
حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ طَاوُسٍ عَنْ أَبِيهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانُوا يَرَوْنَ الْعُمْرَةَ فِي أَشْهُرِ الْحَجِّ مِنْ أَفْجَرِ الْفُجُورِ فِي الْأَرْضِ وَيَجْعَلُونَ الْمُحَرَّمَ صَفَرًا وَيَقُولُونَ إِذَا بَرَأَ الدَّبَرْ وَعَفَا الْأَثَرْ وَانْسَلَخَ صَفَرْ حَلَّتْ الْعُمْرَةُ لِمَنْ اعْتَمَرْ فَلَمَّا قَدِمَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَصْحَابُهُ لِصَبِيحَةِ رَابِعَةٍ مُهِلِّينَ بِالْحَجِّ فَأَمَرَهُمْ أَنْ يَجْعَلُوهَا عُمْرَةً فَتَعَاظَمَ ذَلِكَ عِنْدَهُمْ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ الْحِلِّ قَالَ الْحِلُّ كُلُّهُ وَفِي كِتَابِهِ لِصُبْحٍ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
লোকেরা মনে করতো হজের মাসগুলোতে ওমরাহ করা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গুনাহের মধ্যে একটি এবং তারা মহররাম মাসকে সফর মাস হিসেবে অভিহিত করতো। তারা বলতো, যখন উটের পিঠ ভালো হয়ে যাবে এবং হাজীদের পথ চিহ্ন মুছে যাবে এবং সফর মাস শেষ হবে, তখন যারা ওমরাহ করতে চায়, তাদের জন্য ওমরাহ জায়েজ হয়ে যাবে। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ (যুল হিজ্জার) চতুর্থ তারিখে এসে হজ্জের তালবিয়া পাঠ করলেন এবং তিনি তাদেরকে ‘ওমরাহ’ করতে বললেন। এটা তাদের জন্যে খুবই কঠিন ছিলো এবং তারা বললো, “হে আল্লাহর রাসূল, আমরা ইহরাম থেকে কতটুকু হালাল হবো?” তিনি বললেন, “পুরোপুরি হালাল হও।” [মুসনাদে আহমাদ : ২১৬১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ طَاوُسٍ عَنْ أَبِيهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى أَنْ يَبِيعَ الرَّجُلُ طَعَامًا حَتَّى يَسْتَوْفِيَهُ قَالَ فَقُلْتُ لَهُ كَيْفَ ذَلِكَ قَالَ ذَلِكَ دَرَاهِمُ بِدَرَاهِمَ وَالطَّعَامُ مُرْجَأٌ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি খাদ্যদ্রব্য বা কোনো শস্য ক্রয় করে, সে যেনো তা পুরোপুরি দখল করার আগে বিক্রি না করে।” আমি [বর্ণনাকারী] তাকে বললাম, “কেনো এমন হলো?” হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “এটা হবে দিরহামের বিনিময়ে দিরহাম বিক্রি করার মতো, অথচ খাদ্যদ্রব্য এখনো স্থগিত রয়েছে।” [মুসনাদে আহমাদ : ২১৬২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ طَاوُسٍ عَنْ عِكْرِمَةَ بْنِ خَالِدٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَامَ مِنْ اللَّيْلِ يُصَلِّي فَقُمْتُ فَتَوَضَّأْتُ فَقُمْتُ عَنْ يَسَارِهِ فَجَذَبَنِي فَجَرَّنِي فَأَقَامَنِي عَنْ يَمِينِهِ فَصَلَّى ثَلَاثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً قِيَامُهُ فِيهِنَّ سَوَاءٌ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাতে উঠে সালাত আদায় করলেন। অতঃপর আমিও উঠে উযূ করলাম, তারপর আমি তার বাম দিকে দাঁড়ালাম, কিন্তু তিনি আমাকে টেনে তার ডানদিকে দাঁড় করালেন। তিনি তেরো (১৩) রাকাত নামায পড়লেন এবং প্রতি রাকাতের দাঁড়ানোর সময় সমান ছিলো। [মুসনাদে আহমাদ : ২১৬৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ قَالَ قَالَ عُرْوَةُ لِابْنِ عَبَّاسٍ حَتَّى مَتَى تُضِلُّ النَّاسَ يَا ابْنَ عَبَّاسٍ قَالَ مَا ذَاكَ يَا عُرَيَّةُ قَالَ تَأْمُرُنَا بِالْعُمْرَةِ فِي أَشْهُرِ الْحَجِّ وَقَدْ نَهَى أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ قَدْ فَعَلَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ عُرْوَةُ كَانَا هُمَا أَتْبَعَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَعْلَمَ بِهِ مِنْكَ
হজরত উরওয়া ইবনে যুবাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার উরওয়া ইবনে যুবাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন, “হে ইবনে আব্বাস! তুমি আর কতদিন মানুষকে পথভ্রষ্ট করবে?” হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “হে উরওয়াহ তুমি এমন কেনো বলছো?” হজরত উরওয়া ইবনে যুবাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “আপনি আমাদেরকে হজ্জের মাসে উমরা করার নির্দেশ দেন, অথচ হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু ও হজরত উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তা করতে নিষেধ করতেন।” হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা করেছেন।” হজরত উরওয়া ইবনে যুবাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “তারা (হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু ও হজরত উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অধিক অনুসরণ করতেন এবং তাঁর সম্পর্কে তোমার চেয়ে অধিক জ্ঞানী ছিলেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ২১৬৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا بَهْزٌ أَخْبَرَنَا هَمَّامٌ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ سَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ إِنَّ أُخْتَهُ نَذَرَتْ أَنْ تَمْشِيَ إِلَى الْبَيْتِ وَشَكَا إِلَيْهِ ضَعْفَهَا فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنْ نَذْرِ أُخْتِكَ فَلْتَرْكَبْ وَلْتُهْدِ بَدَنَةً
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার হজরত উকবা ইবনে আমির রাদিয়াল্লাহু আনহু রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন যে, তাঁর বোন মানত করেছিলো যে, সে পায়ে হেঁটে বায়তুল্লাহ শরীফে যাবে, কিন্তু এখন সে খুবই দুর্বল হয়ে পড়েছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমার বোনের মানতের আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। সে যেনো সওয়ারীর উপর আরোহণ করে যায় এবং একটি উট কুরবানী করে।” [মুসনাদে আহমাদ : ২১৬৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ حَدَّثَنَا خَالِدٌ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ حَرَّمَ مَكَّةَ فَلَمْ تَحِلَّ لِأَحَدٍ كَانَ قَبْلِي وَلَا تَحِلُّ لِأَحَدٍ بَعْدِي وَإِنَّمَا أُحِلَّتْ لِي سَاعَةً مِنْ نَهَارٍ لَا يُخْتَلَى خَلَاهَا وَلَا يُعْضَدُ شَجَرُهَا وَلَا يُنَفَّرُ صَيْدُهَا وَلَا تُلْتَقَطُ لُقَطَتُهَا إِلَّا لِمُعَرِّفٍ فَقَالَ الْعَبَّاسُ إِلَّا الْإِذْخِرَ لِصَاغَتِنَا وَقُبُورِنَا قَالَ إِلَّا الْإِذْخِرَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (মক্কা বিজয়ের দিন) বলেন, “আল্লাহ তাআলা মক্কায় (রক্তপাত) হারাম করে দিয়েছেন। আমার আগেও কারো জন্য মক্কা হালাল করা হয়নি এবং আমার পরেও কারো জন্য হালাল করা হবে না। আমার জন্য শুধুমাত্র দিনের কিছু অংশে মক্কায় (রক্তপাত) হালাল হয়েছিলো। মক্কার কোন ঘাস কাটা যাবে না, কোন গাছ কাটা যাবে না। কোন শিকারকে তাড়ানো যাবে না। ঘোষণাকারী ব্যতিত কেউ মক্কার জমিনে পড়ে থাকা মাল উঠাতে পারবে না।” হজরত আব্বাস ইবনু আবদুল মুত্তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল! কিন্তু ইযখির ঘাস, যা আমাদের স্বর্ণকারদের ও আমাদের ঘরের ছাদের জন্যে ব্যবহৃত হয়, তা ব্যতীত।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “ইযখির ঘাস ব্যতিত।” হজরত ইকরাম রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “তুমি কি জানো শিকার তাড়ানোর অর্থ কী? তা হলো, ছায়ায় অবস্থিত শিকারকে তাড়িয়ে তার স্থানে নিজে বসা।” আবদুল ওয়াহহাব রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বলেছেন, “আমাদের স্বর্ণকারদের জন্যে ও আমাদের কবরের জন্যে। ” [মুসনাদে আহমাদ : ২১৬৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ أَبِي يَحْيَى عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَجُلَيْنِ اخْتَصَمَا إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَأَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمُدَّعِيَ الْبَيِّنَةَ فَلَمْ يَكُنْ لَهُ بَيِّنَةٌ فَاسْتَحْلَفَ الْمَطْلُوبَ فَحَلَفَ بِاللَّهِ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّكَ قَدْ فَعَلْتَ وَلَكِنْ غُفِرَ لَكَ بِإِخْلَاصِكَ قَوْلَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
দুই জন ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে একটি বিবাদ নিয়ে এলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাবিদারের কাছে প্রমাণ চাইলেন। তার কাছে কোনো প্রমাণ ছিলো না, তাই তিনি বিবাদীকে একটি শপথ করতে বললেন এবং সে আল্লাহর নামে শপথ করলো যে, “ঐ আল্লাহর নামে শপথ করছি, যিনি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তুমি এই কাজটি করেছো। কিন্তু ‘আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই’ তোমার এ কথা আল্লাহর প্রতি আন্তরিকতার সাথে বলার কারণে, তোমার অপরাধ ক্ষমা করা হয়ে গেছে।” [মুসনাদে আহমাদ : ২১৬৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا وَكِيعٌ وَابْنُ جَعْفَرٍ الْمَعْنَى قَالَا حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ النُّعْمَانِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَامَ فِينَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمَوْعِظَةٍ فَقَالَ إِنَّكُمْ مَحْشُورُونَ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى حُفَاةً عُرَاةً غُرْلًا كَمَا بَدَأْنَا أَوَّلَ خَلْقٍ نُعِيدُهُ وَعْدًا عَلَيْنَا إِنَّا كُنَّا فَاعِلِينَ فَأَوَّلُ الْخَلَائِقِ يُكْسَى إِبْرَاهِيمُ خَلِيلُ الرَّحْمَنِ عَزَّ وَجَلَّ قَالَ ثُمَّ يُؤْخَذُ بِقَوْمٍ مِنْكُمْ ذَاتَ الشِّمَالِ قَالَ ابْنُ جَعْفَرٍ وَإِنَّهُ سَيُجَاءُ بِرِجَالٍ مِنْ أُمَّتِي فَيُؤْخَذُ بِهِمْ ذَاتَ الشِّمَالِ فَأَقُولُ يَا رَبِّ أَصْحَابِي قَالَ فَيُقَالُ لِي إِنَّكَ لَا تَدْرِي مَا أَحْدَثُوا بَعْدَكَ لَمْ يَزَالُوا مُرْتَدِّينَ عَلَى أَعْقَابِهِمْ مُذْ فَارَقْتَهُمْ فَأَقُولُ كَمَا قَالَ الْعَبْدُ الصَّالِحُ وَكُنْتُ عَلَيْهِمْ شَهِيدًا مَا دُمْتُ فِيهِمْ الْآيَةَ إِلَى إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে নসীহত করলেন এবং বললেন, “কিয়ামতের দিন তোমাদের সবাইকে খালি পায়ে, উলঙ্গ শরীরে এবং খতনাবিহীন অবস্থায় আল্লাহর সামনে হাজির করা হবে।” তারপর তিনি এই আয়াত পড়লেন,
يَوۡمَ نَطۡوِي ٱلسَّمَآءَ كَطَيِّ ٱلسِّجِلِّ لِلۡكُتُبِۚ كَمَا بَدَأۡنَآ أَوَّلَ خَلۡقٖ نُّعِيدُهُۥۚ وَعۡدًا عَلَيۡنَآۚ إِنَّا كُنَّا فَٰعِلِينَ١٠٤
সেই দিন আমি আকাশকে গুটিয়ে নিবো, যেমন গুটানো হয় লিখিত কাগজপত্র। যেভাবে আমি প্রথম সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম, সেইভাবে আমি সব কিছুকে পুনরায় সৃষ্টি করবো। অঙ্গীকার রক্ষা করা আমার উপরে দায়িত্ব। নিশ্চয় আমিই অঙ্গীকার সম্পাদনকারী। [২১ : ১০৪]
“মানবজাতির মধ্যে প্রথমে পোশাক পরানো হবে ইব্রাহিম (আঃ)-কে, যিনি পরম করুণাময়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু (খালিলুর-রহমান)। তারপর আমার উম্মতের কিছু লোককে আনা হবে এবং বাম দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। আমি বলবো, ‘হে আমার রব, এরা আমার সাথী!’ কিন্তু আমাকে বলা হবে, ‘আপনি জানেন না, তারা আপনার চলে যাওয়ার পরে কী বিদআত উদ্ভাবন করেছে। আপনি তাদের ছেড়ে চলে যাওয়ার পর থেকে তারা মুরতাদ হয়ে গেছে।’ এ কথা শোনার পরে আমি ঐ কথাগুলো বলবো যে কথাগুলো আল্লাহর ধার্মিক দাস ঈসা (আঃ) বলেছিলেন,”
مَا قُلۡتُ لَهُمۡ إِلَّا مَآ أَمَرۡتَنِي بِهِۦٓ أَنِ ٱعۡبُدُواْ ٱللَّهَ رَبِّي وَرَبَّكُمۡۚ وَكُنتُ عَلَيۡهِمۡ شَهِيدٗا مَّا دُمۡتُ فِيهِمۡۖ فَلَمَّا تَوَفَّيۡتَنِي كُنتَ أَنتَ ٱلرَّقِيبَ عَلَيۡهِمۡۚ وَأَنتَ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ شَهِيدٌ١١٧
আপনি আমাকে যা আদেশ করেছেন তা ছাড়া, আমি তাদেরকে অন্য কিছুই বলিনি। আমি তাদেরকে বলেছিলাম যে, তোমরা আল্লাহর উপাসনা করো, যিনি আমার প্রভু ও তোমাদেরও প্রভু। আর আমি তাদের উপর সাক্ষী ছিলাম, যতক্ষণ আমি তাদের মধ্যে ছিলাম। তারপর যখন আপনি আমাকে আপনার কাছে তুলে নিলেন, তখন আপনিই তাদের উপরে প্রহরী ছিলেন। বস্তুত আপনিই হচ্ছেন সব কিছুর উপরে সাক্ষী। [৫ : ১১৭] [মুসনাদে আহমাদ : ২১৬৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ حَدَّثَنَا أَبُو بِشْرٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ قَالَ إِنَّ الَّذِي تَدْعُونَهُ الْمُفَصَّلَ هُوَ الْمُحْكَمُ تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا ابْنُ عَشْرِ سِنِينَ وَقَدْ قَرَأْتُ الْمُحْكَمَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
যে সূরা গুলোকে তোমরা আল-মুফাস্সাল বলো, সেগুলো আসলে আল-মুহকাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ইন্তেকাল করেন, তখন আমার বয়স ছিলো দশ বছর এবং ততক্ষণে আমি আল-মুহকাম সূরা গুলোকে শিখেছিলাম। [মুসনাদে আহমাদ : ২১৬৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ ، حَدَّثَنَا الْحَجَّاجُ بْنُ أَرْطَاةَ ، حَدَّثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ ، قَالَ: يَعْنِي حَجَّاجًا وَحَدَّثَنِي الْحَكَمُ ، عَنْ مِقْسَمٍ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ : أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كُفِّنَ فِي ثَوْبَيْنِ أَبْيَضَيْنِ، وَفِي بُرْدٍ أَحْمَرَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দুটি সাদা কাপড় এবং একটি লাল কাপড়ে আবৃত করে দাফন দেয়া হয়েছিলো। [মুসনাদে আহমাদ : ২১৭০]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ أَخْبَرَنَا عَطَاءُ بْنُ السَّائِبِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ إِبْرَاهِيمَ جَاءَ بِإِسْمَاعِيلَ عَلَيْهِمَا السَّلَام وَهَاجَرَ فَوَضَعَهُمَا بِمَكَّةَ فِي مَوْضِعِ زَمْزَمَ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ ثُمَّ جَاءَتْ مِنْ الْمَرْوَةِ إِلَى إِسْمَاعِيلَ وَقَدْ نَبَعَتْ الْعَيْنُ فَجَعَلَتْ تَفْحَصُ الْعَيْنَ بِيَدِهَا هَكَذَا حَتَّى اجْتَمَعَ الْمَاءُ مِنْ شَقِّهِ ثُمَّ تَأْخُذُهُ بِقَدَحِهَا فَتَجْعَلُهُ فِي سِقَائِهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَرْحَمُهَا اللَّهُ لَوْ تَرَكَتْهَا لَكَانَتْ عَيْنًا سَائِحَةً تَجْرِي إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
হজরত ইব্রাহিম (আঃ) হজরত ইসমাইল (আঃ) ও হজরত হাজেরা (আঃ)-কে সঙ্গে নিয়ে আসেন এবং তাদের উভয়কে মক্কায় জমজমের স্থানে রেখে যান। এবং তিনি হাদীছ বর্ণনা করেছেন। অতঃপর হজরত হাজেরা (আঃ) আল-মারওয়াহ থেকে হজরত ইসমাইল (আঃ)-এর কাছে আসেন এবং একটি ঝর্ণা প্রবাহিত হতে থাকে। হজরত হাজেরা (আঃ) ঝরনার চারপাশে হাত দিয়ে খনন করতে লাগলো, একটি গর্ত তৈরি করতে, যাতে এই গর্তে পানি জমে যায়। তারপর তিনি তার পানির মশকে পানি ভরতে লাগলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন; যদি তিনি ঝর্ণাটিকে এভাবে রেখে যেতেন, তবে কিয়ামত পর্যন্ত ঝর্ণা প্রবাহিত হতো (এবং এটি বহুদূরে ছড়িয়ে পড়তো)।” [মুসনাদে আহমাদ : ২১৭১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ حَدَّثَنِي وَهْبُ بْنُ كَيْسَانَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ عَنْ أَبِيهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ وَحَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ عَنْ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَكَلَ لَحْمًا أَوْ عَرْقًا فَصَلَّى وَلَمْ يَمَسَّ مَاءً
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাড়সহ কিছু গোশত বা শুধু গোশত খেলেন ও নামাজ পড়লেন এবং নতুন করে পানি স্পর্শ করলেন না। [মুসনাদে আহমাদ : ২১৭২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا خَالِدٌ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ أَبِي زِيَادٍ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَدِمْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حُجَّاجًا فَأَمَرَهُمْ فَجَعَلُوهَا عُمْرَةً ثُمَّ قَالَ لَوْ اسْتَقْبَلْتُ مِنْ أَمْرِي مَا اسْتَدْبَرْتُ لَفَعَلْتُ كَمَا فَعَلُوا وَلَكِنْ دَخَلَتْ الْعُمْرَةُ فِي الْحَجِّ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ ثُمَّ أَنْشَبَ أَصَابِعَهُ بَعْضَهَا فِي بَعْضٍ فَحَلَّ النَّاسُ إِلَّا مَنْ كَانَ مَعَهُ هَدْيٌ وَقَدِمَ عَلِيٌّ مِنْ الْيَمَنِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمَ أَهْلَلْتَ قَالَ أَهْلَلْتُ بِمَا أَهْلَلْتَ بِهِ قَالَ فَهَلْ مَعَكَ هَدْيٌ قَالَ لَا قَالَ فَأَقِمْ كَمَا أَنْتَ وَلَكَ ثُلُثُ هَدْيِي قَالَ وَكَانَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِائَةُ بَدَنَةٍ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে হজ্বযাত্রী হিসেবে উপস্থিত হলাম। তিনি আমাদেরকে উমরাহ করতে বললেন। তারপর তিনি বললেন, “আমি এখন যা জানি তা যদি আগে জানতাম, তবে তোমরা যা করেছো আমিও তাই করতাম। বরং এখন ওমরাহ কিয়ামত পর্যন্ত হজের মধ্যে প্রবেশ করেছে।” একথা বলার পর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুই হাতের আঙ্গুলগুলো জোড়া মিলিয়ে তা দেখালেন। অতঃপর যাদের কাছে হাদি ছিলো তারা ব্যতীত সকলেই উমরাহ করলো। হজরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু ইয়ামেন থেকে এসেছিলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, “তুমি কিসের জন্যে ইহরাম বেঁধেছ?” হজরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বললো, “আপনি যে জন্যে ইহরাম বেঁধেছেন, আমিও সে জন্যে ইহরাম বেঁধেছি।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, “তুমি কি তোমার সাথে কোরানীর জন্তু নিয়ে এসেছো?” হজরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বললো, “না।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, “তাহলে তুমি যেমন আছো, তেমনি থাকো আর তুমি আমার হাদির এক-তৃতীয়াংশ পাবে।” আর তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে একশত উট ছিলো। [মুসনাদে আহমাদ : ২১৭৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَزِيدُ أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ فَرْقَدٍ السَّبَخِيِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ امْرَأَةً جَاءَتْ بِوَلَدِهَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ بِهِ لَمَمًا وَإِنَّهُ يَأْخُذُهُ عِنْدَ طَعَامِنَا فَيُفْسِدُ عَلَيْنَا طَعَامَنَا قَالَ فَمَسَحَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَدْرَهُ وَدَعَا لَهُ فَتَعَّ تَعَّةً فَخَرَجَ مِنْ فِيهِ مِثْلُ الْجَرْوِ الْأَسْوَدِ فَشُفِيَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
এক মহিলা তার সন্তানকে নিয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! খাওয়ার সময় শিশুটির কিছু ব্যথা অনুভব হয় আর সে আমাদের সব খাবার নষ্ট করে ফেলে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিশুটির বুকে হাত রেখে তার জন্যে দোয়া করলেন। হঠাৎ শিশুটি বমি করলো এবং তার মুখ দিয়ে কালো বাদুড়ের মতো কিছু একটা বের হয়ে পালিয়ে গেলো। [মুসনাদে আহমাদ : ২১৭৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ أَخْبَرَنَا جَابِرٌ الْجُعْفِيُّ حَدَّثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّ بِقِدْرٍ فَأَخَذَ مِنْهَا عَرْقًا وَكَتِفًا فَأَكَلَهُ ثُمَّ صَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাঁধ বা হাড়ের গোশত খেলেন, তারপর তিনি নতুন করে অযু না করে, পূর্বের অযু দ্বারা সালাত আদায় করলেন।
[মুসনাদে আহমাদ : ২১৭৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَزِيدُ أَخْبَرَنَا هِشَامٌ الدَّسْتُوَائِيُّ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ أَبِي سَلَّامٍ عَنِ الْحَكَمِ بْنِ مِينَاءَ عَنِ ابْنِ عُمَرَ وَابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُمَا شَهِدَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ وَهُوَ عَلَى أَعْوَادِ الْمِنْبَرِ لَيَنْتَهِيَنَّ أَقْوَامٌ عَنْ وَدْعِهِمْ الْجُمُعَاتِ أَوْ لَيَخْتِمَنَّ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَى قُلُوبِهِمْ وَلَيُكْتَبَنَّ مِنْ الْغَافِلِينَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিম্বরে থাকা অবস্থায় বলেছেন, “লোকেরা যেনো জুমআর নামায বর্জন করা থেকে বিরত থাকে, নতুবা আল্লাহ তাদের অন্তরে মোহর মেরে দিবেন এবং তাদেরকে গাফেলদের অন্তর্ভুক্ত করে দিবেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ২১৭৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ أَخْبَرَنَا هِشَامٌ الدَّسْتُوَائِيُّ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمُخَنَّثِينَ مِنْ الرِّجَالِ وَالْمُتَرَجِّلَاتِ مِنْ النِّسَاءِ وَقَالَ أَخْرِجُوهُمْ مِنْ بُيُوتِكُمْ فَأَخْرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فُلَانًا وَأَخْرَجَ عُمَرُ فُلَانًا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই সব নারীরূপী পুরুষদেরকে অভিশাপ দিয়েছেন, যারা মহিলা হিজরা সাজে বা হয়ে যায় এবং সেইসব পুরুষরূপী নারীদেরকে অভিশাপ দিয়েছেন, যারা পুরুষ হিজরা সাজে বা হয়ে যায়। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “এ ধরনের লোকদেরকে তোমরা তোমাদের ঘর থেকে বের করে দাও।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন ব্যক্তিকে বহিষ্কার করেছেন এবং হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-ও এমন ব্যক্তিকে বহিষ্কার করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২১৭৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ زَيْدٍ عَنْ رَجُلٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَّى عَلَى النَّجَاشِيِّ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নাজাশীর জানাজা পড়ালেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২১৭৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَزِيدُ أَخْبَرَنَا أَبُو عَوَانَةَ حَدَّثَنَا بُكَيْرُ بْنُ الْأَخْنَسِ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ فَرَضَ الصَّلَاةَ عَلَى لِسَانِ نَبِيِّكُمْ عَلَى الْمُقِيمِ أَرْبَعًا وَعَلَى الْمُسَافِرِ رَكْعَتَيْنِ وَعَلَى الْخَائِفِ رَكْعَةً
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
মহান আল্লাহ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাধ্যমে তোমাদের ওপর নামায ফরজ করেছেন, অ-মুসাফিরদের জন্য চার রাকাত, মুসাফিরের জন্য দুই রাকাত এবং যুদ্ধের সময় ভয়ের নামায এক রাকাত। [মুসনাদে আহমাদ : ২১৭৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ قَالَ أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ زَيْدٍ عَنْ يُوسُفَ بْنِ مِهْرَانَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا مِنْ أَحَدٍ مِنْ وَلَدِ آدَمَ إِلَّا قَدْ أَخْطَأَ أَوْ هَمَّ بِخَطِيئَةٍ لَيْسَ يَحْيَى بْنَ زَكَرِيَّا وَمَا يَنْبَغِي لِأَحَدٍ أَنْ يَقُولَ أَنَا خَيْرٌ مِنْ يُونُسَ بْنِ مَتَّى عَلَيْهِ السَّلَام
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আদম সন্তানদের মধ্যে হজরত ইয়াহইয়া বিন জাকারিয়া (আঃ) ব্যতীত এমন কোনো ব্যক্তি নেই, যে ব্যক্তি পাপ করে না বা পাপ করার কথা চিন্তা করে না। কোনো ব্যক্তির জন্যে এটা বলা সঙ্গত নয় যে, আমি হজরত ইউনুস বিন মাত্তা (আঃ) থেকে উত্তম।” [মুসনাদে আহমাদ : ২১৮০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ عَنْ يَحْيَى بْنِ الْجَزَّارِ أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ قَالَ مَرَرْتُ أَنَا وَغُلَامٌ مِنْ بَنِي هَاشِمٍ عَلَى حِمَارٍ وَتَرَكْنَاهُ يَأْكُلُ مِنْ بَقْلٍ بَيْنَ يَدَيْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمْ يَنْصَرِفْ وَجَاءَتْ جَارِيَتَانِ تَشْتَدَّانِ حَتَّى أَخَذَتَا بِرُكْبَتَيْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمْ يَنْصَرِفْ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার বনু হাশিমের এক বালক এবং আমি একটি গাধার পিঠে চড়ে আসলাম। ঐ সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামায পড়ছিলেন। আমরা গাধাটিকে ছেড়ে দিলাম, গাধাটি ঘাস খেতে লাগলো ও রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামাযের সামনে দিয়ে চরতে লাগলো। অথচ তিনি নামায পড়া বন্ধ করলেন না। বনু আবদুল মুত্তালিবের দুটি ছোট মেয়ে ছুটে এসে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাঁটু জরিয়ে ধরলো। অথচ তিনি নামায পড়া বন্ধ করলেন না। [মুসনাদে আহমাদ : ২১৮১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ قَتَادَةُ أَخْبَرَنِي قَالَ سَمِعْتُ أَبَا حَسَّانَ يُحَدِّثُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَّى الظُّهْرَ بِذِي الْحُلَيْفَةِ ثُمَّ دَعَا بِبَدَنَتِهِ أَوْ أُتِيَ بِبَدَنَتِهِ فَأَشْعَرَ صَفْحَةَ سَنَامِهَا الْأَيْمَنِ ثُمَّ سَلَتَ الدَّمَ عَنْهَا وَقَلَّدَهَا بِنَعْلَيْنِ ثُمَّ أَتَى رَاحِلَتَهُ فَلَمَّا قَعَدَ عَلَيْهَا وَاسْتَوَتْ بِهِ عَلَى الْبَيْدَاءِ أَهَلَّ بِالْحَجِّ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুল-হুলাইফাতে যোহরের নামায পড়লেন। তারপর তিনি তাঁর কুরবানীর উটকে ডাকলেন এবং তার কুঁজের ডান দিক থেকে রক্ত বের করে তার ওপর ছিটিয়ে দিলেন। তারপর তা পরিষ্কার করলেন। তারপর দুটি জুতার মালা পরিয়ে দিলেন। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সওয়ারী আনা হলো এবং যখন তিনি আল-বাইদাতে পৌঁছলেন, তখন তিনি হজের ইহরাম বাঁধলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২১৮২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا أَبَانُ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ الرِّيَاحِيِّ عَنِ ابْنِ عَمِّ نَبِيِّكُمْ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعْنِي ابْنَ عَبَّاسٍ أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَدْعُو بِهَذِهِ الدَّعَوَاتِ عِنْدَ الْكَرْبِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ الْعَلِيمُ الْعَظِيمُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ رَبُّ السَّمَاوَاتِ السَّبْعِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুঃসময়ে এই দোয়াটি পাঠ করতেন,
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ الْعَلِيمُ الْعَظِيمُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ رَبُّ السَّمَاوَاتِ السَّبْعِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ
“আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নেই, তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান। আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নেই, তিনি মহান আরশের অধিপতি। আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নেই, তিনি সাত আসমানের প্রভু এবং সন্মানিত আরশের অধিপতি।” [মুসনাদে আহমাদ : ২১৮৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا الْعَالِيَةِ يَقُولُ حَدَّثَنِي ابْنُ عَمِّ نَبِيِّكُمْ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعْنِي ابْنَ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَنْبَغِي لِأَحَدٍ أَنْ يَقُولَ أَنَا خَيْرٌ مِنْ يُونُسَ بْنِ مَتَّى وَنَسَبَهُ إِلَى أَبِيهِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কোনো ব্যক্তির জন্য এটা বলা ঠিক নয় যে, আমি হজরত ইউনুস ইবনে মাত্তার চেয়ে উত্তম।” [মুসনাদে আহমাদ : ২১৮৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ أَخْبَرَنِي أَبُو بِشْرٍ قَالَ سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ جُبَيْرٍ يُحَدِّثُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ خَالَتَهُ أُمَّ حُفَيْدٍ أَهْدَتْ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَمْنًا وَأَضُبًّا وَأَقِطًا قَالَ فَأَكَلَ مِنْ السَّمْنِ وَمِنْ الْأَقِطِ وَتَرَكَ الْأَضُبَّ تَقَذُّرًا فَأُكِلَ عَلَى مَائِدَةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَوْ كَانَ حَرَامًا لَمْ يُؤْكَلْ عَلَى مَائِدَةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُلْتُ مَنْ قَالَ لَوْ كَانَ حَرَامًا قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমার খালা উম্মে হুফাইদ রাদিয়াল্লাহু আনহু রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কিছু ঘি, একটি রান্না করা দুব্বা (টিকটিকি জাতীয় প্রাণী) এবং কিছু দই দিয়েছিলেন। তিনি ঘি ও দই খেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি দুব্বা খাননি, কারণ তিনি তা অপছন্দ করেছিলেন। কিন্তু তা রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনেই খাওয়া হয়েছিলো এবং যদি তা হারাম হতো তবে তা রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে খাওয়া হতো না। [মুসনাদে আহমাদ : ২১৮৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَمْرٍو عَنْ طَاوُسٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ أُمِرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَسْجُدَ عَلَى سَبْعٍ وَنُهِيَ أَنْ يَكُفَّ شَعَرَهُ وَثِيَابَهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সাতটি হাড়ের ওপর (নাক, উভয় হাত, উভয় হাঁটু এবং উভয় পায়) সিজদা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিলো এবং নামাযের সময় কাপড় ও চুল মোড়ানো নিষিদ্ধ ছিলো। [মুসনাদে আহমাদ : ২১৮৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يُونُسُ عَنْ حَمَّادٍ يَعْنِي ابْنَ سَلَمَةَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ عَنْ يُوسُفَ بْنِ مِهْرَانَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ قَالَ لِي جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَام إِنَّهُ قَدْ حُبِّبَ إِلَيْكَ الصَّلَاةُ فَخُذْ مِنْهَا مَا شِئْتَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, একবার জিব্রাইল (আঃ) আমাকে বললেন, “আপনাকে নামাযের প্রতি ভালোবাসা দেওয়া হয়েছে, তাই আপনি যত খুশি নামায আদায় করুন।” [মুসনাদে আহমাদ : ২১৮৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا أَبُو الْأَحْوَصِ قَالَ أَخْبَرَنَا سِمَاكٌ عَنْ عِكْرِمَةَ قَالَ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ أُتِيتُ وَأَنَا نَائِمٌ فِي رَمَضَانَ فَقِيلَ لِي إِنَّ اللَّيْلَةَ لَيْلَةُ الْقَدْرِ قَالَ فَقُمْتُ وَأَنَا نَاعِسٌ فَتَعَلَّقْتُ بِبَعْضِ أَطْنَابِ فُسْطَاطِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَإِذَا هُوَ يُصَلِّي فَنَظَرْتُ فِي تِلْكَ اللَّيْلَةِ فَإِذَا هِيَ لَيْلَةُ ثَلَاثٍ وَعِشْرِينَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একদা আমি রমজান মাসে ঘুমাচ্ছিলাম, একজন ব্যক্তি আমার স্বপ্নে এলো এবং আমাকে বললো যে, “আজ রাত লাইলাতুল-কদর।” অতঃপর আমি জেগে উঠলাম, যদিও আমি তন্দ্রাচ্ছন্ন ছিলাম। আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে তাঁকে সালাতরত অবস্থায় দেখতে পেলাম। আমি চিন্তা করতে লাগলাম যে আজ রমজানের কতো তম রাত এবং এটা ছিলো রমজানের তেইশ (২৩) তারিখের রাত। [মুসনাদে আহমাদ : ২১৮৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا ثَابِتٌ يَعْنِي ابْنَ يَزِيدَ حَدَّثَنَا هِلَالٌ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَبِيتُ اللَّيَالِي الْمُتَتَابِعَةَ طَاوِيًا وَأَهْلُهُ لَا يَجِدُونَ عَشَاءً قَالَ وَكَانَ عَامَّةُ خُبْزِهِمْ خُبْزَ الشَّعِيرِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একের পর এক অনেক রাত এমন ভাবে ক্ষুধার্ত অবস্থায় কাটাতেন যে, তাঁর পরিবারের লোকেরা রাতের খাবারের জন্যে কিছুই পেতেন না। তাঁরা বেশিরভাগ সময় যে রুটি খেতে পেতেন, তা ছিলো কেবল মাত্র যবের রুটি। [মুসনাদে আহমাদ : ২১৮৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ كَثِيرٍ أَبُو دَاوُدَ الْوَاسِطِيُّ قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ شِهَابٍ يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي سِنَانٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ خَطَبَنَا يَعْنِي رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ كُتِبَ عَلَيْكُمْ الْحَجُّ قَالَ فَقَامَ الْأَقْرَعُ بْنُ حَابِسٍ فَقَالَ فِي كُلِّ عَامٍ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ لَوْ قُلْتُهَا لَوَجَبَتْ وَلَوْ وَجَبَتْ لَمْ تَعْمَلُوا بِهَا أَوْ لَمْ تَسْتَطِيعُوا أَنْ تَعْمَلُوا بِهَا فَمَنْ زَادَ فَهُوَ تَطَوُّعٌ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুতবা দেওয়ার সময় আমাদেরকে বললেন যে, “হে লোক সকল! তোমাদের উপর হজ্ব ফরজ করা হয়েছে।” এ কথা শুনে আকুয়া ইবনে হাবস উঠে দাঁড়ালো এবং বললো যে, “ইয়া রাসূলাল্লাহ, প্রতি বছর কি হজ্ব ফরয?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আমি যদি বলতাম, হ্যাঁ। তাহলে প্রতি বছর হজ্ব করা (ধনীদের জন্যে) বাধ্যতামূলক হয়ে যেতো। কিন্তু যদি তা হয়ে যেতো, তবে তোমরা তা পালন করতে পারতে না। হজ্ব সারা জীবনে একবার ফরয হয় আর যে এর বেশি করে, সে স্বেচ্ছায় তা করে।” [মুসনাদে আহমাদ : ২১৯০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস