
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَاصِمٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيٍّ الرَّحَبِيُّ عَنْ عِكْرِمَةَ أَخْبَرَنَا ابْنُ عَبَّاسٍ قَالَ اغْتَسَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ جَنَابَةٍ فَلَمَّا خَرَجَ رَأَى لُمْعَةً عَلَى مَنْكِبِهِ الْأَيْسَرِ لَمْ يُصِبْهَا الْمَاءُ فَأَخَذَ مِنْ شَعَرِهِ فَبَلَّهَا ثُمَّ مَضَى إِلَى الصَّلَاةِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাবাত গোসল করলেন। যখন তিনি গোসল করে বের হলেন, তখন তিনি দেখলেন, তাঁর বাম কাঁধে একটি ছোট শুকনো জায়গা রয়েছে, সেখানে পানি পৌঁছায়নি। তাই তিনি তাঁর চুল থেকে কিছু পানি নিয়ে তা ভিজিয়ে দিলেন। তারপর তিনি এগিয়ে গিয়ে নামাজ আদায় করলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২০৭১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ عَنْ ثَعْلَبَةَ بْنِ مُسْلِمٍ الْخَثْعَمِيِّ عَنْ أَبِي كَعْبٍ مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قِيلَ لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَقَدْ أَبْطَأَ عَنْكَ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَام فَقَالَ وَلِمَ لَا يُبْطِئُ عَنِّي وَأَنْتُمْ حَوْلِي لَا تَسْتَنُّونَ وَلَا تُقَلِّمُونَ أَظْفَارَكُمْ وَلَا تَقُصُّونَ شَوَارِبَكُمْ وَلَا تُنَقُّونَ رَوَاجِبَكُمْ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একদা কেউ একজন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলো, “হে আল্লাহর রসুল, জিবরীল (আঃ) আপনার কাছে দীর্ঘকাল আসেননি কেনো?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “কেনো সে আমার থেকে দূরে থাকবে না, যখন তোমরা আমার আশেপাশের লোকেরা দাঁত মাজবে না, নখ কাটবে না, গোঁফ কাটবে না এবং আঙ্গুলের গোড়া পরিষ্কার করবে না।” [মুসনাদে আহমাদ : ২০৭২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ يَزِيدَ أَبِي خَالِدٍ قَالَ سَمِعْتُ الْمِنْهَالَ بْنَ عَمْرٍو يُحَدِّثُ عَنْ سَعَيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ مَا مِنْ عَبْدٍ مُسْلِمٍ يَعُودُ مَرِيضًا لَمْ يَحْضُرْ أَجَلُهُ فَيَقُولُ سَبْعَ مَرَّاتٍ أَسْأَلُ اللَّهَ الْعَظِيمَ رَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ أَنْ يَشْفِيَكَ إِلَّا عُوفِيَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কোনো মুসলিম ব্যক্তি যদি এমন কোনো অসুস্থ ব্যক্তির কাছে যায়, যার মৃত্যুর সময় এখনো নিকটবর্তী হয়নি এবং সাতবার এই দুয়া বলে, তবে ঐ অসুস্থ ব্যক্তি সুস্থ হয়ে যাবে।”
أَسْأَلُ اللَّهَ الْعَظِيمَ رَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ أَنْ يَشْفِيَكَ
“আমি সর্বশক্তিমান, পরাক্রমশালী আরশের অধিপতি আল্লাহর কাছে আপনাকে আরোগ্য দান করার জন্য প্রার্থনা করছি।” [মুসনাদে আহমাদ : ২০৭৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا هَاشِمٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَاصِمٍ عَنِ الشَّعْبِيِّ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ مَرَّ بِي النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَرِيبًا مِنْ زَمْزَمَ فَدَعَا بِمَاءٍ وَاسْتَسْقَى فَأَتَيْتُهُ بِدَلْوٍ مِنْ زَمْزَمَ فَشَرِبَ وَهُوَ قَائِمٌ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার নিকট দিয়ে জমজমের পাশ দিয়ে গেলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার কাছে পানি চাইলেন। আমি এক বালতি জমজমের পানি নিয়ে এলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা দাঁড়িয়ে পান করলেন।
[মুসনাদে আহমাদ : ২০৭৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْهَاشِمِيُّ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ قَالَ حَدَّثَنِي صَالِحُ بْنُ كَيْسَانَ وَابْنُ أَخِي ابْنِ شِهَابٍ كِلَاهُمَا عَنِ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَيَعْقُوبُ قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ صَالِحٍ قَالَ ابْنُ شِهَابٍ أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ أَخْبَرَهُ قَالَ بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ حُذَافَةَ بِكِتَابِهِ إِلَى كِسْرَى قَالَ فَدَفَعَهُ إِلَى عَظِيمِ الْبَحْرَيْنِ يَدْفَعُهُ عَظِيمُ الْبَحْرَيْنِ إِلَى كِسْرَى قَالَ يَعْقُوبُ فَدَفَعَهُ عَظِيمُ الْبَحْرَيْنِ إِلَى كِسْرَى فَلَمَّا قَرَأَهُ مَزَّقَهُ قَالَ ابْنُ شِهَابٍ فَحَسِبْتُ ابْنَ الْمُسَيَّبِ قَالَ فَدَعَا عَلَيْهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِأَنْ يُمَزَّقُوا كُلَّ مُمَزَّقٍ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুসরীর নাম বরাবর একটি পত্র হজরত আবদুল্লাহ ইবনে হুদাফা রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাতে পাঠিয়েছিলেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে হুদাফা রাদিয়াল্লাহু আনহু ঐ পত্রটি বাহরাইনের নিযুক্ত গভর্নরকে দিয়েছিলেন, যাতে প্রথা অনুযায়ী তিনি তা কুসরীর খেদমতে পেশ করেন। তাই বাহরাইনের গভর্নর সেই চিঠিটি কুসরীর খেদমতে পেশ করলেন। যখন কুসরীর চিঠিটি পাঠ করলো, তখন সে তা টুকরো টুকরো করে ছিঁড়ে ফেললো। ইমাম যুহরী (রহঃ) বলেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুসরীর জন্যে একই ভাবে বদদোয়া করেছেন যে, আল্লাহ যেনো তার রাজ্যকে টুকরো টুকরো করে বিভক্ত করে ফেলে।
[মুসনাদে আহমাদ : ২০৭৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا هَاشِمٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنِ الْحَكَمِ عَنْ مِقْسَمٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ صَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ حَتَّى أَتَى قُدَيْدًا فَأُتِيَ بِقَدَحٍ مِنْ لَبَنٍ فَأَفْطَرَ وَأَمَرَ النَّاسَ أَنْ يُفْطِرُوا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন কুদাইদে না আসা পর্যন্ত রোযা রেখেছিলেন। তার কাছে একটি দুধের পাত্র আনা হলো এবং তিনি তার রোজা ভঙ্গ করলেন এবং লোকদেরকে রোজা ভাঙার নির্দেশ দিলেন। (পরে এই রোজাটি কাযা আদায় করেছিলেন।) [মুসনাদে আহমাদ : ২০৭৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ قَالَ أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ أَبِي زِيَادٍ عَنْ مِقْسَمٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ احْتَجَمَ وَهُوَ مُحْرِمٌ صَائِمٌ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ইহরাম ও রোযা অবস্থায় থাকতেন, তখনও তিনি শিঙ্গা লাগাতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২০৭৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عُقْبَةَ عَنْ كُرَيْبٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالرَّوْحَاءِ فَلَقِيَ رَكْبًا فَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ فَقَالَ مَنْ الْقَوْمُ قَالُوا الْمُسْلِمُونَ قَالَ فَمَنْ أَنْتُمْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَفَزِعَتْ امْرَأَةٌ فَأَخَذَتْ بِعَضُدِ صَبِيٍّ فَأَخْرَجَتْهُ مِنْ مِحَفَّتِهَا فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلْ لِهَذَا حَجٌّ قَالَ نَعَمْ وَلَكِ أَجْرٌ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عُقْبَةَ عَنْ كُرَيْبٍ مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ مَعْنَاهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘রুহা’ নামক স্থানে অবস্থানকালে একদল সওয়ারীর সাথে সাক্ষাত করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে সালাম দিয়ে বললেন, “তোমরা কারা?” তারা বললো, “আমরা মুসলমান।” তারপর তারা জিজ্ঞেস করলো, “আপনি কে?” তখন রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “আমি আল্লাহর রসূল।” এ কথা শুনে একজন মহিলা দ্রুত গিয়ে, তার সন্তানের হাত ধরে তাকে তার পালকি থেকে তুলে নিয়ে বললো, “হে আল্লাহর রাসূল! এর জন্য কি হজ হতে পারে?” রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “হ্যাঁ! এবং তুমি এর সোয়াব পাবে।”
[মুসনাদে আহমাদ : ২০৭৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ مَالِكٍ حَدَّثَنِي زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَكَلَ كَتِفًا ثُمَّ صَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভেড়ার গোশত খেয়েছিলেন, তারপর তিনি নতুন করে অযু না করে, পূর্বের অযু দ্বারা সালাত আদায় করলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২০৭৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ يَعْنِي ابْنَ زَيْدٍ عَنْ أَبِي التَّيَّاحِ عَنْ مُوسَى بْنِ سَلَمَةَ قَالَ خَرَجْتُ أَنَا وَسِنَانُ بْنُ سَلَمَةَ وَمَعَنَا بَدَنَتَانِ فَأَزْحَفَتَا عَلَيْنَا فِي الطَّرِيقِ فَقَالَ لِي سِنَانٌِ هَلْ لَكَ فِي ابْنِ عَبَّاسٍ فَأَتَيْنَاهُ فَسَأَلَهُ سِنَانٌ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ قَالَ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْجُهَنِيُّ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أَبِي شَيْخٌ كَبِيرٌ لَمْ يَحُجَّ قَالَ حُجَّ عَنْ أَبِيكَ
হজরত মূসা বিন সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
সিনান বিন সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহু এবং আমি একবার আমাদের বাড়ি থেকে রওনা হলাম। আমাদের সাথে দুইটি উট ছিলো। পথিমধ্যে উট দুইটি ক্লান্ত হয়ে পড়লে সিনান বিন সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাকে বললো যে, চলুন আমরা হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকট যাই। আমরা উভয়ে তাঁর খেদমতে উপস্থিত হলাম, অতঃপর বর্ণনাকারী পুরো হাদিসটি উল্লেখ করে বলেন যে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, জাহিনা গোত্রের এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলো, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার পিতা খুবই বৃদ্ধ ও দুর্বল হয়ে পড়েছেন এবং হজ বা ওমরাহ করার মতো শক্তি তার নেই। (এ অবস্থায় আমি তার জন্যে কি করতে পারি?)” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন যে, “তুমি তোমার পিতার পক্ষ থেকে হজ করো।” [মুসনাদে আহমাদ : ২০৮০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ عَنِ الْقَعْقَاعِ بْنِ حَكِيمٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ وَعْلَةَ قَالَ سَأَلْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ عَنْ بَيْعِ الْخَمْرِ فَقَالَ كَانَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَدِيقٌ مِنْ ثَقِيفٍ أَوْ مِنْ دَوْسٍ فَلَقِيَهُ بِمَكَّةَ عَامَ الْفَتْحِ بِرَاوِيَةِ خَمْرٍ يُهْدِيهَا إِلَيْهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا أَبَا فُلَانٍ أَمَا عَلِمْتَ أَنَّ اللَّهَ حَرَّمَهَا فَأَقْبَلَ الرَّجُلُ عَلَى غُلَامِهِ فَقَالَ اذْهَبْ فَبِعْهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا أَبَا فُلَانٍ بِمَاذَا أَمَرْتَهُ قَالَ أَمَرْتُهُ أَنْ يَبِيعَهَا قَالَ إِنَّ الَّذِي حَرَّمَ شُرْبَهَا حَرَّمَ بَيْعَهَا فَأَمَرَ بِهَا فَأُفْرِغَتْ فِي الْبَطْحَاءِ
হজরত আবদুর-রহমান ইবনু ওয়ালাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে মদ বিক্রির বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলাম এবং তিনি বললেন যে, মক্কা বিজয়ের বছর মক্কায় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সাক্ষাত করার জন্য সাকীফ বা দাউস গোত্রের একজন ব্যক্তি এসেছিলো। সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বন্ধু ছিলো। সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে উপহার হিসাবে দেওয়ার জন্য একটি মদের একটি বড় কলস নিয়ে এসেছিলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন যে, “হে অমুকের পিতা, তুমি কি জানো না যে, আল্লাহ মদ হারাম করেছেন?” একথা শুনে লোকটি তার গোলামের দিকে ফিরে ফিসফিস করে বললো, “যাও এবং মদটি বিক্রি করে দাও।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, “হে অমুকের পিতা, তুমি তাকে কি করতে বলছো?” সে বললো, “আমি তাকে মদটি বিক্রি করতে বলেছি।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, “যিনি এটা পান করতে নিষেধ করেছেন, তিনি তা বিক্রি করতেও নিষেধ করেছেন।” তাই তিনি তা আল-বাথায় শহরে নিয়ে গিয়ে ঢেলে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২০৮১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يُونُسُ وَحَسَنُ بْنُ مُوسَى الْمَعْنَى قَالَا حَدَّثَنَا حَمَّادٌ يَعْنِي ابْنَ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ أَبِي قِلَابَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ لَا أَعْلَمُهُ إِلَّا قَدْ رَفَعَهُ قَالَ كَانَ إِذَا نَزَلَ مَنْزِلًا فَأَعْجَبَهُ الْمَنْزِلُ أَخَّرَ الظُّهْرَ حَتَّى يَجْمَعَ بَيْنَ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ وَإِذَا سَارَ وَلَمْ يَتَهَيَّأْ لَهُ الْمَنْزِلُ أَخَّرَ الظُّهْرَ حَتَّى يَأْتِيَ الْمَنْزِلَ فَيَجْمَعَ بَيْنَ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ قَالَ حَسَنٌ كَانَ إِذَا سَافَرَ أَلِنَزَلَ مَنْزِلًا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন কোনো সফরে থাকতেন ও কোনো স্থানে থামতেন এবং যে স্থানটিতে তিনি থামতেন, যদি তিনি তা পছন্দ করতেন, তাহলে তিনি যোহরের নামাযকে বিলম্বিত করতেন, যাতে তিনি যোহর ও আসরের নামাযকে একত্রিত করতে পারেন। আর যখন তিনি কোনো সফরে থাকতেন ও কোনো স্থানে থামার সুযোগ না হতো, তাহলে তিনি যোহরের নামাযকে বিলম্বিত করতেন, যাতে তিনি যোহর ও আসরের নামাযকে একত্রিত করতে পারেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২০৮২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَيُّوبُ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ أَبِي بِشْرٍ عَنْ مَيْمُونِ بْنِ مِهْرَانَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ كُلِّ ذِي نَابٍ مِنْ السِّبَاعِ وَعَنْ كُلِّ ذِي مِخْلَبٍ مِنْ الطَّيْرِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন প্রত্যেক বন্য প্রাণীকে খেতে নিষেধ করেছেন, যারা তাদের হিংস্র থাবা দিয়ে শিকার করতে পারে। আর এমন প্রত্যেক পাখিকে খেতে নিষেধ করেছেন, যারা তাদের হিংস্র নখ দিয়ে শিকার করতে পারে। [মুসনাদে আহমাদ : ২০৮৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يُونُسُ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ يَعْنِي ابْنَ زَيْدٍ عَنْ كَثِيرِ بْنِ شِنْظِيرٍ عَنْ عَطَاءٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ إِنَّمَا كَانَ بَدْءُ الْإِيضَاعِ مِنْ قِبَلِ أَهْلِ الْبَادِيَةِ كَانُوا يَقِفُونَ حَافَتَيْ النَّاسِ حَتَّى يُعَلِّقُوا الْعِصِيَّ وَالْجِعَابَ وَالْقِعَابَ فَإِذَا نَفَرُوا تَقَعْقَعَتْ تِلْكَ فَنَفَرُوا بِالنَّاسِ قَالَ وَلَقَدْ رُئِيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَإِنَّ ذِفْرَىْ نَاقَتِهِ لَيَمَسُّ حَارِكَهَا وَهُوَ يَقُولُ بِيَدِهِ يَا أَيُّهَا النَّاسُ عَلَيْكُمْ بِالسَّكِينَةِ يَا أَيُّهَا النَّاسُ عَلَيْكُمْ بِالسَّكِينَةِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
মুযদালিফা থেকে অগ্রসর হওয়ার সময় প্রথম যে লোকেরা তাড়াহুড়ো করেছিলো, তারা ছিলো বেদুইনরা। তারা লোকদের এক পাশে থাকার চেষ্টা করতো, যাতে তারা তাদের লাঠি, বড় বাটি এবং কাঠের পেয়ালা ঝুলিয়ে রাখতে পারে। তারপর যখন তারা চলতে শুরু করতো, তখন তারা অনেক কোলাহল করতো। আর আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তাঁর উটের কানের পিছনের অংশের কুঁজ স্পর্শ করতে দেখা গেছে (কারণ তিনি এটির লাগাম ধরে রেখেছিলেন) এবং তিনি তাঁর হাত দিয়ে ইশারা করে বলছিলেন যে, “হে লোকেরা, শান্ত হও, হে লোকেরা, শান্ত হও।” [মুসনাদে আহমাদ : ২০৮৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ عَنْ كُرَيْبٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَامَ حَتَّى نَفَخَ ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গভীরভাবে নাক ডাকা পর্যন্ত ঘুমালেন। অতঃপর যখন মুয়াজ্জিন এলেন, তখন তিনি নামাযের জন্য দাঁড়ালেন এবং আবার নতুন ওযু করলেন না। [মুসনাদে আহমাদ : ২০৮৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يُونُسُ وَعَفَّانُ قَالَا حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ أَيُّوبَ قَالَ عَفَّانُ قَالَ حَمَّادٌ أَخْبَرَنَا أَيُّوبُ وَقَيْسٌ عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَخَّرَ الْعِشَاءَ ذَاتَ لَيْلَةٍ حَتَّى نَامَ الْقَوْمُ ثُمَّ اسْتَيْقَظُوا ثُمَّ نَامُوا ثُمَّ اسْتَيْقَظُوا قَالَ قَيْسٌ فَجَاءَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ فَقَالَ الصَّلَاةَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ فَخَرَجَ فَصَلَّى بِهِمْ وَلَمْ يَذْكُرْ أَنَّهُمْ تَوَضَّئُوا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার এশার সালাত এত বিলম্বিত করলেন যে, লোকেরা দুবার ঘুমানোর পর জেগে উঠলো। তখন হজরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু এসে বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল! সালাত!” এরপরে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বেরিয়ে এসে তাদের নামায পড়ালেন। বর্ণনাকারী উল্লেখ করেননি যে তিনি অযু করেছিলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২০৮৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَمْرٍو عَنْ كُرَيْبٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ بِتُّ عِنْدَ خَالَتِي مَيْمُونَةَ فَقَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ اللَّيْلِ قَالَ فَتَوَضَّأَ وُضُوءًا خَفِيفًا فَقَامَ فَصَنَعَ ابْنُ عَبَّاسٍ كَمَا صَنَعَ ثُمَّ جَاءَ فَقَامَ فَصَلَّى فَحَوَّلَهُ فَجَعَلَهُ عَنْ يَمِينِهِ ثُمَّ صَلَّى مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ اضْطَجَعَ حَتَّى نَفَخَ فَأَتَاهُ الْمُؤَذِّنُ ثُمَّ قَامَ إِلَى الصَّلَاةِ وَلَمْ يَتَوَضَّأْ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার আমি আমার খালা, উম্মুল মুমিনীন, হযরত মায়মুনা বিনতে হারিস রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে রাত্রি যাপন করলাম। সেদিন রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে তার সঙ্গে ছিলেন। তিনি রাতে সালাত আদায়ের জন্য উঠেছিলেন। তিনি যখন দাঁড়ালেন, আমিও নামাযে শরীক হওয়ার জন্য বাম দিকে দাঁড়ালাম, তখন রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার মাথা ধরে আমাকে তাঁর ডান দিকে টেনে নিলেন। তারপর তিনি নাক ডাকা পর্যন্ত শুয়ে পড়লেন, তারপর যখন মুয়াজ্জিন এলেন, তখন রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযের জন্যে দাঁড়ালেন এবং আবার ওযু করলেন না। [মুসনাদে আহমাদ : ২০৮৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يُونُسُ حَدَّثَنَا شَيْبَانُ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ حَدَّثَنَا ابْنُ عَمِّ نَبِيِّكُمْ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ابْنُ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَيْتُ لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِي مُوسَى بْنَ عِمْرَانَ رَجُلًا آدَمَ طُوَالًا جَعْدًا كَأَنَّهُ مِنْ رِجَالِ شَنُوءَةَ وَرَأَيْتُ عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ عَلَيْهِمَا السَّلَام مَرْبُوعَ الْخَلْقِ إِلَى الْحُمْرَةِ وَالْبَيَاضِ سَبْطَ الرَّأْسِ حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ فِي تَفْسِيرِ شَيْبَانَ عَنْ قَتَادَةَ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو الْعَالِيَةِ حَدَّثَنَا ابْنُ عَمِّ نَبِيِّكُمْ ابْنُ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرَ مِثْلَهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “মিরাজের রাতে আমি হজরত মুসা ইবনে ইমরান (আঃ)-কে দেখেছি, তিনি একজন কোঁকড়া চুলের লম্বা কালো মানুষ, যেনো তিনি শানুআহ সম্প্রদায়ের একজন পুরুষ। আর আমি হজরত ঈসা (আঃ)-কে দেখেছি, তিনি মাঝারি উচ্চতা, লাল ও সাদা রঙের চেহারা এবং সোজা চুলের ছিলেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ২০৮৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَزِيدُ أَخْبَرَنَا عَبَّادُ بْنُ مَنْصُورٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ وَالَّذِينَ يَرْمُونَ الْمُحْصَنَاتِ ثُمَّ لَمْ يَأْتُوا بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاءَ فَاجْلِدُوهُمْ ثَمَانِينَ جَلْدَةً وَلَا تَقْبَلُوا لَهُمْ شَهَادَةً أَبَدًا قَالَ سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ وَهُوَ سَيِّدُ الْأَنْصَارِ أَهَكَذَا نَزَلَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا مَعْشَرَ الْأَنْصَارِ أَلَا تَسْمَعُونَ إِلَى مَا يَقُولُ سَيِّدُكُمْ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ لَا تَلُمْهُ فَإِنَّهُ رَجُلٌ غَيُورٌ وَاللَّهِ مَا تَزَوَّجَ امْرَأَةً قَطُّ إِلَّا بِكْرًا وَمَا طَلَّقَ امْرَأَةً لَهُ قَطُّ فَاجْتَرَأَ رَجُلٌ مِنَّا عَلَى أَنْ يَتَزَوَّجَهَا مِنْ شِدَّةِ غَيْرَتِهِ فَقَالَ سَعْدٌ وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي لَأَعْلَمُ أَنَّهَا حَقٌّ وَأَنَّهَا مِنْ اللَّهِ تَعَالَى وَلَكِنِّي قَدْ تَعَجَّبْتُ أَنِّي لَوْ وَجَدْتُ لَكَاعًا تَفَخَّذَهَا رَجُلٌ لَمْ يَكُنْ لِي أَنْ أَهِيجَهُ وَلَا أُحَرِّكَهُ حَتَّى آتِيَ بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاءَ فَوَاللَّهِ لَا آتِي بِهِمْ حَتَّى يَقْضِيَ حَاجَتَهُ قَالَ فَمَا لَبِثُوا إِلَّا يَسِيرًا حَتَّى جَاءَ هِلَالُ بْنُ أُمَيَّةَ وَهُوَ أَحَدُ الثَّلَاثَةِ الَّذِينَ تِيبَ عَلَيْهِمْ فَجَاءَ مِنْ أَرْضِهِ عِشَاءً فَوَجَدَ عِنْدَ أَهْلِهِ رَجُلًا فَرَأَى بِعَيْنَيْهِ وَسَمِعَ بِأُذُنَيْهِ فَلَمْ يَهِجْهُ حَتَّى أَصْبَحَ فَغَدَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي جِئْتُ أَهْلِي عِشَاءً فَوَجَدْتُ عِنْدَهَا رَجُلًا فَرَأَيْتُ بِعَيْنَيَّ وَسَمِعْتُ بِأُذُنَيَّ فَكَرِهَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا جَاءَ بِهِ وَاشْتَدَّ عَلَيْهِ وَاجْتَمَعَتْ الْأَنْصَارُ فَقَالُوا قَدْ ابْتُلِينَا بِمَا قَالَ سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ الْآنَ يَضْرِبُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هِلَالَ بْنَ أُمَيَّةَ وَيُبْطِلُ شَهَادَتَهُ فِي الْمُسْلِمِينَ فَقَالَ هِلَالٌ وَاللَّهِ إِنِّي لَأَرْجُو أَنْ يَجْعَلَ اللَّهُ لِي مِنْهَا مَخْرَجًا فَقَالَ هِلَالٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي قَدْ أَرَى مَا اشْتَدَّ عَلَيْكَ مِمَّا جِئْتُ بِهِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ إِنِّي لَصَادِقٌ وَ وَاللَّهِ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُرِيدُ أَنْ يَأْمُرَ بِضَرْبِهِ إِذْ أَنْزَلَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْوَحْيَ وَكَانَ إِذَا نَزَلَ عَلَيْهِ الْوَحْيُ عَرَفُوا ذَلِكَ فِي تَرَبُّدِ جِلْدِهِ يَعْنِي فَأَمْسَكُوا عَنْهُ حَتَّى فَرَغَ مِنْ الْوَحْيِ فَنَزَلَتْ وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُمْ شُهَدَاءُ إِلَّا أَنْفُسُهُمْ فَشَهَادَةُ أَحَدِهِمْ الْآيَةَ فَسُرِّيَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَبْشِرْ يَا هِلَالُ فَقَدْ جَعَلَ اللَّهُ لَكَ فَرَجًا وَمَخْرَجًا فَقَالَ هِلَالٌ قَدْ كُنْتُ أَرْجُو ذَاكَ مِنْ رَبِّي عَزَّ وَجَلَّ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرْسِلُوا إِلَيْهَا فَأَرْسَلُوا إِلَيْهَا فَجَاءَتْ فَقَرَأَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَيْهِمَا وَذَكَّرَهُمَا وَأَخْبَرَهُمَا أَنَّ عَذَابَ الْآخِرَةِ أَشَدُّ مِنْ عَذَابِ الدُّنْيَا فَقَالَ هِلَالٌ وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَقَدْ صَدَقْتُ عَلَيْهَا فَقَالَتْ كَذَبَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَاعِنُوا بَيْنَهُمَا فَقِيلَ لِهِلَالٍ اشْهَدْ فَشَهِدَ أَرْبَعَ شَهَادَاتٍ بِاللَّهِ إِنَّهُ لَمِنْ الصَّادِقِينَ فَلَمَّا كَانَ فِي الْخَامِسَةِ قِيلَ يَا هِلَالُ اتَّقِ اللَّهَ فَإِنَّ عَذَابَ الدُّنْيَا أَهْوَنُ مِنْ عَذَابِ الْآخِرَةِ وَإِنَّ هَذِهِ الْمُوجِبَةُ الَّتِي تُوجِبُ عَلَيْكَ الْعَذَابَ فَقَالَ وَاللَّهِ لَا يُعَذِّبُنِي اللَّهُ عَلَيْهَا كَمَا لَمْ يَجْلِدْنِي عَلَيْهَا فَشَهِدَ فِي الْخَامِسَةِ أَنَّ لَعْنَةَ اللَّهِ عَلَيْهِ إِنْ كَانَ مِنْ الْكَاذِبِينَ ثُمَّ قِيلَ لَهَا اشْهَدِي أَرْبَعَ شَهَادَاتٍ بِاللَّهِ إِنَّهُ لَمِنْ الْكَاذِبِينَ فَلَمَّا كَانَتْ الْخَامِسَةُ قِيلَ لَهَا اتَّقِ اللَّهَ فَإِنَّ عَذَابَ الدُّنْيَا أَهْوَنُ مِنْ عَذَابِ الْآخِرَةِ وَإِنَّ هَذِهِ الْمُوجِبَةُ الَّتِي تُوجِبُ عَلَيْكِ الْعَذَابَ فَتَلَكَّأَتْ سَاعَةً ثُمَّ قَالَتْ وَاللَّهِ لَا أَفْضَحُ قَوْمِي فَشَهِدَتْ فِي الْخَامِسَةِ أَنَّ غَضَبَ اللَّهِ عَلَيْهَا إِنْ كَانَ مِنْ الصَّادِقِينَ فَفَرَّقَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَهُمَا وَقَضَى أَنَّهُ لَا يُدْعَى وَلَدُهَا لِأَبٍ وَلَا تُرْمَى هِيَ بِهِ وَلَا يُرْمَى وَلَدُهَا وَمَنْ رَمَاهَا أَوْ رَمَى وَلَدَهَا فَعَلَيْهِ الْحَدُّ وَقَضَى أَنْ لَا بَيْتَ لَهَا عَلَيْهِ وَلَا قُوتَ مِنْ أَجْلِ أَنَّهُمَا يَتَفَرَّقَانِ مِنْ غَيْرِ طَلَاقٍ وَلَا مُتَوَفًّى عَنْهَا وَقَالَ إِنْ جَاءَتْ بِهِ أُصَيْهِبَ أُرَيْسِحَ حَمْشَ السَّاقَيْنِ فَهُوَ لِهِلَالٍ وَإِنْ جَاءَتْ بِهِ أَوْرَقَ جَعْدًا جُمَالِيًّا خَدَلَّجَ السَّاقَيْنِ سَابِغَ الْأَلْيَتَيْنِ فَهُوَ لِلَّذِي رُمِيَتْ بِهِ فَجَاءَتْ بِهِ أَوْرَقَ جَعْدًا جُمَالِيًّا خَدَلَّجَ السَّاقَيْنِ سَابِغَ الْأَلْيَتَيْنِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَوْلَا الْأَيْمَانُ لَكَانَ لِي وَلَهَا شَانٌ قَالَ عِكْرِمَةُ فَكَانَ بَعْدَ ذَلِكَ أَمِيرًا عَلَى مِصْرٍ وَكَانَ يُدْعَى لِأُمِّهِ وَمَا يُدْعَى لِأَبِيهِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
যখন এই আয়াত নাজিল হলো,
وَٱلَّذِينَ يَرۡمُونَ ٱلۡمُحۡصَنَٰتِ ثُمَّ لَمۡ يَأۡتُواْ بِأَرۡبَعَةِ شُهَدَآءَ فَٱجۡلِدُوهُمۡ ثَمَٰنِينَ جَلۡدَةٗ وَلَا تَقۡبَلُواْ لَهُمۡ شَهَٰدَةً أَبَدٗاۚ وَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡفَٰسِقُونَ٤
যারা সতী নারীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে, তারপর চার জন পুরুষ সাক্ষী উপস্থিত করে না, তবে তোমরা তাদেরকে আশিটি বেত্রাঘাত করবে ও কখনো তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করবে না। বস্তুত এরাই হচ্ছে প্রকৃত অশান্তিকামী। [২৪ : ৪]
তখন আনসারদের নেতা সাদ বিন উবাদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললো যে, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এই আয়াতটা কি এভাবেই নাযিল হয়েছে?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “হে আনসারগণ, তোমরা কি শুনতে পাচ্ছো না, তোমাদের নেতা কি বলছে?” আনসারগণ বললো যে, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি তাকে দোষারোপ করবেন না, কারণ তিনি একজন প্রতিরক্ষামূলক ঈর্ষান্বিত মানুষ। আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি একজন কুমারী ছাড়া কোনো নারীকে বিয়ে করেননি এবং তিনি কখনোই তার কোনো স্ত্রীকে তালাক দেননি। আর আমাদের মধ্যে কোনো পুরুষ এমন নারীকে বিয়ে করার সাহস করবে না, সাদ বিন উবাদা রাদিয়াল্লাহু আনহুর শক্তিশালীতার কারণে। সাদ বিন উবাদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললো যে, “আল্লাহর কসম, হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি জানি এই আয়াত সত্য এবং এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে। কিন্তু আমি অবাক হচ্ছি যে, আমি যদি এই বোকা মহিলাকে তার উপরে একজন পুরুষের সাথে পাই। আমি তাকে বিরক্ত করবো না বা তাকে সরানোর চেষ্টা করবো না, যতক্ষণ না আমি চারজন সাক্ষী নিয়ে আসি। অথচ, সে যা করছে তা শেষ করার আগে, আমি কখনোই চারজন সাক্ষী আনতে পারবো না।” কিছুক্ষণ পরে, হিলাল বিন উমাইয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু, যিনি সেই তিনজনের একজন ছিলেন যাদের তওবা কবুল হয়েছিলো, রাতে তার দেশ থেকে ফিরে এসে একজন লোককে তার স্ত্রীর সাথে দেখতে পেলেন। তিনি নিজের চোখে দেখেছেন এবং নিজের কানে শুনেছেন, কিন্তু তিনি সকাল না হওয়া পর্যন্ত তাকে বিরক্ত করলেন না। তারপর তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে গিয়ে বললেন, “হে আল্লাহর রসূল, আমি গত রাতে আমার স্ত্রীর কাছে এসেছিলাম এবং তার সাথে একজন পুরুষকে পেয়েছি। নিজের চোখে দেখেছি এবং নিজের কানে শুনেছি।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যা বললেন তা অপছন্দ করলেন এবং খুবই কষ্ট পেলেন। আনসাররা একত্রিত হয়ে বললো, “এখন আমরা সেই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি যা সাদ বিন উবাদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু আশা করেছিলেন। এখন তো রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিলাল ইবনে উমাইয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুকে অপছন্দ করবেন এবং মুসলমানদের মধ্যে তার সাক্ষ্যকে বাতিল ঘোষণা করবেন।” হিলাল বিন উমাইয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “আল্লাহর কসম, আমি আশা করি আল্লাহ আমাকে মুক্তির পথ দেখাবেন। হে আল্লাহর রাসুল, আমি দেখতে পাচ্ছি যে আমি যা বলেছি তাতে আপনি খুবই কষ্ট পেয়েছেন, কিন্তু আল্লাহ জানেন যে, আমি সত্য কথা বলছি।” আল্লাহর কসম, যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে প্রহার করার নির্দেশ দিতে যাচ্ছিলেন, তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ওহী আসে। যখন তাঁর কাছে ওহী আসতো, সাহাবীরা তা বলতে পারতো, কারণ তাঁর মুখের রঙ পরিবর্তিত হয়ে যেতো। তাই তারা তাঁকে একা রেখেছিলো, যতক্ষণ না ওহী নাযিল শেষ হয় এবং এই আয়াতটি নাযিল হয়েছিলো,
وَٱلَّذِينَ يَرۡمُونَ أَزۡوَٰجَهُمۡ وَلَمۡ يَكُن لَّهُمۡ شُهَدَآءُ إِلَّآ أَنفُسُهُمۡ فَشَهَٰدَةُ أَحَدِهِمۡ أَرۡبَعُ شَهَٰدَٰتِۭ بِٱللَّهِ إِنَّهُۥ لَمِنَ ٱلصَّٰدِقِينَ٦
যারা তাদের স্ত্রীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে এবং তারা নিজেরা ছাড়া তাদের জন্যে অন্য কোনো সাক্ষী পায় না, তাহলে ঐ ব্যক্তি আল্লাহর নামে চার বার এভাবে সাক্ষ্য দিবে যে, অবশ্যই সে সত্যবাদী। [২৪ : ৬]
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওহীর অবস্থা থেকে স্বাভাবিক হয়ে উঠলেন এবং বললেন, “হে হিলাল, প্রফুল্ল হও, কেননা আল্লাহ তোমাকে মুক্তির পথ দিয়েছেন।” হিলাল বিন উমাইয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “আমি আমার রবের কাছে এটাই আশা করেছিলাম।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমরা ঐ মহিলাকে ডেকে নিয়ে এসো।” তাই তারা তাকে ডেকে আনলো। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের উভয়ের কাছে আয়াতটি পাঠ করলেন এবং তাদেরকে বললেন যে, “দুনিয়ার শাস্তি অপেক্ষা আখেরাতের শাস্তির অনেক ভয়াবহ।” হিলাল বিন উমাইয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রসূল, আমি তার সম্পর্কে সত্য বলেছি।” মহিলা বললো, “সে মিথ্যা বলছে।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমরা একে অপরের প্রতি অভিশাপ দাও। (তোমরা লিয়ান করো)” হিলালকে বলা হলো, তিনি যেনো সাক্ষ্য দান করেন। সুতরাং হিলাল বিন উমাইয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু চারবার সাক্ষ্য দিলেন যে, তিনি সত্যবাদীদের একজন। যখন তা পঞ্চমবার উপস্থিত হয়, তখন তাকে বলা হয়, হে হিলাল, তুমি এ শাস্তির জন্যে আল্লাহকে ভয় করো। আখেরাতের শাস্তির চেয়ে দুনিয়ার শাস্তি সহজ। আর এটাই তোমাদের জন্য শাস্তির কারণ হবে। হিলাল বিন উমাইয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “আল্লাহর কসম, এর জন্যে আল্লাহ আমাকে যেভাবে বেত্রাঘাত করেননি, সেভাবেই আল্লাহ আমাকে শাস্তি দিবেন না। এবং পঞ্চমবার সাক্ষ্য দিলো যে, যদি সে মিথ্যা বলে তার উপর আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হোক। তারপর ঐ মহিলাকে বলা হলো, সে যেনো সাক্ষ্য দান করে। সুতরাং ঐ মহিলা চারবার সাক্ষ্য দিলো যে, পুরুষটি মিথ্যাবাদী এবং সে সত্য কথা বলছে। যখন তা পঞ্চমবার উপস্থিত হয়, তখন তাকে বলা হয়, তুমি এ শাস্তির জন্যে আল্লাহকে ভয় করো। আখেরাতের শাস্তির চেয়ে দুনিয়ার শাস্তি সহজ। আর এটাই তোমাদের জন্য শাস্তির কারণ হবে। তখন ঐ মহিলা সাক্ষ্য দিতে কিছুটা ইতস্ত করলো এবং বললো যে, আল্লাহর কসম, আমি আমার উম্মতের উপর অপমানিত হবো না এবং সে পঞ্চমবার সাক্ষ্য দিলো যে, যদি পুরুষটি সত্যবাদী হয় তবে, আমার উপর আল্লাহর গজব হবে। অতঃপর আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে আলাদা করে দিলেন এবং আদেশ দিলেন যে, তার সন্তানের নাম যেনো পিতার নামে রাখা না হয়। মহিলাকে ব্যভিচারের অভিযুক্ত করা হবে না এবং বাচ্চাকেও (অবৈধ হওয়ার জন্যে) অভিযুক্ত করা হবে না। যে কেউ মহিলাকে বা তার সন্তানকে অভিযুক্ত করবে তাকে শক্ত শাস্তি দেওয়া হবে। তিনি রায় দিয়েছিলেন যে, মহিলার কোন অধিকার নেই যে, পুরুষটির কাছ থেকে বাসস্থান বা ভরণপোষণের দাবি করবে, কারণ তারা উভয়ে তালাক ব্যতীত লিয়ানের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং পুরুষটি মারা যায়নি যে, ফলে মহিলাটি বিধবা হয়েছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “যদি মহিলাটি একটি লাল রঙের, ছোট নিতম্ব এবং পাতলা পা বিশিষ্ট একটি সন্তানের জন্ম দেয়, তবে সে হিলালের সন্তান। যদি মহিলাটি কালো চামড়া, কোঁকড়ানো চুল, মোটা পা এবং বড় নিতম্ব বিশিষ্ট একটি সন্তানের জন্ম দেয়, তাহলে সে সেই ব্যক্তির সন্তান যার সাথে মহিলাটির ব্যভিচারের অভিযোগ ছিলো।” অবশেষে মহিলাটি কালো চামড়া, কোঁকড়ানো চুল, মোটা পা এবং বড় নিতম্ব বিশিষ্ট একটি সন্তানের জন্ম দেয়। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “যদি শপথ না করা হতো, তাহলে মহিলাটির ব্যাপারে আমি শক্ত মীমাংসা করতাম।” ইকরিমা বলেন, এরপর ঐ সন্তানটি একটি শহরের গভর্নর হয়েছিলো। তার নাম তার মায়ের নামে রাখা হয়েছিলো, তার পিতার নামে নয়। [মুসনাদে আহমাদ : ২০৮৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا سُفْيَانُ قَالَ عَمْرٌو قَالَ أَبُو الشَّعْثَاءِ مَنْ هِيَ قَالَ قُلْتُ يَقُولُونَ مَيْمُونَةُ قَالَ أَخْبَرَنِي ابْنُ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَكَحَ مَيْمُونَةَ وَهُوَ مُحْرِمٌ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত মায়মুনা বিনতে আল হারিস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বিয়ে করেছিলেন, যখন তারা উভয়েই ইহরাম অবস্থায় ছিলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২০৯০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يُونُسُ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ عَطَاءٍ الْعَطَّارِ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَتَصَدَّقُ بِدِينَارٍ فَإِنْ لَمْ يَجِدْ فَنِصْفُ دِينَارٍ يَعْنِي الَّذِي يَغْشَى امْرَأَتَهُ حَائِضًا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঋতুস্রাব অবস্থায় স্ত্রীর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপনকারী ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন, সে যেনো এক বা অর্ধ দিনার সদকা করে। [মুসনাদে আহমাদ : ২০৯১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يُونُسُ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ سِمَاكٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ لَقِيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَاعِزَ بْنَ مَالِكٍ فَقَالَ أَحَقٌّ مَا بَلَغَنِي عَنْكَ قَالَ وَمَا بَلَغَكَ عَنِّي قَالَ بَلَغَنِي أَنَّكَ فَجَرْتَ بِأَمَةِ آلِ فُلَانٍ قَالَ نَعَمْ فَرَدَّهُ حَتَّى شَهِدَ أَرْبَعَ مَرَّاتٍ ثُمَّ أَمَرَ بِرَجْمِهِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজরত মায়েয ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে সাক্ষাত করলেন এবং তিনি বললেন, “আমি তোমার সম্পর্কে যা শুনেছি, তা কি সত্য?” সে জিজ্ঞেস করলো, “আপনি আমার সম্পর্কে কি শুনেছেন?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “আমি শুনেছি যে, তুমি অমুক পরিবারের দাসীর সাথে যিনা করেছো।” সে বললো, “হ্যাঁ।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ফেরত পাঠালেন, যতক্ষণ না সে চারবার নিজেদের সম্পর্কে স্বীকার করে। তারপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে পাথর মেরে মারার নির্দেশ দিলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২০৯২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ عَنْ يُوسُفَ بْنِ مِهْرَانَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا قَالَ فِرْعَوْنُ آمَنْتُ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا الَّذِي آمَنَتْ بِهِ بَنُو إِسْرَائِيلَ قَالَ قَالَ لِي جِبْرِيلُ يَا مُحَمَّدُ لَوْ رَأَيْتَنِي وَقَدْ أَخَذْتُ حَالًا مِنْ حَالِ الْبَحْرِ فَدَسَّيْتُهُ فِي فِيهِ مَخَافَةَ أَنْ تَنَالَهُ الرَّحْمَةُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা ফিরআউনকে যখন পানিতে ডুবিয়ে দিলেন, তখন সে বললো, ‘আমি বিশ্বাস করছি যে, ইসরাঈলের সন্তানেরা যে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করেছে, তিনি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই আর আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হচ্ছি।’
۞وَجَٰوَزۡنَا بِبَنِيٓ إِسۡرَٰٓءِيلَ ٱلۡبَحۡرَ فَأَتۡبَعَهُمۡ فِرۡعَوۡنُ وَجُنُودُهُۥ بَغۡيٗا وَعَدۡوًاۖ حَتَّىٰٓ إِذَآ أَدۡرَكَهُ ٱلۡغَرَقُ قَالَ ءَامَنتُ أَنَّهُۥ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا ٱلَّذِيٓ ءَامَنَتۡ بِهِۦ بَنُوٓاْ إِسۡرَٰٓءِيلَ وَأَنَا۠ مِنَ ٱلۡمُسۡلِمِينَ٩٠
আমি ইসরাঈলের সন্তানদেরকে সমূদ্র পার করালাম। তারপর ফিরআউন ও তার সৈন্যদল তাদেরকে নির্যাতনের উদ্দেশ্যে ও শত্রুতা বশত তাদের পিছনে ধাওয়া করলো। এমনকি যখন ফিরআউন ডুবে মরার সম্মুখীন হলো, তখন সে বললো, “আমি বিশ্বাস করছি যে, ইসরাঈলের সন্তানেরা যে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করেছে, তিনি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই আর আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হচ্ছি।” (১০. ইউনুস : ৯০)
হজরত জিব্রাইল (আঃ) আমাকে বললেন যে, ‘হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার ইচ্ছা হয়! ঐ সময় যদি আপনি আমাকে দেখতে পেতেন, যখন আমি সমুদ্র থেকে কালো কাদামাটি তুলে নিয়ে ফেরাউনের মুখে ভরে দিচ্ছিলাম, যেনো সে কালিমা উচ্চারণ না করতে পারে’।” [মুসনাদে আহমাদ : ২০৯৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يُونُسُ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ يَعْنِي ابْنَ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الثَّقَلِ مِنْ جَمْعٍ بِلَيْلٍ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুযদালিফা থেকে রাতে আমাকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মালপত্রসহ পাঠালেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২০৯৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يُونُسُ عَنْ حَمَّادٍ يَعْنِي ابْنَ سَلَمَةَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ عَنْ يُوسُفَ بْنِ مِهْرَانَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ قَالَ لِي جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَام إِنَّهُ قَدْ حُبِّبَ إِلَيْكَ الصَّلَاةُ فَخُذْ مِنْهَا مَا شِئْتَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, একবার জিব্রাইল (আঃ) আমাকে বললেন, “আপনাকে নামাযের প্রতি ভালোবাসা দেওয়া হয়েছে, তাই আপনি যত খুশি নামায আদায় করুন।” [মুসনাদে আহমাদ : ২০৯৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يُونُسُ وَعَفَّانُ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ يَعْنِي ابْنَ سَلَمَةَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ قَالَ عَفَّانُ أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ زَيْدٍ عَنْ يُوسُفَ بْنِ مِهْرَانَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَجُلًا أَتَى عُمَرَ فَقَالَ امْرَأَةٌ جَاءَتْ تُبَايِعُهُ فَأَدْخَلْتُهَا الدَّوْلَجَ فَأَصَبْتُ مِنْهَا مَا دُونَ الْجِمَاعِ فَقَالَ وَيْحَكَ لَعَلَّهَا مُغِيبٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ قَالَ أَجَلْ قَالَ فَأْتِ أَبَا بَكْرٍ فَاسْأَلْهُ قَالَ فَأَتَاهُ فَسَأَلَهُ فَقَالَ لَعَلَّهَا مُغِيبٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ قَالَ فَقَالَ مِثْلَ قَوْلِ عُمَرَ ثُمَّ أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لَهُ مِثْلَ ذَلِكَ قَالَ فَلَعَلَّهَا مُغِيبٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَنَزَلَ الْقُرْآنُ وَأَقِمْ الصَّلَاةَ طَرَفَيْ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِنْ اللَّيْلِ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ إِلَى آخِرِ الْآيَةِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلِي خَاصَّةً أَمْ لِلنَّاسِ عَامَّةً فَضَرَبَ عُمَرُ صَدْرَهُ بِيَدِهِ فَقَالَ لَا وَلَا نَعْمَةَ عَيْنٍ بَلْ لِلنَّاسِ عَامَّةً فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَدَقَ عُمَرُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি হজরত উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে এসে বললো, একজন মহিলা কিছু কিনতে এসেছিলো, এবং আমি তাকে একটি গুদাম ঘরে নিয়ে গিয়েছিলাম এবং এমন কিছু করেছি যা সহবাসের চেয়ে কম ছিলো। হজরত উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “তোমার জন্য আফসোস! সম্ভবত সে এমন একজনের স্ত্রী, যিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে দূরে কোথায় জিহাদ করছেন।” সে বললো, “হ্যাঁ।” তিনি বললেন, “তুমি হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে যাও এবং তাকে জিজ্ঞেস করো।” অতঃপর সে হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে গেলো এবং তাকে জিজ্ঞাসা করলো, এবং তিনি বললেন, “সম্ভবত সে এমন একজনের স্ত্রী, যিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে দূরে কোথায় জিহাদ করছেন।” সে বললো, “হ্যাঁ।” তিনি বললেন, “তুমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে যাও এবং তাঁকে জিজ্ঞেস করো।” তারপর সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে গেলো এবং অনুরূপ কিছু বললো এবং তিনি বললেন, “সম্ভবত সে এমন একজনের স্ত্রী, যিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে দূরে কোথায় জিহাদ করছেন।” অতঃপর কোরানের এই আয়াত নাযিল হয়,
وَأَقِمِ ٱلصَّلَوٰةَ طَرَفَيِ ٱلنَّهَارِ وَزُلَفٗا مِّنَ ٱلَّيۡلِۚ إِنَّ ٱلۡحَسَنَٰتِ يُذۡهِبۡنَ ٱلسَّيِّـَٔاتِۚ ذَٰلِكَ ذِكۡرَىٰ لِلذَّٰكِرِينَ١١٤
হে রসূল! আপনি ফজর ও আসর আর মাগরীব ও এশার সময় নামায প্রতিষ্ঠিত করুন। নিশ্চয় ভালো কাজ, মন্দ কাজকে দূর করে দেয়। এ কুরআন তাদের জন্যে একটি স্মরণীয় উপদেশ, যারা আল্লাহকে স্মরণ করে। [১১ : ১১৪]
সে বললো, “হে আল্লাহর রাসূল, এই আয়াতের হুকুম কি শুধু আমার জন্যে, নাকি সকল মানুষের জন্যে?” হজরত উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তার বুকে হাত দিয়ে আঘাত করলেন এবং বললেন, “ তুমি এমনটা মনে করো না; বরং এটা সব মানুষের জন্য।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “উমর ঠিক কথা বলেছে।”
[মুসনাদে আহমাদ : ২০৯৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يُونُسُ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ يَعْنِي ابْنَ سَلَمَةَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ عَنْ يُوسُفَ بْنِ مِهْرَانَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ جَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَرَدِيفُهُ أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ فَسَقَيْنَاهُ مِنْ هَذَا الشَّرَابِ فَقَالَ أَحْسَنْتُمْ هَكَذَا فَاصْنَعُوا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার আমাদের কাছে এলেন, সে সময় হজরত ওসামা ইবনে যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উটের পিছনে সওয়ার হয়ে আসছিলো। আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সুমিষ্ট পানি (নাবীজ) পান করালাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তুমি (আমাকে নাবীজ পান করিয়ে) খুব ভালো কাজ করেছো এবং ভবিষ্যতেও এমন করো।” [মুসনাদে আহমাদ : ২০৯৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ شُجَاعٍ قَالَ مَا أَحْفَظُهُ إِلَّا سَالِمٌ الْأَفْطَسُ الْجَزَرِيُّ ابْنُ عَجْلَانَ حَدَّثَنِي عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الشِّفَاءُ فِي ثَلَاثَةٍ شَرْبَةِ عَسَلٍ وَشَرْطَةِ مِحْجَمٍ وَكَيَّةِ نَارٍ وَأَنْهَى أُمَّتِي عَنْ الْكَيِّ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তিনটি জিনিসের মধ্যে আরোগ্য রয়েছে, (১) মধু পান করা, (২) শিঙ্গা লাগানো এবং (৩) ক্ষতস্থানে আগুন দিয়ে দাগ দেওয়া। কিন্তু আমি আমার উম্মতকে আগুন দিয়ে দাগ দেওয়া থেকে নিষেধ করছি।” [মুসনাদে আহমাদ : ২০৯৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ يَعْنِي ابْنَ سَعْدٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ وَيَعْقُوبُ حَدَّثَنِي أَبِي عَنِ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ الْمُشْرِكُونَ يَفْرُقُونَ رُءُوسَهُمْ وَكَانَ أَهْلُ الْكِتَابِ يَسْدِلُونَ قَالَ يَعْقُوبُ أَشْعَارَهُمْ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُحِبُّ وَيُعْجِبُهُ مُوَافَقَةُ أَهْلِ الْكِتَابِ قَالَ يَعْقُوبُ فِي بَعْضِ مَا لَمْ يُؤْمَرْ قَالَ إِسْحَاقُ فِيمَا لَمْ يُؤْمَرْ فِيهِ فَسَدَلَ نَاصِيَتَهُ ثُمَّ فَرَقَ بَعْدُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
মুশরিকরা তাদের চুল মাঝখানে বিভক্ত করতো এবং আহলে কিতাবরা তাদের চুল তাদের কপালের উপর পড়তে দিতো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আহলে কিতাবদের মতই করতে পছন্দ করতেন। যে বিষয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন নির্দেশ পাননি, সে বিষয়ে তিনি আহলে কিতাবদের অনুসরণ করতে পছন্দ করতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২০৯৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا حَسَنُ بْنُ مُوسَى حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ خُثَيْمٍ عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ قَالَ رَأَيْتُ مُعَاوِيَةَ يَطُوفُ بِالْبَيْتِ عَنْ يَسَارِهِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ وَأَنَا أَتْلُوهُمَا فِي ظُهُورِهِمَا أَسْمَعُ كَلَامَهُمَا فَطَفِقَ مُعَاوِيَةُ يَسْتَلِمُ رُكْنَ الْحَجَرَ فَقَالَ لَهُ ابْنُ عَبَّاسٍ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَسْتَلِمْ هَذَيْنِ الرُّكْنَيْنِ فَيَقُولُ مُعَاوِيَةُ دَعْنِي مِنْكَ يَا ابْنَ عَبَّاسٍ فَإِنَّهُ لَيْسَ مِنْهَا شَيْءٌ مَهْجُورٌ فَطَفِقَ ابْنُ عَبَّاسٍ لَا يَزِيدُهُ كُلَّمَا وَضَعَ يَدَهُ عَلَى شَيْءٍ مِنْ الرُّكْنَيْنِ قَالَ لَهُ ذَلِكَ
হজরত আবুল তুফাইল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি হযরত আমীর মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুকে কাবা ঘর প্রদক্ষিণ করতে দেখেছি, তার বাম দিকে ছিলেন হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু এবং আমি তাদের উভয়ের পিছনে ছিলাম। আমি তাদের উভয়ের কথা শুনছিলাম, যখন হযরত আমীর মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু কালো পাথরের কোণ স্পর্শ করতে লাগলেন, তখন হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে বললেন, “রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দুটি কোণ স্পর্শ করেননি।” হযরত আমীর মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “হে ইবনে আব্বাস, আমাকে একা ছেড়ে দিন, কেননা আল্লাহর ঘরের কোনো অংশই পরিত্যাগ করার নেই।” যতবার হযরত আমীর মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু দুই কোণ হাত দিয়ে স্পর্শ করতে লাগলো, ততবার হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু একই কথা বলতে থাকলেন এবং এর বেশি কিছু বললেন না। [মুসনাদে আহমাদ : ২১০০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস