানুষকে ন্যায়ভাবে নির্দেশ দাও, অন্যায় কাজ থেকে নিষেধ করো আর আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করো। গ্রন্থপ্রাপ্তরাও যদি আল্লাহর প্রতি তোমাদের বিশ্বাস করার মতো বিশ্বাস করতো, তবে তাদের জন্যে এটাই ভালো হতো! তাদের মধ্যে অনেকেই বিশ্বাসী, কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিপর্যয় সৃষ্টিকারী। (৩. আল ইমরান : ১১০)

এই আয়াতের দৃষ্টান্ত হলো সেই সমস্ত লোক, যারা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে মদীনায় হিজরত করেছিলো।

[মুসনাদে আহমাদ : ২৭৭৭]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2778 OK

(২৭৭৮)

হাদিস দেখুন [৩১:২০১১] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَزِيدُ أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ خَالِدٍ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ ذُؤَيْبٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ عَلَيْهِمْ وَهُمْ جُلُوسٌ فَقَالَ أَلَا أُحَدِّثُكُمْ بِخَيْرِ النَّاسِ مَنْزِلَةً فَقَالُوا بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ رَجُلٌ مُمْسِكٌ بِعِنَانِ فَرَسِهِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ حَتَّى يَمُوتَ أَوْ يُقْتَلَ أَفَأُخْبِرُكُمْ بِالَّذِي يَلِيهِ قَالُوا نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ امْرُؤٌ مُعْتَزِلٌ فِي شِعْبٍ يُقِيمُ الصَّلَاةَ وَيُؤْتِي الزَّكَاةَ وَيَعْتَزِلُ شُرُورَ النَّاسِ أَفَأُخْبِرُكُمْ بِشَرِّ النَّاسِ مَنْزِلَةً قَالُوا نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ الَّذِي يُسْأَلُ بِاللَّهِ وَلَا يُعْطِي بِهِ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের কাছে বের হয়ে আসলেন, যখন তারা বসা ছিলো এবং বললেন, “আমি কি তোমাদেরকে বলবো না যে, মানুষের মধ্যে কার অবস্থান সবচেয়ে ভালো?” তারা বললো, “হ্যাঁ, হে আল্লাহর রসুল।” তিনি বললেন, “যে ব্যক্তি তার ঘোড়ার মাথা ধরে আল্লাহর রাস্তায় বের হয়, যতক্ষণ না সে মারা যায় বা শহীদ হয়।” তারপর তিনি বললেন, “আমি কি তোমাদেরকে তার পরের লোকটির ঠিকানা বলবো না?” তারা বললো, “হ্যাঁ, হে আল্লাহর রসুল।” তিনি বললেন, “যে ব্যক্তি উপত্যকায় লোকদের থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকে, সালাত কায়েম করে এবং যাকাত প্রদান করে, মানুষের মন্দ থেকে দূরে থাকে (অর্থাৎ, খারাপ লোকদের থেকে দূরে থাকে)। এবং আমি কি তোমাদেরকে সবচেয়ে খারাপ লোকদের সম্পর্কে বলবো না?” তারা বললো, “হ্যাঁ, হে আল্লাহর রসুল।” তিনি বললেন, “যে ব্যক্তিকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দান করার জন্য অনুরোধ করা হয়, কিন্তু সে কিছুই দেয় না।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৭৭৮]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2779 OK

(২৭৭৯)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَبَّاسٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُعْطِي الْمَرْأَةَ وَالْمَمْلُوكَ مِنْ الْغَنَائِمِ مَا يُصِيبُ الْجَيْشَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেনাবাহিনীর গনীমতের অংশ নারী ও ক্রীত দাসদেরকে দিতেন। নিয়মিত সৈন্যদেরকে যা দিতেন তা থেকে কিছু কম অংশ নারী ও ক্রীত দাসদেরকে দিতেন। গনীমতের অংশ ছাড়াও অন্যান্য সম্পদ তাদের মধ্যে ভাগ করে দিতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২৭৭৯]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2780 OK

(২৭৮০)

হাদিস দেখুন [৩১:২৭৭৯] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَبَّاسٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُعْطِي الْمَرْأَةَ وَالْمَمْلُوكَ مِنْ الْغَنَائِمِ مَا يُصِيبُ الْجَيْشَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেনাবাহিনীর গনীমতের অংশ নারী ও ক্রীত দাসদেরকে দিতেন। নিয়মিত সৈন্যদেরকে যা দিতেন তা থেকে কিছু কম অংশ নারী ও ক্রীত দাসদেরকে দিতেন। গনীমতের অংশ ছাড়াও অন্যান্য সম্পদ তাদের মধ্যে ভাগ করে দিতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২৭৮০]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2781 OK

(২৭৮১)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ عَنْ شُعْبَةَ أَنَّ الْمِسْوَرَ بْنَ مَخْرَمَةَ دَخَلَ عَلَى ابْنِ عَبَّاسٍ يَعُودُهُ مِنْ وَجَعٍ وَعَلَيْهِ بُرْدٌ إِسْتَبْرَقٌ فَقُلْتُ يَا أَبَا عَبَّاسٍ مَا هَذَا الثَّوْبُ قَالَ وَمَا هُوَ قَالَ هَذَا الْإِسْتَبْرَقُ قَالَ وَاللَّهِ مَا عَلِمْتُ بِهِ وَمَا أَظُنُّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ هَذَا حِينَ نَهَى عَنْهُ إِلَّا لِلتَّجَبُّرِ وَالتَّكَبُّرِ وَلَسْنَا بِحَمْدِ اللَّهِ كَذَلِكَ قَالَ فَمَا هَذِهِ التَّصَاوِيرُ فِي الْكَانُونِ قَالَ أَلَا تَرَى قَدْ أَحْرَقْنَاهَا بِالنَّارِ فَلَمَّا خَرَجَ الْمِسْوَرُ قَالَ انْزَعُوا هَذَا الثَّوْبَ عَنِّي وَاقْطَعُوا رُءُوسَ هَذِهِ التَّمَاثِيلِ قَالُوا يَا أَبَا عَبَّاسٍ لَوْ ذَهَبْتَ بِهَا إِلَى السُّوقِ كَانَ أَنْفَقَ لَهَا مَعَ الرَّأْسِ قَالَ لَا فَأَمَرَ بِقَطْعِ رُءُوسِهَا


হজরত শুবা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একবার হজরত মাসূর ইবনে মুখরামা রাদিয়াল্লাহু আনহু, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে দেখতে গেলেন। ঐ সময় হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু অসুস্থ ছিলেন এবং তিনি ইস্তবারকের একটি রেশমি শাল পরা ছিলেন। হজরত মাসূর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “হে ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু এই পোশাকটি কি?” তিনি বললেন, “কোনটি?” হজরত মাসূর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “এই ​​রেশমি শাল।” তিনি বললেন, “আল্লাহর কসম, আমি এ বিষয়ে অবগত ছিলাম না এবং আমি মনে করি যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন এটি নিষেধ করেছেন, তখন তিনি তা তাদের জন্যে নিষেধ করেছেন, যারা দাম্ভিক ও অহঙ্কারী। আর আমরা এমন নই এবং আমরা আল্লাহর প্রশংসা করে থাকি।” হজরত মাসূর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “চুলার উপর এই ছবি গুলো কি?” তিনি বললেন, “তুমি কি দেখছো না যে, আমরা তাদেরকে আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছি?” হজরত মাসূর ইবনে মুখরামা রাদিয়াল্লাহু আনহু চলে গেলে তিনি বললেন, “আমার কাছ থেকে এই পোশাকটি নিয়ে যাও এবং ছবি গুলোর মাথা কেটে ফেলো।” তারা বললো, “হে ইবনে আব্বাস, আপনি যদি তাদের বাজারে নিয়ে যান, তবে তারা তাদের মাথার ভাল দাম পাবে।” তিনি অস্বীকার করলেন এবং তাদের মাথার অংশ কেটে ফেলার নির্দেশ দিলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২৭৮১]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2782 OK

(২৭৮২)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا هَاشِمٌ عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ عَنْ شُعْبَةَ قَالَ وَجَاءَ رَجُلٌ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ فَقَالَ إِنَّ مَوْلَاكَ إِذَا سَجَدَ وَضَعَ جَبْهَتَهُ وَذِرَاعَيْهِ وَصَدْرَهُ بِالْأَرْضِ فَقَالَ لَهُ ابْنُ عَبَّاسٍ مَا يَحْمِلُكَ عَلَى مَا تَصْنَعُ قَالَ التَّوَاضُعُ قَالَ هَكَذَا رِبْضَةُ الْكَلْبِ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا سَجَدَ رُئِيَ بَيَاضُ إِبْطَيْهِ قَالَ أَبِي و حَدَّثَنَاه حُسَيْنٌ أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ فَذَكَرَ مِثْلَهُ


হজরত শুবা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর খেদমতে এসে বললো যে, তার আযাদকৃত ক্রীতদাস সিজদা করার সময় তার কপাল, বাহু ও বুক মাটিতে রাখে। তারা তাকে এর কারণ জিজ্ঞেস করলে, সে বলে যে, সে এটি বিনয়ের কারণে করে থাকে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “একটি কুকুর তো এভাবেই বসে থাকে। আমি দেখেছি যে, যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সিজদা করতেন, তখন তাঁর বগলের শুভ্রতা দেখা যেতো (অর্থাৎ হাত দুটি শরীল থেকে আলাদা থাকতো)।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৭৮২]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2783 OK

(২৭৮৩)

সহিহ হাদিস

قَالَ حَدَّثَنَا هَاشِمٌ عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَبْعَثُهُ مَعَ أَهْلِهِ إِلَى مِنًى يَوْمَ النَّحْرِ لِيَرْمُوا الْجَمْرَةَ مَعَ الْفَجْرِ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার পরিবারবর্গকে জিল হজের ১০ তারিখে কুরবানীর দিন মিনায় পাঠিয়েছিলেন, যাতে ফজরের পর জামরায় পাথর মারা হয়। [মুসনাদে আহমাদ : ২৭৮৩]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2784 OK

(২৭৮৪)

হাদিস দেখুন [৩১:২৭৮৩] view_link


সহিহ হাদিস

قَالَ حَدَّثَنَا هَاشِمٌ عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَبْعَثُهُ مَعَ أَهْلِهِ إِلَى مِنًى يَوْمَ النَّحْرِ لِيَرْمُوا الْجَمْرَةَ مَعَ الْفَجْرِ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার পরিবারবর্গকে জিল হজের ১০ তারিখে কুরবানীর দিন মিনায় পাঠিয়েছিলেন, যাতে ফজরের পর জামরায় পাথর মারা হয়। [মুসনাদে আহমাদ : ২৭৮৪]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2785 OK

(২৭৮৫)

হাদিস দেখুন [৩১:২৬২৩] view_link


হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا أَسْوَدُ حَدَّثَنَا شَرِيكٌ عَنْ حُسَيْنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ مَنْ وَلَدَتْ مِنْهُ أَمَتُهُ فَهِيَ مُعْتَقَةٌ عَنْ دُبُرٍ مِنْهُ أَوْ قَالَ بَعْدَهُ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছে, “যদি একজন ক্রীতদাসী তার মনিবের কাছ থেকে একটি সন্তান প্রসব করে। তাহলে, ঐ মনিব মারা যাওয়ার পরে, ঐ ক্রীতদাসী স্বাধীন হয়ে যায়।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৭৮৫]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



2786 OK

(২৭৮৬)

হাদিস দেখুন [৩১:২৬২৪] view_link


হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا أَسْوَدُ حَدَّثَنَا شَرِيكٌ عَنْ حُسَيْنٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ مُتَوَشِّحًا بِهِ يَتَّقِي بِفُضُولِهِ بَرْدَ الْأَرْضِ وَحَرَّهَا


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একদা আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখলাম যে, তিনি একটি কাপড়ে ভালো ভাবে নিজেকে মুড়িয়ে সালাত আদায় করছেন। আর কাপড়ের মাধ্যমে মাটির ঠাণ্ডা বা তাপ থেকে নিজেকে রক্ষা করছেন।
[মুসনাদে আহমাদ : ২৭৮৬]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



2787 OK

(২৭৮৭)

হাদিস দেখুন [৩১:১৮৯৮] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ حَدَّثَنِي وَهْبُ بْنُ كَيْسَانَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ عَنْ أَبِيهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ وَحَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ عَنْ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَكَلَ لَحْمًا أَوْ عَرْقًا فَصَلَّى وَلَمْ يَمَسَّ مَاءً


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাড়সহ কিছু গোশত বা শুধু গোশত খেলেন ও নামাজ পড়লেন এবং নতুন করে পানি স্পর্শ করলেন না। [মুসনাদে আহমাদ : ২৭৮৭]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2788 OK

(২৭৮৮)

হাদিস দেখুন [৩১:২৩০০] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ وَأَبُو سَعِيدٍ قَالَا حَدَّثَنَا زَائِدَةُ حَدَّثَنَا سِمَاكٌ قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ عَنْ سِمَاكٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي عَلَى الْخُمْرَةِ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খেজুর গাছের পাতা দিয়ে তৈরি চাটাইয়ের উপর নামায পড়তেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২৭৮৮]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2789 OK

(২৭৮৯)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ حَدَّثَنِي يُونُسُ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ يَزِيدَ بْنِ هُرْمُزَ أَنَّ نَجْدَةَ الْحَرُورِيَّ حِينَ خَرَجَ مِنْ فِتْنَةِ ابْنِ الزُّبَيْرِ أَرْسَلَ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ يَسْأَلُهُ عَنْ سَهْمِ ذِي الْقُرْبَى لِمَنْ تَرَاهُ قَالَ هُوَ لَنَا لِقُرْبَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَسَمَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَهُمْ وَقَدْ كَانَ عُمَرُ عَرَضَ عَلَيْنَا مِنْهُ شَيْئًا رَأَيْنَاهُ دُونَ حَقِّنَا فَرَدَدْنَاهُ عَلَيْهِ وَأَبَيْنَا أَنْ نَقْبَلَهُ وَكَانَ الَّذِي عَرَضَ عَلَيْهِمْ أَنْ يُعِينَ نَاكِحَهُمْ وَأَنْ يَقْضِيَ عَنْ غَارِمِهِمْ وَأَنْ يُعْطِيَ فَقِيرَهُمْ وَأَبَى أَنْ يَزِيدَهُمْ عَلَى ذَلِكَ


হজরত ইয়াযীদ বিন হুরমুজ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহুর পরীক্ষার দিনগুলোতে যখন নাজদাহ আল-হারুরী (অর্থাৎ, খারিজিরা) বিদ্রোহ করেছিলো, তখন তিনি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকটাত্মীয়দের সম্পদের অংশের বিষয়ে জিজ্ঞেস করে পাঠান। “আপনি এ ব্যাপারে কি মনে করেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সম্পদের অংশ কাদের জন্যে?” হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “এটা আমাদের জন্যে, আমরাই হলাম রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকটাত্মীয়। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের জন্যে তা বরাদ্দ করেছিলেন। হযরত উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাদেরকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামে সম্পদের কিছু অংশ দিতে চেয়েছিলেন এবং আমরা ভেবেছিলাম যে, এটি আমাদের প্রাপ্যের অংশের চেয়ে কম, তাই আমরা তা প্রত্যাখ্যান করেছি এবং তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছি। এরপর হযরত উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাদেরকে যা প্রস্তাব করেছিলেন তা হলো, ঐ সম্পদ থেকে তাদেরকে সাহায্য করা, আমাদের মধ্যে যারা বিয়ে করতে চায়। আমাদের মধ্যে যারা ঋণগ্রস্ত, তাদের ঋণ পরিশোধ করা। আর আমাদের মধ্যে গরীবদেরকে দান করা। আর হযরত উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাদেরকে এর চেয়ে বেশি দিতে অস্বীকার করেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৭৮৯]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2790 OK

(২৭৯০)

হাদিস দেখুন [৩১:২০৯৯] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ يَعْنِي ابْنَ سَعْدٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ وَيَعْقُوبُ حَدَّثَنِي أَبِي عَنِ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ الْمُشْرِكُونَ يَفْرُقُونَ رُءُوسَهُمْ وَكَانَ أَهْلُ الْكِتَابِ يَسْدِلُونَ قَالَ يَعْقُوبُ أَشْعَارَهُمْ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُحِبُّ وَيُعْجِبُهُ مُوَافَقَةُ أَهْلِ الْكِتَابِ قَالَ يَعْقُوبُ فِي بَعْضِ مَا لَمْ يُؤْمَرْ قَالَ إِسْحَاقُ فِيمَا لَمْ يُؤْمَرْ فِيهِ فَسَدَلَ نَاصِيَتَهُ ثُمَّ فَرَقَ بَعْدُ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

মুশরিকরা তাদের চুল মাঝখানে বিভক্ত করতো এবং আহলে কিতাবরা তাদের চুল তাদের কপালের উপর পড়তে দিতো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আহলে কিতাবদের মতই করতে পছন্দ করতেন। যে বিষয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন নির্দেশ পাননি, সে বিষয়ে তিনি আহলে কিতাবদের অনুসরণ করতে পছন্দ করতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২৭৯০]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস