
حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ وَأَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ قَالَا حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ يَعْنِي ابْنَ عَمْرٍو عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ عَنِ ابْنِ جُبَيْرٍ قَالَ أَحْمَدُ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَكُونُ قَوْمٌ فِي آخِرِ الزَّمَانِ يَخْضِبُونَ بِهَذَا السَّوَادِ قَالَ حُسَيْنٌ كَحَوَاصِلِ الْحَمَامِ لَا يَرِيحُونَ رَائِحَةَ الْجَنَّةِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “শেষ যুগে এমন কিছু লোক আসবে, যারা কালো রং দিয়ে তাদের সাদা চুল কলব করবে। তারা কখনোই জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৩৪১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

قَالَ حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ بَهْرَامَ عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ حَضَرَتْ عِصَابَةٌ مِنْ الْيَهُودِ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالُوا يَا أَبَا الْقَاسِمِ حَدِّثْنَا عَنْ خِلَالٍ نَسْأَلُكَ عَنْهُنَّ لَا يَعْلَمُهُنَّ إِلَّا نَبِيٌّ فَكَانَ فِيمَا سَأَلُوهُ أَيُّ الطَّعَامِ حَرَّمَ إِسْرَائِيلُ عَلَى نَفْسِهِ قَبْلَ أَنْ تُنَزَّلَ التَّوْرَاةُ قَالَ فَأَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ الَّذِي أَنْزَلَ التَّوْرَاةَ عَلَى مُوسَى هَلْ تَعْلَمُونَ أَنَّ إِسْرَائِيلَ يَعْقُوبَ عَلَيْهِ السَّلَام مَرِضَ مَرَضًا شَدِيدًا فَطَالَ سَقَمُهُ فَنَذَرَ لِلَّهِ نَذْرًا لَئِنْ شَفَاهُ اللَّهُ مِنْ سَقَمِهِ لَيُحَرِّمَنَّ أَحَبَّ الشَّرَابِ إِلَيْهِ وَأَحَبَّ الطَّعَامِ إِلَيْهِ فَكَانَ أَحَبَّ الطَّعَامِ إِلَيْهِ لُحْمَانُ الْإِبِلِ وَأَحَبَّ الشَّرَابِ إِلَيْهِ أَلْبَانُهَا فَقَالُوا اللَّهُمَّ نَعَمْ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একদল ইহুদী রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বললো, “হে আবুল-কাসিম, এমন কিছু বিষয় সম্পর্কে বলুন, যা আমরা আপনাকে জিজ্ঞাসা করতে যাচ্ছি, যা একজন নবী ছাড়া কেউ জানে না।” তারা তাকে যে বিষয়গুলো জিজ্ঞেস করেছিলো, তার মধ্যে ছিলো, তাওরাত নাযিল হওয়ার আগে ইসরাঈল কোন খাবার নিজের জন্য হারাম করেছিলো? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আমি তোমাকে আল্লাহর শপথ করে বলছি, যিনি হজরত মূসা (আঃ)-এর উপর তাওরাত নাযিল করেছেন, তুমি কি জানো যে, হজরত ইসরাঈল (আঃ) (হজরত ইয়াকূব (আঃ)) খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন এবং তাঁর অসুস্থতা দীর্ঘকাল স্থায়ী হয়েছিলো, তারপর তিনি শপথ করেছিলেন যে, যদি আল্লাহ তাকে তার অসুস্থতা থেকে সুস্থ করে দেন, তবে সে তার সবচেয়ে পছন্দের পানীয় এবং তার সবচেয়ে পছন্দের খাবার নিজের জন্য হারাম করবে। তিনি যে খাবারটি সবচেয়ে বেশি পছন্দ করতেন, তা হলো উটের মাংস এবং যে পানীয়টি তিনি সবচেয়ে পছন্দ করতেন, তা হলো উটের দুধ।” তারা বললো, “হ্যাঁ, আল্লাহর কসম।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৩৪২]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস


حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ وَأَبُو سَعِيدٍ قَالَا حَدَّثَنَا زَائِدَةُ حَدَّثَنَا سِمَاكٌ قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ عَنْ سِمَاكٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي عَلَى الْخُمْرَةِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খেজুর গাছের পাতা দিয়ে তৈরি চাটাইয়ের উপর নামায পড়তেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২৩৪৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ حَدَّثَنَا زَائِدَةُ حَدَّثَنَا سِمَاكٌ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ مِنْ الشِّعْرِ حُكْمًا وَمِنْ الْبَيَانِ سِحْرًا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কিছু কবিতা প্রজ্ঞায় পরিপূর্ণ এবং কিছু বক্তব্যে যাদুর প্রভাব রয়েছে।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৩৪৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا الْفَضْلُ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ سِمَاكٍ عَنْ عِكْرِمَةَ قَالَ مَرَّ ابْنُ عَبَّاسٍ عَلَى أُنَاسٍ قَدْ وَضَعُوا حَمَامَةً يَرْمُونَهَا فَقَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُتَّخَذَ الرُّوحُ غَرَضًا
হজরত ইকরিমা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু কিছু লোকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যারা একটি কবুতরকে ধরে রেখেছিলো এবং তারা সেটিকে লক্ষ্য করে ঢিল ছুড়ছিলো। তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোনো প্রাণীকে বাঁধা এবং তা লক্ষ্য হিসাবে গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২৩৪৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ عَمْرٍو قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ جَاءَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى بَعْضِ بَنَاتِهِ وَهِيَ فِي السَّوْقِ فَأَخَذَهَا وَوَضَعَهَا فِي حِجْرِهِ حَتَّى قُبِضَتْ فَدَمَعَتْ عَيْنَاهُ فَبَكَتْ أُمُّ أَيْمَنَ فَقِيلَ لَهَا أَتَبْكِينَ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ أَلَا أَبْكِي وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَبْكِي قَالَ إِنِّي لَمْ أَبْكِ وَهَذِهِ رَحْمَةٌ إِنَّ الْمُؤْمِنَ تَخْرُجُ نَفْسُهُ مِنْ بَيْنِ جَنْبَيْهِ وَهُوَ يَحْمَدُ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর এক কন্যার কন্যা অর্থাৎ নাতনির কাছে এসেছিলেন, যখন সে মারা যাচ্ছিলো এবং তিনি তাকে কোলে ধরে রেখেছিলেন, যতক্ষণ না সে মারা গেলো। তখন তাঁর চোখ অশ্রুতে ভরে গেলো এবং উম্মে আইমানও কাঁদলেন। উম্মে আইমানকে বলা হলো, “তুমি কি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে কাঁদছো?” সে বললো, “আমি কেনো কাঁদবো না, যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেই কাঁদছেন?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আমি কাঁদছি না, এটা হলো সমবেদনা। প্রকৃতপক্ষে, মুমিনের আত্মা তার শরীর থেকে এমন সময় বিদায় নেয়, যখন সে আল্লাহর প্রশংসা করতে থাকে।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৩৪৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَلِيِّ بْنِ بَذِيمَةَ حَدَّثَنِي قَيْسُ بْنُ حَبْتَرٍ قَالَ سَأَلْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ عَنْ الْجَرِّ الْأَبْيَضِ وَالْجَرِّ الْأَخْضَرِ وَالْجَرِّ الْأَحْمَرِ فَقَالَ إِنَّ أَوَّلَ مَنْ سَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَفْدُ عَبْدِ الْقَيْسِ فَقَالُوا إِنَّا نُصِيبُ مِنْ الثُّفْلِ فَأَيُّ الْأَسْقِيَةِ فَقَالَ لَا تَشْرَبُوا فِي الدُّبَّاءِ وَالْمُزَفَّتِ وَالنَّقِيرِ وَالْحَنْتَمِ وَاشْرَبُوا فِي الْأَسْقِيَةِ ثُمَّ قَالَ إِنَّ اللَّهَ حَرَّمَ عَلَيَّ أَوْ حَرَّمَ الْخَمْرَ وَالْمَيْسِرَ وَالْكُوبَةَ وَكُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ قَالَ سُفْيَانُ قُلْتُ لِعَلِيِّ بْنِ بَذِيمَةَ مَا الْكُوبَةُ قَالَ الطَّبْلُ
হজরত কায়েস ইবনে হাবতার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে সাদা মাটির পাত্র, সবুজ মাটির পাত্র এবং লাল মাটির পাত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, সর্বপ্রথম যে ব্যক্তিরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলো, তারাই ছিলো আবদুল কায়সের প্রতিনিধি দল। তারা বললো, আমরা পান করি। আমাদের কি ধরনের পাত্র ব্যবহার করা উচিত? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছিলেন, “লাউ, বার্নিশ করা পাত্র, ফাঁপা পাত্র বা সবুজ চকচকে কলস থেকে পান করবে না। চামড়ার পাত্র থেকে পান করো।” অতঃপর তিনি বললেন, “আল্লাহ আমার জন্য হারাম করেছেন, নেশা, জুয়া এবং প্রতিটি নেশা দ্রব্য বস্তু।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৩৪৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ رَجُلٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ زَيْدٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْعَيْنُ حَقٌّ تَسْتَنْزِلُ الْحَالِقَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْوَلِيدِ الْعَدَنِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ دُوَيْدٍ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ ثَوْبَانَ عَنْ جَابِرِ بْنِ زَيْدٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ مِثْلَهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কুদৃষ্টি সত্য। এমনকি কুদৃষ্টি একটি পাহাড়কেও ধ্বংস করে দিতে পারে।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৩৪৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَلِيٌّ قَالَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ خُثَيْمٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْبَسُوا مِنْ ثِيَابِكُمْ الْبَيَاضَ فَإِنَّهَا مِنْ خَيْرِ ثِيَابِكُمْ وَكَفِّنُوا فِيهَا مَوْتَاكُمْ وَإِنَّ مِنْ خَيْرِ أَكْحَالِكُمُ الْإِثْمِدَ يَجْلُو الْبَصَرَ وَيُنْبِتُ الشَّعَرَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমরা সাদা কাপড় পরিধান করবে, কারণ সাদা কাপড়ই সবচেয়ে ভাল। আর তোমরা মুর্দাকে সাদা কাপড় দিয়েই কাফন দিবে। তোমাদের জন্যে সুরমা হলো এক ধরনের উপকারী ধাতু, যা ব্যবহারে তোমাদের চোখের পাপড়ি নতুন করে গজায় ও চোখের জ্যোতি বৃদ্ধি পায়।”
[মুসনাদে আহমাদ : ২৩৪৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا الْفَضْلُ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ سِمَاكٍ عَنْ عِكْرِمَةَ قَالَ مَرَّ ابْنُ عَبَّاسٍ عَلَى أُنَاسٍ قَدْ وَضَعُوا حَمَامَةً يَرْمُونَهَا فَقَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُتَّخَذَ الرُّوحُ غَرَضًا
হজরত ইকরিমা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু কিছু লোকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যারা একটি কবুতরকে ধরে রেখেছিলো এবং তারা সেটিকে লক্ষ্য করে ঢিল ছুড়ছিলো। তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোনো প্রাণীকে বাঁধা এবং তা লক্ষ্য হিসাবে গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২৩৫০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ عَنْ مَالِكٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْفَضْلِ عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا وَالْبِكْرُ تُسْتَأْمَرُ فِي نَفْسِهَا وَإِذْنُهَا صُمَاتُهَا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “পূর্ব বিবাহিত একজন মহিলার তার অভিভাবকের চেয়ে নিজের সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বেশি অধিকার রয়েছে। একজন কুমারী মহিলার কাছ থেকে তার বিবাহের বিষয়ে তার অনুমতি নেওয়া উচিত এবং তার নীরবতাই হচ্ছে তার অনুমতি।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৩৫১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ الْجِنُّ يَسْمَعُونَ الْوَحْيَ فَيَسْتَمِعُونَ الْكَلِمَةَ فَيَزِيدُونَ فِيهَا عَشْرًا فَيَكُونُ مَا سَمِعُوا حَقًّا وَمَا زَادُوهُ بَاطِلًا وَكَانَتْ النُّجُومُ لَا يُرْمَى بِهَا قَبْلَ ذَلِكَ فَلَمَّا بُعِثَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ أَحَدُهُمْ لَا يَأْتِي مَقْعَدَهُ إِلَّا رُمِيَ بِشِهَابٍ يُحْرِقُ مَا أَصَابَ فَشَكَوْا ذَلِكَ إِلَى إِبْلِيسَ فَقَالَ مَا هَذَا إِلَّا مِنْ أَمْرٍ قَدْ حَدَثَ فَبَثَّ جُنُودَهُ فَإِذَا هُمْ بِالنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي بَيْنَ جَبَلَيْ نَخْلَةَ فَأَتَوْهُ فَأَخْبَرُوهُ فَقَالَ هَذَا الْحَدَثُ الَّذِي حَدَثَ فِي الْأَرْضِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
জিনেরা আকাশের বাণী শুনতো। তারা একটি সত্য শব্দ শুনে, তার সাথে দশটি মিথ্যা শব্দ যোগ করে গনকদের নিকট পৌছে দিতো। তারা যা শুনেছে তা সত্য এবং তারা যা যুক্ত করেছে তা মিথ্যা। এর আগে জ্বিনদের তাড়ানোর জন্যে উল্কাপিন্ড ব্যবহার করা হয়নি। যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রেরিত করা হয়েছিলো, তখন জিনদের কেউ আকাশের বাণী শোনার মতো অবস্থানে আসতো না। কিন্তু যদি তারা শুনার চেষ্টা করতো, তবে একটি উল্কাপিন্ড তাদের দিকে লক্ষ্য করে ছুড়া হতো, যা তাদেরকে আঘাত করতো ও তাদেরকে পুড়িয়ে ফেলতো। তারা এ বিষয়ে ইবলীসের কাছে অভিযোগ জানালো এবং ইবলীস বললো, “এটি কেবল মাত্র এমন কিছুর কারণে হতে পারে, যা পৃথিবীতে ঘটেছে।” সে তার সৈন্যদল পৃথিবীতে পাঠালো এবং তারা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নাখলা নামক স্থানে দুই পাহাড়ের মাঝখানে সালাত আদায় করতে দেখলো। তারা এসে ইবলীসকে সে কথা বললো এবং ইবলীস বললো, “পৃথিবীতে এটাই ঘটেছে।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৩৫২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْوَلِيدِ الْعِجْلِيُّ وَكَانَتْ لَهُ هَيْئَةٌ رَأَيْنَاهُ عِنْدَ حَسَنٍ عَنْ بُكَيْرِ بْنِ شِهَابٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ أَقْبَلَتْ يَهُودُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالُوا يَا أَبَا الْقَاسِمِ إِنَّا نَسْأَلُكَ عَنْ خَمْسَةِ أَشْيَاءَ فَإِنْ أَنْبَأْتَنَا بِهِنَّ عَرَفْنَا أَنَّكَ نَبِيٌّ وَاتَّبَعْنَاكَ فَأَخَذَ عَلَيْهِمْ مَا أَخَذَ إِسْرَائِيلُ عَلَى بَنِيهِ إِذْ قَالُوا اللَّهُ عَلَى مَا نَقُولُ وَكِيلٌ قَالَ هَاتُوا قَالُوا أَخْبِرْنَا عَنْ عَلَامَةِ النَّبِيِّ قَالَ تَنَامُ عَيْنَاهُ وَلَا يَنَامُ قَلْبُهُ قَالُوا أَخْبِرْنَا كَيْفَ تُؤَنِّثُ الْمَرْأَةُ وَكَيْفَ تُذْكِرُ قَالَ يَلْتَقِي الْمَاءَانِ فَإِذَا عَلَا مَاءُ الرَّجُلِ مَاءَ الْمَرْأَةِ أَذْكَرَتْ وَإِذَا عَلَا مَاءُ الْمَرْأَةِ آنَثَتْ قَالُوا أَخْبِرْنَا مَا حَرَّمَ إِسْرَائِيلُ عَلَى نَفْسِهِ قَالَ كَانَ يَشْتَكِي عِرْقَ النَّسَا فَلَمْ يَجِدْ شَيْئًا يُلَائِمُهُ إِلَّا أَلْبَانَ كَذَا وَكَذَا قَالَ عَبْد اللَّهِ بْن أَحْمَد قَالَ أَبِي قَالَ بَعْضُهُمْ يَعْنِي الْإِبِلَ فَحَرَّمَ لُحُومَهَا قَالُوا صَدَقْتَ قَالُوا أَخْبِرْنَا مَا هَذَا الرَّعْدُ قَالَ مَلَكٌ مِنْ مَلَائِكَةِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ مُوَكَّلٌ بِالسَّحَابِ بِيَدِهِ أَوْ فِي يَدِهِ مِخْرَاقٌ مِنْ نَارٍ يَزْجُرُ بِهِ السَّحَابَ يَسُوقُهُ حَيْثُ أَمَرَ اللَّهُ قَالُوا فَمَا هَذَا الصَّوْتُ الَّذِي يُسْمَعُ قَالَ صَوْتُهُ قَالُوا صَدَقْتَ إِنَّمَا بَقِيَتْ وَاحِدَةٌ وَهِيَ الَّتِي نُبَايِعُكَ إِنْ أَخْبَرْتَنَا بِهَا فَإِنَّهُ لَيْسَ مِنْ نَبِيٍّ إِلَّا لَهُ مَلَكٌ يَأْتِيهِ بِالْخَبَرِ فَأَخْبِرْنَا مَنْ صَاحِبكَ قَالَ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَام قَالُوا جِبْرِيلُ ذَاكَ الَّذِي يَنْزِلُ بِالْحَرْبِ وَالْقِتَالِ وَالْعَذَابِ عَدُوُّنَا لَوْ قُلْتَ مِيكَائِيلَ الَّذِي يَنْزِلُ بِالرَّحْمَةِ وَالنَّبَاتِ وَالْقَطْرِ لَكَانَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ مَنْ كَانَ عَدُوًّا لِجِبْرِيلَ إِلَى آخِرِ الْآيَةَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
কিছু ইহুদী রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বললো, “হে আবুল-কাসিম, আমরা আপনাকে পাঁচটি বিষয়ে প্রশ্ন করতে যাচ্ছি; আপনি যদি আমাদের জানান যে, আমরা ঐ সম্পর্কে কি জানি, তাহলে আপনি প্রকৃতপক্ষে একজন নবী এবং আমরা আপনার আনুগত্য অনুসরণ করবো।” তিনি তাদের কাছ থেকে একটি প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন, যেমন ইসরাঈল তার পুত্রদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন। যখন তারা বলেছিলো, “আমরা যা বলছি এ ব্যাপারে আল্লাহই মধ্যস্থ রইলেন।”
قَالَ لَنۡ أُرۡسِلَهُۥ مَعَكُمۡ حَتَّىٰ تُؤۡتُونِ مَوۡثِقٗا مِّنَ ٱللَّهِ لَتَأۡتُنَّنِي بِهِۦٓ إِلَّآ أَن يُحَاطَ بِكُمۡۖ فَلَمَّآ ءَاتَوۡهُ مَوۡثِقَهُمۡ قَالَ ٱللَّهُ عَلَىٰ مَا نَقُولُ وَكِيلٞ٦٦
ইয়াকুব বললেন, “আমি বীন ইয়ামীনকে কখনোই তোমাদের সাথে পাঠাবো না, যতক্ষণ না, তোমরা আমার কাছে আল্লাহর নামে অঙ্গীকার দিবে যে, তোমরা অবশ্যই আমার কাছে তাকে ফিরিয়ে দিবে, যদি না তোমরা একান্ত অসহায় হয়ে যাও।” সুতরাং তারা যখন ইয়াকুবকে তাদের অঙ্গীকার দিলো, তখন ইয়াকুব বললেন, “আমরা যা বলছি এ ব্যাপারে আল্লাহই মধ্যস্থ রইলেন।” (১২. ইউসূফ : ৬৬)
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “ঠিক আছে তাহলে তোমাদের প্রশ্ন শুনা যাক।” তারা বললো, “আমাদেরকে একজন নবীর নিদর্শন সম্পর্কে বলুন।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তার চোখ ঘুমায় কিন্তু হৃদয় ঘুমায় না।” তারা বললো, “আমাদেরকে বলুন কিভাবে একজন নারী, ছেলে সন্তান বা কন্যা সন্তান প্রসব করে?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “যখন দুটি পানি মিলিত হয়, তখন যদি পুরুষের পানি নারীর উপর প্রাধান্য পায়, তবে সে একটি ছেলে সন্তান প্রসব করবে এবং যদি নারীর পানি প্রাধান্য পায়, তবে সে একটি কন্যা সন্তান প্রসব করবে।” তারা বললো, “ইসরাঈল নিজের জন্যে কি হারাম করেছিলেন।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তিনি সায়াটিকা রোগে ভুগছিলেন এবং উটের দুধ ছাড়া তাকে সাহায্য করার মতো কিছুই খুঁজে পাননি। তাই তিনি রোগ থেকে মুক্ত হওয়ার পরে নিজের জন্যে উটের দুধ ও উটের মাংস হারাম করেছিলেন।” তারা বললো, “আপনি ঠিক বলেছেন। আমাদেরকে আপনি বজ্রপাত সম্পর্কে বলুন।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আল্লাহর একজন ফেরেশতা মেঘের দ্বায়িত্বে রয়েছেন। তার হাতে রয়েছে আগুনের চাবুক, যা দিয়ে তিনি মেঘ সংগ্রহ করেন এবং যেখানে আল্লাহ আদেশ করেন সেখানে তা চালান।” তারা বললো, “মেঘের মধ্যে কিসের আওয়াজ আমরা শুনতে পাই? ”রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “ফেরেশতার কণ্ঠস্বর।” তারা বললো, “আপনি ঠিক বলেছেন। শুধুমাত্র একটি প্রশ্ন বাকি আছে, এবং এটিই সিদ্ধান্ত নেবে যে আমরা আপনার প্রতি আনুগত্যের শপথ করবো কিনা। প্রত্যেক নবীর কাছেই একজন ফেরেশতা আসেন, যে তাঁর কাছে আল্লাহর বার্তা নিয়ে আসেন। ঐ ফেরেশতার নাম কি?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “জিবরীল (আঃ)।” তারা বললো, “জিবরীল (আঃ) তিনিই আমাদের শত্রু, যিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে যুদ্ধ, মারামারি ও শাস্তি নিয়ে আসেন। কিন্তু আপনি যদি ফেরেশতা মিকাঈল (আঃ)-এর নাম বলতেন, যিনি রহমত, গাছপালা এবং বৃষ্টি নিয়ে আসেন। তাহলে এটাই ভালো হতো এবং তখন আমরা আপনার আনুগত্য করতাম।” এরপর আল্লাহ তায়ালা এই আয়াত নাযিল করলেন,
قُلۡ مَن كَانَ عَدُوّٗا لِّـجِبۡرِيلَ فَإِنَّهُۥ نَزَّلَهُۥ عَلَىٰ قَلۡبِكَ بِإِذۡنِ ٱللَّهِ مُصَدِّقٗا لِّمَا بَيۡنَ يَدَيۡهِ وَهُدٗى وَبُشۡرَىٰ لِلۡمُؤۡمِنِينَ٩٧
যেহেতু জিবরিল আল্লাহর অনুমতিক্রমে নিশ্চয় এ কুরআনকে আপনার হৃদয়ের মাঝে অবতীর্ণ করেছেন, আর এ কুরআন সত্যায়নকারী তার যা এসেছিলো এর আগে এবং বিশ্বাসীদের জন্যে পথ প্রদর্শক ও সুসংবাদ, সুতরাং আপনি বলুন, “যে কেউ জিবরিলের শত্রু হয় (২. আল বাক্বারাহ : ৯৭)
مَن كَانَ عَدُوّٗا لِّلَّهِ وَمَلَٰٓئِكَتِهِۦ وَرُسُلِهِۦ وَجِبۡرِيلَ وَمِيكَىٰلَ فَإِنَّ ٱللَّهَ عَدُوّٞ لِّلۡكَٰفِرِينَ٩٨
আর যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাদের ও তাঁর রসূলদের ও জিবরিলের ও মিকাঈলের শত্রু হয়, সুতরাং নিশ্চয় আল্লাহ ঐসব অবিশ্বাসীদের শত্রু।” (২. আল বাক্বারাহ : ৯৮) [মুসনাদে আহমাদ : ২৩৫৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى عَنْ حُسَيْنِ بْنِ وَاقِدٍ عَنْ عِلْبَاءَ بْنِ أَحْمَرَ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ فَحَضَرَ النَّحْرُ فَذَبَحْنَا الْبَقَرَةَ عَنْ سَبْعَةٍ وَالْبَعِيرَ عَنْ عَشَرَةٍ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সফরে ছিলাম, যখন কুরবানীর সুযোগ এলো, তখন আমরা একটি গরু সাতজন এবং একটি উট দশজন করে জবাই করলাম। [মুসনাদে আহমাদ : ২৩৫৪]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ يَحْيَى وَالطَّالَقَانِيُّ قَالَا حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِنْدٍ عَنْ ثَوْرِ بْنِ زَيْدٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي يَلْتَفِتُ يَمِينًا وَشِمَالًا وَلَا يَلْوِي عُنُقَهُ خَلْفَ ظَهْرِهِ قَالَ الطَّالَقَانِيُّ حَدَّثَنِي ثَوْرٌ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلَهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযের সময় চোখ দিয়ে ডানে-বামে তাকাতেন, কিন্তু ঘাড় ফিরিয়ে পেছনে তাকাতেন না। [মুসনাদে আহমাদ : ২৩৫৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ يَحْيَى وَالطَّالَقَانِيُّ قَالَا حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِنْدٍ عَنْ ثَوْرِ بْنِ زَيْدٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي يَلْتَفِتُ يَمِينًا وَشِمَالًا وَلَا يَلْوِي عُنُقَهُ خَلْفَ ظَهْرِهِ قَالَ الطَّالَقَانِيُّ حَدَّثَنِي ثَوْرٌ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلَهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযের সময় চোখ দিয়ে ডানে-বামে তাকাতেন, কিন্তু ঘাড় ফিরিয়ে পেছনে তাকাতেন না। [মুসনাদে আহমাদ : ২৩৫৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا حَسَنُ بْنُ الرَّبِيعِ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنِ الْجَعْدِ أَبِي عُثْمَانَ عَنْ أَبِي رَجَاءٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ رَأَى مِنْ أَمِيرِهِ شَيْئًا يَكْرَهُهُ فَلْيَصْبِرْ فَإِنَّهُ مَنْ خَالَفَ الْجَمَاعَةَ شِبْرًا فَمَاتَ فَمِيتَتُهُ جَاهِلِيَّةٌ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি তার নেতার মধ্যে এমন কিছু দেখতে পায়, যা সে অপছন্দ করে, তবে সে যেনো ধৈর্য ধারণ করে। কেননা যে ব্যক্তি মুসলমানদের মূল অংশ (জামাআত) থেকে এক হাতের ব্যবধানেও দূরে থাকে এবং সে ঐ অবস্থায় মারা যায়, তবে তার মৃত্যু হবে জাহিলিয়াতের মৃত্যু।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৩৫৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُسْلِمٍ الْعَبْدِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو الْمُتَوَكِّلِ أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ حَدَّثَ أَنَّهُ بَاتَ عِنْدَ نَبِيِّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ لَيْلَةٍ فَقَامَ نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ اللَّيْلِ فَخَرَجَ فَنَظَرَ فِي السَّمَاءِ ثُمَّ تَلَا هَذِهِ الْآيَةَ الَّتِي فِي آلِ عِمْرَانَ إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ حَتَّى بَلَغَ سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ ثُمَّ رَجَعَ إِلَى الْبَيْتِ فَتَسَوَّكَ وَتَوَضَّأَ ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى ثُمَّ اضْطَجَعَ ثُمَّ رَجَعَ أَيْضًا فَنَظَرَ فِي السَّمَاءِ ثُمَّ تَلَا هَذِهِ الْآيَةَ ثُمَّ رَجَعَ فَتَسَوَّكَ وَتَوَضَّأَ ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى ثُمَّ اضْطَجَعَ ثُمَّ رَجَعَ أَيْضًا فَنَظَرَ فِي السَّمَاءِ ثُمَّ تَلَا هَذِهِ الْآيَةَ ثُمَّ رَجَعَ فَتَسَوَّكَ وَتَوَضَّأَ ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট কোন এক রাত কাটালাম। তখন দেখলাম তিনি ঘুম থেকে জেগে উযুর পানি নিয়ে মিসওয়াক করলেন। অতঃপর তিনি নিন্মোক্ত আয়াতগুলো তিলাওয়াত করলেন,
إِنَّ فِي خَلۡقِ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ وَٱخۡتِلَٰفِ ٱلَّيۡلِ وَٱلنَّهَارِ لَأٓيَٰتٖ لِّأُوْلِي ٱلۡأَلۡبَٰبِ١٩٠
নিশ্চয় নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের সৃষ্টির মধ্যে এবং রাত ও দিনের আবর্তনের মধ্যে অবশ্যই জ্ঞানের অধিকারীদের জন্যে নিদর্শন সমূহ রয়েছে। (৩. আল ইমরান : ১৯০)
ٱلَّذِينَ يَذۡكُرُونَ ٱللَّهَ قِيَٰمٗا وَقُعُودٗا وَعَلَىٰ جُنُوبِهِمۡ وَيَتَفَكَّرُونَ فِي خَلۡقِ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ رَبَّنَا مَا خَلَقۡتَ هَٰذَا بَٰطِلٗا سُبۡحَٰنَكَ فَقِنَا عَذَابَ ٱلنَّارِ١٩١
জ্ঞানের অধিকারীরা হচ্ছে তারা, যারা আল্লাহকে দাঁড়ানো, বসা ও তাদের পার্শ্বের উপরে শায়িত অবস্থায় স্মরণ করে আর নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের সৃষ্টির বিষয়ে গভীর চিন্তা করে। তারা বলে যে, “হে আমাদের প্রভু! এসব আপনি বৃথা সৃষ্টি করেননি, আপনারই সব পবিত্রতা। সুতরাং আপনি আমাদেরকে আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। (৩. আল ইমরান : ১৯১)
তিনি সূরাটি প্রায় শেষ পর্যন্ত পড়লেন অথবা শেষ করলেন। এরপর তিনি উযু করে জায়নামাযে গিয়ে দুই রাকআত সলাত আদায় করে বিছানায় গেলেন এবং আল্লাহ যতক্ষণ চাইলেন ততক্ষণ ঘুমিয়ে পুনরায় জাগলেন। এরপর পূর্বের ন্যায় ঐ কাজগুলো করে আবারো বিছানায় গিয়ে ঘুমালেন। অতঃপর জেগে উঠে আবার আগের মতো করলেন। তারপর বিছানায় গিয়ে ঘুমিয়ে আবার জাগলেন ও আগের মতো করলেন। প্রত্যেকবারই তিনি (ঘুম থেকে জেগে) মিসওয়াক ও দুই রাকআত সলাত আদায় করলেন। অতঃপর (সর্বশেষে) বিতর সলাত পড়লেন। সলাত শেষে শুয়ে পড়লেন। পুনরায় কিছুক্ষন পরে উঠে বাইরে গেলেন এবং আকাশের দিকে তাকিয়ে উক্ত আয়াতটি পাঠ করলেন। অতঃপর ফিরে এসে আবার মিসওয়াক করে ওযূ করলেন; অতঃপর ফাজরের সলাত আদায় করলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২৩৫৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا سُرَيْجٌ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ يَعْنِي ابْنَ سَلَمَةَ عَنْ قَيْسِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَحْسِبُهُ رَفَعَهُ قَالَ كَانَ إِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنْ الرُّكُوعِ قَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمَاءِ وَمِلْءَ الْأَرْضِ وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَيْءٍ بَعْدُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন রুকু থেকে মাথা উঠাতেন, তখন বলতেন,
سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمَاءِ وَمِلْءَ الْأَرْضِ وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَيْءٍ بَعْدُ
“আল্লাহ তার প্রশংসা শোনেন, যে তাঁর প্রশংসা করে। হে আল্লাহ, আমাদের পালনকর্তা, আপনার প্রশংসা আসমানকে পূর্ণ করে, পৃথিবীকে পূর্ণ করে এবং আপনি যা ইচ্ছা করেন, তা পূর্ণ করে।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৩৫৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَكْرٍ وَمُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ قَالَا حَدَّثَنَا سَعِيدٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ جَابِرِ بْنِ زَيْدٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُرِيدَ عَلَى ابْنَةِ حَمْزَةَ أَنْ يَتَزَوَّجَهَا فَقَالَ إِنَّهَا ابْنَةُ أَخِي مِنْ الرَّضَاعَةِ وَإِنَّهُ يَحْرُمُ مِنْ الرَّضَاعَةِ مَا يَحْرُمُ مِنْ النَّسَبِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পরামর্শ দেওয়া হলো যে, তিনি যেনো হামযা রাদিয়াল্লাহু আনহুর কন্যাকে বিয়ে করেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “সে আমার ভাইয়ের মেয়ে (হামযা ও আমি একই মহিলার স্তন্য পান করেছি)। রক্তের বন্ধনের কারনে যেমন বিবাহ হারাম হয়, তেমনি স্তন্য পানের কারনেও বিবাহ হারাম হয়।”
[মুসনাদে আহমাদ : ২৩৬০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَكْرٍ وَمُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ قَالَا حَدَّثَنَا سَعِيدٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ جَابِرِ بْنِ زَيْدٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُرِيدَ عَلَى ابْنَةِ حَمْزَةَ أَنْ يَتَزَوَّجَهَا فَقَالَ إِنَّهَا ابْنَةُ أَخِي مِنْ الرَّضَاعَةِ وَإِنَّهُ يَحْرُمُ مِنْ الرَّضَاعَةِ مَا يَحْرُمُ مِنْ النَّسَبِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পরামর্শ দেওয়া হলো যে, তিনি যেনো হামযা রাদিয়াল্লাহু আনহুর কন্যাকে বিয়ে করেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “সে আমার ভাইয়ের মেয়ে (হামযা ও আমি একই মহিলার স্তন্য পান করেছি)। রক্তের বন্ধনের কারনে যেমন বিবাহ হারাম হয়, তেমনি স্তন্য পানের কারনেও বিবাহ হারাম হয়।”
[মুসনাদে আহমাদ : ২৩৬১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


হাদিস নং ১৮১৯ দেখুন
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَابِقٍ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ أَبِي يَحْيَى الْقَتَّاتِ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ مَرَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى رَجُلٍ وَفَخِذُهُ خَارِجَةٌ فَقَالَ غَطِّ فَخِذَكَ فَإِنَّ فَخِذَ الرَّجُلِ مِنْ عَوْرَتِهِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যার উরু দৃশ্যমান ছিলো। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “তোমার উরু ঢেকে রাখো, কেননা মানুষের উরু তার গোপনাঙ্গের অংশ।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৩৬৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَابِقٍ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُهَاجِرٍ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ أَيُّ الْقِرَاءَتَيْنِ كَانَتْ أَخِيرًا قِرَاءَةُ عَبْدِ اللَّهِ أَوْ قِرَاءَةُ زَيْدٍ قَالَ قُلْنَا قِرَاءَةُ زَيْدٍ قَالَ لَا إِلَّا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَعْرِضُ الْقُرْآنَ عَلَى جَبْرَائِيلَ كُلَّ عَامٍ مَرَّةً فَلَمَّا كَانَ فِي الْعَامِ الَّذِي قُبِضَ فِيهِ عَرَضَهُ عَلَيْهِ مَرَّتَيْنِ وَكَانَتْ آخِرَ الْقِرَاءَةِ قِرَاءَةُ عَبْدِ اللَّهِ
হজরত মুজাহিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, দুটি তিলাওয়াতের মধ্যে, শেষ তিলাওয়াত কোনটি, হজরত আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুর তিলাওয়াত নাকি হজরত যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর তিলাওয়াত? আমরা বললাম, হজরত যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর তিলাওয়াত। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, না, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতি বছর জিবরীলের সাথে কুরআন তিলাওয়াত করতেন এবং যে বছর তিনি ইন্তেকাল করেছিলেন, তিনি তাঁর সাথে দুবার কুরআন তিলাওয়াত করেছেন এবং সর্বশেষ তেলাওয়াতটি ছিলো হজরত আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুর তিলাওয়াত। [মুসনাদে আহমাদ : ২৩৬৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ عَمْرٍو حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي عَمْرَةَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ فِي قَوْلِهِ الم غُلِبَتْ الرُّومُ قَالَ غُلِبَتْ وَغَلَبَتْ قَالَ كَانَ الْمُشْرِكُونَ يُحِبُّونَ أَنْ تَظْهَرَ فَارِسُ عَلَى الرُّومِ لِأَنَّهُمْ أَهْلُ أَوْثَانٍ وَكَانَ الْمُسْلِمُونَ يُحِبُّونَ أَنْ تَظْهَرَ الرُّومُ عَلَى فَارِسَ لِأَنَّهُمْ أَهْلُ كِتَابٍ فَذَكَرُوهُ لِأَبِي بَكْرٍ فَذَكَرَهُ أَبُو بَكْرٍ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَا إِنَّهُمْ سَيَغْلِبُونَ قَالَ فَذَكَرَهُ أَبُو بَكْرٍ لَهُمْ فَقَالُوا اجْعَلْ بَيْنَنَا وَبَيْنَكَ أَجَلًا فَإِنْ ظَهَرْنَا كَانَ لَنَا كَذَا وَكَذَا وَإِنْ ظَهَرْتُمْ كَانَ لَكُمْ كَذَا وَكَذَا فَجَعَلَ أَجَلًا خَمْسَ سِنِينَ فَلَمْ يَظْهَرُوا فَذَكَرَ ذَلِكَ أَبُو بَكْرٍ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَلَا جَعَلْتَهَا إِلَى دُونَ قَالَ أُرَاهُ قَالَ الْعَشْرِ قَالَ قَالَ سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ الْبِضْعُ مَا دُونَ الْعَشْرِ ثُمَّ ظَهَرَتْ الرُّومُ بَعْدُ قَالَ فَذَلِكَ قَوْلُهُ الم غُلِبَتْ الرُّومُ إِلَى قَوْلِهِ وَيَوْمَئِذٍ يَفْرَحُ الْمُؤْمِنُونَ قَالَ يَفْرَحُونَ بِنَصْرِ اللَّهِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু আয়াতটি সম্পর্কে বলেন,
الٓمٓ١
আলিফ, লাম, মীম। (৩০. আর রূম : ১)
غُلِبَتِ ٱلرُّومُ٢
রোম জাতি পরাজিত হয়েছে (৩০. আর রূম : ২)
মুশরিকরা চেয়েছিলো পারসিকরা বাইজেন্টাইনদের বিরুদ্ধে জয়লাভ করুক, কারণ তারা মূর্তিপূজারী ছিলো। এবং মুসলিমরা চেয়েছিলো বাইজেন্টাইনরা পারস্যদের বিরুদ্ধে জয়লাভ করুক, কারণ তারা কিতাবী ছিলো। তারা এটি আবূ বকরের কাছে উল্লেখ করেছিলো এবং আবু বকর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এটি উল্লেখ করেছিলো এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তারাই বিজয়ী হবে।” আবু বকর তাদের কাছে এটি উল্লেখ করলেন এবং তারা বললো, “একটি সময়সীমা নির্ধারণ করুন। যদি আমরা বিজয়ী হই তবে আমাদের অমুক এবং অমুক থাকবে এবং যদি আপনি বিজয়ী হন তবে আপনার অমুক অমুক থাকবে।” তাই তারা পাঁচ বছরের সময়সীমা বেঁধে দিলেও তারা জয়লাভ করেনি। আবু বকর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এটি উল্লেখ করলে, তিনি বললেন, “আপনি দশ বছরের মধ্যে কেনো এটির সময়সীমা নির্ধারণ করলেন না?” সাঈদ বিন জুবায়ের বলেন, তারপর বাইজেন্টাইনরা দশ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে বিজয়ী হয়েছিলো। এটাই আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
الٓمٓ١
আলিফ, লাম, মীম। (৩০. আর রূম : ১)
غُلِبَتِ ٱلرُّومُ٢
রোম জাতি পরাজিত হয়েছে (৩০. আর রূম : ২)
فِيٓ أَدۡنَى ٱلۡأَرۡضِ وَهُم مِّنۢ بَعۡدِ غَلَبِهِمۡ سَيَغۡلِبُونَ٣
নিকটবর্তী দেশের মধ্যে। তাদের এ পরাজয়ের পরে শীঘ্রই তারা বিজয়ী হবে (৩০. আর রূম : ৩)
فِي بِضۡعِ سِنِينَۗ لِلَّهِ ٱلۡأَمۡرُ مِن قَبۡلُ وَمِنۢ بَعۡدُۚ وَيَوۡمَئِذٖ يَفۡرَحُ ٱلۡمُؤۡمِنُونَ٤
কয়েক বছরের মধ্যেই। এই ঘটনার আগে ও পরে সকল কাজ বাস্তবায়ন আল্লাহর হাতেই রয়েছে। আর সেই দিন বিশ্বাসীগণ আনন্দিত হবে। (৩০. আর রূম : ৪)
بِنَصۡرِ ٱللَّهِۚ يَنصُرُ مَن يَشَآءُۖ وَهُوَ ٱلۡعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ٥
আল্লাহর সাহায্যের দ্বারা রোম জাতি বিজয়ী হবে। তিনি যাকে ইচ্ছা সাহায্য করেন। তিনি পরাক্রমশালী, অতি দয়ালু। (৩০. আর রূম : ৫) [মুসনাদে আহমাদ : ২৩৬৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ عَمْرٍو قَالَ حَدَّثَنَا زَائِدَةُ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ خُثَيْمٍ قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ أَنَّهُ حَدَّثَهُ ذَكْوَانُ حَاجِبُ عَائِشَةَ أَنَّهُ جَاءَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ يَسْتَأْذِنُ عَلَى عَائِشَةَ فَجِئْتُ وَعِنْدَ رَأْسِهَا ابْنُ أَخِيهَا عَبْدُ اللَّهِ بِنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ فَقُلْتُ هَذَا ابْنُ عَبَّاسٍ يَسْتَأْذِنُ فَأَكَبَّ عَلَيْهَا ابْنُ أَخِيهَا عَبْدُ اللَّهِ فَقَالَ هَذَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ يَسْتَأْذِنُ وَهِيَ تَمُوتُ فَقَالَتْ دَعْنِي مِنْ ابْنِ عَبَّاسٍ فَقَالَ يَا أُمَّتَاهُ إِنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ مِنْ صَالِحِي بَنِيكِ لِيُسَلِّمْ عَلَيْكِ وَيُوَدِّعْكِ فَقَالَتْ ائْذَنْ لَهُ إِنْ شِئْتَ قَالَ فَأَدْخَلْتُهُ فَلَمَّا جَلَسَ قَالَ أَبْشِرِي فَقَالَتْ أَيْضًا فَقَالَ مَا بَيْنَكِ وَبَيْنَ أَنْ تَلْقَيْ مُحَمَّدًا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالْأَحِبَّةَ إِلَّا أَنْ تَخْرُجَ الرُّوحُ مِنْ الْجَسَدِ كُنْتِ أَحَبَّ نِسَاءِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَمْ يَكُنْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُحِبُّ إِلَّا طَيِّبًا وَسَقَطَتْ قِلَادَتُكِ لَيْلَةَ الْأَبْوَاءِ فَأَصْبَحَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى يُصْبِحَ فِي الْمَنْزِلِ وَأَصْبَحَ النَّاسُ لَيْسَ مَعَهُمْ مَاءٌ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا فَكَانَ ذَلِكَ فِي سَبَبِكِ وَمَا أَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لِهَذِهِ الْأُمَّةِ مِنْ الرُّخْصَةِ وَأَنْزَلَ اللَّهُ بَرَاءَتَكِ مِنْ فَوْقِ سَبْعِ سَمَوَاتٍ جَاءَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ فَأَصْبَحَ لَيْسَ لِلَّهِ مَسْجِدٌ مِنْ مَسَاجِدِ اللَّهِ يُذْكَرُ اللَّهُ فِيهِ إِلَّا يُتْلَى فِيهِ آنَاءَ اللَّيْلِ وَآنَاءَ النَّهَارِ فَقَالَتْ دَعْنِي مِنْكَ يَا ابْنَ عَبَّاسٍ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوَدِدْتُ أَنِّي كُنْتُ نَسْيًا مَنْسِيًّا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আবি মুলাইকাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আয়েশার দারোয়ান ঝাকওয়ান তাকে বলেছিলেন যে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু এসে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। আমি (ঝাকওয়ান) এসে দেখি তার ভাইয়ের ছেলে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর-রহমান আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে আছেন। আমি বললাম, ইবনে আব্বাস এখানে এসেছেন, ভেতরে আসার অনুমতি চাইছেন। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহুর ভাতিজা আবদুল্লাহ আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে এসে মাথা নিচু করে বললেন, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস ভেতরে আসার অনুমতি চাইছেন। এটা ছিলো ঐ সময়, যখন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু মারা যাচ্ছিলেন। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “ইবনে আব্বাসকে আমার থেকে দূরে রাখুন।” আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর-রহমান বললেন, “হে আমার মা, ইবনে আব্বাস আপনার নেককার পুত্রদের একজন। তিনি আপনাকে অভিবাদন জানাবেন এবং আপনাকে বিদায় জানাবেন।” আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “তুমি চাইলে তাকে ঢুকতে দাও।” তাই আমি তাকে অনুমতি দিলাম এবং যখন হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বসলেন, তখন তিনি বললেন, “ভালো থাকুন।” আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “তুমিও ভালো থাকো।” হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “আপনার এবং রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সাক্ষাত ও প্রিয় জনদের সাথে সাক্ষাতের মধ্যে শরীর থেকে আত্মার প্রস্থান ছাড়া আর কিছুই বাকি নেই। আপনি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রীদের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় ছিলেন এবং রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তম ব্যক্তি ছাড়া আর কাউকেই ভালোবাসতেন না। আল-আবওয়ার রাতে আপনার গলার হার হারিয়ে গিয়েছিলো এবং রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা খুঁজতে থাকলেন। অথচো সকালে লোকদের কাছে নামাযের ওযুর জন্যে পানি ছিলো না। অতঃপর আল্লাহ তায়ালা এই আয়াত নাজিল করলেন।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَقۡرَبُواْ ٱلصَّلَوٰةَ وَأَنتُمۡ سُكَٰرَىٰ حَتَّىٰ تَعۡلَمُواْ مَا تَقُولُونَ وَلَا جُنُبًا إِلَّا عَابِرِي سَبِيلٍ حَتَّىٰ تَغۡتَسِلُواْۚ وَإِن كُنتُم مَّرۡضَىٰٓ أَوۡ عَلَىٰ سَفَرٍ أَوۡ جَآءَ أَحَدٞ مِّنكُم مِّنَ ٱلۡغَآئِطِ أَوۡ لَٰمَسۡتُمُ ٱلنِّسَآءَ فَلَمۡ تَجِدُواْ مَآءٗ فَتَيَمَّمُواْ صَعِيدٗا طَيِّبٗا فَٱمۡسَحُواْ بِوُجُوهِكُمۡ وَأَيۡدِيكُمۡۗ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ عَفُوًّا غَفُورًا٤٣
ওহে যারা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করেছো! তোমরা যখন নেশাগ্রস্ত থাকো, তখন তোমরা নামাযের ধারের কাছেও যেয়ো না, যে পর্যন্ত না, তোমরা বুঝতে পারো যে, তোমরা কি বলছো, অথবা যৌন সম্ভোগ করার পরবর্তী অবস্থায়, যে পর্যন্ত না, তোমরা গোসল করেছো। আর যদি তোমরা অসুস্থ হও অথবা ভ্রমণে থাকো অথবা তোমাদের মধ্যে কেউ শৌচস্থান থেকে এসেছো অথবা তোমরা স্ত্রীদের সাথে সহবাস করেছো আর যদি তোমরা পানি না পাও, তবে তোমরা বিশুদ্ধ মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করো। তারপর তোমাদের মুখমন্ডল ও তোমাদের হাত সমূহ মাসেহ করো। নিশ্চয় আল্লাহ হচ্ছেন মার্জনাকারী, ক্ষমাশীল। (৪. আন নিসা : ৪৩)
আপনার কারণেই আল্লাহ এই উম্মতকে এই ছাড় দিয়েছেন। এবং আল্লাহ আপনার নির্দোষতাকে সাত আসমানের উপর থেকে প্রকাশ করেছেন এবং জিবরাঈল তা নিয়ে এসেছেন এবং এমন কোন মসজিদ নেই যেখানে আল্লাহকে স্মরণ করা হয় না, কিন্তু এই আয়াতটি সেখানে দিন-রাত পাঠ করা হয়।” আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “হে ইবনে আব্বাস, আমাকে একা ছেড়ে দিন। সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, আমি যদি কোনো রূপে এর পূর্বে মরে যেতাম এবং আমি যদি মানুষের স্মৃতি থেকে বিলুপ্ত হয়ে যেতাম!”
فَأَجَآءَهَا ٱلۡمَخَاضُ إِلَىٰ جِذۡعِ ٱلنَّخۡلَةِ قَالَتۡ يَٰلَيۡتَنِي مِتُّ قَبۡلَ هَٰذَا وَكُنتُ نَسۡيٗا مَّنسِيّٗا٢٣
তখন প্রসব বেদনা তাঁকে এক খেজুর গাছের গুড়ির নিকটে নিয়ে এলো। মারইয়াম বললো, “হায় আমার দুর্ভোগ! আমি যদি কোনো রূপে এর পূর্বে মরে যেতাম এবং আমি যদি মানুষের স্মৃতি থেকে বিলুপ্ত হয়ে যেতাম!” (১৯. মারইয়াম : ২৩) [মুসনাদে আহমাদ : ২৩৬৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ لَيْثٍ عَنْ رَجُلٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ قَالَ لَهَا إِنَّمَا سُمِّيتِ أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ لِتَسْعَدِي وَإِنَّهُ لَاسْمُكِ قَبْلَ أَنْ تُولَدِي
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
তিনি হজরত আয়েশা সিদ্দিকা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলেছিলেন যে, “আপনার সৌভাগ্য প্রমাণের জন্য আপনার নাম أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ (মুমিনদের মা) রাখা হয়েছে এবং এই নামটি আপনার জন্মের অনেক আগেই আপনার জন্য নির্ধারণ করে রাখা হয়েছিলো।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৩৬৭]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস


حَدَّثَنَا سُرَيْجٌ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ يَعْنِي ابْنَ سَلَمَةَ عَنْ قَيْسِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَحْسِبُهُ رَفَعَهُ قَالَ كَانَ إِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنْ الرُّكُوعِ قَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمَاءِ وَمِلْءَ الْأَرْضِ وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَيْءٍ بَعْدُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন রুকু থেকে মাথা উঠাতেন, তখন বলতেন,
سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمَاءِ وَمِلْءَ الْأَرْضِ وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَيْءٍ بَعْدُ
“আল্লাহ তার প্রশংসা শোনেন, যে তাঁর প্রশংসা করে। হে আল্লাহ, আমাদের পালনকর্তা, আপনার প্রশংসা আসমানকে পূর্ণ করে, পৃথিবীকে পূর্ণ করে এবং আপনি যা ইচ্ছা করেন, তা পূর্ণ করে।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৩৬৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ عَمْرٍو حَدَّثَنَا زَائِدَةُ حَدَّثَنَا حَبِيبُ بْنُ أَبِي عَمْرَةَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الدُّبَّاءِ وَالْحَنْتَمِ وَالْمُزَفَّتِ وَالنَّقِيرِ وَأَنْ يُخْلَطَ الْبَلَحُ وَالزَّهْوُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুব্বা (লাউয়ের খোলের পাত্র), হান্তাম (মাটির সবুজ পাত্র), মুজাফত (এক রকম তৈলাক্ত পাত্র) ও নাকির (কাঠের পাত্র) ব্যবহার করতে নিষিদ্ধ করেছেন (কেননা, এই সব পাত্রগুলো মদ তৈরি ও মদ পানের জন্যে ব্যবহৃত হতো)। আর কিসমিস এবং খেজুর একত্রে মিশিয়ে নাবীজ তৈরি করতে নিষেধ করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২৩৬৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي حَفْصَةَ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ الْفَتْحُ فِي ثَلَاثَ عَشْرَةَ خَلَتْ مِنْ رَمَضَانَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
মক্কা বিজয়ের মহান ঘটনা ঘটেছিলো রমজানের তেরো (১৩) তারিখে। [মুসনাদে আহমাদ : ২৩৭০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস